- প্রচ্ছদ
- Topic
#মানবিকগল্প
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় তুষারধসের পর মালিকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল লুলু নামের একটি কুকুর। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দুই দিনেরও বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর তাকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় খুঁজে পেয়েছেন উদ্ধারকারীরা। প্রায় ৫০ ঘণ্টার উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে লুলুকে উদ্ধারের ঘটনাটি এখন তার মালিক ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কাছে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার স্মৃতি হয়ে আছে। লুলু একটি হ্যাস্কিডুডল জাতের কুকুর। তার মালিক লরেন পাডাওয়ার চলতি মাসের শুরুতে ফেসবুকে এই উদ্ধারের ঘটনা তুলে ধরেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর লুলুর আরেক মালিক ব্রায়ান ও তাঁর এক hiking সঙ্গী আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ এলাকার চুগাচ স্টেট পার্কে পাহাড়ে হাঁটতে গিয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ তুষারধস শুরু হয়। এতে ব্রায়ান ও তাঁর সঙ্গী পাহাড়ের ঢাল বেয়ে প্রায় ৫০০ ফুট নিচে চলে যান। তুষারধসের ঘটনায় দুজনই গুরুতর আহত হন। পাডাওয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়, ব্রায়ানের সঙ্গীর চোয়াল ভেঙে যায়, মেরুদণ্ডের একটি কশেরুকায় ফাটল ধরে এবং হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। আহত অবস্থায় তাঁরা দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন। নিজেদের চেষ্টায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসার মতো পরিস্থিতি তাঁদের ছিল না। পরে উদ্ধারকারীরা ব্রায়ান ও তাঁর সঙ্গীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। কিন্তু সেই সময় লুলুকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তুষারধসের মধ্যে কুকুরটি ঠিক কোথায় ছিল, সে আহত হয়েছে কি না কিংবা তুষারের নিচে চাপা পড়েছে কি না—কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছিলেন না। লুলুর স্বভাব সম্পর্কে পাডাওয়ার জানান, সে পাহাড়ে ঘুরতে ভালোবাসে। সামনে এগিয়ে গিয়ে উঁচু জায়গা থেকে চারপাশ দেখতে পছন্দ করে। তবে স্বভাবে সে কিছুটা চুপচাপও। তুষারধসের পর এমন একটি বিশাল ও দুর্গম এলাকায় তার অবস্থান খুঁজে বের করা যে কঠিন হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল স্বাভাবিকভাবেই। ঘটনার সময় পাডাওয়ার দেশের বাইরে ছিলেন। তাই দূরে থেকেও তিনি লুলুকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম সংগঠিত করেন। নিখোঁজ হওয়ার সময় লুলুর গলায় একটি অ্যাপল এয়ারট্যাগ ছিল। তবে সেই ডিভাইস থাকা সত্ত্বেও প্রথম দফার অনুসন্ধানে কুকুরটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে অনুসন্ধানে যুক্ত হন ২০ জনেরও বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী, পাহাড়ে হাঁটার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি, হেলিকপ্টারচালক এবং ড্রোন পরিচালনাকারীরা। লুলুর এয়ারট্যাগ থেকে পাওয়া সংকেত অনুসন্ধানকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। তবে পাহাড়ি এলাকার দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে সংকেতের অবস্থান ধরে কুকুরটির কাছে পৌঁছানো সহজ ছিল না। প্রাথমিক অবস্থানও প্রকৃত জায়গা থেকে বেশ দূরে ছিল। প্রায় ৫০ ঘণ্টা পর হেলিকপ্টার নিয়ে অনুসন্ধানে বের হন আমান্ডা বার্কার ও ডেভ বেকেট। আকাশ থেকে তুষারে ঢাকা পাহাড়ের গায়ে লুলুকে দেখতে পান তাঁরা। এরপর হেলিকপ্টারটি প্রায় ২০ মিনিটের পথ দূরে অবতরণ করে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে লুলুর কাছে পৌঁছান উদ্ধারকারীরা। উদ্ধারকারীরা কাছে গিয়ে লুলুর নাম ধরে ডাকতেই সে সাড়া দেয়। কুকুরটিকে তখন সজাগ অবস্থায় দেখা যায় এবং সে ঘেউ ঘেউ করছিল। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পরও তাকে জীবিত দেখতে পাওয়া অনুসন্ধানকারীদের জন্য ছিল স্বস্তির মুহূর্ত। পরে তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়। লুলুর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার একটি পায়ের আঙুল ভেঙেছে এবং একটি দাঁতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব আঘাত ছাড়া সে মোটামুটি সুস্থ ছিল। দীর্ঘ সময় তুষারাবৃত পাহাড়ে একা থাকার পরও তার বেঁচে ফেরাকে সৌভাগ্যজনক বলেই মনে করছেন তার মালিক ও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত ব্যক্তিরা। ঘটনার সময় বিদেশে থাকা পাডাওয়ার দূর থেকেই উদ্ধার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। লুলুকে খুঁজে পেতে যাঁরা সাহায্য করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে আমান্ডা বার্কার ও ডেভ বেকেটের সাহস, দক্ষতা এবং আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর ভাষায়, এই কঠিন সময়ে মানুষের সহযোগিতা ও উদারতা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। লুলুর সন্ধান পাওয়ার ঘটনা শুধু তার পরিবারের জন্যই স্বস্তির নয়, উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সবার জন্যও আবেগঘন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশে একটি পোষা প্রাণীকে খুঁজে বের করতে প্রযুক্তির সংকেতের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত চেষ্টা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, এই ঘটনাও তার উদাহরণ।
জাপানে বৃষ্টির মধ্যে কাজে যাওয়ার পথে সাইকেল থেকে পড়ে আহত হয়েছিলেন ভারতীয় নারী সোনম মিধা। কাঁধে আঘাতের পাশাপাশি বেঁকে যায় সাইকেলের হ্যান্ডেল, ভেঙে যায় আইফোনের স্ক্রিনও। কিন্তু সেই দুর্ঘটনার পর এক অপরিচিত জাপানি দোকানির কাছ থেকে পাওয়া মানবিক আচরণই শেষ পর্যন্ত তার কাছে দিনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা হয়ে ওঠে। সোনম জানান, বৃষ্টির মধ্যে সাইকেল চালিয়ে অফিসে যাওয়ার সময় সেটি পিছলে যায়। পড়ে গিয়ে কাঁধে আঘাত পান তিনি। কোনোভাবে অফিসে পৌঁছানোর পর সহকর্মী তাকে প্রাথমিক চিকিৎসায় সহায়তা করেন। দুপুরের বিরতিতে ক্ষতিগ্রস্ত সাইকেলটি নিয়ে কাছের একটি মেরামতের দোকানে যান সোনম। তার ধারণা ছিল, সাইকেল ঠিক করতে ভালো অঙ্কের অর্থ খরচ হবে। কারণ এর আগে শুধু সাইকেলের সিটের অবস্থান ঠিক করতেই তাকে ৫০০ ইয়েন দিতে হয়েছিল বলে জানান তিনি। কিন্তু দোকানে পৌঁছানোর পর ঘটে অন্য ঘটনা।সাইকেল দেখার আগে দোকানি সোনমের আঘাতের দিকে নজর দেন। প্রথমেই জানতে চান, তিনি ঠিক আছেন কি না। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত হ্যান্ডেল ঠিক করে দেন। কাজ শেষে সোনম জাপানি ভাষায় জানতে চান, ‘ইকুরা দেশু কা?’ অর্থাৎ কত টাকা দিতে হবে? দোকানির উত্তর ছিল মাত্র দুটি শব্দ - ‘নো প্রাইস।’ অর্থাৎ কোনো টাকা লাগবে না। বিনা পয়সাতেই সাইকেলটি ঠিক করে দেন তিনি। শুধু তাই নয়, বৃষ্টির মধ্যে কীভাবে আরও নিরাপদে সাইকেল চালাতে হবে, সে বিষয়েও সোনমকে পরামর্শ দেন ওই দোকানি। অপরিচিত একজন মানুষের এমন আচরণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সোনম। তবে শুধু ধন্যবাদ জানিয়ে চলে যেতে চাননি তিনি। কাছের একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁয় গিয়ে দোকানির জন্য খাবার প্যাকেট করেন। এরপর আবার বৃষ্টির মধ্যেই সাইকেল চালিয়ে ফিরে যান সেই দোকানে। সোনমকে আবার দোকানে ঢুকতে দেখে প্রথমে চিন্তিত হয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। সোনমের ধারণা, দোকানি হয়তো ভেবেছিলেন তিনি আবার পড়ে গেছেন কিংবা সাইকেলে নতুন কোনো সমস্যা হয়েছে। কিন্তু সোনম যখন জানান, তার জন্য খাবার নিয়ে এসেছেন, তখন দোকানির প্রতিক্রিয়াও বদলে যায়। সোনমের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার পেয়ে আবেগাপ্লুত ও দৃশ্যত আনন্দিত হয়ে ওঠেন তিনি। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দুই অপরিচিত মানুষের পারস্পরিক এই আচরণ প্রশংসা কুড়াচ্ছে। একজন বিনা পয়সায় সাইকেল ঠিক করে দিয়েছিলেন, অন্যজন সেই আন্তরিকতার জবাব দিয়েছেন নিজের দেশের খাবার দিয়ে। সোনম জানিয়েছেন, দিনটি তার মনে থাকবে সাইকেল দুর্ঘটনা, আহত কাঁধ কিংবা ভাঙা ফোনের জন্য নয় - বরং অপরিচিত একজন মানুষের কাছ থেকে পাওয়া মানবিকতার জন্য। মজার বিষয় হলো, জাপানে সোনমের এমন অভিজ্ঞতা এটিই প্রথম নয়। গত আগস্টে তিনি একটি ব্যাগ হারিয়েছিলেন, যেখানে নগদ অর্থ, বাড়ির চাবি ও দামি মাইক্রোফোনসহ প্রায় এক লাখ রুপির জিনিস ছিল। পরে থানায় গিয়ে জানতে পারেন, অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ব্যাগটি খুঁজে পেয়ে সবকিছু অক্ষত অবস্থায় পুলিশের কাছে জমা দিয়ে গেছেন। সূত্র: সোনম মিধার ইনস্টাগ্রাম পোস্টের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস
গাজায় মঞ্চে উঠলেই তারা অন্য কোনো চরিত্র হয়ে যান—এমন নয়। যে ভয়, শোক, বাস্তুচ্যুতি আর অনিশ্চয়তা নিয়ে তারা প্রতিদিন বেঁচে আছেন, মঞ্চে উঠে সেই জীবনই আবার অভিনয় করতে হয় তাদের। কারও চরিত্র একজন অসহায় বাবা, কারও চরিত্র যু দ্ধের মধ্যে সন্তান জন্ম দিতে যাওয়া এক নারী, আবার কেউ অভিনয় করছেন এমন এক চিকিৎসকের ভূমিকায়, যিনি নিজের সন্তানকে বাঁচাতে পারছেন না। তাই গাজার এই অভিনেতাদের কাছে অভিনয় আর বাস্তব জীবনের সীমারেখা যেন প্রায় মুছে গেছে। এই বাস্তবতাকে মঞ্চে তুলে ধরতেই তৈরি হয়েছে ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ নাটক। যুদ্ধের মধ্যেই নাটকটির মহড়া ও মঞ্চায়ন করেছেন আটজন অভিনেতা। তাদের কেউ নিজের বাড়ি হারিয়েছেন, কেউ পরিবারের সদস্য হারিয়েছেন, কেউ আবার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আশ্রয় বদলেছেন। মঞ্চে তারা যে গল্প বলেন, তার অনেকটাই তাদের নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিলে যায়। ৪২ বছর বয়সী আবু কুসাই কাদ্দুরার দিন শুরু হয় ভোর ৬টার দিকে। গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকা কাদ্দুরা রান্না ও গরম থাকার জন্য জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করেন। এক কেজি কাঠের দাম প্রায় ৭ শেকেল বা ২ ডলার। সামর্থ্য না থাকলে ধ্বং স হয়ে যাওয়া বাড়ির কাঠ, কার্ডবোর্ড কিংবা অন্য কিছু সংগ্রহ করে আগুন জ্বালাতে হয় তাকে। পরিবারের জন্য খাবার রান্না ও আগুন জ্বালানোর পর হাতে লেগে থাকা কালো ছাই ধুয়ে ফেলেন কাদ্দুরা। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা হেঁটে তাকে যেতে হয় মহড়ার জায়গায়। ধ্বং স স্তূপে ভরা প্রধান সড়ক এড়িয়ে পাশের রাস্তা দিয়ে তিনি গাজা সিটির রাশাদ আল-শাওয়া সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাছে পৌঁছান। সেখানে অস্থায়ী কাপড় ও প্লাস্টিকের তাঁবুর ভেতর চলছে নাটকের মহড়া। কাদ্দুরার চরিত্র একজন চিকিৎসকের। যুদ্ধের মধ্যে একটি হাসপাতালে আটকা পড়া সেই চিকিৎসককে নিজের সন্তানকে বাঁচাতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কোলে থাকা শিশুটির পা কেটে ফেলতে হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত শিশুটি মা রা যায়। দৃশ্যটি অভিনয়ের হলেও এর পেছনে রয়েছে গাজার এক বাবার বাস্তব অভিজ্ঞতা। তাই শিশুটিকে কোলে নেওয়ার সময় নিজের সন্তানদের কথাই মনে পড়ে কাদ্দুরার। মঞ্চে চরিত্রটি ধরে রাখতে পারলেও একপর্যায়ে নিজের সন্তানদের কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। প্রায় ১৫ মিনিট এক পাশে বসে থাকার পর আবার মহড়ায় ফিরতে হয় তাকে। যু দ্ধের আগে কাদ্দুরা ক্যামেরার পেছনে কাজ করতেন। স্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে প্রোডাকশন ম্যানেজার ও সাউন্ড টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু উত্তর গাজার আল-তাওয়ামে ই স রা য়ে লি হামলায় তার বাড়ি ধ্বং স হয়ে যায়। এখন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ভাড়া করা একটি বাড়ির ছাদে প্লাস্টিকের ত্রিপলের নিচে একটি কক্ষে বসবাস করছেন তিনি। ধ্বং স স্তূপ থেকেই তৈরি নাটকের মঞ্চ নাটকটির পরিচালক আলী আবু ইয়াসিন গাজায় প্রায় ৩৭ বছর ধরে অভিনেতা, নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। তার নাটক গাজার বাইরেও মঞ্চস্থ হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ যু দ্ধে গাজার সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বং স হয়েছে। ইউনেস্কোর হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গাজায় ১৬৪টি সাংস্কৃতিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক ও শিল্প-সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন ১২৮টি ভবন রয়েছে। থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আবু ইয়াসিনের সামনে প্রশ্ন ছিল—নাটক তৈরি হবে কোথায়? শেষ পর্যন্ত উত্তর খুঁজে নেওয়া হয় তাঁবু, ধ্বং স স্তূপ আর অস্থায়ী জায়গার মধ্যেই। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ নাটকের কাজ শুরু হয় একটি নাট্যলেখার কর্মশালা হিসেবে। শুরুতে ১৪ জন তরুণ-তরুণীর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও যু দ্ধের কারণে কেউ আ হ ত হন, কেউ বাস্তুচ্যুত হন, আবার কেউ চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে চলে যান। শেষ পর্যন্ত আটজন এই নাটকটি মঞ্চে নিয়ে আসেন। প্রথম দিকে অস্থায়ী কাপড় ও প্লাস্টিকের তাঁবুতে মহড়া হয়েছে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ছোট কক্ষে চলে যায় মহড়া। বিদ্যুৎ ছিল অনিয়মিত, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও ছিল সীমিত। সেট তৈরির জন্য নতুন কাঠ কেনার সুযোগ না থাকায় তাঁবুর ক্ষতিগ্রস্ত কাপড় ও পাওয়া কাঠের টুকরো ব্যবহার করেন অভিনেতারাই। পরিচালক আবু ইয়াসিনের ভাষায়, নাটকটি যেন ধ্বং স স্তূপের নিচ থেকেই উঠে এসেছে। বাস্তব জীবনের ভয়ই হয়ে উঠেছে অভিনয়ের অংশ অভিনেত্রী ইমান ওদা নাটকে হানিন নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর চরিত্রে অভিনয় করেন। নয় বছর অপেক্ষার পর সন্তান ধারণ করা হানিন যু দ্ধের মধ্যে একটি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করছে—এটাই তার চরিত্র। একদিন মহড়ার মাঝেই কাছাকাছি বি স্ফো রণ ঘটে। ভবন কেঁপে ওঠে, ধুলা ঢুকে পড়ে মহড়ার জায়গায়। অভিনেতারা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান। এরপর প্রায় সবাই প্রথমে ফোন হাতে নেন—পরিবার নিরাপদে আছে কি না, সেটি জানার জন্য। ওদা বলেন, যু দ্ধ তাদের শুধু অভিনয়ের গল্প দেয়নি, আকাশের শব্দ বোঝার অভিজ্ঞতাও দিয়েছে। হেলিকপ্টার বা নজরদারি ড্রোনের শব্দ শুনলে তাদের মধ্যে ভয় তৈরি হয়। তবু অনেক সময় সেই শব্দের মধ্যেই মহড়া চালিয়ে যেতে হয়। ওদার নিজের বাবার নাম ছিল ইউসুফ। যু দ্ধের সময় তিনি মা রা যান। পরে যে কবরস্থানে তাকে দা ফ ন করা