- প্রচ্ছদ
- Topic
ইনস্টাগ্রাম
নিউইয়র্কভিত্তিক ট্যাটু শিল্পী জেমা ফেরার জুলকা বর্তমানে ভারতের জয়পুর সফরে রয়েছেন। ভারত সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর ধারাবাহিক ইনস্টাগ্রাম ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওগুলোতে তিনি ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাব নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। জেমার বক্তব্যের অন্যতম বিষয় ছিল পশ্চিমা বিশ্বে ভারতকে উপস্থাপনের ধরন। তাঁর দাবি, বিদেশি চলচ্চিত্র ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে ভারতকে প্রায়ই দারিদ্র্য, অতিরিক্ত ভিড় ও নিম্নমানের জীবনযাপনের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হয়। একই সময়ে যোগ, আয়ুর্বেদ, মেডিটেশন, মণ্ডলা, ভারতীয় বস্ত্র ও কারুশিল্পের মতো ভারতীয় ঐতিহ্য পশ্চিমা বিশ্বে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাস প্রসঙ্গে জেমা বলেন, দেশটি একসময় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টেক্সটাইল শক্তি ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় তুলা, মসলিন ও সিল্ক আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত মূল্যবান ছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে বাণিজ্যনীতি পরিবর্তনের ফলে ভারতীয় উৎপাদকদের তুলনায় ব্রিটিশ নির্মাতারা সুবিধা পায় এবং এর প্রভাব পড়ে দেশটির তাঁতি ও কারিগরদের জীবিকায়। এখানেই জেমার সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যটি আসে। তিনি বলেন, ভারত “দরিদ্র ছিল না”, বরং দীর্ঘ সময় ধরে দেশটিকে দরিদ্র করে ফেলা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক বাণিজ্যনীতি ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং বিপুলসংখ্যক তাঁতি ও কারিগর জীবিকা হারান। এই বক্তব্য তাঁর নিজস্ব ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। ভারতের সংস্কৃতি নিয়েও জেমা সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে তৈরি বা অনুপ্রাণিত অনেক কিছু বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হলেও এগুলোর সঙ্গে যুক্ত ভারতীয় মানুষ ও সম্প্রদায় সবসময় যথেষ্ট স্বীকৃতি ও সম্মান পান না। তিনি বলেন, কোনো সংস্কৃতিকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি সেই সংস্কৃতির মানুষদের অবমাননা করা উচিত নয়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অহিংস ধারারও প্রশংসা করেন জেমা। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারত অহিংস আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছিল এবং অস্ত্র বা ব্যাপক রক্তপাত ছাড়াই একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। জেমা আরও জানিয়েছেন, ভারত সফরের পর দেশটির ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। নিজের শিল্পের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে আরও কাজ করার ইচ্ছার কথাও তিনি বলেছেন। তাঁর ভিডিওগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা ও বিতর্ক - দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ইনস্টাগ্রাম কি নতুন যুগে সিগারেটের জায়গা নিতে যাচ্ছে? মেটার প্রস্তাবিত নতুন কিছু বিধিনিষেধ অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্করা কীভাবে ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুক ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে সম্প্রতি একটি বড় ধরনের চুক্তিতে সম্মত হয়েছে মেটা। এই পদক্ষেপ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঠিক সেভাবেই বিবেচনা করতে শুরু করেছে, যেভাবে তারা একসময় সিগারেটকে করেছিল। অর্থাৎ এটিকে একটি আইনি ভোগ্যপণ্য হিসেবে ধরা হচ্ছে, যার ব্যবহারের ঝুঁকি কমানোর দায়ভার খোদ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ওপরই বর্তাবে। গত বুধবার ঘোষণা করা এই চুক্তিটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি কার্যকর হলে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিদিন সম্মিলিতভাবে দুই ঘণ্টার একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। একইসঙ্গে রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে তাদের প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকবে। এছাড়া স্কুলের সময়টাতে নোটিফিকেশন সীমিত করা এবং বয়স যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার কথা বলা হয়েছে এই চুক্তিতে। মেটা