নর্থ ডাকোটা

নর্থ ডাকোটায় শিশু হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ২২ বছর বয়সী কাইলি এরহার্ট। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটায় নিজ সন্তানদের ওপর মায়ের হামলা: দুই শিশুর মৃত্যু ও একজন গুরুতর আহত

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের মানডান শহরে নিজ সন্তানদের ওপর এক মায়ের ভয়াবহ আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। মানসিক অস্থিরতা ও পারিবারিক বিবাদের জেরে ২২ বছর বয়সী কাইলি এরহার্ট নামে এক নারী তাঁর দুই শিশু সন্তানকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন এবং অপর এক সন্তানকে গুরুতর জখম করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ।   আদালত ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন কাইলি এরহার্ট তাঁর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্বামীর ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চড়াও হন এবং আত্মহত্যার হুমকি দেন। সে সময় তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া চলছিল। স্বামী সাহসিকতার সঙ্গে তাঁর হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিতে সক্ষম হলেও ধস্তাধস্তির সময় কাইলি তাঁকে কামড়ে ও আঁচড়ে রক্তাক্ত করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে শিশুদের দাদিও উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে কাইলি তাঁর স্বামী ও শাশুড়িকে তাড়া করে ঘরের বাইরে বের করে দেন এবং এরপরই নিজের তিন শিশু সন্তানের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হন।   এই হামলায় কাইলির ৫ মাস এবং ৩ বছর বয়সী দুই শিশু ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। অন্যদিকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় তাঁর ১ বছর বয়সী অপর সন্তান। তবে তাকে অত্যন্ত গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।   মানডান শহর পুলিশ প্রধান জেসন জিগলার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ কর্মকর্তারা যে দৃশ্য দেখেছেন, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং হৃদয়বিদারক। তিনি বলেন, এমন দৃশ্য কারো কখনোই দেখা উচিত নয়। জীবনের অন্যতম এক সংকটময় ও ভয়াবহ মুহূর্তে পুলিশ সদস্যরা যেভাবে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তাতে তিনি গর্বিত। এই ঘটনা কেবল ভুক্তভোগী পরিবার নয়, পুরো স্থানীয় সমাজ এবং প্রথম সাড়া দেওয়া উদ্ধারকর্মীদের মানসিকভাবে গভীরভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কাইলি এরহার্টের বিরুদ্ধে আদালতে ৯টি ফৌজদারি ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যা এবং একটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পরদিন শুক্রবার জেলা জজ মেরিনা স্পার অভিযুক্তের জামিন হিসেবে নগদ ৩০ লাখ মার্কিন ডলার ধার্য করেন। জেলা জজ তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযুক্তের সহিংসতার মাত্রা এবং সমাজ ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই উচ্চ জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেঁচে যাওয়া শিশু ও স্বজনদের সঙ্গে কাইলির সব ধরনের যোগাযোগের ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত।   ঘটনার পর আদালতে কাইলি এরহার্ট নিজের পক্ষে কোনো বক্তব্য দেননি। মামলাটির প্রাথমিক শুনানি এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ৬ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে মানডান পুলিশ বিভাগ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
ডিএনএ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নর্থ ডাকোটায় দায়ের হয়েছে নতুন মামলা। ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসা সেবার নামে চরম প্রতারণা: রোগীদের অজান্তে নিজের শুক্রাণু ব্যবহারের অভিযোগে কাঠগড়ায় মার্কিন চিকিৎসক

