আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ৩ - সীমান্তে ফের উত্তেজনা
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে সোমবার ভোরে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগান কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে পাকিস্তানি বাহিনী ও আফগান তালেবানের মধ্যে বিতর্কিত ডুরান্ড লাইনজুড়ে সংঘর্ষও বেড়েছে। কয়েক মাসের তুলনামূলক শান্ত অবস্থার পর নতুন করে দুই দেশের উত্তেজনা বাড়ায় আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলায় স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৩টার দিকে হামলায় একটি বাড়ি ধ্বংস হয়। এতে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত এবং আরও চারজন আহত হন। পাকতিকা প্রদেশের বারমাল এলাকাতেও দুটি স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে একটি দোকান ও একটি খালি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তবে হামলার লক্ষ্য ও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিমান হামলায় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের অবস্থান লক্ষ্য করা হয় এবং ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। আফগান কর্তৃপক্ষ বলছে, হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। উভয় পক্ষের এসব দাবি স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানি তালেবান বা টিটিপির সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছেন এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে হামলা চালানো হচ্ছে। আফগান তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যার দায় তাদের ওপর চাপানোর বিরোধিতা করছে।
সোমবারের বিমান হামলার আগে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় একাধিক হামলা হয়। কোহাটে একটি পুলিশ কমপ্লেক্সে হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। এর এক দিন পর হাঙ্গু এলাকায় বন্দুকধারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আরও ছয় পাকিস্তানি নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। এসব ঘটনার পর আফগানিস্তানে অবস্থানরত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইসলামাবাদ।
নতুন হামলার ঘটনায় আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে এবং পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে হামলা নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে দুই দেশের সীমান্তে পরিস্থিতি এখন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
দুই দেশের মধ্যে চলমান বিরোধের কেন্দ্রীয় বিষয়গুলোর একটি হলো ডুরান্ড লাইন ও সীমান্তপারের জঙ্গি তৎপরতা। ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। সোমবারের ঘটনাটি সেই উত্তেজনা আবারও বাড়িয়ে দিল, যা চীনসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকেও জটিল করে তুলতে পারে।
Source: রয়টার্স, ইন্ডিয়া টুডে
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একই সঙ্গে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা আইন করে সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্কুলে একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা থাকলে তাদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখানোও বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। রোববার রোমে নিজের দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব শাখার এক অনুষ্ঠানে মেলোনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব শিগগিরই মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। তবে এগুলো এখনো কার্যকর আইন নয়। সরকারের অনুমোদনের পর প্রস্তাবগুলোকে আইনে পরিণত করতে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। মেলোনির ঘোষণায় বোরকা ও নিকাবের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলাদা বিধানের কথা বলা হয়েছে। তবে প্রতি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা কত হবে, তা তিনি নির্দিষ্ট করে জানাননি। ইতালির শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ইতোমধ্যে সীমিত রাখার একটি নীতি রয়েছে। ২০১০ সালের একটি নির্দেশনায় সাধারণভাবে কোনো স্কুল বা শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর অনুপাত ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবে স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী এ নিয়মে ব্যতিক্রমের সুযোগ রয়েছে এবং বাস্তবে সব জায়গায় এটি একইভাবে কার্যকর হয়নি। ইতালির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির স্কুলগুলোতে বর্তমানে প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই। ফলে মেলোনির নতুন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ সীমার কী পরিবর্তন আনা হবে, সেটিই এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেলোনি বলেন, ইতালিতে যারা ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাদের ইতালীয় ভাষা শেখা, দেশটির সংস্কৃতি বোঝা এবং আইন মেনে চলা প্রয়োজন। স্কুলে একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখানোর বাধ্যবাধকতার প্রস্তাবও এই পরিকল্পনার অংশ। বোরকা ও নিকাবের বিষয়ে ইতালিতে বর্তমানে সরাসরি দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা নেই। ১৯৭৫ সালের একটি আইনে এমন পোশাক বা হেলমেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে, যার কারণে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া একজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ২০০৮ সালে ইতালির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত স্পষ্ট করেছিল, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে পুরো মুখ ঢেকে রাখা পোশাক পরা যেতে পারে। পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে অবশ্য মুখ দেখাতে হবে। মেলোনির নতুন পরিকল্পনার আগে দেশটির ক্ষমতাসীন জোটের শরিক লিগ পার্টিও মুখ ঢেকে রাখা পোশাকের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধের জন্য একটি বিল এনেছে। চলতি বছরের মার্চে সিনেটে জমা দেওয়া ওই প্রস্তাবে খেলাধুলা বা উপাসনালয়ের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ছাড়া মুখ ঢেকে রাখা পোশাক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। এদিকে মেলোনির ঘোষণার সঙ্গে ইতালির রাজনৈতিক পরিস্থিতিরও যোগ রয়েছে। আগামী বছর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। অভিবাসন ও অভিবাসীদের একীভূতকরণ ইতালির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। মেলোনির দল ব্রাদার্স অব ইতালির ডানদিকে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া নতুন রাজনৈতিক শক্তি ‘ফুতুরো নাজিওনালে’ও সাম্প্রতিক সময়ে বোরকা নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে। মেলোনির প্রস্তাব নিয়ে ইতালিতে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি কিছু সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সীমিত করার বিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষা ও সমান অধিকারের প্রশ্ন উঠতে পারে। ইতালির সংবিধানের ৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদে স্কুল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে জনসমক্ষে পুরো মুখ ঢেকে রাখা পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। তবে দেশভেদে এসব আইনের আওতা ও প্রয়োগের নিয়ম ভিন্ন। মেলোনির ঘোষিত পরিকল্পনার পর এখন মূল প্রশ্ন হলো, প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশি শিক্ষার্থী সীমিত করার নিয়ম ঠিক কীভাবে আইনে রূপ পাবে। বিশেষ করে বর্তমান ৩০ শতাংশ সীমার পরিবর্তে নতুন কোনো নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভা ও পরে সংসদে গেলে এর বিস্তারিত বিধান প্রকাশ পাওয়ার কথা। সূত্র: রয়টার্স, আনসা, আল জাজিরা
মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানি ৪৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন
ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠক, এআই ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাব
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ৩ - সীমান্তে ফের উত্তেজনা
আন্তর্জাতিক বাজারে সোমবার তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ঘিরে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এবং সৌদি আরবের তেল সরবরাহ কিছুটা পুনরুদ্ধারের খবরে বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমেছে। ফলে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয়ই ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। রয়টার্সের সর্বশেষ বাজার তথ্যে, সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুরের আগের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে নেমে আসে। আগের সেশনের তুলনায় কমেছে ২ দশমিক ১৬ ডলার বা ২ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুড ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে নেমেছে, যা আগের সেশনের তুলনায় ২ দশমিক ১৫ ডলার বা ২ দশমিক ১ শতাংশ কম। তেলের দাম কমার অন্যতম কারণ হিসেবে বাজারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাকে দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানিও আগস্টের বড় ধাক্কার পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কেপলার-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি দৈনিক ৪ মিলিয়ন ব্যারেলের ওপরে উঠেছে। আগস্টে দেশটির রপ্তানি নেমে গিয়েছিল দৈনিক প্রায় ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ব্যারেলে। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর সরবরাহের পথ বদলে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে রপ্তানি বাড়ানো হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের রিয়াদে হামলার দাবি করেছে এবং অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক অগ্রগতি না হলে তেলের বাজারে আবারও ঝুঁকি বাড়তে পারে। এদিকে তেলের দামের সাম্প্রতিক ওঠানামার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও। আজ থেকেই দেশে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, ৯৫ অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে সরকার এই দাম বাড়িয়েছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে আজ তেলের দাম কিছুটা কমলেও ব্রেন্ট এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে। সামনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক তৎপরতা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং সৌদি আরবের সরবরাহ - এই তিনটি বিষয়ই তেলের বাজারের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। Source: রয়টার্স
