- প্রচ্ছদ
- Topic
ফেডারেল
নিউ ইয়র্কে অভিবাসন নীতি ঘিরে অঙ্গরাজ্য সরকার, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা—আইসিইর সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কতটা থাকবে, তা নিয়ে মতবিরোধ তীব্র হয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নতুন নীতিতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ফেডারেল অভিবাসন প্রয়োগে সহযোগিতা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইর সঙ্গে স্থানীয় কারাগারগুলোর বিশেষ সহযোগিতা চুক্তি নিয়েও বিধিনিষেধ রয়েছে। গভর্নর ক্যাথি হোকুলের প্রশাসন বলছে, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে নিউইয়র্কের কিছু স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা এই নীতির বিরোধিতা করেছেন। ক্যাটারগাস কাউন্টির শেরিফ এরিক বাটলার প্রকাশ্যে গভর্নর হোকুলের অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করা জননিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়। এ নিয়ে অঙ্গরাজ্য সরকার ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে নিউইয়র্কে আইসিইর কার্যক্রমও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ক্যাপিটাল অঞ্চলের অভিবাসী অধিকারকর্মীরা গত কয়েক সপ্তাহে আটক ও গ্রেপ্তারের ঘটনা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, অনেক অভিযান হচ্ছে হঠাৎ করে এবং প্রকাশ্য এলাকায়। এই পরিস্থিতিতে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের সদস্যদের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে জটিলতা রয়েছে, তারা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।আইনি পর্যায়েও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্কের অভিবাসন-সংক্রান্ত কিছু বিধান নিয়ে ফেডারেল আদালতে আইনি লড়াই চলছে। ফলে অঙ্গরাজ্যের আইন এবং ফেডারেল অভিবাসন প্রয়োগের মধ্যে সীমারেখা কোথায় থাকবে, তা নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে। নিউ ইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ফেডারেল অভিবাসন প্রয়োগ জোরদার হলে গ্রেপ্তার, আটক ও নির্বাসন-সংক্রান্ত ঝুঁকি নিয়ে কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে। নিউ ইয়র্কে অভিবাসন নীতি নিয়ে এই সংঘাত শুধু রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই; এটি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্পর্কের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ ক্রেডিট তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইকুইফ্যাক্স ২০২২ সালের একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির জেরে দায়ের হওয়া মামলায় ১০ কোটি ডলারের বিশাল অঙ্কের সমঝোতায় পৌঁছেছে। এই সমঝোতা এখনও ফেডারেল আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এটি অনুমোদিত হলে প্রায় ৪০ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক এই ক্ষতিপূরণের আওতাভুক্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মামলার মূল সূত্রপাত ঘটে ২০২২ সালের মার্চ মাসে ইকুইফ্যাক্সের কম্পিউটার সিস্টেমে দেখা দেওয়া একটি কোডিং ত্রুটি থেকে। ওই বছরের ১৭ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত এই ত্রুটির কারণে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের ক্রেডিট স্কোর ও ঋণসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলভাবে হিসাব করা হয় এবং তা তৃতীয় পক্ষের কাছে সরবরাহ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আর্থিক সুরক্ষা ব্যুরোর (সিএফপিবি) তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, ওই সময়ে ৬ লাখেরও বেশি গ্রাহকের ক্রেডিট স্কোর অন্তত ১০ পয়েন্ট এবং প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার গ্রাহকের স্কোর ২৫ পয়েন্ট বা তারও বেশি কমে গিয়েছিল। ফ্রেডি ম্যাকের দেওয়া তথ্যমতে, এই নির্দিষ্ট সময়ে ইকুইফ্যাক্সের তৈরি প্রায় ১২ শতাংশ ক্রেডিট রিপোর্ট ওই ত্রুটি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে। ক্রেডিট স্কোরের এই আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পতনের ফলে বহু গ্রাহক মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। অনেকেই গাড়ি, বাড়ি বা ক্রেডিট কার্ডের জন্য ঋণের আবেদন করতে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, আবার অনেককে বাধ্য হয়ে তুলনামূলক চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের 'ফেয়ার ক্রেডিট রিপোর্টিং অ্যাক্ট' বা ন্যায্য ক্রেডিট রিপোর্টিং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইকুইফ্যাক্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ চার বছরের আইনি লড়াই, বিস্তর নথি পর্যালোচনা এবং দর-কষাকষির পর অবশেষে উভয় পক্ষ এই ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে একমত হয়েছে। প্রস্তাবিত এই সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দিতে মোট ১০ কোটি ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে। এই অর্থ থেকে যোগ্য গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি মামলার আইনজীবীদের পারিশ্রমিক ও প্রশাসনিক খরচ মেটানো হবে। আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর কীভাবে ও কবে দাবি জমা দিতে হবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। বৈধভাবে দাবি জমা দেওয়া গ্রাহকরা আনুপাতিক হারে তহবিলের অর্থ পাবেন। ইকুইফ্যাক্স অবশ্য আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিজেদের কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায় স্বীকার করেনি। কোম্পানির দাবি, কেবল দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার বিপুল ব্যয় ও অনিশ্চয়তা এড়াতেই তারা এই সমঝোতায় রাজি হয়েছে। উল্লেখ্য, ত্রুটিপূর্ণ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ঋণদাতাদের কাছে ভুল তথ্য পাঠানোর একই ঘটনায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সিএফপিবি ইকুইফ্যাক্সকে আলাদাভাবে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানাও করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন ভিসা আবেদনকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রদান স্থগিত রাখার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে করা মামলায় আদালত ওই নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছেন। মামলাটি একজন ব্রাজিলীয় বিনিয়োগকারী ও তাঁর পরিবারের ভিসা আবেদনকে কেন্দ্র করে হওয়ায় বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর একই ধরনের আবেদনকারীদের মধ্যেও নতুন করে আশার সৃষ্টি হয়েছে। ৩১ জুলাই ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের সিনিয়র জেলা বিচারক অ্যামিট পি. মেহতা এ রায় দেন। মামলাটির বাদী নিউটন দে মউরা গোমেস ও তাঁর পরিবারের অভিবাসন ভিসা আবেদন ৭৫ দেশের জন্য চালু করা সামগ্রিক স্থগিত নীতির কারণে আটকে ছিল। আদালত সরকারের ওই নীতিকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের ভিসা আবেদন স্বাভাবিক নিয়মে ব্যক্তিগতভাবে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা ইস্যু স্থগিত রেখেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব দেশের নাগরিকরা অ্যাপ্লিকেশন জমা দিতে এবং ভিসা ইন্টারভিউতে অংশ নিতে পারছেন, তবে ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ প্রযোজ্য। বাংলাদেশ ওই তালিকায় রয়েছে। আদালতের নতুন রায়ের মূল বিষয় ছিল, পররাষ্ট্র দপ্তর কি ৭৫ দেশের সব অভিবাসন ভিসা আবেদনকে একটি সামগ্রিক নীতির মাধ্যমে আটকে রাখতে পারে কি না। বিচারক মেহতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে কোনো আবেদনকারীর ‘পাবলিক চার্জ’ হওয়ার সম্ভাবনা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করার যে আইনি কাঠামো রয়েছে, সেটিকে বাদ দিয়ে সব আবেদনকারীর ওপর একই ধরনের blanket policy প্রয়োগ করা যায় না। মামলাটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে কারণ বাদী নিউটন দে মউরা গোমেস ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচির একজন আবেদনকারী। এই কর্মসূচিতে যোগ্য বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নির্ধারিত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির শর্ত পূরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারেন। আদালতের সামনে তাঁর