পারমাণবিক

যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হা মলার দুঃসাহস দেখালে সমান শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানবে তেহরান I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হা মলার দুঃসাহস দেখালে সমান শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানবে তেহরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে পারমাণবিক হামলা চালানোর মতো কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তেহরানও ঠিক সমান শক্তিতে তার চরম ও ভয়াবহ পাল্টা জবাব দেবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। বুধবার (১৯ আগস্ট) ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য ফাদা হোসেন মালেকি স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই কঠোর বার্তা দেন।   এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের আক্রমণাত্মক ও অনমনীয় সামরিক অবস্থানের বিষয়টিই নতুন করে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।   সাক্ষাৎকারে ফাদা হোসেন মালেকি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের ভুল পদক্ষেপ বা হঠকারিতার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এমন কোনো চরম পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস দেখাবেন না; কারণ তেমন কিছু ঘটলে তা গোটা বিশ্বকেই এক ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।   মালেকি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরানের ওপর ঠিক যে ধরনের বা যে মাত্রার অস্ত্র দিয়ে আঘাত হানা হবে, তেহরানও বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে ঠিক একই মাত্রায় তার জবাব নিশ্চিত করবে।   তবে পাল্টা আঘাতের ক্ষেত্রে ইরানের নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার জন্য তেহরানের হাতে এখনও বহু গোপন ও শক্তিশালী বিকল্প প্রস্তুত রয়েছে।   ইরানের এই শীর্ষ আইনপ্রণেতা আরও জানান, তেহরান এখন তাদের চিরাচরিত আত্মরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে এসে পুরোপুরি 'আক্রমণাত্মক প্রতিরোধ' নীতি গ্রহণ করেছে। এদিকে, দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত হওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটনকেই সরাসরি দায়ী করেছেন তিনি।   মালেকি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আগের কোনো সমঝোতা বা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। ওয়াশিংটন যদি নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়, তবে ইরান আর কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এর ফলে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আঞ্চলিক সংকট অমীমাংসিতই থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   এছাড়া, ওমানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনাকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্রক্রিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের অংশগ্রহণ ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও নিশ্চিত করেন এই আইনপ্রণেতা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ইরানকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ করেই ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র: মার্কো রুবিও
ইরানকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ করেই ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র: মার্কো রুবিও

ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির অংশ হিসেবে দেশটির পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এবং নিরস্ত্রীকরণই হচ্ছে ওয়াশিংটনের কাঙ্ক্ষিত সেই চূড়ান্ত চুক্তি বা লক্ষ্য।   মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে এবং এর ভেতর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর যাতায়াত স্বাভাবিকভাবেই অব্যাহত আছে। তবে এই জলপথটি ব্যবহার করে কীভাবে আরও বেশি সংখ্যক জাহাজ সম্পূর্ণ নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে অতিক্রম করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন একটি নতুন ও কার্যকর চুক্তি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।   মার্কো রুবিও আরও জানান, স্বল্প মেয়াদে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরান ও ওমানের সাথে আলোচনা এবং দরকষাকষিতে সরাসরি যুক্ত রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের প্রত্যাশা, নিরাপত্তা বিষয়ক এই স্বল্পমেয়াদী আলোচনাগুলোই পরবর্তীতে একটি বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পথ প্রশস্ত করবে। আর সেই দীর্ঘমেয়াদী আলোচনারই মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ইস্যু, যা মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে হোয়াইট হাউস।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
