কানাডা থেকে ভারতীয়দের অপসারণে রেকর্ড গতি, ৮ মাসেই ৪,২২৭ জন
কানাডায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের আওতায় ভারতীয় নাগরিকদের অপসারণের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএর সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ২২৭ ভারতীয় নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত অন্য যেকোনো দেশের নাগরিকের তুলনায় এই সংখ্যা সর্বোচ্চ।
এর আগে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে ৩ হাজার ৩২৩ ভারতীয়কে অপসারণ করা হয়েছিল। সেই সংখ্যাটিই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়। কিন্তু জুলাই ও আগস্টের তথ্য যুক্ত হওয়ার পর সংখ্যা আরও ৯০৪ বেড়ে ৪ হাজার ২২৭-এ পৌঁছেছে।
এই আট মাসেই ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত। গত বছর কানাডা থেকে ৩ হাজার ৭৭৯ ভারতীয় নাগরিককে অপসারণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি ছিল ২ হাজার ৪। অর্থাৎ ২০২৪ সালের পুরো বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই ভারতীয় নাগরিক অপসারণের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির ২ হাজার ২৮২ নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১, কলম্বিয়ার ৫৮০ এবং হাইতির ৫৩৫ নাগরিক রয়েছেন।
তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৩৪০ বাংলাদেশি নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে, যা চলতি বছরের শীর্ষ ১০ নাগরিকত্বের তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে।
আরও বড় সংখ্যা রয়েছে এখনো চলমান অপসারণ প্রক্রিয়ায়। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কানাডার ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় ১০ হাজার ২৯৫ ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। একই তালিকায় বাংলাদেশি রয়েছেন ১ হাজার ৩৬৮ জন। তবে এই তালিকায় থাকা মানেই সবাই শেষ পর্যন্ত অপসারিত হবেন - এমন নয়; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি প্রক্রিয়া ও মামলার অবস্থার ওপর চূড়ান্ত ফল নির্ভর করতে পারে।
কানাডা থেকে কাউকে অপসারণের কারণও এক নয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন আইনের শর্ত না মানা, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া কাজ বা পড়াশোনা, ভুল তথ্য দেওয়া, অপরাধসংক্রান্ত অগ্রহণযোগ্যতা কিংবা অন্য আইনি কারণে একজন বিদেশি নাগরিক অপসারণের মুখে পড়তে পারেন। প্রত্যাখ্যাত বা অযোগ্য আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষে রিমুভাল অর্ডার কার্যকর হতে পারে।
এই বৃদ্ধি এমন সময়ে ঘটছে যখন কানাডা সামগ্রিকভাবে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানোর নীতি নিয়েছে। সরকারের ২০২৬-২৮ ইমিগ্রেশন পরিকল্পনায় ২০২৬ সালে নতুন অস্থায়ী বাসিন্দা আগমনের লক্ষ্য ৩ লাখ ৮৫ হাজারে নামানো হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর লক্ষ্য ১ লাখ ৫৫ হাজার এবং অস্থায়ী কর্মীর লক্ষ্য ২ লাখ ৩০ হাজার। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দেশের মোট জনসংখ্যায় অস্থায়ী বাসিন্দার অংশ ৫ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreকানাডায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের আওতায় ভারতীয় নাগরিকদের অপসারণের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএর সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ২২৭ ভারতীয় নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত অন্য যেকোনো দেশের নাগরিকের তুলনায় এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। এর আগে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে ৩ হাজার ৩২৩ ভারতীয়কে অপসারণ করা হয়েছিল। সেই সংখ্যাটিই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়। কিন্তু জুলাই ও আগস্টের তথ্য যুক্ত হওয়ার পর সংখ্যা আরও ৯০৪ বেড়ে ৪ হাজার ২২৭-এ পৌঁছেছে। এই আট মাসেই ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত। গত বছর কানাডা থেকে ৩ হাজার ৭৭৯ ভারতীয় নাগরিককে অপসারণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি ছিল ২ হাজার ৪। অর্থাৎ ২০২৪ সালের পুরো বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই ভারতীয় নাগরিক অপসারণের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির ২ হাজার ২৮২ নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১, কলম্বিয়ার ৫৮০ এবং হাইতির ৫৩৫ নাগরিক রয়েছেন। তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৩৪০ বাংলাদেশি নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে, যা চলতি বছরের শীর্ষ ১০ নাগরিকত্বের তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে। আরও বড় সংখ্যা রয়েছে এখনো চলমান অপসারণ প্রক্রিয়ায়। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কানাডার ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় ১০ হাজার ২৯৫ ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। একই তালিকায় বাংলাদেশি রয়েছেন ১ হাজার ৩৬৮ জন। তবে এই তালিকায় থাকা মানেই সবাই শেষ পর্যন্ত অপসারিত হবেন - এমন নয়; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি প্রক্রিয়া ও মামলার অবস্থার ওপর চূড়ান্ত ফল নির্ভর করতে পারে। কানাডা থেকে কাউকে অপসারণের কারণও এক নয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন আইনের শর্ত না মানা, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া কাজ বা পড়াশোনা, ভুল তথ্য দেওয়া, অপরাধসংক্রান্ত অগ্রহণযোগ্যতা কিংবা অন্য আইনি কারণে একজন বিদেশি নাগরিক অপসারণের মুখে পড়তে পারেন। প্রত্যাখ্যাত বা অযোগ্য আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষে রিমুভাল অর্ডার কার্যকর হতে পারে। এই বৃদ্ধি এমন সময়ে ঘটছে যখন কানাডা সামগ্রিকভাবে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানোর নীতি নিয়েছে। সরকারের ২০২৬-২৮ ইমিগ্রেশন পরিকল্পনায় ২০২৬ সালে নতুন অস্থায়ী বাসিন্দা আগমনের লক্ষ্য ৩ লাখ ৮৫ হাজারে নামানো হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর লক্ষ্য ১ লাখ ৫৫ হাজার এবং অস্থায়ী কর্মীর লক্ষ্য ২ লাখ ৩০ হাজার। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দেশের মোট জনসংখ্যায় অস্থায়ী বাসিন্দার অংশ ৫ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে।
ভারতে পৌঁছাল ৬ মার্কিন এফ-৩৫, সঙ্গে দুই শতাধিক বিমানসেনা
বন্যার পানিতে ফ্রিজে ভেসে বাঁচলেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে, পরে জন্ম হলো কন্যার
মাঝ আকাশে ত্রুটি! কানাডার কুইবেকে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সব আরোহী নিহত
মাত্র ৬ বছর বয়সেই রুবিকস কিউব সমাধানে বিশ্বরেকর্ড গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে চীনের লিয়ান ইউনঝি। আরও অবাক করার মতো বিষয় হলো, মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে নিজের গড়া বিশ্বরেকর্ডই দুবার ভেঙেছে এই খুদে প্রতিভা। সেপ্টেম্বরের দুটি ওয়ার্ল্ড কিউব অ্যাসোসিয়েশন বা ডব্লিউসিএ অনুমোদিত প্রতিযোগিতায় ৩×৩ রুবিকস কিউবের গড় সময়ে এই রেকর্ড গড়ে সে। প্রথমবার উহানে অনুষ্ঠিত একটি প্রতিযোগিতায় পাঁচবার কিউব সমাধানের গড় সময় ছিল ৪ দশমিক ৫২ সেকেন্ড। এর মাত্র তিন দিন পর গুয়াংজুর আরেকটি ডব্লিউসিএ অনুমোদিত প্রতিযোগিতায় নিজের রেকর্ড আরও কমিয়ে আনে লিয়ান। সেখানে পাঁচটি সমাধানের গড় সময় দাঁড়ায় মাত্র ৪ দশমিক ২৭ সেকেন্ডে। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সে প্রথম নারী স্পিডকিউবার হিসেবে ৪ দশমিক ৫ সেকেন্ডের নিচে গড় সময় অর্জন করে। ৪ দশমিক ২৭ সেকেন্ডের সময়টি কোনো একটি কিউব সমাধানের সময় নয়; এটি পাঁচটি চেষ্টার গড়। গুয়াংজুর প্রতিযোগিতায় লিয়ানের পাঁচটি সমাধানের মধ্যে দ্রুততমটি ছিল ৪ দশমিক ০২ সেকেন্ড। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী পাঁচটি চেষ্টার মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত ও সবচেয়ে ধীর সময় বাদ দিয়ে বাকি তিনটির ভিত্তিতে গড় হিসাব করা হয়। চীনের সিচুয়ান প্রদেশের ছেংদু শহরের বাসিন্দা লিয়ান ছোট বয়স থেকেই রুবিকস কিউব নিয়ে চর্চা শুরু করে। চার বছর বয়সে প্রথম কিউব সমাধানের চেষ্টা করার সময় তার প্রায় ৯০ সেকেন্ড লাগত। পরে নিয়মিত অনুশীলন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তার দক্ষতা দ্রুত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তার বাবা-মা তাকে পেশাদার কোচের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য সাংহাইয়েও নিয়ে যান। বর্তমানে লিয়ান রুবিকস কিউব সমাধানের ১ হাজার ৩০০টিরও বেশি অ্যালগরিদম আয়ত্ত করেছে বলে তার পরিবার জানিয়েছে। প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা অনুশীলন করে সে। শুরুতে রুবিকস কিউব ছিল তার নাচ ও সংগীতের মতো অন্যান্য অতিরিক্ত কার্যক্রমের একটি। পরে এই খেলায় তার বিশেষ দক্ষতা দেখে পরিবার এটিতে আরও বেশি মনোযোগ দেয়। লিয়ানের মা লিন ইয়াংসি জানিয়েছেন, রুবিকস কিউব নিয়ে অনুশীলন শুধু দ্রুত কিউব মেলানোর দক্ষতাই বাড়ায়নি, মেয়ের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিয়ান আগে তুলনামূলকভাবে অন্তর্মুখী ছিল, কিন্তু প্রতিযোগিতা ও অনুশীলনের মাধ্যমে এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। রুবিকস কিউব সমাধানে শুধু মুখস্থ সূত্র জানলেই হয় না—দ্রুত সমাধানের জন্য পরিস্থিতি বুঝে যুক্তি প্রয়োগ করাও প্রয়োজন। লিয়ানের মা মনে করেন, এই চর্চা মনোযোগ, স্মৃতি, যৌক্তিক চিন্তা ও স্থানিক ধারণা তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। মাত্র ছয় বছর বয়সে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এমন পারফরম্যান্সের পর লিয়ান এখন স্পিডকিউবিংয়ের বিশ্বে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।
শ্রমিকসংকটের জরুরীভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
এয়ারপোর্টে ব্যাগেজ ফর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি! প্রবাসীদের জন্য নতুন বাধ্যতামূলক নিয়ম
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে উত্তাল পাকিস্তান, ইসলামাবাদে লকডাউনের মুখে লংমার্চ পেছাল পিটিআই
ফসল কাটার মৌসুম সামনে রেখে কৃষি খাতে জরুরি শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের কিছু ভিসা আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে এটি আলাদা কোনো নতুন কৃষি ভিসা চালুর ঘোষণা নয়। ইতোমধ্যে Working Holiday Maker (WHM) ভিসার জন্য আবেদন করা এবং নির্দিষ্ট কৃষি প্রতিষ্ঠানে কাজের চুক্তি থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের দ্রুত অস্ট্রেলিয়ায় আসা প্রয়োজন, তাদের আবেদন অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার কৃষি খাতের সংগঠন গ্রেইন প্রডিউসারস অস্ট্রেলিয়া (জিপিএ) বিষয়টি জানায়। সংগঠনটি বলেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গম, বার্লি ও ক্যানোলার ফসল কাটার মৌসুম শুরু হবে। এই সময়ে দেশের অনেক খামার অস্থায়ী বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভর করে। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ফার্মার্স ফেডারেশন (এনএফএফ) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে আলোচনার পর জরুরি ভিসা আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্যভিত্তিক কৃষি সংগঠন ও পণ্যভিত্তিক কৃষি সংগঠনগুলো জরুরি আবেদনগুলো চিহ্নিত করে স্বরাষ্ট্র বিভাগে পাঠাতে সহায়তা করবে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় এমন আবেদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যেখানে আবেদনকারী ইতোমধ্যে Working Holiday Maker ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, নির্দিষ্ট কোনো খামারে কৃষিকাজের জন্য নিয়োগ বা চুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং তার সময়মতো অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানো ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্বরাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, কৃষি খাতে বিশেষ দক্ষতা থাকা এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় প্রয়োজন এমন আবেদনকারীদের চিহ্নিত করতে তারা ন্যাশনাল ফার্মার্স ফেডারেশনের সঙ্গে কাজ করবে। তবে অগ্রাধিকার পাওয়ার অর্থ ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। প্রতিটি