- প্রচ্ছদ
- Topic
পর্যটন
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি পার্কস বিভাগ। আগামী ৮ আগস্ট থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন পার্কে বিনামূল্যে রাতভর ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৪ আগস্ট বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্কেও এক রাতের বিশেষ ক্যাম্পিংয়ের সুযোগ পাবেন নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা। তবে এই ক্যাম্পিংয়ে অংশ নিতে চাইলে সরাসরি নিবন্ধন করলেই হবে না। অংশগ্রহণকারীদের লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করবে নিউইয়র্ক সিটি পার্কস বিভাগ। প্রতি সপ্তাহের সোমবার আবেদন গ্রহণ শুরু হবে এবং চার দিন পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এরপর লটারির মাধ্যমে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করা হবে। পার্কস বিভাগের ‘আরবান পার্ক রেঞ্জার্স’ কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত এই ক্যাম্পিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে পুরো সময় থাকবেন অভিজ্ঞ পার্ক রেঞ্জাররা। তারা ক্যাম্পিং পরিচালনার পাশাপাশি নিরাপত্তা, প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়তা করবেন। ক্যাম্পিং কর্মসূচিতে থাকবে বনভূমিতে রেঞ্জারদের নেতৃত্বে রাতের হাঁটা, গল্প বলা, ক্যাম্পফায়ারের পরিবেশে ‘স্মোরস’ তৈরির আয়োজন এবং বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের সুযোগ। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পরিচিতি বাড়াতে বিভিন্ন খেলাধুলা ও দলীয় কার্যক্রমও রাখা হয়েছে। ১৪ আগস্ট সেন্ট্রাল পার্কে ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত হবে ওয়েস্ট ১০৬তম স্ট্রিট ও সেন্ট্রাল পার্ক ওয়েস্ট এলাকার কাছে। কর্মসূচি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায় এবং শেষ হবে পরদিন সকাল ৮টায়। এই ক্যাম্পিংয়ের জন্য লটারির নিবন্ধন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং নির্বাচিতদের নাম ৬ আগস্টের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে। নিউইয়র্ক সিটি পার্কস বিভাগের ভাষ্য, ক্যাম্পিং মানুষকে প্রকৃতির আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে স্মরণীয় সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করে। যারা আগে কখনো ক্যাম্পিং করেননি, তাদের এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। প্রতিটি ক্যাম্পিং আয়োজনে প্রায় ৩০ জন অংশ নিতে পারবেন। সাধারণত পাঁচ থেকে আটটি পরিবার অংশ নিলেও এটি শুধু পরিবারের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। বন্ধুদের দল কিংবা ক্যাম্পিংয়ে আগ্রহী অন্যরাও আবেদন করতে পারবেন। পার্কস বিভাগের আরবান পার্ক রেঞ্জার্সের পরিচালক মার্ক সানচেজ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গথামিস্টকে বলেন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি আয়োজনে প্রায় ৩০০ জন আবেদন করেন। অনেকের জন্য এই অভিজ্ঞতাই পরে অ্যাডিরনড্যাক, গ্লেসিয়ার বা ইয়েলোস্টোনের মতো জাতীয় উদ্যানে ক্যাম্পিং করার অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। কর্মসূচির আওতায় তাঁবুর ব্যবস্থা করবে নিউইয়র্ক সিটি পার্কস বিভাগ। তবে অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ স্লিপিং ব্যাগ, বিছানাপত্র, খাবার ও হালকা নাস্তা সঙ্গে আনতে হবে। ৮ আগস্টের প্রথম ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত হবে ব্রুকলিনের মেরিন পার্কের সল্ট মার্শ নেচার সেন্টারে। আর ১৮ সেপ্টেম্বর কর্মসূচির শেষ দিনে স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ব্লু হেরন নেচার সেন্টার এবং কুইন্সের রকাওয়ে বিচ এই দুটি স্থানে একযোগে রাতভর ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন করা হবে। উল্লেখ্য, সাধারণ সময়ে নিউইয়র্ক সিটির পার্কগুলোতে রাতযাপন বা ক্যাম্পিং নিষিদ্ধ। তবে এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা পার্ক রেঞ্জারদের তত্ত্বাবধানে বৈধভাবে রাতভর ক্যাম্পিং করার সুযোগ পাবেন।
অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ কমাতে স্পেনের জনপ্রিয় শহর বার্সেলোনা নতুন করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পথে হাঁটছে। শহর কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা, আবাসন ব্যবস্থা এবং নগর পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ফক্স লস অ্যাঞ্জেলেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ পর্যটন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ব্যবস্থা বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রুজ জাহাজে আসা পর্যটকদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, পর্যটন কর বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত পর্যটনপ্রবণ এলাকায় চাপ কমানোর উদ্যোগ। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য বার্সেলোনায় প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ ভিড় করেন। শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনা, সমুদ্রসৈকত, খাবার ও সংস্কৃতির আকর্ষণে পর্যটকের সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, অতিরিক্ত পর্যটনের কারণে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, রাস্তায় ভিড়, শব্দদূষণ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ক্রুজ পর্যটন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অল্প সময়ের জন্য হাজার হাজার পর্যটক শহরে প্রবেশ করলেও তারা একই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাগুলোতে ভিড় তৈরি করেন। ফলে অবকাঠামো ও স্থানীয় পরিষেবার ওপর চাপ পড়ে। বার্সেলোনা এর আগেও পর্যটন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। শহরটি স্বল্পমেয়াদি ভাড়া বাসার সংখ্যা সীমিত করা, পর্যটন কর ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং কিছু এলাকায় পর্যটকের চাপ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
ইউরোপের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলো যখন অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন স্পেনের বার্সেলোনা স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে, "আর একজন পর্যটকও নয়।" সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণ-পর্যটনের (ম্যাস ট্যুরিজম) অন্যতম কড়া সমালোচক হয়ে উঠেছে শহরটি। বার্সেলোনার টেকসই পর্যটন বিষয়ক কমিশনার হোসে আন্তোনিও দোনাইরে মাত্রাতিরিক্ত ভিড় এড়ানোর এই উদ্যোগে আরও জোর দিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, শহরটি আর পর্যটকের সংখ্যা বাড়াতে চায় না। ২০২৫ সালে শহরটিতে ১৫.৭ মিলিয়ন পর্যটক এসেছিলেন, যা তাদের ধারণক্ষমতার একেবারে দ্বারপ্রান্তে। দোনাইরে জানান, বার্সেলোনার জন্য সর্বোচ্চ ১৬ মিলিয়ন পর্যটকই যথেষ্ট, এর বেশি আর তারা গ্রহণ করবেন না। পর্যটকদের ঢল সামলাতে শহরটি বেশ কিছু কঠোর আর্থিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ক্রুজ বা প্রমোদতরীর যেসব যাত্রী ১২ ঘণ্টার কম সময় বার্সেলোনায় অবস্থান করবেন, তাদের প্রায় ৩০ ইউরো (৩৫ ডলার) সমন্বিত কর দিতে হতে পারে। ১৫ জুলাইয়ের এক মিটিংয়ের পর বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ ১২ ঘণ্টার কম থাকা ক্রুজ যাত্রীদের ওপর সর্বোচ্চ ২৪ ইউরো মিউনিসিপ্যাল কর আরোপের প্রস্তাব করেছে, যা আগের পরিকল্পিত ৮ ইউরোর চেয়ে তিনগুণ বেশি। এর পাশাপাশি, বার্সেলোনার মেয়র জাউমে কলবোনি ক্রুজ যাত্রীদের ওপর বর্তমানের ৪ ইউরো কর শতভাগ বাড়িয়ে রাতপ্রতি ৮ ইউরো করার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া, গত ১ এপ্রিল থেকে বার্সেলোনা তাদের হোটেল ট্যাক্স প্রায় দ্বিগুণ করেছে, যা জনপ্রতি প্রতি রাতে ৫-৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০-১৭ ডলার করা হয়েছে। পর্যটকদের এই বিশাল উপস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আবাসন খরচ বৃদ্ধি, গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভিড় এবং ঐতিহাসিক এলাকাগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় শহরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। গত গ্রীষ্মে বার্সেলোনার নাগরিকরা বড় ধরনের বিক্ষোভ করেন, যেখানে ক্ষুব্ধ হয়ে অনেকে পর্যটকদের গায়ে খেলনা বন্দুক (ওয়াটার গান) দিয়ে পানি ছিটিয়ে প্রতিবাদ জানান; ঠিক যেমনটা ২০২৪ সালেও ঘটেছিল। "একজন পর্যটক বাড়া মানে একজন বাসিন্দা কমা" এবং "পর্যটকরা বাড়ি ফিরে যাও"—এমন সব প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীরা তাদের স্থানীয় অর্থনীতি পুনর্গঠনের দাবি জানান। আন্দ্রেউ মার্তিনেজ নামের এক বাসিন্দা জানান, তার এলাকার অ্যাপার্টমেন্টগুলো এখন প্রতিনিয়ত স্বল্পমেয়াদী ছুটির জন্য ভাড়া দেওয়ায় তার বাড়িভাড়া ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে। তার মতে, বার্সেলোনাকে পর্যটকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং এখন সময় এসেছে শহরটিকে তার বাসিন্দাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার। তবে কমিশনার দোনাইরে দাবি করেছেন, নতুন এসব নিয়মকানুন মোটেও পর্যটক-বিরোধী নয়; বরং এটি আরও মানসম্মত ও বৈচিত্র্যময় পর্যটক গোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করার কৌশল। তারা মূলত এমন দর্শনার্থীদের চাইছেন যারা ব্যবসা বা সাংস্কৃতিক আকর্ষণের টানে সেখানে যাবেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় বাসিন্দারা যেন তাদের নিজেদের এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যেমন—রুটি বা বই সহজে কিনতে পারেন। শহরটির পুরো জায়গা যেন শুধু স্যুভেনির, ফোন কেস বা কাবাবের দোকানে পরিণত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মেক্সিকোর জনপ্রিয় পর্যটন শহর পুয়ের্তো ভালার্তার একটি সমুদ্রসৈকতে কুমিরের হামলায় ২৮ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। ভিডিওতে হামলার পর একটি বিশাল কুমিরকে সৈকতের কাছে মুখ হা করে থাকতে দেখা যায়। জালিসকো অঙ্গরাজ্যের পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি মেক্সিকোর নাগরিক। কাজের সূত্রে তিনি পুয়ের্তো ভালার্তায় অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মেরিনা ভালার্তা সৈকতে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর শনিবার ভোরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় কাছের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা পর্যটক জেমি ইয়েটার, তার বাগদত্তা ক্রিস বুরি এবং ইয়েটারের কিশোরী মেয়ে। জেমি ইয়েটার জানান, হোটেলের সুইমিংপুলের পাশে বসে থাকার সময় তারা সৈকতের দিক থেকে চিৎকার শুনতে পান। প্রথমে তাদের ধারণা হয়েছিল, একজন ব্যক্তি সমুদ্রের প্রবল স্রোতে আটকা পড়েছেন। তিনি বলেন, তার বাগদত্তা ক্রিস বুরি দ্রুত সৈকতের দিকে ছুটে গিয়ে বৈঠাবিহীন একটি কায়াকে উঠে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। ক্রিস বুরি বলেন, সৈকতে উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো সরঞ্জাম ছিল না। তারা যা সম্ভব হয়েছে, তা দিয়েই সাহায্যের চেষ্টা করেছিলেন। তবে তিনি কায়াকে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই কুমিরটি ওই ব্যক্তিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।তাদের সব চেষ্টা সত্ত্বেও ওই যুবককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর জেমি ইয়েটার অভিযোগ করেন, সৈকতে কুমিরের ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যটকদের যথাযথভাবে সতর্ক করা হয়নি। তিনি বলেন, সৈকতের পাশে জেলিফিশ, স্টিংরে মাছ ও কুমিরের উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্কতামূলক চিহ্ন ছিল। তবে তারা কুমিরের প্রতীকটিকে প্রথমে ইগুয়ানার ছবি বলে ভুল করেছিলেন। তার দাবি, কেউ তাদের সমুদ্রে নামতে নিষেধ করেননি। এমনকি পরদিন সকালেও সৈকতটি খোলা ছিল এবং সেখানে সাঁতার কাটতে মানুষকে দেখা গেছে। সৈকত বন্ধ ছিল না, কিংবা কোথাও সাঁতার নিষিদ্ধের কোনো সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়নি। ঘটনার পরও শনিবার সকালে একই সৈকতে বহু মানুষকে সমুদ্রে নামতে দেখা যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই সেখানে সাঁতার কাটছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডায় অবস্থিত ফ্লোরিডা কিজ একটি দীর্ঘ প্রবাল ও চুনাপাথরে গঠিত দ্বীপশৃঙ্খল, যা মায়ামি-ডেড ও মনরো কাউন্টি জুড়ে বিস্তৃত। প্রায় ৩৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই দ্বীপপুঞ্জটি আটলান্টিক মহাসাগরের ভার্জিনিয়া কী থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে এগিয়ে মেক্সিকো উপসাগরের ড্রাই টর্তুগাস অঞ্চলের লজারহেড কী পর্যন্ত বিস্তৃত। ফ্লোরিডা কিজ মূলত প্রবাল ও চুনাপাথরের গঠনে তৈরি অসংখ্য ছোট বড় দ্বীপ নিয়ে গঠিত। দ্বীপগুলোর মধ্যবর্তী জলাভাগ হিসেবে বিস্কেইন বে ও