সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৬:৫১
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েন। ছবি: সংগৃহীত
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েন। ছবি: সংগৃহীত

কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে বাণিজ্য বন্ধ করা কিংবা বড় ধরনের শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, কানাডাকে ইইউর সঙ্গে এতটা ঘনিষ্ঠ করার উদ্দেশ্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে ওয়াশিংটন কঠোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিতে পারে।

 

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইইউর এই পদক্ষেপকে তিনি শত্রুতামূলক মনে করলে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ‘খুব কঠোর শুল্ক’ আরোপ করবেন। এমনকি ইউরোপের সঙ্গে বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বন্ধ করার কথাও বলেন তিনি। তবে উদ্যোগটির উদ্দেশ্য ভালো হলে সেটিকে ভিন্নভাবে দেখবেন বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 

ট্রাম্প কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করার পরিকল্পনাকে ‘হাস্যকর’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তাঁর এই প্রতিক্রিয়া আসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েনের বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন’ ভাষণের এক দিন পর।

 

১৬ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে ফন ডার লাইয়েন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি কানাডাকে ইইউর প্রথম সহযোগী সদস্য করার পথ খুলতে কাজ করতে চান। এ সময় পার্লামেন্টে উপস্থিত সদস্যরা কার্নিকে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানান। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর।

 

ফন ডার লাইয়েন বলেন, ইউরোপ ও কানাডার মধ্যে বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত অংশীদারত্বে নিয়ে যেতে চায় ইইউ। কানাডা ও ইইউর মধ্যে বর্তমানে কানাডা-ইইউ ব্যাপক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি বা সিইটিএ রয়েছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে ‘ভবিষ্যতের জোটে’ রূপ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

 

প্রস্তাবিত সহযোগিতার ক্ষেত্রও শুধু বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ইইউর পরিকল্পনায় উন্নত উৎপাদন, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্প, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো বিষয় রয়েছে। আর্কটিক অঞ্চলকেও কানাডা ও ইউরোপের যৌথ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন ফন ডার লাইয়েন।

 

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, কানাডার সঙ্গে এই অংশীদারত্ব কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে গড়ে তোলা হচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, এটি দুই পক্ষের অভিন্ন সক্ষমতা ও স্বার্থকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ। ইইউর সরকারি নথিতেও কানাডার সঙ্গে সম্পর্ককে বাণিজ্য থেকে আরও বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতায় নেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।

 

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, কার্নি ও ফন ডার লাইয়েন ১৬ সেপ্টেম্বর স্ট্রাসবুর্গে বৈঠক করেন। সেখানে দুই নেতা সিইটিএর বাইরে আরও উচ্চাভিলাষী ও বিস্তৃত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হন। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, মহাকাশ, আর্থিক সেবা এবং ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়ে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।

 

তবে কানাডার সম্ভাব্য সহযোগী সদস্যপদের কাঠামো এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি। ইইউর পূর্ণ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে যে ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক একীভূতকরণ প্রয়োজন, কানাডা সেই পথে যাচ্ছে না। বরং কানাডা নিজের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে ইইউর সঙ্গে যতটা সম্ভব ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী বলে কানাডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

 

এই উদ্যোগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সাম্প্রতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়ে তাঁর বিভিন্ন মন্তব্যের পর অটোয়া ওয়াশিংটনের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যায়। ফলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগকে কানাডার জন্য নতুন বাজার ও অংশীদার তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

 

কার্নি এর আগে ইইউর সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গড়ার কথা বলেছিলেন। তাঁর সরকারের লক্ষ্য হলো কানাডার অর্থনীতিকে এমনভাবে বৈচিত্র্যময় করা, যাতে কোনো একটি দেশের বাজার বা নীতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা না থাকে। ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি কানাডা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও নতুন প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে।

 

ইইউর সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে নানা চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদিও ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের মধ্যে একটি বাণিজ্য সমঝোতা রয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একই সময়ে কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ নিয়েছে।

 

প্রস্তাবিত সহযোগী সদস্যপদ কার্যকর হলে এটি ইইউর জন্যও নতুন ধরনের সম্পর্কের মডেল তৈরি করবে। কারণ কানাডা হবে এই ধরনের মর্যাদা পাওয়া প্রথম দেশ। এর মাধ্যমে পূর্ণ সদস্যপদ ছাড়াই কোনো দেশের সঙ্গে ইইউ কতটা গভীর অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে পারে, তার একটি নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট শর্ত, ইইউর একক বাজারে কানাডার প্রবেশাধিকার এবং দুই পক্ষের নাগরিকদের চলাচল বা কাজের অধিকার কী হবে, সেসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়।

