- প্রচ্ছদ
- Topic
মুদ্রা
যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ সেন্টের একটি নিকেল মুদ্রা তৈরি ও বাজারে সরবরাহ করতে সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি হিসাবে খরচ হয়েছে ১৩ দশমিক ৩১ সেন্ট। মুদ্রাটির মূল্যমানের চেয়ে এই ব্যয় ৮ দশমিক ৩১ সেন্ট বেশি। উৎপাদন খরচ কমাতে নিকেলের ধাতব উপাদান বদলানোর সুযোগ রেখেছে কংগ্রেসে পাস হওয়া একটি বিল। তবে নিকেল মুদ্রা বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মিন্টের ২০২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা ২০ বছর ধরে নিকেল তৈরির খরচ এর পাঁচ সেন্ট মূল্যমানের চেয়ে বেশি। কংগ্রেসের আলোচনায় এখন এই ব্যয় কমানোর উপায় হিসেবে মুদ্রাটির গঠন পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে। ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’ নামের বিলে বর্তমানে ব্যবহৃত তামা ও নিকেলের সংকর ধাতুর পাশাপাশি ভেতরে জিঙ্ক এবং বাইরে নিকেলের আবরণযুক্ত মুদ্রা তৈরির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে নতুন উপাদান ব্যবহার করতে হলে আগে পরীক্ষা করে দেখতে হবে, তাতে উৎপাদন খরচ কমে কি না এবং কয়েন গ্রহণকারী যন্ত্রগুলোর ব্যবহারে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয় কি না। ফলে বিল পাস হওয়া মানেই নতুন ধরনের নিকেল বাজারে আসছে, এমন নয়। বিলটির প্রধান লক্ষ্য এক সেন্টের পেনি মুদ্রার উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্তকে আইনি ভিত্তি দেওয়া। মার্কিন মিন্ট সাধারণ লেনদেনের জন্য নতুন পেনি তৈরি ইতোমধ্যে স্থগিত করেছে। তবে মানুষের কাছে থাকা পেনি এখনো বৈধ এবং কেনাকাটায় ব্যবহার করা যায়। পেনির সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে বিলটিতে নগদ লেনদেনের জন্যও একটি বিধান রাখা হয়েছে। কোনো লেনদেনে ঠিক পরিমাণ খুচরা ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে মোট অঙ্ক নিকটতম পাঁচ সেন্টে সমন্বয় করা যাবে। কার্ড, চেক বা ইলেকট্রনিক পেমেন্টে এই সমন্বয়ের বিধান প্রযোজ্য হবে না। বিলের ভাষা অনুযায়ী, সব নগদ লেনদেনে মূল্য সমন্বয় করা বাধ্যতামূলকও নয়। প্রতিনিধি পরিষদ ১৪ সেপ্টেম্বর এবং সিনেট ২৮ সেপ্টেম্বর বিলটি পাস করেছে। সর্বশেষ পাওয়া আইনপ্রণয়নসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, এটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। তাই নিকেলের উপাদান বদলানো কিংবা নগদ লেনদেনে বিলের নতুন বিধান চালু হওয়ার বিষয়টি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ওপর নির্ভর করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করলে দেশটির জনগণ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রককে প্রশ্ন করেছিলেন বলে নতুন এক প্রতিবেদনে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটে মাদুরোকে আটক করার প্রায় এক মাস আগে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসে ইলন মাস্কের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত বৈঠকে বসেছিলেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকে তিনি গ্রকের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নোত্তর করেন। এর মধ্যে ছিল তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব, রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি। একপর্যায়ে ট্রাম্প জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র যদি মাদুরোকে আটক করে, তাহলে ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ কীভাবে বিষয়টি গ্রহণ করবে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রক মাদুরোকে অত্যন্ত অজনপ্রিয় ও দমনমূলক শাসক হিসেবে বর্ণনা করে এবং ধারণা দেয় যে অনেক ভেনেজুয়েলান তাঁর পতনকে স্বাগত জানাতে পারেন। এর প্রায় এক মাস পর, ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। মার্কিন কর্মকর্তারা ওই অভিযানের আগে কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি ও মহড়া চালানোর কথা জানিয়েছিলেন। অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন জায়গায় মাদুরোবিরোধী মানুষের আনন্দ প্রকাশের খবরও আসে। টাইমের সূত্রের দাবি, এ ঘটনা ট্রাম্পকে গ্রকের পূর্বাভাস সম্পর্কে আরও মুগ্ধ করে এবং তিনি চ্যাটবটটির সক্ষমতাকে অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করেন। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, গ্রক সরাসরি ট্রাম্পকে মাদুরোকে আটক করার পরামর্শ দিয়েছিল—এমন প্রমাণ প্রতিবেদনে নেই। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প মূলত জানতে চেয়েছিলেন সম্ভাব্য আটকের পর ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে। অর্থাৎ, “এআইয়ের পরামর্শ নিয়ে ট্রাম্প মাদুরোকে আটক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন”—এমন সরল দাবি এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। মাদুরোকে আটক করার অভিযানটি যে কয়েক মাসের সামরিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার ফল ছিল, তা ওয়াশিংটন পোস্টের বিস্তারিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এনেছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সামরিক পরিকল্পনা ও পররাষ্ট্রনীতিতে বাণিজ্যিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রশ্ন। বিশেষ করে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানের আগে সম্ভাব্য জনমত সম্পর্কে একটি এআই চ্যাটবটের সঙ্গে আলোচনা করেছেন—এমন তথ্য এআইয়ের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
একসময় আমেরিকার প্রায় প্রতিটি পকেট, কয়েনের জার কিংবা শিশুর পিগি ব্যাংকে দেখা যেত ছোট্ট এক সেন্টের মুদ্রা—পেনি। দোকানের কাউন্টারে খুচরা ফেরত, ছোটখাটো কেনাকাটা কিংবা সঞ্চয়ের প্রথম ধাপ—দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে ছিল এই ছোট্ট মুদ্রাটি। কিন্তু ২৩৪ বছরের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার সেই পরিচিত পেনি বিদায়ের পথে। মার্কিন সিনেটে পেনি তৈরির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির বিল পাস হয়েছে। ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই বিল এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য যাচ্ছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রচলনের জন্য নতুন পেনি তৈরির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পেনির গল্প আজকের নয়। ১৭৯২ সালের ‘কয়েনেজ অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এক সেন্টের মুদ্রা তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর ১৭৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টাকশাল প্রথম পেনি তৈরি করে। সেই সময়ের পেনি ছিল বর্তমান মুদ্রার তুলনায় বড় এবং মূলত তামা দিয়ে তৈরি। এরপর আমেরিকার ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হয়ে থেকেছে পেনি। ১৯০৯ সালে মুদ্রাটিতে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ছবি যুক্ত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তামার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৪৩ সালে পেনির একটি সংস্করণ তামার পরিবর্তে ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এর ধাতব উপাদানও পরিবর্তিত হয়েছে। দীর্ঘ এই যাত্রার পর ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর ফিলাডেলফিয়া টাকশালে প্রচলনের জন্য শেষ পেনিটি তৈরি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রচলিত পেনির নিয়মিত উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাসের অবসান ঘটে। তবে মানুষের হাতে থাকা পেনিগুলো এখনো বৈধ মুদ্রা হিসেবে থাকবে এবং সেগুলো দিয়ে লেনদেন করা যাবে। পেনি তৈরির খরচই মূলত এর বিদায়ের অন্যতম বড় কারণ। মার্কিন টাকশালের হিসাবে, ২০২৪ সালে একটি পেনি তৈরি করতে প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ সেন্ট খরচ হয়েছে। অথচ মুদ্রাটির মূল্য মাত্র ১ সেন্ট। একই বছরে প্রায় ৩২০ কোটি পেনি তৈরি করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে নগদ অর্থের ব্যবহারও কমেছে। কার্ড, মোবাইল পেমেন্ট ও অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় হওয়ায় এক সেন্টের মতো ছোট মূল্যমানের মুদ্রার ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক কমেছে। পেনি সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে গেলে নগদ লেনদেনে নতুন নিয়ম চালু হতে পারে। ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’-এ মোট বিলের অঙ্ক কাছের পাঁচ সেন্টে সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো মোট বিলের শেষ অঙ্ক ১, ২, ৬ বা ৭ হলে তা নিচের পাঁচ সেন্টে নামিয়ে নেওয়া হবে। আর শেষ অঙ্ক ৩, ৪, ৮ বা ৯ হলে তা ওপরের পাঁচ সেন্টে নেওয়া হবে। এই নিয়ম শুধু নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে আগের মতোই নির্দিষ্ট সেন্ট পর্যন্ত সঠিক মূল্য পরিশোধ করা যাবে। অর্থাৎ, আমেরিকার পকেট থেকে পেনি হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। কিন্তু দোকানের কাউন্টারে খুচরা হিসেবে পাওয়া সেই ছোট্ট কয়েন, শিশুর পিগি ব্যাংকে জমিয়ে রাখা প্রথম সঞ্চয় কিংবা পুরোনো কয়েনের জারে পড়ে থাকা এক সেন্ট—এসব স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ২৩৪ বছরের ইতিহাস সহজে মুছে যাওয়ার নয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এ বিষয়ে নিজেকে ‘১২০ শতাংশ নিশ্চিত’ বললেও তিনি জানিয়েছেন, সফরের মাস বা তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। ত্রিবেদী জানান, সফরটি নিয়ে দুই দেশের মানুষের আগ্রহ রয়েছে। তবে তাড়াহুড়োর চেয়ে যথাযথ প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। দুই সরকারপ্রধানের আলোচনার আগে কর্মকর্তাদের পর্যায়ে প্রস্তুতি এবং বৈঠকের পর বাস্তবায়নযোগ্য ফল থাকার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে স্বীকার করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তবে তাঁর আশা, শীর্ষ পর্যায়ে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ পাওয়া যাবে। সম্ভাব্য আলোচনায় পানি ও বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে বলেও জানান তিনি। এগুলোকে অবশ্য চূড়ান্ত আলোচ্যসূচি হিসেবে ঘোষণা করেননি। দুই দেশের সম্পর্ককে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত করে ত্রিবেদী বলেন, ভালো শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনই মানুষের চাওয়া। এসব স্বার্থকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও ভারতের কাজ করা প্রয়োজন।বাণিজ্য, খেলাধুলা, সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও সংগীতে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বাড়লে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, নভেম্বরে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আয়োজন ঘিরে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য মোদির আমন্ত্রণ রয়েছে। তবে নভেম্বরের সম্ভাবনার কথা সংবাদমাধ্যমে এলেও বুধবার ত্রিবেদী স্পষ্ট করেছেন, কোনো মাস বা তারিখ নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নভেম্বরকে সফরের চূড়ান্ত সময় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে এর আগেও আশাবাদ জানিয়েছিলেন ত্রিবেদী। গত ১৮ আগস্ট ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে তাঁকে যথাযথ সম্মানজনক অভ্যর্থনা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মোদি।
যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের নোটে বিশেষ ধরনের সিরিয়াল নম্বর থাকলে সেটি অভিহিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হতে পারে। একই সংখ্যা বারবার থাকা ‘সলিড’ সিরিয়াল নম্বরের নোট সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। এমন নোট নিলামে নিয়মিতই হাজার হাজার ডলারে বিক্রি হওয়ার নজির রয়েছে। ‘সলিড’ সিরিয়াল নম্বর বলতে এমন সিরিয়ালকে বোঝায়, যেখানে মূল সংখ্যাগুলো একই অঙ্ক দিয়ে তৈরি। যেমন ১১১১১১১১, ৭৭৭৭৭৭৭৭ বা ৮৮৮৮৮৮৮৮। পেপার মানি গ্যারান্টি বা পিএমজি বলছে, সিরিয়ালের শুরুতে থাকা অক্ষর বা প্রিফিক্স বাদ দিলে পুরো নম্বরে একই সংখ্যা