বাংলাদেশ

সংসদে বসুন্ধরার বিরুদ্ধে বক্তব্যের পর ৮০ ঘণ্টায় হাসনাতকে নিয়ে ৫ গণমাধ্যমে ৯৯ কনটেন্ট, উঠছে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১৬:৩০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

জাতীয় সংসদে বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার পর ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে লক্ষ্য করে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে মাত্র ৮০ ঘণ্টায় ৯৯টি কনটেন্ট প্রকাশের দাবি উঠেছে। অনুসন্ধানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ জুন সকাল ৭টা থেকে ১ জুলাই দুপুর ৩টা পর্যন্ত বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, নিউজ২৪, ডেইলি সান এবং বাংলানিউজ২৪ ডটকমে হাসনাত আব্দুল্লাহকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিকভাবে ৯৯টি নেতিবাচক কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে অনেক প্রতিবেদনই একই তথ্য, বক্তব্য বা অভিযোগকে ভিন্ন শিরোনাম ও ফরম্যাটে একাধিক মাধ্যমে পুনঃপ্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 

সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত?
গত ২৫ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকের মামলার অগ্রগতি, সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতা এবং সংবাদমাধ্যম ব্যবহারের মাধ্যমে সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তোলেন।

 

তিনি অভিযোগ করেন, বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাদের মালিকানাধীন গণমাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে প্রচারণা শুরু হয়।

 

৫ সংবাদমাধ্যমে ৯৯ কনটেন্ট দ্য ডিসেন্ট জানায়, নির্ধারিত চার দিনে প্রকাশিত ৯৯টি কনটেন্টের মধ্যে— কালের কণ্ঠ: ৭৬টি, ডেইলি সান: ৯টি, বাংলাদেশ প্রতিদিন: ৫টি, বাংলানিউজ২৪: ৫টি


নিউজ২৪: ৪টি। কালের কণ্ঠেই সবচেয়ে বেশি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ৩৫টি ভিডিও, ৩০টি ফটোকার্ড এবং ১১টি সংবাদ প্রতিবেদন।

 

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, একই বিষয়বস্তুকে ভিডিও, সংবাদ, ফটোকার্ড এবং ইংরেজি অনুবাদসহ বিভিন্ন ফরম্যাটে প্রকাশ করে কনটেন্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

 

৯টি মূল বিষয়, বারবার পুনঃপ্রচার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রকাশিত ৯৯টি কনটেন্ট মূলত মাত্র ৯টি প্রধান অভিযোগ বা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি।

 

এর মধ্যে ছিল— "হাসনাত আবদুল্লাহ: সাদা সাদা, কালা কালা", "মব বিতর্কে হাসনাত"


"হাসনাতের দাপটে আক্রান্ত এক দিনমজুর পরিবার", মো. তারেক রহমানের বক্তব্য রাশেদ খানের বক্তব্য, এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য, সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করার অভিযোগ, ই-টেন্ডার নিয়ে অভিযোগ, অন্যান্য দুর্নীতির অভিযোগ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই বক্তব্যকে বিভিন্ন শিরোনাম, ভিডিও ও ফটোকার্ডে রূপান্তর করে একাধিক প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ ছিল 'প্রাথমিক উৎস'—দাবি। দ্য ডিসেন্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অধিকাংশ কনটেন্ট প্রথমে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়। পরে একই বিষয়বস্তু ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ এবং নিউজ২৪-এ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটির ভাষ্য, কালের কণ্ঠ কার্যত পুরো প্রচারণার মূল উৎস বা 'ফিডার' হিসেবে কাজ করেছে।

 

তিন রাজনীতিকের বক্তব্যেই ৩৩ কনটেন্ট

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মো. তারেক রহমান, রাশেদ খান এবং বিএনপি নেতা এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য ব্যবহার করে মোট ৩৩টি কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে— মো. তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে ১৮টি, এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য নিয়ে ৯টি, রাশেদ খানের বক্তব্য নিয়ে ৬টি কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়। 

 

অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ নিয়ে ও রয়েছে প্রশ্ন
দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রকাশিত বহু প্রতিবেদনে বিভিন্ন অভিযোগ উপস্থাপন করা হলেও সেগুলোর সমর্থনে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উন্নয়ন প্রকল্প, ত্রাণের অর্থ, মসজিদ নির্মাণ, মব কালচার এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, নিরীক্ষা প্রতিবেদন বা পূর্বপ্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে কিছু দাবির অসঙ্গতি রয়েছে।

 

গণমাধ্যম গবেষক অধ্যাপক আ-আল মামুন বলেন, অল্প সময়ে একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এত বিপুল সংখ্যক কনটেন্ট প্রকাশ করা হলে সেটিকে 'শিকারি সাংবাদিকতা' (Predatory Journalism) হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তার ভাষায়, এ ধরনের সাংবাদিকতায় নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে ধারাবাহিক কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা হয়, যা সাংবাদিকতার প্রচলিত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

তিনি এ ধরনের কার্যক্রমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান। দ্য ডিসেন্টের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বসুন্ধরা গ্রুপ বা সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সংবাদমাধ্যমের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি। এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের অবস্থান জানা যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বাংলাদেশ

