বৈধ কাগজপত্র পেন্ডিং থাকলেও গ্রেফতার, ওয়ারেন্ট ছাড়াই তুলে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ল আইসিইর
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে আইসিইর মাঠপর্যায়ের অফিসারদের ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতারের সুযোগ বাড়িয়েছে সংস্থাটির নতুন ব্যাখ্যা, অন্যদিকে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। একই সময়ে ম্যাসাচুসেটস আইসিইর সিভিল ইমিগ্রেশন কার্যক্রমে রাজ্য ও স্থানীয় সংস্থার সহযোগিতা সীমিত করে নতুন আইন কার্যকর করেছে।
১২ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই তিনটি পরিবর্তনের মধ্যে আইসিইর ওয়ারেন্টবিহীন গ্রেফতারের নীতিটি একেবারে নতুন নয়। ভারপ্রাপ্ত আইসিই পরিচালক টড লায়ন্স গত ২৮ জানুয়ারি একটি অভ্যন্তরীণ মেমোর মাধ্যমে এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দেন। পরে আদালতে জমা দেওয়া নথির মাধ্যমে ওই নির্দেশনার বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইসিই অফিসারদের ওয়ারেন্ট ছাড়াই কাউকে গ্রেফতারের ক্ষমতা আগে থেকেই রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে অফিসারের কাছে ওই ব্যক্তি ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ থাকতে হবে এবং ওয়ারেন্ট সংগ্রহের আগেই তিনি সরে যেতে পারেন বা তাকে আর খুঁজে পাওয়া নাও যেতে পারে, এমন সম্ভাবনাও থাকতে হবে।
নতুন নির্দেশনায় মূল পরিবর্তন এসেছে আইনের “likely to escape” বা ওয়ারেন্ট পাওয়ার আগেই সরে যাওয়ার সম্ভাবনা সংক্রান্ত অংশের ব্যাখ্যায়। আগে আইসিই এই বিষয়টিকে অনেকটা ভবিষ্যতে কোর্ট হিয়ারিং বা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় হাজির না হওয়ার ঝুঁকি বা “ফ্লাইট রিস্কের” সঙ্গে মিলিয়ে দেখত। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দুটি বিষয় এক নয়।
এখন অফিসারকে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, প্রশাসনিক অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে যে সময় লাগবে, সেই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে একই জায়গা বা অন্য কোনো স্পষ্টভাবে শনাক্তযোগ্য স্থানে পাওয়া যাবে কি না। অর্থাৎ ভবিষ্যতে তিনি কোর্টে হাজির হবেন কি না, তার বদলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে আইসিই যেকোনো ব্যক্তিকে কোনো কারণ ছাড়াই ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ওয়ারেন্টবিহীন সিভিল ইমিগ্রেশন গ্রেফতারের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণযোগ্য এবং ওয়ারেন্ট পাওয়ার আগেই সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এই দুই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। গ্রেফতারের পর সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে বিবেচিত কারণ নথিভুক্ত করার নির্দেশনাও রয়েছে।
টার্গেটেড অপারেশনে আইসিই অফিসারদের সম্ভব হলে আগেই প্রশাসনিক অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। তবে অভিযান চলাকালে মূল টার্গেটের বাইরে অন্য কোনো সম্ভাব্য অপসারণযোগ্য অভিবাসীর মুখোমুখি হলে এবং সময়মতো ওয়ারেন্ট পাওয়া সম্ভব না হলে নতুন ব্যাখ্যার অধীনে ওয়ারেন্টবিহীন গ্রেফতারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের গ্রেফতারকে সাধারণভাবে “কোল্যাটারাল অ্যারেস্ট” বলা হয়।
এই নীতির বৈধতা নিয়েও আদালতে বিরোধ চলছে। কলোরাডোতে একটি ফেডারেল আদালত এর আগে আইসিইকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানের সন্দেহই ওয়ারেন্টবিহীন গ্রেফতারের জন্য যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ওয়ারেন্ট পাওয়ার আগেই সরে যেতে পারেন, এমন সিদ্ধান্তেরও ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভিত্তিক আইনি ভিত্তি থাকতে হবে।
এদিকে আইসিইর বডি ক্যামেরা কর্মসূচিতে আগস্টে বড় পরিবর্তন এসেছে। জুলাইয়ে টেক্সাস ও মেইনে আইসিই কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক ঘটনায় দুই অভিবাসী নিহত হওয়ার পর বডি ক্যামেরা নিয়ে কংগ্রেস ও জনপরিসরে চাপ বাড়ে। ওই দুটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ বডি ক্যামেরা রেকর্ডিং না থাকায় স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
