আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সেরা অঙ্গরাজ্যের তালিকায় ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে শীর্ষে আইডাহো, ৫৯.৪১ নিয়ে দ্বিতীয় নিউজার্সি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৫:১১
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সেরা অঙ্গরাজ্যের তালিকায় ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে শীর্ষে আইডাহো, ৫৯.৪১ নিয়ে দ্বিতীয় নিউজার্সি
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সেরা অঙ্গরাজ্যের তালিকায় ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে শীর্ষে আইডাহো, ৫৯.৪১ নিয়ে দ্বিতীয় নিউজার্সি

বসবাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে আর্থিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব। ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ওপর ৫১টি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড বিবেচনা করে তৈরি করা এই তালিকায় সবাইকে চমকে দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে একসময়ের নেতিবাচক পরিচিতি পাওয়া অঙ্গরাজ্য নিউজার্সি। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত স্কোর করে এই অঙ্গরাজ্যটি প্রমাণ করেছে কেন একে 'গার্ডেন স্টেট' বা বাগানের অঙ্গরাজ্য বলা হয়ে থাকে।

 

ওয়ালেটহাবের সমীক্ষায় মোট ৫৯.৪১ স্কোর পেয়েছে নিউজার্সি। জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সম্পত্তির ওপর উচ্চ কর থাকা সত্ত্বেও দেশের সর্বনিম্ন অপরাধের হার একে বসবাসের জন্য আদর্শ করে তুলেছে। পাশাপাশি, এখানকার উচ্চ গড় আয়, শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা এবং নিউইয়র্ক সিটি ও ফিলাডেলফিয়ার মতো বড় শহরের কাছাকাছি অবস্থান একে মানুষের কাছে ভীষণ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ডগলাস এলিম্যান-এর নিউজার্সি বিভাগের প্রধান লিসা পোগি জানান, মূলত শিল্পাঞ্চল ও তেল শোধনাগারের কারণে এই অঙ্গরাজ্যটি সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সমুদ্রসৈকত, পাহাড় ও ব্রডওয়ে থিয়েটারের অসাধারণ মেলবন্ধন এই অঙ্গরাজ্যটিকে অনন্য এক ভৌগোলিক সুবিধা এনে দিয়েছে।

 

