সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

শ্রমিক অধিকার

মার্কিন কংগ্রেসে ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলার করার প্রস্তাব নিয়ে শ্রমিকদের আয় ও কর্মসংস্থানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিতর্ক চলছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলার করার উদ্যোগ, বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল পর্যায়ে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ৭ ডলার ২৫ সেন্ট থেকে বাড়িয়ে ২৫ ডলার করার একটি প্রস্তাব কংগ্রেসে আটকে আছে। ‘লিভিং ওয়েজ ফর অল অ্যাক্ট’ নামে এ বিলটি পাস হলে কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে প্রস্তাবটি এখনো প্রতিনিধি পরিষদের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে শুনানির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। চলতি কংগ্রেসের অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে বিলটি নিয়ে অগ্রগতি না হলে এর ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।   ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ গত ২৮ এপ্রিল প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি উত্থাপন করেন। এর নম্বর এইচআর ৮৫৫৫। প্রস্তাব অনুযায়ী, বড় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ২০৩১ সালের মধ্যে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, তুলনামূলক ছোট নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য ২০৩৮ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সব প্রতিষ্ঠানের ওপর একসঙ্গে বাড়তি মজুরির চাপ না দিয়ে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ৭ ডলার ২৫ সেন্ট। ২০০৯ সালের পর থেকে এ হার বাড়ানো হয়নি। যদিও দেশটির বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার ফেডারেল হারের চেয়ে বেশি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছে, তবু জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। বিলটির সমর্থকদের বক্তব্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে অনেক কর্মীর পক্ষে বাসাভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও যাতায়াতের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।   রামিরেজ বিলটি উত্থাপনের সময় বলেন, একদিকে বড় কোম্পানিগুলো রেকর্ড পরিমাণ মুনাফার কথা জানাচ্ছে, অন্যদিকে অনেক কর্মজীবী মানুষ দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাঁর মতে, শুধু চাকরি থাকলেই চলবে না, সেই চাকরি থেকে পাওয়া আয় দিয়ে মৌলিক চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও মজুরির মধ্যে ব্যবধান কমানোই এ প্রস্তাবের অন্যতম উদ্দেশ্য।   বিলে বড় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান বলতে বছরে অন্তত ১০০ কোটি ডলার আয় করে এমন প্রতিষ্ঠান অথবা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অন্তত ৫০০ কর্মী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য মজুরি বাড়ানোর পৃথক বার্ষিক লক্ষ্য থাকবে। অন্য নিয়োগদাতাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে মজুরি বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রস্তাবটির লক্ষ্য হলো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে নির্ধারিত মজুরির পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং ছোট ব্যবসাগুলোকে পরিবর্তনের জন্য বাড়তি সময় দেওয়া।   বিলটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভবিষ্যতে ন্যূনতম মজুরিকে দেশের মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি মজুরির দুই-তৃতীয়াংশের সঙ্গে যুক্ত করা। মধ্যম মজুরি বলতে এমন একটি আয়কে বোঝায়, যার নিচে দেশের অর্ধেক কর্মীর মজুরি এবং ওপরে বাকি অর্ধেক কর্মীর মজুরি থাকে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত অনুপাতে পৌঁছানোর পর দেশের মধ্যম মজুরি পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি বছর তা সমন্বয় করা হবে। এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে মজুরি ও কর্মীদের আয়ের পরিবর্তনের মধ্যে একটি সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কিছু কর্মীর জন্য সাধারণ ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম হারে মজুরি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বকশিশনির্ভর রেস্তোরাঁকর্মী, তরুণ কর্মী এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রতিবন্ধী কর্মী রয়েছেন। প্রস্তাবিত আইনটি এসব পৃথক কম মজুরির ব্যবস্থা ধাপে ধাপে তুলে দেওয়ার কথা বলেছে। বিশেষ করে বকশিশনির্ভর কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাকে সরাসরি যে ন্যূনতম অর্থ দিতে হয়, তা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। শেষ পর্যন্ত কর্মীর বকশিশকে নিয়োগদাতার ন্যূনতম মজুরি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা পূরণের বিকল্প হিসেবে গণনা করার ব্যবস্থাও বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।   বিলটির পক্ষে শ্রমিক সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা সমর্থন জানিয়েছেন। সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়নের সভাপতি এপ্রিল ভেরেটের মতে, কর্মীদের নেতৃত্বে চলা আন্দোলন ন্যায্য ও জীবনধারণের উপযোগী মজুরির দাবিকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, প্রস্তাবটি কর্মীদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য পাওনা ও সম্মানের দাবির প্রতিফলন। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটির ৩২ জন সহ-উদ্যোক্তা রয়েছেন, যাঁরা সবাই ডেমোক্র্যাট দলের সদস্য। তাঁদের মধ্যে মিশিগানের রাশিদা তালিব, ক্যালিফোর্নিয়ার রো খান্না এবং ওয়াশিংটনের প্রমিলা জয়পাল রয়েছেন।   তবে প্রস্তাবটি নিয়ে অর্থনৈতিক উদ্বেগও রয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠন ও কিছু অর্থনীতিবিদের আশঙ্কা, ন্যূনতম মজুরি দ্রুত বাড়লে বিশেষ করে ছোট ব্যবসা ও কম মুনাফার প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমব্যয় বেড়ে যাবে। এর ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগ কমাতে পারে, কর্মঘণ্টা কমাতে পারে অথবা পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। রক্ষণশীল অবস্থানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমপ্লয়মেন্ট পলিসিজ ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণার বরাত দিয়ে ডেইলি সিগন্যাল জানিয়েছে, ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত হলে প্রায় ৫০ লাখ কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এটি গবেষণাভিত্তিক পূর্বাভাস, নিশ্চিত ফল নয়। গবেষণাটি বিশেষ করে আতিথেয়তা খাত এবং ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী কর্মীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বলেছে।   আইনটি এখনো প্রতিনিধি পরিষদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনো শুনানি হয়নি এবং প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের তারিখও নির্ধারিত হয়নি। কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি জুনে একই ধরনের একটি বিল সিনেটে উত্থাপনের কথা জানিয়েছিলেন। তবে সিনেটের প্রস্তাবের সময়সূচি ও ধাপগুলো প্রতিনিধি পরিষদের বিলের সঙ্গে পুরোপুরি এক নয়। ফলে দুই কক্ষের অগ্রগতি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।   বর্তমান ১১৯তম কংগ্রেসের মেয়াদ ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শেষ হবে। তার আগে বিলটি পাস না হলে পরবর্তী কংগ্রেসে নতুন করে উত্থাপন করতে হবে। রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসে প্রস্তাবটি কতটা সমর্থন পাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাবটি আপাতত আইন হওয়ার চেয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্কের বিষয় হিসেবেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।   সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রকাশনা দপ্তর, ওয়াশিংটন পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
ঘণ্টাপ্রতি সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে আলামেডা কাউন্টি। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার এক কাউন্টিতে ঘণ্টাপ্রতি ৩০ ডলার সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণের পথে, হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যালামেডা কাউন্টিতে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি বাড়িয়ে ঘণ্টায় ৩০ ডলার করার একটি নজিরবিহীন প্রস্তাব বিবেচনা করছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে এটিই হবে পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো কাউন্টি বা অঞ্চলের জন্য সর্বোচ্চ সর্বনিম্ন মজুরি। জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির কষাঘাত থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতেই এমন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   অ্যালামেডা কাউন্টি বোর্ড অব সুপারভাইজারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই প্রস্তাবটির ভবিষ্যৎ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবটির বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য কর্মকর্তাদের সামনে বর্তমানে তিনটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, বোর্ড সরাসরি এই পরিপত্রটি গ্রহণ করে অবিলম্বে আইনে রূপান্তর করতে পারে। দ্বিতীয়ত, প্রস্তাবটি সরাসরি সাধারণ মানুষের ভোটের জন্য আগামী নভেম্বর মাসের ব্যালটে পাঠাতে পারে। অথবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রস্তাবটির সম্ভাব্য সার্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব পর্যালোচনা করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য কাউন্টির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিতে পারে।   "সবার জন্য সম্মানজনক মজুরি" বা 'লিভিং ওয়েজ ফর অল' শীর্ষক এই সামাজিক আন্দোলনের পক্ষে ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে। কাউন্টির অন্তর্ভুক্ত অসংগঠিত বা অননুমোদিত অঞ্চলগুলো থেকে এই প্রস্তাবের পক্ষে ১ লাখেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। বিপুল সংখ্যক নাগরিকের এই সমর্থন প্রশাসনকে প্রস্তাবটি গভীরভাবে বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।   শ্রমিক অধিকার বিষয়ক সংগঠন 'ওয়ান ফেয়ার ওয়েজ'-এর প্রেসিডেন্ট সারু জয়রামন এই প্রস্তাবের পক্ষে জনমতের শক্তি তুলে ধরে জানান, সাধারণত বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থ ঢেলে যেসব রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রস্তাব ব্যালটে তোলে, এটি সেভাবে তৈরি হয়নি। এটি সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের নিজেদের আন্দোলন, যারা ঘরে ঘরে গিয়ে প্রতিটি মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে এই গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন। অ্যালামেডা কাউন্টিতে জীবনধারণের বাস্তব খরচ ঠিক কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা এই ১ লাখেরও বেশি স্বাক্ষরকারী খুব ভালোভাবে অনুধাবন করতে পেরেছেন বলেই তারা এতে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।   মূলত সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া অঞ্চলে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি এবং চড়া সুদের হারের কারণে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ জীবনযাপনে মারাত্মক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গবেষক ও অধিকারকর্মীরা তুলে ধরেন যে, বৈশ্বিক মহামারীর পর থেকে বিগত ছয় বছরে মূল্যস্ফীতির হার গত ৭৫ বছরের গড় হারকে দ্বিগুণেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। ফলে আগের অর্জিত আয় দিয়ে বর্তমান বাজারদরে দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা মেটানো সাধারণ পরিবারের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।   বর্তমানে অ্যালামেডা কাউন্টির ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত রয়েছে ঘণ্টায় ১৬.৯০ ডলার। নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এই হার এক লাফেই প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩০ ডলারে গিয়ে পৌঁছাবে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ওপর যেন হঠাৎ অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে, সে জন্য প্রস্তাবটিতে একটি ধাপভিত্তিক বাস্তবায়ন পর্যায় রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১০০ জন বা তার বেশি কর্মচারী রয়েছে, তাদের আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই ৩০ ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। আর তুলনামূলক ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নতুন মজুরি কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য ১০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময়সীমা দেওয়া হবে।   কেবল অ্যালামেডা কাউন্টিই নয়, পার্শ্ববর্তী ওকল্যান্ড শহরেও সমান্তরালভাবে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওকল্যান্ডেও আগামী নভেম্বর মাসের ব্যালটে 'লিভিং ওয়েজ ফর অল' সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উত্থাপনের জোর প্রস্তুতি চলছে। যদি ওকল্যান্ডের সাধারণ ভোটাররা এই প্রস্তাব সমর্থন করেন, তবে সেখানেও বর্তমানের ১৭.২৪ ডলারের ন্যূনতম মজুরি পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে ৩০ ডলারে উন্নীত করা হবে। এই আইন বাস্তবায়িত হলে তা সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বাজারে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেবে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
এআই এর কাছে চাকরি হারানোর ভয়: সুরক্ষার দাবিতে সোচ্চার মার্কিন শ্রমিকরা

বর্তমান সময়ে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার হু হু করে বাড়ছে। তবে এই প্রযুক্তি মানুষের কাজ সহজ করার বদলে উল্টো চাকরি কেড়ে নেবে কি না সেই আতঙ্ক এখন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকদের মধ্যে তুঙ্গে। এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৯৩ শতাংশের বেশি শ্রমিক এআই নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন চান। তারা মনে করেন, মালিকপক্ষ বা বড় প্রযুক্তি কোম্পানির চেয়ে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোই তাদের অধিকার রক্ষা করতে পারবে।   জরিপে অংশ নেওয়া ৯৫ শতাংশ কর্মীর স্পষ্ট দাবি চাকরি থেকে ছাঁটাই বা পদোন্নতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো যন্ত্র বা এআই নেবে না, এটি নিতে হবে একজন মানুষকে। এ ছাড়া ৯২ শতাংশ কর্মী চান কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা। অবাক করার মতো তথ্য হলো, বর্তমানে মাত্র ৭ শতাংশ কর্মী জানেন যে তাদের মালিকপক্ষ এআই ব্যবহার করে তাদের ওপর নজরদারি করছে কি না। এই লুকোচুরি বন্ধ করার দাবি তুলেছেন কর্মীরা।   শ্রমিকদের এই উদ্বেগের প্রধান কারণ হলো খরচ কমানোর দোহাই দিয়ে এআই-এর মাধ্যমে কর্মী ছাঁটাইয়ের চেষ্টা। ইতিমধ্যে গণমাধ্যম এবং স্বাস্থ্যখাতের কর্মীরা তাদের চুক্তিতে এআই সুরক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করার লড়াই শুরু করেছেন। নার্সদের অভিযোগ, অনেক হাসপাতালে রোগীর অনুমতি ছাড়াই এআই দিয়ে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা বড় ধরণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাদের দাবি, মানুষের বিচারবুদ্ধি যেন কোনো রোবটের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা না হয়।   শ্রমিকদের সুরক্ষায় কার ওপর সবচেয়ে বেশি ভরসা করা যায় এমন প্রশ্নে ৩৯ শতাংশ কর্মীই বেছে নিয়েছেন শ্রমিক ইউনিয়নকে। ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান কোনো রাজনৈতিক দলের চেয়েও তারা নিজেদের সংগঠনের ওপর বেশি বিশ্বাস রাখছেন। ইউনিয়ন নেতাদের মতে, এই জরিপের ফলাফল প্রমাণ করে যে এআই-এর এই যুগে মানুষ তাদের কাজের নিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষায় এখন অনেক বেশি সচেতন।

তাবাস্সুম মে ১১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০