ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পবিত্র নগরী কোমে আয়োজিত এই রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের ঢল নামে। সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও শোকার্ত জনতার মাঝে নিজ হাতে খাবার বিতরণ করে প্রশংসায় ভাসছেন বাংলাদেশের এই তরুণ রাজনীতিক। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের দৃশ্য উঠে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি সড়কের পাশে বড় বাকেট হাতে দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেওয়া নারী, পুরুষ ও শিশুদের মাঝে ছোট ছোট খাবারের প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন। মূলত বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ইরানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ফল, কেক ও নাশতা বিতরণের যে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেই স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হন তিনি। বিদেশের মাটিতে এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বিনয়ের নিদর্শন দেখে নেটিজেনরা তাকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন। ফেসবুকে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, মানবতার কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা নেই এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই উদ্যোগ দূরদর্শিতা ও পরিপক্বতার প্রমাণ দেয়। কেউ কেউ তাকে ‘বাংলার নক্ষত্র’ আখ্যা দিয়ে এমন তরুণ নেতাদের যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নেটিজেনদের মতে, সমালোচনা করা সহজ হলেও এমন মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সত্যিই কঠিন। খাবার বিতরণের পাশাপাশি এই সফরে তিনি সেখানকার শিশু ও যুদ্ধাহত যোদ্ধাদের সঙ্গে সময় কাটান এবং আলী লারিজানীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, ইরান যেভাবে তাদের দেশরক্ষায় আত্মত্যাগকারী বীরদের সম্মান ও মর্যাদায় আগলে রাখে, তা বাংলাদেশের জন্যও অত্যন্ত শিক্ষণীয়। মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মর্যাদা দিয়ে জাতির সামনে তুলে ধরতে পারলে নতুন প্রজন্ম আরও বেশি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জাতীয় সংসদে বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার পর ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে লক্ষ্য করে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে মাত্র ৮০ ঘণ্টায় ৯৯টি কনটেন্ট প্রকাশের দাবি উঠেছে। অনুসন্ধানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ জুন সকাল ৭টা থেকে ১ জুলাই দুপুর ৩টা পর্যন্ত বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, নিউজ২৪, ডেইলি সান এবং বাংলানিউজ২৪ ডটকমে হাসনাত আব্দুল্লাহকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিকভাবে ৯৯টি নেতিবাচক কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে অনেক প্রতিবেদনই একই তথ্য, বক্তব্য বা অভিযোগকে ভিন্ন শিরোনাম ও ফরম্যাটে একাধিক মাধ্যমে পুনঃপ্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত? গত ২৫ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকের মামলার অগ্রগতি, সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতা এবং সংবাদমাধ্যম ব্যবহারের মাধ্যমে সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাদের মালিকানাধীন গণমাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে প্রচারণা শুরু হয়। ৫ সংবাদমাধ্যমে ৯৯ কনটেন্ট দ্য ডিসেন্ট জানায়, নির্ধারিত চার দিনে প্রকাশিত ৯৯টি কনটেন্টের মধ্যে— কালের কণ্ঠ: ৭৬টি, ডেইলি সান: ৯টি, বাংলাদেশ প্রতিদিন: ৫টি, বাংলানিউজ২৪: ৫টি নিউজ২৪: ৪টি। কালের কণ্ঠেই সবচেয়ে বেশি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ৩৫টি ভিডিও, ৩০টি ফটোকার্ড এবং ১১টি সংবাদ প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, একই বিষয়বস্তুকে ভিডিও, সংবাদ, ফটোকার্ড এবং ইংরেজি অনুবাদসহ বিভিন্ন ফরম্যাটে প্রকাশ করে কনটেন্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ৯টি মূল বিষয়, বারবার পুনঃপ্রচার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রকাশিত ৯৯টি কনটেন্ট মূলত মাত্র ৯টি প্রধান অভিযোগ বা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি। এর মধ্যে ছিল— "হাসনাত আবদুল্লাহ: সাদা সাদা, কালা কালা", "মব বিতর্কে হাসনাত" "হাসনাতের দাপটে আক্রান্ত এক দিনমজুর পরিবার", মো. তারেক রহমানের বক্তব্য রাশেদ খানের বক্তব্য, এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য, সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করার অভিযোগ, ই-টেন্ডার নিয়ে অভিযোগ, অন্যান্য দুর্নীতির অভিযোগ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই বক্তব্যকে বিভিন্ন শিরোনাম, ভিডিও ও ফটোকার্ডে রূপান্তর করে একাধিক প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কালের কণ্ঠ ছিল 'প্রাথমিক উৎস'—দাবি। দ্য ডিসেন্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অধিকাংশ কনটেন্ট প্রথমে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়। পরে একই বিষয়বস্তু ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ এবং নিউজ২৪-এ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটির ভাষ্য, কালের কণ্ঠ কার্যত পুরো প্রচারণার মূল উৎস বা 'ফিডার' হিসেবে কাজ করেছে। তিন রাজনীতিকের বক্তব্যেই ৩৩ কনটেন্ট বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মো. তারেক রহমান, রাশেদ খান এবং বিএনপি নেতা এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য ব্যবহার করে মোট ৩৩টি কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে— মো. তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে ১৮টি, এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য নিয়ে ৯টি, রাশেদ খানের বক্তব্য নিয়ে ৬টি কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ নিয়ে ও রয়েছে প্রশ্ন দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রকাশিত বহু প্রতিবেদনে বিভিন্ন অভিযোগ উপস্থাপন করা হলেও সেগুলোর সমর্থনে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উন্নয়ন প্রকল্প, ত্রাণের অর্থ, মসজিদ নির্মাণ, মব কালচার এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, নিরীক্ষা প্রতিবেদন বা পূর্বপ্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে কিছু দাবির অসঙ্গতি রয়েছে। গণমাধ্যম গবেষক অধ্যাপক আ-আল মামুন বলেন, অল্প সময়ে একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এত বিপুল সংখ্যক কনটেন্ট প্রকাশ করা হলে সেটিকে 'শিকারি সাংবাদিকতা' (Predatory Journalism) হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তার ভাষায়, এ ধরনের সাংবাদিকতায় নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে ধারাবাহিক কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা হয়, যা সাংবাদিকতার প্রচলিত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি এ ধরনের কার্যক্রমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান। দ্য ডিসেন্টের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বসুন্ধরা গ্রুপ বা সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সংবাদমাধ্যমের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি। এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের অবস্থান জানা যায়নি।