যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা না করার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার (৪ নভেম্বর) দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে জাপান সাগরের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এমন সামরিক তৎপরতায় কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ বুধবার উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় সোন্দক এলাকা থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ধরন, পাল্লা এবং গতিপথ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করছে।
গত এক মাসে এটি উত্তর কোরিয়ার চতুর্থ দফা অস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা। চলতি বছর দেশটি সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আক্রমণকারী ড্রোনসহ বিভিন্ন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ৯০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে।
সর্বশেষ উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা নাকচ করেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়ার প্রতি বৈরী নীতি পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত আলোচনায় বসার প্রয়োজন দেখছে না পিয়ংইয়ং।
কিম ইয়ো জংয়ের এই বক্তব্য এসেছে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযোগের পর। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই দাবি করেছে, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট ট্রেডারট্রেইটর নামের হ্যাকার গোষ্ঠী এই হামলা চালিয়েছে। গত বছর বাইবিট এক্সচেঞ্জ থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার চুরির ঘটনাতেও একই গোষ্ঠীকে দায়ী করেছিল সংস্থাটি।
তবে কিম ইয়ো জং মার্কিন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বৈরী নীতির অংশ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বৈঠক করা পিয়ংইয়ংয়ের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এর আগে গত আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করতে চান তিনি। প্রথম মেয়াদে দুই নেতার মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হলেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। নতুন বৈঠকের প্রস্তাবেও এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেয়নি পিয়ংইয়ং।
এদিকে মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, তারা কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য তৈরি নতুন ধরনের ক্লাস্টার ওয়ারহেড পরীক্ষা করেছে। দেশটির দাবি অনুযায়ী, এই অস্ত্র পাঁচ থেকে ছয় হেক্টর এলাকায় আঘাত হানতে সক্ষম। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরও জানিয়েছে, কিম জং উন সম্প্রতি একটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ নির্মাণকেন্দ্র পরিদর্শন করে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এরই মধ্যে উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানিয়েছে। তবে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় অনীহার কারণে দুই পক্ষের কূটনৈতিক সম্পর্কের অচলাবস্থা আরও গভীর হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পর তাঁকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও প্রকাশ করেছে ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস। বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওতে দেখা যায়, চার ব্যক্তি ট্রাম্পকে তুলে একটি বড় ময়লার পাত্রে ফেলে দিচ্ছেন। পাত্রটির গায়ে লেখা রয়েছে ‘হ্যাজার্ডাস ওয়েস্ট’ বা বিপজ্জনক বর্জ্য। ভিডিওটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে একটি হাসির ইমোজি দিয়েছে ইরানি দূতাবাস। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বড় সাফল্যের পরপরই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে হোয়াইট হাউসের সামনে চারজন স্যুট পরা ব্যক্তিকে ট্রাম্পের মতো দেখতে একটি চরিত্রকে বহন করতে দেখা যায়। পরে তাঁকে বিপজ্জনক বর্জ্য রাখার পাত্রে ফেলে দেওয়া হয়। তবে এটি বাস্তব কোনো ঘটনার ভিডিও নয়, বরং এআই প্রযুক্তিতে তৈরি রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র। ইরানের দূতাবাসের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট ‘ইরান ইন ইন্ডিয়া’ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে শুধু লেখা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন’। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী এটিকে ট্রাম্পের নির্বাচনী বিপর্যয় নিয়ে ইরানের কড়া বিদ্রূপ হিসেবে দেখছেন। আবার আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি দেশের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে অন্য দেশের দূতাবাসের এমন প্রকাশ্য ব্যঙ্গের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে। রিপাবলিকানদের এই পরাজয় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত এবং তার প্রভাবে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এদিকে নির্বাচনের ফলাফলকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রতি জনগণের অনাস্থার প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেছেন, বিবেকের তাড়নায় হোক কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে, মার্কিন জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়েছে। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনের উচিত এই বার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ফলাফলে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। তবে ইরান ইস্যুতে নিজের সিদ্ধান্তের গুরুত্বের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন তিনি। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ফলে আগামী দুই বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, বাজেট ও বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়নে নতুন বাধা তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তেহরানের এমন প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে নির্বাচনী পরাজয়ের ফলে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদ শেষ হচ্ছে না। তিনি নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন। সংবাদসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, ভারতে ইরানের দূতাবাসের অফিসিয়াল এক্স পোস্ট।