ফ্লোরিডা বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই অঞ্চলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর উপকূলীয় বাঁকানো গঠন, যা সমুদ্রপথে একটি অনন্য ভূদৃশ্য তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দীর্ঘ জল-সেতুবিশিষ্ট সড়ক ওভারসিজ হাইওয়ে এই দ্বীপগুলোর মধ্য দিয়ে মেইনল্যান্ডকে কী ওয়েস্টের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ১৯৩৮ সালে নির্মিত এই সড়কে ৪২টি সেতু রয়েছে, যার মধ্যে একটি প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলে ক্যালুসা ও টেকুয়েস্তা নামের আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করত। ১৫১৩ সালে স্প্যানিশ অভিযাত্রী হুয়ান পন্সে দে লেওন প্রথমবারের মতো এই এলাকায় আসেন। প্রথম স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠে ১৮২২ সালের দিকে। তখন মূল অর্থনীতি ছিল মাছ ধরা এবং জাহাজডুবির মালামাল উদ্ধার বা সালভেজিং। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ওঠানামা করেছে। ১৮৯০-এর দশকে এখানে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন দেখা যায়। ১৯৩৫ সালের ভয়াবহ হারিকেন এই দ্বীপপুঞ্জের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত, যেখানে শত শত মানুষের মৃত্যু হয় এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়। ফ্লোরিডা কিজের মধ্যে সবচেয়ে বড় দ্বীপ হলো কী লার্গো। এটি একসময় কীয় লেবুর চাষের জন্য পরিচিত ছিল, যা বিখ্যাত “কী লাইম পাই” তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কী লার্গোতে অবস্থিত জন পেনেক্যাম্প কোরাল রিফ স্টেট পার্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আন্ডারওয়াটার পার্ক, যেখানে জীবন্ত প্রবাল প্রাচীর দেখা যায়। ইসলামোরাদা, লং কী, এবং মেরাথন অঞ্চলগুলো পর্যটন ও গবেষণার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। মেরাথন শহরটি এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। ফ্লোরিডা কিজের বড় অংশ বিভিন্ন জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে বিস্কেইন ন্যাশনাল পার্ক, এভারগ্লেডস ন্যাশনাল পার্ক এবং ড্রাই টর্তুগাস ন্যাশনাল পার্ক। এছাড়া ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফ্লোরিডা কিজ ন্যাশনাল মেরিন স্যাংচুয়ারি সমুদ্রজীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিছু এলাকা গ্রেট হোয়াইট হেরন ন্যাশনাল ওয়ার্ল্ডলাইফ রিফিউজ হিসেবে সংরক্ষিত। ফ্লোরিডা কিজে ম্যানগ্রোভ বন, সীগ্রাস ও প্রবাল প্রাচীর সমৃদ্ধ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র রয়েছে। এখানে ৬০০টিরও বেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এছাড়া সামুদ্রিক কচ্ছপ, অ্যালিগেটর ও বিপন্ন ম্যানাটি এই অঞ্চলে দেখা যায়। পর্যটন ও বাণিজ্যিক মাছ ধরা এখানকার অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সামুদ্রিক বৈচিত্র্যের কারণে এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।
থাইল্যান্ড সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ৯০টির বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল অবস্থানের সময়সীমা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ দিনের বেশি দেশটিতে থাকতে হলে পর্যটকদের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। সরকারি সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, আগে কোভিড পরবর্তী অর্থনীতি চাঙা করতে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ৯৩টি দেশের পর্যটকদের ৬০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি মন্ত্রিসভা সেই সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। নতুন নীতিমালায় বিদেশি পর্যটকদের অবস্থানের সময়সীমা দেশভিত্তিকভাবে নির্ধারণ করা হবে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নির্ভর করবে। নিরাপত্তা জোরদার এবং ভিসা ব্যবস্থায় জটিলতা কমানোর লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে মাদক ও মানবপাচারের মতো অপরাধে বিদেশি নাগরিকদের জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষার জন্য বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নীতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হয়েছে। ৬০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত দেশগুলোর তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইতালি ও স্পেন ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব দেশের নাগরিকদেরও ৩০ দিনের বেশি অবস্থানের জন্য ভিসা নিতে হবে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে। সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একই দেশের নাগরিকদের জন্য একাধিক ভিসা সুবিধা থাকায় অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হতো। নতুন নীতির মাধ্যমে সেই জটিলতা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পর্যটননির্ভর অর্থনীতির জন্য পরিচিত থাইল্যান্ডে ২০১৯ সালে প্রায় ৪ কোটি পর্যটক ভ্রমণ করেছিলেন। মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে পর্যটন খাত পুনরুদ্ধারের পথে থাকলেও সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উদ্বেগ নীতিগত এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
হাইতির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সিটাডেল লাফেরিয়েরে মর্মান্তিক পদদলিতের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ইস্টার উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে শনিবার (১১ এপ্রিল) এই দুর্ঘটনা ঘটে। হাইতির নর্ড বিভাগের সিভিল প্রোটেকশনের প্রধান জেন হেনরি পিটিট জানান, বার্ষিক এই অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হওয়ায় হঠাৎ করে পদদলিতের ঘটনা ঘটে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ের ফিলস-অ্যামি গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, মিলো শহরের ওই স্থানে বহু তরুণ-তরুণীর উপস্থিতিতে একটি পর্যটন অনুষ্ঠানের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গটির প্রতিষ্ঠা স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থী উপস্থিত হয়। প্রবেশপথের কাছে হঠাৎ ভিড়ের চাপ তৈরি হলে পদদলিতের ঘটনা শুরু হয়। এ সময় আকস্মিক ভারী বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। স্থানীয় একটি পত্রিকার বরাতে সিভিল প্রোটেকশন জানায়, ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। তবে সরকারি বিবৃতিতে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি। ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পরপরই নির্মিত এই ঐতিহাসিক দুর্গটি দেশটির স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। বিপ্লবী নেতা অঁরি ক্রিস্তফ এটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে এটি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।
অস্ট্রেলিয়া সরকার ইরানি নাগরিকদের জন্য সাময়িক সময়ের জন্য পর্যটন ভিসা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান থেকে আসা দর্শনার্থীরা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশ ত্যাগ করবেন না—এমন আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং প্রাথমিকভাবে পরবর্তী ছয় মাস পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবেন দীর্ঘমেয়াদী ভিসাধারী ব্যক্তিরা এবং যাদের স্ত্রী-সন্তান বা নিকটাত্মীয় অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্ক জানান, বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ইরানি নাগরিকের কাছে অস্ট্রেলিয়ার ভিজিটর ভিসা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, "পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।" উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানি নারী ফুটবল দলের সাত সদস্যকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে পরবর্তীতে তাদের মধ্যে পাঁচজন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন এবং শরণার্থীর আবেদন প্রত্যাহার করেন। এই ঘটনার পরপরই পর্যটন ভিসার ওপর এমন কড়াকড়ি আরোপ করা হলো। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ান গ্রিনস-এর অভিবাসন বিষয়ক মুখপাত্র সিনেটর ডেভিড শুব্রিজ এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি একে 'নিষ্ঠুর ও অন্যায্য' হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেন, ইরানিরা যাতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করতে না পারে, সেজন্যই এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।