সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সহায়তা

৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার কর্মসূচি চালু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
নার্সিং হোমে চাকরি করেন? ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মসূচিতে পেতে পারেন ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা

যুক্তরাষ্ট্রের নার্সিং হোমে কর্মরত যোগ্য নার্সদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার কর্মসূচি চালু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। গত ২৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্র (সিএমএস) এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর যৌথ উদ্যোগে ২৭৫ মিলিয়ন ডলারের এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর লক্ষ্য নার্সিং হোমগুলোতে কর্মীসংকট কমানো, নার্স নিয়োগ বাড়ানো এবং অভিজ্ঞ নার্সদের পেশায় ধরে রাখা।    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ৪ হাজারের বেশি নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থীকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পাওয়ার সুযোগটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত পূরণকারী নার্সদের জন্য, নার্সিং হোমের সব কর্মীর জন্য নয়।   নার্সেস ফর নার্সিং হোমস’ নামের এই কর্মসূচিতে যোগ্য নিবন্ধিত নার্স (আরএন) এবং লাইসেন্সধারী প্র্যাকটিক্যাল বা ভোকেশনাল নার্স (এলপিএন/এলভিএন) সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত শিক্ষাঋণ পরিশোধের সহায়তা এবং ১০ হাজার ডলার ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে প্রত্যেক আবেদনকারী পুরো ৫০ হাজার ডলার পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই।   সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করবে আবেদনকারীর যোগ্যতা, শিক্ষাঋণ এবং কর্মসূচির নির্ধারিত শর্তের ওপর। অর্থ একবারে দেওয়া হবে না; যোগ্যতা বজায় রেখে নির্ধারিত কর্মস্থলে কাজ করার সময় তিন বছর ধরে প্রতি তিন মাস অন্তর কিস্তিতে অর্থ প্রদান করা হবে।   এই সহায়তা পেতে হলে যোগ্য নার্সিং হোমে চাকরি করতে হবে এবং সেখানে তিন বছর কাজ করার অঙ্গীকার করতে হবে। সপ্তাহে গড়ে অন্তত ৩০ ঘণ্টা কাজ করার শর্তও রয়েছে। কর্মসূচির আওতায় অঙ্গরাজ্যের নির্দিষ্ট কিছু নার্সিং হোম পরিদর্শকের পদও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষাঋণ পরিশোধের সহায়তা পেতে হলে যোগ্য শিক্ষাঋণ থাকতে হবে। যাঁদের যোগ্য শিক্ষাঋণ নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক স্নাতক হওয়ার মতো বিকল্প শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।   নার্সিং হোমে সার্টিফায়েড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট (সিএনএ) বা অন্যান্য সহায়ক পদে কাজ করেন, এমন ব্যক্তিরা শুধু ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার কারণে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলারের এই আর্থিক প্রণোদনার যোগ্য হবেন না। তবে সিএমএসের বৃহত্তর নার্সিং হোম কর্মীসংকট মোকাবিলার উদ্যোগে নার্সিং সহকারীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে নার্সিং পেশায় প্রবেশ করতে আগ্রহীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের পৃথক সুযোগ তৈরি হতে পারে।   এই কর্মসূচির জন্য মোট ২৭৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিএমএস দিচ্ছে ১০০ মিলিয়ন ডলার এবং অঙ্গরাজ্যগুলো দিচ্ছে আরও ১৭৫ মিলিয়ন ডলার। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা এবং যেখানে নার্সের ঘাটতি বেশি, সেসব নার্সিং হোমে কর্মী নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যায় নার্সিং হোমগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পর্যাপ্ত নার্স না থাকলে বাসিন্দাদের নিয়মিত পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে নার্স নিয়োগ ও ধরে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   আগ্রহী নার্সরা সিএমএসের ‘নার্সেস ফর নার্সিং হোমস’ কর্মসূচির সরকারি আবেদন পোর্টালে নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর লাইসেন্স, চাকরির স্থান, কর্মঘণ্টা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষাঋণের তথ্য যাচাই করা হবে। আবেদন শুরু করার আগে নির্ধারিত যোগ্যতা ও তিন বছরের কর্ম-অঙ্গীকারের শর্ত ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
বাড়ির দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাড়ি কিনতে চান? সরকার দেবে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের একটি বাড়ির স্বপ্ন অনেক অভিবাসী পরিবারের কাছেই বড় লক্ষ্য। তবে পর্যাপ্ত সঞ্চয় বা ডাউন পেমেন্টের অর্থ জোগাড় করতে না পারায় অনেকেই সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে, যার সুবিধা যোগ্য বাংলাদেশি-আমেরিকানরাও নিতে পারেন।   যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঋণ ও সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি ‘ডাউন পেমেন্ট রিসোর্স’-এর ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশজুড়ে হাজারো হোমওনারশিপ সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মসূচিতে ডাউন পেমেন্ট, ক্লোজিং খরচ বা অনুদান দেওয়া হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে এই অর্থ ফেরতও দিতে হয় না।   প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে পরিচিত কর্মসূচিগুলোর একটি হলো এফএইচএ (FHA) ঋণ। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য আবেদনকারীরা তুলনামূলক কম ডাউন পেমেন্ট দিয়েই বাড়ি কিনতে পারেন। সাধারণভাবে ক্রেডিট স্কোর ৫৮০ বা তার বেশি হলে বাড়ির মূল্যের ৩.৫ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর ক্রেডিট স্কোর ৫০০ থেকে ৫৭৯-এর মধ্যে হলে ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের মাধ্যমে আবেদন করা যায়।   যারা শহরের বাইরে বা নির্ধারিত গ্রামীণ ও উপশহর এলাকায় বাড়ি কিনতে চান, তাদের জন্য রয়েছে ইউএসডিএ (USDA) হোম লোন কর্মসূচি। যোগ্য আবেদনকারীরা এই কর্মসূচির আওতায় কোনো ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই শতভাগ অর্থায়নের সুযোগ পেতে পারেন। এটি শুধু প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য নয়; নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে অন্যরাও আবেদন করতে পারেন।   অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য ‘হোমফার্স্ট’ কর্মসূচি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতারা ডাউন পেমেন্ট ও ক্লোজিং খরচ বাবদ সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। তবে এ সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে, যার মধ্যে নিজস্ব অর্থের একটি অংশ বিনিয়োগ এবং অনুমোদিত হোমবায়ার শিক্ষা কোর্স সম্পন্ন করাও রয়েছে।   শুধু ফেডারেল কর্মসূচির ওপর নির্ভর না করে নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির সহায়তা কর্মসূচিগুলোও যাচাই করা উচিত। অনেক অঙ্গরাজ্য প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের জন্য অতিরিক্ত অনুদান, স্বল্পসুদের ঋণ বা ডাউন পেমেন্ট সহায়তা দিয়ে থাকে।   এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অনুমোদিত হাউজিং কাউন্সেলরদের কাছ থেকে বিনা খরচে পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তারা আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং যোগ্যতা যাচাইয়ে সহায়তা করেন।   তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সব কর্মসূচির ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। আয়ের সীমা, ক্রেডিট স্কোর, বাড়ির সর্বোচ্চ মূল্য, বসবাসের এলাকা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত অঙ্গরাজ্য ও কর্মসূচিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা অনুমোদিত ঋণদাতার সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য এসব কর্মসূচি প্রথম বাড়ি কেনার পথে বড় সহায়ক হতে পারে। তবে সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের অবশ্যই নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির সব শর্ত মেনে আবেদন করতে হবে।

