তেল শিল্পের আধিপত্যের মাঝেই টেক্সাসে দ্রুত গতিতে বাড়ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার
যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় অঙ্গরাজ্য টেক্সাসে দ্রুত বাড়ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদনে টেক্সাস ক্যালিফোর্নিয়াকে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষে উঠে এসেছে। চলতি ২০২৬ সালেও অঙ্গরাজ্যটিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
টেক্সাসের সৌরবিদ্যুতের এই উত্থানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষিজমি, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত নতুন প্রকল্প স্থাপনের সুযোগ। অঙ্গরাজ্যের আলাদা বিদ্যুৎ গ্রিডে সৌর প্রকল্প যুক্ত করা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় বিনিয়োগকারীরাও এখানে বড় আকারের প্রকল্প গড়ে তুলছেন। একই সময়ে টেক্সাসের জনসংখ্যা ও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় নতুন উৎপাদন সক্ষমতার প্রয়োজনও তৈরি হয়েছে।
এর একটি বাস্তব উদাহরণ উভালডের কৃষক স্টিভ কারগিল। তাঁর পরিবার ১৯৫৩ সাল থেকে টেক্সাসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শুষ্ক ও সমতল জমিতে কৃষিকাজ করছে। ৬৭ বছর বয়সী কারগিল একসময় ধরে নিয়েছিলেন, তাঁর তিন সন্তানের একজন ভবিষ্যতে পারিবারিক খামারের দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু ২০১৮ সালের একটি ভয়াবহ শিলাবৃষ্টির পর সেই পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
কারগিল ও তাঁর ছেলে রায়ান কয়েক মাস ধরে বাঁধাকপি ও পেঁয়াজের ফসল পরিচর্যা করেছিলেন। কিন্তু একটি রাতের ঝড়ে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এরপর তাঁর ছেলে কৃষিকাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। কারগিলও বুঝতে পারেন, তাঁর তিন সন্তানের কেউই পূর্ণকালীন কৃষিকাজে যেতে আগ্রহী নন। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য নির্দিষ্ট অবসরভাতা না থাকায় নিজের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও তিনি চিন্তিত ছিলেন।
এই পরিস্থিতিতে কারগিল তাঁর মোট জমির প্রায় এক-চতুর্থাংশ, ৬০০ একর জমি, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ইজারা দেন। ওসিআই এনার্জি সেখানে বড় একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করে। এই ইজারা থেকে কারগিল বছরে প্রায় ২ লাখ ডলার আয় করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই আয় দীর্ঘস্থায়ী খরার মধ্যেও কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে তিনি নিজের চাষের জমিতে সেচের জন্য বরাদ্দ পানি আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারছেন এবং ডিজেল ও সারের দাম বাড়লেও আগের মতো চাপ অনুভব করছেন না।
টেক্সাসের বিদ্যুৎ খাতেও এই পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টেক্সাসে বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে ৫৮ হাজার ৬৩৪ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় উৎপাদন ছিল ৫৩ হাজার ৭১৩ গিগাওয়াট-ঘণ্টা। তবে ছোট আকারের সৌরবিদ্যুৎ, যেমন বাড়ির ছাদে স্থাপিত ব্যবস্থা, যুক্ত করলে ক্যালিফোর্নিয়া এখনো এগিয়ে রয়েছে।
টেক্সাসের সৌরবিদ্যুতের বিস্তার কতটা দ্রুত হচ্ছে, তার আরেকটি চিত্র পাওয়া যায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্বাভাসে। জ্বালানি তথ্য প্রশাসন জানিয়েছে, টেক্সাসের অধিকাংশ অঞ্চলজুড়ে থাকা বিদ্যুৎ গ্রিডে ২০২৬ সালে বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৭৮ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা এবং কয়লা থেকে উৎপাদন প্রায় ৬০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা হতে পারে।
সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ার পেছনে খরচও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ওসিআইয়ের প্রকল্প উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তা জেমস স্কটের মতে, প্রযুক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থায় ধারাবাহিক উন্নতির কারণে সৌরবিদ্যুতের ব্যয় কমেছে। একটি প্রকল্প চালু হওয়ার পর সূর্যের আলো জ্বালানি হিসেবে বিনামূল্যে পাওয়া যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ চুক্তিতে স্থিতিশীল দাম নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়।
সৌর প্রকল্পের কারণে কৃষকরাও নতুন আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। বড় ও সমতল জমির প্রয়োজন হওয়ায় সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো কৃষকদের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা নিচ্ছে। টেক্সাস সোলার অ্যান্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মার্ক স্টোভার বলেন, এসব ইজারা সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত চলে এবং সময়ের সঙ্গে এর মূল্য বাড়তে পারে। এতে কোনো কোনো পরিবার অবসর নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, কেউ পারিবারিক তহবিল গড়ে তুলছে, আবার কেউ কৃষিখামার টিকিয়ে রাখতে পারছে।
তবে সৌরবিদ্যুতের এই বিস্তার নিয়ে আপত্তিও রয়েছে। উত্তর-পূর্ব টেক্সাসের ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টির কিছু বাসিন্দা নতুন সৌর প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন। স্থানীয় আইনজীবী বিএফ হিকসের অভিযোগ, সৌর প্রকল্প তৈরির জন্য পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং তাঁর পরিবারের কবরস্থানের পাশেও একটি প্রকল্প তৈরি হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা ডেভিড ট্রুসডেলও জমি পরিষ্কার, পানি প্রবাহ এবং বড় ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টির বাসিন্দারা একসময় নতুন সৌর প্রকল্প নির্মাণে স্থানীয় পর্যায়ে স্থগিতাদেশ কার্যকর করলেও পরে আইনি চাপের মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়। সমালোচকদের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে জমির দৃশ্যগত পরিবর্তন, গাছপালা পরিষ্কার করার পর পানি প্রবাহের প্রভাব এবং ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা।
তারপরও টেক্সাসে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ থেমে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যে নতুন বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তার প্রায় ৪০ শতাংশই টেক্সাসে হতে পারে। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যে বড় ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রকল্পও বাড়ছে।
ফলে তেল ও গ্যাসের জন্য পরিচিত টেক্সাসের জ্বালানি চিত্রে সৌরবিদ্যুৎ এখন গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। উভালডের কৃষক কারগিলের মতো জমির মালিকদের জন্য এটি যেমন নতুন আয়ের উৎস তৈরি করছে, তেমনি অঙ্গরাজ্যের দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতেও সৌরবিদ্যুতের ভূমিকা বাড়ছে। তবে গ্রামীণ জমি ব্যবহার ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিতর্কও একই সঙ্গে চলতে থাকছে।
সূত্র: বিবিসি
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমুখে গুরুতর আঘাতের পর নাক, নিচের চোয়ালের বেশির ভাগ অংশ এবং প্রায় সব দাঁত হারিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ক্যামেরন আন্ডারউড। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে নিউইয়র্কের এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথে মুখমণ্ডল প্রতিস্থাপনের পর তাঁর চেহারার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনেও বড় পরিবর্তন আসে। সেই অস্ত্রোপচারের সুযোগ করে দিয়েছিল ২৩ বছর বয়সী উইলিয়াম ফিশারের অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত ও তাঁর পরিবারের সম্মতি। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুনে নিজের ছোড়া গুলিতে ক্যামেরনের মুখে গুরুতর আঘাত লাগে। প্রচলিত পদ্ধতিতে কয়েক দফা পুনর্গঠন অস্ত্রোপচার হলেও তাঁর নাক ও নিচের চোয়ালের বড় অংশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ওপরের চোয়াল ও মুখের তালুতেও ক্ষতি হয়েছিল। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ক্যামেরনের নাম প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় ওঠে। প্রায় ছয় মাস পর সম্ভাব্য দাতা হিসেবে শনাক্ত হন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বাসিন্দা উইলিয়াম ফিশার। তিনি আগে থেকেই অঙ্গদাতা হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। তাঁর পরিবারের সম্মতি এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি শুরু হওয়া অস্ত্রোপচার চলে প্রায় ২৫ ঘণ্টা। চিকিৎসক এদুয়ার্দো রদ্রিগেজের নেতৃত্বে এতে অংশ নেন চিকিৎসক, নার্সসহ শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী। দাতার মুখমণ্ডলের অংশের পাশাপাশি ওপর ও নিচের চোয়াল, দাঁত, মাড়ি, নাক এবং মুখের ভেতরের কিছু অংশ প্রতিস্থাপন ও পুনর্গঠন করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ছিলেন ক্যামেরন। ওই বছরের মার্চের শেষ দিকে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি ফেরেন। তাঁর চিকিৎসায় নিয়মিত ফলোআপ এবং প্রতিস্থাপিত টিস্যু শরীরে গ্রহণযোগ্য রাখতে ওষুধের প্রয়োজন ছিল বলে হাসপাতাল জানিয়েছিল। ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথের বিবৃতিতে ক্যামেরন দাতা ও তাঁর পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর ভাষায়, এই পথচলা সহজ ছিল না, তবে তা সার্থক হয়েছে।
মুদিপণ্য কিনতে কিস্তির ঋণ নিচ্ছেন ২৯ শতাংশ আমেরিকান, বাড়তি খরচের আশঙ্কা
কম সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সে ফুল ফান্ড! জেনে নিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা
তেল শিল্পের আধিপত্যের মাঝেই টেক্সাসে দ্রুত গতিতে বাড়ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার
যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স আইন স্কুলে তাঁর স্বামী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের চেয়ে কেমন ছিলেন? ইয়েল ল স্কুলের শিক্ষক ও সাবেক সহপাঠীদের স্মৃতিচারণ ঘিরে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দ্য ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে প্রশ্নটি আবার সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে মিশেল ওবামা, হিলারি ক্লিনটন ও মেরিলিন কোয়েলের শিক্ষাজীবনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব তুলনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্মৃতিচারণ ও ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো আনুষ্ঠানিক র্যাঙ্কিং নয়। ভ্যানিটি ফেয়ারের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ইয়েল ল স্কুলের অধ্যাপক অ্যামি চুয়া উষা ও জেডি ভ্যান্সের একসঙ্গে করা একটি মুট কোর্টের কাজের কথা বলেন। সেই নির্দিষ্ট কাজটিতে উষা অনেক ভালো করেছিলেন বলে তাঁর মূল্যায়ন। কথাটি বোঝাতে চুয়া অতিরঞ্জিত ভাষায় ‘৫০ বিলিয়ন গুণ’ এগিয়ে থাকার কথা বলেছিলেন। এটি কোনো নম্বর বা পরিমাপের হিসাব নয়। তাঁদের এক সাবেক সহপাঠীও উষাকে ক্লাসের বিশেষ মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে স্মরণ করেছেন। দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে অন্য তিন দম্পতির ক্ষেত্রেও কাছাকাছি স্মৃতিচারণের কথা এসেছে। ইয়েল ল স্কুলের সাবেক সহপাঠীরা হিলারি ক্লিনটনকে বিল ক্লিনটনের চেয়ে বেশি মনোযোগী শিক্ষার্থী হিসেবে মনে রেখেছেন। হার্ভার্ড ল স্কুলের সাবেক অধ্যাপক চার্লস ওগলট্রি এক সাক্ষাৎকারে মিশেল ওবামার দক্ষতার প্রশংসা করে বারাক ওবামার সঙ্গে তাঁর তুলনা করেছিলেন। মেরিলিন কোয়েলের সহপাঠীরাও আইন স্কুলে তাঁর মেধা ও পরিশ্রমের কথা বলেছেন। চার নারীর শিক্ষাজীবন নিয়ে এসব মূল্যায়ন তাঁদের পরবর্তী রাজনৈতিক পথের ব্যাখ্যা দেয় না। হিলারি ক্লিনটন নিজে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন; অন্যদের পথ ছিল ভিন্ন। প্রতিবেদনের মূল আলোচনাটি হলো, পরিচিত রাজনৈতিক নেতাদের স্ত্রী হিসেবে তাঁদের পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁদের নিজস্ব মেধা ও অর্জনের কথাও সাবেক সহপাঠী ও শিক্ষকদের স্মৃতিতে রয়ে গেছে।
