- প্রচ্ছদ
- Topic
বাসাভাড়া
নিউইয়র্কে নতুন এসেছেন, পরিবার নিয়ে বাসা বদলাতে চান কিংবা একটু কম ভাড়ায় ভালো অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজছেন—বাংলাদেশিদের জন্য শুরুতেই বাসা পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কোন ওয়েবসাইটে নতুন বাসার বিজ্ঞাপন আসে, ব্রোকার ফি কে দেবে, কত টাকা সিকিউরিটি ডিপোজিট নেওয়া যাবে কিংবা অনলাইনে দেওয়া বিজ্ঞাপনটি আসল কি না—এসব জানা না থাকলে ঝামেলা আরও বাড়তে পারে। নিউইয়র্কে বাসা খোঁজার জন্য কয়েকটি পরিচিত রেন্টাল ওয়েবসাইট রয়েছে। পাশাপাশি কম ও মাঝারি আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, নাগরিকত্ব বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিজে থেকে হাউজিং কানেক্টে আবেদন করার বাধা নয়। তবে প্রতিটি বাসার জন্য আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত আলাদা। ১. স্ট্রিটইজি নিউইয়র্কে বাসা খোঁজার সবচেয়ে পরিচিত ওয়েবসাইটগুলোর একটি স্ট্রিটইজি। এখানে কোন বরো বা এলাকায় বাসা চান, কত ভাড়া দিতে পারবেন, কয়টি বেডরুম বা বাথরুম দরকার, পোষা প্রাণী আছে কি না—এসব অনুযায়ী সহজেই খোঁজ করা যায়। ২৫ সেপ্টেম্বর স্ট্রিটইজির সার্চে নিউইয়র্ক সিটিতে ১৬ হাজারের বেশি রেন্টাল লিস্টিং দেখা যাচ্ছিল। তবে এই সংখ্যা প্রতিদিনই বদলাতে পারে। পছন্দের এলাকার সার্চ সেভ করে রাখলে নতুন বাসার বিজ্ঞাপন দ্রুত দেখা যায়। ২. জিলো জিলো শুধু নিউইয়র্ক নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বাসা ভাড়া ও কেনার জন্য ব্যবহৃত বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। নিজের বাজেট ও পছন্দের এলাকা দিয়ে সহজেই বাসা খুঁজে দেখা যায়। কুইন্স, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কসের পাশাপাশি নিউইয়র্কের আশপাশের এলাকাও দেখতে চাইলে জিলোর ম্যাপ ফিচার বেশ কাজে আসতে পারে। এতে একাধিক এলাকার ভাড়া পাশাপাশি তুলনা করা সহজ হয়। ৩. অ্যাপার্টমেন্টস ডটকম অ্যাপার্টমেন্টস ডটকম-এও নিউইয়র্কের অনেক রেন্টাল লিস্টিং পাওয়া যায়। এখানে বাসার ছবি, ভাড়া, বেডরুম, সুযোগ-সুবিধা এবং কিছু ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল ট্যুরও দেখা যায়। কোনো বাসা পছন্দ হলে শুধু একটি ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর না করে একই ঠিকানা অন্য সাইটেও খুঁজে দেখা ভালো। এতে ভাড়া, এজেন্টের তথ্য এবং বাসার বিজ্ঞাপন মিলিয়ে দেখা যায়। ৪. হটপ্যাডস হটপ্যাডসও বাসা ভাড়ার একটি পরিচিত প্ল্যাটফর্ম। তবে এটি জিলো গ্রুপের অংশ। তাই জিলো গ্রুপের অন্য ওয়েবসাইটে দেখা কিছু বিজ্ঞাপন এখানেও পাওয়া যেতে পারে। ৫. ট্রুলিয়া ট্রুলিয়াতেও নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকার ভাড়া বাসা খুঁজে পাওয়া যায়। এটিও জিলো গ্রুপের প্ল্যাটফর্ম। ফলে জিলো, হটপ্যাডস বা অন্য প্ল্যাটফর্মে থাকা কিছু একই বিজ্ঞাপন এখানে আবার দেখা যেতে পারে। তাই পাঁচটি ওয়েবসাইটে খুঁজলেই পাঁচ রকম আলাদা বাসার বাজার পাওয়া যাবে—এমন নয়। একই অ্যাপার্টমেন্ট একাধিক সাইটে দেখলে ঠিকানা, ভাড়া, এজেন্টের নাম এবং অতিরিক্ত ফি মিলিয়ে দেখুন। কম ভাড়ার বাসার জন্য হাউজিং কানেক্ট সাধারণ রেন্টাল ওয়েবসাইটের পাশাপাশি এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্ট দেখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি নিউইয়র্ক সিটি সরকারের অফিসিয়াল পোর্টাল। এখানে পাঁচ বরোতে কম ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট এবং কিছু বাড়ি কেনার সুযোগে আবেদন করা যায়। তবে হাউজিং লটারিতে আবেদন করলেই বাসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। প্রতিটি আবাসনের জন্য পরিবারের মোট আয় ও সদস্যসংখ্যার আলাদা শর্ত থাকে। যোগ্যদের মধ্য থেকে বাছাই করা হয় এবং অনেক সময় কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের কারণে কেউ নিজে থেকেই হাউজিং কানেক্টের লটারি বা রি-রেন্টালে আবেদন থেকে বাদ পড়েন না। তবে নির্বাচিত হলে আয়, সম্পদ, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার কাগজপত্র দেখাতে হতে পারে। নতুন অভিবাসীদের জন্য আইডিএনওয়াইসি নিউইয়র্ক স্টেটের ড্রাইভার লাইসেন্স না থাকলে আইডিএনওয়াইসি পরিচয়পত্র হিসেবে কাজে লাগতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছর বা তার বেশি বয়সী সিটির বাসিন্দারা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে আইডিএনওয়াইসির জন্য আবেদন করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে এটি হাউজিং-সংক্রান্ত কাজেও পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্রোকার ফি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিউইয়র্কে বাসা নেওয়ার সময় বড় অঙ্কের ব্রোকার ফি দিতে হবে—এমন ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। ফেয়ারনেস ইন অ্যাপার্টমেন্ট রেন্টাল এক্সপেন্সেস বা ফেয়ার অ্যাক্ট ১১ জুন ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। এই আইনের অধীনে বাড়িওয়ালা যে ব্রোকার বা লিস্টিং এজেন্ট নিয়োগ করেছেন, তার ফি ভাড়াটিয়ার ওপর চাপানো যাবে না। বাড়িওয়ালা বা তার এজেন্টকে ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে নেওয়া অন্যান্য ফিও আগে জানাতে হয়। তবে ভাড়াটিয়া নিজে যদি নিজের প্রয়োজনের জন্য আলাদা ব্রোকার নিয়োগ করেন, তাহলে সেই ব্রোকারের ফি তাকে দিতে হতে পারে। তাই টাকা দেওয়ার আগে জেনে নিন—ব্রোকারকে নিয়োগ করেছেন কে। আইনবহির্ভূত ব্রোকার ফি দাবি করা হলে নিউইয়র্ক সিটির সংশ্লিষ্ট ভোক্তা সুরক্ষা দপ্তরে অভিযোগ করা যায় বা ৩১১-এ যোগাযোগ করা যায়। সিকিউরিটি ডিপোজিট কত? নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে বাড়িওয়ালা এক মাসের ভাড়ার বেশি সিকিউরিটি ডিপোজিট নিতে পারেন না। তাই কেউ যদি দুই বা তিন মাসের ভাড়ার সমান বড় ডিপোজিট দাবি করেন, টাকা দেওয়ার আগে নিয়মটি যাচাই করে নিন। অ্যাপ্লিকেশন ফি কত? লিজ সই করার আগে ক্রেডিট বা ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের জন্য বাড়িওয়ালা সর্বোচ্চ ২০ ডলার নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে রিপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট ইনভয়েসের কপি আবেদনকারীকে দিতে হয়। গত ৩০ দিনের মধ্যে করা গ্রহণযোগ্য ক্রেডিট বা ব্যাকগ্রাউন্ড চেক থাকলে সেটি ব্যবহার করার সুযোগও থাকতে পারে। এতে একই পরীক্ষার জন্য আবার টাকা দিতে নাও হতে পারে। টাকা দেওয়ার আগে অবশ্যই যাচাই করুন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, কমিউনিটি গ্রুপ বা পরিচিতদের মাধ্যমে নিউইয়র্কে বাসার বিজ্ঞাপন পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। সেখান থেকেও ভালো বাসা পাওয়া যেতে পারে। তবে পরিচিত কেউ বিজ্ঞাপন দিয়েছে বলেই যাচাই না করে টাকা পাঠানো ঠিক নয়। কেউ যদি বলেন, ‘অনেক মানুষ বাসাটি নিতে চাইছে, এখনই ডিপোজিট পাঠান’—তাহলে তাড়াহুড়ো না করাই ভালো। প্রথমে বাসার সঠিক ঠিকানা নিন। সম্ভব হলে নিজে গিয়ে বাসাটি দেখে আসুন। বাড়িওয়ালা বা এজেন্টের পরিচয় যাচাই করুন। একই ঠিকানা অন্য কোথাও অন্য নাম বা অন্য ভাড়ায় দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও দেখুন। লিজ না পড়ে এবং টাকা কার কাছে যাচ্ছে তা নিশ্চিত না হয়ে নগদ টাকা, ওয়্যার ট্রান্সফার বা অন্য কোনো মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা পাঠাবেন না। বিশেষ করে নতুন অভিবাসীদের জন্য ইংরেজি লিজের সব শর্ত বুঝে নেওয়া খুব জরুরি। কোনো বিষয় পরিষ্কার না হলে পরিচিত কাউকে দিয়ে পড়ে নিন বা প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নিন। আয় কম হলে সহায়তাও পাওয়া যায় হাউজিং কানেক্টের