- প্রচ্ছদ
- Topic
ওয়ালেটহাব
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নিরাপদ শহরের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে ২০২৬ সালের নতুন এক মূল্যায়নে। ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ালেটহাবের এই মূল্যায়নে ১৮২টি শহরের অপরাধ পরিস্থিতি, সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এবং আর্থিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। ফক্স ১০ ফিনিক্সের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালিকার শীর্ষে রয়েছে আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের জুনো। দ্বিতীয় স্থানে রোড আইল্যান্ডের ওয়ারউইক এবং তৃতীয় স্থানে কানসাসের ওভারল্যান্ড পার্ক। ওয়ালেটহাবের মূল্যায়নে শহরগুলোর নিরাপত্তা ৪১টি সূচকের ভিত্তিতে যাচাই করা হয়েছে। সূচকগুলোকে তিনটি প্রধান ভাগে সাজানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বাড়ি ও সামাজিক পরিবেশের নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এবং আর্থিক নিরাপত্তা। প্রতিটি সূচকে ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অপরাধের হার, পথচারীদের মৃত্যুর হার, সড়ক দুর্ঘটনা, বেকারত্ব, দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যবিমার আওতার বাইরে থাকা মানুষের সংখ্যা এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনো প্রথম স্থান অর্জনের পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শহরটিতে হত্যাকাণ্ডের হার এবং পথচারীদের মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে কম। পাশাপাশি বন্যা, টর্নেডো ও দাবানলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও কম বলে মূল্যায়নে উঠে এসেছে। আর্থিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও শহরটির অবস্থান ভালো। কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি এবং বাসিন্দাদের ঋণসংক্রান্ত আর্থিক সক্ষমতার মতো বিষয়গুলোও এই মূল্যায়নে ভূমিকা রেখেছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওয়ারউইক শহরটি কম সহিংস অপরাধ ও চুরির হারের কারণে এগিয়ে রয়েছে। মূল্যায়নে শহরটিতে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিমাহীন মানুষের হার ও দারিদ্র্যের হার কম হওয়ায় শহরটির সামগ্রিক নিরাপত্তার অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। অন্যদিকে, তৃতীয় স্থানে থাকা ওভারল্যান্ড পার্কের ভালো অবস্থানের পেছনে রয়েছে সড়ক নিরাপত্তা, কম বেকারত্ব, তুলনামূলকভাবে উচ্চ ঋণমান এবং কম দারিদ্র্যের হার। তালিকার প্রথম ২০টি শহরের মধ্যে রয়েছে ভারমন্টের বার্লিংটন ও সাউথ বার্লিংটন, ভার্জিনিয়ার ভার্জিনিয়া বিচ, আইওয়ার সিডার র্যাপিডস, ওয়াইওমিংয়ের ক্যাসপার, আইডাহোর বোইসি এবং নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ইয়ংকার্স। এ ছাড়া মেইনের পোর্টল্যান্ড, উইসকনসিনের ম্যাডিসন, হাওয়াইয়ের হনলুলু, ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রিমন্ট, সাউথ ডাকোটার সিউক্স ফলস, নর্থ ডাকোটার ফার্গো ও বিসমার্ক, মন্টানার মিসুলা, মেরিল্যান্ডের কলাম্বিয়া এবং ওরেগনের সালেমও তালিকায় স্থান পেয়েছে। তবে এ ধরনের তালিকাকে কোনো শহরে অপরাধ একেবারেই নেই, এমন নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি নির্দিষ্ট কিছু সূচক ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি তুলনামূলক মূল্যায়ন। শহরের একেকটি এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনও ভিন্ন হতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য শহর বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এই তালিকার পাশাপাশি স্থানীয় অপরাধের তথ্য, আবাসন ব্যয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: ফক্স ১০ ফিনিক্স, ওয়ালেটহাব।
প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারী মানুষের জন্য উপযুক্ত শহর বেছে নেওয়া অনেক সময় অন্যদের তুলনায় বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। যাতায়াত ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার খরচ, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং সামগ্রিক জীবনমান—সবকিছুই বিবেচনায় নিতে হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ১৮০টির বেশি বড় শহর বিশ্লেষণ করে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি ও কম সুবিধাজনক শহরের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ওয়ালেটহাব। গবেষণায় মিসৌরির সেন্ট লুইসকে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারী মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুবিধাজনক শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর রয়েছে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস এবং ওহাইওর কলম্বাস। এসব শহরে সহজে ব্যবহারযোগ্য জনপরিকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ এবং তুলনামূলকভাবে কম জীবনযাত্রার খরচকে ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবন্ধিতা থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের ২৮ শতাংশের বেশি নির্দিষ্ট বা সীমিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে তাদের জন্য আবাসন, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাশাপাশি চলাচলের সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় জনসেবার সহজলভ্যতাও শহর বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। গবেষণায় এগিয়ে থাকা শহরগুলোর তালিকায় রয়েছে সেন্ট লুইস, মিনিয়াপোলিস, কলম্বাস, ক্যালিফোর্নিয়ার হান্টিংটন বিচ, মিনেসোটার সেন্ট পল, মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডস, অ্যারিজোনার স্কটসডেল, পেনসিলভেনিয়ার পিটসবার্গ, মিসৌরির কানসাস সিটি এবং মেরিল্যান্ডের কলাম্বিয়া। এছাড়া তালিকায় রয়েছে অ্যারিজোনার চ্যান্ডলার ও পিওরিয়া, মেইনের পোর্টল্যান্ড, কলোরাডোর ডেনভার, ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ড ও গ্লেনডেল, ভার্জিনিয়ার ভার্জিনিয়া বিচ এবং অ্যারিজোনার মেসা। মূল প্রতিবেদনে শীর্ষ ২০ শহরের কথা বলা হলেও প্রকাশিত তালিকায় ১৮টি শহরের নাম দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আলাস্কার জুনোসহ তালিকার নিচের দিকে থাকা কিছু শহরকে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি চ্যালেঞ্জিং হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জায়গায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি হওয়া, বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য জনসেবা বা কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকার মতো বিষয়গুলো সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে। ওয়ালেটহাবের এই বিশ্লেষণে মূলত অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জীবনমানের মতো বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে শহরগুলোর তুলনা করা হয়েছে। ফলে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারী মানুষের জন্য কোনো শহর বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব বিষয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার একটি উপায় হিসেবে তালিকাটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে সুখী জীবনযাপনের ক্ষেত্রে কোন অঙ্গরাজ্য এগিয়ে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ওয়ালেটহাবের একটি বিশ্লেষণ। ৫০টি অঙ্গরাজ্যকে বিভিন্ন সামাজিক, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সূচকে তুলনা করে তৈরি এই তালিকায় সবচেয়ে সুখী অঙ্গরাজ্য হিসেবে উঠে এসেছে হাওয়াই। এরপর রয়েছে মেরিল্যান্ড, নেব্রাস্কা, নিউ জার্সি ও কানেকটিকাট। ওয়ালেটহাবের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে অঙ্গরাজ্যগুলোকে তিনটি বড় ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা, কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক ও পরিবেশগত পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে ৩০টি সূচকের ভিত্তিতে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের সামগ্রিক স্কোর তৈরি করা হয়েছে। তালিকায় ৬৫ দশমিক ৫০ স্কোর নিয়ে প্রথম হয়েছে হাওয়াই। দ্বিতীয় মেরিল্যান্ড, স্কোর ৬৪ দশমিক ১৩। তৃতীয় নেব্রাস্কা ৬৩ দশমিক ৬১ স্কোর নিয়ে। নিউ জার্সি ৬৩ দশমিক ৪২ স্কোর পেয়ে চতুর্থ এবং কানেকটিকাট ৬২ দশমিক ৫৩ স্কোর নিয়ে পঞ্চম হয়েছে। হাওয়াইয়ের শীর্ষে থাকার পেছনে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে ভূমিকা রেখেছে। অঙ্গরাজ্যটির বাসিন্দাদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির মাত্রা দেশটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি। প্রাপ্তবয়স্কদের বিষণ্নতার হারও তুলনামূলকভাবে কম। শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও হাওয়াই ভালো অবস্থানে রয়েছে। ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যটির প্রায় ৮৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের স্বাস্থ্য ভালো বা তার চেয়ে ভালো বলে জানিয়েছেন। দেশটির অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে হাওয়াইয়ের মানুষের গড় আয়ুও সবচেয়ে বেশি। শুধু স্বাস্থ্য নয়, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ক্ষেত্রেও হাওয়াইয়ের বাসিন্দারা ভালো অবস্থানে রয়েছেন। অঙ্গরাজ্যটির প্রায় ৭২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জানিয়েছেন, তারা প্রতিদিন নিজেদের সক্রিয় ও উৎপাদনশীল মনে করেন। অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও হাওয়াইয়ের অবস্থানকে শক্ত করেছে। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষণে অঙ্গরাজ্যটির বেকারত্বের হার প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ। পাশাপাশি বছরে ৭৫ হাজার ডলারের বেশি আয় করা পরিবারের হারও দেশটির মধ্যে অন্যতম বেশি। ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা মানুষের হারও তুলনামূলকভাবে কম। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মেরিল্যান্ডের শক্তির জায়গা মানসিক স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্পর্ক। অঙ্গরাজ্যটির বেকারত্বের হার প্রায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ। ৭৫ হাজার ডলারের বেশি বার্ষিক আয় করা পরিবারের অনুপাতও দেশটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি। মেরিল্যান্ডের বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ নিজেদের দৈনন্দিন কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জনে আগ্রহী বলে জানিয়েছে। সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অঙ্গরাজ্যটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। সহায়ক সম্পর্ক ও জীবনে ভালোবাসার উপস্থিতির কথা জানানোর হারও সেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি। আত্মহত্যার হারও দেশটির মধ্যে পঞ্চম সর্বনিম্ন। তৃতীয় অবস্থানে থাকা নেব্রাস্কার ক্ষেত্রেও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অঙ্গরাজ্যটির বেকারত্বের হার প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ, যা দেশটির অন্যতম কম। কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যবিমা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার সমন্বিত সূচকে নেব্রাস্কা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্যের কিছু সূচকেও নেব্রাস্কা এগিয়ে। সেখানে বিষণ্নতার হার দেশটির ষষ্ঠ সর্বনিম্ন। প্রাপ্তবয়স্কদের নিজেদের স্বাস্থ্য ভালো বা তার চেয়ে ভালো মনে করার হারও বেশ উঁচু। দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অঙ্গরাজ্যটির অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো। বিচ্ছেদ ও বিবাহবিচ্ছেদের হার দেশটির ষষ্ঠ সর্বনিম্ন। শীর্ষ পাঁচে থাকা নিউ জার্সি ও কানেকটিকাটের অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। নিউ জার্সি সামগ্রিকভাবে চতুর্থ হলেও মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার সূচকে প্রথম। অঙ্গরাজ্যটিতে প্রাপ্তবয়স্কদের বিষণ্নতার হার দেশটির মধ্যে সবচেয়ে কম। আত্মহত্যার হারও সবচেয়ে কম। সহায়ক সম্পর্ক ও জীবনে ভালোবাসার উপস্থিতির ক্ষেত্রেও নিউ জার্সি ভালো অবস্থানে রয়েছে। কানেকটিকাট রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে। অঙ্গরাজ্যটি মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা এবং কর্মপরিবেশ উভয় ক্ষেত্রেই তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তালিকায় এরপর রয়েছে উটাহ, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ হ্যাম্পশায়ার, ম্যাসাচুসেটস ও আইডাহো। এর মধ্যে উটাহ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক ও পরিবেশগত সূচকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। খেলাধুলায় অংশগ্রহণের হারও উটাহতে দেশটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে তালিকার নিচের দিকে রয়েছে পশ্চিম ভার্জিনিয়া, লুইজিয়ানা, আরকানসাস, আলাবামা ও নিউ মেক্সিকো। পশ্চিম ভার্জিনিয়া ৩২ দশমিক ০৪ স্কোর নিয়ে ৫০তম এবং সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে। লুইজিয়ানা ৪৯তম ও আরকানসাস ৪৮তম অবস্থানে। তবে সুখের এই তালিকাকে কোনো অঙ্গরাজ্যের মানুষের ব্যক্তিগত সুখের সরাসরি পরিমাপ হিসেবে দেখছে না ওয়ালেটহাব। বরং স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, কাজের পরিবেশ, সামাজিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা, অবসর সময় এবং আবহাওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বিত চিত্রের মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যগুলোর তুলনা করা হয়েছে। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপোর মতে, একটি ভালো অর্থনীতি, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, পর্যাপ্ত অবসর সময় এবং অনুকূল আবহাওয়া মানুষের জীবনমান ও সুখে ভূমিকা রাখতে পারে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আর্থিক স্বচ্ছলতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু বেশি অর্থ থাকলেই সুখ নিশ্চিত হয় না। অর্থের পাশাপাশি অর্থপূর্ণ সম্পর্ক, পছন্দের কাজ, অবসর এবং ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ালেটহাব এই বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তথ্যসূত্র ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরো, শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র, গ্যালাপ, ট্রান্সইউনিয়ন, ফিনরা, অ্যামেরিকর্পসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য। বেশিরভাগ তথ্য ২০২৫ সালের ২৩ জুন পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জীবন নিয়ে ‘খুব সন্তুষ্ট’ এমন মানুষের হার মাত্র ৪৪ শতাংশ। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান ও আর্থিক চাপের মতো বিষয় মানুষের সামগ্রিক সন্তুষ্টিতে প্রভাব ফেলছে। অর্থাৎ, সুখের প্রশ্নে শুধু ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, একজন মানুষ কোন পরিবেশে বসবাস করছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ওয়ালেটহাবের এই বিশ্লেষণে সেই বাস্তবতারই একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক চিত্র উঠে এসেছে। সংবাদসূত্র: ওয়ালেটহাব, ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো
বসবাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে আর্থিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব। ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ওপর ৫১টি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড বিবেচনা করে তৈরি করা এই তালিকায় সবাইকে চমকে দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে একসময়ের নেতিবাচক পরিচিতি পাওয়া অঙ্গরাজ্য নিউজার্সি। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত স্কোর করে এই অঙ্গরাজ্যটি প্রমাণ করেছে কেন একে 'গার্ডেন স্টেট' বা বাগানের অঙ্গরাজ্য বলা হয়ে থাকে। ওয়ালেটহাবের সমীক্ষায় মোট ৫৯.৪১ স্কোর পেয়েছে নিউজার্সি। জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সম্পত্তির ওপর উচ্চ কর থাকা সত্ত্বেও দেশের সর্বনিম্ন অপরাধের হার একে বসবাসের জন্য আদর্শ করে তুলেছে। পাশাপাশি, এখানকার উচ্চ গড় আয়, শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা এবং নিউইয়র্ক সিটি ও ফিলাডেলফিয়ার মতো বড় শহরের কাছাকাছি অবস্থান একে মানুষের কাছে ভীষণ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ডগলাস এলিম্যান-এর নিউজার্সি বিভাগের প্রধান লিসা পোগি জানান, মূলত শিল্পাঞ্চল ও তেল শোধনাগারের কারণে এই অঙ্গরাজ্যটি সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সমুদ্রসৈকত, পাহাড় ও ব্রডওয়ে থিয়েটারের অসাধারণ মেলবন্ধন এই অঙ্গরাজ্যটিকে অনন্য এক ভৌগোলিক সুবিধা এনে দিয়েছে। তবে নিউজার্সিকে পেছনে ফেলে ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষস্থানটি দখল করে নিয়েছে আইডাহো। রিয়েল এস্টেট করের নিম্নহার, বাড়ির মালিকানার উচ্চহার এবং দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ গড় আয় বৃদ্ধির কারণে অঙ্গরাজ্যটি এক নম্বরে উঠে এসেছে। এছাড়া, ওয়াইওমিংয়ের পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় নিরাপদ অঙ্গরাজ্য। শীর্ষ পাঁচে থাকা অন্য অঙ্গরাজ্যগুলো হলো যথাক্রমে উইসকনসিন, ম্যাসাচুসেটস এবং নিউ হ্যাম্পশায়ার। অন্যদিকে, মাত্র ৪১.৪২ স্কোর নিয়ে তালিকার একেবারে তলানিতে রয়েছে নিউ মেক্সিকো। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় চরম পিছিয়ে থাকার পাশাপাশি এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অনিরাপদ অঙ্গরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নতুন জাতীয় মূল্যায়নে একেবারে নিচের সারিতে জায়গা পেয়েছে জর্জিয়া। স্বাস্থ্যসেবার খরচ, চিকিৎসক ও হাসপাতালের প্রাপ্যতা, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কভারেজ এবং রোগীদের স্বাস্থ্যগত ফলাফলসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যে জর্জিয়ার অবস্থান ৪৯তম বলে জানিয়েছে ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব। সোমবার, ২৭ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবার খরচের ক্ষেত্রে জর্জিয়ার অবস্থান ৩৭তম হলেও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগের ক্ষেত্রে রাজ্যটি নেমে গেছে ৪৯তম স্থানে। স্বাস্থ্যগত ফলাফলে জর্জিয়ার অবস্থান ৪৩তম। এসব সূচকের সম্মিলিত মূল্যায়নে সামগ্রিকভাবে রাজ্যটির অবস্থান হয়েছে ৪৯তম। ওয়ালেটহাবের গবেষণায় ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিকে মোট ৪৪টি সূচকে তুলনা করা হয়েছে। এর মধ্যে হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ, চিকিৎসক ও হাসপাতালের প্রাপ্যতা, ইন্স্যুরেন্স কভারেজে থাকা মানুষের