View more
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
সংসদে বসুন্ধরার বিরুদ্ধে বক্তব্যের পর ৮০ ঘণ্টায় হাসনাতকে নিয়ে ৫ গণমাধ্যমে ৯৯ কনটেন্ট, উঠছে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর অভিযোগ

জাতীয় সংসদে বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার পর ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে লক্ষ্য করে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে মাত্র ৮০ ঘণ্টায় ৯৯টি কনটেন্ট প্রকাশের দাবি উঠেছে। অনুসন্ধানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ জুন সকাল ৭টা থেকে ১ জুলাই দুপুর ৩টা পর্যন্ত বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, নিউজ২৪, ডেইলি সান এবং বাংলানিউজ২৪ ডটকমে হাসনাত আব্দুল্লাহকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিকভাবে ৯৯টি নেতিবাচক কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে অনেক প্রতিবেদনই একই তথ্য, বক্তব্য বা অভিযোগকে ভিন্ন শিরোনাম ও ফরম্যাটে একাধিক মাধ্যমে পুনঃপ্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।   সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত? গত ২৫ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকের মামলার অগ্রগতি, সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতা এবং সংবাদমাধ্যম ব্যবহারের মাধ্যমে সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তোলেন।   তিনি অভিযোগ করেন, বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাদের মালিকানাধীন গণমাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে প্রচারণা শুরু হয়।   ৫ সংবাদমাধ্যমে ৯৯ কনটেন্ট দ্য ডিসেন্ট জানায়, নির্ধারিত চার দিনে প্রকাশিত ৯৯টি কনটেন্টের মধ্যে— কালের কণ্ঠ: ৭৬টি, ডেইলি সান: ৯টি, বাংলাদেশ প্রতিদিন: ৫টি, বাংলানিউজ২৪: ৫টি নিউজ২৪: ৪টি। কালের কণ্ঠেই সবচেয়ে বেশি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ৩৫টি ভিডিও, ৩০টি ফটোকার্ড এবং ১১টি সংবাদ প্রতিবেদন।   প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, একই বিষয়বস্তুকে ভিডিও, সংবাদ, ফটোকার্ড এবং ইংরেজি অনুবাদসহ বিভিন্ন ফরম্যাটে প্রকাশ করে কনটেন্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।   ৯টি মূল বিষয়, বারবার পুনঃপ্রচার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রকাশিত ৯৯টি কনটেন্ট মূলত মাত্র ৯টি প্রধান অভিযোগ বা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি।   এর মধ্যে ছিল— "হাসনাত আবদুল্লাহ: সাদা সাদা, কালা কালা", "মব বিতর্কে হাসনাত" "হাসনাতের দাপটে আক্রান্ত এক দিনমজুর পরিবার", মো. তারেক রহমানের বক্তব্য রাশেদ খানের বক্তব্য, এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য, সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করার অভিযোগ, ই-টেন্ডার নিয়ে অভিযোগ, অন্যান্য দুর্নীতির অভিযোগ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই বক্তব্যকে বিভিন্ন শিরোনাম, ভিডিও ও ফটোকার্ডে রূপান্তর করে একাধিক প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।   কালের কণ্ঠ ছিল 'প্রাথমিক উৎস'—দাবি। দ্য ডিসেন্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অধিকাংশ কনটেন্ট প্রথমে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়। পরে একই বিষয়বস্তু ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ এবং নিউজ২৪-এ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটির ভাষ্য, কালের কণ্ঠ কার্যত পুরো প্রচারণার মূল উৎস বা 'ফিডার' হিসেবে কাজ করেছে।   তিন রাজনীতিকের বক্তব্যেই ৩৩ কনটেন্ট বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মো. তারেক রহমান, রাশেদ খান এবং বিএনপি নেতা এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য ব্যবহার করে মোট ৩৩টি কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে— মো. তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে ১৮টি, এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য নিয়ে ৯টি, রাশেদ খানের বক্তব্য নিয়ে ৬টি কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়।    অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ নিয়ে ও রয়েছে প্রশ্ন দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রকাশিত বহু প্রতিবেদনে বিভিন্ন অভিযোগ উপস্থাপন করা হলেও সেগুলোর সমর্থনে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উন্নয়ন প্রকল্প, ত্রাণের অর্থ, মসজিদ নির্মাণ, মব কালচার এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, নিরীক্ষা প্রতিবেদন বা পূর্বপ্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে কিছু দাবির অসঙ্গতি রয়েছে।   গণমাধ্যম গবেষক অধ্যাপক আ-আল মামুন বলেন, অল্প সময়ে একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এত বিপুল সংখ্যক কনটেন্ট প্রকাশ করা হলে সেটিকে 'শিকারি সাংবাদিকতা' (Predatory Journalism) হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তার ভাষায়, এ ধরনের সাংবাদিকতায় নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে ধারাবাহিক কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা হয়, যা সাংবাদিকতার প্রচলিত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   তিনি এ ধরনের কার্যক্রমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান। দ্য ডিসেন্টের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বসুন্ধরা গ্রুপ বা সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সংবাদমাধ্যমের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি। এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের অবস্থান জানা যায়নি।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১৬:৩০
সরকার পতনের পর ছাত্র-জনতার উল্লাস । ছবি: সংগৃহীত