পরিবারের আবেদন আটকে যাওয়ার বিষয়টিই মূল বিরোধের অংশ ছিল। রায়ে আদালত শুধু আবেদনটি দ্রুত অনুমোদনের নির্দেশ দেননি। বরং সংশ্লিষ্ট পরিবারের আবেদনকে ৭৫ দেশের জন্য চালু করা সামগ্রিক স্থগিত নীতির বাইরে রেখে ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত সরকারের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেও এই পুনর্বিবেচনা সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। বাংলাদেশিদের জন্য রায়টির গুরুত্ব এখানেই। বাংলাদেশ ওই ৭৫ দেশের তালিকায় থাকায় একই নীতির কারণে অভিবাসন ভিসা আটকে থাকা বাংলাদেশি আবেদনকারীরা আদালতের এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির হিসেবে দেখতে পারেন। বিশেষ করে বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন ভিসার আবেদনকারীদের জন্য রায়টি নতুন আইনি সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে। তবে এই রায়ের অর্থ এখনই বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের সব আবেদনকারীর ভিসা স্থগিতাদেশ উঠে গেছে, এমন নয়। আদালতের সরাসরি আদেশ এই মামলার বাদী ও তাঁর পরিবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে কি না, তা পরবর্তী আদালতের সিদ্ধান্ত, নতুন মামলা এবং মার্কিন সরকারের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে। সাম্প্রতিক রায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনি পর্যবেক্ষণেও বলা হয়েছে, ৭৫ দেশের ওপর থাকা সামগ্রিক স্থগিত নীতি এখনো সবার জন্য বাতিল হয়নি। ফলে বাংলাদেশি বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এটি সরাসরি ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক ভিসা স্থগিত নীতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল আদালতের রায় হিসেবে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে এই রায়ের ভিত্তিতে অন্যান্য আবেদনকারীর মামলায় কী ধরনের প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
জুলাই মাসের শুরুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চিত্র উঠে এসেছে। একই সঙ্গে, তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো আগামী সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও জোরালো হচ্ছে। বর্তমানে সার্টিফিকেট অফ ডিপোজিট (সিডি) অ্যাকাউন্টগুলোতে সুদের হার প্রায় ৪ শতাংশের কাছাকাছি। তাই সুদের হার বেশি থাকা অবস্থায় এই সুবিধা লুফে নিতে কিছু অর্থ সিডিতে স্থানান্তর করা একটি বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। সাধারণ অ্যাকাউন্টে ১৫ হাজার ডলার ফেলে রাখার চেয়ে ১ বছর মেয়াদি একটি সিডি অ্যাকাউন্ট বেশি লাভজনক হতে পারে। বর্তমানে প্রথাগত সেভিংস অ্যাকাউন্টগুলোতে গড়ে মাত্র ০.৩৮ শতাংশ সুদ পাওয়া যায়, যেখানে সিডি অ্যাকাউন্টে সুদের হার প্রায় ৪ শতাংশ। অর্থাৎ, এখনই সিডিতে টাকা স্থানান্তর না করলে মূলত সঞ্চয়কারী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে ১ বছর মেয়াদি সিডির ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ের জন্য টাকা আটকে রাখার কোনো ঝুঁকি থাকে না। বর্তমানে ১ বছর মেয়াদি সিডিতে সর্বোচ্চ সুদের হার ৪.১০ শতাংশ থেকে ৪.১৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। অনলাইনে ভালোভাবে যাচাই করলে সঞ্চয়কারীরা এর চেয়েও বেশি সুদের হার পেতে পারেন। ৪.১০ শতাংশ সুদে ১৫ হাজার ডলার বিনিয়োগ করলে মেয়াদ শেষে নিশ্চিত লাভ হবে ৬১৫ ডলার। সুদের হার ৪.১৫ শতাংশ হলে লাভ দাঁড়াবে ৬২২.৫০ ডলারে এবং ৪.১৭ শতাংশ সুদের ক্ষেত্রে মুনাফা হবে ৬২৫.৫০ ডলার। বর্তমানের এই উচ্চ সুদের হারে একটি ১ বছর মেয়াদি সিডি অ্যাকাউন্ট খুললে সঞ্চয়কারীরা অনায়াসেই ৬১৫ থেকে ৬২৫ ডলার পর্যন্ত নিশ্চিত লাভ পেতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট মেয়াদের আগে টাকা তুলে নিলে ব্যাংকভেদে বড় অঙ্কের জরিমানা গুণতে হতে পারে। সেই জরিমানা আপনার অর্জিত মুনাফাকে একেবারে শূন্য করে দিতে পারে। তাই সিডির মেয়াদ পূর্ণ করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেই কেবল এতে বিনিয়োগ করা উচিত। ১ বছর মেয়াদি এই সিডি অ্যাকাউন্ট খোলা সত্যিই লাভজনক কি না, তা নির্ভর করছে সঞ্চয়কারীর আর্থিক লক্ষ্যের ওপর। যারা খুব বেশি দিনের জন্য টাকা আটকে না রেখে নিশ্চিত একটি ভালো মুনাফা চাইছেন, তাদের জন্য এটি দারুণ সুযোগ। কারণ সিডির মেয়াদ সাধারণত ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে, সেখানে ১ বছর মেয়াদি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা বেশ সহজ। তবে মনে রাখতে হবে যে, সিডি অ্যাকাউন্টের সুদের হার সবসময় নির্দিষ্ট থাকে। ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়লে সিডিতে তার কোনো প্রভাব পড়বে না। কেউ যদি মনে করেন চলতি বছরের শেষের দিকে সুদের হার আরও বাড়বে, তবে হাই-ইল্ড সেভিংস বা মানি মার্কেট অ্যাকাউন্ট তার জন্য বেশি উপযুক্ত হতে পারে। কারণ এই অ্যাকাউন্টগুলোর সুদের হার পরিবর্তনশীল এবং বাজারের অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সঞ্চয়কারীরা চাইলে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের মূলধন এই তিন ধরনের অ্যাকাউন্টের মধ্যে ভাগ করেও সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনকুবেরদের সম্পদ গত এক যুগের বেশি সময়ে বহুগুণ বেড়েছে, অথচ দেশের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ১৭ বছর ধরে ঘণ্টায় ৭.২৫ ডলারেই আটকে আছে। এই বৈপরীত্য সামনে এনে ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে জীবনধারণের উপযোগী পর্যায়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভারমন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে স্যান্ডার্স ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস ও মার্ক জাকারবার্গের ২০১২ সালের সম্পদের সঙ্গে ২০২৬ সালের সম্পদের তুলনা করেন। একই পোস্টে তিনি তুলে ধরেন, ২০০৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরির হার অপরিবর্তিত রয়েছে। স্যান্ডার্সের পোস্টে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০১২ সালে ইলন মাস্কের সম্পদ ছিল প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালে তা ৭১৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়। একইভাবে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্পদ ২০১২ সালের ১৮.৪ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৬ সালে ২৫৫ বিলিয়ন ডলারে এবং মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের সম্পদ ১৭.৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ২১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে স্যান্ডার্সের পোস্টে দাবি করা হয়েছে। তবে ধনকুবেরদের সম্পদের বর্তমান মূল্য প্রতিদিনই পরিবর্তিত হয়। তাদের সম্পদের বড় অংশ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও অন্যান্য সম্পদের বাজারমূল্যের সঙ্গে যুক্ত। ফলে শেয়ারবাজারের ওঠানামার সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের ব্যবধানেও নেট সম্পদের হিসাবে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। এ কারণে স্যান্ডার্সের পোস্টে উল্লেখ করা ২০২৬ সালের অঙ্কগুলো নির্দিষ্ট সময়ের হিসাব হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সাম্প্রতিক হিসাবেও এর উদাহরণ দেখা গেছে। ২৩ জুলাই টেসলার শেয়ারের বড় পতনের পর ইলন মাস্কের সম্পদ একদিনেই প্রায় ১৮.৬ বিলিয়ন ডলার কমে যায় বলে ফোর্বসের তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ওই সময় তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৩১.৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তবে স্যান্ডার্সের পোস্টে ধনকুবেরদের সম্পদের চেয়েও যে বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে সামনে আনা হয়েছে, তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি বর্তমানে ঘণ্টায় ৭.২৫ ডলার। এই হার কার্যকর হয়েছিল ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই। এরপর ১৭ বছর পার হলেও ফেডারেল পর্যায়ে ন্যূনতম মজুরি আর বাড়েনি। ২০০৭ সালে পাস হওয়া আইনের আওতায় ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি তিন ধাপে বাড়ানো হয়েছিল। ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই তা ঘণ্টায় ৫.৮৫ ডলার, ২০০৮ সালে ৬.৫৫ ডলার এবং ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই ৭.