ঠিকমতো এসব নিয়ম মেনে চলছে কি না, তা তদারকি করবে একটি স্বাধীন নিরীক্ষক দল ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব পরিবারের ওপরই চাপিয়ে রাখা হয়েছিল। মেটা এতদিন অভিভাবকদের জন্য কিছু টুল বা সুবিধা দিয়ে আসছিল, যার মাধ্যমে তারা সন্তানদের অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারতেন। কিশোরদের ফোন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হতো এবং অভিভাবকের তদারকিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে প্রচার করা হতো। কিন্তু প্রস্তাবিত এই নতুন চুক্তি সেই পুরোনো ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। এখন কোনো পরিবার আলাদাভাবে বিধিনিষেধ আরোপের অনুরোধ করুক বা না করুক, মেটাকে নিজ থেকেই সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। তামাক বা সিগারেট শিল্পের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। সেখানেও ব্যবহারকারীর আচরণ নিয়ন্ত্রণের বদলে পণ্য এবং বিক্রেতা কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছিল। সিগারেট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক আগেই বদলাতে শুরু করেছিল। একসময় ধূমপানকে নিছকই ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু নীতিনির্ধারকরা যখন বুঝতে পারলেন এটি মানুষের জন্য ক্ষতিকর, তখন তারা পণ্যটি তৈরি ও বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর ওপর দায়বদ্ধতা চাপিয়ে দেন। ফলে সাধারণ সামাজিক জীবনের অংশ হিসেবে বিবেচিত ধূমপান এমন একটি পণ্যে পরিণত হয়, যা মূলত শিশু ও সাধারণ মানুষকে এর ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য নানা বিধিনিষেধের বেড়াজালে আবদ্ধ। ১৯৯৮ সালের টোব্যাকো মাস্টার সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এই পরিবর্তনকে একটি আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। ওই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য বড় বড় সিগারেট প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। সেখানে তরুণদের লক্ষ্য করে চালানো বিজ্ঞাপন, প্রচার ও অন্যান্য কৌশলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং কোম্পানিগুলোর ওপর বড় অঙ্কের আর্থিক দায়বদ্ধতা চাপানো হয়েছিল। মেটার নতুন প্রস্তাবিত চুক্তিটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রে অনেকটা সেরকমই একটি মোড় ঘোরানো পরিবর্তন। সন্তান কতক্ষণ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করবে, তা কেবল অভিভাবকদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার বদলে মেটাকে এখন নিজ থেকেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারের ওপর লাগাম টানতে হবে। যদি এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুমোদিত হয়, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায়ভার পণ্য ব্যবহারকারী পরিবারের কাছ থেকে সরাসরি পরিবেশক কোম্পানির কাঁধে চলে যাবে। অবশ্য সিগারেটের সঙ্গে এই তুলনার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মানসিক ও সামাজিক নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও সিগারেটের মতো সরাসরি শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকি এর নেই। তবে নীতিনির্ধারকদের যুক্তি এখানে বেশ পরিচিত। যখন তারা দেখেন যে শুধুমাত্র দায়িত্বশীল ব্যবহারের পরামর্শ যথেষ্ট নয়, তখন তারা সরাসরি পণ্যটিকেই নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেন। কিশোরদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত আসক্তি এবং পরিসংখ্যানগত উদ্বেগের কথা বিবেচনা করলে এটি নিঃসন্দেহে একটি দুর্দান্ত সূচনা। তবে ইনস্টাগ্রামের ওপর দুই ঘণ্টার সীমাবদ্ধতা খুব একটা কাজে আসবে না, যদি কিশোররা সহজেই টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট বা ইউটিউবের মতো অন্য প্ল্যাটফর্মে চলে যাওয়ার সুযোগ পায়। কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনতে হলে পুরো প্রযুক্তি শিল্পজুড়েই এ ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়া জরুরি। এখানেও সিগারেটের উদাহরণটি প্রাসঙ্গিক। তামাক নিয়ন্ত্রণ কেবল একটি কোম্পানি বা একটি চুক্তির মাধ্যমেই থেমে থাকেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিধিনিষেধগুলো পুরো শিল্পের জন্য নিয়ম বদলে দিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সম্ভবত একই পথে এগোচ্ছে। আগামী দিনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে প্রযুক্তিপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে এই ধরনের ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতা হয়তো ব্যবসার একটি স্বাভাবিক শর্ত হয়ে দাঁড়াবে। আর যখন তা হবে, তখন এই চুক্তিটি কেবল কিশোররা দিনে কত ঘণ্টা ফোন ব্যবহার করতে পারবে সেই আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে যেখানে শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকেই অনেকটা অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে। খবরের সূত্র: নিউজউইক
