- প্রচ্ছদ
- Topic
টেনেসি
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের হান্টল্যান্ড এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২৪৬টি গাঁজার গাছ (মারিজুয়ানা) উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্যারি ক্রেইন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৯ জুলাই, বুধবার স্থানীয় ফ্রাঙ্কলিন কাউন্টি শেরিফ অফিসের নারকোটিক্স টিম এই অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএসএমভি ও গ্রে নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হান্টল্যান্ড শহরের হিকরি গ্রোভ রোডের ১৬০০ ব্লকের একটি বাড়িতে অবৈধ মাদকদ্রব্য মজুত থাকার গোপন তথ্য পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর ভিত্তিতে শেরিফ অফিসের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণকারী বিশেষ দল আদালতের নির্দেশে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশি চলাকালে বাড়িটির ভেতর থেকে ২৪৬টি গাছ উদ্ধার করা হয়, যা গাঁজা গাছ বলে জোরালো সন্দেহ করছে পুলিশ। শুধু গাছই নয়, গাঁজা চাষের জন্য ব্যবহৃত একাধিক আলট্রাভায়োলেট (ইউভি) বা অতিবেগুনি রশ্মির লাইট এবং মাদক চাষের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটিকে রীতিমতো একটি মাদকের খামার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এছাড়া সেখান থেকে 'শিডিউল-২' ও 'শিডিউল-৩' তালিকাভুক্ত অন্যান্য মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এই তালিকাভুক্ত মাদকগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং চিকিৎসকের কড়া নির্দেশ ছাড়া এগুলোর ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি। তল্লাশি শেষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়ার পর বাড়ির মালিক গ্যারি ক্রেইনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করেন শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা। তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'শিডিউল-৬' তালিকাভুক্ত নিয়ন্ত্রিত পদার্থ (গাঁজা) উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহ করা, 'শিডিউল-২' এবং 'শিডিউল-৩' পদার্থ অবৈধভাবে কাছে রাখা, মাদক সংক্রান্ত সরঞ্জাম রাখার জন্য ফেলোনি বা গুরুতর অপরাধ এবং মাদক ব্যবসার উদ্দেশ্যে বসতবাড়ি ব্যবহার করা। বর্তমানে গ্যারি ক্রেইনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফ্রাঙ্কলিন কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, এলাকায় মাদক নির্মূল কার্যক্রমে তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন থাকা সত্ত্বেও টেনেসির রিপাবলিকান প্রাইমারিতে পরাজিত হয়েছেন কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি ওগলস। ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে টেনেসির পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে সাবেক অঙ্গরাজ্য কৃষি কমিশনার চার্লি হ্যাচারের কাছে প্রায় ৬ শতাংশ ব্যবধানে হেরে যান তিনি। মুসলিমদের নিয়ে তার বিতর্কিত মন্তব্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে কয়েক মাস ধরে সমালোচনার মুখে ছিলেন ওগলস। ওগলস ২০২২ সালে প্রথমবার কংগ্রেসে নির্বাচিত হন এবং পরে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিতি পান। এবারের নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ওগলসকে সমর্থন করেন। এমনকি তার পক্ষে প্রচারণামূলক টেলিফোন সমাবেশেও অংশ নেন ট্রাম্প। কংগ্রেসের স্পিকার মাইক জনসনও ওগলসকে সমর্থন করেছিলেন। তবে রিপাবলিকান ভোটারদের কাছে শেষ পর্যন্ত জয় পাননি ওগলস। তার প্রতিদ্বন্দ্বী চার্লি হ্যাচার টেনেসির সাবেক কৃষি কমিশনার। রাজ্যের গভর্নর বিল লিসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা হ্যাচারকে সমর্থন করেছিলেন। ওগলসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিতর্কগুলোর একটি ছিল মুসলিমদের নিয়ে তার মন্তব্য। চলতি বছরের ৯ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, “Muslims don’t belong in American society. Pluralism is a lie.” অর্থাৎ, “মুসলিমরা আমেরিকান সমাজের অংশ নয়। বহুত্ববাদ একটি মিথ্যা।” তার এই মন্তব্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। মুসলিম অধিকার সংগঠন, নাগরিক অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারাও বক্তব্যটির নিন্দা জানান। তার নির্বাচনী এলাকাতেও বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। টেনেসির পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ফলে ওই এলাকার একজন নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্যের মুখে মুসলিমদের আমেরিকান সমাজে জায়গা নেই বলে মন্তব্য ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ওগলস এর আগেও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে মার্চে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। তার মন্তব্যের বিরুদ্ধে কংগ্রেসেও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যায়। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য শ্রী থানেদার ওগলসের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কারের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তবে ওগলসের পরাজয়ের একমাত্র কারণ তার মুসলিমদের নিয়ে মন্তব্য ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। নির্বাচনী এলাকার নতুন সীমানা, প্রার্থীদের স্থানীয় রাজনৈতিক সমর্থন এবং রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাও নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ট্রাম্প প্রকাশ্যে সমর্থন করার পরও তার পছন্দের প্রার্থী নিজ দলের প্রাথমিক নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তবে হ্যাচারও ট্রাম্পের নীতির সমর্থক হওয়ায় ওগলসের পরাজয়কে সরাসরি ট্রাম্পবিরোধী ভোট হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। অ্যান্ডি ওগলসের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে টেনেসির পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে গেলেন চার্লি হ্যাচার। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ডেমোক্র্যাট প্রার্থী চাজ মোল্ডারের সঙ্গে। ওগলসের মুসলিমদের নিয়ে করা মন্তব্যের পর যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই নির্বাচনে এই পরাজয় যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমান নাগরিক অধিকার এবং রাজনৈতিক বহুত্ববাদ নিয়ে আলোচনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে নির্বাচনের ফলকে কোনো একটি বক্তব্যের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখার আগে স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অন্যান্য নির্বাচনী কারণও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির মারফ্রিসবোরোতে প্রায় দুই বছরের এক শিশুকে রাস্তায় একা ঘুরতে দেখে উদ্ধার করেছেন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—ICE-এর কর্মকর্তারা। শিশুটির পরনে ছিল শুধু একটি ময়লা ডায়াপার। ১৩ জুলাই নিয়মিত কার্যক্রমের সময় শিশুটিকে রাস্তায় দেখতে পান ICE-এর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারা। তাদের ধারণা, শিশুটি কয়েক ঘণ্টা ধরে কোনো প্রাপ্তবয়স্কের তত্ত্বাবধান ছাড়াই ছিল। একপর্যায়ে শিশুটি সড়কে চলে গেলে একটি গাড়ির ধাক্কা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত শিশুটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেন কর্মকর্তারা এবং সহায়তার জন্য মারফ্রিসবোরো পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ আসার অপেক্ষায় আশপাশে খোঁজ করতে গিয়ে কর্মকর্তারা কাছের একটি অ্যাপার্টমেন্টে শিশুটির মাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পান। অ্যাপার্টমেন্টের দরজাও খোলা ছিল এবং ছেলে যে বাইরে চলে গেছে, সে বিষয়ে মা অবগত ছিলেন না। পরে মারফ্রিসবোরো পুলিশ শিশুটির দায়িত্ব নেয়। পুলিশ জানায়, মা বলেছেন—এটাই প্রথমবার তার সন্তান কোনো প্রাপ্তবয়স্কের তত্ত্বাবধান ছাড়া বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। সৌভাগ্যক্রমে শিশুটি কোনো আঘাত ছাড়াই নিরাপদে ছিল এবং পরে তাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি মামলা করা হয়নি। তবে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ কল্যাণ নিশ্চিত করতে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেনস সার্ভিসেসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ICE-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তাদের দায়িত্বের অংশ। তবে ঘটনাটি ICE-এর নিয়মিত অভিবাসন কার্যক্রমের বাইরে একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘটনায় পরিণত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে বৃহস্পতিবার গভর্নর পদে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী বাছাইয়ের ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দুই রাজনৈতিক মিত্র, মার্কিন সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন এবং প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য জন রোজ। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দুই প্রার্থীর ব্যবধান কমে আসায় শেষ মুহূর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠেছে। বর্তমান গভর্নর বিল লি টানা দুই মেয়াদ পূর্ণ করায় টেনেসির সংবিধান অনুযায়ী এবার আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। ফলে রিপাবলিকানদের এই প্রাইমারিকে অঙ্গরাজ্যের পরবর্তী গভর্নর নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই টেনেসি রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হওয়ায় দলীয় মনোনয়ন বিজয়ী প্রার্থী সাধারণ নির্বাচনে এগিয়ে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে জনমত জরিপে মার্শা ব্ল্যাকবার্ন এগিয়ে থাকলেও নির্বাচনের আগে শেষ দিকে জন রোজ ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছেন। এদিকে অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতা মন্টি ফ্রিটসও রিপাবলিকান মনোনয়নের দৌড়ে রয়েছেন। রক্ষণশীল ভোটের একটি অংশ তার দিকে গেলে মূল দুই প্রার্থীর লড়াইয়ের ফলেও প্রভাব পড়তে পারে। মার্শা ব্ল্যাকবার্ন বর্তমানে টেনেসির মার্কিন সিনেটর এবং ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য জন রোজও ট্রাম্পের নীতির জোরালো সমর্থক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রচারের শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই গভর্নর প্রাইমারিতে কোনো প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেননি। এবারের প্রাইমারিতে গভর্নর নির্বাচন ছাড়াও কংগ্রেসের কয়েকটি আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের ভোট হচ্ছে। এর মধ্যে নতুনভাবে পুনর্নির্ধারিত মেমফিসভিত্তিক একটি কংগ্রেসনাল আসনও রয়েছে, যা নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। টেনেসির গভর্নর পদে রিপাবলিকান প্রার্থী নির্ধারণের এই ভোটের ফলই আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের আগে অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য কোন অঙ্গরাজ্যে জীবনযাত্রার খরচ কম, চাকরির সুযোগ ভালো এবং সঞ্চয়ের সম্ভাবনা বেশি, এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ২০২৬ সালের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, রাজ্য কর, কর্মসংস্থান এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি বিবেচনায় টেক্সাস, মিশিগান, টেনেসি, ফ্লোরিডা ও সাউথ ডাকোটাকে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে সুবিধাজনক অঙ্গরাজ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কে বসবাস করেন। এছাড়া মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিতেও বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। তবে নিউইয়র্কে বাড়ি ভাড়া, দৈনন্দিন খরচ এবং করের চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি। এ কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক বাংলাদেশি কম খরচের অঙ্গরাজ্যে বসবাসের দিকে ঝুঁকছেন। ১. টেক্সাস তালিকার শীর্ষে রয়েছে টেক্সাস। এই অঙ্গরাজ্যে কোনো রাজ্য আয়কর (স্টেট ইনকাম ট্যাক্স) নেই। জীবনযাত্রার খরচও জাতীয় গড়ের চেয়ে কম। হিউস্টন, ডালাস ও অস্টিনে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, হালাল বাজার এবং বিভিন্ন পেশায় চাকরির সুযোগ থাকায় নতুন অভিবাসীদের কাছে টেক্সাস অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। ২. মিশিগান দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিশিগান। ডেট্রয়েট অঞ্চলে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে। হামট্রামেক শহরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনাও এ কমিউনিটির শক্ত অবস্থানের প্রমাণ। তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ এবং গাড়ি শিল্পে ভালো বেতনের চাকরি মিশিগানকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ৩. টেনেসি টেনেসিতেও কোনো রাজ্য আয়কর নেই। জীবনযাত্রার খরচ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় প্রতি মাসে বেশি অর্থ সঞ্চয় করা সম্ভব। যারা ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমাতে চান, তাদের জন্য এটি ভালো বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ৪. ফ্লোরিডা ফ্লোরিডায়ও রাজ্য আয়কর নেই। যদিও কিছু শহরে বাড়ি ভাড়া তুলনামূলক বেশি, তারপরও করের সুবিধা, উষ্ণ আবহাওয়া এবং কর্মসংস্থানের কারণে অনেক বাংলাদেশি এই অঙ্গরাজ্যে বসবাস করছেন। ৫. সাউথ ডাকোটা সাউথ ডাকোটায়ও কোনো রাজ্য আয়কর নেই। জীবনযাত্রার খরচ কম এবং ট্রাক চালানো, গুদাম ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন খাতে ভালো আয়ের সুযোগ থাকায় কর্মজীবীদের কাছে অঙ্গরাজ্যটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কম খরচের কথা বিবেচনা করলেই হবে না। কোথায় ভালো চাকরি পাওয়া যাবে, সন্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পরিবেশ এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। এই প্রতিবেদনটি পিউ রিসার্চ সেন্টার, ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট এবং মিসৌরি ইকোনমিক রিসার্চ সেন্টারের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বাড়ি ভাড়া, চাকরির সুযোগ ও জীবনযাত্রার ব্যয় সময় ও স্থানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কোনো অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সর্বশেষ স্থানীয় তথ্য যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। যদিও রাজ্যটির বেকারত্বের হার এখনো তুলনামূলকভাবে কম, তবুও নতুন কর্মসংস্থান তৈরির ধীরগতি শ্রমবাজারে চাপ বাড়াচ্ছে। টেনেসির সাম্প্রতিক শ্রমবাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত এক বছরে রাজ্যটিতে কর্মরত মানুষের সংখ্যা ৩০ হাজারেরও বেশি কমে প্রায় ৩৩ লাখ ৭২ হাজারে নেমে এসেছে, যা ২০২৪ সালের শেষ দিকের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে নিয়োগদাতাদের