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যে একজন উর্বরতা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ এনে দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রোগীর সম্মতি ছাড়াই সন্তান ধারণের চিকিৎসার সময় তিনি দাতার শুক্রাণুর পরিবর্তে নিজের শুক্রাণু ব্যবহার করেছিলেন। বহু বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।   দ্য ফোরাম অব ফার্গো-মুরহেড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই ওয়ার্ড কাউন্টি আদালতে দায়ের করা মামলায় টাশিনা গ্রিভস, জানাই নেলসন রেমন্ড এবং তাদের মা জিন অ্যান নেলসন বাদী হয়েছেন।   মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে সন্তান ধারণে সমস্যার কারণে জিন অ্যান নেলসন চিকিৎসক ডেনিস লুটজের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তিনি কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতির মাধ্যমে গর্ভধারণ করেন।   প্রথমবার গর্ভধারণের পর গর্ভপাত হলেও পরবর্তী দুটি গর্ভধারণে ১৯৮৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি টাশিনা গ্রিভস এবং ১৯৮৬ সালের ২২ মে জানাই নেলসন রেমন্ডের জন্ম হয়। সে সময় লুটজ নর্থ ডাকোটার মিনোট শহরে চিকিৎসা করতেন।   মামলায় বলা হয়েছে, চিকিৎসক নেলসনকে জানিয়েছিলেন যে, তার স্বামী ওয়ারেন নেলসনের শুক্রাণুর সঙ্গে একজন দাতার শুক্রাণু মিশিয়ে ব্যবহার করলে স্বামীর জিনগত বৈশিষ্ট্য বহনকারী সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।   তবে বাদীপক্ষের দাবি, এই ব্যাখ্যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, দাতার শুক্রাণু ব্যবহার না করে চিকিৎসক নিজের শুক্রাণুই ব্যবহার করেন এবং বিষয়টি কখনোই রোগীকে জানাননি।   মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো ভুল, দুর্ঘটনা বা চিকিৎসাগত সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং রোগীর অধিকার সম্পর্কে সচেতন থেকেও ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করা হয়েছে। সম্প্রতি ডিএনএ পরীক্ষা করার পর টাশিনা গ্রিভস ও জানাই নেলসন রেমন্ড জানতে পারেন, তাদের জৈবিক বাবা আসলে চিকিৎসক ডেনিস লুটজ। বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানান, এই তথ্য জানার পর দুই নারী এবং তাদের মা গভীর মানসিক আঘাত, পরিচয়সংকট এবং আবেগগত ক্ষতির শিকার হয়েছেন।   মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষায় আরও কয়েকজন সম্ভাব্য সৎ ভাইবোনের অস্তিত্বের ইঙ্গিত মিলেছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, একই চিকিৎসকের মাধ্যমে অন্য রোগীদের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই ঘটনা শুধু তিনজন বাদীর অধিকার লঙ্ঘনের বিষয় নয়; বরং একই সময়ে চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়া অন্য রোগীরাও একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারেন, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।   ডেনিস লুটজের বিরুদ্ধে প্রতারণা, চিকিৎসাগত অননুমোদিত হস্তক্ষেপ, রোগীর প্রতি বিশ্বাসভঙ্গ, ইচ্ছাকৃত মানসিক ক্ষতি এবং জৈবিক পিতৃত্ব গোপন করার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।   বাদীপক্ষের আইনজীবী কেলেন বুবাক এক বিবৃতিতে বলেন, “এই মামলার মূল বিষয় হলো রোগীর সম্মতি, প্রজনন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার, চিকিৎসকের প্রতি আস্থা এবং সন্তানদের নিজেদের জৈবিক পরিচয় ও চিকিৎসা-ইতিহাস জানার অধিকার।”   তিনি আরও বলেন, “অভিযোগগুলো চিকিৎসা সেবার সবচেয়ে সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলোর একটির সঙ্গে জড়িত। নেলসন পরিবার শুধু জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই সামনে আসেনি, তারা আশঙ্কা করছে অন্য পরিবারও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।”   এ কারণে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তার আইন কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মামলায় বাদীপক্ষ ৫০ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ এবং জুরি বিচারের আবেদন জানিয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ডেনিস লুটজ নিউ মেক্সিকোতে বসবাস করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ডাকোটার মেডিকেল স্কুলের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড ডডস এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে লুটজ বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিভাগের প্রধান। তবে তিনি বলেন, মামলার মাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় আগে জানত না। ব্যক্তিগত আইনি বিষয় বা কর্মী-সংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য না করার নীতির কারণে এ মুহূর্তে তাদের আর কোনো বক্তব্য নেই।   অন্যদিকে, লুটজের আইনজীবীর কাছে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ডিএনএ পরীক্ষায় ৩৮ বছর পর জন্মের সময় অদলবদলের ঘটনা জানতে পারেন কাইল বাইলিন ও জেরেমি মরিসন। ছবি: সংগৃহীত