পুনরাবৃত্তি হলে সেটিকে সলিড সিরিয়াল বলা হয়। মুদ্রা সংগ্রাহকদের কাছে এ ধরনের নোটের আকর্ষণের অন্যতম কারণ হলো সিরিয়াল নম্বরটি সহজেই চোখে পড়ে। আমেরিকান নিউমিসম্যাটিক অ্যাসোসিয়েশনের এডওয়ার্ড সি. রোশেট মানি মিউজিয়ামের পরিচালক ডগ মাডের মতে, সলিড সিরিয়াল দেখতে সহজে আলাদা করা যায় বলেই সংগ্রাহকদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গাণিতিক দিক থেকে সলিড সিরিয়াল অন্য যেকোনো নির্দিষ্ট সিরিয়ালের তুলনায় স্বাভাবিকভাবে বেশি বিরল নয়। সিরিয়াল নম্বরগুলো নির্দিষ্ট নিয়মে তৈরি হলেও একই সংখ্যা আটবার থাকার মতো প্যাটার্ন সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। ফলে বাজারে এমন নোটের জন্য অভিহিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ দিতে আগ্রহী ক্রেতা পাওয়া যায়। নোটের অবস্থা এর সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। ভালো অবস্থায় থাকা নোট, বিশেষ করে যেগুলো প্রায় নতুন বা খুব কম ব্যবহৃত, সংগ্রাহকদের কাছে বেশি মূল্য পেতে পারে। একই ধরনের সিরিয়াল নম্বর থাকলেও ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত নোট এবং ভালো অবস্থার নোটের বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় পার্থক্য হতে পারে। সলিড সিরিয়ালের মধ্যেও ৮ সংখ্যার প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। পিএমজির তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার কাগজের মুদ্রা সংগ্রাহকদের মধ্যে সলিড-৮ সিরিয়ালের বিশেষ জনপ্রিয়তা রয়েছে। এর একটি কারণ হলো, কিছু সংস্কৃতিতে ৮ সংখ্যাকে সৌভাগ্য ও সম্পদের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়। ফলে ৮৮৮৮৮৮৮৮-এর মতো সিরিয়াল বাড়তি আগ্রহ তৈরি করতে পারে। এর বাস্তব উদাহরণও রয়েছে। ২০২৪ সালে হেরিটেজ অকশনে প্রায় নিখুঁত অবস্থায় থাকা ৮৮৮৮৮৮৮৮ সিরিয়ালের একটি ১০০ ডলারের নোট ১৯ হাজার ডলারের বেশি দামে বিক্রি হয়। অর্থাৎ ১০০ ডলারের অভিহিত মূল্যের তুলনায় নোটটির সংগ্রাহক মূল্য ছিল বহুগুণ বেশি। তবে এই উদাহরণ দেখে সব সলিড সিরিয়াল নোটের মূল্য হাজার হাজার ডলার ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কোনো নোটের সম্ভাব্য দাম নির্ভর করে সিরিয়াল নম্বরের ধরন, নোটের অবস্থা, গ্রেড, সিরিজ এবং সংগ্রাহকদের চাহিদার ওপর। একই ধরনের সিরিয়াল থাকা দুটি নোটও ভিন্ন দামে বিক্রি হতে পারে। সলিড সিরিয়াল ছাড়াও রাডার, রিপিটার, ল্যাডার ও অন্যান্য ‘ফ্যান্সি’ সিরিয়াল নম্বরের নোট সংগ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয়। এসব নম্বর সাধারণ সিরিয়ালের তুলনায় দেখতে আলাদা হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে নোটের সংগ্রাহক মূল্য বাড়তে পারে। তাই হাতে থাকা ডলারের নোট খরচ করার আগে সিরিয়াল নম্বরটি একবার দেখে নেওয়া যেতে পারে। একই সংখ্যা বারবার থাকা কোনো সিরিয়াল চোখে পড়লে সেটিকে সাধারণ নোট হিসেবে খরচ করার আগে সংগ্রাহক বাজারে এর সম্ভাব্য মূল্য যাচাই করা যেতে পারে। তবে শুধু সিরিয়াল দেখেই নির্দিষ্ট দাম ধরে নেওয়া উচিত নয়, কারণ প্রকৃত মূল্য নির্ধারণে নোটের অবস্থা ও বাজারের চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: নিউজ নেশন
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নতুন নজির তৈরি করে দেশটির মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি যুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিন্ট বুধবার ট্রাম্পের ছবি থাকা ১ ডলারের কয়েন বিক্রি শুরু করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এর মজুত শেষ হয়ে যায়। কয়েনটি যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৬ সালের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর এক পাশে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি, সঙ্গে রয়েছে ‘লিবার্টি’, ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ এবং ‘১৭৭৬-২০২৬’ লেখা। অন্য পাশে রয়েছে প্রেসিডেনশিয়াল সিল ও ‘২৫০’ লেখা। মিন্টের ওয়েবসাইটে ২৫টি কয়েনের একটি রোলের দাম রাখা হয়েছে ৬১ ডলার, আর ১০০টি কয়েনের ব্যাগের দাম ১৫৪ ডলার ৫০ সেন্ট। বর্তমানে এগুলো পুনরায় সরবরাহের জন্য অর্ডার নেওয়া হচ্ছে। তবে দেখতে সোনালি হলেও কয়েনটি সোনার তৈরি নয়। এতে মূলত তামা, দস্তা, ম্যাঙ্গানিজ ও নিকেলের মিশ্রণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিন্ট জানিয়েছে, কয়েনটি ২০২৬ সালের জন্য অনুমোদিত বিশেষ ১ ডলার মুদ্রা কর্মসূচির অংশ। মিন্টের তথ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার ২৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে এক বছরের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আজ বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে পুনরায় হাজির হচ্ছেন। গত জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক ঝটিকা অভিযানে আটক হওয়ার পর এটি তাদের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ আদালত হাজিরা। তবে এবারের শুনানির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি বিশেষ আইনি বিতর্ক— মাদুরোর আইনজীবীদের ফি কে প্রদান করবে? ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি কারাকাসে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে মার্কিন কমান্ডোদের এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে সস্ত্রীক আটক হন নিকোলাস মাদুরো। এরপর তাদের নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস (Narco-terrorism), যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচার এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছে মার্কিন প্রশাসন। তবে শুরু থেকেই মাদুরো নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন এবং নিজেকে একজন ‘যুদ্ধবন্দি’ (Prisoner of War) হিসেবে অভিহিত করেছেন। মাদুরোর প্রধান আইনজীবী ব্যারি পোলাক আদালতকে জানিয়েছেন, মার্কিন সরকার মাদুরোর আইনি লড়াইকে বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে অর্থের জোগান বন্ধ করে দিচ্ছে। ভেনেজুয়েলা সরকার মাদুরোর আইনি খরচ মেটাতে চাইলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই অর্থ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পোলাক অভিযোগ করেন যে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ (OFAC) প্রথমে এই অর্থ গ্রহণের অনুমতি দিলেও মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে তা বাতিল করে দেয়। আইনজীবীদের দাবি, এর ফলে মাদুরোর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। যদি শেষ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা সরকারকে ফি দেওয়ার অনুমতি না দেওয়া হয়, তবে ব্যারি পোলাক এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন আইনজীবীরা আদালতে দাখিল করা নথিতে জানিয়েছেন, মাদুরোর ব্যক্তিগত তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ভেনেজুয়েলা সরকারের কোনো রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে এই ফি নেওয়া আইনের পরিপন্থী। তাদের মতে, মাদুরো এখন আর ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপ্রধান নন, তাই তিনি এই বিশেষ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। আজকের শুনানিতে বিচারপতি আলভিন হেলারস্টাইন মাদুরোর আইনজীবীদের এই আবেদন নিয়ে শুনানি করবেন। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি মাদুরো ব্যক্তিগতভাবে আইনজীবীদের ফি দিতে ব্যর্থ হন, তবে মার্কিন আইন অনুযায়ী তাকে আদালত থেকে সরকারি আইনজীবী (Public Defender) নিয়োগ করে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে ব্রুকলিনের একটি কারাগারে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিন কাটছে একসময়ের প্রতাপশালী এই নেতার। মাদুরো এবং তার স্ত্রী দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সারা বিশ্বের নজর এখন নিউ ইয়র্কের এই আদালতের দিকে, কারণ আধুনিক ইতিহাসে কোনো দেশের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে আটক করে অন্য দেশে বিচারের মুখোমুখি করার ঘটনা বিরল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।