সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

উবার

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার মহাসড়কে উবার থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর গাড়ির ধাক্কায় নিহত ২৩ বছর বয়সী তরুণী এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কার। ছবি: সংগৃহীত
মহাসড়কে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যু, উবারকে ৪০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মহাসড়কে উবার থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর গাড়ির ধাক্কায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত হওয়ার ঘটনায় তার বাবা-মাকে ৪০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ দিনের সালিশি শুনানি শেষে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক রিচার্ড এ. স্টোন উবার ও চালক ভু ট্রানকে ওই ঘটনায় যৌথভাবে দায়ী করেন। নিহত এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কারের বাবা ক্যারল নরম্যান্ডিন ও মা কেন পার্কারকে ২০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট। এমিলি তার বন্ধু লুনা মুরের সঙ্গে রাতে বাইরে যাওয়ার পর উবারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। যাত্রাপথে মুর অসুস্থ হয়ে পড়লে চালক ভু ট্রান অরেঞ্জ কাউন্টির স্টেট রুট ৭৩-এর একটি ‘গোর পয়েন্টে’ গাড়ি থামান। এটি মহাসড়কের মূল সড়ক ও অফ-র‌্যাম্পের মাঝের ত্রিভুজাকৃতির একটি অংশ।   সালিশি রায়ে বিচারক স্টোন ওই জায়গাটিকে ‘অনিরাপদ ও অবৈধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ট্রান চাইলে কাছের ম্যাকআর্থার বুলেভার্ডের প্রস্থানপথ ব্যবহার করে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামাতে পারতেন। রায়ে আরও বলা হয়, ট্রান জানতেন দুই যাত্রীই মদ্যপ ছিলেন। গাড়ি পরিষ্কারের খরচ নিয়ে মুরের সঙ্গে তার বিরোধের পর তিনি তাদের ওই স্থানে নামিয়ে দেন।   এরপর এমিলি মহাসড়কের মূল সড়কে চলে যান এবং একটি গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন। সালিশি রায়ে বলা হয়েছে, জিপিএস তথ্য অনুযায়ী ট্রান সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় এমিলির মরদেহের কাছ দিয়ে যান। এরপর পরবর্তী প্রস্থানপথ দিয়ে মহাসড়ক থেকে বের হয়ে তিনি উবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং গাড়ি পরিষ্কারের খরচ পাওয়ার বিষয়ে কথা বলেন।   বিচারক স্টোন ট্রানের সাক্ষ্য নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন। সালিশি রায়ে তার বক্তব্যকে প্রায় সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়। বিচারকের মতে, ট্রান যাত্রীদের নিরাপত্তার চেয়ে নিজের নতুন গাড়ি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন। একই সঙ্গে তার কাছে দুই নারীকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ ছিল বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।   এমিলির পরিবারের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে সালিশি শুনানিতে ট্রানের আগের আচরণ নিয়েও তথ্য উপস্থাপন করা হয়। তাদের দাবি, ট্রানের গাড়ি চালানো নিয়ে উবারের কাছে আগে থেকেই একাধিক অভিযোগ ছিল। একজন যাত্রী তার সঙ্গে হওয়া যাত্রাকে নিজের অভিজ্ঞতার সবচেয়ে অনিরাপদ যাত্রা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। আরেকজন অভিযোগ করেছিলেন, ট্রান গাড়ি চালাতে পারেন না।   এমিলির বাবা কেন পার্কার অভিযোগগুলোর মধ্যে একমুখী সড়কে উল্টো পথে গাড়ি চালানো, অনিয়মিতভাবে গাড়ি চালানো এবং পথচারীদের প্রায় ধাক্কা দেওয়ার মতো আচরণের কথা উল্লেখ করেন। তবে উবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রান এখন আর তাদের প্ল্যাটফর্মে চালক হিসেবে কাজ করেন না।   পাঁচ দিনের সালিশি প্রক্রিয়া শেষে এমিলির বাবা ও মাকে ২০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই ঘটনায় তার বন্ধু লুনা মুরকে ৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।   