- প্রচ্ছদ
- Topic
কিম ইয়ো জং
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা না করার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার (৪ নভেম্বর) দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে জাপান সাগরের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এমন সামরিক তৎপরতায় কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ বুধবার উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় সোন্দক এলাকা থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ধরন, পাল্লা এবং গতিপথ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করছে। গত এক মাসে এটি উত্তর কোরিয়ার চতুর্থ দফা অস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা। চলতি বছর দেশটি সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আক্রমণকারী ড্রোনসহ বিভিন্ন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ৯০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে। সর্বশেষ উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা নাকচ করেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়ার প্রতি বৈরী নীতি পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত আলোচনায় বসার প্রয়োজন দেখছে না পিয়ংইয়ং। কিম ইয়ো জংয়ের এই বক্তব্য এসেছে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযোগের পর। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই দাবি করেছে, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট ট্রেডারট্রেইটর নামের হ্যাকার গোষ্ঠী এই হামলা চালিয়েছে। গত বছর বাইবিট এক্সচেঞ্জ থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার চুরির ঘটনাতেও একই গোষ্ঠীকে দায়ী করেছিল সংস্থাটি। তবে কিম ইয়ো জং মার্কিন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বৈরী নীতির অংশ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বৈঠক করা পিয়ংইয়ংয়ের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর আগে গত আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করতে চান তিনি। প্রথম মেয়াদে দুই নেতার মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হলেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। নতুন বৈঠকের প্রস্তাবেও এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেয়নি পিয়ংইয়ং। এদিকে মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, তারা কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য তৈরি নতুন ধরনের ক্লাস্টার ওয়ারহেড পরীক্ষা করেছে। দেশটির দাবি অনুযায়ী, এই অস্ত্র পাঁচ থেকে ছয় হেক্টর এলাকায় আঘাত হানতে সক্ষম। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরও জানিয়েছে, কিম জং উন সম্প্রতি একটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ নির্মাণকেন্দ্র পরিদর্শন করে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এরই মধ্যে উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানিয়েছে। তবে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় অনীহার কারণে দুই পক্ষের কূটনৈতিক সম্পর্কের অচলাবস্থা আরও গভীর হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স।
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার মার্কিন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং অভিযোগটিকে গুরুতর রাজনৈতিক উসকানি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই উত্তর কোরিয়াকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাইবার অপরাধী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর বাইন্যান্স থেকে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হয়। এরপর শনিবার (৩১ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই জানায়, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রেডারট্রেইটর নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এই হামলার জন্য দায়ী। চুরি হওয়া ডিজিটাল সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এফবিআইয়ের দাবি, হ্যাকাররা চুরি করা অর্থের বড় একটি অংশ ইথেরিয়াম ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করছে। এরপর বিভিন্ন অনলাইন বিনিময় ও ডেসেন্ট্রালাইজড ফাইন্যান্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অর্থের উৎস আড়াল করার চেষ্টা চলছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল ওয়ালেটগুলোর লেনদেন আটকে দিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন তদন্ত সংস্থাটি। তবে কিম ইয়ো জং এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সাইবার অপরাধ ঘটলেই উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করা যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো অভ্যাস। তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক জনমতকে বিভ্রান্ত করে পিয়ংইয়ংয়ের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চাইছে। এ ধরনের অভিযোগকে উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবেও বর্ণনা করেছেন তিনি। কিম ইয়ো জং আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র চুরি হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করে নিজেদের কৌশলগত মজুতে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। তাঁর ইঙ্গিত, উদ্ধার করা অর্থ শেষ পর্যন্ত কার কাছে যায়, তা দেখলে হামলার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে এই বক্তব্যের পক্ষে তিনি কোনো স্বাধীন প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে কিম ইয়ো জং বলেন, ওয়াশিংটনের ধারাবাহিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পিয়ংইয়ং। মার্কিন প্রশাসনের বৈরী মনোভাব অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে উত্তর কোরিয়া। তবে ঠিক কোন বিষয়ে পরিবর্তন আনা হতে পারে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। এর আগেও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে বড় ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালে বাইবিট এক্সচেঞ্জ থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায়ও উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের দায়ী করেছিল এফবিআই। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এ ধরনের সাইবার অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচিতে সহায়তা করে। পিয়ংইয়ং বরাবরই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সাইবার অপরাধ পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার সাইবার হামলাসংক্রান্ত অভিযোগে কিম ইয়ো জংয়ের সরাসরি প্রতিক্রিয়া বিরল ঘটনা। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিযোগটির গুরুত্ব বাড়ায় পিয়ংইয়ং উচ্চপর্যায় থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির এই অভিযোগ এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পিয়ংইয়ং এখনো সেই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। নতুন সাইবার হামলার অভিযোগ এবং কিম ইয়ো জংয়ের সতর্কবার্তায় দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই, রয়টার্স, ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি। ট্যাগ: আমেরিকা বাংলা, উত্তর কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কিম ইয়ো জং, কিম জং উন, বাইন্যান্স,
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।