- প্রচ্ছদ
- Topic
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ভলুসিয়া কাউন্টিতে সমুদ্রের পথে না গিয়ে সৈকতের উঁচু অংশের দিকে চলে যাচ্ছিল ৭৫টি সদ্য ফুটে বের হওয়া সামুদ্রিক কচ্ছপশাবক। বিষয়টি নজরে আসার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে সেগুলো উদ্ধার করেন ভলুসিয়া কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের কর্মকর্তারা। পরে সব কচ্ছপশাবককে নিরাপদে সমুদ্রে অবমুক্ত করা হয়। ভলুসিয়া কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের ফেসবুক পোস্ট এবং ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতের বেলায় টহলরত কর্মকর্তারা দেখতে পান, কচ্ছপশাবকগুলো সমুদ্রের দিকে না গিয়ে সৈকতের একটি প্রবেশপথ বেয়ে উল্টো দিকের স্থলভাগে উঠে যাচ্ছে। এরপর তারা ভলুসিয়া কাউন্টি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে যৌথভাবে সব কচ্ছপশাবক সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো নিরাপদে আটলান্টিক মহাসাগরে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সদ্য জন্ম নেওয়া সামুদ্রিক কচ্ছপশাবক স্বাভাবিকভাবে চাঁদের আলো সমুদ্রে প্রতিফলিত হওয়ার দিক অনুসরণ করে পানির দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু সৈকতের আশপাশে থাকা বাড়ির বাতি, সড়কের আলো কিংবা আগুনের মতো কৃত্রিম আলোর কারণে তারা সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ফলে সমুদ্রের পরিবর্তে তারা স্থলভাগের দিকে চলে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এভাবে তারা সড়ক, পার্কিং এলাকা বা বসতিপূর্ণ স্থানে পৌঁছে গিয়ে যানবাহন, শিকারি প্রাণী কিংবা পানিশূন্যতার ঝুঁকিতে পড়ে। ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর ফ্লোরিডার উপকূলে প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৮৪ হাজার সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসা তৈরি হয়। একটি স্ত্রী কচ্ছপ সাধারণত দুই থেকে তিন বছর পরপর ডিম পাড়ে এবং প্রতিটি বাসায় ৮০ থেকে ১২০টি পর্যন্ত ডিম থাকতে পারে। ফ্লোরিডার উপকূলে হকসবিল, কেম্পস রিডলি, লগারহেড, লেদারব্যাক এবং গ্রিন টার্টলসহ পাঁচটি প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ দেখা যায়। তবে প্রকৃতিতে তাদের বেঁচে থাকার লড়াই অত্যন্ত কঠিন। বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি এক হাজার কচ্ছপশাবকের মধ্যে মাত্র একটি পূর্ণবয়স্ক হওয়ার সুযোগ পায়। জাতীয় মহাসাগরীয় পরিষেবা এবং ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশন জানিয়েছে, সাধারণ মানুষও কিছু সহজ পদক্ষেপের মাধ্যমে কচ্ছপশাবক রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারেন। সৈকতে গর্ত ভরাট করা, আবর্জনা, বালুর দুর্গ বা চেয়ার সরিয়ে রাখা, কচ্ছপবান্ধব আলোর ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বাসার কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখলে কচ্ছপশাবকগুলো সহজে সমুদ্রে পৌঁছাতে পারে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় কৃত্রিম আলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে প্রতিবছর অসংখ্য কচ্ছপশাবকের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ‘এনডেঞ্জারড স্পিসিজ অ্যাক্ট’ (Endangered Species Act) বা বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণ আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা বিধান বাতিল করেছে। শুক্রবার চূড়ান্ত হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস করে খনন, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, বন উজাড় এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। নতুন নিয়মে আইনের ‘ক্ষতি’ (harm) শব্দটির সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়েছে। এতদিন কোনো বিপন্ন প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস করাও আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো। এখন থেকে শুধু প্রাণীকে সরাসরি হত্যা বা আহত করার ঘটনাই ‘ক্ষতি’ হিসেবে গণ্য হবে। ফলে আবাসস্থল ধ্বংসের বিরুদ্ধে যে আইনি সুরক্ষা ছিল, তা কার্যত তুলে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম বলেন, আগের সংজ্ঞা ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করছিল এবং সাধারণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক জটিলতার মধ্যে ফেলেছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি উৎপাদন ও অবকাঠামো উন্নয়নের গতি বাড়বে। তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, এই সিদ্ধান্ত বহু বিপন্ন প্রাণীকে বিলুপ্তির আরও কাছাকাছি ঠেলে দেবে। তাদের অভিযোগ, কয়েক দশকের সংরক্ষণ প্রচেষ্টাকে এক ধাক্কায় দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ক্যালিফোর্নিয়ায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ অঙ্গরাজ্য। সেখানে ৬ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ রয়েছে। এনডেঞ্জারড স্পিসিজ অ্যাক্টের আওতায় সুরক্ষাপ্রাপ্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ প্রজাতির মধ্যে প্রায় ৩০০টির আবাস ক্যালিফোর্নিয়ায়। এসবের মধ্যে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া কনডর, ধূসর নেকড়ে, মরুভূমির কচ্ছপ, সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ, উত্তরাঞ্চলের স্পটেড পেঁচা, বিভিন্ন প্রজাতির সালামান্ডার, প্রজাপতি, মৌমাছি ও বিরল মাছ। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়া কনডর একসময় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। আবাসস্থল রক্ষা ও পুনরুদ্ধার কর্মসূচির মাধ্যমে বর্তমানে এ প্রজাতির সংখ্যা কয়েকশতে উন্নীত হয়েছে। নতুন নিয়মের ফলে সেই আবাসস্থল আবারও বন উজাড় ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে। সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির তথ্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং উপকূলীয় আবাসন নির্মাণের কারণে এল সেগুন্দো ব্লু বাটারফ্লাই তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ আবাসস্থল হারিয়েছিল। সংরক্ষণ কর্মসূচির ফলে একসময় মাত্র এক হাজারে নেমে আসা এ প্রজাতির সংখ্যা এখন এক লাখ ২০ হাজারের বেশি হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন আর্থজাস্টিসের আইনজীবী ক্রিস্টেন বয়েলস বলেন, কোনো প্রাণীর বসবাস, প্রজনন ও খাদ্য সংগ্রহের স্থান ধ্বংস করেও তাকে আইনি সুরক্ষার আওতায় রাখা সম্ভব—এমন দাবি বৈজ্ঞানিক, আইনি বা জনসমর্থন—কোনোটিরই ভিত্তিতে টেকে না। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াই করা হবে। সিয়েরা ক্লাবও ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে বেআইনি বলে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির মতে, চার দশকের বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকা সংরক্ষণ নীতিকে দুর্বল করে করপোরেট উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত এলাকাগুলো খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এটি পরিবেশনীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম বিতর্কিত পদক্ষেপ নয়। এর আগে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে নতুন করে তেল অনুসন্ধানের পরিকল্পনা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার মোহাভি মরুভূমি থেকে পুরোনো তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ প্রকল্পও পরিবেশবাদীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। তাদের আশঙ্কা, এসব উদ্যোগ একত্রে ক্যালিফোর্নিয়ার বহু বিরল প্রাণী ও তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।