সালিশি রায়ে উবারকে চালক ট্রানের অবহেলার জন্য আইনগতভাবে দায়ী করা হয়। উবারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটি মূলত যাত্রী ও চালকদের সংযোগকারী একটি প্রযুক্তি কোম্পানি। তবে বিচারক সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তার সিদ্ধান্তে বলা হয়, উবার অ্যাপের মাধ্যমে পরিবহনসেবা দেয়, ভাড়া নির্ধারণ করে এবং যাত্রীদের যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিক নিয়ন্ত্রণ করে।   ক্যালিফোর্নিয়ার ‘প্রপোজিশন ২২’ নিয়েও উবারের যুক্তি ছিল। ২০২০ সালে অনুমোদিত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অ্যাপভিত্তিক চালকদের কর্মচারীর পরিবর্তে স্বাধীন ঠিকাদার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হয়। তবে সালিশি বিচারক মনে করেন, এই বিধান ট্রানের আচরণের জন্য উবারকে দায়মুক্তি দেয় না।   উবার এক বিবৃতিতে এমিলির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কোনো পরিবারেরই সন্তান হারানোর কষ্ট পাওয়া উচিত নয়। তবে উবার একই সঙ্গে জানিয়েছে, সালিশি প্রক্রিয়াকে সম্মান করলেও প্রতিষ্ঠানটিকে ওই ঘটনার জন্য আইনগতভাবে দায়ী করার সিদ্ধান্তকে তারা ভুল মনে করে। উবার আরও জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে যাত্রী নিরাপত্তা বাড়াতে বিভিন্ন প্রযুক্তি, নীতিমালা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।   এদিকে এমিলির বাবা-মা মেয়ের মৃত্যুর পর তার স্মরণে ‘এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কার ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাইডশেয়ারিং সেবায় যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার এবং করপোরেট জবাবদিহি নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যেই ফাউন্ডেশনটি গঠন করা হয়েছে। সালিশি মামলায় পাওয়া অর্থের একটি অংশ এই উদ্যোগে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।   এমিলি ২০২২ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। মেয়েকে স্মরণ করে তার মা জানিয়েছেন, এমিলির হাসি ছিল সংক্রামক। পরিবার জানিয়েছে, তিনি ছিলেন হাসিখুশি এবং গান গাইতে ভালোবাসতেন।   সূত্র: গুড মর্নিং আমেরিকা

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
৩ হাজার ৩০০ কর্মী ছাঁটাই করছে উবার
ব্যবসা ঢেলে সাজাতে ৩ হাজার ৩০০ কর্মী ছাঁটাই করছে উবার

ব্যবসার কাঠামো ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কর্মী ছাঁটাই করছে উবার। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশকে এই ছাঁটাইয়ের আওতায় আনা হচ্ছে, যা কোভিড-১৯ মহামারির পর কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় কর্মী সংকোচন।    উবারের প্রধান নির্বাহী দারা খোসরোশাহি কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় জানিয়েছেন, কোম্পানির দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত স্তর, কাজের সমন্বয়ে জটিলতা এবং দায়িত্ব বণ্টনে বিভাজন তৈরি হয়েছে। নতুন কাঠামোর লক্ষ্য এসব জটিলতা কমিয়ে প্রতিষ্ঠানকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করা।   পুনর্গঠনের ফলে উবারে ব্যবস্থাপনা স্তরও কমানো হচ্ছে। সাত বা তার বেশি স্তর নিচে থাকা কর্মীর সংখ্যা ২০ শতাংশ কমানো হবে। একই সঙ্গে এক বা দুইজন কর্মী নিয়ে গঠিত ছোট ‘মাইক্রো-টিম’-এর সংখ্যাও প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো হচ্ছে।    কোম্পানির বিভিন্ন দলও একীভূত করা হচ্ছে। রেস্টুরেন্ট, খুচরা ব্যবসা ও অন্যান্য ডেলিভারি কার্যক্রমের পৃথক দলগুলোকে আরও সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হবে। উবার বলছে, এতে একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি কমবে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার গতি বাড়বে।   কর্মীদের অফিসে ফেরানোর ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনছে উবার। এখন থেকে মাত্র প্রায় ১ শতাংশ কর্মী দূর থেকে কাজ করতে পারবেন। অধিকাংশ কর্মীকে অফিসে ফিরতে হবে এবং আগের মতো সপ্তাহে অন্তত তিন দিন অফিসে কাজের নীতি বহাল থাকবে।   উবারের দাবি, কর্মী কমিয়ে যে অর্থ সাশ্রয় হবে তা ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা হবে। বিশেষ করে চালক, ডেলিভারি কর্মী ও ব্যবসায়ীদের জন্য সেবার উন্নয়ন এবং স্বয়ংক্রিয় গাড়ি বা রোবোট্যাক্সি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।    