হার এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত ফলাফল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিবেদনে জর্জিয়ার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে সামনে এসেছে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ। মাথাপিছু হাসপাতালের শয্যার সংখ্যায় রাজ্যটির অবস্থান ৪২তম। মাথাপিছু চিকিৎসকের সংখ্যাতেও জর্জিয়া ৪২তম এবং দন্তচিকিৎসকের সংখ্যায় ৪৬তম। হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ইন্স্যুরেন্স কভারেজ থাকা মানুষের হারে জর্জিয়ার অবস্থান ৪৯তম। শিশুদের ইন্স্যুরেন্স কভারেজের ক্ষেত্রে অবস্থান ৪২তম। তবে সব সূচকে জর্জিয়ার অবস্থান একই রকম খারাপ নয়। গড় মাসিক ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে রাজ্যটি তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। এই সূচকে জর্জিয়ার অবস্থান ২২তম। ওয়ালেটহাবের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার পেছনে একজন আমেরিকান বছরে গড়ে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ ডলার ব্যয় করেন। বিপুল এই ব্যয়ের পরও দেশের সব এলাকায় সমানভাবে চিকিৎসক, হাসপাতাল ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স পাওয়ার সুযোগ নেই। রাজ্যভেদে এসব ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, সবচেয়ে ভালো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা থাকা রাজ্যগুলো উচ্চমানের চিকিৎসাকে মানুষের আর্থিক নাগালের মধ্যে রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসকের বিকল্প এবং সহজে হেলথ ইন্স্যুরেন্স পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করে। জর্জিয়ার নিচের দিকের অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাজ্যটিতে স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়াতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিটি হেলথ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চে ফেডারেল সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস রাজ্যের জন্য ১০টি স্টেট ডিরেক্টেড পেমেন্ট কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আনুমানিক ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষের মতে, এর লক্ষ্য স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার ও চিকিৎসার ফলাফল উন্নত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করা। স্বল্প আয়ের বাসিন্দাদের হেলথ ইন্স্যুরেন্সের আওতায় আনতেও জর্জিয়ায় ‘জর্জিয়া পাথওয়েজ টু কভারেজ’ কর্মসূচি চালু রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ফেডারেল সরকার কর্মসূচিটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমোদন দেয়। জর্জিয়া গভর্নরের কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত কর্মসূচিটির মাধ্যমে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ সেবা পেয়েছিলেন। তবে ওয়ালেটহাবের নতুন মূল্যায়ন বলছে, এসব উদ্যোগের মধ্যেও সামগ্রিকভাবে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ এবং ইন্স্যুরেন্স কভারেজের ক্ষেত্রে জর্জিয়া এখনো দেশের অধিকাংশ রাজ্যের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। এবারের মূল্যায়নে দেশের সেরা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার স্বীকৃতি পেয়েছে নিউ হ্যাম্পশায়ার। শীর্ষস্থানীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে মিনেসোটা ও আইওয়াও রয়েছে। অন্যদিকে তালিকার একেবারে নিচের দিকের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে জর্জিয়া। তবে এই র্যাঙ্কিংয়ের অর্থ জর্জিয়ার প্রতিটি হাসপাতাল বা চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের, এমন নয়। ওয়ালেটহাবের গবেষণাটি কোনো নির্দিষ্ট হাসপাতালের মান নির্ধারণ না করে পুরো রাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে খরচ, সেবা পাওয়ার সুযোগ এবং স্বাস্থ্যগত ফলাফলসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে তুলনা করেছে। ফলে একজন রোগীর বাস্তব অভিজ্ঞতা তার অবস্থান, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কভারেজ, চিকিৎসার ধরন এবং কোন প্রতিষ্ঠানে সেবা নিচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। তারপরও ইন্স্যুরেন্স কভারেজে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের হার, মাথাপিছু চিকিৎসক, হাসপাতালের শয্যা এবং দন্তচিকিৎসকের প্রাপ্যতার মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে জর্জিয়ার নিচের দিকের অবস্থান রাজ্যটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জগুলো নতুন করে সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।