আবেদন বুঝতে সমস্যা হলে নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং অ্যাম্বাসেডরস কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা পাওয়া যায়। এ ছাড়া রেডি টু রেন্ট কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে আর্থিক কাউন্সেলিং এবং হাউজিং আবেদন প্রস্তুত করার সহায়তাও পাওয়া যেতে পারে। বাসা হারানোর ঝুঁকিতে থাকা বা গুরুতর আবাসন সমস্যায় থাকা যোগ্য ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য আরও কিছু রেন্টাল সহায়তা ও হোমলেসনেস প্রিভেনশন কর্মসূচি রয়েছে। বাসা খোঁজার সহজ কৌশল প্রথমে ঠিক করুন, প্রতি মাসে সর্বোচ্চ কত ভাড়া দিতে পারবেন। এরপর কাজ, স্কুল, মসজিদ, গ্রোসারি, সাবওয়ে বা পরিবারের কাছে যাতায়াতের জন্য কোন এলাকা সুবিধাজনক হবে, সেটি ঠিক করুন। তারপর স্ট্রিটইজি, জিলো ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সেই বাজেট ও এলাকার ভিত্তিতে সার্চ সেভ করে রাখুন। নতুন লিস্টিং এলে দ্রুত যোগাযোগ করুন। একই সঙ্গে হাউজিং কানেক্টে প্রোফাইল তৈরি করে আপনার আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার সঙ্গে মেলে এমন লটারিতে আবেদন করতে থাকুন। কোনো বাসা পছন্দ হলে শুধু মাসিক ভাড়া দেখলেই হবে না। মোট কত টাকা দিতে হবে, অতিরিক্ত কোনো মাসিক ফি আছে কি না, ইউটিলিটি কে দেবে, লিজ কত দিনের এবং বাসাটি রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড কি না—এসবও আগে জেনে নিন। নিউইয়র্কে ভালো বাসা খুঁজে পাওয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে। তবে নিয়মিত খোঁজ করা, সরকারি সুযোগ কাজে লাগানো এবং টাকা দেওয়ার আগে সবকিছু যাচাই করা গেলে অনেক ঝুঁকি ও অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো সম্ভব। সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, এনওয়াইসি ৩১১, ডিপার্টমেন্ট অব কনজিউমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশন, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল, আইডিএনওয়াইসি, স্ট্রিটইজি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে অনলাইনে বাসা ভাড়া নিতে গিয়ে একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়ে ১৮ হাজার ৬০০ ডলার হারিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এক তরুণ। পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে তিনি বাসাটি সরাসরি দেখেছেন, চুক্তিপত্রও পেয়েছেন। তবুও শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারেন, সবকিছুই ছিল প্রতারকদের সাজানো ফাঁদ। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন এবং এবিসি ৭-এর তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী অ্যালভিন ট্রান একজন পণ্য নকশাবিদ (প্রোডাক্ট ডিজাইনার)। গত মাসে তিনি একজন রুমমেটকে নিয়ে সান ফ্রান্সিসকোতে নতুন একটি অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজছিলেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তিনি জনপ্রিয় আবাসন প্ল্যাটফর্ম জিলোতে (Zillow) একটি দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের বিজ্ঞাপন দেখতে পান। শহরের ডাবোস ট্রায়াঙ্গল এলাকায় অবস্থিত ওই অ্যাপার্টমেন্টটির মাসিক ভাড়া চাওয়া হয়েছিল ৬ হাজার ২০০ ডলার। কাঠের মেঝে, বড় জানালা ও নতুন রঙ করা দেয়ালসহ বাসাটি তার কাছে বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়। ট্রান বিজ্ঞাপনে দেওয়া তালিকাভুক্ত প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাননি। পরদিন একই বাসার হুবহু একই ছবি ও বিবরণ নিয়ে আরেকটি বিজ্ঞাপন দেখতে পান ক্রেইগসলিস্টে। দুটি বিজ্ঞাপনের তথ্য এক হওয়ায় তিনি ধরে নেন, একই ব্যক্তি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। এরপর ক্রেইগসলিস্টে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে 'জেমস' পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বার্তা আদান-প্রদান শুরু হয়। কিছুদিনের মধ্যেই বাসাটি সরাসরি দেখার সময় নির্ধারণ করা হয়। ট্রান জানান, নির্ধারিত দিনে গিয়ে তিনি দেখেন বাসাটি ঠিক বিজ্ঞাপনের ছবির মতোই। সেখানে নিজেকে 'জিম' পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি জানান, ভবনটির মালিক তার দাদা-দাদি। ট্রান ধারণা করেন, বার্তায় যার সঙ্গে কথা হয়েছে এবং যিনি বাসা দেখাচ্ছেন—দুজন একই ব্যক্তি। বাসাটি দেখতে তখন আরও কয়েকজন সম্ভাব্য ভাড়াটিয়াও উপস্থিত ছিলেন। তিনি সান ফ্রান্সিসকো স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, অনেক মানুষ থাকায় আলাদাভাবে বেশি কথা বলার সুযোগ হয়নি। তবে আগে থেকেই বার্তায় যোগাযোগ চলছিল বলে তার সন্দেহের কোনো কারণ তৈরি হয়নি। বাসাটি পেতে ট্রান নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫০০ ডলার বেশি, অর্থাৎ মাসে ৬ হাজার ৭০০ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে জানানো হয় যে, বাসাটি তার জন্য বরাদ্দ হয়েছে। পরে তার কাছে একটি ভাড়ার চুক্তিপত্র পাঠানো হয়। সেখানে বাড়ির মালিক হিসেবে জেমস বাসুইনো ডানল্যাপ ও লেইডার জুনকো বারাঙ্কোর নাম উল্লেখ ছিল। একই সঙ্গে প্রথম ও শেষ মাসের ভাড়া বাবদ ১২ হাজার ৪০০ ডলার এবং নিরাপত্তা জামানত হিসেবে আরও ৬ হাজার ২০০ ডলার ব্যাংক ওয়্যার ট্রান্সফারের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়। ট্রান এবং তার রুমমেট মিলে মোট ১৮ হাজার ৬০০ ডলার পরিশোধ করেন। রুমমেট নিজের অংশ জেল (Zelle) সেবার মাধ্যমে ট্রানকে পাঠান, এরপর ট্রান পুরো অর্থ কথিত বাড়িওয়ালার হিসাবে স্থানান্তর করেন। কিন্তু নির্ধারিত দিন ৩০ জুলাই বাসায় উঠতে গেলে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। এরপর যাদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করছিলেন, তারা আর কোনো সাড়া দেননি। ঘটনার পর ট্রান জিলোতে প্রকাশিত আসল বিজ্ঞাপনের প্রকৃত মালিক জেমস বাসুইনোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তিনি জানতে পারেন, বাসাটি কখনোই ক্রেইগসলিস্টে বিজ্ঞাপন হিসেবে প্রকাশ করা হয়নি। অর্থাৎ প্রতারকরা আসল বিজ্ঞাপনের ছবি ও তথ্য ব্যবহার করে আলাদা একটি ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করেছিল। ট্রান বলেন, তিনি সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করেছিলেন এই কারণে যে তিনি নিজে বাসাটি ঘুরে দেখেছেন। তাই এটি প্রতারণা হতে পারে—এমন ধারণাই তার মাথায় আসেনি। তিনি আরও জানান, তার ব্যাংক ব্যাংক অব আমেরিকা জানিয়েছে, অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে কি না, তা নির্ভর করছে যে ব্যাংকে অর্থ পাঠানো হয়েছে, অর্থাৎ ব্লুভাইন ব্যাংকের তদন্তের ওপর। সিয়াটলের বাসিন্দা ট্রান বলেন, এই অর্থ হারানোর ফলে তিনি আর্থিকভাবে পুরোপুরি বিপর্যস্ত না হলেও, রুমমেটকে নিজের মাধ্যমে এই প্রতারণার মধ্যে জড়িয়ে ফেলায় তিনি গভীরভাবে অনুতপ্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনে বাসা ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে কেবল বাসা দেখে আসাই যথেষ্ট নয়। সম্পত্তির প্রকৃত মালিকের পরিচয় যাচাই, সরকারি নথি মিলিয়ে দেখা, অর্থ পাঠানোর আগে ভাড়াদাতার পরিচয় নিশ্চিত করা এবং একাধিক উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে জনপ্রিয় আবাসন প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপন হুবহু অন্য কোনো সাইটে দেখা গেলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নিউইয়র্কে বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় আবেদনকারীর ক্রেডিট যাচাইয়ের খরচ আর ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে নেওয়া যাবে না—এমন নিয়ম চালুর প্রস্তাব দিয়েছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে ক্রেডিট রিপোর্ট সংগ্রহের ব্যয় বাড়ির মালিক বা তাদের নিয়োগ করা ব্রোকারকে বহন করতে হবে। বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই প্রকাশিত নগর প্রশাসনের ‘রেন্টাল রিপঅফ’ প্রতিবেদনে এই প্রস্তাব রাখা হয়েছে। নিউইয়র্কের পাঁচ বরোতে কয়েক মাস ধরে আয়োজিত শুনানিতে ভাড়াটিয়াদের দেওয়া সাক্ষ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে ২৩টি সুপারিশ তৈরি করেছে মেয়রের দপ্তর। বর্তমানে বাসার জন্য আবেদন করার সময় অনেক ভাড়াটিয়াকে ক্রেডিট যাচাইয়ের ফি দেওয়ার পাশাপাশি আয়, চাকরি ও আর্থিক সক্ষমতার একাধিক প্রমাণ জমা দিতে হয়। নতুন প্রস্তাবে বাড়ির মালিকদের একই আবেদনকারীর কাছ থেকে ক্রেডিট রিপোর্ট ও আয়ের প্রমাণ—দুই ধরনের যাচাই একসঙ্গে চাওয়ার সুযোগ সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। প্রশাসনের সুপারিশ অনুযায়ী, বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়ার আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে ক্রেডিট রিপোর্ট অথবা আয়ের প্রমাণ—যেকোনো একটি পদ্ধতি বেছে নিতে পারবেন। এর লক্ষ্য বাসা খোঁজার সময় আবেদনকারীদের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ফি ও একই ধরনের একাধিক যাচাইয়ের চাপ কমানো। তবে এটি এখনো কার্যকর আইন নয়। ক্রেডিট যাচাইয়ের খরচ বাড়ির মালিকের ওপর দেওয়াসহ প্রতিবেদনের বেশ কয়েকটি সুপারিশ বাস্তবায়নে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের অনুমোদন এবং নতুন আইন প্রয়োজন হবে। এ নিয়ে সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে নগর প্রশাসন জানিয়েছে। ‘রেন্টাল রিপঅফ’ প্রতিবেদনে ক্রেডিট যাচাইয়ের নিয়ম পরিবর্তনের পাশাপাশি বাসাবাড়ির তাপ ও গরম পানির অভিযোগ তদন্ত, ভবনের ত্রুটি সংশোধনের মিথ্যা তথ্য দিলে জরিমানা বৃদ্ধি এবং গুরুতর আবাসন বিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় একই ভবন থেকে আসা একাধিক তাপ বা গরম পানির অভিযোগকে একই অভিযোগ হিসেবে বন্ধ না করে প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে তদন্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভাড়াটিয়াদের সুবিধামতো আবাসন পরিদর্শনের সময় নির্ধারণের সুযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। বাসার বিজ্ঞাপনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি পরিবর্তন করা হলে তা স্পষ্টভাবে জানানো বাধ্যতামূলক করার সুপারিশও রয়েছে। এতে অনলাইনে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে বাস্তব বাসার অবস্থার বড় ধরনের পার্থক্য থাকলে আবেদনকারীরা আগেই তা জানতে পারবেন। প্রতিবেদনে ভাড়াটিয়া সংগঠনগুলোকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে একই ভবনের ভাড়াটিয়ারা যৌথভাবে বাড়ির মালিকের সঙ্গে মেরামত, নিরাপত্তা ও ভবন পরিচালনাসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করতে পারবেন। নিউইয়র্কের পাঁচ বরোতে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত শুনানিতে ভাড়াটিয়ারা ছত্রাক ও পোকামাকড়ের সমস্যা, পানি চুয়ে পড়া, নষ্ট লিফট, প্রয়োজনীয় মেরামতে বিলম্ব এবং আগে থেকে জানানো হয়নি এমন বিভিন্ন ফি নিয়ে অভিযোগ করেন। এসব সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই নগর প্রশাসন পর্যায়ক্রমে নতুন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে। প্রস্তাবগুলোর কিছু প্রশাসনিকভাবে চালু করা সম্ভব হলেও ক্রেডিট যাচাইয়ের খরচ স্থানান্তর, নতুন জরিমানা এবং বাড়ির মালিকদের জন্য অতিরিক্ত বাধ্যবাধকতা আরোপের মতো পরিবর্তনগুলো কার্যকর হতে সিটি কাউন্সিলে আইন পাস করতে হবে। ফলে নতুন নিয়ম কবে থেকে কার্য
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্ক। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটিতে বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় দেশের অনেক এলাকার তুলনায় বেশি। তবে এই উচ্চ ব্যয়ের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে নিউইয়র্ক স্টেট সরকার এবং নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন কয়েক দশক ধরে বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর লাখো বাসিন্দা এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সুবিধা, শিশু পরিচর্যা, জ্বালানি ব্যয়, কর-সুবিধা এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। যদিও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা রয়েছে যে এসব সুবিধা কেবল নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য, বাস্তবে অনেক কর্মসূচি শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী, কর্মজীবী পরিবার, নতুন বাবা-মা এবং নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও উন্মুক্ত। নিউইয়র্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা কর্মসূচিগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা অন্যতম। সীমিত আয়ের পরিবার, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিমা ও চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। অনেক পরিবার বিনামূল্যে অথবা স্বল্প খরচে চিকিৎসা, ওষুধ এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পায়। স্বাস্থ্য ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে এসব কর্মসূচি বহু পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিও নিউইয়র্কের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় অংশ। যোগ্য পরিবারগুলো মাসিক খাদ্য কেনার জন্য সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের কর্মজীবী পরিবার, প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই সহায়তা জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গর্ভবতী নারী, নবজাতক শিশু এবং অল্পবয়সী শিশুদের জন্য আলাদা পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শ এবং শিশুদের সুস্থ বিকাশে সহায়তা প্রদান করা হয়। প্রতি বছর হাজারো পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসে। কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য শিশু পরিচর্যা ব্যয় অনেক সময় বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিউইয়র্কে শিশু পরিচর্যা সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। যোগ্য পরিবারগুলো শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বা অনুমোদিত পরিচর্যা সেবার ব্যয়ের একটি অংশ কিংবা উল্লেখযোগ্য অংশের জন্য আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। এর ফলে অনেক অভিভাবক নিশ্চিন্তে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারেন। নতুন বাবা-মায়েদের জন্য বেতনসহ পারিবারিক ছুটির সুবিধা নিউইয়র্কের অন্যতম আলোচিত কর্মসূচি। সন্তান জন্ম, দত্তক গ্রহণ অথবা পরিবারের গুরুতর অসুস্থ সদস্যের পরিচর্যার জন্য কর্মরত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতনসহ ছুটি গ্রহণ করতে পারেন। পরিবার ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় এই কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। যেসব পরিবার সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়ে, তারা খাদ্য, বাসস্থান, বিদ্যুৎ বিল এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয় মেটাতে সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে জরুরি আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। নিউইয়র্কে আবাসন ব্যয় দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়। উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক পরিবার সরকারি ভাড়া সহায়তা, ভর্তুকিযুক্ত আবাসন এবং