সন্দেহে ডিএনএ পরীক্ষা! ৪০ বছর পর জানা গেল, যমজ দুই বোনের বাবা আলাদা
কানাডায় ইউথ কনফারেন্স ২০২৭, যাতায়াত ও ফুল ফান্ডসহ রয়েছে আকর্ষণীয় সুবিধা
ইরান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ
ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবারির সেই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছোট ছেলে ক্যালানকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে প্রার্থনা করেছিলেন বাবা প্যাট্রিক ক্ল্যান্সি। দুই বড় সন্তান কোরা ও ডসনকে মৃত অবস্থায় পাওয়ার পর চিকিৎসকেরা যখন ক্যালানকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন প্যাট্রিকের একটাই আকুতি ছিল, অন্তত তার একটি সন্তান যেন বেঁচে থাকে। কিন্তু চার দিন হৃদস্পন্দন চলার পর ক্যালানও মারা যায়। সম্প্রতি সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সেই দুঃসহ সময়ের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবারিতে পরিবারের বাড়িতে পাঁচ বছর বয়সী কোরা, তিন বছর বয়সী ডসন এবং আট মাস বয়সী ক্যালানকে গুরুতর অবস্থায় পাওয়া যায়। প্যাট্রিকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বাড়িতে ফিরে সন্তানদের দেখতে পান এবং ক্যালানকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। ক্যালানের হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসকেরা চেষ্টা চালান এবং তাকে বোস্টন চিলড্রেনস হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে ক্যালানের হৃদস্পন্দন চার দিন চলেছিল। সেই সময়টুকু প্যাট্রিকের কাছে ছিল একদিকে আশার, অন্যদিকে গভীর অনিশ্চয়তার। তিনি জানান, তখন তিনি মনে মনে চেয়েছিলেন, অন্তত একজন সন্তান যেন তার কাছে ফিরে আসে। ক্যালানকে নিয়ে তিনি ভবিষ্যতের কথাও ভাবছিলেন এবং বড় দুই ভাইবোনের কথা তাকে একদিন বলবেন বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু সেই আশা শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। প্যাট্রিক জানান, ক্যালানের শেষ দিনগুলোতে তিনি তার পাশে ছিলেন, তাকে কোলে নিয়েছেন এবং কথা বলেছেন। একপর্যায়ে শিশুটি তার বাবার কোলে থাকা অবস্থাতেই মারা যায়। প্যাট্রিক বলেন, ওই কয়েকটি দিন তার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান ছিল, কারণ তিনি শেষ সময়টুকু সন্তানের সঙ্গে কাটাতে পেরেছিলেন। সন্তানদের মৃত্যুর পর প্যাট্রিক তিন সন্তানের স্মৃতি ধরে রাখতে তাদের নিয়ে লিখতে শুরু করেন। ক্যালানের হাত ধরে এক হাতে লেখা এবং অন্য হাতে সন্তানের হাত ধরে থাকার সেই সময়ের কথাও তিনি সাক্ষাৎকারে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তানদের নিয়ে না লিখলে তাদের স্মৃতি হারিয়ে যাবে, এমন একটি ভয় তার মধ্যে কাজ করছিল। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্যাট্রিকের সাবেক স্ত্রী লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলায় তার আইনজীবীরা দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি গুরুতর প্রসব-পরবর্তী মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তার মানসিক অবস্থার কারণে তিনি অপরাধের জন্য আইনগতভাবে দায়ী ছিলেন না। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া বিচার শেষে জুরি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি এবং মামলাটি মিস্ট্রায়ালে শেষ হয়। পুনর্বিচার হবে কি না, সে বিষয়ে প্রসিকিউটররা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি। মামলার বিচার চলাকালে প্যাট্রিক নিজেও আদালতে সাক্ষ্য দেন। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। ‘৬০ মিনিটস’-এর সাক্ষাৎকারে তিনি এসবকে নিজের ও সন্তানদের স্মৃতির জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য, অনলাইনে ছড়ানো নানা দাবি মূল ঘটনার পরিবর্তে মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দিয়েছে। প্যাট্রিক জানান, আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময়ও তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে গেছেন। একপর্যায়ে তার গুরুতর আতঙ্কের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয়। এরপরও তিনি আদালতে ফিরে গিয়ে নিজের সাক্ষ্য শেষ করেন। সন্তানদের হারানোর পর ডাক্সবারিতে থাকা কঠিন হয়ে পড়ায় প্যাট্রিক নিউইয়র্ক সিটিতে চলে যান। সেখানে তিনি নতুনভাবে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ২০২৪ সালে নিউইয়র্কে চিকিৎসক র্যাচেল ড্যানিসের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে তারা বিয়ে করেন। ড্যানিসও ‘৬০ মিনিটস’-এ প্যাট্রিকের সঙ্গে তাদের জীবন ও সন্তানদের স্মৃতি নিয়ে কথা বলেছেন। বর্তমানে প্যাট্রিক ও র্যাচেল নতুন করে পরিবার গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভবিষ্যতে তাদের সন্তানকে কোরা, ডসন ও ক্যালানের কথা কীভাবে বলবেন, সে প্রশ্নের জবাবে প্যাট্রিক জানান, তিনি একদিন তাদের বড় ভাই ও বোনের গল্প অবশ্যই বলবেন। তার কাছে সন্তানদের স্মৃতি এখনো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।
হানিমুনে গিয়ে বার্সেলোনায় আগুনে পুড়তে থাকা নার্সারির ২০ শিশু উদ্ধার করেন দম্পতি
ম্যাসাচুসেটসে নবজাতকের পরিচর্যা পরীক্ষনে মা-বাবার বাড়িতে নার্স পাঠাবে সরকার, তীব্র বিতর্ক