সংসদে বসুন্ধরার বিরুদ্ধে বক্তব্যের পর ৮০ ঘণ্টায় হাসনাতকে নিয়ে ৫ গণমাধ্যমে ৯৯ কনটেন্ট, উঠছে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর অভিযোগ
জাতীয় সংসদে বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার পর ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে লক্ষ্য করে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে মাত্র ৮০ ঘণ্টায় ৯৯টি কনটেন্ট প্রকাশের দাবি উঠেছে। অনুসন্ধানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ জুন সকাল ৭টা থেকে ১ জুলাই দুপুর ৩টা পর্যন্ত বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, নিউজ২৪, ডেইলি সান এবং বাংলানিউজ২৪ ডটকমে হাসনাত আব্দুল্লাহকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিকভাবে ৯৯টি নেতিবাচক কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে অনেক প্রতিবেদনই একই তথ্য, বক্তব্য বা অভিযোগকে ভিন্ন শিরোনাম ও ফরম্যাটে একাধিক মাধ্যমে পুনঃপ্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত?
গত ২৫ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকের মামলার অগ্রগতি, সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতা এবং সংবাদমাধ্যম ব্যবহারের মাধ্যমে সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তোলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাদের মালিকানাধীন গণমাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে প্রচারণা শুরু হয়।
৫ সংবাদমাধ্যমে ৯৯ কনটেন্ট দ্য ডিসেন্ট জানায়, নির্ধারিত চার দিনে প্রকাশিত ৯৯টি কনটেন্টের মধ্যে— কালের কণ্ঠ: ৭৬টি, ডেইলি সান: ৯টি, বাংলাদেশ প্রতিদিন: ৫টি, বাংলানিউজ২৪: ৫টি
নিউজ২৪: ৪টি। কালের কণ্ঠেই সবচেয়ে বেশি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ৩৫টি ভিডিও, ৩০টি ফটোকার্ড এবং ১১টি সংবাদ প্রতিবেদন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, একই বিষয়বস্তুকে ভিডিও, সংবাদ, ফটোকার্ড এবং ইংরেজি অনুবাদসহ বিভিন্ন ফরম্যাটে প্রকাশ করে কনটেন্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
৯টি মূল বিষয়, বারবার পুনঃপ্রচার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রকাশিত ৯৯টি কনটেন্ট মূলত মাত্র ৯টি প্রধান অভিযোগ বা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি।
এর মধ্যে ছিল— "হাসনাত আবদুল্লাহ: সাদা সাদা, কালা কালা", "মব বিতর্কে হাসনাত"
"হাসনাতের দাপটে আক্রান্ত এক দিনমজুর পরিবার", মো. তারেক রহমানের বক্তব্য রাশেদ খানের বক্তব্য, এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য, সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করার অভিযোগ, ই-টেন্ডার নিয়ে অভিযোগ, অন্যান্য দুর্নীতির অভিযোগ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই বক্তব্যকে বিভিন্ন শিরোনাম, ভিডিও ও ফটোকার্ডে রূপান্তর করে একাধিক প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কালের কণ্ঠ ছিল 'প্রাথমিক উৎস'—দাবি। দ্য ডিসেন্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অধিকাংশ কনটেন্ট প্রথমে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়। পরে একই বিষয়বস্তু ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ এবং নিউজ২৪-এ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটির ভাষ্য, কালের কণ্ঠ কার্যত পুরো প্রচারণার মূল উৎস বা 'ফিডার' হিসেবে কাজ করেছে।
তিন রাজনীতিকের বক্তব্যেই ৩৩ কনটেন্ট
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মো. তারেক রহমান, রাশেদ খান এবং বিএনপি নেতা এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য ব্যবহার করে মোট ৩৩টি কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে— মো. তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে ১৮টি, এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য নিয়ে ৯টি, রাশেদ খানের বক্তব্য নিয়ে ৬টি কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়।
অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ নিয়ে ও রয়েছে প্রশ্ন
দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রকাশিত বহু প্রতিবেদনে বিভিন্ন অভিযোগ উপস্থাপন করা হলেও সেগুলোর সমর্থনে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উন্নয়ন প্রকল্প, ত্রাণের অর্থ, মসজিদ নির্মাণ, মব কালচার এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, নিরীক্ষা প্রতিবেদন বা পূর্বপ্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে কিছু দাবির অসঙ্গতি রয়েছে।
গণমাধ্যম গবেষক অধ্যাপক আ-আল মামুন বলেন, অল্প সময়ে একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এত বিপুল সংখ্যক কনটেন্ট প্রকাশ করা হলে সেটিকে 'শিকারি সাংবাদিকতা' (Predatory Journalism) হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তার ভাষায়, এ ধরনের সাংবাদিকতায় নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে ধারাবাহিক কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা হয়, যা সাংবাদিকতার প্রচলিত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি এ ধরনের কার্যক্রমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান। দ্য ডিসেন্টের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বসুন্ধরা গ্রুপ বা সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সংবাদমাধ্যমের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি। এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের অবস্থান জানা যায়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreবান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক এলাকায় নিখোঁজ এক শিশুর মরদেহ সোমবার ফুফুর কক্ষের একটি বাক্স থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যার অভিযোগে শিশুটির ফুফু নারগিস সুলতানাকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকে শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করতে যান। পরে বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ফুফুর কক্ষে তল্লাশি চালায় পুলিশ। একটি বাক্সের ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে নারগিস হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহত শিশুর এক আত্মীয়ের দাবি, তার বাবা টিপু খান বিদেশে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ভাই-বোনদের নামে যৌথভাবে জমি কিনে দিয়েছিলেন। দেশে ফেরার পর ওই জমি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। তবে জমি নিয়ে বিরোধের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো যোগ আছে কি না, তা পুলিশ নিশ্চিত করেনি। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থানের উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে
মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট ব্যবহারে, নারীর নামে ৫০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল!
বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাস, ১০ উড়োজাহাজে আকাশপথে বড় বিস্তারের পথে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি নিয়ে আসা একটি বিমানের পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে বিকল্প পথে জ্বালানি পাঠানোর ব্যবস্থা করায় প্রকল্পের সামগ্রিক সময়সূচিতে প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রথম ধাপের পারমাণবিক জ্বালানি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। রাশিয়া থেকে আসা বিমানটির রুট ছিল আজারবাইজান, কাজাখস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে ঢাকা। কিন্তু পাকিস্তান ওই বিমানকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, পাকিস্তান অনুমতি না দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট কারণ বাংলাদেশকে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, কেন পাকিস্তান আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিমানবন্দরে জ্বালানি গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। পরে রোসাটমের কাছ থেকে জানানো হয়, বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পায়নি। তবে পাকিস্তান হাইকমিশন ঘটনাটিকে কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় ইসলামাবাদ। তাই ঘটনাটিকে এর যথাযথ কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত। এদিকে রোসাটম বিকল্প রুটে জ্বালানি সরবরাহের সময়সূচি নতুন করে নির্ধারণ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, রূপপুরের বাকি জ্বালানির চালানগুলো অক্টোবরে আবার পাঠানো শুরু হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে সাতটি পৃথক কার্গো ফ্লাইটে বাকি জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রোসাটমের দাবি, এতে প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সূচিতে প্রভাব পড়বে না। বাংলাদেশের জন্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে থাকা দেশটি নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে এই প্রকল্পের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে প্রকল্পটি এরই মধ্যে প্রায় দুই বছর পিছিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয়। আগস্টে শুরু হয় পরীক্ষার শেষ ধাপ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবরে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে ডিসেম্বরে। দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকটের কারণে রূপপুর দ্রুত চালু করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গ্রামাঞ্চলের কোথাও দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হচ্ছে, আবার বিদ্যুৎ সংকটে বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে আমদানি করা গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবের মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুত চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বড় পরিমাণ নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ যোগ হওয়ার পাশাপাশি আমদানি-নির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বয়স ১২৩, তবু চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন নাটোরের আব্বাস
বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি, বন্ধ করা হলো দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস
রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও পাবে ফ্যামিলি কার্ড! চার বছরের মধ্যে সবার কাছেই পৌঁছাবে: প্রতিমন্ত্রী
সংবিধান সংশোধন নিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকে অষ্টম সংশোধনী বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন দৈনিক কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা। অন্যদিকে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের বিধান এবং রাষ্ট্রের নামের ‘গণপ্রজাতন্ত্রী’ শব্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর। রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে সম্পাদক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে কমিটির তৃতীয় বৈঠকে তাঁরা এসব মত দেন। সন্তোষ শর্মা সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী বাতিলের প্রস্তাব দেন। সংবিধানের চরিত্রে একাত্তরের চেতনা, বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা এবং সম্প্রীতির বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার আরও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলেন তিনি। নূরুল কবীর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রসঙ্গ তুলে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার জন্য সাংবিধানিক বিধানের প্রয়োজন হয় না; সুরক্ষা প্রয়োজন সংখ্যালঘুদের। সংবিধানে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী’ শব্দের ‘প্রজা’ অংশ নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। নাগরিকদের মর্যাদা প্রকাশ করে, এমন বিকল্প শব্দ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। ১৯৮৮ সালে আনা অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়। ফলে সংশোধনীটি বাতিলের প্রস্তাব রাষ্ট্রধর্মের বিধান নিয়ে আলোচনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তবে বৈঠকে দেওয়া মতামতগুলো এখনো কমিটির সুপারিশ বা সংসদের সিদ্ধান্ত নয়। সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। রোববারের বৈঠকে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের পাশাপাশি প্রেস ক্লাব, সংবাদ সংস্থা ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। সূত্র: ফ্রাইডে পোস্ট
খুঁটিতে বাঁধা বাবাকে চা-রুটি খাওয়ানো তুবার পাশে প্রশাসন, পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও
এমআইটির হ্যাকাথনে স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জ জিতলেন দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী