সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ফ্লোরিডা

ফ্লোরিডা টার্নপাইকে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জনের মৃ ত্যু
ফ্লোরিডা টার্নপাইকে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জনের মৃ ত্যু, জ্বলন্ত গাড়িতে আটকে ছিলেন সবাই

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরেঞ্জ কাউন্টিতে ফ্লোরিডা টার্নপাইক মহাসড়কে এসইউভি ও সড়ক সহায়তায় নিয়োজিত একটি ট্রাকের সংঘর্ষে ছয়জনের মৃ ত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে দুর্ঘটনার পর দুটি গাড়িতেই আ গু ন ধরে যায়। এতে এসইউভির চালক ও গাড়িতে থাকা পাঁচ প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। দুর্ঘটনায় সড়ক সহায়তা ট্রাকের চালকও সামান্য আহত হয়েছেন। ফ্লোরিডা হাইওয়ে প্যাট্রোলের (এফএইচপি) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৩১ মিনিটের দিকে মহাসড়কের উত্তরমুখী লেনে ২৫২ মাইল মার্কারের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। কী কারণে সংঘর্ষ হয়েছে, তা জানতে তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত নি হ ত ছয়জনের পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।   পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে সড়ক সহায়তায় ব্যবহৃত রোড রেঞ্জার ট্রাকটি মহাসড়কের মাঝের বিভাজক এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিল। এর জরুরি বাতিগুলোও জ্বালানো ছিল। এর আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় সহায়তা করছিলেন ট্রাকটির চালক। পরে মহাসড়কের বাইরের পাশের কাঁধে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বক্স ট্রাককে সহায়তা করার নির্দেশ পান তিনি। এরপর রোড রেঞ্জার ট্রাকটি মাঝের বিভাজক এলাকা থেকে সড়ক পার হয়ে বাইরের কাঁধের দিকে এগোতে শুরু করে। ঠিক সেই সময় উত্তরমুখী লেনের ভেতরের দিকে চলছিল ২০২৩ সালের মডেলের একটি শেভ্রোলেট ট্রাভার্স এসইউভি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, এসইউভিটি বেশ দ্রুতগতিতে চলছিল এবং গাড়িটির হেডলাইট জ্বালানো ছিল না বলে তাঁরা জানিয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসইউভির চালক সামনে থাকা রোড রেঞ্জার ট্রাকটিকে এড়াতে পারেননি। গাড়িটির সামনের বাম পাশ ট্রাকের পেছনের ডান পাশে আঘাত করে। সংঘর্ষের পর দুটি গাড়িই সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে এবং তাতে আ গু ন ধরে যায়। এসইউভির ভেতরে থাকা চালক ও পাঁচ যাত্রী গাড়ির মধ্যে আটকে পড়েন। পরে ছয়জনকেই ঘটনাস্থলে মৃ ত ঘোষণা করা হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য এখনো তদন্তের চূড়ান্ত ফল নয়। গাড়িটির গতি, হেডলাইট বন্ধ থাকা কিংবা ট্রাকটির সড়ক পার হওয়ার সময়ের সঙ্গে দুর্ঘটনার সম্পর্ক কী ছিল, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। রোড রেঞ্জার ট্রাকটির চালক ২৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তিনি ফ্লোরিডার কিসিমি এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় তিনি সামান্য আঘাত পেয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। দুর্ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তদন্তকারীদের সহায়তা করেন। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ছয়জনের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য জানানো হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা কোথা থেকে এসেছিলেন কিংবা তাঁদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফ্লোরিডা হাইওয়ে প্যাট্রোল দুর্ঘটনাটির তদন্ত করছে। সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং দুর্ঘটনার পেছনে কোন কোন বিষয় ভূমিকা রেখেছে, তা তদন্ত শেষে স্পষ্ট হতে পারে। আপাতত কর্তৃপক্ষের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মহাসড়কে চলন্ত এসইউভি ও সহায়তার কাজে নিয়োজিত ট্রাকের সংঘর্ষের পরই প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বন্দুকধারীর হা মলা, গুলিবিদ্ধ ১১ জনের অর্ধেকই অপ্রাপ্তবয়স্ক
ফ্লোরিডায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বন্দুকধারীর হা মলা, গুলিবিদ্ধ ১১ জনের অর্ধেকই অপ্রাপ্তবয়স্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ফ্লোরিডা এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটির (ফ্যামু) হোমকামিং গেমের পর এক ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাগ মেমোরিয়াল স্টেডিয়ামের কাছে এই অপ্রত্যাশিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অর্ধেকই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং সবচেয়ে কম বয়সী ভুক্তভোগীর বয়স মাত্র ১১ বছর।   টালাহাসি পুলিশের প্রধান লরেন্স রেভেল জানিয়েছেন, মোট ১১ জন সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও রয়েছেন।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গোলাগুলির আগে সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে এই সহিংসতায় রূপ নেয়। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা বেশ গুরুতর, যাদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   তবে বাকি আটজনের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। পুলিশ প্রধান লরেন্স রেভেল এই হামলাকে একটি "বিচ্ছিন্ন ঘটনা" হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ঘটনার তদন্ত চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষী হামলা ও নিরাপত্তার উদ্বেগে ফ্লোরিডায় নতুন বসতি গড়ছেন অর্থডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের পরিবারগুলো। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ইহুদিদের উপর হামলা ও নিরাপত্তার উদ্বেগে ফ্লোরিডায় পাড়ি জমাচ্ছে শতাধিক ইহুদি পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষমূলক হামলা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ফ্লোরিডায় নতুন বসতি গড়ছেন অর্থডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের বহু পরিবার। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০টি পরিবার নিউইয়র্ক ছেড়ে ফ্লোরিডার একটি নতুন আবাসিক এলাকায় বসবাস শুরু করেছে। আরও শতাধিক পরিবার সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি নিউইয়র্কের বাড়ির উচ্চমূল্য, করের বোঝা এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ও তাঁদের এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   ফ্লোরিডার গ্লেডস কাউন্টিতে গড়ে তোলা হয়েছে লেকফ্রন্ট এস্টেটস নামের নতুন আবাসিক প্রকল্প। প্রায় ৫৫০ একর জমিতে নির্মিত এই প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি ডলার। চলতি অক্টোবর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া এলাকাটিতে ইতোমধ্যে নিউইয়র্ক থেকে আসা ইহুদি পরিবারগুলো বসতি স্থাপন শুরু করেছে। তাঁদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনযাপনের প্রয়োজন বিবেচনায় সেখানে সিনাগগ, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কোশের খাবারের সুপারমার্কেটের ব্যবস্থা ও পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুরুতে অর্থডক্স ইহুদিদের আগ্রহ বেশি থাকলেও এখানে বাড়ি কেনার সুযোগ অন্যদের জন্যও উন্মুক্ত।   নিউইয়র্ক ছেড়ে আসা কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে নিউইয়র্ক পোস্ট। ব্রুকলিনের সাবেক বাসিন্দা মরিস নামের এক ব্যক্তি জানান, নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষের উপস্থিতি তাঁরা দৈনন্দিন জীবনেই অনুভব করছিলেন। তাঁর দাবি, মেয়র জোহরান মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ এলাকা বরো পার্কেও পরিস্থিতির পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি নিজের পুরো পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। তবে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের কারণে ইহুদিবিদ্বেষ বেড়েছে, এমন কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক পুলিশের পরিসংখ্যানে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   চার সন্তানের এক মা জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে বাড়ির উচ্চমূল্য এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক আচরণ তাঁদের পরিবারকে অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। ফ্লোরিডায় বেসরকারি স্কুলের টিউশন ফি পরিশোধে সরকারি স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগও তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অর্থডক্স ইহুদি পরিবারগুলোর অনেকেই সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াতে আগ্রহী। ফলে আবাসন ও শিক্ষার খরচ তুলনামূলকভাবে সামাল দেওয়ার সুযোগ তাঁদের নতুন বসতি নির্বাচনে প্রভাব ফেলছে।   লেকফ্রন্ট এস্টেটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়িদেল পার্লস্টেইন জানিয়েছেন, নতুন আবাসিক প্রকল্পে চার বেডরুমের বাড়ির দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার থেকে। সাত বেডরুমের বাড়ির দাম প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার ডলার। বড় পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত জায়গাসহ বাড়ি পাওয়া নিউইয়র্কের অনেক এলাকায় ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে অর্থডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের যেসব পরিবারে সদস্যসংখ্যা বেশি, তাঁদের জন্য বড় বাড়ির প্রয়োজন হয়। ফ্লোরিডায় তুলনামূলকভাবে প্রশস্ত বাড়ি এবং ব্যক্তিগত আয়করের অনুপস্থিতিও নতুন বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করছে।   নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য অ্যারন উইডার জানিয়েছেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকার অন্তত ২০টি পরিবার ইতোমধ্যে লেকফ্রন্ট এস্টেটসে চলে গেছে। এলাকাটিতে অর্থডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের বসবাস। উইডারের মতে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অনেক পরিবারকে নিউইয়র্কের বাইরে নতুন বাড়ি খুঁজতে উৎসাহিত করছে। তাঁর নিজের পরিবারের পূর্বপুরুষেরা নাৎসি গণহত্যা থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বর্তমান সময়ে ইহুদি পরিবারগুলোর নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।   