হয়েছিল, সেটিও বুলডোজার দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিবার তার কবরের অবস্থান আর খুঁজে পায়নি। তাই নাটকে ‘নিখোঁজ ইউসুফ’ নামের একটি চরিত্রের কথা উঠতেই ওদা কান্নায় ভেঙে পড়েন। আরেক অভিনেতা তামের নাজমের জীবনও নাটকের গল্পের সঙ্গে মিশে গেছে। নাটকে তিনি খালেদ নামে এমন এক বাবার চরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি বহু বছর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করার পর যু দ্ধের মধ্যে হাসপাতালে আটকা পড়েন। বাস্তব জীবনেও নাজমের নিজের বাড়ি ধ্বং স হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে তাকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আশ্রয় নিতে হয়েছে। বন্ধুর বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি, রাস্তার পাশ কিংবা তাঁবু—বিভিন্ন জায়গায় দিন কাটিয়েছেন তারা। যু দ্ধের মধ্যেই তাদের দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেয়। তাই মঞ্চে খালেদের চরিত্রে অভিনয় করার সময় নাজমের নিজের জীবনই সামনে চলে আসে। স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে নিয়ে বাস্তবে যে ভয় তিনি অনুভব করেছেন, মঞ্চে সেই ভয়ই আবার অভিনয় করতে হয় তাকে। অবশেষে মিলল একটি থিয়েটার অনেক বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত গাজা সিটির আল-ওয়েহদা স্ট্রিটের এ এম কাত্তান ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নাটকটির মঞ্চায়নের সুযোগ হয়। কয়েক মাস তাঁবু, খোলা জায়গা ও ছোট কক্ষে মহড়া করার পর অবশেষে তারা একটি থিয়েটার মঞ্চে ফিরতে পারেন। ১৯ জুলাই প্রথমবার দর্শকদের সামনে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। প্রায় ১৫০ আসনের হলটি দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায়। প্রবেশ ছিল বিনামূল্যে। মঞ্চে ওঠার আগে অভিনেতাদের ভ য় ছিল—বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে, আশপাশে হামলা হতে পারে কিংবা মাঝপথে নাটক বন্ধ করে দিতে হতে পারে। জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক বা মেকআপের ব্যবস্থাও ছিল না। বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু থেকে পাওয়া সাধারণ পোশাক এবং মোবাইল ফোনের আলোয় যতটুকু সম্ভব, সেটুকু দিয়েই প্রস্তুতি নেন তারা। এরপর আলো নিভে যায়। কাদ্দুরা মঞ্চে চিকিৎসক হয়ে ওঠেন, ওদা হয়ে যান যু দ্ধের মধ্যে সন্তান জন্ম দিতে যাওয়া হানিন, আর নাজম অভিনয় করেন পরিবারকে হারানোর আতঙ্কে থাকা খালেদের চরিত্রে। ৫০ মিনিট ধরে মঞ্চে চলতে থাকে গাজার মানুষের যু দ্ধকালীন জীবনের নানা প্রতিচ্ছবি। দর্শকদের মধ্যে ছিলেন নাজমের পাঁচ বছরের মেয়েও। মঞ্চে বাবাকে ধুলায় ঢাকা ও ছেঁড়া পোশাকে দেখে সে কেঁদে ফেলে। পরে বাবাকে জানায়, মঞ্চে তার কান্না দেখে মনে হয়েছে তিনি যেন বাড়িতেও একইভাবে দুশ্চিন্তা করেন। পরবর্তীতে নাটকটি গাজার বিভিন্ন এলাকায় মঞ্চস্থ করা হয়। দারাজ, দেইর আল-বালাহ, নুসেইরাত ও খান ইউনিসে এর প্রদর্শনী হয়। খান ইউনিসের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের হলেই পাঁচ শতাধিক মানুষ নাটকটি দেখেন। পরিচালক আলী আবু ইয়াসিনের কাছে এই নাটক শুধু বিনোদন নয়। তার মতে, থিয়েটার ধ্বং স করা গেলেও মানুষের গল্প, অভিনয় ও সৃষ্টিশীলতাকে পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া যায় না। তাই থিয়েটার হল না থাকলেও রাস্তা বা অন্য কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে নাটক করা সম্ভব। মঞ্চের আলো নিভে যাওয়ার পরও অবশ্য অভিনেতাদের গল্প শেষ হয় না। কাদ্দুরা পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ির দিকে ফেরেন। সাত বছরের