প্রাথমিকভাবে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দেশজুড়ে বডি ক্যামেরা চালুর কথা সামনে এলেও ৮ আগস্ট আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডেভিড ভেনচুরেলা জানান, আগস্টের শেষ নাগাদ সব অফিসার ও এজেন্টের কাছে বডি ক্যামেরা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে আগের সেপ্টেম্বরের সময়সীমার তুলনায় সর্বশেষ ঘোষণায় কর্মসূচি দ্রুত সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
জুলাইয়ে বডি ক্যামেরা কেনার জন্য প্রায় ৩০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্যও সামনে এসেছে। গাড়ি থামিয়ে পরিচালিত এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে অন্তত একটি বডি ক্যামেরায় ঘটনা রেকর্ড করার নির্দেশনার কথাও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি ভিডিও প্রকাশের নীতি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। আইসিইর নীতিমালায় মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ফুটেজ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংস্থাটির উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা এবং পরিচালকের সিদ্ধান্তের সুযোগ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভিডিও প্রকাশ বিলম্বিত বা আটকে রাখা যেতে পারে। প্রকাশিত ফুটেজে অফিসারদের পরিচয় এবং সংবেদনশীল তথ্যও ঝাপসা বা গোপন করা হতে পারে।
অন্যদিকে ফেডারেল পর্যায়ে আইসিইর তৎপরতা বাড়ার মধ্যেই ম্যাসাচুসেটস ভিন্ন পথে এগিয়েছে। গভর্নর মরা হিলি ৫ আগস্ট একটি বিস্তৃত ইমিগ্রেশন সুরক্ষা আইনে স্বাক্ষর করেন। প্রোটেক্ট অ্যাক্ট নামে পরিচিত আইনটি স্কুল, চাইল্ড কেয়ার সেন্টার, কোর্টহাউস এবং হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল স্থানে সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
আইনটির গুরুত্বপূর্ণ অংশের মধ্যে রয়েছে রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থার নতুন ২৮৭(জি) চুক্তিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত করা। এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তারা ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের কিছু দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা পান। নতুন আইনে রাজ্য ও স্থানীয় সম্পদ সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা আনা হয়েছে।
তবে ম্যাসাচুসেটসের আইনকে সরাসরি “আইসিই নিষিদ্ধ” করার আইন হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক হবে না। ফেডারেল সংস্থা হিসেবে আইসিই ম্যাসাচুসেটসেও ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগ করতে পারে। নতুন আইনটির মূল লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট সংবেদনশীল স্থানে সিভিল ইমিগ্রেশন গ্রেফতার সীমিত করা এবং ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে রাজ্য ও স্থানীয় সংস্থার অংশগ্রহণ ও সম্পদ ব্যবহারে বাধা তৈরি করা।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নিয়ে এখন দুই বিপরীতমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। ফেডারেল পর্যায়ে আইসিই মাঠপর্যায়ে ওয়ারেন্টবিহীন গ্রেফতারের বিদ্যমান ক্ষমতাকে আরও বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করছে এবং দেশজুড়ে বডি ক্যামেরা চালু করছে। অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটসের মতো রাজ্যগুলো নিজেদের আইন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে সহযোগিতার সীমা আরও সংকুচিত করছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী নরইস্টার ঝড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি, প্রবল বাতাস, উপকূলীয় বন্যা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। ঝড়ের কারণে বিমান চলাচল ও সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, সামনের জোয়ারের সময় উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলোতে পানির উচ্চতা আরও বাড়তে পারে। শনিবার নিউইয়র্ক শহরে ঝোড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টির মধ্যে একটি গাছ ভেঙে পড়ে নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটির এক কর্মী নিহত হন। ধীরগতির নরইস্টারটি রোববারও অঞ্চলজুড়ে প্রভাব বিস্তার করছিল। জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিউ জার্সি থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি, শক্তিশালী বাতাস এবং বিপজ্জনক ঢেউয়ের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। রোববার সকালে ঝড়টি লং আইল্যান্ডের দক্ষিণে এবং উত্তর নিউ জার্সিয়ার পূর্বদিকে অবস্থান করছিল। জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবার প্রধান পূর্বাভাসবিদ বব ওরাভেক জানান, ঝড়টি আরও প্রায় ২৪ ঘণ্টা ওই অঞ্চলের আশপাশে ঘুরপাক খেতে পারে। উত্তর নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক শহর, লং আইল্যান্ড ও দক্ষিণ নিউ ইংল্যান্ডে রোববারও সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। ঝড়ের শক্তি ধীরে কমলেও সকাল ও সন্ধ্যার জোয়ারের সময় উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকি থেকে যায়। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল উপকূলীয় এলাকার মানুষকে পানির কাছাকাছি না যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সপ্তাহান্তে পানিতে বা পানির কাছে যাওয়া আক্ষরিক অর্থেই জীবন নিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার মতো। ঝড়ের প্রভাবে কিছু এলাকায় ঢেউ প্রায় ২০ ফুট পর্যন্ত উঠতে পারে এবং জোয়ারের পানি উপকূলীয় সড়কে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। রোববার সকালে উত্তর-পূর্ব ও মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন বলে পাওয়ারআউটেজ ডট ইউএসের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিউ জার্সির উপকূল, লং আইল্যান্ড ও উপকূলীয় কানেকটিকাটে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যায়। লং আইল্যান্ডে গাছ পড়ে বাড়ি ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক ও বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ফেডারেল জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, অঞ্চলটির জরুরি প্রতিক্রিয়া কেন্দ্রগুলো বাড়তি প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কায় নিউ ইংল্যান্ডে জরুরি কর্মীদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝড়ের কারণে উপকূলীয় ও নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার পানি ঢুকে পড়ার ঝুঁকি থাকায় স্থানীয় পর্যায়েও সতর্কতা জারি রয়েছে। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির কয়েকটি এলাকায় শনিবার বন্যার পানিতে মানুষকে নৌকায় চলাচল করতে দেখা গেছে। নিউ জার্সির সি ব্রাইটে বন্যার পানিতে আটকে পড়া একটি গাড়ি থেকে এক নারী ও তাঁর কুকুরকে উদ্ধার করেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা। সার্ফ সিটিতে একটি নৌঘাটেও পানি ঢুকে পড়ে। সেখানে কয়েকটি নৌকা ও জলযান ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভার্জিনিয়ার নরফোকে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় সড়কে চলাচলকারী গাড়িগুলোও পানির মধ্যে দিয়ে এগিয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বড় ধরনের ব্যাঘাতের মুখে পড়েছে। বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। উত্তর ক্যারোলিনার হ্যাটেরাস দ্বীপে বন্যার কারণে মহাসড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পর্যটকরা আটকা পড়েন। প্রায় ৪৫ জন অতিথি দ্বীপে পৌঁছাতে না পারায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানও অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ঝড়ের সবচেয়ে বড় প্রভাবগুলোর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী বাতাস ও জোয়ারজনিত বন্যা। ঝড়টি ধীরে সরে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে উপকূলীয় এলাকায় এর প্রভাব থাকতে পারে। ২০১২ সালের সুপারস্টর্ম স্যান্ডির কথা মনে করিয়ে দিলেও বর্তমান ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি এখন পর্যন্ত সেই মাত্রায় পৌঁছায়নি। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
সরকারি ওয়েবসাইটে এআই এজেন্টের অস্বাভাবিক আচরণ, কাজ থামাল ওপেনএআই
ভিসা-মাস্টারকার্ডের ১৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের সমঝোতা, জানুন টাকা আবেদনের শর্ত ও যোগ্যতা
আইসিই কর্মকর্তার গু লিতে ব্যক্তি আ হ ত, বি ক্ষো ভ প্র তি বা দে যোগ দেওয়ায় কাউন্সিল প্রার্থী গ্রে প্তা র
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে মুদি ও কনভেনিয়েন্স স্টোরে চাকরির সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। জাতীয়ভাবে এ খাতে চাকরি কমেছে প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। ফেডারেল শ্রম বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে অ্যারিজোনা সেন্টার ফর ইকোনমিক প্রগ্রেস এ হিসাব দিয়েছে। একই সময়ে অ্যারিজোনার দোকানগুলোতে দেওয়া মোট মজুরির অঙ্ক কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। জাতীয়ভাবে কমেছে ১ শতাংশের কম। এটি খাতটিতে দেওয়া মোট মজুরির হিসাব; প্রত্যেক কর্মীর বেতন একই হারে কমেছে, এমন তথ্য নয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেওএলডির প্রতিবেদনে কয়েকজন ক্রেতা জানিয়েছেন, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা খাবার কেনায় খরচ কমাচ্ছেন। এক মুদি দোকানের কর্মী জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগে লোক কম থাকলেও কাজের প্রত্যাশা আগের মতোই রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সান্তা ক্রুজ কাউন্টিতে মুদি দোকানের চাকরি কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ এবং গ্রাহাম কাউন্টিতে ১৩ শতাংশ। সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বেশি চাকরি কমেছে ম্যারিকোপা কাউন্টিতে, প্রায় ৯০০টি। অ্যারিজোনা সেন্টার ফর ইকোনমিক প্রগ্রেস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে রাজ্যটিতে স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জোসেফ পালোমিনোর মতে, খাদ্য সহায়তা কমলে পরিবারের কেনাকাটার সামর্থ্য এবং স্থানীয় দোকানের আয়েও চাপ পড়তে পারে। তবে স্ন্যাপ পাওয়া মানুষের সংখ্যা কমার কারণেই মুদি দোকানে চাকরি ও মোট মজুরি কমেছে, প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে তা নিশ্চিত করা যায় না। তথ্যগুলো একই সময়ে খাদ্য কেনাকাটা ও মুদি দোকানের কর্মসংস্থানে তৈরি হওয়া চাপের চিত্র তুলে ধরছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেল ৮ ডলার ছাড়িয়েছে, কিছু পাম্পে ছুঁয়েছিল প্রায় ১০ ডলার
বেতন বাড়লেও সংসারে টানাটানি, স্ন্যাপ সহায়তা কমায় বিপাকে পরিবারগুলো
এটিএম থেকে টাকা তুলতে অতিরিক্ত ফি দিয়েছেন! মিলতে পারে ভিসা-মাস্টারকার্ডের সেটেলমেন্টের টাকা
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক প্লাকা এলাকায় বি স্ফো রণের পর একটি দুইতলা ভবন ধসে ছয়জনের মৃ ত্যু হয়েছে। শনিবার ধ্বং স স্তূপে অভিযান চালিয়ে ছয়জনের মৃ ত দে হ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা। গ্রিসের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নি হ তদের মধ্যে দুই পুরুষ ও দুই নারী ছিলেন। তাদের সঙ্গে পাওয়া নথি ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র থেকে জানা গেছে, চারজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। এথেন্সের মেয়র হারিস দুকাস জানিয়েছেন, শুক্রবারের বি স্ফো রণের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বড় ধরনের গ্যাস লিককে দেখা হচ্ছে। বি স্ফো রণের প্রভাবে আশপাশের কয়েকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিরাপত্তার কারণে সেসব ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্লাকা এথেন্সের অন্যতম ঐতিহাসিক এলাকা এবং অ্যাক্রোপলিসের পাদদেশে অবস্থিত। গ্রিসের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রাচীন স্থাপনাগুলোর একটি অ্যাক্রোপলিস হওয়ায় এলাকাটি দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, পাশের একটি ভবনে থাকা দুই নারীও বি স্ফো রণের ঘটনায় আ হ ত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযানে প্রায় ৩০ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য এবং তিনটি প্রশিক্ষিত কুকুর অংশ নেয়। বি স্ফো রণের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, রাস্তার ওপর ভবনের ধ্বং সা বশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। ধসে পড়া অংশের নিচে চাপা পড়ে কয়েকটি পার্ক করা গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আন্দ্রেয়াস মার্তজাকলিস জানান, পাশের ভবন থেকে যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তারা সবাই পর্যটক ছিলেন। এদিকে, কাছাকাছি একটি গির্জার যাজক জানিয়েছেন, বি স্ফো রণে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রোববারের প্রার্থনা অনুষ্ঠান গির্জার ভেতরে নয়, বাইরে আয়োজন করা হবে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ফ্লাইট কমাচ্ছে বড় এয়ারলাইনগুলো, বাড়তে পারে ভাড়া
অপরাধে অভিযুক্ত নন এমন অভিবাসীদেরও আইনি হেফাজতে নেবে আইসিই, জানাল ডিএইচএস