- প্রচ্ছদ
- Topic
গবেষক গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠীর চায়ে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগে চীনা বংশোদ্ভূত এক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইলি ওয়াং নামের ৩২ বছর বয়সী ওই গবেষককে গত ৬ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সহকর্মীর গবেষণা ও পেটেন্ট নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। পরে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পর চীনে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বরাতে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ওয়াইয়োমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের লারামি ক্যাম্পাসে অণুজীববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর গবেষণা করছিলেন ওয়াং ও তাঁর সহপাঠী। আদালতের নথিতে ওই সহপাঠীকে ‘কে.টি.’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর গবেষণার সঙ্গে রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং পেটেন্টের বিষয় যুক্ত ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওয়াংয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো ছিল না। দুজনের গবেষণার ক্ষেত্র আলাদা হলেও একই কার্যালয় ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতেন তাঁরা। ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন কে.টি. অস্বাভাবিক শারীরিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্ক গোমেলস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর থেকেই ওই শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়। নিজের ডেস্কে থাকা ছোট কফি মেশিনে চা তৈরি করে পান করার সময় তিনি অস্বাভাবিক স্বাদও অনুভব করতেন। মেশিনটি পরিষ্কার করলে সেই স্বাদ চলে যেত, যা নিয়ে তাঁর সন্দেহ তৈরি হয়। পরে কে.টি.-এর স্ত্রী ও অন্যরা কফি মেশিনের পানিতে রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি পরীক্ষা করেন। তাঁদের সংগ্রহ করা নমুনায় অ্যাক্রিলামাইড নামের একটি রাসায়নিক শনাক্ত হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। অ্যাক্রিলামাইড বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহৃত হলেও নির্দিষ্ট মাত্রায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওয়াং অনলাইন বিপণনমাধ্যম ইবে থেকে এই রাসায়নিক দুবার কিনেছিলেন। তবে রাসায়নিকটি কেনা এবং সেটি সহকর্মীর চায়ে মেশানোর অভিযোগের মধ্যে যোগসূত্র আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি। তদন্তের অংশ হিসেবে কে.টি. ও বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ তাঁদের যৌথ কার্যালয়ে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করেন। পুলিশি হলফনামা অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বরের ভিডিওতে ওয়াংকে সহকর্মীর ডেস্ক ঘাঁটতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ১ অক্টোবরের আরেকটি ভিডিওতে তাঁকে ডেস্কের নোটবুক নিয়ে নাড়াচাড়া করতে, সেগুলোর ছবি তুলতে এবং নিজের কাপ থেকে তরল নিয়ে সহকর্মীর মগ ধুতে দেখা গেছে বলে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন। এসব দৃশ্য ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত এগিয়ে নেয়। তদন্তকারীদের ধারণা, সহকর্মীর গবেষণার নথি নিয়ে ওয়াংয়ের আগ্রহের বিষয়টিও ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। আদালতের নথি অনুযায়ী, কে.টি.-এর গবেষণায় ক্যানসার, স্নায়বিক রোগ ও জিনগত রোগের চিকিৎসায় নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সম্ভাবনা ছিল এবং সেই গবেষণার কয়েকটি পেটেন্টের আবেদন প্রক্রিয়াধীন ছিল। ওয়াং চীনে থাকাকালে একই ধরনের গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে গবেষণার তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ এবং রাসায়নিক প্রয়োগের অভিযোগের মধ্যে সম্পর্ক কী, তা বিচারপ্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হবে। ওয়াশিংটন ও অন্যান্য মার্কিন সরকারি মহল বহু বছর ধরে চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগ তুলে আসছে। তবে ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে চলমান মামলাটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত ঘটনার অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। এ ঘটনায় চীন সরকারের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। তাই একজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে কোনো দেশের সামগ্রিক আচরণের প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ওয়াংকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর সঙ্গে একাধিক ল্যাপটপ, বহনযোগ্য ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ যন্ত্র এবং বিভিন্ন নথিপত্র ছিল বলে প্রসিকিউটরদের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সামগ্রী তদন্তকারীদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, অ্যাক্রিলামাইড কেনার পর ওয়াং ইবেকে তাঁর অ্যাকাউন্ট মুছে দেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছিলেন। আদালতের নথিতে তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবীর নাম উল্লেখ ছিল না। এপি ইমেইল ও লিংকডইনের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পায়নি। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ওয়াং লস অ্যাঞ্জেলেসে জামিন ছাড়াই আটক ছিলেন। ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক হামলা ও আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। ওয়াইয়োমিংয়ের অ্যালবানি কাউন্টির সার্কিট কোর্টের বিচারক রবার্ট স্যানফোর্ড প্রসিকিউটরদের আবেদনের পর তাঁর জামিনের অঙ্ক বাড়িয়ে ১৫ লাখ ডলার নগদ নির্ধারণ করেছেন। তাঁকে কবে ওয়াইয়োমিংয়ে নেওয়া হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোমেলস্কি এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে দুই শিক্ষার্থীই গবেষণা করতেন। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এবং অন্য শিক্ষার্থী এ ঘটনার জন্য দায়ী হয়ে থাকতে পারেন, এমন পরিস্থিতি তাঁর পেশাগত জীবনের অন্যতম বড় ধাক্কা। কে.টি. পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন কি না, সে বিষয়েও তিনি অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিক্ষার্থী ক্লান্তি, মনোযোগের সমস্যা এবং বাঁ হাতে অনুভূতি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গে ভুগছিলেন বলে অধ্যাপক জানিয়েছেন। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার ও যৌথ কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, গবেষণার গোপনীয়তা এবং সহকর্মীদের মধ্যে বিরোধ সামলানোর বিষয়গুলো সামনে এনেছে। তবে মামলার অভিযোগ ও তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়া জরুরি। ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয় এবং তাঁর পক্ষের বক্তব্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), দ্য গার্ডিয়ান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।