 

এদিকে কানাডা ও ইইউর সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আগামী মাসে মন্ট্রিয়েলে একটি শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রস্তাবিত নতুন অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে।

 

ফলে কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি নয়। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপ ও কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপরও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

সূত্র: রয়টার্স, ইউরোপীয় কমিশন, কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় এড শিরানের ট্যুর থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলার দানের ঘোষণা দিয়েছেন ম্যাকলমোর। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনকে ট্যুরের ১০ লাখ ডলার আয়ের পুরোটাই দিচ্ছেন ম্যাকলমোর

এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে পাওয়া নিজের পুরো ১০ লাখ ডলার নিট আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর। ট্যুরের উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে পাওয়া এই অর্থ ছয়টি সংস্থার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এর পর রবার্ট ক্রাফট জানিয়েছেন, এড শিরান ও তিনি প্রত্যেকে ২০ লাখ ডলার করে ওই অঞ্চলের মানবিক সহায়তায় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।   ফিলিস্তিনের পক্ষে মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার পর এড শিরানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের বাকি অংশ থেকে ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এই ঘোষণা এলো। ম্যাকলমোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহের পর তিনি আলোচনাকে আবার ফিলিস্তিনি জনগণের মানবিক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে চান।   ম্যাকলমোর জানান, তাঁর ১০ লাখ ডলারের পুরো নিট আয় ফিলিস্তিনিদের সরাসরি সহায়তা করা ছয়টি সংস্থাকে দেওয়া হবে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড, হিল প্যালেস্টাইন, গাজা স্যুপ কিচেন, মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস, ইউএনআরডব্লিউএ ইউএসএ ন্যাশনাল কমিটি এবং আনেরা।   ম্যাকলমোর একই সঙ্গে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক ও গিলেট স্টেডিয়ামের মালিক রবার্ট ক্রাফটকে তাঁর অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্রাফট একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি জানান, এড শিরান তাঁকে ফোন করে ২০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে অনুরোধ করেছিলেন এবং তিনি সেই অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্রাফট নিজেও আরও ২০ লাখ ডলার দেওয়ার কথা জানান।   ক্রাফটের বক্তব্য অনুযায়ী, ম্যাকলমোরের প্রকাশ্য আহ্বানের আগেই শিরানের সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, মানবিক সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহায়তার অংশ হিসেবে শিরান ২০ লাখ ডলার দিতে চেয়েছেন এবং তিনি নিজেও একই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিরান অন্যান্য স্টেডিয়াম মালিকের সঙ্গেও এ ধরনের সহায়তা নিয়ে যোগাযোগ করবেন বলেও ক্রাফট জানান।   এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এড শিরানের সঙ্গে সফরের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ম্যাকলমোর। সেখানে তিনি ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানান এবং গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানুষের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যের পর ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিল ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে একটি আবেদন শুরু করে।   পরবর্তী সময়ে ম্যাকলমোর জানান, সফরের কয়েকটি ভেন্যুর মালিক তাঁকে সঙ্গে রেখে অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অবস্থান নিয়েছেন। সফরের প্রোমোটার মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপও জানায়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে বাকি অনুষ্ঠানগুলোতে ম্যাকলমোর আর অংশ নেবেন না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাকলমোরের দাবি ছিল, কয়েকজন স্টেডিয়াম মালিক তাঁর অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছিলেন।   এড শিরান পরে স্পষ্ট করেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি নিয়েছে সফরের প্রোমোটার ও ভেন্যু কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভেন্যু ও প্রোমোটারের সিদ্ধান্তই কার্যকর হয়।   ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর সফরের বাকি উদ্বোধনী শিল্পীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ফিনিয়াস, লুকাস গ্রাহাম, অ্যারন রো এবং বেওগা সফরের বাকি অংশ থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁরা ম্যাকলমোরের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন এবং শিল্পীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে আনেন।   রবার্ট ক্রাফট অবশ্য ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য, ম্যাকলমোরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পাশাপাশি অতীতে ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ও প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগও সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল। ম্যাকলমোর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ইসরায়েল সরকারের সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। রয়টার্সও জানিয়েছে, এই অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন।   ম্যাকলমোরের ট্যুর থেকে বাদ পড়ার ঘটনাটি এখন সংগীতাঙ্গনের বাইরেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিল্পীদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সাবেক এনএফএল খেলোয়াড় কলিন ক্যাপারনিকও ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।   তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মানবিক সহায়তার বিষয়টি। ম্যাকলমোর তাঁর ট্যুরের আয় থেকে ১০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে ক্রাফটের বিবৃতি অনুযায়ী, শিরান ও ক্রাফটের পক্ষ থেকে আরও ৪০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এসেছে। ফলে তিন পক্ষের ঘোষিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে মোট ৫০ লাখ ডলার। তবে এই অর্থের ব্যবহার ও কোন কোন সংস্থা তা পাবে, বিশেষ করে শিরান ও ক্রাফটের ঘোষিত ৪০ লাখ ডলারের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান-