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে একাধিক রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী যোগ দিতে যাচ্ছেন। আজ রোববার বেলা দেড়টায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক নেতা-কর্মী আজ এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছেন। এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আপ বাংলাদেশের প্রধান উদ্যোক্তা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আলী আহসান জুনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত আজ এনসিপিতে যোগ দেবেন। পাশাপাশি এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানী আবদুল হকও যোগ দিচ্ছেন। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, লিগ্যাল সেলের সম্পাদক মাহফুজ, কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইটসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও এনসিপি ও এর সহযোগী সংগঠনে যুক্ত হচ্ছেন। দলীয় সূত্র জানায়, রিফাত রশিদ জাতীয় যুবশক্তি, হাসিব আল ইসলাম জাতীয় ছাত্রশক্তি এবং শাহাদাত হোসেন ও এস এম সুইট এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে যোগ দিচ্ছেন। এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, “এনসিপি একটি বড় রাজনৈতিক দল হতে চায়। যারা বাংলাদেশপন্থা ও সংস্কারের পক্ষে, তাদের জন্য আমাদের দরজা খোলা রয়েছে।” জানা গেছে, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) থেকে আলী আহসান জুনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন। তারা পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। আপ বাংলাদেশ গঠনের পর রাজনৈতিকভাবে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না থাকায় এবং সাম্প্রতিক ভাঙনের পর তাদের এই সিদ্ধান্ত আসে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এদিকে বিএনপির সাবেক নেতা ইসহাক সরকারও ভবিষ্যতে এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আলোচনা চললেও আজ তিনি যোগ দিচ্ছেন না। আজকের এই যোগদানকে কেন্দ্র করে এনসিপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।
দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাবা-মায়েরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য বা নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় ‘কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইক্যুালিটি অ্যান্ড জাস্টিস’ আয়োজিত এক প্যানেল আলোচনায় তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ডা. তাসনিম জারা বলেন, বর্তমানে শিশুদের অভিভাবকদের নাভিশ্বাস অবস্থা। জ্বর বা র্যাশ উঠলে তারা ঠিক কখন এবং কোথায় যাবেন—উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না কি জেলা হাসপাতালে—সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন নেই। এমনকি আক্রান্ত শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ দিতে হাসপাতালে নিলে সেখান থেকে অন্য শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগ এ নিয়ে নীরব। ফলে অভিভাবকরা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আলোচনায় তথ্যের ঘাটতিকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি জানান, দেশে এখনো হামে আক্রান্ত বা মৃত্যুর কোনো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখেও সঠিক তথ্য না মেলায় তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন। তার মতে, এবারের প্রাদুর্ভাব দেশের জনস্বাস্থ্য কাঠামোর ভঙ্গুর অবস্থাকেই ফুটিয়ে তুলেছে। সঠিক তথ্যের অভাবেই সাধারণ মানুষ আজ শঙ্কিত। উক্ত আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। সাতটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার এই যৌথ আয়োজনে নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি ও জনস্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তরসহ দেশের পাঁচটি সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে এনসিপি। রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ঘোষণা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রার্থী করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রার্থী হয়েছেন আরিফুল ইসলাম আদীব। এ ছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটিতে মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজালকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানা যাবে বলে জানিয়েছে দলটি।
‘ডিপ স্টেট’ নামে পরিচিত শক্তিশালী একটি মহল অন্তর্বর্তী সরকারকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তবে ওই প্রস্তাবে সরকার সায় দেয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। ‘রক্তে ভেজা স্বাধীনতা থেকে সংস্কার ও গণভোট: বাস্তবায়নের রাজনৈতিক কর্তব্য’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটি। আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিকেই কিছু প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান তাদের কাছে একটি প্রস্তাব দেয়। সেখানে বলা হয়, শেখ হাসিনার নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে এবং সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ওই প্রস্তাবের সঙ্গে কিছু শর্তও ছিল। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করতে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের তারিখ পেছানোসহ বিভিন্ন উপায়ে বিরোধী নেতাদের নির্বাচনের বাইরে রাখার কৌশল সাজানো হয়েছিল। তবে এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অঙ্গীকার বজায় রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেরাই পদত্যাগ করে নির্বাচনের পথ সুগম করেছে, যাতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তি বর্তমানে বিএনপি সরকারের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা নির্বাচনের সময় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করে। বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার পর তারা জুলাইয়ের গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও চুক্তিকে উপেক্ষা করছে। গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, অতীতেও এমন অবস্থানের ফল ভালো হয়নি। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার এবং জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলামসহ অন্যরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।