স্বয়ংক্রিয় পরিবহন খাতে উবারের বিনিয়োগও দ্রুত বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটি আগামী বছরগুলোতে রোবোট্যাক্সি অংশীদারিত্ব ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। একই সময়ে ওয়েমো ও টেসলার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বয়ংক্রিয় গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতাও বাড়ছে।   নতুন ছাঁটাইয়ের ফলে উবারের মোট কর্মী সংখ্যা ৩০ হাজারের নিচে নেমে আসতে পারে, যা প্রায় ২০২১ সালের পর্যায়ে ফিরে যাওয়ার সমান। তবে এই ছাঁটাই উবারের চালক ও ডেলিভারি কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; তারা সাধারণত স্বাধীন ঠিকাদার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ।   উবার জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য শুধু খরচ কমানো নয় - বরং প্রতিষ্ঠানের কাঠামো সরল করে ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধি ও স্বয়ংক্রিয় পরিবহন প্রযুক্তিতে আরও বেশি সম্পদ কেন্দ্রীভূত করা।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
উবারের নতুন ফিচার, সন্তানের রাইড লাইভ ভিডিওতে দেখতে পারবেন বাবা-মা
উবারের নতুন ফিচার, সন্তানের রাইড লাইভ দেখতে পারবেন বাবা-মা

কিশোর-কিশোরীরা একা উবারে যাতায়াতের সময় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে বাবা-মায়ের উদ্বেগ কমাতে নতুন সুবিধা চালু করেছে রাইডশেয়ারিং কোম্পানি উবার। এখন নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় উবারের টিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারী সন্তানের রাইড চলাকালীন গাড়ির ভেতরের দৃশ্য লাইভ ভিডিওতে দেখতে পারবেন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত বাবা-মা বা অভিভাবক।   উবারের নতুন এই লাইভ ভিডিও সুবিধা ২৫ আগস্ট থেকে চালু হয়েছে। উবারের টিন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা বাবা-মা বা লিগ্যাল গার্ডিয়ানের অনুমতি নিয়ে নিজেরাই রাইড নিতে পারে। নতুন ফিচারের লক্ষ্য হলো সন্তান একা স্কুল, খেলাধুলা বা অন্য কোনো কাজে যাতায়াত করার সময় বাবা-মাকে রাইডের পরিস্থিতি আরও সরাসরি দেখার সুযোগ দেওয়া।   রাইড শুরু হওয়ার পর লাইভ ভিডিও সুবিধা পাওয়া গেলে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত বাবা-মা বা অভিভাবকের ফোনে একটি নোটিফিকেশন যাবে। এরপর উবার অ্যাপ থেকে এক ট্যাপেই রাইডের লাইভ ভিডিও দেখা যাবে। ভিডিওটি ধারণ করা হবে উবার ড্রাইভারের ফোনের সামনের ক্যামেরা দিয়ে, যাতে মূলত গাড়ির পেছনের সিটের দৃশ্য দেখা যায়।   তবে প্রতিটি রাইডে লাইভ ভিডিও সুবিধা নিশ্চিত নয়। ড্রাইভার চাইলে এই সুবিধা চালু বা বন্ধ রাখতে পারবেন। ফলে কোনো রাইড শুরু হওয়ার আগে বাবা-মা জানতে পারবেন না যে ওই রাইডে লাইভ ভিডিও দেখা যাবে কি না। লাইভ ভিডিও চালু থাকলে বাবা-মা রাইডের যেকোনো সময় সেটি দেখতে পারবেন। বাবা-মা ভিডিও দেখা শুরু করলে কিশোর যাত্রী এবং ড্রাইভার দুজনকেই বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।   রাইড শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইভ ভিডিওও বন্ধ হয়ে যাবে। উবার জানিয়েছে, ভিডিওটি এনক্রিপ্টেড থাকবে এবং রাইড চলাকালীন এটি কেবল সংশ্লিষ্ট কিশোরের সঙ্গে যুক্ত বাবা-মা বা অভিভাবকই লাইভ দেখতে পারবেন। উবার নিজেও রাইড চলাকালীন ওই ভিডিও দেখতে পারবে না। তবে নিরাপত্তাজনিত কোনো ঘটনার তদন্তের প্রয়োজন হলে এনক্রিপ্টেড ভিডিও ফাইলের ডিক্রিপশন কী ব্যবহারের সুযোগ কোম্পানির থাকতে পারে।   উবারের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ক্ষেত্রে রাইডের ভিডিও রেকর্ডিং ১৪ দিন পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলা হবে। তবে কোনো ভিডিও নিরাপত্তাসংক্রান্ত রিপোর্টের অংশ হলে কোম্পানির ডেটা সংরক্ষণ নীতিমালা অনুযায়ী সেটি আরও বেশি সময় রাখা হতে পারে।   