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৭:৩৫
মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টসহ কর্মকর্তাদের এবারও ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েন। ছবি: সংগৃহীত

কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান নিয়ে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ একদম শেষের পথে, ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি চুক্তির দাবি ট্রাম্পের

ছেলের হার্ট সার্জারির টাকা বিয়ন্সের কনসার্টে খরচ
ছেলের হার্ট সার্জারির টাকা বিয়ন্সের কনসার্টে খরচ, স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিভোর্স দিলেন স্বামী

বিয়ন্সের কনসার্টের টিকিট কিনতে এক নারী তাঁর প্রেমিকের অ্যাকাউন্ট থেকে শিশুর হার্ট সার্জারির জন্য জমিয়ে রাখা টাকা চুরি করেছেন, এমন একটি গল্প ২০২৩ সালে টিকটকে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছিল। দাবি করা হয়, প্রেমিক কনসার্টের টিকিট কিনে দিতে রাজি না হওয়ায় ওই নারী নিজেই টাকা নিয়ে নেন। তবে পরে গল্পটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং এর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি সত্যিই ঘটেছিল কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।    ভাইরাল গল্পটি ছড়িয়ে দেন টিকটক ব্যবহারকারী নোয়া গ্লেন কার্টার। তাঁর পোস্ট অনুযায়ী, ওই নারী জানতেন যে তাঁর প্রেমিক নিজের সন্তানের হার্টের অস্ত্রোপচারের খরচ মেটাতে টাকা জমাচ্ছিলেন। কিন্তু বিয়ন্সের কনসার্টে যাওয়ার ইচ্ছা পূরণ না হওয়ায় তিনি সেই টাকা নিয়ে টিকিট কিনেছিলেন বলে দাবি করা হয়। গল্পটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।    কেউ কেউ ওই নারীকে ভবিষ্যতে বিয়ন্সের কনসার্টে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। আবার কয়েকজন মন্তব্য করেন, ঘটনাটি সত্য হলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হওয়া উচিত। একজন মন্তব্যকারী দাবি করেন, চুরি করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ডলার হতে পারে। তবে এই অর্থের পরিমাণেরও কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   এরপরই গল্পটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। নোয়া গ্লেন কার্টারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্টের মধ্যে স্কিট বা অভিনয়ভিত্তিক ভিডিও রয়েছে বলে ব্যবহারকারীরা উল্লেখ করেন। ফলে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন, ভাইরাল ঘটনাটিও হয়তো বাস্তব ঘটনা নয়, বরং বিনোদন বা প্রতিক্রিয়া তৈরির জন্য বানানো কনটেন্ট হতে পারে।    ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা দেখা যায়। ডেক্সার্টোর প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, ওই নারী সত্যিই শিশুর হার্ট সার্জারির টাকা নিয়ে বিয়ন্সের কনসার্টের টিকিট কিনেছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি। কোনো নিশ্চিত পরিচয়, আদালতের মামলা বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণও সামনে আসেনি।    তবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গল্পটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে প্রমাণ দেখার আগেই ঘটনাটিকে সত্য ধরে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিভিন্ন অনলাইন আলোচনায় কেউ কেউ গল্পটির ভিডিওকে সাজানো বা রেজবেইট বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে এসব মন্তব্যও নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ধারণা, প্রমাণিত তথ্য নয়।    এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল কোনো দাবিকে যাচাই না করে সত্য ধরে নেওয়ার ঝুঁকিও সামনে আনে। গল্পটি যত দ্রুত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল, তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ততটা পাওয়া যায়নি। ফলে শিশুর চিকিৎসার টাকা চুরি এবং বিয়ন্সের কনসার্টের টিকিট কেনার পুরো ঘটনাটিকে নিশ্চিত বাস্তব ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৪:৫৭
গর্ভধারিনী মার দেখাশোনা করতে ৩০ বছরেই সেনাবাহিনী ছাড়লেন রাষ্ট্রপতির সাবেক এডিসি ঋষভ