নিউইয়র্ক পুলিশের সর্বশেষ পরিসংখ্যানেও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শহরে ৪৬৩টি নিশ্চিত ঘৃণাজনিত অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৪১০। অর্থাৎ মোট ঘটনা বেড়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। এসব ঘটনার মধ্যে ২৪৫টি ছিল ইহুদিবিরোধী, যা মোট অপরাধের প্রায় ৫৩ শতাংশ। তবে ইহুদিবিরোধী অপরাধের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের ২৪২টি থেকে বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ। নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ এসব অপরাধ মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।   তবে নিরাপত্তার আশায় ফ্লোরিডায় গিয়ে নতুন ধরনের উদ্বেগের মুখেও পড়ছেন কিছু বাসিন্দা। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উগ্র ডানপন্থী কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তি নতুন এই ইহুদি আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জেক ল্যাং এবং জেফ্রি ওয়ালস্টেইনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধর্মীয় পোশাক, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এতে নতুন বসতি স্থাপনকারী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   অবশ্য প্রকল্পের প্রধান নির্বাহী ইয়িদেল পার্লস্টেইনের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ নতুন প্রতিবেশীদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। নতুন আবাসন প্রকল্পের কারণে এলাকায় ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়ছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহযোগিতা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে সেখানে বসবাস শুরু করা কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ী ও প্রতিবেশীদের অনেকেই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করলেও কিছু মানুষের বিরূপ মনোভাব এখনো তাঁদের উদ্বিগ্ন রাখছে।   এদিকে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি ইহুদিবিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধ মোকাবিলায় নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এতে সিনাগগের নিরাপত্তায় সহায়তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৈষম্য প্রতিরোধ এবং ঘৃণাজনিত অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহযোগিতার উদ্যোগ রয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের মধ্যেও কিছু ইহুদি পরিবার নিউইয়র্ক ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। তাঁদের কাছে এখন প্রধান বিবেচনার বিষয় সন্তানদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় জীবনযাপনের সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা।   তথ্য যাচাই: নিউইয়র্ক পোস্ট, নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পরিসংখ্যান এবং লেকফ্রন্ট এস্টেটসের প্রকাশিত তথ্য।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প ও মেলানিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিলেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগেই ভোট দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে স্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যান তিনি। ভোট দেওয়ার পর ট্রাম্প জানান, তিনি রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে প্রেসিডেন্টের আগাম ভোট দেওয়া দেশটির নির্বাচনি প্রচারণার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   শনিবার বিকেলে ওয়েস্ট পাম বিচের পাম বিচ কাউন্টি সুপারভাইজার অব ইলেকশনসের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছান ট্রাম্প ও মেলানিয়া। এর আগে সকালে কাছাকাছি নিজের গলফ কোর্সে সময় কাটান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে আসেন তিনি। এ সময় তাঁর পোশাকে ‘আই ভোটেড’ লেখা একটি স্টিকার দেখা যায়।   সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, তিনি দলীয় অবস্থান অনুযায়ী ভোট দিয়েছেন কি না। জবাবে তিনি জানান, অবশ্যই দিয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডার নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন তিনি। তবে গোপন ব্যালটে তাঁর দেওয়া প্রতিটি ভোট স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। সাংবাদিকদের কাছে নিজের ভোটের বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যই এ তথ্যের ভিত্তি।   এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফ্লোরিডায় গভর্নর, মার্কিন সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদসহ বিভিন্ন পদে ভোট হচ্ছে। গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী বায়রন ডোনাল্ডসকে সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেভিড জলি। অন্যদিকে মার্কিন সিনেটের বিশেষ নির্বাচনে রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলি মুডির পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন ট্রাম্প। এই নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাঞ্জি নিক্সন।   ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শুধু নিজের ভোট দেওয়ার বিষয়েই নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর একটি বিতর্কিত নির্বাচনি বিজ্ঞাপনের পক্ষেও অবস্থান নেন তিনি। বিজ্ঞাপনটিতে ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যামি অ্যাকটনের ব্যক্তিগত পারিবারিক সম্পর্কের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। বিজ্ঞাপনটির সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কয়েকজন রিপাবলিকান নেতাও।   তবে ট্রাম্পের দাবি, রামাস্বামীর বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন নেতিবাচক বক্তব্য দিলেও তা নিয়ে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তিনি বিজ্ঞাপনটির সমালোচনার বিরোধিতা করেন এবং রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয় ব্যবহার করা নিয়ে নৈতিক প্রশ্ন রয়েছে। এই বিতর্কের মধ্যেই ওহাইওর গভর্নর নির্বাচন ঘিরে প্রচারণা চলছে।   এদিকে আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের মার্কিন সিনেট নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের পাশাপাশি একই নামের আরেক প্রার্থী ব্যালটে থাকায় ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, পরিকল্পিতভাবে একই নামের প্রার্থীকে নির্বাচনে রাখা হয়েছে। বিষয়টিকে দুর্নীতি হিসেবে বর্ণনা করে আদালতের মাধ্যমে নির্বাচনি ফলের সার্টিফিকেশন আটকে দেওয়ার উদ্যোগের পক্ষেও যুক্তি দেন তিনি। তবে একই নামের প্রার্থীকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে দাঁড় করানো হয়েছে, এমন অভিযোগ আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   ভোট দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বিষয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি সীমিত যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ওলেশকি এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরিতে মেলানিয়া ভূমিকা রেখেছেন। তাঁকে নিজের প্রশাসনের পেশাদার কর্মকর্তাদের চেয়েও দক্ষ বলে প্রশংসা করেন ট্রাম্প।   মেলানিয়া ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, সংশ্লিষ্ট যুদ্ধবিরতি মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোবে। তবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার বিষয়টি এবং তা বাস্তবে কার্যকর হওয়া এক নয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় যুদ্ধবিরতির শর্ত কতটা মানা হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর। মেলানিয়ার এই কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্প ইতিবাচক মন্তব্য করলেও যুদ্ধবিরতির বাস্তব ফলাফল তখনো পুরোপুরি মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি।   এবারের নির্বাচনি প্রচারণায় নিজের ব্যস্ততা নিয়েও কথা বলেন ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প। এক সাংবাদিক তাঁর একের পর এক সমাবেশে অংশ নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করলে ট্রাম্প জানান, টানা প্রচারণা চালানো শারীরিকভাবে কঠিন। তবে তিনি বলেন, এবার নিজের জন্য নয়, অন্য রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা করছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর ঘনিষ্ঠ নন, কিন্তু তাঁদের নির্বাচিত করতে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।   ভোট দেওয়ার পর একই দিন জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হন ট্রাম্প। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ধারাবাহিকভাবে সমাবেশ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশেষ করে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থন জোগানো তাঁর প্রচারণার অন্যতম লক্ষ্য। তবে কোন দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাবে, তা নির্ধারিত হবে ভোটের ফলাফলে।   যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের নির্দিষ্টসংখ্যক আসনে ভোট হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর ও স্থানীয় প্রশাসনের পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট নিজে এ নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও তাঁর প্রশাসনের নীতি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলীয় প্রার্থীদের প্রতি জনসমর্থন নির্বাচনি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   এদিকে আগাম ভোট এবং ডাকযোগে ভোটের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও আলোচনা রয়েছে। অতীতে ডাকযোগে ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অথচ আগের বিভিন্ন নির্বাচনে নিজেও ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। এবার অবশ্য সরাসরি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে আগাম ভোট দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সরাসরি আগাম ভোট এবং ডাকযোগে ভোট আলাদা পদ্ধতি। ভোটগ্রহণের দিন উপস্থিত না থেকেও আগে নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে।   আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একদিকে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত, অন্যদিকে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যেই ফ্লোরিডায় স্ত্রী মেলানিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিলেন ট্রাম্প। ভোটকেন্দ্র থেকেই দলীয় প্রার্থীদের সমর্থন, নির্বাচনি বিতর্ক এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডার সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন ট্রাম্প