সৌদির পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষায় ট্রাম্পের সমর্থন, নেপথ্যে পাকিস্তানের ‘পারমাণবিক ছাতা’ নিয়ে নতুন জল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত বদলে যাওয়া নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক অবস্থান। একই সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে রিয়াদের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক সামনে আসায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি পুরোনো প্রশ্ন—ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার বিপরীতে সৌদি আরব কি ভবিষ্যতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ছাতার ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে পারে?   সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য এই সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সৌদি আরবের নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্জনের সম্ভাবনা।   ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে এটি বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের অংশ হলেও, পারমাণবিক বিস্তার রোধ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করলে একটি দেশ ভবিষ্যতে পারমাণবিক কর্মসূচিকে আরও উন্নত করার সুযোগ পেতে পারে।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এখন পর্যন্ত সৌদি আরবকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, এমন কোনো তথ্য নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি মূলত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাকেন্দ্রিক।   তারপরও সৌদি আরবের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে উদ্বেগের পেছনে রয়েছে আঞ্চলিক বাস্তবতা। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অতীতে বলেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে সৌদি আরবও নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে একই ধরনের সক্ষমতা অর্জনের কথা বিবেচনা করতে পারে।   এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।   পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। দেশটির সঙ্গে সৌদি আরবের বহু বছরের সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি এই সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে।   এই চুক্তির পর থেকেই বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, সৌদি আরব কি ভবিষ্যতে পাকিস্তানের কাছ থেকে কোনো ধরনের কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেতে পারে? কেউ কেউ এটিকে সম্ভাব্য ‘পারমাণবিক ছাতা’ হিসেবে দেখছেন।   তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—সৌদি আরবকে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহ বা দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র ভাগাভাগির কোনো প্রকাশ্য ও নিশ্চিত চুক্তির তথ্য এখনো নেই।   তবে পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু বক্তব্য এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক পর্যায়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে পাকিস্তানের কৌশলগত সক্ষমতা সৌদি আরবের জন্য ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে। যদিও এই বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট অর্থ এবং বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে পরবর্তীতে নানা ব্যাখ্যা এসেছে।   এখন সৌদি আরব একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে চাইছে, অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে জোরদার করছে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা।   ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষণে একটি নতুন সমীকরণ সামনে এসেছে।   একদিকে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা, অন্যদিকে ইসরায়েলের ঘোষিত ও অঘোষিত পারমাণবিক সক্ষমতা—এর মাঝখানে সৌদি আরব যদি বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করে এবং একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও গভীর করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে তার প্রভাব পড়তে পারে।   তবে সৌদি আরব এখনই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। বরং বর্তমানে যে চিত্রটি স্পষ্ট, তা হলো—রিয়াদ নিজের জ্বালানি ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান—দুই দেশের সঙ্গেই কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করছে।   এখন দেখার বিষয়, সৌদি আরবের এই পারমাণবিক কর্মসূচি কতটা বেসামরিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে এবং ভবিষ্যতে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে রিয়াদের কৌশল কতটা বদলে যায়।   কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হলে তার প্রভাব শুধু সৌদি আরব, ইরান বা পাকিস্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—এর প্রভাব পড়তে পারে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