ডিএনএ পরীক্ষায় ৩৮ বছর পর জানা গেল জন্মের সময় অদলবদল, হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা দুই পরিবারের

জন্মের প্রায় ৩৮ বছর পর একটি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারেন, তারা আসলে ভুল পরিবারের কাছে বড় হয়েছেন। অবিশ্বাস্য এই সত্য সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটার একটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুই ব্যক্তি ও তাদের পরিবার। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের ভুলের কারণে তারা এমন একটি জীবন হারিয়েছেন, যা প্রকৃতপক্ষে তাদের প্রাপ্য ছিল।   মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, কাইল বাইলিন ও জেরেমি মরিসন নামে দুই ব্যক্তি গত সপ্তাহে নর্থ ডাকোটার অঙ্গরাজ্য আদালতে ইউনিটি মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দাবি করা হয়েছে, ১৯৮৮ সালের ২৬ জানুয়ারি নর্থ ডাকোটার গ্রাফটন শহরের ওই হাসপাতালেই তাদের জন্ম হয় এবং কোনো এক পর্যায়ে দুই নবজাতককে ভুল পরিবারের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়। সে দিন ওই হাসপাতালে জন্ম নেওয়া একমাত্র দুই নবজাতক ছিলেন তারা।   অবিশ্বাস্য এই ঘটনার সূত্রপাত হয় একেবারে কাকতালীয়ভাবে। কাইল বাইলিন একটি পারিবারিক ক্রিসমাস উপহার বিনিময় অনুষ্ঠানে বাড়িতে বসে করা যায় এমন একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট পান। কৌতূহলবশত পরীক্ষা করার পর একটি বংশতালিকা-ভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার সঙ্গে এক নারীর জৈবিক আত্মীয়তার মিল পাওয়া যায়। পরে ওই নারীর ভাতিজা জেরেমি মরিসনও ডিএনএ পরীক্ষা করান। ফলাফলে নিশ্চিত হয়, জন্মের সময় দুই শিশুকে ভুল পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছিল।   বাইলিন বলেন, "ফলাফল দেখার পর আমি সম্পূর্ণ হতবাক হয়ে যাই। কখনো কল্পনাও করিনি যে জন্মের সময় সত্যিই আমাদের অদলবদল করা হয়েছিল।" অন্যদিকে, মরিসন জানান, বাইলিনের ভাইয়ের ছবি দেখেই তার সন্দেহ হয়েছিল। তার ভাষায়, ছবিতে নিজের সঙ্গে আশ্চর্যজনক মিল দেখে তিনি ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের জন্য আর অপেক্ষা করতে পারেননি।   মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাইলিনের কাছে এখনো হাসপাতালের সেই নবজাতকের পরিচয়-বন্ধনী (হাসপাতালের ব্রেসলেট) সংরক্ষিত রয়েছে, যেখানে ভুল করে তাকে "কাইল বাইলিন" হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। অথচ জৈবিকভাবে তিনি আসলে জেরেমি মরিসন ছিলেন।   হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে কোনো এক সময় দুই নবজাতকের অদলবদল হয়েছিল। তবে তাদের দাবি, হাসপাতালের কর্মীরা এ ঘটনার জন্য দায়ী ছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ তারা পাননি। হাসপাতাল এক বিবৃতিতে জানায়, প্রায় চার দশক পেরিয়ে যাওয়ায় সে সময়ের চিকিৎসা নথি ও কর্মীদের রেকর্ড আর সংরক্ষিত নেই। এছাড়া ওই সময় প্রসূতি বিভাগে কর্মরত কেউ বর্তমানে হাসপাতালে কর্মরত নন। ফলে কীভাবে এই ভুল ঘটেছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।   কাইলকে লালন-পালন করা ইভলিন নিউটন বলেন, "কাইল এখনো আমার ছেলে, এটা কখনো বদলাবে না। কিন্তু আমার জৈবিক সন্তানের সঙ্গে কাটানোর যে জীবন ছিল, তা আমি হারিয়েছি। প্রথম হাঁটা, গাড়ি চালানো শেখা, বিয়ে—এসব মুহূর্ত আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না।" জেরেমি মরিসনও জানান, এই সত্য জানার পরও যেসব বাবা-মা তাকে বড় করেছেন, তাদের প্রতিই তার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আগের মতোই রয়েছে। তিনি বলেন, "একটি ডিএনএ পরীক্ষা আমার ৩৮ বছরের স্মৃতি মুছে দিতে পারে না।"   