নার্সিং হোমে নার্স নিয়োগে বড় উদ্যোগ ট্রাম্পের, তিন বছর কাজ করলে মিলতে পারে ৪০ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে নার্সিং হোমে নার্সের ঘাটতি কমাতে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। ‘নার্সেস ফর নার্সিং হোমস’ নামের এই কর্মসূচির আওতায় দেশজুড়ে ৪ হাজারের বেশি নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থীকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যোগ্য আবেদনকারীরা শিক্ষাঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার এবং অতিরিক্ত ১০ হাজার ডলারের ভাতা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এই সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট নার্সিং হোমে তিন বছর কাজ করার অঙ্গীকার করতে হবে। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক নাগরিকদের কল্যাণে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিচ্ছেন। তাঁর প্রশাসন দেশজুড়ে নার্স, নার্সিং হোম ও বয়স্কদের দীর্ঘমেয়াদি সেবাকেন্দ্রে বিনিয়োগ করছে। ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এসব প্রতিষ্ঠানে নার্সের প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এবং মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড পরিষেবা কেন্দ্র (সিএমএস) যৌথভাবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করবে। এর মূল লক্ষ্য হলো নার্সিং হোমে নতুন নার্স নিয়োগের পাশাপাশি কর্মরত নার্সদের ধরে রাখা। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা ও যেসব অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মীর ঘাটতি বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠানে নার্স নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।   কর্মসূচির মোট অর্থায়নের মধ্যে সিএমএস দেবে ১০ কোটি ডলার। বাকি অন্তত ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেবে অঙ্গরাজ্যগুলো। এ অর্থের উৎস হিসেবে নার্সিং হোমগুলোর ওপর আরোপিত দেওয়ানি আর্থিক জরিমানা থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে নতুন করে সাধারণ করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করা হবে না বলে দাবি করেছেন সিএমএস প্রশাসক মেহমেত ওজ। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ নার্সদের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি বয়স্কদের সেবার মান উন্নত করতে সহায়তা করবে।   এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে হলে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত নার্স (আরএন) অথবা লাইসেন্সধারী প্র্যাকটিক্যাল বা ভোকেশনাল নার্স (এলপিএন/এলভিএন) হিসেবে বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে। পাশাপাশি তাঁকে মেডিকেয়ার বা মেডিকেইড অনুমোদিত যোগ্য দীর্ঘমেয়াদি সেবাকেন্দ্রে চাকরি করতে হবে এবং সপ্তাহে গড়ে অন্তত ৩০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করে তিন বছরের চাকরির অঙ্গীকারের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে।   যোগ্য নার্সদের শিক্ষাঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি তাঁরা ১০ হাজার ডলারের ভাতার জন্যও যোগ্য হতে পারেন। অর্থাৎ, শর্ত অনুযায়ী উভয় সুবিধা পেলে একজন অংশগ্রহণকারীর মোট সহায়তার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার হতে পারে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরো অর্থ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। সুবিধা পাওয়ার জন্য কর্মসূচির যোগ্যতা ও চাকরির শর্ত পূরণ করতে হবে।   নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনা করছেন, এমন শিক্ষার্থীরাও আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। তবে অর্থ পাওয়ার আগে তাঁদের পড়াশোনা শেষ করতে হবে, প্রয়োজনীয় পেশাগত লাইসেন্স অর্জন করতে হবে এবং যোগ্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে নতুন নার্সদের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা খাতে কাজ করতে উৎসাহিত করতে চায় কর্তৃপক্ষ। কর্মসূচিটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে চালু হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকার সব নার্সিং হোম এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ছাড়া যেসব এলাকায় নার্সের ঘাটতি বেশি, সেখানকার নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানও সহায়তার সুযোগ পাবে। তবে সব নার্সিং হোমের কর্মী এই সুবিধা পাবেন না; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে।   স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাজারো নার্স নিয়োগ ও ধরে রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ ও বেশি প্রয়োজন রয়েছে এমন এলাকায় সেবার পরিধি বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা খাতে পেশাগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। সিএমএস প্রশাসক মেহমেত ওজের ভাষ্য, শিক্ষাঋণ পরিশোধে সহায়তা শুধু নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক চাপ কমাবে না, বরং পরিবারের সদস্যদের জন্যও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। তাঁর মতে, নার্সদের সঙ্গে বয়স্ক বাসিন্দাদের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে উঠলে তাঁদের জীবনযাপনের মান ও সুস্থতাও উন্নত হতে পারে। কর্মসূচির জন্য আবেদন শুরু হবে ২৬ অক্টোবর থেকে। আগ্রহীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইট NursesforNursingHomes.cms.gov-এর মাধ্যমে বিস্তারিত জানতে এবং আবেদন করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের নার্সিং হোমগুলো দীর্ঘদিন ধরেই কর্মী নিয়োগ ও ধরে রাখার সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে পর্যাপ্ত নার্স পাওয়া কঠিন। নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে সেই ঘাটতি কমানো এবং বয়স্কদের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার মান উন্নত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডার বার্টো শহরের একটি বার্গার কিং রেস্তোরাঁর সামনে গাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফ্লোরিডায় বাবার বন্দুকের গুলিতে প্রাণ গেল ৩ বছরের শিশুর, জন্মদিনের চার দিন আগে মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের বার্টো শহরে খাবারের দোকানের গাড়ির সারিতে বাবার বন্দুকের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে তিন বছর বয়সী এক শিশু। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বার্গার কিংয়ের গাড়িতে বসে থাকা অবস্থায় শিশুটি বন্দুকটি হাতে পেয়ে গুলি ছোড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির চতুর্থ জন্মদিন ছিল ঘটনার মাত্র চার দিন পর। পোল্ক কাউন্টির শেরিফ গ্রেডি জাড এ তথ্য জানিয়েছেন।   শেরিফের কার্যালয়ের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটের দিকে শিশুটির বাবা রাতের খাবার কিনতে বার্গার কিংয়ের গাড়ির সারিতে ছিলেন। খাবারের দাম পরিশোধের সময় তাঁর ক্রেডিট কার্ডটি কাজ করছিল না। বিকল্প উপায়ে অর্থ পরিশোধের চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি গাড়িটি পার্ক করেন। এ সময় কোমরে রাখা গ্লক পিস্তলটি অস্বস্তির কারণে বের করে গাড়ির আসনে রাখেন বলে জানিয়েছেন শেরিফ। পেছনের আসনে থাকা শিশুটি তখন বন্দুকটি হাতে পেয়ে ট্রিগারে চাপ দেয়।   পোল্ক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলির শব্দ শুনে শিশুটির বাবা আতঙ্কিত হয়ে গাড়ির চারপাশে ছোটাছুটি শুরু করেন। পাশের একটি গাড়িতে থাকা এক নারী জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। পরে উদ্ধারকর্মীরা শিশুটিকে দ্রুত লেকল্যান্ড রিজিওনাল হেলথ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সে মারা যায়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও পর্যালোচনা করেছেন।   ঘটনাটিকে ভয়াবহ মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন শেরিফ গ্রেডি জাড। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি প্রার্থনা করেন, তাহলে এই পরিবারের জন্য প্রার্থনা করুন।’ তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তাঁর কর্মকর্তাদেরও মানসিকভাবে নাড়া দিয়েছে। বার্টো পুলিশের উপপ্রধান কাইল ডাউডি বলেন, এই ঘটনায় একটি পরিবার তাদের সন্তানকে হারিয়েছে এবং পুরো সম্প্রদায় শোকাহত। চার বছর বয়সে পা দেওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে শিশুটির এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এ ঘটনায় শিশুটির বাবার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। শেরিফ জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার আইনে কোনো শিশুর নাগালের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কারণে সে নিজে বা অন্য কেউ আহত হলে অবহেলাজনিত অপরাধের অভিযোগ আনার সুযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে অঙ্গরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কৌঁসুলির দপ্তর। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বাবার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার পক্ষে তাঁর দপ্তরের বিশেষ আগ্রহ নেই বলেও জানিয়েছেন শেরিফ। তদন্তের তথ্য পর্যালোচনার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ টাম্পা জানিয়েছে, পরিবারটি ঘটনার প্রায় চার মাস আগে কানেকটিকাট থেকে ফ্লোরিডায় চলে এসেছিল। নতুন অঙ্গরাজ্যে এসে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অর্থ পরিশোধে সমস্যার মুখে পড়েছিলেন শিশুটির বাবা বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে এ পরিস্থিতি কীভাবে ঘটনার দিকে গড়াল, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শিশুটির মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।   সূত্র: পোল্ক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ও ফক্স ১৩ টাম্পা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
সরকারি অনুদানের অর্থ চুরি ও পরিকল্পিত প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কিসিমি শহরের মেয়র জ্যাকি এসপিনোসা। ছবি: সংগৃহীত
চুরি ও প্রতারণার দায়ে, গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার ফ্লোরিডার মেয়র

