- প্রচ্ছদ
- Topic
কর্মক্ষেত্র
অনুমতি ছাড়াই বিদেশে বসে অফিসের কাজ করায় চাকরি হারিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক মুদ্রা লেনদেনকারী চার্লস গ্রাহাম। ছুটি কাটাতে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় না ফিরে সেখান থেকেই কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পরে তাঁর ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্ত করে বিষয়টি জানতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় অন্যায্যতা ছিল বলে সিদ্ধান্ত দিলেও অস্ট্রেলিয়ার ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহাল বা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রাহাম প্রায় ২০ মাস ধরে এইচআইএফএক্স অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি ‘এক্সই’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করে। এর আগে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করে কাজ করার অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি। তবে তাঁর সেই আবেদন নাকচ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ছুটি কাটাতে সিঙ্গাপুরে যান গ্রাহাম। ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসার কথা থাকলেও তিনি সেখান থেকেই অফিসের কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তাঁর ব্যবস্থাপক তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহায়তা নেন। পরে গ্রাহামের অফিসের ল্যাপটপের অবস্থান অনুসরণ করে জানা যায়, তিনি সিঙ্গাপুরে রয়েছেন। গ্রাহামের দাবি, তাঁর সঙ্গী ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়ায় দেশে ফেরার ফ্লাইট পিছিয়ে দিতে হয়েছিল। এরপর তিনি কাজে যোগ দিলেও জমে থাকা ইমেইল, ফোনকল এবং গ্রাহকদের অভিযোগ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ কারণে নিজের অবস্থান সম্পর্কে ব্যবস্থাপককে জানানো হয়নি বলে ব্যাখ্যা দেন তিনি। তবে প্রতিষ্ঠান তাঁর ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি। তাদের বক্তব্য ছিল, দেশে ফেরার পরিকল্পনা পরিবর্তন এবং সঙ্গীর ভ্রমণে অক্ষমতার বিষয়ে গ্রাহাম যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনে শুনানি হলে গ্রাহামের বিদেশে বসে কাজ করার আগের একটি ঘটনাও সামনে আসে। এর আগে বালি থেকে কাজ করার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, বাসায় মেরামতের কাজ চলায় তাঁকে বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। তবে তাঁর ব্যবস্থাপকের বক্তব্য ছিল, গ্রাহাম যে বিদেশে অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। কমিশন চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় গ্রাহামকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল বলে মনে করেছে। অর্থাৎ, তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পদ্ধতি পুরোপুরি ন্যায্য ছিল না। তবে কমিশনের সিদ্ধান্তে এটিও বিবেচনায় নেওয়া হয় যে, গ্রাহামের আচরণে অসদাচরণের বিষয় ছিল এবং তিনি এরই মধ্যে চার সপ্তাহের বেতন পেয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনা করে কমিশন তাঁকে আগের পদে ফিরিয়ে নেওয়া কিংবা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। ফলে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় অন্যায্যতা চিহ্নিত হলেও গ্রাহাম চাকরি বা বাড়তি আর্থিক সুবিধা—কোনোটিই পাননি। ঘটনাটি বিদেশে অবস্থান করে দূর থেকে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ও কর্মস্থলের নীতিমালা মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষ করে, কোনো কর্মী ছুটিতে বিদেশে গেলে বা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন সেখানে অবস্থান করলে, সেখান থেকে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। অনুমতি ছাড়া কাজ চালিয়ে গেলে তা চাকরির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—চার্লস গ্রাহামের ঘটনা তারই একটি উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে চাকরি হারানোর দাবি করেছেন ক্রিস স্মলস নামে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তাঁর ভাষ্য, একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে বলা