শিশু ও কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক মামলায় মেটার বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্য। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কিছু বহুল ব্যবহৃত ফিচার তরুণদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখে এবং অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করে, এমন অভিযোগ তুলে এসব ফিচারে বড় ধরনের পরিবর্তন চাওয়া হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মঙ্গলবার মামলাটির মূল বিচারপর্ব শুরু হয়েছে। মামলায় রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে মেটার কাছে সর্বোচ্চ প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নকশা ও ব্যবহারের পদ্ধতিতে আদালতের নির্দেশে পরিবর্তন আনার দাবি জানানো হয়েছে। মামলাটি ২০২৩ সালে ২৯ অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের করা অভিযোগ থেকে শুরু হয়। ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি মামলাটির প্রধান বাদী হিসেবে এগিয়ে রয়েছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, মেটা এমনভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার তৈরি করেছে, যাতে শিশু ও কিশোররা বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে এবং দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করে। একই সঙ্গে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও মেটা ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে অসীম স্ক্রল বা ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ ব্যবস্থা। এর ফলে একটি পোস্ট শেষ হওয়ার পর ব্যবহারকারীকে পরবর্তী পোস্টের আভাস দেখানো হয় এবং স্ক্রল করতে থাকলে নতুন নতুন কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামনে আসতে থাকে। রাজ্যগুলোর দাবি, এই নকশা ব্যবহারকারীকে থামার স্বাভাবিক জায়গা না দিয়ে ক্রমাগত স্ক্রল করতে উৎসাহিত করে। মামলার নথি অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে এই ধরনের অসীম স্ক্রল ব্যবস্থা ২০১৬ সালে চালু করা হয়। শুধু অসীম স্ক্রল নয়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া, পুশ নোটিফিকেশন, অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানো এবং অল্প সময় পর অদৃশ্য হয়ে যায় এমন কনটেন্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যগুলো। তাদের অভিযোগ, এসব ফিচার তরুণ ব্যবহারকারীদের মনোযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি তাদের বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে। রাজ্যগুলোর চাওয়া পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে শিশু-কিশোরদের জন্য অসীম স্ক্রল বন্ধ করা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়ার ব্যবস্থা সীমিত বা বন্ধ করা এবং তরুণ ব্যবহারকারীদের বারবার অ্যাপে ফেরাতে পারে এমন নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ করা। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজের মতো নির্দিষ্ট সময় পর অদৃশ্য হয়ে যাওয়া কনটেন্ট এবং একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ নিয়েও বিধিনিষেধ চাওয়া হয়েছে। ছবি ও ভিডিওতে চেহারা পরিবর্তনকারী ফিল্টারের ব্যবহার নিয়েও সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া রাজ্যগুলো মেটার সুপারিশভিত্তিক অ্যালগরিদমেরও পরিবর্তন চায়। তাদের অভিযোগ, কোন কনটেন্ট ব্যবহারকারীকে বেশি সময় ধরে রাখতে পারে, সেই বিষয়টি অ্যালগরিদমে গুরুত্ব পাওয়ায় তরুণদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন কনটেন্টও বারবার সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়। রাজ্যগুলোর ভাষ্য, প্ল্যাটফর্মের নকশাই এমনভাবে করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীর ব্যস্ততা বা ‘এনগেজমেন্ট’ সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। মামলায় শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়েও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজ্যগুলোর দাবি, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যথাযথ অভিভাবকীয় সম্মতি নেওয়া হয়নি। ২০২৬ সালের জুনে আদালত মেটার সারসংক্ষেপ রায়ের আবেদন পুরোপুরি নাকচ করে দেয় এবং মামলাটি বিচার পর্যন্ত যাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়। একই আদেশে আদালত ক্যালিফোর্নিয়ার এই দাবিও গ্রহণ করে যে শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা রক্ষার ফেডারেল আইন, শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন বা কপ্পা (COPPA) অনুযায়ী মেটার অভিভাবকের সম্মতি নেওয়ার পদ্ধতি যথেষ্ট ছিল না। তবে মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীদের বক্তব্য, রাজ্যগুলোর অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের দাবিও তারা মানে না। মেটা আরও বলেছে, তরুণদের সুরক্ষায় তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বয়সভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কাজ চলছে। মামলাটি এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি চাপ দ্রুত বাড়ছে। এর আগে নিউ মেক্সিকোর একটি মামলায় মেটাকে মোট ৯৪২ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের জুরি রায় এবং পরে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের জরিমানা রয়েছে। ওই মামলায় শিশুদের সুরক্ষায় বয়স যাচাই জোরদার করা, রাত ও স্কুলের সময়ে নোটিফিকেশন সীমিত করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার বর্তমান মামলাটি অবশ্য আরও বড় পরিসরের। যদিও ২৯টি অঙ্গরাজ্য মামলায় রয়েছে, অকল্যান্ডের এই বিচারপর্বে প্রধানত ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সির অভিযোগগুলো নিয়ে শুনানি হচ্ছে। বিচারপ্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। মেটার শীর্ষ নির্বাহীদের সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এই মামলার ফল শুধু মেটার জন্য নয়, পুরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আদালত যদি রাজ্যগুলোর অভিযোগের পক্ষে রায় দেয় এবং নকশাগত পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়, তাহলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই ধরনের মামলায় অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে থাকায়, এই রায় ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর শিশু-কিশোরদের জন্য পণ্য তৈরির পদ্ধতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অসীম স্ক্রল, স্বয়ংক্রিয় ভিডিও, নোটিফিকেশন এবং অ্যালগরিদমভিত্তিক সুপারিশের মতো ফিচারগুলো যদি আদালতের নির্দেশে সীমিত করা হয়, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রচলিত অভিজ্ঞতাই বদলে যেতে পারে। আর মেটার বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবির পাশাপাশি এই নকশাগত পরিবর্তনের দাবিই মামলাটিকে প্রযুক্তি শিল্পের জন্য এতটা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নকশা তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে এবং শিশুদের যথাযথ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত। রায়ে প্ল্যাটফর্ম দুটির মূল প্রতিষ্ঠান মেটা-কে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত একটি তহবিলে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সান্তা ফের বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড রায়ে বলেছেন, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো নিউ মেক্সিকোতে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেসের মামলায় অভিযোগ ছিল, মেটা এমনভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম তৈরি করেছে, যা অল্পবয়সী ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করে এবং একই সঙ্গে শিশুদের যৌন শোষণের ঝুঁকি থেকে যথেষ্ট সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারই মেটার বিরুদ্ধে নিউ মেক্সিকোতে একমাত্র আর্থিক দণ্ড নয়। একই মামলার আগের ধাপে গত মার্চে একটি জুরি ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করেছিল। দুই ধাপ মিলিয়ে মেটার আর্থিক দায় দাঁড়িয়েছে ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। আর্থিক দণ্ডের পাশাপাশি নিউ মেক্সিকোর অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বড় ধরনের পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ১৮ বছরের কম বয়সীদের মাসিক ব্যবহার সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টায় সীমিত করা, স্কুলের সময় ও রাতে নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, বয়স যাচাই আরও কঠোর করা এবং শিশুদের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ ঠেকাতে সুরক্ষা বাড়ানোর নির্দেশ রয়েছে। এসব ব্যবস্থা পাঁচ বছর আদালতের তত্ত্বাবধানে কার্যকর থাকার কথা। এছাড়া মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট যেন অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন বা রোমান্টিক ধরনের কথোপকথনে অংশ নিতে না পারে, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সন্দেহজনক নগ্ন ছবি ঝাপসা করে দেওয়ার মতো অতিরিক্ত সুরক্ষাও আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। তবে আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি মেটা। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। মেটার দাবি, অনলাইনে কিশোরদের নিরাপত্তায় তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে এবং মামলায় তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে তুলে ধরে না। রায়টি আপাতত শুধু নিউ মেক্সিকোতে সরাসরি কার্যকর হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টির বেশি অঙ্গরাজ্য এবং ১ হাজার ৩০০টির বেশি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে একই ধরনের মামলা করেছে। ফলে নিউ মেক্সিকোর এই রায় ভবিষ্যতে মেটাসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে।
ভারতজুড়ে শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যে তরুণদের উদ্দেশে প্রকাশ করা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ইনস্টাগ্রাম রিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৩০ কোটির বেশি ভিউ অর্জন করেছে। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, এটি ইনস্টাগ্রামে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক ভিউ পাওয়া রিলের নতুন বিশ্বরেকর্ড। মোদি সম্প্রতি সেলফি-ধাঁচের একটি ভিডিও বার্তায় পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ নিয়ে কথা বলেন। ভিডিওটি প্রকাশের একদিনের মধ্যেই ৩০৩ মিলিয়নের বেশি ভিউ অতিক্রম করে। এর আগে ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক ভিউয়ের রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় ইউটিউবার ও স্ট্রিমার আইশোস্পিডের একটি ইনস্টাগ্রাম রিলের দখলে, যা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ভিউ পেয়েছিল। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মোদি আরেকটি রিল প্রকাশ করে দর্শকদের ধন্যবাদ জানান। একই সময়ে তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যাও দ্রুত বেড়ে যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র এক রাতেই তার অনুসারী প্রায় ১০ লাখ বৃদ্ধি পেয়ে ১০ কোটিরও বেশি হয়েছে। ভারতে সাম্প্রতিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তরুণদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ পরিস্থিতিতে মোদির ভাইরাল রিলকে তরুণদের কাছে পৌঁছানোর একটি নতুন ডিজিটাল কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা এখন পর্যন্ত এ ভিউসংখ্যাকে কেন্দ্র করে কোনো আনুষ্ঠানিক "বিশ্বরেকর্ড" ঘোষণা করেনি। রেকর্ডের দাবিটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শিশুদের যৌন নিপীড়ন ও শোষণমূলক (সিএসইএএম) সব ধরনের কনটেন্ট অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার জন্য মেটাকে নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। ইনস্টাগ্রামের পেইড বিজ্ঞাপনে (টাকা দিয়ে চালানো বিজ্ঞাপন) শিশুদের যৌন নির্যাতনের উপাদান প্রদর্শিত হওয়ার অভিযোগে মার্কিন এই প্রযুক্তি জায়ান্টকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং আগামী ৭ দিনের মধ্যে এর বিস্তারিত জবাব চাওয়া হয়েছে। আজ রবিবার ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, ইনস্টাগ্রাম ভারতে শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট প্রচারের জন্য পেইড বিজ্ঞাপন বা প্রমোশন ব্যবহার করতে দিয়েছে। প্ল্যাটফর্মটিতে "রেপ ভিডিও" এবং "চাইল্ড ভিডিও" এর মতো আপত্তিকর শব্দসহ পেইড বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা হচ্ছিল, যা ব্যবহারকারীদের সরাসরি টেলিগ্রাম চ্যানেলে নিয়ে যেত। আর সেসব টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই ধরনের নিষিদ্ধ উপাদান বিক্রি করা হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ভারত সরকার এই ধরনের ভয়াবহ কনটেন্টগুলোর 'অ্যালগরিদমিক অ্যামপ্লিফিকেশন' বা সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টির তীব্র বিরোধিতা করে মেটার কাছে অবিলম্বে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে—কীভাবে এই ধরনের সংবেদনশীল বিজ্ঞাপনগুলো মেটার সিস্টেমে অনুমোদিত হলো, অভিযোগ ওঠার পর মেটা কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি রোধে কী ধরনের সুরক্ষাকবচ ব্যবহার করা হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথাযথ তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে মেটার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। বিবিসি’র এই অনুসন্ধান এবং মন্তব্যের অনুরোধের প্রেক্ষিতে মেটা জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই এই ধরনের বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিয়েছে এবং যে অ্যাকাউন্টগুলো থেকে এগুলো ছড়ানো হচ্ছিল, সেগুলো স্থায়ীভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের জন্য নতুন পেইড সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে মেটা। এতদিন বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসায়িক মডেলে পরিচালিত হলেও এবার নতুন রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যে ‘ফেসবুক প্লাস’, ‘ইনস্টাগ্রাম প্লাস’ ও ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস’ নামের সেবা চালু করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন মেটার হেড অব প্রোডাক্ট নাওমি গ্লেইট। তিনি নিজের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় জানান, বিশ্বব্যাপী ধাপে ধাপে নতুন এই সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা চালু করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ব্যবসায়ী, কনটেন্ট নির্মাতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবার জন্য আলাদা সংস্করণ আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। কেন পেইড সেবা চালু করছে মেটা মেটার এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। চলতি বছরে এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিকল্প আয়ের উৎস গড়ে তুলতে মেটা নতুন সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর পথে হাঁটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘোষণার পর পুঁজিবাজারে মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। কত খরচ হবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুক প্লাস ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে ৩ ডলার ৯৯ সেন্ট ফি দিতে হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৯১ টাকা। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসের মাসিক সাবস্ক্রিপশন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ডলার ৯৯ সেন্ট, যা প্রায় ৩৬৮ টাকার সমান। তবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে একই মূল্য কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি মেটা। কী সুবিধা মিলবে ফেসবুক প্লাস ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস ব্যবহারকারীরা উন্নত অ্যানালিটিকস সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে স্টোরি কতবার দেখা হয়েছে, কারা দেখেছে এবং পোস্টের পারফরম্যান্স সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। পাশাপাশি পোস্টের পৌঁছ বাড়ানো এবং প্রোফাইল কাস্টোমাইজেশনের অতিরিক্ত সুবিধাও থাকবে। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসে ব্যক্তিগতকরণ বা পার্সোনালাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সেবার আওতায় প্রিমিয়াম স্টিকার, কাস্টম রিংটোন, বিশেষ থিমসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে। আসছে ‘মেটা ওয়ান’ নাওমি গ্লেইট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মেটার বিভিন্ন সেবাকে ‘মেটা ওয়ান’ নামে একটি একক সাবস্ক্রিপশন প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেটা সুরক্ষা আইন মেনে ইউরোপে বিজ্ঞাপনমুক্ত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের একটি পেইড সংস্করণ চালু করেছিল মেটা। তবে সেই সংস্করণে মূলত বিজ্ঞাপন অপসারণ ছাড়া ফ্রি সংস্করণের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।