আমেরিকা

১৫ হাজার ডলারের সঞ্চয় থেকে বছরে ৬০০ ডলারের বেশি আয়ের সুযোগ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৬:৪১
১৫ হাজার ডলারের সঞ্চয় থেকে বছরে ৬০০ ডলারের বেশি আয়ের সুযোগ
১৫ হাজার ডলারের সঞ্চয় থেকে বছরে ৬০০ ডলারের বেশি আয়ের সুযোগ

জুলাই মাসের শুরুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চিত্র উঠে এসেছে। একই সঙ্গে, তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো আগামী সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও জোরালো হচ্ছে। বর্তমানে সার্টিফিকেট অফ ডিপোজিট (সিডি) অ্যাকাউন্টগুলোতে সুদের হার প্রায় ৪ শতাংশের কাছাকাছি। তাই সুদের হার বেশি থাকা অবস্থায় এই সুবিধা লুফে নিতে কিছু অর্থ সিডিতে স্থানান্তর করা একটি বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।

 

সাধারণ অ্যাকাউন্টে ১৫ হাজার ডলার ফেলে রাখার চেয়ে ১ বছর মেয়াদি একটি সিডি অ্যাকাউন্ট বেশি লাভজনক হতে পারে। বর্তমানে প্রথাগত সেভিংস অ্যাকাউন্টগুলোতে গড়ে মাত্র ০.৩৮ শতাংশ সুদ পাওয়া যায়, যেখানে সিডি অ্যাকাউন্টে সুদের হার প্রায় ৪ শতাংশ। অর্থাৎ, এখনই সিডিতে টাকা স্থানান্তর না করলে মূলত সঞ্চয়কারী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে ১ বছর মেয়াদি সিডির ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ের জন্য টাকা আটকে রাখার কোনো ঝুঁকি থাকে না।

 

বর্তমানে ১ বছর মেয়াদি সিডিতে সর্বোচ্চ সুদের হার ৪.১০ শতাংশ থেকে ৪.১৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। অনলাইনে ভালোভাবে যাচাই করলে সঞ্চয়কারীরা এর চেয়েও বেশি সুদের হার পেতে পারেন। ৪.১০ শতাংশ সুদে ১৫ হাজার ডলার বিনিয়োগ করলে মেয়াদ শেষে নিশ্চিত লাভ হবে ৬১৫ ডলার। সুদের হার ৪.১৫ শতাংশ হলে লাভ দাঁড়াবে ৬২২.৫০ ডলারে এবং ৪.১৭ শতাংশ সুদের ক্ষেত্রে মুনাফা হবে ৬২৫.৫০ ডলার।

 

বর্তমানের এই উচ্চ সুদের হারে একটি ১ বছর মেয়াদি সিডি অ্যাকাউন্ট খুললে সঞ্চয়কারীরা অনায়াসেই ৬১৫ থেকে ৬২৫ ডলার পর্যন্ত নিশ্চিত লাভ পেতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট মেয়াদের আগে টাকা তুলে নিলে ব্যাংকভেদে বড় অঙ্কের জরিমানা গুণতে হতে পারে। সেই জরিমানা আপনার অর্জিত মুনাফাকে একেবারে শূন্য করে দিতে পারে। তাই সিডির মেয়াদ পূর্ণ করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেই কেবল এতে বিনিয়োগ করা উচিত।

 

১ বছর মেয়াদি এই সিডি অ্যাকাউন্ট খোলা সত্যিই লাভজনক কি না, তা নির্ভর করছে সঞ্চয়কারীর আর্থিক লক্ষ্যের ওপর। যারা খুব বেশি দিনের জন্য টাকা আটকে না রেখে নিশ্চিত একটি ভালো মুনাফা চাইছেন, তাদের জন্য এটি দারুণ সুযোগ। কারণ সিডির মেয়াদ সাধারণত ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে, সেখানে ১ বছর মেয়াদি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা বেশ সহজ।

 