ওয়াশিংটনে বাড়ির উঠানে কালো ভালুকের হামলা, লড়াই করে বাঁচল ১২ বছরের কিশোর
কাতারে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে ভুয়া বিয়ে, আদালতে দোষ স্বীকার রোমানিয়ান নারীর
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং পরিবারের আর্থিক চাপ বাড়ার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবার গত এক বছরে তাদের সব বিল সময়মতো পরিশোধ করতে পারেনি। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালে মাত্র ৬৮ শতাংশ মার্কিন পরিবার জানিয়েছে তারা গত ১২ মাসে সব বিল সময়মতো পরিশোধ করতে পেরেছে। ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৭১ শতাংশ। ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্কের ‘ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ পালস ২০২৬ ইউএস ট্রেন্ডস রিপোর্টে’ এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের বসন্ত থেকে ২০২৬ সালের বসন্তের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারের আর্থিক অবস্থায় সামগ্রিকভাবে অবনতি হয়েছে। একই সময়ে সঞ্চয় করা, নিয়মিত বিল পরিশোধ এবং ঋণের চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে আরও বেশি পরিবার সমস্যায় পড়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, গত ১২ মাসে সব বিল সময়মতো পরিশোধ করতে পেরেছে এমন পরিবারের হার ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবার অন্তত কোনো না কোনো সময়ে সময়মতো সব বিল পরিশোধ করতে পারেনি। আর্থিক সক্ষমতার আরও কয়েকটি সূচকেও অবনতির চিত্র পাওয়া গেছে। গত এক বছরে আয়ের চেয়ে কম খরচ করেছে এমন পরিবারের হার ৪৯ শতাংশ থেকে কমে ৪৭ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে নিজেদের সামলানোর অযোগ্য ঋণের মাত্রা রয়েছে বলে জানিয়েছে এমন পরিবারের হার ২৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩১ শতাংশ হয়েছে। আর আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের হার ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশ হয়েছে। আয়ের স্তরভেদে পরিস্থিতির পার্থক্য আরও স্পষ্ট। ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্কের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে গত এক বছরে আয়ের চেয়ে কম খরচ করতে পেরেছে এমন পরিবারের হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ৩১ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে সব বিল সময়মতো পরিশোধ করতে পেরেছে এমন নিম্ন আয়ের পরিবারের হার ৫৪ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ শতাংশে নেমেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খাদ্য, বাসস্থান, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি এবং যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় খরচ বহন করতে পারব বলে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী মাত্র ১০টির মধ্যে প্রায় ৬টি পরিবার। যেসব পরিবার খাদ্য, ইউটিলিটি বা বাসস্থানের খরচ বহনের সক্ষমতা নিয়ে একেবারেই আত্মবিশ্বাসী নয়, তাদের প্রায় ১০টির মধ্যে ৭টি আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিতে পড়ে। গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৩ লাখ পরিবার, অর্থাৎ দেশের প্রায় ২৩ শতাংশ পরিবার, তাদের আর্থিক সক্ষমতার একটি স্তর থেকে অন্য স্তরে চলে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ পরিবার আর্থিক অবস্থার নিম্ন স্তরে নেমে গেছে, বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ পরিবার উন্নতি করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপও পুরোপুরি কমেনি। মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৬-এ ভোক্তা মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ০.৪ শতাংশ বেড়েছে এবং এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে ৩.