প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি মার্কেটে নতুন লাইভ ভিডিও সুবিধা চালু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আটলান্টা, ফিনিক্স, অরল্যান্ডো, র‍্যালি-ডারহাম, পোর্টল্যান্ড, সান অ্যান্টোনিও, ক্লিভল্যান্ড, রোড আইল্যান্ড এবং এল পাসো। ক্যালিফোর্নিয়ায় এখনো এই সুবিধা চালু হয়নি। উবার জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশজুড়ে ফিচারটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।   নতুন লাইভ ভিডিও সুবিধার পাশাপাশি টিন অ্যাকাউন্টে আগে থেকেই রয়েছে রাইডের লাইভ ট্র্যাকিং, পিন ভেরিফিকেশন এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সুবিধা। রাইডের সময় বাবা-মা সন্তানের অবস্থান ও যাত্রার অগ্রগতি অ্যাপের মাধ্যমে দেখতে পারেন।   উবার ২০২৩ সালে টিন অ্যাকাউন্ট চালু করে। বর্তমানে ৫০টিরও বেশি দেশে এই সেবা রয়েছে এবং কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, চালুর পর থেকে টিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীরা বিশ্বজুড়ে বছরে কোটি কোটি রাইড সম্পন্ন করছেন। নতুন লাইভ ভিডিও সুবিধার মাধ্যমে সন্তানকে স্বাধীনভাবে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাবা-মায়ের জন্য রাইডের সময় আরও সরাসরি নজর রাখার সুযোগ তৈরি হলো।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
চালকদের অ্যাকাউন্ট বন্ধের কারণে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ উবারকে ৯৬৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা। ছবি: সংগৃহীত
ড্রাইভারদের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করায় উবারকে ৯৬৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

ড্রাইভারদের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় করায় উবারকে ৯৬৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে নেদারল্যান্ডসের ডেটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ। ১৭ আগস্ট দেওয়া সিদ্ধান্তে কর্তৃপক্ষ জানায়, উবার পর্যাপ্তভাবে না জানিয়ে এবং মানবীয় পর্যালোচনা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ড্রাইভারদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে। শুক্রবার নেদারল্যান্ডসের কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করে।   উবারের বিরুদ্ধে আরোপ করা জরিমানার পরিমাণ ৮২৫ মিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ৯৬৬ মিলিয়ন ডলারের সমান। ইউরোপের সাধারণ তথ্য সুরক্ষা বিধিমালার আওতায় এটি এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় বৃহত্তম জরিমানা। এর আগে ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডে মেটাকে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো জরিমানা করা হয়েছিল।   নেদারল্যান্ডসের ডেটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের উপপ্রধান মনিক ভারডিয়ার বলেন, উবার সতর্কতা বা মানবীয় সম্পৃক্ততা ছাড়াই ড্রাইভারদের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করেছে। এর ফলে ড্রাইভাররা হঠাৎ করে তাদের আয়ের উৎস হারিয়েছেন। বড় ধরনের প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্ত কোনো কম্পিউটারের এককভাবে নেওয়া উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।   উবার অবশ্য এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সিদ্ধান্ত এবং জরিমানার পরিমাণকে অযৌক্তিক মনে করছে। উবারের দাবি, তারা ড্রাইভারদের অধিকারকে গুরুত্ব দেয় এবং তাদের নীতিতে মানবীয় পর্যালোচনার পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট স্থগিতের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর সুযোগ রয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে।   ঘটনাগুলো ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ইউরোপে ঘটেছে। একটি ফরাসি অভিযোগের সূত্র ধরে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে। উবারের ইউরোপীয় সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসে হওয়ায় বিষয়টি দেশটির ডেটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের অধীনে তদন্ত করা হয়।   