বর্তমানে মরিসন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠানে ওয়েল্ডিং পরিদর্শক হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে বাইলিন একাডেমিক পেশায় যুক্ত। দুজনই এখন তাদের জৈবিক বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। যদিও তারা স্বীকার করেছেন, সম্পর্ক গড়ে তোলার এই যাত্রা আবেগঘন এবং কিছুটা অস্বস্তিকরও। তবে একে অপরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং ধীরে ধীরে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।   মামলায় দুই পরিবার মানসিক ক্ষতি, অবহেলা এবং চিকিৎসাগত গাফিলতির অভিযোগে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। তাদের আইনজীবী টিম ও'কিফ জানান, মামলা করার আগে প্রায় এক বছর হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে ইলেকট্রনিক পরিচয় যাচাই, বারকোডযুক্ত পরিচয়-বন্ধনী এবং ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থার কারণে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সেন্টার ফর বায়োএথিক্সের শিক্ষক ও শিশু ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. জনাথন ম্যারনের ভাষায়, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এমন ভুল "প্রায় কখনোই হওয়ার কথা নয়"।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জন্মের সময় দুই নবজাতক অদলবদলের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ডাকোটার হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা। ছবি: সংগৃহীত
উত্তর ডাকোটায় জন্মের ৩৬ বছর পর ফাঁস হলো রহস্য! হাসপাতালের বিরুদ্ধে পরিবারের মামলা

উত্তর ডাকোটার একটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ৩৬ বছরেরও বেশি সময় আগে জন্মের সময় দুই নবজাতককে ভুল করে অদলবদল করার অভিযোগে মামলা করেছেন দুই পরিবার। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।   মামলায় বলা হয়েছে, ১৯৮৮ সালের ২৬ জানুয়ারি নর্থ ডাকোটার গ্র্যাফটনে অবস্থিত ইউনিটি মেডিকেল সেন্টারে একই দিনে মাত্র দুটি ছেলে শিশুর জন্ম হয়। তাদের একজন কাইল বাইলিন এবং অন্যজন জেরেমি মরিসন। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালের কর্মীরা ভুলবশত দুই শিশুকে অদলবদল করে তাদের প্রকৃত বাবা–মায়ের পরিবর্তে অন্য পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেন। ফলে দুই শিশুই একে অপরের জৈবিক পরিবারের কাছে বেড়ে ওঠেন, কিন্তু কেউই বিষয়টি জানতে পারেননি।   ঘটনার মোড় ঘুরে যায় দুই বছর আগে। বর্তমানে কলোরাডোতে বসবাসকারী জেরেমি মরিসন পারিবারিক ইতিহাস জানার উদ্দেশ্যে একটি ডিএনএ পরীক্ষা করান। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, যাদের তিনি এতদিন নিজের বাবা–মা বলে জেনে এসেছেন, তারা তার জৈবিক বাবা–মা নন।   পরবর্তীতে তার এক খালার ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে কাইল বাইলিনকে ওই পরিবারের জৈবিক সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এরপরই দুই পরিবার জানতে পারে, জন্মের সময় তাদের সন্তান অদলবদল হয়ে গিয়েছিল বলে তারা দাবি করছেন।   মরিসন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি অনুভব করতেন যে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো নন। তার ভাষায়, পরিবারের সবার চুল ছিল গাঢ় রঙের, কিন্তু তিনি ছিলেন সোনালি চুলের, যা তাকে আলাদা করে তুলত।   তিনি আরও বলেন, যদি জন্মের পর প্রকৃত পরিবারের কাছেই ফিরতেন, তাহলে হয়তো আজ কলোরাডোতে থাকতেন না; বরং নিজের অজানা বড় ভাইয়ের সঙ্গে পারিবারিক খামারে কাজ করতেন।   মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দুই পরিবারের বাবা–মা ইতোমধ্যে নিজেদের জৈবিক সন্তানদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তবে কাইল বাইলিন ও জেরেমি মরিসনের এখনো একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি।   অন্যদিকে ইউনিটি মেডিকেল সেন্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং আদালতের কাছে মামলাটি খারিজ করার আবেদন জানিয়েছে। হাসপাতালের আইনজীবীদের দাবি, সে সময় হাসপাতালের কর্মীরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সতর্কতার সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন।   