সপ্তাহে ৬০০ মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়ে ব্রিটেনে সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি রাইহানা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
বিপদে পড়া নারীকে সাহায্য করে ব্রিটেনে ‘ট্যাক্সি হিরো’ হলেন বাংলাদেশি শফিক আহমেদ
ইরানের রাজধানী তেহরানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে বিশাল বিলবোর্ড ও ব্যানার স্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শহরের ব্যস্ত এনগেলাব স্কোয়ারে উন্মোচিত একটি বিলবোর্ডে লেখা রয়েছে, ‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কারাগারের গরাদের পেছনে মাথা নিচু করে থাকা অবস্থায় দেখানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এমন প্রকাশ্য হুমকি সামনে এসেছে। বার্তা সংস্থা টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী নতুন বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এগুলোতে মার্কিন নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক বার্তা দেওয়া হয়েছে। এনগেলাব স্কোয়ারের বিলবোর্ডটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুমকি থাকার কারণে। একই চত্বরের কাছাকাছি আরেকটি বিশাল বিলবোর্ডে ট্রাম্পের পাশাপাশি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। সেখানে চার নেতাকে রক্তাক্ত মুখ ও ছেঁড়া পোশাকে দেখানো হয়েছে। পেছনে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকার প্রতীকী চিত্র। এদিন এনগেলাব স্কোয়ারে কয়েক ডজন মানুষ জড়ো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভ করেন। তাঁদের হাতে ছিল লাল পতাকা এবং রক্তপাতের হুমকিসংবলিত ব্যানার। বিক্ষোভকারীরা ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে ইরানের বিভিন্ন শহরে মার্কিন ও ইসরায়েলি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিশোধের আহ্বান এবং রাজনৈতিক প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। তেহরানের উত্তরাঞ্চলের তাজরিশ স্কোয়ারেও ট্রাম্পকে নিয়ে একাধিক প্রতীকী চিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। একটি চিত্রে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে এবং অন্য একটি চিত্রে তাঁর মুখের সামনে বোমা দেখানো হয়েছে। সেখানে একটি অস্থায়ী কারাগারের আদলে তৈরি প্রদর্শনীতে ট্রাম্পের ভূমিকায় একজন অভিনেতাকেও রাখা হয়েছে। ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই প্রকাশ্য স্থানে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত দেয়ালচিত্র ও বিলবোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সামরিক সংঘাতের সময় এ ধরনের প্রচারণা আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। সর্বশেষ বিলবোর্ডগুলো এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। তবে তেহরানে ট্রাম্পকে হত্যার হুমকিসংবলিত প্রকাশ্য বার্তা দুই দেশের সম্পর্কের গভীর উত্তেজনাকেই নতুন করে সামনে এনেছে। সূত্র: এজেন্সি ফ্রান্স-প্রেস (এএফপি), টাইমস অব ইসরায়েল।
স্পেনে সহিংস বিক্ষোভ সংগঠনের অভিযুক্ত পাকিস্তানি তরুণ, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
টেক্সাসে ৩২ বছরের পরাজয়ের ধারা ভেঙে সিনেটে জয়ী ডেমোক্র্যাট টালারিকো
শতাব্দীর শেষ নাগাদ চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি হবে ভারত: জেফ্রি স্যাক্স
প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে ভারত। বিশেষ করে ঢাকায় চলমান পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন এবং সীমান্ত নদীগুলোর পানি বণ্টন ইস্যু নিয়ে নিজেদের সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি। দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ অংশীদারত্ব বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে যে ঘটনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেগুলোর দিকে ভারত গভীর দৃষ্টি রাখছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি ভবিষ্যৎমুখী ও গঠনমূলক পরিবেশ বজায় রাখাই দিল্লির মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানিবণ্টন, বিশেষ করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, অভিন্ন নদীগুলোর যেকোনো ব্যবস্থাপনা ও আলোচনা কেবল নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই এগিয়ে নেওয়া উচিত। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি যৌথ নদী কমিশন কাজ করছে এবং গঙ্গাসহ যাবতীয় সীমান্ত নদী নিয়ে আলোচনার জন্য এটিই একমাত্র আনুষ্ঠানিক ও পরীক্ষিত মাধ্যম। এ ছাড়া নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে আসন্ন উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সফর ও যোগাযোগ নিয়েও কথা বলেন রণধীর জয়সওয়াল। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ইতিপূর্বে ভারত সফরের জন্য যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, সেটির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান যে এই বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি বা আপডেট থাকলে তা যথাসময়ে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন যখন টানা চতুর্থ দিনে গড়ায়, ঠিক সেই সময়ই ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এল।
কানাডার কুইবেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিখ টারবান ও মুসলিম নারীদের নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ
ঘুমের মধ্যে তাড়া করে বন্ধুর ‘প্রেতাত্মা’, ২০ দিন পর থানায় গিয়ে হ ত্যার স্বীকারোক্তি