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কিসিমি শহরের মেয়র জ্যাকি এসপিনোসাকে সরকারি অনুদানের অর্থ নিয়ে চুরি ও পরিকল্পিত প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার, ২১ অক্টোবর সকালে বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে থামিয়ে হ্যান্ডকাফ পরায়। পরে তাকে ওসিওলা কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসার জন্য বরাদ্দ ৫০ হাজার ডলার।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএফটিভি জানিয়েছে, সকাল ৮টার কিছুক্ষণ পর এসপিনোসার গাড়ি থামানো হয়। তাকে গাড়ি থেকে নামতে বলার পর হেফাজতে নেন কর্মকর্তারা। ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়ার পরে জানান, তার বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড থেফট এবং সংঘবদ্ধভাবে প্রতারণার পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়েছে।    গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তথ্য অনুযায়ী, কিসিমির ‘বিজনেস বুস্ট ২.০’ কর্মসূচি থেকে এসপিনোসা বা তার ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন কিংবা নিয়ন্ত্রণাধীন তিনটি ব্যবসা মোট ৫০ হাজার ডলার অনুদান পায়। রাজ্যের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নিজের পদ ব্যবহার করে তিনি এই অর্থ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সুবিধা তৈরি করেছিলেন। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল এনফোর্সমেন্ট এবং রাজ্যের ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের অপরাধ তদন্ত বিভাগ যৌথভাবে মামলাটি তদন্ত করেছে।    তবে এসপিনোসা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবী মিগডালিয়া পেরেজ বলেছেন, সিটি কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ও কর্মীদের পরিচালিত একটি অনুদান কর্মসূচিকে ঘিরে মামলাটি হয়েছে। তার দাবি, মেয়রের অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল না। নৈতিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ও ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং আদালতে রাষ্ট্রপক্ষকে অপরাধের প্রতিটি উপাদান সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে।    এই অনুদান নিয়ে আগেও এসপিনোসার বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছিল। জুলাইয়ে বিশেষ প্রসিকিউটর মেয়্যান ডাউনস অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর যথেষ্ট প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়ার কথা জানান। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুদান কর্মসূচির তৎকালীন লিখিত নির্দেশনায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আবেদন করার ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ছিল না।    গ্রেপ্তারের পর সিটি ম্যানেজার মাইক স্টাইগারওয়াল্ড অনুদান কর্মসূচিটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তের অনুমোদন দিয়েছেন। সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত, অপসারণ বা পদত্যাগের মতো পদক্ষেপ না হওয়া পর্যন্ত এসপিনোসা মেয়র পদে বহাল থাকবেন। তার অনুপস্থিতিতে সিটি কমিশনের সভা ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করবেন ভাইস মেয়র অ্যাঞ্জেলা ইডি। এসপিনোসার বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পুলিশের ব্যবহারের জন্য এক আসনের উড়ন্ত বৈদ্যুতিক যান উন্মোচন করেছে ফ্লোরিডা পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় পুলিশের জন্য উড়ন্ত বৈদ্যুতিক যান উন্মোচন, ব্যবহারের অনুমোদন বাকি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পুলিশের কাজে ব্যবহারের জন্য এক আসনের উড়ন্ত বৈদ্যুতিক যান উন্মোচন করেছে ফ্লোরিডা পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাজে এ ধরনের যান যুক্ত করার উদ্যোগ দেশে এটিই প্রথম। তবে নিয়মিত পুলিশি অভিযানে যানটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ফেডারেল অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি।    ‘অ্যাস্ট্রো’ নামের যানটি জেটসন ওয়ান মডেলের বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ। এটি হেলিকপ্টারের মতো খাড়াভাবে ওঠানামা করতে পারে এবং একজন চালক নিয়ে উড়তে পারে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩-এর তথ্য অনুযায়ী, একবারে প্রায় ২০ মিনিট আকাশে থাকতে পারে যানটি। এটি কিনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড় লাখ ডলার।    বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশপ্রধান অ্যারন মারে জানিয়েছেন, ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ, সড়কপথে পৌঁছানো কঠিন এমন স্থানে যাওয়া, ঝড়ের পর পরিস্থিতি দেখা এবং জরুরি সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার কাজে অ্যাস্ট্রোর সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। আঞ্চলিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গেও সহযোগিতার পরিকল্পনা রয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, পুলিশি কার্যক্রমে যানটি ব্যবহারের জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) অনুমোদন পাওয়ার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদন কবে মিলবে, তা নিশ্চিত নয়। ফলে যানটি উন্মোচন করা হলেও পুলিশের নিয়মিত আকাশপথের টহল শুরু হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।   পুলিশের পাশাপাশি অ্যাস্ট্রোকে শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও প্রশিক্ষণেও কাজে লাগাতে চায় বিশ্ববিদ্যালয়টি। চলতি শরতে চালু হওয়া অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং কার্যক্রমের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা যানটির পরিচালনাসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে গবেষণা এবং প্রকৌশল প্রকল্পে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৪:০
শিক্ষার্থীর দিকে কাঁচি ছোড়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ফ্লোরিডার রাদারফোর্ড হাইস্কুলের শিক্ষিকা জুয়ানিতা ফোরহ্যান্ড। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফ্লোরিডায় শিক্ষার্থীর দিকে কাঁচি ছুড়ে মারার অভিযোগে শিক্ষিকা গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এক শিক্ষার্থীর দিকে কাঁচি ছোড়ার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী এক স্কুলশিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জুয়ানিতা ফোরহ্যান্ড নামের ওই শিক্ষিকা রাদারফোর্ড হাইস্কুলে কর্মরত ছিলেন। বে কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের বরাতে জানা গেছে, কাঁচিটি শিক্ষার্থীর পিঠে আঘাত করে। ঘটনাটি তদন্তের পর গত ১৬ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাতের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।   বে কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, গত ১৪ অক্টোবর ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন কর্মকর্তারা। তাঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, শিক্ষার্থীর মনোযোগ আকর্ষণ করতে ফোরহ্যান্ড কাঁচিটি ছুড়ে মেরেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাঁচিটি শিক্ষার্থীর পিঠে লাগার পর পেছনে মেঝেতে পড়ে যায়। একজন প্রত্যক্ষদর্শী তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তিনি কাঁচিটি শিক্ষার্থীর পিঠে আঘাত করতে দেখেছেন।   শেরিফের কার্যালয়ের দাবি, তদন্তে আরও জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে ফোরহ্যান্ড এর আগেও বিভিন্ন বস্তু ছুড়েছেন অথবা বস্তু দিয়ে শিক্ষার্থীদের আঘাত করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ কিংবা আগের কোনো ঘটনায় আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। গ্রেপ্তারের পর ১৬ অক্টোবর ফোরহ্যান্ডকে বে কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়।   এদিকে, কাঁচির আঘাতে শিক্ষার্থীটি কতটা আহত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। তার চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছিল কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়। একইভাবে, গ্রেপ্তারের পর ফোরহ্যান্ড এখনো রাদারফোর্ড হাইস্কুলে কর্মরত আছেন কি না কিংবা তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র: বে কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়, ফক্স ১৩ নিউজ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সংখ্যায় নতুন রেকর্ড
এক বছরে ১৩ লাখের বেশি মানুষ পেলেন গ্রিন কার্ড, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হলো নতুন রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরে ১৩ লাখের বেশি মানুষ গ্রিন কার্ড পেয়েছেন, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা। ২০২৪ অর্থবছরে মোট ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯০ জন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছেন। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৭২ হাজার ৯১০। রাজ্যভিত্তিক হিসাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে ফ্লোরিডা।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনসংক্রান্ত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ অর্থবছরে গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা ২০২৩ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৫ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকেরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান। রাজ্যভিত্তিক হিসাবে ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৭০ জন গ্রিন কার্ডধারী নিয়ে তালিকার প্রথম স্থানে রয়েছে ফ্লোরিডা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ক্যালিফোর্নিয়ায় এই সংখ্যা ২ লাখ ১৭ হাজার ৪২০। অর্থাৎ দুই রাজ্যের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। তবে আগের বছরের তুলনায় ফ্লোরিডায় গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে টেক্সাস। রাজ্যটিতে ২০২৪ অর্থবছরে ১ লাখ ৬০ হাজার ৪০০ জন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছেন। এরপর রয়েছে নিউইয়র্ক, যেখানে এই সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৫০। এসব রাজ্যে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বড় উপস্থিতি এবং কর্মসংস্থান ও বসবাসের সুযোগ গ্রিন কার্ডধারীদের সংখ্যায় প্রভাব ফেলতে পারে। ফ্লোরিডায় ২০২৩ অর্থবছরের তুলনায় গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৬৩ হাজার ৯৭০। শতকরা হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ৪১ শতাংশ। টেক্সাসেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। রাজ্যটিতে গ্রিন কার্ডধারীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৩৩ হাজার ৪৭০ জন বেড়েছে, যা প্রায় ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি। কেন্টাকিতেও গ্রিন কার্ড পাওয়ার সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৩ অর্থবছরে রাজ্যটিতে ৭ হাজার ৮৩০ জন স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছিলেন। ২০২৪ অর্থবছরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ হাজার ১২০। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া নিউ জার্সিতে ৫৮ হাজার ১৮০ জন, ইলিনয়ে ৪৪ হাজার ৬৫০ জন, ভার্জিনিয়ায় ৩৭ হাজার ৮৫০ জন, ম্যাসাচুসেটসে ৩৬ হাজার ১৮০ জন, জর্জিয়ায় ৩৫ হাজার ১০০ জন এবং পেনসিলভানিয়ায় ৩৪ হাজার ৮৫০ জন গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। অন্যদিকে, কয়েকটি রাজ্যে গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ওয়াইয়োমিংয়ে ৫১০ জন, ভারমন্টে ৬৩০ জন এবং মন্টানায় ৬৫০ জন স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছেন। আলাস্কায় এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১০০ এবং সাউথ ডাকোটায় ১ হাজার ৭০। তবে এসব পরিসংখ্যানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। রাজ্যভিত্তিক তথ্য দিয়ে বোঝা যায়, গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর কতজন কোন রাজ্যে বসবাস করছেন। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, প্রত্যেক ব্যক্তি ওই রাজ্য দিয়েই প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন। যারা আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন এবং পরে দেশটির ভেতর থেকেই স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা পেয়েছেন, তারাও এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে গ্রিন কার্ড আবেদনের অনুমোদনের হার আগের প্রান্তিকের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে করা আবেদনের অনুমোদনের হার ৮৬ শতাংশ থেকে কমে ৮১ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনের ক্ষেত্রেও অনুমোদনের হার ৯৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ৯৩ শতাংশ হয়েছে। কিউবার নাগরিকদের আবেদনের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ওই প্রান্তিকে ৫৮৬টি আবেদনের মধ্যে ১৩৯টি অনুমোদিত এবং ৪৪৭টি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এতে অনুমোদনের হার দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে আগের প্রান্তিকে হার ছিল ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ। এ ছাড়া ২০২৬ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির ভেতরে অবস্থান করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার আবেদন একটি বিবেচনাধীন প্রক্রিয়া। ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি না থাকলে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আবেদনকারীদের সাধারণত বিদেশে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের আবেদন সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে শ্রম বিভাগ মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবিকে পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন বা পার্ম কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করে। এর ফলে প্রতিষ্ঠান দুটির নতুন ও চলমান কিছু আবেদনপ্রক্রিয়া থেমে যায়। তবে মাইক্রোসফট কর্তৃপক্ষ কর্মী ছাঁটাই এবং বিদেশি কর্মীদের নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে, ১৪ অক্টোবর একটি ফেডারেল আদালত ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারির নিবন্ধন চালু করার নির্দেশ দেয়। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কম অভিবাসন হওয়া দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে লটারিতে নির্বাচিত হলেও ভিসা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। সব মিলিয়ে, ২০২৪ অর্থবছরের পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো দেখাচ্ছে, স্থায়ী বসবাসের সুযোগ থাকলেও আবেদনকারীদের জন্য অভিবাসনপ্রক্রিয়ার নিয়ম, যাচাই-বাছাই ও যোগ্যতার শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডায় চুরির সন্দেহে ১৪ বছরের কিশোরকে গাড়িচা পা দিয়ে হ ত্যা, গ্রেপ্তার দোকানমালিক
ফ্লোরিডায় চুরির সন্দেহে ১৪ বছরের কিশোরকে গাড়িচা পা দিয়ে হ ত্যা, গ্রেপ্তার দোকানমালিক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার দায়ে কাভান বিষ্ণুভাই প্যাটেল (৩২) নামের এক কনভেনিয়েন্স স্টোর মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ই-বাইকে থাকা হান্টার রাসে নামের ওই কিশোরকে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দেওয়ার পর সে মারাত্মক আহত অবস্থায় কয়েক দিন লাইফ সাপোর্টে ছিল।   গত শনিবার রাতে পরিবারের সিদ্ধান্তে লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হলে অভিযুক্ত প্যাটেলের বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ এনে রবিবার সকালে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।   ওয়েস্ট মেলবোর্ন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সাউথ উইকহ্যাম রোডের 'কর্নার স্টোর' নামের একটি দোকানে চুরির অ্যালার্ম বেজে ওঠে।   দোকান মালিক প্যাটেল পুলিশকে জানান, সিসিটিভি ফুটেজে তিনি হালকা রঙের হুডি পরা এক ব্যক্তিকে দোকানের ভাঙা দরজা দিয়ে বেরিয়ে ই-বাইকে করে পালিয়ে যেতে দেখেছেন।   এরপর ড্রোন ও কে-৯ ইউনিটসহ পুলিশের একাধিক দল তল্লাশি শুরু করলে রাস্তায় গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কিশোরকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।   পুলিশের অভিযোগ, প্যাটেল নিজের গাড়ি নিয়ে ওই কিশোরের পিছু নেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যান। মুমূর্ষু অবস্থায় রাস্তায় প্রায় এক ঘণ্টা পড়ে থাকার পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।   তবে নিহত কিশোরই সেই চুরির ঘটনার সাথে জড়িত ছিল কি না, তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। প্যাটেল ঘটনা ঘটিয়ে দোকানে ফিরে এলেও পুলিশের জেরার আগ পর্যন্ত তিনি কিশোরকে গাড়ি চাপা দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রাখেন।   প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে গুরুতর আঘাত এবং আহত ব্যক্তিকে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ আনা হলেও, কিশোরের মৃত্যুর পর তা হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে।   বর্তমানে তাকে জামিন অযোগ্য অবস্থায় ব্রেভার্ড কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে। এদিকে, এই মর্মান্তিক পরিণতির পরও নিহত কিশোরের পরিবার অন্যদের জীবন বাঁচাতে তার অঙ্গদানের মতো এক মহৎ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁর অনাগত সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছেন তদন্তকারীরা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অনাগত সন্তানের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পাঁচটি যানবাহনের সংঘর্ষে ৩২ বছর বয়সী এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁর অনাগত সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফ্রস্টপ্রুফ শহরের একটি সড়ক intersection-এ দুটি বড় ট্রাকসহ পাঁচটি যানবাহন দুর্ঘটনায় জড়ায়। পোল্ক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ টাম্পা বে রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।   শেরিফের কার্যালয় জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার কিছু পর ইউএস ২৭ ও ইউএস ৯৮ মহাসড়কের সংযোগস্থলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সে সময় ইউএস ২৭-এর উত্তরমুখী লেনে লাল সংকেতে তিনটি যানবাহন দাঁড়িয়ে ছিল। এর পেছন দিয়ে আসা ট্রেলারবাহী ২০২২ সালের একটি লাল রঙের ইন্টারন্যাশনাল ট্রাক চলন্ত অবস্থায় সামনে থাকা টয়োটা হাইল্যান্ডার গাড়িটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। কেন ট্রাকটির চালক থামতে পারেননি, তা এখনো জানা যায়নি।   ধাক্কায় টয়োটা হাইল্যান্ডারটি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এরপর এসইউভিটি সংযোগস্থল অতিক্রম করে উত্তর-পূর্ব কোণে গিয়ে থামে। দুর্ঘটনায় গাড়িটির পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পেছনের যাত্রীদের বসার জায়গাও চাপে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাড়িটির পেছনের আসনে থাকা অ্যাভন পার্কের ৩২ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ও তাঁর গর্ভের সন্তান মারা যান বলে জানিয়েছে শেরিফের কার্যালয়।   হাইল্যান্ডারকে ধাক্কা দেওয়ার পর ট্রাকটি সামনে থাকা একটি টয়োটা করোলার পেছনেও আঘাত করে। এতে করোলাটি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি হোন্ডা সিভিকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। পরে ট্রাকটি উত্তর-পূর্ব দিকে মোড় নিয়ে সংযোগস্থল পার হয়ে প্রায় ৪০০ ফুট খোলা মাঠের মধ্য দিয়ে যায়। এরপর একটি ছোট সড়কে উঠে বেড়ায় ধাক্কা দেয় এবং সামনের অংশ অগভীর খাদে পড়ে থেমে যায়।   দুর্ঘটনায় জড়িত পাঁচটি যানবাহনের আরোহীদের সবার সিটবেল্ট বাঁধা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। দুর্ঘটনায় সবচেয়ে গুরুতর আহতদের একজন ছিলেন টয়োটা করোলার চালক, অ্যাভন পার্কের ৩৭ বছর বয়সী এক নারী। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অন্যদিকে, ট্রাকটির ৫৩ বছর বয়সী চালক মিশিগানের বাসিন্দা। তিনি গুরুতর আহত হননি। তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।   দুর্ঘটনায় আহত অন্য ব্যক্তিদের কেউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, আবার কাউকে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁদের সবার সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরানো এবং সড়ক পরিষ্কারের জন্য ইউএস ২৭ মহাসড়ক প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।   এ ঘটনায় নিহত নারী, তাঁর অনাগত সন্তান এবং ট্রাকচালকের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি শেরিফের কার্যালয়। ট্রাকচালক কেন সামনে থাকা যানবাহনগুলোর জন্য থামেননি, তা নির্ধারণে তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।   সূত্র: পোল্ক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়, ফক্স ১৩ টাম্পা বে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডার টাম্পায় প্রথমবার বাড়ি কিনতে যোগ্য ক্রেতাদের জন্য রয়েছে ডাউন পেমেন্ট সহায়তার কর্মসূচি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফ্লোরিডার টাম্পায় প্রথমবার বাড়ি কিনতে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা, কারা পাবেন এই সুবিধা?