৪ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যের দাম বছরে ২.৭ শতাংশ এবং বাসস্থানের ব্যয় ৩ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে জ্বালানি খাতে। এক বছরে জ্বালানি সূচক ১৬.৩ শতাংশ এবং গ্যাসোলিনের দাম ২৭.৪ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানি ব্যয়ের এই বৃদ্ধি পরিবারের অন্যান্য খরচেও চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং বিভিন্ন সেবার সঙ্গে জ্বালানি ব্যয়ের সম্পর্ক থাকায় এর প্রভাব সরাসরি ও পরোক্ষভাবে পরিবারের বাজেটে পড়তে পারে। তবে ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্কের জরিপ বিল পরিশোধে সমস্যার নির্দিষ্ট কোনো একক কারণ নির্ধারণ করেনি। ভোক্তাদের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি চিত্র পাওয়া গেছে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সেপ্টেম্বরের জরিপে। প্রাথমিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে ভোক্তা আস্থার সূচক ৪৭.৮-এ নেমে এসেছে, যা আগস্টে ছিল ৫১.৭। এক বছরের ব্যবধানে সূচকটি ১৩.২ শতাংশ কমেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সূচকও এক বছরে ১৫.৭ শতাংশ কমেছে। অর্থনীতিতে সুদের হারও বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী কমিটি ফেডারেল ফান্ডস রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করেছে। ফেড জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি এখনো কিছুটা উঁচু এবং এই পদক্ষেপ তাদের ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যে ফিরে যাওয়ার প্রচেষ্টার অংশ। তবে সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাব পরিবারভেদে ভিন্ন হতে পারে। ঋণের সুদ, নতুন ঋণ নেওয়ার খরচ এবং কিছু ধরনের ভোক্তা ঋণের মাসিক পরিশোধে এর প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে সঞ্চয়কারীরা কিছু ক্ষেত্রে বেশি সুদ পাওয়ার সুবিধাও পেতে পারেন। ফলে সামগ্রিকভাবে সুদের হার বৃদ্ধিকে পরিবারের আর্থিক সংকটের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্কের প্রতিবেদনের সামগ্রিক চিত্রে বরং দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পরিবার একই সময়ে কয়েকটি চাপের মুখে রয়েছে। প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো, সঞ্চয় করা এবং ঋণ সামলানোর সক্ষমতা একসঙ্গে দুর্বল হলে মাসের শেষে হাতে নগদ অর্থের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তখন পরিবারগুলোকে খাদ্য, বাসস্থান, ইউটিলিটি বা অন্যান্য জরুরি খরচকে অগ্রাধিকার দিতে হয় এবং কিছু বিল পিছিয়ে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই চাপ নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান। গবেষণায় তাদের সময়মতো বিল পরিশোধ এবং আয়ের চেয়ে কম খরচ করার সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পতন পাওয়া গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচকের পাশাপাশি পরিবারের দৈনন্দিন আর্থিক সক্ষমতাও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠছে। সব মিলিয়ে, নতুন গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারের আর্থিক অবস্থায় একটি সতর্কতামূলক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব বিল সময়মতো দিতে না পারা পরিবারের হার বেড়েছে, সঞ্চয়ের সক্ষমতা কমেছে এবং ঋণের চাপ বেড়েছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি ব্যয়ের চাপ এবং কমে যাওয়া ভোক্তা আস্থাও দেখাচ্ছে যে অনেক পরিবারের জন্য মাসিক বাজেট সামলানো আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে। সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্ক, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়
নিউইয়র্কবাসীদের জন্য সুখবর, বিনামূল্যে ৭০ হাজার অপেরা টিকিট দিচ্ছেন মেয়র মামদানি
ম্যানহাটনে মাত্র ৮৬৩ ডলারে ২ বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট, লটারিতে আবেদনের সুযোগ