২৫ ডলারে উন্নীত হয়। এরপর থেকে একই হার বহাল রয়েছে। এই দুই চিত্র পাশাপাশি রেখে স্যান্ডার্স লিখেছেন, পরিস্থিতি ‘অশ্লীল’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার ভাষায়, “আমাদের ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে জীবনধারণের উপযোগী মজুরিতে নিয়ে যেতে হবে।” স্যান্ডার্স দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে আয় ও সম্পদের বৈষম্য কমানো এবং নিম্ন আয়ের কর্মীদের মজুরি বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ধনীদের সম্পদ বৃদ্ধির সঙ্গে শ্রমজীবী মানুষের মজুরির ব্যবধানকে তিনি তার রাজনৈতিক বক্তব্যে নিয়মিতভাবে তুলে ধরেন। তবে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ৭.২৫ ডলার থাকার অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রের সব কর্মী এই হারেই কাজ করেন। অনেক অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার নিজেদের ন্যূনতম মজুরি ফেডারেল হারের চেয়ে বেশি নির্ধারণ করেছে। ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মীর ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল উভয় ন্যূনতম মজুরি আইন প্রযোজ্য হলে সাধারণভাবে কর্মী যে আইনে বেশি মজুরি পাওয়ার অধিকারী, সেই উচ্চতর হারই প্রযোজ্য হয়। ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক। সমর্থকদের যুক্তি, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ৭.২৫ ডলারের ফেডারেল হার বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং কম আয়ের কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে মজুরি বৃদ্ধি প্রয়োজন। অন্যদিকে বড় ধরনের বাধ্যতামূলক মজুরি বৃদ্ধির বিরোধীরা ছোট ব্যবসার শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জীবনযাত্রার ব্যয়ের পার্থক্যের বিষয়টি সামনে আনেন। ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি পরিবর্তনের জন্য কংগ্রেসে আইন পাসের প্রয়োজন। ফলে বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। স্যান্ডার্সের নতুন পোস্টটি সেই পুরোনো বিতর্ককেই আবার সামনে এনেছে। একদিকে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সম্পদের মূল্য কয়েক বছরে বিপুলভাবে বেড়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ঘণ্টায় ৭.২৫ ডলারেই অপরিবর্তিত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল পাচারের দায়ে দুই বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড ভোগ শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরই মেক্সিকোর নাগরিক আইরিস রিয়াল-বেসেরাকে (Iris Real-Becerra) হেফাজতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)। আইসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রিয়াল-বেসেরা যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দুই বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেন। সাজা শেষ হওয়ার পর ফেডারেল কারাগার থেকে মুক্তি পেলেই তাকে আইস কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন। ফেন্টানিল একটি অত্যন্ত শক্তিশালী কৃত্রিম ওপিওয়েড, যা সামান্য পরিমাণেও প্রাণঘাতী হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই মাদক যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান এবং মাদকবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ফেন্টানিল-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা কমার প্রবণতা দেখা গেলেও, প্রতিবছর এখনও কয়েক দশক হাজার মানুষ এ মাদকের কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন। আইস জানিয়েছে, মাদক পাচারের মতো গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সাজা শেষে তাদের অভিবাসন হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বলছে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী মাদকের প্রবেশ কমানো এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে আইরিস রিয়াল-বেসেরার অভিবাসন মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ বা তাকে কবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে, সে বিষয়ে আইস এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।