মেয়ে শাম ঘুমিয়ে পড়ায় তাকে কোলে করে নিয়ে হাঁটতে হয়। রাতের অন্ধকারে পথ দেখাতে পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করেন। দূরে তখনও বি স্ফো রণের শব্দ শোনা যায়। ছাদে থাকা ছোট ঘরে পৌঁছে শামকে শুইয়ে দেন কাদ্দুরা। অন্য সন্তানরা তখনও খাবারের অপেক্ষায়। দিনের শুরুতে যে আগুন জ্বালিয়েছিলেন পরিবারের জন্য, রাতেও সেই আগুনের কাছেই ফিরে আসেন তিনি। আবার আগুন জ্বালান কাদ্দুরা। এরপর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সন্তানদের জন্য রাতের খাবার রান্না শুরু করেন। মঞ্চে ৫০ মিনিটের অভিনয় শেষ হলেও বাস্তব জীবনের সেই গল্প থেকে যায়। কারণ গাজার এই অভিনেতাদের কাছে পর্দা নামলেও যু দ্ধের বাস্তবতা থামে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের জোয়েল ওয়েগেনার চেয়েছিলেন, তাঁর দুই সন্তান মেরি ও জশ যেন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করতে পারে। ডাউন সিনড্রোম নিয়ে বেড়ে ওঠা সন্তানদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে পাওয়া কঠিন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই তৈরি করেন একটি নতুন পথ। পুরোনো একটি আইসক্রিম ট্রাক কিনে সন্তানদের নিয়ে শুরু করেন পারিবারিক ব্যবসা ‘স্পেশাল নিট ট্রিটস’। ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের পেছনে শুধু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছিল না। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর মেয়ে মেরি কেট কী ধরনের কাজ করতে পারবে, তা নিয়ে পরিবারে চিন্তা তৈরি হয়েছিল। প্রচলিত কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন সক্ষমতার মানুষের জন্য উপযুক্ত সুযোগ সীমিত হওয়ায় জোয়েল সিদ্ধান্ত নেন, অপেক্ষা না করে সন্তানদের জন্য নিজেরাই একটি কর্মক্ষেত্র তৈরি করবেন। এরপর ইন্ডিয়ানার একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরিবারের কাছ থেকে ব্যবহৃত একটি আইসক্রিম ট্রাক কিনে সেটি মেরামত করেন জোয়েল। সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন আইসক্রিম বিক্রির কাজ। ছোট পরিসরে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এই উদ্যোগ হয়ে ওঠে মেরি ও জশের বাস্তব কর্মজীবনের প্রশিক্ষণের জায়গা। আইসক্রিম বিক্রির মাধ্যমে প্রতিদিনই নতুন কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা। গ্রাহকের কাছ থেকে অর্ডার নেওয়া, টাকা সামলানো, প্রশ্ন করা, মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং সামাজিক যোগাযোগ—এসব দক্ষতা কাজ করতে করতেই অনুশীলন করছেন মেরি ও জশ। জোয়েলের মতে, সন্তানদের জন্য এই উদ্যোগ শুধু একটি কাজের সুযোগ তৈরি করেনি, বরং তাঁদের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে। মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ফলে তাঁরা নিজেদের আরও স্বচ্ছন্দভাবে প্রকাশ করতে পারছেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব নেওয়া ও নিয়মিত কাজ করার অভ্যাসও তৈরি হচ্ছে। ওহাইওর লোভল্যান্ড এলাকায় শুরু হওয়া ‘স্পেশাল নিট ট্রিটস’ পরে বৃহত্তর সিনসিনাটি অঞ্চলেও পরিচিত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, স্কুল এবং কমিউনিটি আয়োজনে আইসক্রিম বিক্রি করতে দেখা যায় ওয়েগেনার পরিবারকে। ২০২১ সালের প্রথম কয়েক মাসেই তাঁদের বিক্রি প্রায় ৫ হাজার আইসক্রিমে পৌঁছেছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এক প্রতিবেদনে মোট বিক্রি ১০ হাজারের বেশি ট্রিটে পৌঁছানোর কথা বলা হয়। তবে জোয়েলের কাছে এই ব্যবসার সাফল্য শুধু বিক্রির হিসাব দিয়ে মাপার বিষয় নয়। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল সন্তানদের এমন একটি পরিবেশ দেওয়া, যেখানে তাঁরা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগাতে পারবেন এবং অন্যদের সঙ্গে সমানভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান নিয়েও একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন জোয়েল। তাঁর বিশ্বাস, উপযুক্ত পরিবেশ, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে ভিন্ন সক্ষমতার মানুষও কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। মেরি ও জশের গল্প তাই শুধু একটি আইসক্রিম ব্যবসার গল্প নয়। এটি এমন এক বাবার গল্প, যিনি সন্তানদের জন্য সুযোগের অপেক্ষা না করে নিজেরাই সেই সুযোগ তৈরি করেছেন। একটি পুরোনো আইসক্রিম ট্রাক তাঁদের কাছে হয়ে উঠেছে কাজ শেখা, আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের একটি নতুন দরজা।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের লাকোটা ইস্ট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রব বার্নসাইড জানতে পারেন, তার শিক্ষার্থী ল্যান্ডেরিয়াস ‘ডিডি’ হেইস অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মায়ের সঙ্গে থাকা সম্ভব ছিল না, আর বাবার মোবাইল হোমে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়লে কখনো গাড়িতে হিটার চালিয়ে রাত কাটাত ডিডি। তবুও সে স্কুলে যাওয়া চালিয়ে যাচ্ছিল। ডিডির জুনিয়র বছরে স্কুলে একটি চিঠি আসে। সেখানে জানানো হয়, তার মা নতুন ঠিকানায় চলে গেছেন এবং সেই ঠিকানা স্কুল জেলার বাইরে। জেলা কর্তৃপক্ষের অবস্থান ছিল, ডিডি আর লাকোটা ইস্টে পড়তে পারবে না। কিন্তু বার্নসাইড শুধু কাগজপত্রের ভিত্তিতে তাকে স্কুল থেকে বাদ দিতে রাজি হননি। তিনি ডিডিকে স্কুলে আসতে দেন। এরপর বার্নসাইডকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয় এবং তার সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ৩১ বছরের শিক্ষাজীবনের পর তিনি প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে চাকরি হারানোর পরও নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো আফসোস নেই। তিনি বলেন, একজন তরুণের জীবনের মূল্য দিয়ে কোনো কিছু পরিমাপ করা যায় না। এর মধ্যেই বার্নসাইড তার স্ত্রী অ্যাঞ্জেলকে ডিডির পরিস্থিতির কথা জানান। অ্যাঞ্জেল তাকে তাদের সঙ্গে থাকার প্রস্তাব দেন। ডিডির মায়ের সম্মতিতে সে বার্নসাইড পরিবারের সঙ্গে থাকতে শুরু করে। পরে রব ও অ্যাঞ্জেল তার আইনি অভিভাবক হন। ডিডি পরে নতুন একটি স্কুল থেকে ২০২৬ সালের মে মাসে হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করে। সেই অনুষ্ঠানে দর্শকসারিতে ছিলেন রব ও অ্যাঞ্জেল - যাদের ডিডি এখন ‘পপস’ ও ‘মা’ বলে ডাকে। বার্নসাইড পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কও এখন অনেকটা নিজের পরিবারের মতো; বার্নসাইড দম্পতির অন্য সন্তানরাও তাকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করেছে। ডিডির সামনে এখন নতুন লক্ষ্য - এভিয়েশন মেকানিক হওয়া। অন্যদিকে, বার্নসাইডের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষ অধ্যায়টি চাকরি হারানোর মধ্য দিয়ে হলেও, তার একটি সিদ্ধান্ত একজন গৃহহীন তরুণকে দিয়েছে নিরাপদ একটি পরিবার, স্থিতিশীল পরিবেশ এবং নতুন ভবিষ্যতের সুযোগ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার মনেটার বাসিন্দা মেলিনা নিউকম্ব ২০১৯ সালে ক্যানসারে হারিয়েছেন তার ১৯ বছর বয়সী ছেলে লেভিকে। দীর্ঘদিন ধরে ছেলেকে হারানোর শোক বয়ে বেড়ানো এই মা সম্প্রতি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে একটি চিঠি লেখেন। বাইডেনের নিজেরও সন্তান হারানোর বেদনা রয়েছে—তার ছেলে বিউ বাইডেন ২০১৫ সালে মস্তিষ্কের ক্যানসারে মারা