জরিপে অ-কৃষি খাতে কিছু নতুন চাকরি সৃষ্টি হলেও সেই প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় অনেক ধীর। একই সময়ে মৌসুমি সমন্বয় করা বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৬ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব টেনেসির বয়েড সেন্টার ফর বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চের পরিচালক অর্থনীতিবিদ ডন ব্রুস বলেন, সমস্যার মূল কারণ চাকরির ঘাটতি নয়; বরং শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার কমে যাওয়া। অনেক মানুষ শ্রমবাজার ছেড়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের সামগ্রিক চিত্রে এক ধরনের বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যের মতো টেনেসিতেও ‘লো-হায়ার, লো-ফায়ার’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলো বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাইও করছে না, আবার নতুন নিয়োগেও আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে নতুন চাকরি খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং একটি পদের জন্য প্রতিযোগীও বেড়ে যাচ্ছে। জাতীয় পর্যায়েও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে জুন মাসে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা, উচ্চ ঋণব্যয় এবং নিয়োগে সতর্ক অবস্থানের কারণে শ্রমবাজারে এই ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেকারত্বের হার কম থাকলেও কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি আরও কমে গেলে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং চাকরি পেতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। তাই আগামী কয়েক মাসের শ্রমবাজারের গতিপ্রকৃতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে নিজের এক সন্তানকে বাড়ির পেছনের সুইমিংপুলে জোর করে পানির নিচে চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে গুরুতর শিশু নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ওয়াশিংটন কাউন্টি শেরিফস অফিস জানিয়েছে, গত ১৫ জুলাই বিকেল প্রায় ৫টার দিকে জনসন সিটির কোচরান রোডের একটি বাড়ি থেকে গোলযোগের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তদন্তে জানা যায়, ৩১ বছর বয়সী মিকাইলি রে বিয়ার্ন (Mikaylee Rae Beirne) বাড়ির পেছনের সুইমিংপুলে কয়েকজন শিশুর সঙ্গে ছিলেন। এ সময় বাড়ির ভেতরে আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ এক শিশু দৌড়ে বাড়ির ভেতরে গিয়ে ওই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে জানায় যে, বিয়ার্ন অপর এক শিশুকে জোর করে পানির নিচে চেপে ধরে রেখেছেন। খবর পেয়ে ওই ব্যক্তি দ্রুত সুইমিংপুলে গিয়ে শিশুটিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিয়ার্নকে বলেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। পরে ওই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি জোর করে বিয়ার্নকে সরিয়ে শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করেন। কিছুক্ষণ পর আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিয়ার্নের সঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেন। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তিনি সেখান থেকে চলে যান। পরে জরুরি সেবা কর্মীদের ডাকা হলে আহত শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটির শরীরে সামান্য আঘাত ও কিছু স্থানে কালশিটে দাগ পাওয়া গেছে। সৌভাগ্যবশত, তার অবস্থা গুরুতর হয়নি। ওয়াশিংটন কাউন্টি শেরিফস অফিসের সদস্যরা অল্প সময়ের মধ্যেই বিয়ার্নকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করেন। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটন কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন। আদালত তার জামিনের পরিমাণ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছেন। শেরিফ কিথ সেক্সটন বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পূর্ণ কারণ ও পেছনের পরিস্থিতি জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে নিজের মেয়ের শোবার ঘরে এক যুবককে দেখতে পেয়ে গুলি করে হত্যার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত নারীর নাম কেন্দ্রা স্কট (৩৬)। তদন্তকারীদের কাছে তিনি বলেছেন, "যা করার ছিল, তাই করেছি।" তবে ঘটনার তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যা এবং বিপজ্জনক অপরাধ সংঘটনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএমসি (WMC) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাত প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে মেমফিসের ওয়াকার হোমস এলাকায় গুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে একটি বাড়ির সামনের উঠানে মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক যুবককে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই কেন্দ্রা স্কটকে আটক করে। আদালতে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, স্কট