বিশেষ আবাসন কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করে। গৃহহীনতা প্রতিরোধ এবং স্থায়ী বাসস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্টেট ও সিটি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে। শীতপ্রধান এই অঙ্গরাজ্যে জ্বালানি ব্যয়ও অনেক পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং গৃহ উষ্ণ রাখার ব্যয় কমাতে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে গরম করার যন্ত্রপাতি মেরামত বা প্রতিস্থাপনের জন্যও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি কর্মসূচি, পরিবহন সহায়তা, বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা এবং সামাজিক অংশগ্রহণমূলক নানা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবীণদের স্বাধীন ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্যও নিউইয়র্কে বিস্তৃত সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের পরিচর্যাকারী হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। চাকরি হারানো কর্মীদের জন্য বেকারত্বকালীন সহায়তা নিউইয়র্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। যোগ্য ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে পেতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবাও গ্রহণ করতে পারেন। শিক্ষার্থী এবং শিশুদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি। বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে খাবার, শিক্ষা সহায়তা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে শিশু কর-সুবিধার মতো কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পেতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা স্টেট সরকারের সুবিধার পাশাপাশি নগর প্রশাসনের বিভিন্ন বিশেষ সেবাও পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি সহায়তা, সামাজিক সেবা, অভিবাসী সহায়তা কর্মসূচি, নগর পরিচয়পত্র, আইনি সহায়তা, গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়সেবা এবং বিভিন্ন কমিউনিটিভিত্তিক সুবিধা। বর্তমানে এসব সেবার বড় অংশ অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, ফলে আবেদন ও তথ্য সংগ্রহ আরও সহজ হয়েছে। এছাড়া নিউইয়র্কে কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য কর-সুবিধা, শিশুদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা, প্রবীণদের জন্য সম্পত্তি কর-ছাড় এবং বিভিন্ন শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার সরাসরি নগদ সহায়তার জন্য যোগ্য না হলেও এসব কর-সুবিধা ও পরিবারভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো কেবল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নয়; বরং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা শিশু, পরিবার, কর্মজীবী মানুষ, প্রবীণ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করে। তবে প্রতিটি কর্মসূচির জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতার মানদণ্ড রয়েছে এবং আবেদনকারীর আয়, পারিবারিক অবস্থা, বসবাসের স্থান এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে সুবিধা প্রদান করা হয়। জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার এই সময়ে নিউইয়র্ক স্টেট এবং নিউইয়র্ক সিটি সরকারের এসব সহায়তা কর্মসূচি লাখো মানুষের জন্য আর্থিক স্বস্তি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিশু থেকে প্রবীণ, শিক্ষার্থী থেকে কর্মজীবী পরিবার—জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। অনেকের কাছে এসব কর্মসূচি শুধু সরকারি সুবিধা নয়, বরং কঠিন সময়ে জীবনকে স্থিতিশীল রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ব্যবস্থা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।