গর্ভধারিনী মার দেখাশোনা করতে ৩০ বছরেই সেনাবাহিনী ছাড়লেন রাষ্ট্রপতির সাবেক এডিসি ঋষভ

মণীশের নামে গিনেস বিশ্বরেকর্ড

১,৬৩৮টি বৈধ ক্রেডিট কার্ড! মণীশের নামে গিনেস বিশ্বরেকর্ড

সোলো ট্রিপে আফগানিস্তানে গিয়ে গ্রেপ্তার কেরালার তরুণী

মেয়ে হয়ে একা একা ঘোরা! সোলো ট্রিপে আফগানিস্তানে গিয়ে গ্রেপ্তার কেরালার তরুণী

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ও পরিবার নিয়ে যাওয়ার নিয়ম আরও কঠোর করার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। নতুন ব্যবস্থায় অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনার সময় স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানকে অস্ট্রেলিয়ায় সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। একই সঙ্গে অস্থায়ী ভিসাধারীদের দীর্ঘদিন অবস্থান এবং এক ভিসা থেকে আরেক ভিসায় যাওয়ার সুযোগও সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।    বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে অভিবাসন নীতি নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সরকারের লক্ষ্য হলো নেট বিদেশি অভিবাসন বছরে প্রায় ৩ লাখ থেকে কমিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা।    বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী নির্ভরশীল সন্তানকে অস্ট্রেলিয়ায় নিতে পারেন। শিক্ষার্থীর কোর্স ও ভিসার ধরন অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের কাজের সুযোগও থাকতে পারে। নতুন পরিকল্পনায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য এই সুবিধা কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।    সরকারের অভিবাসন পরিকল্পনায় শুধু শিক্ষার্থীদের পরিবার নয়, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়া এবং এক ধরনের অস্থায়ী ভিসা থেকে অন্য ভিসায় যাওয়ার প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বৈধ অবস্থান নিশ্চিত করতে নতুন করে নজরদারি ও প্রয়োগ ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।    অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন কমানোর এই উদ্যোগ এমন সময়ে এসেছে, যখন দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ও অন্যান্য অস্থায়ী ভিসাধারীর সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। করোনা মহামারির পর ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর অভিবাসন দ্রুত বাড়ে। তবে এরপর থেকে নেট বিদেশি অভিবাসনের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে।    অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটির নেট বিদেশি অভিবাসন ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার। এর আগের বছর ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই সংখ্যা ৫ লাখ ৩৮ হাজারে পৌঁছেছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ায় নতুন অভিবাসীদের সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী ছিল অস্থায়ী শিক্ষার্থী, যাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার।    সরকারের নতুন পরিকল্পনার পেছনে আবাসন, অবকাঠামো এবং শ্রমবাজারের ওপর অভিবাসনের প্রভাব নিয়ে চলমান বিতর্কও রয়েছে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী নিশ্চিত রাখার বিষয়টিও সরকার বিবেচনায় রাখছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, অভিবাসন কমানোর পাশাপাশি দেশের প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের ভিসা আবেদন ও পারিবারিক পরিকল্পনায় নতুন নিয়মগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে নতুন বিধিগুলোর বিস্তারিত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং কোন কোন শিক্ষার্থী বা কোর্স এর আওতায় পড়বে, তা সরকারের চূড়ান্ত নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২:৩
শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোয় পুলিশ কর্মকর্তা পেলেন পদোন্নতি

ধ্বংসস্তূপে ২ দিন না খেয়ে থাকা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোয় পুলিশ কর্মকর্তা পেলেন পদোন্নতি

৩ বছরের রুশ বন্দিদশা বদলে দিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনার চেহারা

৩ বছরের রুশ বন্দিদশা বদলে দিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনার চেহারা, ভাইরাল দুই ছবিতে যুদ্ধের নির্মমতা

আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তান নৌযানের সংঘর্ষ,

আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তান নৌযানের সংঘর্ষ, দুই দেশই কূটনীতিক তলব

0 Comments