তবে নিউজার্সিকে পেছনে ফেলে ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষস্থানটি দখল করে নিয়েছে আইডাহো। রিয়েল এস্টেট করের নিম্নহার, বাড়ির মালিকানার উচ্চহার এবং দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ গড় আয় বৃদ্ধির কারণে অঙ্গরাজ্যটি এক নম্বরে উঠে এসেছে। এছাড়া, ওয়াইওমিংয়ের পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় নিরাপদ অঙ্গরাজ্য। শীর্ষ পাঁচে থাকা অন্য অঙ্গরাজ্যগুলো হলো যথাক্রমে উইসকনসিন, ম্যাসাচুসেটস এবং নিউ হ্যাম্পশায়ার। অন্যদিকে, মাত্র ৪১.৪২ স্কোর নিয়ে তালিকার একেবারে তলানিতে রয়েছে নিউ মেক্সিকো। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় চরম পিছিয়ে থাকার পাশাপাশি এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অনিরাপদ অঙ্গরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বাড়ির দাম নয়, বীমার চড়া প্রিমিয়ামেই টেক্সাসে বাড়ি কেনার সামর্থ্য হারিয়েছে ৭০ লাখ পরিবার
বাড়ির দাম নয়, বীমার চড়া প্রিমিয়ামেই টেক্সাসে বাড়ি কেনার সামর্থ্য হারিয়েছে ৭০ লাখ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে লাগামহীনভাবে বাড়ি বীমার (হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স) খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম আবাসন সংকটে পড়েছেন বাসিন্দারা। রাইস ইউনিভার্সিটির কিণ্ডার ইনস্টিটিউট ফর আরবান রিসার্চ এবং পাবলিক পলিসি সংস্থা 'টেক্সাস ২০৩৬'-এর যৌথ গবেষণায় চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বীমার অতিরিক্ত প্রিমিয়াম যুক্ত করার পর দেখা যায়, টেক্সাসের প্রায় ৬৪ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৭০ লাখ পরিবার তাদের নিজ কাউন্টির গড় মূল্যের একটি সাধারণ বাড়ি কেনার সামর্থ্যও হারিয়ে ফেলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ টেক্সাস রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে কম খরচে আবাসন সুবিধা মিললেও, বীমার দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকায় সেই সস্তা স্বর্গের সুনাম এখন ধ্বংসের মুখে।   গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে টেক্সাসে বাড়ি বীমার গড় খরচ ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বার্ষিক প্রায় ২,৯৮৩ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে রাজ্যে বাড়ির গড় মূল্য ৩১ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৫০ ডলারে দাঁড়ালেও মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। গত পাঁচ বছরে টেক্সাসে গৃহস্থালিগুলোর মধ্যবর্তী আয় বেড়েছে মাত্র ৩ শতাংশ, যা একটি মধ্যম মূল্যের বাড়ি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় বার্ষিক আয়ের চেয়ে প্রায় ৫,৩৬৫ ডলার কম। অঞ্চলটিতে ঘনঘন তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং নির্মাণসামগ্রীর আকাশচুম্বী দামকেই বীমার এই অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।   গবেষকদের মতে, মোট আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি অর্থ যদি বাড়ি কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণের পেছনে চলে যায়, তবে তা সাধারণ পরিবারের জন্য অসাধ্য হয়ে পড়ে। ভবিষ্যতে এই বীমা প্রিমিয়াম যদি মাত্র ৪ থেকে ১০ শতাংশও বৃদ্ধি পায়, তবে নতুন করে আরও ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার পরিবার গৃহহীন থাকার ঝুঁকিতে পড়বে। এই সংকট বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার এবং কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। অস্টিন, ডালাস কিংবা হিউস্টনের মতো বড় মেট্রোপলিটন শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ কাউন্টিগুলোতেও বীমার এই অতিরিক্ত বোঝা সাধারণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ সঞ্চয়ের পথকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৫:৫০
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি আবেদনে বড় ব্যবধান, ডেমোক্র্যাট এলাকায় ৫১ লাখ, রিপাবলিকান এলাকায় ১৭ লাখের কম

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি আবেদনে বড় ব্যবধান, ডেমোক্র্যাট এলাকায় ৫১ লাখ, রিপাবলিকান এলাকায় ১৭ লাখের কম

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সেরা অঙ্গরাজ্যের তালিকায় ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে শীর্ষে আইডাহো, ৫৯.৪১ নিয়ে দ্বিতীয় নিউজার্সি

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সেরা অঙ্গরাজ্যের তালিকায় ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে শীর্ষে আইডাহো, ৫৯.৪১ নিয়ে দ্বিতীয় নিউজার্সি

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, নতুন ‘গ্রুমিং’ আইনে গ্রেপ্তার ২৫ বছরের শিক্ষিকা

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, নতুন ‘গ্রুমিং’ আইনে গ্রেপ্তার ২৫ বছরের শিক্ষিকা

টানা ২০ বছর একা ভ্রমণের পর, প্রথম গ্রুপ ট্যুরেই খুঁজে পেলেন জীবনসঙ্গী
টানা ২০ বছর একা ভ্রমণের পর, প্রথম গ্রুপ ট্যুরেই খুঁজে পেলেন জীবনসঙ্গী