তদন্তকারীদের জানান যে তিনি নিজের সন্তানের কক্ষের বিছানার নিচে ওই যুবককে লুকিয়ে থাকতে দেখেন। এরপরই তিনি গুলি চালান। ঘটনার পর তিনি পুলিশকে বলেন, "আমি যা করার ছিল, তাই করেছি।" তদন্তে পরে পুলিশ জানতে পারে, ওই যুবককে বাড়িতে ডেকেছিল স্কটের মেয়েই। তদন্তকারীদের কাছে কিশোরীটি জানায়, তার মা আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন যে, যদি সে কখনো কোনো ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসে, তাহলে তিনি তাকে গুলি করবেন। এই বক্তব্যও মামলার নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সবদিক পর্যালোচনা করে পুলিশ কেন্দ্রা স্কটের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যা এবং বিপজ্জনক অপরাধ সংঘটনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্তকারীরা এখন ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি, নিহত যুবকের সঙ্গে পরিবারের সম্পর্ক এবং ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন। আদালতের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার কেন্দ্রা স্কটকে প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির করা হবে। সেখানে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলে এক বিবাহিত নারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সহকর্মীর সঙ্গে একটি স্কুল ভবনের ভেতরে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন। অভ্যন্তরীণ তদন্তে ঘটনাটির বিভিন্ন তথ্য উঠে আসায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম WKRN-এর হাতে আসা মেট্রো ন্যাশভিল পুলিশ বিভাগের অফিস অব প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি (OPA)-এর তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তা লিসা ভিদ্রিওস ২০২৫ সালের মে মাসে ম্যাডিসন মিডল স্কুলে স্কুল রিসোর্স অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তদন্তে তিনি স্বীকার করেন, ওই সময় অন্তত চারবার এক সহকর্মী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে স্কুল ভবনের ভেতরে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি তার স্বামী ছিলেন না। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার করা ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাগুলো তার অফিসকক্ষে ঘটেছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাগুলোর সময় স্কুল ভবনের ভেতরে শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল এবং অফিসের বাইরে কর্মীদের কথাবার্তার শব্দও শোনা যাচ্ছিল। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো শিক্ষার্থী সরাসরি এ ঘটনার সাক্ষী হয়েছে এমন দাবি করা হয়নি। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ওই দুই কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অন্তত দুটি পৃথক ঘটনায় একটি পুলিশ গাড়িতেও অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি ঘটনা একটি পরিত্যক্ত হাসপাতালের পার্কিং এলাকায় ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লিসা ভিদ্রিওস ন্যাশভিল পুলিশ বিভাগে যোগ দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে প্রায় নয় বছর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে তিনি ও তার পুলিশ কর্মকর্তা স্বামী ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো থেকে ন্যাশভিলে চলে আসেন এবং মেট্রো ন্যাশভিল পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি থেকে একসঙ্গে স্নাতক হওয়া প্রথম দম্পতি হিসেবে পরিচিতি পান। সে সময় বিভাগটির প্রচারমূলক একটি ভিডিওতেও তাকে তুলে ধরা হয়েছিল, যেখানে তিনি পরিবার ও কর্মজীবনের কথা বলেছিলেন। পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসেই অভিযোগের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর ২৬ মে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে সক্রিয় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পুলিশ বিভাগের সব ধরনের প্রবেশাধিকার স্থগিত করা হয়। অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলাকালে লিসা ভিদ্রিওস পুলিশের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একটি সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত হন। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল একজন পুলিশ কর্মকর্তার জন্য অনুপযুক্ত আচরণ এবং দায়িত্ব পালনকালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা। তদন্ত শেষে তাকে ৩০ দিনের জন্য বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত হয় এবং পরে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে সহকর্মী পুলিশ কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি মেট্রো ন্যাশভিল পুলিশ বিভাগে ১৮ বছর কর্মরত ছিলেন এবং সর্বশেষ ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস শাখায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। তদন্ত চলাকালে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দায়িত্ব পালনকালে আহত হওয়ার ভিত্তিতে পেনশন সুবিধা পান। ফলে তদন্তকারীরা তার আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার নিতে পারেননি। প্রতিবেদনটিতে লিসা ভিদ্রিওসের স্বামীর নামও প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অফিস অব প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটিও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
