- প্রচ্ছদ
- Topic
আটক
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় তিন দশক ধরে বসবাস এবং ২০১৩ সাল থেকে গ্রিন কার্ড থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভেঙ্কটা নরসামাম্বা ভাসামসেট্টিকে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। নর্থ ক্যারোলিনায় নিয়মিত ইমিগ্রেশন চেক-ইনের জন্য হাজির হওয়ার পর ১১ আগস্ট তাকে আটক করা হয়। তার মেয়ে যশস্বিনী ভাসামসেট্টি নিজেও একজন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি। ভেঙ্কটা ভাসামসেট্টি নর্থ ক্যারোলিনার ওয়েক কাউন্টি পাবলিক স্কুল সিস্টেমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন এবং তার দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা মার্কিন নাগরিক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে ৬০ বছর বয়সী এবং কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড না থাকা গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আটকের পেছনে মূল বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় সাত মাস যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান। ভেঙ্কটা ২০২২ সালের জুলাইয়ে অসুস্থ বাবার দেখাশোনার জন্য ভারতে যান। পরে কোভিডে আক্রান্ত হওয়ায় তার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় আরও পিছিয়ে যায়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফেরার পর কর্তৃপক্ষ তার দীর্ঘ অনুপস্থিতিকে গ্রিন কার্ডের রেসিডেন্সি পরিত্যাগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখায়। এ নিয়ে ভেঙ্কটার বিরুদ্ধে আগের একটি ডিপোর্টেশন মামলা চলছিল। তবে ১৯ মে ২০২৬ ইমিগ্রেশন জজ সরকারের সেই মামলা বাতিল করে দেন। আদালতের সিদ্ধান্তের পর তিনি আবার গ্রিন কার্ডের বৈধ স্ট্যাটাসে ছিলেন বলে তার আইনজীবী ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরপরও আইসিইর সঙ্গে তার নিয়মিত চেক-ইন নির্ধারিত ছিল। ১১ আগস্ট নির্ধারিত সাক্ষাতে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে শার্লটের আইসিই অফিসে গেলে তাকে আটক করা হয় এবং পরে জর্জিয়ার একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। পরদিন কর্তৃপক্ষ নতুন করে তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু করে। ভেঙ্কটার মেয়ে যশস্বিনী ভাসামসেট্টি টেক্সাস ও নিউ জার্সিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত একজন এমপ্লয়মেন্ট-বেজড ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি। মায়ের আটকের পর পরিবারের পক্ষ থেকে তার মুক্তির দাবিতে “ফ্রি ভেঙ্কটা” নামে একটি ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে। তার আইনজীবী দলও আটকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ফেডারেল আদালতে জরুরি হ্যাবিয়াস করপাস পিটিশন দাখিল করেছে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকার কারণে ভেঙ্কটার গ্রিন কার্ডের স্ট্যাটাস পরিত্যাগের অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন ইমিগ্রেশন আইনে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকা একজন গ্রিন কার্ডধারীর স্থায়ী বসবাসের অভিপ্রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে ভেঙ্কটার পরিবার ও আইনজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তার বাড়ি, চাকরি ও পরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং তিনি তার রেসিডেন্সি পরিত্যাগ করতে চাননি।
ইউরোপের অন্য দেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় ৩৬ বাংলাদেশিসহ ৯৬ জনকে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। স্থানীয় সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশটির বিস্ত্রিকা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সীমান্ত পুলিশ এবং রিপাবলিকা শ্রপস্কার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম সারায়েভো টাইমস ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বলকান অঞ্চলের সংবাদমাধ্যম দ্য ফার্স্ট বলকানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নাগরিক। বিস্ত্রিকা এলাকাটি বসনিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ গ্রাদিস্কা সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছাকাছি। কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম অভিযানে মোট ৬৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪০ জন পাকিস্তানি এবং ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর একই এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান চালিয়ে আরও ৩৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৮ জন আফগান, ১৩ জন বাংলাদেশি এবং দুজন পাকিস্তানি নাগরিক ছিলেন। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রবেশের উদ্দেশ্যে বসনিয়া হয়ে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় স্থলপথের পাশাপাশি নৌপথ ব্যবহার করে নদী পার হওয়ারও চেষ্টা করা হয়। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পারাপারে ব্যবহৃত কয়েকটি নৌকা জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পাচারচক্রের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আটকদের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বানিয়া লুকা অঞ্চলের ‘সার্ভিস ফর ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স ফিল্ড সেন্টার’-এ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তের স্বার্থে প্রসিকিউটর কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বলকান রুটে অবৈধ সীমান্ত পারাপারের ঘটনা প্রায় ৭৪ শতাংশ কমেছে। তবে সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার হওয়ায় মানবপাচারকারীরা আরও গোপন ও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার করছে বলে সতর্ক করেছে মানবাধিকার ও দাতব্য সংস্থাগুলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রার্থী দেশ হিসেবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ওপর সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের চাপ রয়েছে। এ কারণে ফ্রন্টেক্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় গ্রাদিস্কা সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই দুই অভিযান থেকে স্পষ্ট, কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও উন্নত জীবনের আশায় বলকান রুট ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
নড়াইলের লোহাগড়ায় এক গৃহবধূর মরদেহের সঙ্গে অনৈতিক কাজের চেষ্টার অভিযোগে সাগর শেখ (২৮) নামে এক অ্যাম্বুলেন্সচালককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন বলে জানিয়েছে আরটিভি। সাগর শেখ লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা তেলপাম্প এলাকার মৃত কামরুল শেখের ছেলে। ঘটনার পর তাকে হেফাজতে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, শনিবার সকালে লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছেঁড়া গ্রামে সাদিয়া আক্তার লামিয়া নামে ওই গৃহবধূ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। রাতে মরদেহ থানায় নেওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সে রাখা হয়। পরিবারের অভিযোগ, গভীর রাতে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে থাকা চালক সাগর শেখ মরদেহটির সঙ্গে অনৈতিক কাজের চেষ্টা করেন। এ সময় নিহত নারীর মা সেখানে গিয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। নিহতের মায়ের অভিযোগ, চালক মরদেহটির শরীরের কাপড় খুলে অনৈতিক কাজের চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি যেন বাইরে থেকে দেখা না যায়, সে জন্য অ্যাম্বুলেন্সের জানালা গামছা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সাগর শেখকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: আরটিভি
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ায় দুই সপ্তাহের বিশেষ ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট অভিযানে ১ হাজার ৩২৮ জনকে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। ১ থেকে ১৪ আগস্ট পরিচালিত ‘অপারেশন সেফ কমিউনিটি - ওয়াশিংটন, ডি.সি.’ অভিযানের তথ্য সোমবার জানিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জনের যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড অথবা চলমান ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, অপহরণ, ডাকাতি, পরিচয় চুরি, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং হিট অ্যান্ড রানসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ বা রেকর্ড রয়েছে। অভিযানটির মূল লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটন ডিসির আশপাশের মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার বিভিন্ন এলাকা। তবে আইসিই কর্মকর্তারা দুই অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য এলাকাতেও অভিযান চালান। ডিএইচএস জানিয়েছে, কিছু এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ে স্যাংচুয়ারি নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও এসব আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে এমএস-১৩, ১৮থ স্ট্রিট গ্যাং এবং ট্রেন দে আরাগুয়া নামে পরিচিত ট্রান্সন্যাশনাল গ্যাংয়ের সদস্যরাও ছিলেন বলে ডিএইচএস দাবি করেছে। অভিযানে ভার্জিনিয়ার চেস্টারফিল্ড কাউন্টিতে এল সালভাদরের নাগরিক এয়গনার উইলফ্রেডো হুয়েজো-মোরানকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে রিচমন্ডে হত্যা ও আগ্নেয়াস্ত্রসংক্রান্ত মামলায় স্থানীয় পুলিশের ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তাকে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইসিই। মেরিল্যান্ডের উইকোমিকো কাউন্টিতে আটক হন হাইতির নাগরিক অ্যাকশনেল পিয়ের। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হামলা ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের আগের রেকর্ড রয়েছে। ভার্জিনিয়ার হ্যারিসনবার্গে আটক হন্ডুরাসের নাগরিক এসত্রেয়া রেয়েস-ফুনেজের বিরুদ্ধে ফেলোনি হিট অ্যান্ড রান মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। এ ছাড়া ম্যানাসাসে এল সালভাদরের নাগরিক জার্মান মেহিয়া-বাইরেসকে আটক করা হয়। তাকে এমএস-১৩-এর সদস্য বলে দাবি করেছে ডিএইচএস। হায়াটসভিলে আটক এল সালভাদরের নাগরিক মাউরিসিও আন্তোনিও বারেরা-নাভিদাদকেও এমএস-১৩-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশন্স বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক প্যাট্রিসিয়া হাইড বলেন, দুই সপ্তাহের অভিযানে কর্মকর্তারা ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত ও আটক করতে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছেন। তবে অভিযান নিয়ে ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। অ্যাটর্নি কার্লোস জুরাদো বলেন, বড় আকারের অভিযান আগের তুলনায় কমলেও কিছু আটক অভিযান এখন কম দৃশ্যমানভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এসব ঘটনায় বলপ্রয়োগের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জুরাদো তার এক মক্কেল হোসে মেহিয়া হার্নান্দেজের ঘটনা তুলে ধরে দাবি করেন, আইসিই তাকে আটক করার সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে হার্নান্দেজ হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে পান এবং তার মুখে গুরুতর আঘাত ও ফোলা ছিল। হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার এই অভিযান জুলাইয়ে জর্জিয়ায় চালানো একই ধরনের ‘অপারেশন সেফ কমিউনিটি’ অভিযানের পরপরই হয়েছে। জর্জিয়ায় ওই অভিযানে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জোরদার হওয়া অভিবাসন অভিযানে স্থানীয় পুলিশকে আরও সক্রিয় করতে নতুন পরিকল্পনা সামনে এনেছে আইস। সংস্থাটির হয়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্যের পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ ডলারের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা বীমার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। আইসের শুক্রবার প্রকাশিত একটি পরিকল্পনা নথিতে এই প্রস্তাবের বিস্তারিত উঠে এসেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রশিক্ষণ ও ক্ষমতা পাওয়া স্থানীয় কর্মকর্তারা নিজের নামে বীমা কিনতে পারবেন। সেই বীমায় ব্যক্তিগত দায় সর্বোচ্চ ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত কভার করার কথা রয়েছে। এই বীমা মূলত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে সম্ভাব্য আইনি খরচ, ক্ষতিপূরণ বা আদালতের রায়ের কারণে তৈরি হওয়া ব্যক্তিগত আর্থিক দায় সামলাতে সহায়তা করবে। অর্থাৎ অভিবাসন অভিযানে অংশ নিয়ে কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে মামলার মুখে পড়লে তার আর্থিক ঝুঁকির একটি অংশ বীমার আওতায় আসতে পারে। তবে আইস সরাসরি প্রত্যেক কর্মকর্তাকে ৫ লাখ ডলার দেবে - বিষয়টি এমন নয়। কর্মকর্তারা বীমা কিনবেন এবং আইস বছরে সর্বোচ্চ ২৫০ ডলার পর্যন্ত বীমার খরচ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। পরিকল্পনা নথি অনুযায়ী, এই পরিমাণ অর্থেই সাধারণত প্রস্তাবিত বীমার বার্ষিক খরচ মেটানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি আইসের বহুল আলোচিত ২৮৭(জি) কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৬ সালের ফেডারেল অভিবাসন আইনের একটি ধারার নামে এই কর্মসূচির নামকরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আইস নির্দিষ্ট চুক্তির অধীনে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের কিছু ক্ষমতা দিতে পারে। আইসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২৮৭(জি) কর্মসূচির জন্য যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ ও প্রচারসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। সেই ঠিকাদারই বীমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ এবং কর্মকর্তাদের বীমার অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। তবে পরিকল্পনাটি এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে - চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়েছে এমন নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ এমন সময়ে সামনে এসেছে যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অংশগ্রহণ বাড়াতে চাইছে। কিন্তু স্থানীয় পুলিশকে অভিবাসন অভিযানে যুক্ত করার বিষয়টি বিভিন্ন জায়গায় আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছে। নতুন বীমা পরিকল্পনার গুরুত্ব এখানেই। কোনো স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা আইসের হয়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে ব্যক্তিগত মামলার আশঙ্কায় থাকলে সেটি তার অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রস্তাবিত বীমা সেই আর্থিক ঝুঁকি কমিয়ে আরও বেশি স্থানীয় কর্মকর্তাকে ২৮৭(জি) কর্মসূচিতে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে পারে। তবে বীমা থাকার অর্থ কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে তিনি আইনি দায়মুক্তি পাবেন - এমন নয়। এটি মূলত সম্ভাব্য ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলার বীমা ব্যবস্থা। কোনো ঘটনায় আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না বা কর্মকর্তা দায়ী কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে। ফলে আইসের নতুন প্রস্তাবটি শুধু একটি বীমা কর্মসূচির বিষয় নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন অভিযান পরিচালনায় ফেডারেল কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশকে আরও বড় পরিসরে যুক্ত করার যে উদ্যোগ চলছে, এই পরিকল্পনাকে তারই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া দুই বোনই মার্কিন নাগরিক। কিন্তু তাদের বাবা-মাকে আইস আটক করে হন্ডুরাসে ডিপোর্ট করার পর মুহূর্তেই বদলে গেছে তাদের জীবন। মাত্র ১৯ বছর বয়সী বড় বোনকে এখন নিজের জীবন সামলানোর পাশাপাশি ১৩ বছরের ছোট বোনের অভিভাবকের দায়িত্বও নিতে হচ্ছে। প্রায় এক বছর ধরে বাবা-মাকে ছাড়াই টেক্সাসে বসবাস করছে দুই বোন। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পরিবারটির এই কঠিন বাস্তবতা। বাবা-মায়ের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের কারণে দুই বোনের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। কারণ তারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। কিন্তু বাবা-মা ডিপোর্ট হয়ে যাওয়ার পর বড় বোনের ওপর এসে পড়েছে ছোট বোনের দৈনন্দিন দেখাশোনা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব। নিজের পড়াশোনা, কাজ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার বয়সেই তাকে কার্যত একজন অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে। এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জোরদার হওয়া অভিবাসন অভিযানের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের ওপর কতটা পড়ছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। বাবা-মা অনথিভুক্ত অভিবাসী হলেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তান সাধারণত জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। ফলে অভিভাবক ডিপোর্ট হলে অনেক পরিবারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে - সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে থাকবে, নাকি বাবা-মায়ের সঙ্গে অন্য দেশে চলে যাবে। এই সংকটের ব্যাপ্তি বোঝাতে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সাম্প্রতিক গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ একটি চিত্র সামনে এনেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তর থেকে প্রায় ৪ লাখ অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের পর ইমিগ্রেশন হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মডেলভিত্তিক অনুমান অনুযায়ী, এসব আটকের কারণে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার শিশু তাদের অন্তত একজন অভিভাবকের আইস হেফাজতে যাওয়ার পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। গবেষণাটির হিসাবে, এই শিশুদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজারই মার্কিন নাগরিক। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ২২ হাজারের বেশি মার্কিন নাগরিক শিশুর একই বাড়িতে বসবাসকারী সব অভিভাবকই আটক হয়েছেন বলে গবেষকেরা অনুমান করেছেন। এসব শিশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের বয়স খুবই কম। ফলে অভিভাবকের আকস্মিক আটক শুধু একটি ইমিগ্রেশন মামলাই নয়, পুরো পরিবারের দৈনন্দিন জীবন ও শিশুদের ভবিষ্যৎকেও বদলে দিচ্ছে। তবে ১ লাখ ৪৫ হাজারের সংখ্যাটি সরাসরি আইস বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার গণনা নয়। ব্রুকিংস ইমিগ্রেশন হেফাজতের তথ্যের সঙ্গে আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের জনমিতিক তথ্য মিলিয়ে এই অনুমান তৈরি করেছে। গবেষকদের বক্তব্য, সরকারি তথ্যে আটক ব্যক্তিদের সন্তান সম্পর্কিত তথ্য সব ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য মডেলভিত্তিক হিসাব ব্যবহার করতে হয়েছে। আইসের নিজস্ব নীতিতেও আটক ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনি অভিভাবক হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আটক ব্যক্তির সন্তান আছে কি না এবং তাদের দেখাশোনার ব্যবস্থা কী হবে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কথা। তবে গবেষণায় বলা হয়েছে, বাস্তবে সব ক্ষেত্রে এই তথ্য পূর্ণাঙ্গভাবে সংগ্রহ হয় না। আবার সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে কিছু অভিবাসীও বিস্তারিত তথ্য দিতে দ্বিধা করেন। আইনগতভাবে এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। কোনো ব্যক্তির সন্তান মার্কিন নাগরিক হলেই সেই সন্তানের অনথিভুক্ত বাবা-মা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপোর্টেশন থেকে সুরক্ষা পান না। একইভাবে বাবা-মায়ের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা তাদের ডিপোর্টেশনের কারণে মার্কিন নাগরিক সন্তানের নাগরিকত্বও বাতিল হয় না। ফলে একই পরিবারের বাবা-মা ও সন্তানদের আইনি অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। এই আইনি বাস্তবতাই অনেক পরিবারকে সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড় করাচ্ছে। বাবা-মা আটক বা ডিপোর্ট হলে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য দ্রুত আত্মীয়, প্রাপ্তবয়স্ক ভাই-বোন অথবা বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তিকে দায়িত্ব নিতে হতে পারে। এমন ব্যবস্থা সম্ভব না হলে কোনো কোনো পরিস্থিতিতে শিশু সুরক্ষা সংস্থার সম্পৃক্ততার প্রয়োজন হতে পারে। অতীতেও অভিভাবকের আটক বা ডিপোর্টেশনের পর শিশুদের ফস্টার কেয়ারে যাওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। টেক্সাসের দুই বোনের ঘটনাটি তাই শুধু একটি পরিবারের বিচ্ছেদের গল্প নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন অভিযানের এমন একটি দিক এটি, যেখানে আইসের অভিযানের সরাসরি লক্ষ্য না হয়েও মার্কিন নাগরিক শিশুরা তার বড় প্রভাব বহন করছে। একজন অভিভাবককে আটক বা ডিপোর্ট করার পর সেই পরিবারের বাসস্থান, আয়, স্কুল, মানসিক স্থিতি এবং শিশুদের দেখাশোনার পুরো ব্যবস্থাই মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে যে তরুণীর নিজের পড়াশোনা, চাকরি ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কথা, তাকেই এখন ১৩ বছরের ছোট বোনের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে তাদের বাবা-মা রয়েছেন হন্ডুরাসে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় দুই বোন নিজেদের দেশে থাকার অধিকার ধরে রেখেছে, কিন্তু সেই অধিকারের সঙ্গে তাদের সামনে এসেছে বাবা-মাকে ছাড়া জীবন চালিয়ে যাওয়ার কঠিন বাস্তবতা।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে এক বিদেশিকে অপহরণ করে দুই দিন আটকে রেখে মারধর, হুমকি ও নির্যাতনের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির জুডিশিয়ারি পুলিশ। গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশির বয়স ৩৫ ও ৪৩ বছর। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাদের গ্রেপ্তারে পরিচালিত অভিযানের সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের মুদ্রা ‘টাকা’র নামে। পর্তুগালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জরনাল দে নোতিসিয়াসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুন লিসবনের একটি সড়ক থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই বিদেশিকে জোর করে একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হলেও পুরো সময় আটকে রাখা হয়েছিল। পর্তুগালের জুডিশিয়ারি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আটকে রাখার সময় ভুক্তভোগীকে বারবার মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার মুক্তির বিনিময়ে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত মুক্তিপণের অর্থ পরিশোধের পর ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নির্যাতনের কারণে পরে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়। চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর জুডিশিয়ারি পুলিশের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট তদন্ত শুরু করে। তদন্তে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার পর অভিযান চালিয়ে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদের প্রাথমিক বিচারিক শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট আদালত বা বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হবে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। লিসবনের তদন্ত ও প্রসিকিউশন বিভাগের পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে ঘিরে পরকীয়ার অভিযোগের একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে নেত্রকোণা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নে স্থানীয় কিছু লোক তাকে আটক করে সালিশে বসিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনার একটি ভিডিওও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সালিশি বৈঠকে রিপন মিয়াকে উপস্থিত রাখা হয়। সেই বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, বিবাহিত রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে পাশের গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। ওই অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সালিশে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রাম ছাড়ার দাবি জানানো হয় বলেও প্রচার করা হচ্ছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রশাসন, পুলিশ কিংবা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগ ও সালিশের সিদ্ধান্তের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পারিবারিকভাবে রিপন মিয়া বিবাহিত। তার স্ত্রী ছাড়াও এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ২০১৬ সালে ফেসবুকে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন রিপন মিয়া। অল্প সময়ের মধ্যেই সহজ-সরল উপস্থাপনা ও ঘরোয়া ভিডিওর মাধ্যমে তিনি দর্শকদের কাছে পরিচিতি লাভ করেন। বিশেষ করে ‘হাই, আই অ্যাম রিপন ভিডিও’ এবং ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’, এই সংলাপ দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং তাকে ভাইরাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়। এদিকে ভাইরাল হওয়া ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের দাবি-দাওয়া ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়লেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা আইনি অগ্রগতির তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত মার্কিন নাগরিককে বিমানবন্দরেই আটক করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগে আগে থেকেই পরোয়ানা জারি ছিল। সর্বাধুনিক মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রাভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে। নিয়মিত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভ্রমণকারীর বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাইয়ের সময় তার বিরুদ্ধে বিদ্যমান পরোয়ানার তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডাটাবেসে মিলে যায়। এরপর সিবিপি