টানা দুই দশক ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে একা ভ্রমণ করে আসছিলেন এই ব্রিটিশ নারী পর্যটক। জর্জিয়া, কলম্বিয়া বা ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে একাই ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। তবে ২০ বছর পর প্রথমবারের মতো একটি গ্রুপ ট্যুরে নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। আর এই একটি সিদ্ধান্তই চিরতরে বদলে দিয়েছে তার জীবন; অপ্রত্যাশিতভাবে খুঁজে পেয়েছেন নিজের ভালোবাসার মানুষকে।   সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এ প্রকাশিত এক ভ্রমণকাহিনিতে লিডিয়া সোয়িনস্কো নামের এই পর্যটক জানিয়েছেন তার অসাধারণ এই অভিজ্ঞতার কথা। মিলেনিয়াল বা বর্তমান প্রজন্মের কাছে গ্রুপ ট্যুরের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নিয়ে একটি অ্যাসাইনমেন্টের অংশ হিসেবে তিনি ২০২৪ সালের মার্চ মাসে শ্রীলঙ্কায় ১২ দিনের একটি গ্রুপ ট্যুরে অংশ নেন। অপরিচিত মানুষদের সাথে ছোটখাটো আড্ডা বা জোর করে আনন্দ করার বিষয়ে আগে থেকেই তার মনে বেশ ভীতি ছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় পা রাখার পর এই চমৎকার দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করে।   এই ১২ দিনের ট্যুরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার আরও কয়েকজন পর্যটকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তাদের গাইড হিসেবে ছিলেন সুরঙ্গা নামের এক স্থানীয় যুবক। সুরঙ্গার গভীর জ্ঞান, পর্যটকদের প্রতি তার ধৈর্য আর সূক্ষ্ম রসবোধ শুরু থেকেই লিডিয়াকে আকৃষ্ট করেছিল। তবে তাদের সম্পর্কের মোড় ঘোরে সফরের অষ্টম দিনে। ইয়ালা ন্যাশনাল পার্কে সাফারি শেষে রাতে হঠাৎ হাত থেকে পড়ে লিডিয়ার মোবাইলের স্ক্রিন ভেঙে যায়।   ট্যুর শেষে কলম্বোর পেট্টাহ এলাকার একটি দোকানে ফোনটি সারাতে তাকে সাহায্য করার জন্য নিজে থেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেন গাইড সুরঙ্গা। ফোন জমা দিয়ে তারা দুজন কাছের একটি ক্যাফেতে সময় কাটান এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে গল্প করেন। গ্রুপ ট্যুরের ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে গিয়ে সেই দিনের এই একান্তে কাটানো আড্ডাতেই তাদের মধ্যে একটি বিশেষ সখ্যতা গড়ে ওঠে।   এরপর লিডিয়া তার শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের সময়সীমা আরও কয়েক মাস বাড়িয়ে নেন। তারা দুজনে প্রতিদিন কথা বলতেন এবং সময় মিললেই দেখা করতেন। এভাবে ছয় মাস পার হওয়ার পর তারা ভিন্ন সংস্কৃতি ও প্রত্যাশার ব্যবধান ঘুচিয়ে একসঙ্গে জীবন কাটানোর বড় সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলেন। বর্তমানে দুই বছরের বেশি সময় ধরে তারা একসঙ্গেই আছেন এবং শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন অচেনা-অজানা অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।   লিডিয়ার মতে, গ্রুপ ট্যুর হয়তো তার মতো স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য উপযুক্ত নয়। কিন্তু নিজের কমফোর্ট জোন বা স্বস্তির জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার কারণেই তিনি এমন একজনকে খুঁজে পেয়েছেন, যার সঙ্গে অন্য কোনো উপায়ে হয়তো তার কখনোই দেখা হতো না। তার এই গল্পটি প্রমাণ করে যে, জীবনে কখনো কখনো অপছন্দের পথে পা বাড়ালেও তা আমাদের সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:১৯
আইনজীবী আসমা আলী

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে মুসলিম হওয়ায় ইতিহাস গড়া নারী বিচারককে অপসারণের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের প্রকোপ, এর মাঝেই শিশুদের টিকা কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের প্রকোপ, এর মাঝেই শিশুদের টিকা কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

খাদ্য নিরাপত্তা ত্রুটিতে ফ্লোরিডা-টেক্সাসে ৩০ হাজার পাউন্ড গরুর মাংস বাজার থেকে প্রত্যাহার

খাদ্য নিরাপত্তা ত্রুটিতে ফ্লোরিডা-টেক্সাসে ৩০ হাজার পাউন্ড গরুর মাংস বাজার থেকে প্রত্যাহার

একাধিক পরিচয় ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়া মুরতাজা আলী। ছবি: সংগৃহীত
আঙুলের ছাপেই ধরা পড়ল পরিচয় জালিয়াতি, পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা

অভিবাসন সুবিধা পেতে তিনটি ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত ‘মুহাম্মদ ইকবাল’ নামে গ্রিন কার্ড ও মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী ৬৫ বছর বয়সী মুরতাজা আলীর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে চার দফায় নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ১৪ জুলাই ২০২৬ নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়।    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, মুরতাজা আলী বিভিন্ন নামে একাধিক অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়ে অভিবাসন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত ‘মুহাম্মদ ইকবাল’ নামের একটি পরিচয়ে তিনি অভিবাসন সুবিধা পান। ওই পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী হন এবং ২০০৯ সালে একই নামে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।    নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তার আগের অভিবাসন নথি যাচাই করতে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞরা দেখতে পান, ‘মোর্তজা আলী’ এবং ‘মুহাম্মদ ইকবাল’ নামে জমা দেওয়া অভিবাসন অ্যাপ্লিকেশনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট একই ব্যক্তির। অর্থাৎ ভিন্ন নামে করা ওই অ্যাপ্লিকেশনগুলো একই ব্যক্তির ছিল বলে শনাক্ত হয়।    এই তথ্যের ভিত্তিতে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ফেডারেল প্রসিকিউটররা আলীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনেন। মামলাটি ১৮ ইউএসসি সেকশন ১০০১-এর অধীনে করা হয়।   ২০১৪ সালে আলী ওই অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি স্বীকার করেন, তিনটি ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য তিনি তিনটি পৃথক অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়েছিলেন। তার এই স্বীকারোক্তিই পরবর্তী নাগরিকত্ব বাতিলের মামলায় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠেছে।    এবার সরকারের করা চার দফার নাগরিকত্ব বাতিলের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আলী অভিবাসন জালিয়াতির মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, এমন বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন যা তার নৈতিক চরিত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, নাগরিকত্বের প্রক্রিয়ায় শপথের অধীনে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন ও ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছেন।    তবে এই মামলার মাধ্যমে এখনই তার নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায়নি। এটি একটি দেওয়ানি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ফেডারেল আদালতের। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগও জানিয়েছে, এসব মামলায় করা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।    মুরতাজা আলীর মামলা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাম্প্রতিক বড় পরিসরের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগের অংশ। বিচার বিভাগ ২০ জুলাই জানায়, এর আগের ৩০ দিনে বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে ১০ জন ন্যাচারালাইজড মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় অভিবাসন জালিয়াতি, হেলথ কেয়ার ও ওয়্যার জালিয়াতি, শিশু যৌন নির্যাতন এবং মাদক পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি প্রতারণা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্যের মাধ্যমে ন্যাচারালাইজেশন বা নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তার নাগরিকত্ব বাতিল এবং ন্যাচারালাইজেশন সার্টিফিকেট বাতিলের জন্য আদালতে মামলা করা যেতে পারে।    মুরতাজা আলীর ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নাগরিকত্ব পাওয়ার কয়েক বছর পর ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার ব্যবহৃত ভিন্ন পরিচয়গুলোর মধ্যে যোগসূত্র শনাক্ত হয়। ২০০৯ সালে ‘মুহাম্মদ ইকবাল’ নামে নাগরিকত্ব নেওয়ার পর ২০১৪ সালে তিনি তিনটি পরিচয় ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন। আর ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সরকার সেই পুরোনো অভিবাসন জালিয়াতির ভিত্তিতে তার ন্যাচারালাইজড নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য নতুন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১২:৫৭
টেক্সাসের লিগ সিটিতে লাল রঙে রাঙানো সেই বিড়াল। ছবি: সংগৃহীত

লাল রঙে রাঙানো বিড়াল ঘিরে রহস্য, দূরে থাকতে বলল টেক্সাস কর্তৃপক্ষ

যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্স রিফান্ড বাড়ানোর বিভিন্ন সুযোগ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্স রিফান্ড বাড়াতে যেসব ক্রেডিট ও ডিডাকশন মিস করা উচিত নয়

ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া তরুণী ওহান্না কারাসকোজা। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবাকে এক্সেল শেখানো, সেই গল্প লিখেই ইয়েল-পেন-ডার্টমাউথে সুযোগ পেলেন তরুণী

0 Comments