উবার প্রতারণার সন্দেহে কিছু ড্রাইভারের অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। এর মধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জন্য অপ্রয়োজনীয় পথে যাওয়া অথবা যাত্রা শেষ করার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও ভ্রমণ গ্রহণ করার মতো বিষয় ছিল। উবার জানিয়েছে, এসব স্থগিতাদেশ সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য ছিল এবং মানবীয় পর্যালোচনা ছাড়া স্থায়ীভাবে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হতো না।   তবে নেদারল্যান্ডসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কম গ্রাহক রেটিং পাওয়া কিছু ড্রাইভারের অ্যাকাউন্ট কম্পিউটারের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল। উবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, স্থায়ীভাবে অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার সিদ্ধান্ত তারা কখনো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেয়নি।   উবার আরও জানিয়েছে, জরিমানার পরিমাণ অযৌক্তিক হওয়ার একটি কারণ হলো এতে ক্ষতিগ্রস্ত ড্রাইভারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ইউরোপে কম গ্রাহক রেটিংয়ের কারণে ১২৬ জন ড্রাইভারের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উবারের ২০২৫ সালের বার্ষিক আয়ের একটি অংশ হিসাব করে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।   ইউরোপের সাধারণ তথ্য সুরক্ষা বিধিমালা অনুযায়ী, মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্ত শুধু কম্পিউটার অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নেওয়া যাবে না। এ ধরনের সিদ্ধান্তে অর্থবহ মানবীয় পর্যালোচনা এবং সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকতে হবে।   সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ডিজিটাল অধিকার সংগঠন পারসোনালডাটা ডট আইও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটি ফরাসি উবার ড্রাইভারদের কর্মসংক্রান্ত অ্যালগরিদমিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে তথ্য পেতে সহায়তা করেছিল। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা পল অলিভিয়ের দেহায়ে জানিয়েছেন, ড্রাইভারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে উবারের বিরুদ্ধে একটি যৌথ মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
পরিবারের অজান্তে উবারে চড়ে জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছে যাওয়া ১১ বছর বয়সী অটিজমে আক্রান্ত শিশু | ছবি: সংগৃহীত
১১ বছরের শিশু একাই উবারে চড়ে পৌঁছে গেল জেএফকে বিমানবন্দরে, অতঃপর যা হলো

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের ভ্যালি স্ট্রিম এলাকার ১১ বছর বয়সী অটিজমে আক্রান্ত শিশু জামেল জনসন পরিবারের অজান্তেই একাই উবারে চড়ে জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে যায়। পরে পোর্ট অথরিটি পুলিশ তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাবালকদের রাইডশেয়ার ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   পরিবারের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, বাড়ির রিং ডোরবেল ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ভোর আনুমানিক ৫টা ৫৫ মিনিটে জামেল একটি কালো রঙের উবার এসইউভিতে উঠে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। সে সময় তার বাবা-মা বিষয়টি জানতে পারেননি।   ঘুম থেকে উঠে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পান, একটি স্যুটকেস নিয়ে জামেল বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।   এদিকে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন তার বাবা। পরে তিনি জামেলের মোবাইল ফোনে কল করলে সেটি রিসিভ করেন জেএফকে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত পোর্ট অথরিটি পুলিশের একজন সদস্য।   কর্তৃপক্ষ জানায়, জামেল জেএফকের টার্মিনাল-১ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। সেখানে ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) কর্মকর্তারা তার কাছে কোনো বিমানের টিকিট না থাকায় তাকে থামান। সকাল প্রায় ৬টা ৩০ মিনিটে পুলিশ তাকে নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে চিকিৎসাকর্মীরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন, শিশুটি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে।   