কোটা আন্দোলন থেকে স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতন: ইতিহাস বদলে দেওয়া জুলাইয়ের সূচনার দিন আজ

ফাইল ছবি

২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে হারাতে পারে ৯ কোটি চাকরি, বাংলাদেশে ঝুঁকিতে যেসব পেশা

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য টেকসই করতে আমদানি-রপ্তানিতে ভারসাম্য জরুরি: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান আজ (মঙ্গলবার) সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের মতবিনিময় করেন। ছবি : পিআইডি
তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, তৃতীয় পক্ষের সুযোগ নেই: তথ্য উপদেষ্টা

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জনগণের স্বার্থ ও জাতীয় প্রয়োজন বিবেচনায় বাংলাদেশ নিজস্ব সিদ্ধান্তেই তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এ প্রকল্প নিয়ে অন্য কোনো দেশের 'কনসার্ন' বা উদ্বেগ থাকার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।   তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের সংকট অত্যন্ত গভীর ও মানবিক। বর্ষায় নদীভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকটে উত্তরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো নদী শাসন, ড্রেজিং এবং পানি সংরক্ষণ। এসব কাজে চীনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অর্থায়নের সক্ষমতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরুর নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।   প্রকল্পটি নিয়ে ভূরাজনৈতিক কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পে অন্য কোনো দেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ তিনি দেখেন না।   তিনি আরও বলেন, ভারত বা অন্য যেকোনো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই সম্পর্ক বজায় রাখবে। কোনো দেশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকলে বাংলাদেশ তা বিবেচনায় নেবে, তবে জাতীয় স্বার্থ ও সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো আপস করবে না।   বিগত সরকারের সমালোচনা করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আগের সরকারের সময় জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তিনি বলেন, এখন যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ভিত্তিতে।   তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন মানে বাংলাদেশ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি থেকে সরে আসছে না বলেও স্পষ্ট করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, তিস্তা ও গঙ্গাসহ অভিন্ন ৫৩টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থে নদী শাসন ও সুরক্ষায় অভ্যন্তরীণ ডাউনস্ট্রিম ব্যারাজ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।   প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা, দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীন কার্যক্রম এবং নতুন তথ্য কমিশন গঠনের অগ্রগতি নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।   অনুষ্ঠানে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ৪:৪৪
প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত

উপসাগরীয় দেশে কর্মী যাওয়া কমলেও ইউরোপে বৈধ অভিবাসন বেড়েছে ৪৬ শতাংশ

শুক্রবার (২৬ জুন) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিং। ছবি: সংগৃহীত

তিস্তা ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করল চীন, ‘কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়’

বিজয়ী বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সাথে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেছেন শিক্ষার্থী প্রত্যয় | ছবি : সংগৃহীত।

রসাটমের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে উত্তর মেরু অভিযানে যাচ্ছে বাংলাদেশী স্কুলশিক্ষার্থী প্রত্যয়

‘চাকরির অপেক্ষা নয়, তরুণরা নিজেরাই কাজ তৈরি করবে’
‘চাকরির অপেক্ষা নয়, তরুণরা নিজেরাই কাজ তৈরি করবে’—বাজেট আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যেখানে চাকরির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না; বরং তরুণরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।   সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।   বক্তব্যের শুরুতে বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটকে সরকার অস্বীকার করছে না। তবে এই সংকটকে কোনো অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে তা মোকাবিলা করা হবে। এ ক্ষেত্রে জনগণকেই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।   রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট চাপ দেশের মানুষও উপলব্ধি করেছে। এমন ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ সরকারকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকারের মূল দর্শন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই নীতিকে সামনে রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।   ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে উপস্থাপিত প্রায় নয় লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটকে প্রধানমন্ত্রী শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর রূপরেখা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, অর্থনীতিকে সীমিত গোষ্ঠীর হাত থেকে বের করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য।   বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে উন্নয়ন ব্যয় পঞ্চাশ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে তিন লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে ব্যয়ের পরিমাণের চেয়ে মানুষের জীবনে তার প্রভাব এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।   অর্থনৈতিক কৌশলের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন এবং রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আর শেষ ধাপে উদ্ভাবননির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনশীল অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা হবে।   প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কেবল মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত হয় এবং তরুণরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পায়।   তিনি জানান, ঋণনির্ভর অর্থনীতির পরিবর্তে উৎপাদন ও বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। দেশীয় শিল্পের বিকাশ, বন্ধ বা দুর্বল শিল্পকারখানার পুনরুজ্জীবন এবং নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।   সব মিলিয়ে, তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি টেকসই, রপ্তানিমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ৭:৪২
ছবি: সংগৃহীত

একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

কর ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও যুগোপযোগী করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার

বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

0 Comments