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার সুযোগ। নগর কর্তৃপক্ষের দুটি পৃথক কর্মসূচির আওতায় যোগ্য ক্রেতারা এই সহায়তা পেতে পারেন। কর্মসূচি দুটি হলো ‘ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম’ এবং ‘কমিউনিটি রিডেভেলপমেন্ট এরিয়া’ বা সিআরএ ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি। তবে এই অর্থ সবার জন্য নিশ্চিত নয়; আবেদনকারীর পারিবারিক আয়, বাড়ির অবস্থান এবং কর্মসূচির নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপর সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করে।    টাম্পা নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম কর্মসূচিতে যোগ্য প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতারা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন। অন্যদিকে, সিআরএ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত পুনর্গঠন এলাকার মধ্যে বাড়ি কিনলে আরও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ রয়েছে। দুই কর্মসূচির আওতায় যোগ্যতা অর্জন করলে মোট সহায়তার পরিমাণ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ২০২৬ সালের জুনে নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন একজন ক্রেতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়, যিনি দুটি কর্মসূচির অর্থ মিলিয়ে মোট ১ লাখ ডলার সহায়তা পেয়েছেন।    তবে দুটি কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ সহায়তা পেতে হলে আবেদনকারীকে উভয় কর্মসূচির শর্ত পূরণ করতে হবে। ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম কর্মসূচির ক্ষেত্রে বাড়িটি অবশ্যই টাম্পা নগরসীমার মধ্যে হতে হবে। পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং বাড়ির ক্রয়মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি হতে পারবে না। এ ছাড়া আবেদনকারীকে অনুমোদিত আবাসন পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগেই কর্মসূচির নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।    সিআরএ কর্মসূচির ক্ষেত্রে বাড়িটি টাম্পার নির্ধারিত কমিউনিটি রিডেভেলপমেন্ট এলাকার ভেতরে অবস্থিত হতে হবে। শুধু নির্দিষ্ট কোনো ডাক-সংকেত বা জিপ কোডের মধ্যে বাড়ি হলেই সহায়তা পাওয়া যাবে, এমন নয়। বাড়িটির প্রকৃত অবস্থান সংশ্লিষ্ট সিআরএ এলাকার সীমানার মধ্যে পড়ছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। এ কর্মসূচিতেও পরিবারের আয়, ক্রেতার যোগ্যতা, নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ এবং অনুমোদিত ঋণের ধরনসহ বিভিন্ন শর্ত প্রযোজ্য।    পরিবারের আয়ের ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণও পরিবর্তিত হয়। নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্ধারিত এলাকার মধ্যম পারিবারিক আয়ের ৫০ দশমিক ০১ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে আয় হলে যোগ্য ক্রেতা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পেতে পারেন। আয় ৮০ দশমিক ০১ থেকে ১২০ শতাংশের মধ্যে হলে সহায়তার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার এবং ১২০ দশমিক ০১ থেকে ১৪০ শতাংশের মধ্যে হলে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার হতে পারে। তবে আয়সীমার পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে।    এই সহায়তাকে সরাসরি নগদ অনুদান হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কর্মসূচিগুলোর আওতায় সাধারণত শূন্য সুদের বিলম্বিত পরিশোধযোগ্য ঋণের মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হয়। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে বাড়িটি নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে রেখে বসবাস করলে ২০ বছর পর ঋণ মওকুফের সুযোগ রয়েছে। তবে বাড়ি বিক্রি, মালিকানা পরিবর্তন বা বসবাসসংক্রান্ত শর্ত ভঙ্গ করলে ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে ঋণের চুক্তি ও মওকুফের শর্ত ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি।    প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য এই কর্মসূচি বাড়ির প্রাথমিক অর্থ বা ডাউন পেমেন্টের চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখলেও শুরুতে বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করতে সমস্যায় পড়েন, তাঁদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে সহায়তার অর্থ ও কর্মসূচির তহবিলের প্রাপ্যতা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদন করার আগে টাম্পা নগর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট বিভাগ অথবা অনুমোদিত আবাসন পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান যোগ্যতা, আবেদনপ্রক্রিয়া এবং তহবিলের অবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডায় বাড়ি পরিষ্কারের সুযোগে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি, অভিযুক্ত কর্মী গ্রেপ্তার
ফ্লোরিডায় বাড়ি পরিষ্কারের সুযোগে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি, অভিযুক্ত কর্মী গ্রেপ্তার

গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি করে বিলাসবহুল রিসোর্টে অবকাশ যাপনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় জেসি মডজেল (৪৫) নামের এক হ্যান্ডিম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ কয়েক মাসের নিবিড় তদন্ত শেষে গত ৯ অক্টোবর পাম কোস্ট এলাকা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কর্মী কেবল রিসোর্টের বিলই নয়, বরং চুরি করা কার্ডের মাধ্যমে নিজের পারিবারিক ক্লিনিং ব্যবসার অ্যাকাউন্টেও টাকা স্থানান্তর করেছিলেন।   চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। পাম কোস্টের এক বাসিন্দা নিজের ক্রেডিট কার্ডে কিছু সন্দেহজনক ও অননুমোদিত লেনদেন দেখতে পেয়ে পুলিশকে অবহিত করেন।   ফ্ল্যাগলার কাউন্টি শেরিফ অফিস তদন্তে নেমে জানতে পারে, ওই গ্রাহকের বাড়িতে জেসি মডজেলের পারিবারিক ক্লিনিং প্রতিষ্ঠান ‘ব্রিজি ক্লিন’-এর কর্মীদের বিনা নজরদারিতে প্রবেশের সুযোগ ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে নেন মডজেল। এরপর সেই কার্ড ব্যবহার করে স্থানীয় একটি রিসোর্টে নিজের থাকার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও অর্থ প্রদান করেন।   গোয়েন্দারা জানান, লেনদেনের বিষয়টি গোপন রাখতে মডজেল তাঁর ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের বিলিং বিবরণ সুকৌশলে পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দাদের সতর্ক নজরদারিতে তাঁর এই প্রতারণা ধরা পড়ে যায়। মোট কত টাকা চুরি হয়েছে বা তিনি কোন রিসোর্টে থেকেছিলেন, তা প্রকাশ না করলেও শেরিফ রিক স্ট্যালি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওই ব্যক্তি ভেবেছিলেন গ্রাহকের টাকায় তিনি পাম কোস্টে একটি দারুণ ছুটি কাটানোর অধিকার রাখেন।   গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে গত ৯ অক্টোবর মডজেলের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেখেই তিনি বাড়ির ভেতরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন, তবে শেষ পর্যন্ত বাড়ির পেছনের উঠান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।   প্রতারণামূলকভাবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, অন্যের পরিচয় চুরি এবং চুরির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শেরিফ পেরি হল ইনমেট ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে পাঠানো হয়। অবশ্য পরে আড়াই হাজার ডলারের বন্ডে তিনি সাময়িক মুক্তি পান।   এই ঘটনার পর শেরিফ রিক স্ট্যালি স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, বাড়িতে কাজের জন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার আগে অবশ্যই তাঁদের পূর্ববৃত্তান্ত কঠোরভাবে যাচাই করা উচিত। মডজেলের আগেও চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার রেকর্ড রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   যেহেতু মডজেল ও তাঁর ক্লিনিং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এলাকার আরও অনেক বাড়িতে অবাধ যাতায়াত ছিল, তাই পুলিশ আশঙ্কা করছে আরও অনেকেই হয়তো তাঁদের এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সন্দেহভাজন এমন ভুক্তভোগীদের দ্রুত শেরিফ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডায় বিদ্যুৎ বিল প্রায় ৪০০ ডলার, একই ব্যবহারেও খরচ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ গ্রাহকদের
ফ্লোরিডায় বিদ্যুৎ বিল প্রায় ৪০০ ডলার, একই ব্যবহারেও খরচ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ গ্রাহকদের

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন এক গ্রাহক। টিকটকে অ্যালেক্স মেনেনডেজ নামের ওই ব্যক্তি তাঁর ‘এইচপিএস হোমস্টেড’–এর ৩৯৬ দশমিক ৭২ ডলারের বিদ্যুৎ বিলের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, বিল আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও এটি এখনো অনেক বেশি; কর্তৃপক্ষকে সেবার মান আরও যৌক্তিক করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ফ্লোরিডার আরও অনেক বাসিন্দা নিজেদের অস্বাভাবিক বিলের অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য গ্রাহকেরাও এইচপিএস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মনগড়া বিল চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। মন্তব্যের ঘরে একজন জানান, তাঁর বিল এসেছে ৫০০ ডলারের বেশি, যা হোমস্টেড এলাকায় কোনো দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয় বলে তিনি মনে করেন। অন্য একজন জানান, তাঁর ছোট দুই কক্ষের বাসার বিল ২৫০ ডলার এবং এক ডুপ্লেক্স বাড়ির বাসিন্দা তাঁর ৪৩০ ডলার বিল আসার কথা উল্লেখ করেন।   অ্যালেক্সের শেয়ার করা বিলের কাগজে দেখা যায়, ২২৬ দশমিক ০৪ ডলারই এনার্জি চার্জ। এর বাইরে স্যানিটেশন বিল প্রায় ১০০ ডলার এবং বাকি অংশ পানি ও করের জন্য ধার্য করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পরিষেবাগুলোর জন্য প্রায় ৪০০ ডলারের বিল যেকোনো সাধারণ পরিবারের জন্যই একটি বিশাল আর্থিক বোঝা।   গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুতের ব্যবহার না বাড়লেও কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই গত কয়েক মাস ধরে তাঁদের বিল লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এক গ্রাহক জানান, গত চার বছর ধরে তিনি ১৯০ থেকে ২২০ ডলার বিল দিয়ে আসলেও, একই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে গত ছয় মাস ধরে তাঁকে ৩২০ থেকে ৩৫০ ডলার গুনতে হচ্ছে।   পরিস্থিতির কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা না পাওয়ায় অনেকেই কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা বা ক্লাস-অ্যাকশন মামলার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই উচ্চ বিলের হাত থেকে বাঁচতে ফ্লোরিডার অনেক বাসিন্দা বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছেন। উদাহরণস্বরূপ, ৭০০ ডলার বিল আসা এক বাড়ির মালিক সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি ব্যবহারের পর তাঁর বিল শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছেন। আরেকজন ৮০০ ডলারের বিলের বদলে সোলার ব্যবহার করে উল্টো ৩০০ ডলার ক্রেডিট পেয়েছেন, যা নবায়নযোগ্য শক্তির দারুণ সম্ভাবনাকেই প্রমাণ করে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মাছ ধরতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন ৭১ বছর বয়সী স্টিভেন হ্যামিলটন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফ্লোরিডায় মাছ ধরতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে ৭১ বছর বয়সী ব্যক্তির মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি পার্কে মাছ ধরতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন ৭১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে উইন্টার গার্ডেন শহরের ড. ব্র্যাডফোর্ড মেমোরিয়াল পার্কের জলাশয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে উদ্ধার করা মরদেহের পরিচয় স্টিভেন হ্যামিলটন হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা ঘটনাটি তদন্ত করছেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করে কুমিরের সম্ভাব্য আক্রমণের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উইন্টার গার্ডেনের ফায়ার চিফ হোসে গেইনজা জানান, ওই ব্যক্তি মাছ ধরার সময় পানিতে কুমিরের আক্রমণের শিকার হন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সহজ ছিল না। জলাশয়ের আশপাশে আরও কুমির সক্রিয় থাকায় উদ্ধারকর্মীদের পানিতে নামতে সমস্যা হচ্ছিল। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে পানির মধ্য থেকে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্মকর্তারা জানান, হামলায় জড়িত বলে ধারণা করা প্রায় ১২ ফুট দীর্ঘ কুমিরটিকে পরে হত্যা করা হয়েছে। ফ্লোরিডার বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কুমিরটি প্রায় ১১ ফুট ৮ ইঞ্চি দীর্ঘ ছিল।   ফ্লোরিডার মাছ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশন এবং উইন্টার গার্ডেন পুলিশ বিভাগ যৌথভাবে ঘটনাটি তদন্ত করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই জলাশয়ে মাছ ধরতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত যাতায়াত করেন। এলাকাটি লেক অ্যাপোপকার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় সেখানে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতিও রয়েছে। ঘটনার পর জলাশয়সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।   ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে আমেরিকান অ্যালিগেটর বা এক প্রজাতির বৃহৎ জলজ সরীসৃপ নদী, হ্রদ, জলাভূমি ও খালসহ বিভিন্ন জলাশয়ে পাওয়া যায়। ফ্লোরিডা মাছ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যের ৬৭টি কাউন্টিতেই এ প্রাণীর উপস্থিতি রয়েছে। সাধারণত মানুষের ওপর এদের আক্রমণ বিরল হলেও, খুব কাছাকাছি চলে গেলে বা প্রাণীটি নিজেকে হুমকির মুখে মনে করলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।   কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী, জলাশয়ের ধারে কুমির দেখা গেলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, কুমিরকে খাবার না দেওয়া এবং পানির কিনারায় দাঁড়িয়ে মাছ ধরা বা অন্য কাজের সময় সতর্ক থাকা জরুরি। কুমিরের উপস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ থাকলে স্থানীয় বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। ফ্লোরিডার এই ঘটনায় একজন প্রবীণ ব্যক্তির মৃত্যু আবারও প্রাকৃতিক জলাশয়ে মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   সূত্র: ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো, উইন্টার গার্ডেন পুলিশ বিভাগ ও ফ্লোরিডা মাছ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের আইন কার্যকরের অনুমতি পেয়েছে ফ্লোরিডা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফ্লোরিডায় ১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের পক্ষে আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের আইন কার্যকরের পথে বড় আইনি বাধা দূর হয়েছে। ১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ১৪ ও ১৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি বাধ্যতামূলক করার আইন কার্যকরের অনুমতি দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালত। বুধবার (১৪ অক্টোবর) তিন বিচারকের একটি প্যানেল সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত দেয়। আদালতের মতে, শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি থেকে সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইনটি সাংবিধানিক পরীক্ষায় টিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   ২০২৪ সালে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস আইনটিতে স্বাক্ষর করেন। যুক্তরাষ্ট্রে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে এটিকে অন্যতম কঠোর আইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আইন অনুযায়ী, ১৪ বছরের কম বয়সীরা নির্ধারিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। আর ১৪ ও ১৫ বছর বয়সীদের অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকের অনুমতি নিতে হবে। তবে আইনটি সব ধরনের অনলাইন সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এতে মূলত এমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো অ্যালগরিদমের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত রাখতে পারে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে।   আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতায় থাকা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও এটি সম্ভবত নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিচারকদের মতে, শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থে আইনটি যতটুকু প্রয়োজন, তার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করছে না। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ আইনি পর্যালোচনার পরও আইনটি বহাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আদালত মনে করছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সব ধরনের আইনি বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।   ফ্লোরিডার আইনটির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি সংগঠন, কম্পিউটার অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন এবং নেটচয়েস। তাদের যুক্তি, এ ধরনের বিধিনিষেধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে। ২০২৫ সালে নিম্ন আদালতের একজন বিচারক আইনটি সম্ভবত অসাংবিধানিক বলে মত দিয়ে এর প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। পরে আপিল আদালতে মামলার শুনানি চলাকালে সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হয়। এবার আপিল আদালত নিম্ন আদালতের ওই আদেশ বাতিল করায় আইনটি কার্যকরের পথ খুলেছে।   আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আইনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব ধরনের ব্যবহার বন্ধ করে দিচ্ছে না। বরং নির্দিষ্ট বয়সীদের নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এ আইনে বয়সের ভিত্তিতে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভিভাবকের সম্মতি নিশ্চিত করতে হতে পারে। আইনটির আওতায় পড়া প্ল্যাটফর্মে আগে থেকেই থাকা অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্টও নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী বন্ধ করতে হবে।   নেটচয়েস আদালতের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির আইনজীবী পল টাস্কে বলেছেন, অনলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং পরিবারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকা বজায় রাখতে তাঁরা আইনি বিকল্পগুলো পর্যালোচনা করছেন। অন্যদিকে, ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।   আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের পর মামলাটি ফ্লোরিডার রাজধানী টালাহাসির ফেডারেল আদালতে ফিরে যাবে। সেখানে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলবে। ফলে আইনটির প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগ এবং ইন্টারনেটে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা এই মামলার পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের রায়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডায় বাড়ি দেখতে গিয়ে বাথরুমে কিশোরকে যৌ ন নিপীড়নের অভিযোগ, গ্রেপ্তার উরিয়েল পেরেজ
ফ্লোরিডায় বাড়ি দেখতে গিয়ে বাথরুমে কিশোরকে যৌ ন নিপীড়নের অভিযোগ, গ্রেপ্তার উরিয়েল পেরেজ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের নর্থ ফোর্ট মায়ার্সে বাড়ি বিক্রির জন্য দেখানোর সময় এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ৩৮ বছর বয়সী উরিয়েল সান্তিয়াগো পেরেজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ভুক্তভোগীর ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির মালিক সম্প্রতি তাঁর বাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। এরপর সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে পেরেজ বাড়িটি দেখতে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। বাড়িতে পৌঁছানোর পর মালিক ও তাঁর ছেলে তাঁকে বাড়িটি ঘুরিয়ে দেখাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত কিশোরকে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।   ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, যাওয়ার আগে তিনি কিশোরকে রাস্তার শেষ প্রান্তে দেখা করতে বলেছিলেন। পরে সেখানে গিয়ে পুলিশ তাঁকে খুঁজে পায় এবং গ্রেপ্তার করে। লি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্তকে বর্তমানে কাউন্টির কারাগারে রাখা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর আটকাদেশ রয়েছে।   এদিকে, ফক্স নিউজের বরাতে প্রকাশিত তথ্যে দাবি করা হয়েছে, পেরেজ ২০১৫ সালে জর্জিয়ার লরেন্সভিলে গ্রেপ্তারের পর আইসিইর নজরে এসেছিলেন। ওই সময় তাঁকে আটক না করার পেছনে তৎকালীন ওবামা প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ভূমিকা ছিল বলে ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন একটি সূত্র। তবে এ দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
দুই সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন মা অলিভিয়া
ফ্লোরিডায় বাবার কাস্টেডি থেকে সন্তানদের আনতে গিয়ে দুই শিশুর ম র দেহ খুঁজে পেলেন মা