পারমাণবিক অস্ত্র বানালে ইরানে নরক নেমে আসবে, চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরান যদি কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করে, তবে দেশটির ওপর ‘নরক নেমে আসবে’ বলে চরম ও দ্ব্যর্থহীন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ (G-7) শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সাথে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতি ওয়াশিংটনের এযাবৎকালের অন্যতম কঠোর সতর্কবার্তা।   বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে তারা যদি এই অবস্থান থেকে এক চুল পরিমাণও সরে আসে, তবে তাদের এমন ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে যা অতীতে কখনো ঘটেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কঠোর ভাষায় জানান, তেহরান যদি কোনোভাবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সামান্যতম চেষ্টাও চালায়, তবে তাদের ‘অকল্পনীয় ও অবিশ্বাস্য কঠিন ফলাফল’ ভোগ করতে হবে।   "ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, তবে তারা এই অবস্থান থেকে সরে এলে তাদের ওপর নরক নেমে আসবে।"   কাতার ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশের উপস্থিতিতে হওয়া আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, ইরান আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরলেও মার্কিন প্রশাসন তাদের এই মৌখিক আশ্বাসে সম্পূর্ণ নির্ভর করছে না।   বরং যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও তীক্ষ্ণ নজরদারি বজায় রাখছে। বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি-৭-এর মঞ্চ থেকে দেওয়া ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বাধা দিতে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো চরম পদক্ষেপ নিতে একটুও দ্বিধা করবে না।   এছাড়া, কাতারের আমিরের সাথে এদিনের বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ইরানের সাথে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানিরা অত্যন্ত শক্তিশালী ও অহংকারী, তাই এখনও চুক্তি হয়নি—ট্রাম্প

ইরানের নেতারা অত্যন্ত ‘শক্তিশালী’ এবং ‘অহংকারী’ হওয়ার কারণেই চলমান যুদ্ধ বন্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে সম্মত হননি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি যোগ করেছেন, শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে আসা ছাড়া তেহরানের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। শুক্রবার উইসকনসিনের চিপেওয়া ফলস-এ এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে এল।   এর আগে গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল এবং কয়েক দফায় এর মেয়াদও বাড়ানো হয়েছিল। তবে সম্প্রতি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক মাস আগে ইরানের এই প্রণালি অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা ট্রাম্প ও ওয়াশিংটনের রিপাবলিকান নেতাদের ওপর তীব্র রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।   সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প যারা তাকে দ্রুত চুক্তির জন্য তাগিদ দিচ্ছেন, তাদের কড়া সমালোচনা করে বলেন, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বছরের পর বছর সময় লাগে। ইরানি নেতারা ৪৭ বছর ধরে লড়াই করছেন এবং আমেরিকানদের ওপর আঘাত হানছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি। মাত্র তিন মাস হয়েছে। আপনারা জানেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর স্থায়ী হয়েছিল। অথচ আমাদের মাত্র তিন মাস চলছে, আর এখনই সবাই বলছে, ‘আপনি কবে জিতবেন?’”   সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, সংঘাতের এ পর্যায়ে মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক বাহিনী প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। বেশিরভাগ ড্রোন কারখানা, উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন এলাকাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ইরানের আর মাত্র ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে। তবে তেহরানের যে এখনও হামলার সক্ষমতা রয়েছে, তা তিনি স্বীকার করেছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পারস্য উপসাগরজুড়ে ধারাবাহিক হামলা এবং কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত হেনে ইরানও নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্যই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল। গত বুধবার দেওয়া অন্য এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ওপর যে অবরোধ আরোপ করা হয়েছে, তা সম্ভবত শ্রম দিবসের (লেবার ডে) পরও বহাল থাকবে।   ইরানের নেতাদের সাথে শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আমরা কি চুক্তিতে সই করব নাকি অন্য পথে হাঁটব? আর অন্য পথটি কিন্তু মোটেও সুখকর হবে না।”

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: এআই জেনারেটেড।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়, কিন্তু ইসরায়েলের বেলায় কেন নীরবতা?

গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে তীব্র সমালোচনা, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং একের পর এক কূটনৈতিক আলোচনা। কিন্তু এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক শক্তি ইসরায়েলের ক্ষেত্রে।  ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, যদিও দেশটি আজ পর্যন্ত এই বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করেনি। অথচ ইসরায়েলের এই গোপনীয়তা বা স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নেই কোনো চাপ। বিগত ১০ মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে এক প্রকার যুদ্ধংদেহী অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। যদিও এই দাবির সপক্ষে এখন পর্যন্ত অকাট্য কোনো প্রমাণ তারা হাজির করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো একে পশ্চিমাদের 'দ্বিমুখী নীতি' বা 'ডাবল স্ট্যান্ডার্ড' হিসেবে অভিহিত করেছে। ইরান অভিযোগ করেছে যে, একই অঞ্চলে একটি দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্ব উত্তাল হলেও অন্য দেশের বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে সবাই চোখ বুজে আছে। এই বৈষম্যমূলক আচরণ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রসি
ইরানে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা: সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান আইএইএ-র

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশেপাশে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।  সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের অসতর্ক পদক্ষেপ কেবল ইরান নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য এক ভয়াবহ তেজস্ক্রিয় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। মঙ্গলবার দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের এই স্পর্শকাতর স্থাপনার কাছে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে নড়েচড়ে বসে জাতিসংঘ। এক বিশেষ বিবৃতিতে আইএইএ প্রধান দেশগুলোকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানান।  সংস্থাটি স্পষ্ট করে বলেছে, বুশেহর একটি সক্রিয় বিদ্যুৎ কেন্দ্র যেখানে বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক উপাদান মজুদ রয়েছে। ফলে এই স্থাপনার সামান্যতম ক্ষতিও সীমানা ছাড়িয়ে এক বিশাল এলাকাজুড়ে তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়িয়ে দিতে পারে, যা মানবজাতি ও পরিবেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
ইসরায়েলের পারমাণবিক নীতি কেন বিশ্বের জন্য বড় হুমকি?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মাঝে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নীতি বা 'নিউক্লিয়ার ডকট্রিন' নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ নাজ্জার সতর্ক করেছেন যে, ইসরায়েল তার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের যে সীমা (threshold) নির্ধারণ করে রেখেছে, তা অত্যন্ত নিচু এবং বিপজ্জনক। নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতাকে একটি 'উন্মুক্ত গোপন রহস্য' হিসেবে গণ্য করা হলেও দেশটি কখনোই এর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। তবে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (SIPRI) তথ্যমতে, ইসরায়েলের কাছে অন্তত ৮০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলো নিক্ষেপ করার মতো অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম রয়েছে। সাধারণত পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো অন্য দেশের পারমাণবিক হামলা ঠেকাতে (Deterrence) এই অস্ত্র রাখে। কিন্তু ইসরায়েলের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইসরায়েল তার অস্তিত্বের ওপর সামান্যতম হুমকি অনুভব করলেই এই বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে—এমনকি প্রতিপক্ষ কোনো পারমাণবিক শক্তিধর দেশ না হলেও। একে সামরিক পরিভাষায় অনেক সময় ‘স্যামসন অপশন’ (Samson Option) বলা হয়, যার অর্থ হলো পরাজয়ের মুখে পড়ার আগে চূড়ান্ত ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নেওয়া। বর্তমানে ইরান ও হিজবুল্লাহর সাথে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে। গত শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের ডিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে আঘাত হানার পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ও লেবাননে ইসরায়েল যেভাবে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে তাদের সামরিক কৌশল অত্যন্ত আগ্রাসী। গাজায় ইতিমধ্যে যে পরিমাণ বিস্ফোরক ফেলা হয়েছে, তার শক্তি হিরোশিমা পারমাণবিক বোমার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন। অন্যান্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) তদারকির অধীনে থাকলেও, ইসরায়েল এখন পর্যন্ত 'নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি' (NPT)-তে স্বাক্ষর করেনি। ফলে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ নেই। নিবন্ধে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, বর্তমানে ইসরায়েলের ক্ষমতায় থাকা ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টরপন্থী সরকার এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইসরায়েলি সমাজের ক্রমবর্ধমান উগ্র জাতীয়তাবাদী মানসিকতা সামান্য বিরোধকেও ‘অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ’ হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মনস্তাত্ত্বিক বাধাকে কমিয়ে দিতে পারে। পরিশেষে, আহমেদ নাজ্জার বিশ্ব সম্প্রদায় এবং পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ইসরায়েলের এই অস্পষ্ট ও বিপজ্জনক পারমাণবিক নীতি যে কোনো সময় মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বকে একটি পারমাণবিক মহাপ্রলয়ের (Armageddon) দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে নজরদারির জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা গোপন ইনফরম্যান্ট ক্রেইগ মন্টেইল ছদ্মবেশে। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০