#Iran

সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা জোট
ইরানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ নিয়ে সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা জোট

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকট এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকির মধ্যে বহুজাতিক একটি সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। নতুন এই জোটে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, জর্ডানসহ ১৪টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে। জোটটির মূল লক্ষ্য হলো লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক ও জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।  সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার রিয়াদে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে এই উদ্যোগের ঘোষণা দেয়। বৈঠকের পর সৌদি আরব, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, ইয়েমেন, সুদান, জিবুতি ও সোমালিয়া যৌথ বিবৃতিতে জোটের প্রতি সমর্থন জানায়। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এই পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এতে যোগ দেয়নি।    সৌদি আরব জানিয়েছে, এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক সামুদ্রিক জোট। কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর উদ্দেশ্যে এটি গঠন করা হয়নি। বরং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া, সমুদ্রপথে সমন্বিত টহল এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটের নিরাপত্তা জোরদার করাই হবে এর প্রধান কাজ। জোটের সদর দপ্তর সৌদি আরবেই স্থাপন করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও অবরোধের কারণে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনও চাপে পড়েছে। ফলে সৌদি আরবের জন্য বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং লোহিত সাগরের বিকল্প রুটগুলোর নিরাপত্তা কৌশলগতভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।     বিশ্ব বাণিজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এ কারণে এই নৌপথে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এই বাস্তবতায় সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদারে বহুপক্ষীয় সহযোগিতাকে আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।

Unknown জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
আকস্মিক হামলার জবাব হিসেবে এই সামরিক অভিযান
ব্যালিস্টিক হামলার জবাবে ইরানে সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। ইরানের ভূখণ্ডে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মঙ্গলবার ইরানের পক্ষ থেকে চালানো এক সিরিজ আকস্মিক হামলার জবাব হিসেবে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে।  খবরটি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। গত মঙ্গলবারের ঘটনার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর অবস্থানও জোরদার করা হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।     যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপের মধ্যেই তেলের দাম আবারও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে তেহরানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই হামলাকে 'আগ্রাসন' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।    এই প্রতিবেদন পরিস্থিতি অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। সিরিজ হামলার পর পুরো অঞ্চলজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি এড়াতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক ডেকেছে বলে জানা গেছে।

Unknown জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে মার্কিন অর্থভাণ্ডার, ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার

ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় টানা ১১তম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী তেহরানসহ দেশটির দক্ষিণ, পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইরান যুদ্ধের বর্তমান ও সম্ভাব্য ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে কংগ্রেসকে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতের অভিযান শেষ হয়েছে। হামলায় ইরানের সামরিক অভিযান পরিচালনা কেন্দ্র, সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়।         সেন্টকমের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা আরও দুর্বল করতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, গত তিন মাসে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী ৩০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান হামলা করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, এসব হামলায় শত শত নাবিকের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে চলমান সংঘাতের মধ্যেও হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শুরু থেকে মার্কিন বাহিনী প্রায় ৯০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ৪৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমে সহায়তা করেছে। ইরানের আধা-সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের আশপাশে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবরিজ শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর শহরেও অন্তত দুটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। শহরটিতে ইরানের একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত। তবে ওই কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে নির্মাণাধীন দারখোভিন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল। ইরানের যৌথ সামরিক সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া সতর্ক করেছে, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকলে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে।       হামাদান প্রদেশের কাবুদারাহাং এলাকা এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। বন্দরনগরী কোনারাক ও চাবাহারের আকাশে যুদ্ধবিমান দেখা গেছে এবং কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এদিকে ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের শুনানিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, ইরান যুদ্ধের ব্যয় এখন পর্যন্ত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই হিসাবে ইতোমধ্যে হওয়া ব্যয়ের পাশাপাশি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য খরচও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে পেন্টাগন কীভাবে এই হিসাব নির্ধারণ করেছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি হিসাবে যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই অন্তত ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের কথা বলা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার চেয়েছেন, যার বড় অংশ ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ নিয়ে কংগ্রেসে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে প্রশাসন যুদ্ধের লক্ষ্য, পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কংগ্রেসকে যথেষ্ট তথ্য দেয়নি।       চলমান যুদ্ধ পেন্টাগনের প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন শুনানিতে বলেন, সামরিক সদস্যদের বেতন দেওয়া সম্ভব হলেও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ সামরিক সক্ষমতায় বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। হেগসেথ কংগ্রেসকে ইরান যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি ২০২৭ অর্থবছরের জন্য এক দশমিক পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর উভয় পক্ষই প্রায় প্রতিদিন পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।     বুধবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এক দশমিক এক শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ০১ ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম এক শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ১৬ ডলারে উঠেছে। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের নৌপথ ঘিরে ঝুঁকি বাড়ায় তেলবাহী জাহাজের চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি পরিবহনের সময় ও ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Unknown জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: প্রতিকী
ভোরে নামাজের আগে মসজিদের ইমামকে গুলি করে হত্যা, সীমান্তে চাঞ্চল্য

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর মিরজাভেহে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হামলায় সুন্নি ধর্মীয় নেতা মাওলভি মোহাম্মদ আনভার রিগি নিহত হয়েছেন। সোমবার, ২০ জুলাই ভোরে সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশে এ হামলা ঘটে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।  মাওলভি আনভার রিগি মিরজাভেহ শহরের আলী ইবনে আবি তালিব মসজিদের জুমার নামাজের ইমাম ছিলেন। মিরজাভেহর গভর্নর মোখতার মোহসেন মোবারাকি জানান, সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তার মৃত্যু হয়।          হামলাকারীদের পরিচয় কিংবা হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কোনো গোষ্ঠীও হামলার দায় স্বীকার করেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।  স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা এবং সাম্প্রদায়িক বিভেদ উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।        হত্যাকাণ্ডের পর সিস্তান-বালুচিস্তানের শিয়া ও সুন্নি ধর্মীয় নেতারা পৃথকভাবে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেছেন।  পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী সিস্তান-বালুচিস্তানে বিপুলসংখ্যক সুন্নি বালুচ জনগোষ্ঠীর বসবাস। ইরানের দরিদ্রতম অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত প্রদেশটিতে অতীতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

Unknown জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবার মার্কিন পকেটে, গ্যাসের ছড়াল দাম ৪ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত ব্যবহৃত পেট্রোলের জাতীয় গড় মূল্য আবারও প্রতি গ্যালনে ৪ ডলার অতিক্রম করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে মার্কিন জ্বালানি বাজারেও। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দেশটির গড় গ্যাসের দাম ৪ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।  আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন নিয়মিত গ্যাসের জাতীয় গড় মূল্য ৪ ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে এই গড় মূল্য ছিল ৩ দশমিক ১৪ ডলার। তবে এটি জাতীয় গড় হওয়ায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দামের পার্থক্য রয়েছে। কোথাও গ্যাসের দাম ৪ ডলারের অনেক বেশি, আবার কোথাও তুলনামূলক কম। স্থানীয় সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় ও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক করের কারণে এই পার্থক্য তৈরি হয়।        চলতি বছর মার্চের শেষ দিকে প্রথমবারের মতো গ্যাসের জাতীয় গড় মূল্য ৪ ডলারের ওপরে উঠেছিল। পরে জুনের মাঝামাঝি তা আবার ৪ ডলারের নিচে নেমে আসে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তী সমঝোতার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আবার তীব্র হওয়ায় জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।  আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে তা প্রতি ব্যারেল ৮৬ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে লেনদেন হচ্ছে, যেখানে সংঘাতের আগে দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই তেলের দামও উচ্চ অবস্থানে রয়েছে।        বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ আরও চাপে পড়তে পারে, যার প্রভাব শুধু জ্বালানির দামেই নয়, পরিবহন ব্যয়, খাদ্যপণ্যের মূল্য এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতেও পড়তে পারে। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কী দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে সংঘাতের গতিপ্রকৃতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার ওপর।

Unknown জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
US President Donald Trump speaks
বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে ফিরেই ইরানকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, দুই দিনে তিন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত

বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর ইরানকে লক্ষ্য করে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলায় নিহত মার্কিন সেনাসদস্যদের স্মরণেই ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে।   রোববার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা আজ রাতে আবারও তাদের ওপর খুব কঠোর হামলা চালিয়েছি। সম্ভবত তিনজন মহান দেশপ্রেমিকের সম্মানেই এই হামলা।”   এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, শনিবার ইরাকের উত্তরাঞ্চলে ইরানের একটি হামলায় একজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের একটি হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করার পর সেটির অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হলে ওই সেনাসদস্য নিহত হন। একই ঘটনায় আরও একজন সেনা আহত হন।   এর মাত্র একদিন আগে জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও একজন সেনাসদস্য নিখোঁজ হন। পরে সেন্টকম জানায়, হামলার স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয়ের মানবদেহের কিছু অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।   পরপর দুই দিনে তিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তারা লড়াই করছিলেন, যাতে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।”   এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক দফা সামরিক অভিযান শুরু করেছে। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।   অন্যদিকে কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা একাধিক ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছে। একই সময়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সিরিয়ায় শত্রুপক্ষের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।   বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেন বাজানো হয়েছে। নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন বাহিনীর ধারাবাহিক হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক সমাধানের কোনো ইঙ্গিত এখনো না থাকায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
President Donald Trump speaks to the press
ইরান থেকে মুক্তি পেলেন আটক মার্কিন নাগরিক, ট্রাম্প বললেন এটি ভালো ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান একজন মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, ওই মার্কিন নাগরিক এখন ইরানের বাইরে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে আছেন।   ট্রাম্প বলেন, ইরান একজন আমেরিকান নাগরিককে দেশ ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে, যিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে আটক ছিলেন। তিনি এটিকে ইরানের পক্ষ থেকে একটি “সদিচ্ছার পদক্ষেপ” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।   মুক্তি পাওয়া ওই মার্কিন নাগরিকের পরিচয় পরে প্রকাশ করেন তাঁর আইনজীবী জ্যারেড জেনসার। তিনি জানান, তাঁর মক্কেল ডেনা কারারি দীর্ঘদিন ধরে ইরানে আটকে ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ছিল। আইনজীবীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণেই তাঁর মুক্তি সম্ভব হয়েছে।   জেনসার জানান, ডেনা কারারি বর্তমানে নিরাপদে আছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে রয়েছেন।   এই মুক্তির ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়। ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ইরানের জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নেবে।   ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি সব দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, তবে ইরানের জাহাজ ও ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার প্রধান রক্ষক হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।   এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, এই মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি আগ্রহী নন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইরান সরকারের সমালোচনা করেন এবং বলেন, বর্তমান ইরানি নেতৃত্ব একটি চুক্তির পথে বাধা সৃষ্টি করছে।   তবে ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানের বিষয়ে দেশটির জনগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে চলমান হামলা বন্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, একজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাময়িক ইতিবাচক সংকেত দিলেও, হরমুজ প্রণালি, সামরিক কার্যক্রম ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মূল বিরোধ এখনো সমাধান হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইরানের বিরুদ্ধে আরও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের জাহাজগুলো আর হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। একই সঙ্গে অন্যান্য দেশের নির্দিষ্ট পণ্যবাহী জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ টোল আদায় করবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের ভাষায়, এই অর্থ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যয়ের প্রতিদান হিসেবে নেওয়া হবে।    সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় সামরিক হামলা শুরু করেছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে।     ট্রাম্প আরও বলেন, বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। তাই সেই নিরাপত্তা ব্যয়ের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী দেশগুলোর কাছ থেকে টোল আদায় করা হবে। তবে এই টোল কীভাবে আদায় করা হবে বা কোন কোন দেশের ওপর তা প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিষয়ক কঠোর অবস্থানের সমর্থক এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর তাঁর বোন ডারলিন গ্রাহাম নরডোনকে অস্থায়ীভাবে মার্কিন সিনেটে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।    হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের বড় একটি অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং নতুন টোল আরোপের ঘোষণা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পাল্টাপাল্টি হামলায় তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ল

 মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়া এবং ইরানের পক্ষ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের দাবি ঘিরে সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের চাপ দেখা গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে।   রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ ডলারে পৌঁছায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।    নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকেছেন। এর ফলে ডলারের মান শক্তিশালী হয়েছে এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলনও বেড়েছে। একই সময়ে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন দেখা যায়। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের ওপর চাপ বেশি ছিল।    হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ রুটে যেকোনো অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজার, পরিবহন ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির ওপর দ্রুত প্রভাব ফেলে।    ইরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে একই ধরনের দাবির বিরোধিতা করে বলেছিল, আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতেও উভয় পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে, ফলে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় আছে।  এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ার কেভিন ওয়ার্শ কংগ্রেসে প্রথমবারের মতো সাক্ষ্য দেওয়ার আগে বাজারে সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মূল্যস্ফীতির তথ্যও বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। জ্বালানির দাম আরও বাড়লে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার নিয়ে ফেডের অবস্থান কঠোর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।    বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয় বা হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন আরও ব্যাহত হয়, তাহলে শুধু জ্বালানির দামই নয়, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন খরচ এবং ভোক্তা মূল্যও নতুন করে চাপে পড়তে পারে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার জবাবে বাহরাইনে ইরানের হামলা, বেজে উঠল সতর্কতামূলক সাইরেন

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার সামরিক হামলার পর পাল্টা জবাব হিসেবে বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। হামলার পর দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের হামলার মূল লক্ষ্য ছিল বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনা। হামলার সময় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে একাধিক আকাশীয় লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করার চেষ্টা চালায়।   ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বিমান হামলার জবাব দিতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন বলছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেই সাম্প্রতিক হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। (⁠Reuters)   বাহরাইন কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিস্তৃত আকার নেওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে ইরানে নতুন দফা হামলার নির্দেশ ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি-তে হামলার জেরে ইরানে নতুন দফা সামরিক হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জাহাজটিতে হামলা চালানোর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, জাহাজে আগুন লাগে এবং একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। এর জবাবে শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা, নৌ সক্ষমতা, গোলাবারুদ গুদাম, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থাসহ প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম।   অন্যদিকে ইরান বলছে, একটি জাহাজ অনুমোদনহীন রুটে চলাচল করায় সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়েছিল। তেহরান আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ইরানের একচ্ছত্র এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে এবং এ বিষয়ে বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।   সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ জলপথে জাহাজে হামলা, পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে চুক্তি, না হলে ‘কাজ শেষ’—নতুন সামরিক হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে, না হলে “কাজ শেষ করবে”। এর মাধ্যমে তিনি আবারও তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন।     সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা হয় একটি চুক্তি করব, নয়তো কাজ শেষ করব। তবে আমি চুক্তিই করতে চাই, কারণ ৯১ মিলিয়ন মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়ুক, সেটা আমি চাই না।” তিনি আরও দাবি করেন, প্রয়োজন হলে অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।     ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা গত সপ্তাহে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। এর আগে সংঘাতের পর কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি করতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছিল।     অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-র জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের মুখেও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার বার্তা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় সৌদির শোকবার্তা, ইরানের প্রেসিডেন্টের কাছে সমবেদনা জানালেন বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ সৌদি আরব ও ইরানের সম্পর্কে নতুন এক কূটনৈতিক বার্তা দেখা গেল। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিক সমবেদনা জানিয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।     সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খুরাইজি তেহরানে অনুষ্ঠিত শেষকৃত্যে অংশ নেন। সেখানেই তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের হাতে সৌদি নেতৃত্বের সমবেদনা বার্তা পৌঁছে দেন।     তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে। কয়েক দিনব্যাপী এ শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত রয়েছেন।     বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ধীরে ধীরে বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে সৌদি নেতৃত্বের এই সমবেদনা বার্তাকে শুধু আনুষ্ঠানিক সৌজন্য নয়, বরং আঞ্চলিক কূটনীতিতে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। 

বায়জিদ হাসান জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি

সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি, সেই বেজি নিধনেই লেগেছে ৪৫ বছর

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০