তবে মনে রাখতে হবে যে, সিডি অ্যাকাউন্টের সুদের হার সবসময় নির্দিষ্ট থাকে। ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়লে সিডিতে তার কোনো প্রভাব পড়বে না। কেউ যদি মনে করেন চলতি বছরের শেষের দিকে সুদের হার আরও বাড়বে, তবে হাই-ইল্ড সেভিংস বা মানি মার্কেট অ্যাকাউন্ট তার জন্য বেশি উপযুক্ত হতে পারে। কারণ এই অ্যাকাউন্টগুলোর সুদের হার পরিবর্তনশীল এবং বাজারের অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সঞ্চয়কারীরা চাইলে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের মূলধন এই তিন ধরনের অ্যাকাউন্টের মধ্যে ভাগ করেও সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানলে ছাই ৭ শতাধিক বাড়ি, ঘরছাড়া ৬৫ হাজার  বাসিন্দা
ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানলে ছাই ৭ শতাধিক বাড়ি, ঘরছাড়া ৬৫ হাজার বাসিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেন কাউন্টিতে শুরু হওয়া তিনটি বিশাল দাবানল ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। 'অটাম লেন ফায়ার', 'ফেয়ারভিউ ফায়ার' এবং 'ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার' নামের এই দাবানলগুলো ইতোমধ্যে প্রায় ৮ হাজার একর এলাকা গ্রাস করেছে এবং সোমবার সকাল পর্যন্ত এগুলো কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।   আগুনের তীব্রতায় ইতোমধ্যে ৭ শতাধিক বাড়িঘর ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রাণ বাঁচাতে ওই এলাকার প্রায় ৬৫ হাজার অধিবাসীকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের পাবলিক ল্যান্ডস কমিশনার ডেভ আপথেগ্রোভ স্পোকেন কাউন্টির এই পরিস্থিতিকে একটি চরম 'মহাবিপর্যয়' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রেড ক্রসের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা ব্র্যাড কিসারম্যান জানান, শত শত পরিবার তাদের মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু হারিয়েছে এবং পুরো এলাকা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, পুরো এলাকা ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন এবং ছাই হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে কেবল চিমনিগুলো দাঁড়িয়ে রয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় স্পোকেন শহরের মূল কনভেনশন সেন্টারে একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যেই প্রায় চারশত বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।   বর্তমানে সমগ্র ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যজুড়ে ছোট-বড় প্রায় ১৫টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে, যা আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার একর এলাকা জুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বব ফার্গুসন জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৫ হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী ও ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন।   আবহাওয়ার সাময়িক অনুকূল পরিস্থিতির কারণে দমকল কর্মীরা কিছুটা সুবিধা পেলেও, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে বৃষ্টিহীন আবহাওয়ায় তাপমাত্রা আবার বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই চরম উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আইডাহো, ওরেগন এবং ইউটাতেও দাবানল তীব্র রূপ নিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৭:১১
যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় সবচেয়ে সস্তায় বাড়ি মিলছে? দেখে নিন ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকা

যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় সবচেয়ে সস্তায় বাড়ি মিলছে? দেখে নিন ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকা

১৫ হাজার ডলারের সঞ্চয় থেকে বছরে ৬০০ ডলারের বেশি আয়ের সুযোগ

১৫ হাজার ডলারের সঞ্চয় থেকে বছরে ৬০০ ডলারের বেশি আয়ের সুযোগ

ফ্লোরিডায় ডেঙ্গু সতর্কতা, বাড়ির আশপাশের জমা পানি পরিষ্কারের আহ্বান

ফ্লোরিডায় ডেঙ্গু সতর্কতা, বাড়ির আশপাশের জমা পানি পরিষ্কারের আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে এখনো বছরে ১ লাখ ডলারের বেশি আয় প্রয়োজন
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে এখনো বছরে ১ লাখ ডলারের বেশি আয় প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন খাতের চরম মূল্যস্ফীতি কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কিছুটা স্থিতিশীল হলেও সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনার স্বপ্ন এখনো অনেকটাই অধরা রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন প্রযুক্তি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'রেডফিন'-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে একটি মধ্যম মানের বাড়ি কিনে আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে মাসিক বন্ধকী কিস্তি বা মর্টগেজ সীমাবদ্ধ রাখতে হলে একটি পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হবে অন্তত ১ লাখ ৯ হাজার ৭৯৬ ডলার। গত বছরের রেকর্ড ১ লাখ ১০ হাজার ৩৮২ ডলারের তুলনায় এই প্রয়োজনীয় আয়ের অঙ্ক সামান্য ০.৫ শতাংশ কমলেও এটি এখনো ছয় অঙ্কের ঘরেই রয়ে গেছে, যা মার্কিন সাধারণ নাগরিকদের বর্তমান বার্ষিক আয়ের তুলনায় অনেক বেশি।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিবারের গড় বার্ষিক আয় বর্তমানে ৮৭ হাজার ৫৯৯ ডলার। আয় আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বাড়লেও বাড়ি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম আয়ের চেয়ে তা এখনো প্রায় ২২ হাজার ১৯৭ ডলার কম। বর্তমানে সাধারণ একটি পরিবারকে মধ্যম দামের একটি বাড়ি কিনতে গেলে তাদের মোট বার্ষিক আয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশই খরচ করতে হয় মর্টগেজ বাবদ।   রেডফিনের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ইংকি শু জানান, বাড়ি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণের অবনতি ঘটা বন্ধ হলেও তা গড় আমেরিকানদের সাধ্যের মধ্যে আসেনি। তবে ইতিবাচক দিক হলো, গত দু’বছরের তুলনায় এই আয়ের ঘাটতি কিছুটা কমেছে এবং প্রথমবার বাড়ি কিনতে চাওয়া মানুষদের জন্য পরিস্থিতি সামান্য সহজ হয়েছে। বর্তমানে একটি প্রাথমিক পর্যায়ের (এন্ট্রি-লেভেল) বাড়ি কিনতে বছরে অন্তত ৭০ হাজার ৬৯৩ ডলার আয় প্রয়োজন, যা গত বছরের চেয়ে ১.৫ শতাংশ কম। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে থাকা মোট বাড়ির প্রায় ৩৪.২ শতাংশকে সাশ্রয়ী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা এক বছর আগে ছিল ৩০.৫ শতাংশ। সিয়াটল এবং সান হোসের মতো প্রধান প্রধান মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে বাড়ি কেনার আর্থিক সামর্থ্য কিছুটা উন্নত হয়েছে।   তবে সার্বিক দেশের চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র তিনটি বড় শহর—সেন্ট লুইস, ইন্ডিয়ানাপোলিস এবং পিটসবার্গে সাধারণ পরিবারের অর্জিত আয় দিয়ে একটি মধ্যম মানের বাড়ি কেনা সম্ভব হচ্ছে। বাকি প্রায় সব প্রধান শহর ও মেট্রোপলিটন এলাকায় কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য নিজস্ব বাড়ি কেনা এখনো একটি বড় ধরনের আর্থিক সংকট হিসেবে বজায় রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৬:৭
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় ও চীনা শিক্ষার্থীদের এফ-১ ভিসা প্রদান ৬০% কমল

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় ও চীনা শিক্ষার্থীদের এফ-১ ভিসা প্রদান ৬০% কমল

অ্যারিজোনায় নিখোঁজ দম্পতির বাড়ির উঠোনে মিলল অজ্ঞাত দেহাবশেষ, দেশ ছেড়েছে সন্দেহভাজন ছেলে

অ্যারিজোনায় নিখোঁজ দম্পতির বাড়ির উঠোনে মিলল অজ্ঞাত দেহাবশেষ, দেশ ছেড়েছে সন্দেহভাজন ছেলে

যুক্তরাষ্ট্রে ভাতাসহ ইন্টার্নশিপ, আবেদন করতে পারবেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও

যুক্তরাষ্ট্রে ভাতাসহ ইন্টার্নশিপ, আবেদন করতে পারবেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও

মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ অমিত মেহতা
ট্রাম্পের গ্রিন কার্ড স্থগিতাদেশ বেআইনি, রায় দিলেন ভারতীয়-বংশোদ্ভূত বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক, ভারতীয়-বংশোদ্ভূত অমিত মেহতা এক ঐতিহাসিক রায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান গ্রিন কার্ড স্থগিতাদেশকে বেআইনি বলে ঘোষণা করেছেন। ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপিত এই স্থগিতাদেশ 'পাবলিক চার্জ' বা জনকল্যাণ নীতির আওতায় অভিবাসী বাছাই এবং ভিসা প্রদানকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করছিল।   গত ৩১ জুলাই 'ডি মৌরা গোমেস বনাম রুবিও' মামলার রায়ে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার বিচারক অমিত মেহতা জানান যে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কর্তৃক জারি করা এই নীতি ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট (আইএনএ)-এর অধীনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনি ক্ষমতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মে বলা হয়েছিল, "উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ" দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা যেন যুক্তরাষ্ট্রের জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে ভিসা বাছাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হবে। এই স্থগিতাদেশের তালিকায় বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশ থাকলেও ভারতের নাম ছিল না।   এই আইনি লড়াইটি মূলত নিউটন ডি মৌরা গোমেস নামক এক ব্রাজিলীয় নাগরিক শুরু করেছিলেন, যিনি ইবি-৫ (EB-5) কর্মসূচির আওতায় বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের বা গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছিলেন। বিচারক মেহতা তার রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, মার্কিন ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী ভিসা আবেদন মূল্যায়নের একক দায়িত্ব কনস্যুলার অফিসারদের; পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোনোভাবেই ঢালাওভাবে এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।   তিনি এই নীতিকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বাদীর আবেদনটি পুনরায় এককভাবে মূল্যায়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই রায়টি আপাতত সরাসরি শুধুমাত্র ওই ব্রাজিলীয় পরিবারের জন্য কার্যকর হলেও, এটি অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের আইনি লড়াইয়ে দারুণভাবে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।   গ্রিন কার্ড স্থগিতাদেশের রায়ের পাশাপাশি এই সপ্তাহে বিচারক অমিত মেহতা আরেকটি কারণে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ইউএস ক্যাপিটলে হামলায় অংশ নেওয়া উগ্র ডানপন্থী 'ওথ কিপার্স' দলের প্রতিষ্ঠাতা স্টুয়ার্ট রোডসসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা খারিজ করে দিয়েছেন তিনি।   ট্রাম্প-পরিচালিত বর্তমান মার্কিন বিচার বিভাগের অনুরোধেই তিনি অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই মামলাগুলো খারিজ করতে বাধ্য হন। বিচারক মেহতা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে তার আদেশে লিখেছেন যে, এই পদক্ষেপটি সেদিনের ভয়াবহতাকে অবমূল্যায়ন করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিশ্রমকে অপমান করে, যা মার্কিন গণতন্ত্রের শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।   ভারতের গুজরাটের পাটানে জন্মগ্রহণকারী অমিত পি. মেহতা মাত্র এক বছর বয়সে পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বারাক ওবামার শাসনামলে ২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনি ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। বাল্টিমোরের শহরতলিতে বেড়ে ওঠা মেহতা জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে স্নাতক শেষে ১৯৯৭ সালে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জুরিস ডক্টর (জেডি) ডিগ্রি অর্জন করেন।   পেশাগত জীবনে তিনি ওয়াশিংটন ডিসি পাবলিক ডিফেন্ডার সার্ভিসে কাজ করার পাশাপাশি হোয়াইট-কলার অপরাধ এবং জটিল ব্যবসায়িক বিবাদের আইনি লড়াইয়ে একজন সফল আইনজীবী হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছিলেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:৩০
নিউইয়র্কে বিনামূল্যে চাইল্ডকেয়ার: বছরে ২৬ হাজার ডলার বাঁচবে কর্মজীবী অভিভাবকদের

নিউইয়র্কে বিনামূল্যে চাইল্ডকেয়ার: বছরে ২৬ হাজার ডলার বাঁচবে কর্মজীবী অভিভাবকদের

টেনেসি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে মুখোমুখি সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন ও কংগ্রেসম্যান জন রোজ। ছবি: সংগৃহীত

টেনেসিতে গভর্নর পদে ট্রাম্পের দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ন্ত্রক শিথিলতা ও জ্বালানি নীতির অধীনে বড় সাফল্য পেল ওকলোর পঞ্চম পারমাণবিক চুল্লি । ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে পঞ্চম পারমাণবিক পরীক্ষামূলক চুল্লির বড় সাফল্য

0 Comments