জামেলের পরিবারের ভাষ্য, অটিজমে আক্রান্ত অনেক শিশুই কখনও কখনও পরিবারের অজান্তে বেরিয়ে যেতে পারে। তবে মাত্র ১১ বছর বয়সী একটি শিশু কীভাবে একা উবারে করে এত দূর বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে গেল, সেটিই তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। তাদের মতে, রাইডশেয়ার কোম্পানিগুলোর আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব। পরিবার উবারসহ অন্যান্য রাইডশেয়ার প্রতিষ্ঠানের প্রতি নাবালকদের একা ভ্রমণ ঠেকাতে আরও কার্যকর পরিচয় যাচাই ও নিরাপত্তা নীতি প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।   উবারের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো নাবালক প্রাপ্তবয়স্ক অভিভাবক ছাড়া একা যাত্রা করতে পারে না। তবে জামেল কীভাবে একাই উবারে করে জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলেও রোববার রাত পর্যন্ত উবার কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

তাবাস্সুম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার তেলের পাম্পে দীর্ঘ সারি: রাইড শেয়ারিং বাইকারদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ

রাজধানী ঢাকায় কয়েকদিন ধরেই তেলপাম্পগুলোতে দীর্ঘ যানজট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এটি কোনো জ্বালানি সংকট নয়। সমস্যার মূল কারণ হলো রাইড শেয়ারিং সার্ভিস চালকদের বিশেষ করে পাঠাও ও উবার অসংগঠিত আচরণ। সাধারণ মোটরসাইকেল আরোহীদের অভিযোগ, এই চালকদের বিশৃঙ্খল অবস্থানের কারণে পাম্পে সেবা নেওয়া এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।   সরেজমিনে মগবাজার, তেজগাঁও ও ধানমন্ডি এলাকার বেশ কয়েকটি পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান সড়ক পর্যন্ত বাইকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। লাইনে থাকা বাইকের বড় অংশই রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের। এক ভুক্তভোগী বাইকার বলেন, “আমরা যারা ব্যক্তিগত কাজে বের হই, আমাদের জন্য ৫ মিনিটের তেল নেওয়া এখন ঘণ্টার ব্যাপার হয়ে গেছে। পাঠাও চালকরা দলবেঁধে এসে পাম্প দখল করে রাখে, সারি মানে না এবং উচ্চস্বরে কথা-বতর্কে লিপ্ত থাকে। এতে সাধারণ গ্রাহকরা পাম্পে ঢুকতেই ভয় পায়।”   অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই বিশৃঙ্খলার তিনটি মূল কারণ রয়েছে: গ্রুপ মুভমেন্ট: পরিচিত চালকরা দল বেঁধে পাম্পে আসে, যা দ্রুত জট তৈরি করে। দীর্ঘক্ষণ অবস্থান: তেল নেওয়ার পরও পাম্পের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে কলের অপেক্ষা করা। শৃঙ্খলার অভাব: সিরিয়াল ভেঙে তেল নেওয়ার চেষ্টা ও পাম্প কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা।   ভুক্তভোগী সাধারণ বাইকার এবং ট্রাফিক সংশ্লিষ্টরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো প্রস্তাব করেছেন: আলাদা লেন ব্যবস্থা: রাইড শেয়ারিং চালক ও সাধারণ বাইকারদের জন্য পৃথক লেন। অ্যাপ কর্তৃপক্ষের তদারকি: চালকদের ট্রাফিক আইন ও সামাজিক শিষ্টাচারের বিষয়ে সচেতন করা। পাম্প কর্তৃপক্ষের কঠোরতা: নির্দিষ্ট সময়ের বেশি পাম্প প্রাঙ্গণে অবস্থান নিষিদ্ধ।   পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢাকায় বাইকের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলেছে। এর মধ্যে বড় অংশই ভাড়া ভিত্তিক। চালকদের জন্য নির্দিষ্ট ‘কোড অফ কন্ডাক্ট’ না থাকলে শুধু ফুয়েল পাম্প নয়, পুরো শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।   পাম্প মালিক সমিতির এক কর্মকর্তা জানান, “পাঠাও চালকদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তারা সংঘবদ্ধ থাকায় কর্মীরাও কিছু বলতে সাহস পান না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি।” সাধারণ মানুষ আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পাম্পে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে এবং জনভোগান্তি কমাবে।

Unknown মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০