আবেদন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যাবে। একইভাবে, নতুন প্রক্রিয়ার আওতায় আবেদন পাঠালেই দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ বা ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা থাকছে না। কৃষি খাতের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ধীরগতির কারণে। অস্ট্রেলিয়ায় Working Holiday Maker ভিসায় আসা বিদেশিরা বিশেষ করে আঞ্চলিক ও গ্রামীণ এলাকায় ফল সংগ্রহ, ফসল কাটা এবং অন্যান্য মৌসুমি কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাতে কাজ করা ব্যক্তিদের মধ্যে বিদেশি কর্মীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে এবং ফসল কাটার ব্যস্ত মৌসুমে তাদের ওপর অনেক খামারের নির্ভরতা বেড়ে যায়। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া Working Holiday Maker কর্মসূচির নিয়ম ও ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। অভিবাসন কমানোর বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণের গতি কমে যাওয়ায় কৃষি খাতের সংগঠনগুলো শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল। কিছু দেশের আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিতও রাখা হয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়, কারণ ফল ও শস্য সংগ্রহের মতো কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়া গেলে ফসল সময়মতো বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এ কারণে কৃষি সংগঠনগুলো সরকারের কাছে জরুরি আবেদনগুলো আলাদা করে দ্রুত বিবেচনার অনুরোধ জানায়। গ্রেইন প্রডিউসারস অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান ম্যাথিউ ম্যাডেন সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থা একটি সমাধানের পথ তৈরি করেছে এবং এখন কৃষকদের কাছে ফসল কাটার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিকদের অস্ট্রেলিয়ায় আনার একটি কার্যকর উপায় তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, প্রতিদিন কতটি আবেদন প্রক্রিয়া করা সম্ভব হবে এবং দ্রুত অনুমোদনের নিশ্চয়তা কতটা থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এনএফএফের প্রধান নির্বাহী মাইকেল গুয়েরিনও বলেছেন, জরুরি শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে তিনি এটিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখছেন না। কৃষি খাতে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভবিষ্যতে অভিবাসন ব্যবস্থার আরও বিস্তৃত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে Working Holiday Maker ভিসাধারীদের অবদান সরকার স্বীকার করে। বিশেষ করে আঞ্চলিক এলাকায় কৃষি খাতে নির্দিষ্ট দক্ষতা নিয়ে কাজ করা কিছু বিদেশি কর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থার মাধ্যমে এমন কর্মীদের প্রয়োজনের সময় অস্ট্রেলিয়ায় আনার সুযোগ তৈরি করাই লক্ষ্য। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, Working Holiday Maker ভিসার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা কৃষি খাতে কাজ করতে পারেন। নির্দিষ্ট কৃষিকাজের সময়সীমা পূরণ করলে কিছু ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বা তৃতীয় মেয়াদের ভিসার জন্যও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান বিশেষ ব্যবস্থাটি মূলত ইতোমধ্যে আবেদন করা এবং জরুরি কৃষি শ্রমের প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য। ফলে অস্ট্রেলিয়ায় কৃষিকাজের জন্য নতুন করে ভিসা আবেদন করলেই এই বিশেষ অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফসল কাটার মৌসুম যত এগিয়ে আসছে, অস্ট্রেলিয়ার কৃষি খাতে এই অগ্রাধিকার ব্যবস্থা কতটা শ্রমিক সংকট কমাতে পারে, এখন সেদিকেই নজর রাখছেন কৃষক ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা। সূত্র: রয়টার্স
অক্টোবর থেকে জাপানে স্থায়ী বসবাসের নতুন আইন কার্যকর, বিপাকে বাংলাদেশিসহ লাখো বিদেশি কর্মী
শখের বশে মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে ঘুরতেই মিলল ভাইকিং যুগের কয়েক হাজার রৌপ্যমুদ্রা