হয়, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সমস্যার কারণে তাঁর চাকরি আর থাকছে না। স্মলসের দাবি, প্রায় নয় মাস বেকার থাকার পর একটি অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ওই চাকরি পান। তাঁর দায়িত্ব ছিল প্রতিষ্ঠানের কর্মী ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করা। নতুন কর্মস্থলে প্রথম দিনটি শুরু হয়েছিল স্বাভাবিকভাবেই। কয়েক ঘণ্টা পরিচিতিমূলক কাজ ও প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর তাঁকে আগেভাগে মধ্যাহ্নভোজে যেতে বলা হয়। তবে ভবন থেকে বের হওয়ার আগেই অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁকে ফোন করে জানানো হয়, ‘পরিচ্ছন্নতার সমস্যা’র কারণে তাঁকে আর কাজে রাখা হচ্ছে না। স্মলস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ‘Havocko’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাত হাজার পাঁচশর বেশি আপভোট পায় বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের মধ্যে সহানুভূতি, সন্দেহ এবং নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়। স্মলসের দাবি, চাকরির প্রথম দিন সকালে তিনি নতুন একটি পোলো শার্ট পরে কর্মস্থলে যান। আগের রাতেই তিনি গোসল করেছিলেন বলেও জানান। অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের যে প্রতিনিধি তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার খবর দেন, তিনিও নাকি ঠিক কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি। শুধু তাঁকে ওই দিন কী পোশাক পরেছিলেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। নিজের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে স্মলস বলেন, তিনি নিয়মিত নিজের যত্ন নেন এবং কর্মস্থলে যাওয়ার আগে ভালোভাবেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েছিলেন। তবে তাঁর প্যান্টে কিছুটা ধুলা বা পশুর লোম থাকতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেন। চাকরি হারানোর পর নিজের পরিচিতদের কাছ থেকেও বিষয়টি যাচাই করার চেষ্টা করেন স্মলস। তিনি তাঁর এক রুমমেট ও এক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেন, তাঁর শরীর থেকে কোনো দুর্গন্ধ পাওয়া যায় কি না। দুজনই তা অস্বীকার করেন বলে জানান তিনি। স্মলস আরও বলেন, তাঁর একটি বিড়াল ও একটি কুকুর রয়েছে। তবে তাঁর দাবি, বাসা পরিষ্কার থাকে এবং তিনি এমন একজন রুমমেটের সঙ্গে থাকেন যিনি পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বেশ সতর্ক। চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়াই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেডিটে নিজের পোস্টে তিনি অনুমান করেন, কর্মস্থলে হয়তো নাক চুলকানোর মতো কোনো অঙ্গভঙ্গিকে ভুলভাবে দেখা হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলার মতো কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই। ঘটনার পর স্মলস অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠাটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর দাবি, শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে তাঁর সঙ্গে আবার কাজ করার আগ্রহ দেখালেও পরে আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এমনকি নতুন চাকরিতে যে অল্প সময় কাজ করেছিলেন, সেটির পারিশ্রমিকও তিনি তখন পর্যন্ত পাননি বলে জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে অবশ্য সবাই স্মলসের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হননি। কেউ কেউ মনে করেন, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার প্রকৃত কারণ হতে পারে। আবার অন্যরা প্রশ্ন তুলেছেন, চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য এটিকে হয়তো একটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েকজন রেডিট ব্যবহারকারী ‘হায়ার-টু-ফায়ার’ বা দ্রুত নিয়োগ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে কর্মী ছাঁটাই করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। তবে স্মলস নিজেই এই ব্যাখ্যাকে খুব একটা সম্ভাব্য মনে করছেন না। কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘটনাটি নিয়ে ভাবার পর তাঁর নিজের ধারণা, কর্মস্থলে কোনো আচরণ বা