Unknown আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
K2 Airways Boeing 737 cargo plane that crashed in the Arabian Sea
পাকিস্তানে কার্গো বিমান বিধ্বস্ত: ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন নিহতদের স্বজনরা

আরব সাগরে বিধ্বস্ত পাকিস্তানের কেটু এয়ারওয়েজের কার্গো বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন নিহত পাঁচ ক্রু সদস্যের পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান চালিয়ে ফ্লাইট রেকর্ডার উদ্ধার করা জরুরি।   গত ৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে পাকিস্তানের করাচি যাওয়ার পথে বোয়িং ৭৩৭ কার্গো বিমানটি আরব সাগরে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর কিছু ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হলেও ব্ল্যাক বক্স এখনো পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাস্থলের পানির গভীরতা প্রায় ৩ হাজার মিটার, যা উদ্ধার অভিযানকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে।   বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, এত গভীর সমুদ্রে ব্ল্যাক বক্স খুঁজে বের করতে বিশেষ প্রযুক্তি, রিমোটচালিত পানির নিচের যান এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। অতীতে এয়ার ফ্রান্স ফ্লাইট ৪৪৭ দুর্ঘটনার তদন্তেও একই ধরনের আন্তর্জাতিক অভিযান চালানো হয়েছিল।   নিহত ক্যাপ্টেন রিজওয়ান ইদরিসের ছেলে ইয়াশিব রিজওয়ান রয়টার্সকে বলেন, “অনুসন্ধান অবশ্যই চালিয়ে যেতে হবে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক—যে সম্পদই প্রয়োজন হোক, তা ব্যবহার করা উচিত। আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি স্বচ্ছ তদন্ত।”   অপর ক্রু সদস্য প্রকৌশলী মুহাম্মদ আরিফ সিদ্দিকীর ছেলে আবদুর রাফায় সিদ্দিকীও প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মরদেহ উদ্ধারের আশা ক্ষীণ হয়ে যাওয়ায় দুই পরিবার ইতোমধ্যে জানাজার নামাজ আদায় করেছে।   দুর্ঘটনার আগে বিমানটির পাইলট নেভিগেশন ব্যবস্থায় ত্রুটির কথা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানিয়েছিলেন। এরপর নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সহায়তার চেষ্টা করা হলেও মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে রাডার থেকে বিমানটির সংকেত হারিয়ে যায়। ফ্লাইটের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে পরে আবার কিছুটা ওপরে উঠে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সমুদ্রে আছড়ে পড়ে।   স্বজনদের দাবি, উড্ডয়নের আগে শারজাহে বিমানটির একটি ইনারশিয়াল রেফারেন্স ইউনিট (আইআরইউ) পরিবর্তন করা হয়েছিল। এই যন্ত্রটি বিমানের অবস্থান, গতি ও দিকনির্দেশনা সংক্রান্ত তথ্য ককপিটে সরবরাহ করে। তবে এই যন্ত্র পরিবর্তনের সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   এদিকে পাকিস্তান সরকার এক সপ্তাহ ধরে ব্ল্যাক বক্স অনুসন্ধান বা আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশ করেনি। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা সমুদ্রতল অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানও জানিয়েছে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো সহায়তার অনুরোধ আসেনি।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০