ফ্লোরিডায় বাবার বাড়ি থেকে দুই সন্তানকে আনতে গিয়ে তাদের ও তাদের বাবার ম র দে হ খুঁজে পেয়েছেন অলিভিয়া পিকোলো নামে এক মা। গত বুধবার, ৭ অক্টোবর, ব্রেভার্ড কাউন্টির কোকো শহরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ৩৭ বছর বয়সী জোসেফ ডিংওয়াল তাঁর সাত বছরের ছেলে রেমি ও পাঁচ বছরের মেয়ে আরিয়াকে গু লি করে হ ত্যা করার পর নিজেও আ ত্ম হ ত্যা করেছেন। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো তদন্ত করছে পুলিশ। কোকো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, সন্তানদের নিজের কাছে নেওয়ার নির্ধারিত দিনে জোসেফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন অলিভিয়া। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি সরেন্টো ড্রাইভে জোসেফের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে দরজাটি কিছুটা খোলা দেখতে পান। পরে ভেতরে ঢুকে দুই সন্তান ও তাদের বাবাকে মৃ ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এরপর দুপুরে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন অলিভিয়া। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সন্তানদের হারানোর শোক এবং তাদের বাবার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন অলিভিয়া। তাঁর পোস্ট উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্তানদের নিরাপত্তা ও দেখভালের দায়িত্ব যাঁর ওপর ছিল, তাঁর কাছ থেকেই এমন পরিণতি আসবে, তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। তবে ব্যক্তিগত ক্ষোভের চেয়েও সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা তাঁর কাছে বড় বলে জানিয়েছেন তিনি। অলিভিয়া আরও বলেছেন, রেমি ও আরিয়ার মা হতে পেরে তিনি গর্বিত ছিলেন। সন্তানদের জীবনের পরিচয় যেন শুধু তাদের মৃ ত্যুর ঘটনায় সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটিই তাঁর চাওয়া। বরং তারা কেমন ছিল, তাদের ভালোবাসা, স্বভাব ও একসঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলোই মানুষের মনে বেঁচে থাকুক—এমনটাই চান তিনি। আরেকটি পোস্টে সন্তানদের কাপড় ধোয়ার সময়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন অলিভিয়া। ওয়াশিং মেশিনে পড়ে থাকা ছোট ছোট মোজা ও জামাকাপড় দেখে কিছুক্ষণের জন্য থমকে গিয়েছিলেন তিনি। সন্তানদের ব্যবহৃত এসব ছোট জিনিস তাঁর কাছে তাদের স্মৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। এই কঠিন সময় পার করতে সন্তানদের স্মৃতিই তাঁকে শক্তি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় প্রতিবেশীরাও হতবাক হয়ে পড়েছেন। রাস্তার বিপরীতে বসবাসকারী মার্কোস গার্সিয়া জানিয়েছেন, ঘটনার আগের রাতে, মধ্যরাতের দিকে তিনি দুটি জোরালো শব্দ শুনেছিলেন। তাঁর কাছে শব্দগুলো গু লির শব্দ বলে মনে হয়েছিল। প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে ওই সময় বাড়ির বাইরে একজনকে চলাফেরা করতে দেখা যায়। তবে শুধু শব্দ শোনার সময়ের ভিত্তিতে মৃ ত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত করা যায়নি। কোকো পুলিশপ্রধান ইভ্যান্ডার কলিয়ার জানিয়েছেন, ওই সময়ে গু লির শব্দের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো জরুরি ফোন আসেনি। তিনি আরও জানান, ২০২১ সাল থেকে বাড়িটিতে বিভিন্ন ঘটনায় প্রায় ১১ বার পুলিশ ডাকা হয়েছিল। এর মধ্যে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও ছিল। তবে আগের ঘটনাগুলোর বিস্তারিত তথ্য কিংবা সেগুলোর সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা পুলিশ প্রকাশ করেনি। পুলিশপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তকারীরা ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছেন। কেন দুই শিশুর জীবন এমনভাবে শেষ হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য। এদিকে শিশুদের শেষকৃত্যের খরচ বহন এবং অলিভিয়াকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য পরিবারের বন্ধুদের উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহও শুরু হয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব, ফ্লোরিডা-আলাবামায় প্রাণহানি
যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব, ফ্লোরিডা-আলাবামায় প্রাণহানি, লাখো মানুষ বিদ্যুৎবিহীন, বন্যার সতর্কতা জারি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও আলাবামা অঙ্গরাজ্যে ঘূর্ণিঝড় আইসাইয়াসের আঘাতের পর উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার কাজ চলছে। ঝড়ের অবশিষ্টাংশ উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ায় অ্যাপালাচিয়ান পার্বত্য অঞ্চল এবং মধ্য-আটলান্টিক এলাকার কয়েকটি স্থানে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও টর্নেডোর ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝড়-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্লোরিডা ও আলাবামায় গাছ উপড়ে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সড়কে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কিছু এলাকায় বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেছেন।   ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডল এলাকায় ঝড়ের কারণে বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আলাবামার কয়েকটি এলাকাতেও গাছ পড়ে ঘরবাড়ি ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বহু পরিবারকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ কখন পুরোপুরি ফিরবে, তা এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে।   ঝড়ের প্রভাব দক্ষিণাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভারী বৃষ্টির কারণে পশ্চিম নর্থ ক্যারোলাইনার নদীগুলোর পানি বেড়ে কিছু এলাকায় প্লাবন, ভূমিধস এবং পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। ভার্জিনিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনার কিছু এলাকায় টর্নেডোর ঝুঁকির কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।   ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ফেডারেল সহায়তার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্জিয়ার জন্য জরুরি অবস্থা অনুমোদন করেছেন; এর ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সহায়তা পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। ফ্লোরিডা ও আলাবামার জন্যও আগে জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।   যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন মোকাবিলায় কৌশলগত মজুত থেকে অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের জরুরি ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর ফলে সাধারণ ভোক্তাদের জ্বালানির দাম কতটা পরিবর্তিত হবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়।   এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে হারিকেন সাইমন মেক্সিকোর উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় সেখানে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, র‍্যাচেল নামের আরেকটি ঝড়ের অবশিষ্টাংশ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে বড় ঢেউ, উপকূলীয় প্লাবন ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করেছে।   কর্তৃপক্ষের পরামর্শ হলো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর, জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। বন্যার পানিতে ডুবে থাকা সড়কে গাড়ি চালানো এবং বিদ্যুতের তারের কাছে যাওয়া বিপজ্জনক।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে নি হত ৪, বিদ্যুৎহীন প্রায় ৪ লাখ গ্রাহক
যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে নি হত ৪, বিদ্যুৎহীন প্রায় ৪ লাখ গ্রাহক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা প্যানহ্যান্ডেল এবং দক্ষিণ অ্যালাবামায় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ইসাইয়াস’-এর প্রভাবে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়টি ধীরে ধীরে উত্তরের দিকে অগ্রসর হলেও রোববার ভোর পর্যন্ত এই দুই অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৩ লাখ ৯৬ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন যে, ঝড়ের প্রভাবে মধ্য অ্যাপালাচিয়ান এবং মিড-আটলান্টিক অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।   মায়ামির ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের সিনিয়র হারিকেন বিশেষজ্ঞ ফিলিপ পাপিন জানিয়েছেন, ঝড়টি উত্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে ভারী বৃষ্টিপাতই এখন প্রধান ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যাপালাচিয়ান পর্বতমালার পাশ দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় শহরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা এবং দমকা হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্র ও মিড-আটলান্টিক অঞ্চলে গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ার পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় প্রাণঘাতী ঢেউ ও তীব্র স্রোতের (রিপ কারেন্ট) সতর্কতা জারি করেছে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস। জর্জিয়া এবং ক্যারোলাইনা অঞ্চলেও ভারী বর্ষণে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।   গত শুক্রবার ফ্লোরিডার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ডেস্টিনের কাছে ২ মাত্রার (ক্যাটাগরি-২) হারিকেন হিসেবে আঘাত হানে অ্যাটলান্টিক মৌসুমের প্রথম এই ঘূর্ণিঝড়। তীব্র বাতাসে ফ্লোরিডার পেনসাকোলা শহরের একটি হোটেলের ছাদ উড়ে যায় এবং স্থানীয় বিমানবন্দরও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   এছাড়া ডেস্টিনে একটি বোটহাউস বিধ্বস্ত হয়েছে এবং পানামা সিটি বিচে একটি বহুতল ভবনের সামনের অংশ ভেঙে পড়েছে। তবে জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা থাকলেও শনিবার ভোরের মধ্যেই উপকূলের প্রধান সড়কগুলো যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।   ঝড়ের তাণ্ডবে ফ্লোরিডা ও অ্যালাবামায় প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ফ্লোরিডার এসকাম্বিয়া কাউন্টির শেরিফ চিপ সিমন্স জানান, ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গ্যারেজে চালু রাখা জেনারেটরের কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় এক ব্যক্তি মারা গেছেন; ওই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়া ৪ থেকে ৭২ বছর বয়সী আরও চারজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।   অন্যদিকে, অ্যালাবামার বার্মিংহামে ঘরের ওপর গাছ পড়ে একজনের এবং বারবার কাউন্টিতে রাস্তায় উপড়ে পড়া গাছের সাথে গাড়ির সংঘর্ষে আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডা ও অ্যালাবামার পর জর্জিয়াতেও জরুরি অবস্থা অনুমোদন করেছেন, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় সহায়তা পাঠানো সহজ হবে। পাশাপাশি, ঝড়ের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে জরুরি ভিত্তিতে অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ।   এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। ঘণ্টায় ২৪১ কিলোমিটার (১৫০ মাইল) বেগের বাতাস নিয়ে মেক্সিকো উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ৪ মাত্রার শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘সাইমন’। এর প্রভাবে রোববার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মেক্সিকোতে ভারী বর্ষণ, প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ‘র‍্যাচেল’ দুর্বল হয়ে পোস্ট-ট্রপিক্যাল সাইক্লোনে পরিণত হলেও এর প্রভাবে উত্তর মেক্সিকো এবং দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০