যান। নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে বাইডেনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেই চিঠিটি লিখেছিলেন মেলিনা। লেভির বয়স যখন মাত্র চার বছর, তখন তার শরীরে স্টেজ-৪ হাই-রিস্ক মেডুলোব্লাস্টোমা ধরা পড়ে। এটি মস্তিষ্কের একটি মারাত্মক ধরনের টিউমার। অস্ত্রোপচারের পর লেভিকে আবার গিলতে, কথা বলতে, হামাগুড়ি দিতে ও হাঁটতে শিখতে হয়েছিল। পাশাপাশি চলেছে রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপি। দীর্ঘ ১৪ বছর চিকিৎসার পর পরিবারটি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কিছুটা সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে জয়ী হতে পারেনি লেভি। ২০১৮ সালে চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, লেভির শরীরে আরেক ধরনের ক্যানসার তৈরি হয়েছে। এবার তার শরীরে ধরা পড়ে আনডিফারেনশিয়েটেড সারকোমা। ছোটবেলায় নেওয়া রেডিয়েশন চিকিৎসার কারণেই এই দ্বিতীয় ক্যানসার তৈরি হয়েছিল বলে জানান তার মা। ২০১৯ সালের বড়দিনের মাত্র চার দিন পর মারা যায় লেভি। ছেলেকে হারানোর পর থেকে মেলিনার জীবনে নেমে আসে গভীর শোক। প্রায় সাত বছর পরও প্রতিদিন ছেলের কথা মনে পড়ে বলে জানিয়েছেন তিনি। মেলিনা বলেন, লেভিকে নিয়ে চাইলে তিনি পুরো একটি বই লিখতে পারেন। স্কুলে প্রতি বছর ‘সিটিজেনশিপ অ্যাওয়ার্ড’ জিতত লেভি, আর তার মৃত্যুর পর স্কুল কর্তৃপক্ষ পুরস্কারটির নাম বদলে ‘লেভি মায়ো অ্যাওয়ার্ড’ রাখে। সুপারহিরো, মজার বাবার কৌতুক, ফ্রাইড চিকেন ও পরিবারের সদস্যদের খুব ভালোবাসত সে। ছেলের এসব স্মৃতি আজও মেলিনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। এদিকে বাইডেনের ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার খবর জানার পর মেলিনা মনে করেন, তার সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্টের একটি বিশেষ জায়গায় মিল রয়েছে। দুজনেই ক্যানসারে সন্তান হারানোর শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে বাইডেনের দপ্তর জানিয়েছিল, তার প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়েছে এবং তা হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থ্রেডসে বাইডেনের জন্য শুভকামনা পাঠানোর সুযোগের কথা জানতে পারেন মেলিনা। গত ২০ আগস্ট বাইডেনকে একটি বার্তা পাঠান মেলিনা। সেখানে তিনি জানান, তার জন্য প্রার্থনা করছেন এবং ক্যানসারে সন্তান হারানোর একই ধরনের শোক তারা দুজনেই অনুভব করেন। তবে বার্তা পাঠানোর সময় তিনি কল্পনাও করেননি যে বাইডেন নিজে তাকে উত্তর দেবেন। কিন্তু মাত্র পাঁচ দিন পর নিজের ইনবক্সে একটি উত্তর দেখতে পান তিনি। উত্তরে বাইডেন মেলিনার প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ছেলেকে হারানোর কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মেলিনা যেন তার শোকের সময়েও সান্ত্বনা খুঁজে পান এবং তিনি তার জন্য প্রার্থনা করছেন। বাইডেন আরও লেখেন, জীবনের ভবিষ্যৎ কী নিয়ে আসবে তা আগে থেকে জানা সম্ভব নয়, তবে মানুষ আলো, আশা ও ভালোবাসায় ভরা জীবন খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। বাইডেনের বার্তায় আরও বলা হয়, শোক কাটিয়ে উঠতে হয়তো অনেক সময় লাগতে পারে। তবে ছেলের সঙ্গে মেলিনার যে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল, সেটি কোনোদিন হারিয়ে যাবে না—এই ভালোবাসাই তার সঙ্গে সবসময় থাকবে। অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া এই ব্যক্তিগত বার্তা মেলিনার কাছে হয়ে উঠেছে বিশেষ এক মুহূর্ত। ছেলেকে হারানোর দীর্ঘ শোকের মধ্যে বাইডেনের কাছ থেকে পাওয়া এই কথাগুলো তাকে নতুন করে স্পর্শ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।