হাসপাতাল আরও বলেছে, ঘটনার প্রায় চার দশক পেরিয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি ও কর্মীদের রেকর্ড আর সংরক্ষিত নেই। সে সময়ের প্রসূতি বিভাগের কোনো কর্মীও বর্তমানে হাসপাতালে কর্মরত নন।   এক বিবৃতিতে হাসপাতাল জানিয়েছে, দুই ব্যক্তি যে জীবনের কোনো এক পর্যায়ে তাদের জৈবিক বাবা–মা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন, সেই বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তবে হাসপাতাল বা তার কর্মীদের দায়িত্বে এমন ঘটনা ঘটেছে—এমন কোনো প্রমাণ তাদের হাতে নেই বলে দাবি করা হয়েছে।   বাদীপক্ষ আদালতের কাছে ৫০ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে এবং জুরি ট্রায়ালের আবেদন জানিয়েছে। হাসপাতালও জুরি ট্রায়ালের দাবি তুলেছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
কাতারের উপহার দেওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিমানে প্রথমবার উড়লেন ট্রাম্প I ছবি: সংগৃহীত
কাতারের উপহার দেওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিমানে প্রথমবার উড়লেন ট্রাম্প

কাতারের উপহার দেওয়া নতুন 'এয়ারফোর্স ওয়ান' বিমানে চড়ে প্রথমবারের মতো সফর শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর কাতার সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিলাসবহুল এই বোয়িং ৭৪৭-৮ (Boeing 747-8) বিমানটি উপহার দেওয়া হয়। বুধবার নর্থ ডাকোটার উদ্দেশ্যে যাত্রার মধ্য দিয়ে এই বিমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্যবহার শুরু করেছেন ট্রাম্প।   যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ ট্রেন যাত্রা ও স্বাগত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তার এই নর্থ ডাকোটা সফর। পাশাপাশি সেখানে টেডি রুজভেল্ট প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিও পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার।   চলতি মাসের শুরুর দিকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই অত্যাধুনিক বিমানটির উন্মোচন করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এটি মূলত বিগত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সেবায় ব্যবহৃত সামরিক গ্রেডের ৭৪৭-২ বিমানটির স্থলাভিষিক্ত হলো। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালে মার্কিন বিমানবাহিনীর কাছে বোয়িংয়ের নতুন বহর হস্তান্তরের আগপর্যন্ত এই বিমানটিই এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহার করা হবে।   যাত্রার আগে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, এটি সম্ভবত বিশ্বের সর্বকালের সেরা বাণিজ্যিক বিমান। প্রথম ফ্লাইটের আগে তিনি অত্যন্ত রোমাঞ্চিত উল্লেখ করে জানান, সাধারণ বাণিজ্যিক বিমানকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ও অন্যান্য জটিল প্রযুক্তি যুক্ত করে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিমানটির আপগ্রেডেশনে মার্কিন করদাতাদের খুব সামান্যই অর্থ ব্যয় হয়েছে জানিয়ে তিনি একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সদয় একটি দেশের দেওয়া বিশেষ উপহার হিসেবে অভিহিত করেন।   মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বিমানটির আপগ্রেডেশনে বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে এর আভিযানিক সক্ষমতাকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ায় অভ্যন্তরীণ ডিজাইনে খুব সামান্যই পরিবর্তন আনা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চিউং সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নতুন এই এয়ারফোর্স ওয়ানের ভেতরের কিছু ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিতে বিশাল কনফারেন্স টেবিল, চামড়ার আসন এবং চকচকে কাঠের প্যানেল দেখা গেছে।   এছাড়া বিমানে সাংবাদিকদের জন্য থাকা প্রশস্ত কেবিনের সিটগুলোতে আরামদায়ক ম্যাসাজ সুবিধা ও ব্যক্তিগত টিভি স্ক্রিনও যুক্ত করা হয়েছে। আগের পুরোনো বিমানটির প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, ৩০ বছরের পুরোনো বিমানটি নতুনগুলোর পাশে বেমানান লাগত, যা দেশের জন্য মোটেও শোভনীয় ছিল না। তবে নতুন এই অত্যাধুনিক বিমানটি নিয়ে পুরো দেশবাসী এবং তিনি নিজে অত্যন্ত গর্বিত বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০