অঙ্গভঙ্গি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর আবার চাকরির সন্ধানে ফিরেছেন স্মলস। নিউইয়র্কের কর্মসংস্থান আইনের কাঠামো নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, অস্থায়ী কর্মীদের চাকরি শেষ করার ক্ষেত্রে আরও স্পষ্ট সুরক্ষা থাকা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যের মতো নিউইয়র্কেও সাধারণভাবে ‘অ্যাট-উইল’ কর্মসংস্থান ব্যবস্থা কার্যকর। এর অর্থ, আইন বা চুক্তিতে বিশেষ কোনো ব্যতিক্রম না থাকলে নিয়োগকর্তা বা কর্মী নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কর্মসম্পর্ক শেষ করতে পারেন, যদিও বৈষম্য বা প্রতিশোধমূলক বরখাস্তের মতো বেআইনি কারণের ক্ষেত্রে আলাদা আইনি সুরক্ষা রয়েছে। তবে স্মলসের নির্দিষ্ট চাকরি হারানোর ঘটনায় নিয়োগকর্তা কোনো বেআইনি আচরণ করেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশই স্মলসের নিজের বক্তব্য ও রেডিটে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে। তাঁর সাবেক কর্মস্থল বা অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ নেই। ফলে চাকরি হারানোর প্রকৃত কারণ কী ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট ও স্মলসের রেডিট পোস্ট।
ফ্রান্সের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান অরেঞ্জের বিরুদ্ধে এক ব্যতিক্রমী মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মী লরেন্স ভ্যান ওয়াসেনহোভ। তার অভিযোগ, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কোম্পানি নিয়মিত বেতন ও অন্যান্য সুবিধা দিলেও তাকে কোনো কাজ, দায়িত্ব বা কর্মস্থল দেয়নি। ফলে তিনি পেশাগতভাবে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতা, মানসিক অবসাদ ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। জন্মগতভাবে আংশিক পক্ষাঘাত ও মৃগীরোগে আক্রান্ত লরেন্স ১৯৯৩ সালে তৎকালীন ফ্রান্স টেলিকমে যোগ দেন, যা পরে অরেঞ্জে রূপান্তরিত হয়। শুরুতে তিনি সচিব ও মানবসম্পদ বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০০২ সালে বাসস্থানের কাছাকাছি বদলির আবেদন করার পর তার কর্মজীবনে মোড় আসে। তার দাবি, নতুন কর্মস্থল তার শারীরিক অবস্থার উপযোগী ছিল না এবং পেশাগত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতামতেও সেটি উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকে কার্যত তাকে কোনো নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। লরেন্সের অভিযোগ, ২০০৪ সাল থেকে তিনি কোনো অফিস, নির্দিষ্ট কর্মস্থল, সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ বা পেশাগত দায়িত্ব ছাড়াই কেবল বেতন পেয়ে গেছেন। তার ভাষ্য, বিষয়টি বাইরে থেকে সুবিধাজনক মনে হলেও বাস্তবে এটি তাকে গভীর মানসিক সংকটে ফেলে। দীর্ঘদিন কর্মহীন অবস্থায় থাকায় তিনি উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হন। তার আইনজীবীর দাবি, অরেঞ্জ প্রতিবন্ধী কর্মীর জন্য আইনসম্মত ও যৌক্তিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং তাকে এমন অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে, যেখানে তিনি চাকরিতে থেকেও কার্যত কর্মজীবনের বাইরে চলে যান। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বৈষম্য ও মানসিক হয়রানির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে অরেঞ্জ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোম্পানির বক্তব্য, লরেন্সের পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। তার আর্থিক ক্ষতি এড়াতে শতভাগ বেতন অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং তার জন্য উপযোগী বিভিন্ন পদে কাজের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে স্বাস্থ্যগত কারণে এবং নিয়মিত অসুস্থতার ছুটির কারণে সেসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি। এই মামলাটি ফ্রান্সে কর্মক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তি, প্রতিবন্ধী কর্মীদের অধিকার এবং নিয়োগকর্তার দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। মামলার বিচার এখনো চলমান। আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত লরেন্স ভ্যান ওয়াসেনহোভের অভিযোগ এবং অরেঞ্জের জবাব, উভয়ই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।