কর্মকর্তারা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেন। সিবিপি জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ ও প্রস্থান পয়েন্টগুলোতে বায়োমেট্রিক যাচাই ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শুধু ভ্রমণকারীর পরিচয় নিশ্চিতই নয়, বিভিন্ন অপরাধ, জাল পরিচয় ব্যবহার এবং পলাতক আসামিদের শনাক্ত করাও সহজ হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান আরও কার্যকর করেছে। ফলে অপরাধে অভিযুক্ত বা পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে। তবে গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকারকর্মীদের একটি অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তাদের মতে, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণে কঠোর নীতিমালা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং এর মূল উদ্দেশ্য সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিচয় জালিয়াতি রোধ করা এবং জননিরাপত্তা জোরদার করা। ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম, কোন বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্যও জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম পরিচিত স্থাপনা এম্পায়ার স্টেট ভবনের চূড়ায় অনুমতি ছাড়া উঠে ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং অন্যান্য ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানায়, বুধবার এক নারী ও এক পুরুষ ভবনের সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ অংশে প্রবেশ করে ধাতব কাঠামো বেয়ে সর্বোচ্চ অংশে উঠে যান। সেখানে তারা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। পরে ওই ব্যক্তি নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পুরো ঘটনার ছবি ও ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই অভিযুক্ত নিরাপদে নিচে নেমে আসার পর তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়। ভবন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই আরোহনের জন্য কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। ঘটনাটি কীভাবে ঘটল এবং কীভাবে অভিযুক্তরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিক্রম করে ভবনের চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় ভবনের দর্শনার্থী বা কর্মীদের কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনার সময় ভবনের কিছু অংশে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবনটি আবার সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রতীকী এই ভবনে অনুমতি ছাড়া এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ আরোহনের ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এ ঘটনার পর ভবনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের ছোট্ট গ্রাম হ্যামডেনে এক হৃদয়বিদারক অভিযানে একটি বাড়ি থেকে ১৬ জন শিশুকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শিশুদের অনেকেই গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। এ ঘটনায় চারজন প্রাপ্তবয়স্ককে শিশুদের জীবন বিপন্ন করার গুরুতর অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার পরিচালিত অভিযানে ওহাইও ব্যুরো অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন এবং ভিন্টন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা বাড়িটিতে প্রবেশ করে শিশুদের অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও মানবেতর পরিবেশে বসবাস করতে দেখেন। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স দেড় বছর থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা এতটাই গুরুতর ছিল যে দুই শিশুকে হেলিকপ্টারে করে বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয় এবং অন্যদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন গ্যারি সাইডার্স সিনিয়র, গ্যারি সাইডার্স জুনিয়র, এলিজাবেথ সাইডার্স এবং ক্রিস্টিনা সাইডার্স। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির অভিযোগসহ একাধিক ফেলনি শিশু নির্যাতন ও শিশুদের জীবন বিপন্ন করার মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওহাইওর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্ডি উইলসন ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অন্যতম ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শিশুদের যে পরিবেশে রাখা হয়েছিল তা কল্পনারও বাইরে এবং তাদের জন্য দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা ছিল অত্যন্ত জরুরি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে মানবপাচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ, শিশুদের সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পর্ক এবং তারা কতদিন ধরে ওই অবস্থায় ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাড়িটিতে আরও একটি পৃথক তল্লাশিও চালানো হচ্ছে। ওহাইওর গভর্নর মাইক ডিওয়াইন এক বিবৃতিতে বলেন, শিশুদের এমন অবস্থার খবর অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি শিশু সুরক্ষা বিভাগ, চিকিৎসাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে চার অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে শিশুদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।