বিশ্ব টেনিস র্যাঙ্কিংয়ের সাবেক দুই নম্বর তারকা ও তিউনিসিয়ান গর্ব ওনস জাবেউর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এবার শুধু র্যাকেট হাতে নয়, বরং মানবতার পক্ষে তার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং ব্যক্তিগত জীবনের নতুন এক অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনের গাজা পরিস্থিতি, টেনিসে লিঙ্গবৈষম্য এবং প্রথম সন্তান জন্মের পর কোর্টে ফেরার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এই ‘মিনিস্টার অফ হ্যাপিনেস’। গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাবেউর বলেন, "একজন অ্যাথলেট হিসেবে কথা বলাটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যখন শিশুদের ক্ষুধার্ত থাকতে দেখি বা নিরপরাধ মানুষদের প্রাণ হারাতে দেখি, তখন টেনিস কোর্টের জয়-পরাজয় গৌণ হয়ে যায়।" গাজা ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার শিকার হলেও, ন্যায়ের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। পাশাপাশি টেনিস বিশ্বে নারীদের সমান অধিকার এবং লিঙ্গবৈষম্য নিয়েও মুখ খুলেছেন এই তিনবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালিস্ট। টেনিসের বড় আসরগুলোতে নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা এবং প্রচারের ক্ষেত্রে যে ব্যবধান রয়েছে, তা দূর করার আহ্বান জানান তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে জাবেউর এখন এক নতুন রোমাঞ্চের অপেক্ষায়। তিনি প্রথমবারের মতো মা হতে চলেছেন। তবে মা হওয়া মানেই যে ক্যারিয়ারের ইতি, তা মানতে নারাজ এই তিউনিসিয়ান। কিম ক্লিইস্টার্সের মতো কিংবদন্তিদের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, মা হওয়ার পর আরও শক্তিশালী হয়ে টেনিস কোর্টে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার। জাবেউর বলেন, "আমি নিজেকে সময় দিতে চাই, দেখতে চাই আমার শরীর কীভাবে সাড়া দেয়। তবে আমি নিশ্চিতভাবেই আবারও টেনিস র্যাকেট হাতে ফিরব এবং আগামী কয়েক বছর সর্বোচ্চ পর্যায়ে লড়াই চালিয়ে যেতে চাই।" তার এই ঘোষণা ভক্তদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে। মাঠ ও মাঠের বাইরে সমানভাবে প্রভাবশালী এই অ্যাথলেট আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং এক বৈশ্বিক পরিবর্তনের দূত।
ইউক্রেনের টেনিস সেনসেশন মার্তা কস্ত্যুক আবারও আলোচনায়। তবে এবার কেবল তার র্যাকেট বা ফোরহ্যান্ড শটের জন্য নয়, বরং নিজ দেশ ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সংকল্প নিয়ে তিনি শুরু করতে যাচ্ছেন বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ 'ক্লে-কোর্ট' মৌসুম। সম্প্রতি সিএনএন-এর সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ২৩ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় তার ক্যারিয়ার, বর্তমান ফর্ম এবং যুদ্ধের ময়দানে থাকা নিজ দেশের পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। টেনিসের লাল মাটির কোর্ট বা ক্লে-কোর্ট সবসময়ই খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক ধৈর্য পরীক্ষা করে। কস্ত্যুক জানান, এবারের মৌসুমে তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী। গত কয়েক মাসে তার খেলায় ব্যাপক উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনালের ফাইনালে পৌঁছানো এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালের পারফরম্যান্স তাকে র্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে প্রবেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সাক্ষাৎকারে কস্ত্যুক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন যখন তিনি তার দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলেন। কস্ত্যুক জানান, টেনিস কোর্টে যখন তিনি প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করেন, তখন তার মনের এক কোণায় সবসময় ইউক্রেনের মানুষের কষ্টের কথা ঘুরপাক খায়। তিনি বলেন, "আমি প্রতিদিন হৃদয়ে এক ধরণের ব্যথা নিয়ে খেলি। যখন ভাবি আমার দেশে হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎ ও পানি ছাড়াই দিন কাটাচ্ছে, তখন কোর্টের লড়াইকে অনেক ছোট মনে হয়।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমার খেলা এখন আর কেবল আমার একার নয়। আমি চাই আমার প্রতিটি জয় যেন ইউক্রেনবাসীর মুখে হাসি ফোটায় এবং বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দেয় যে আমরা এখনও লড়ে যাচ্ছি।" রাশিয়ান ও বেলারুশিয়ান খেলোয়াড়দের সাথে করমর্দন না করার যে সিদ্ধান্ত কস্ত্যুক এবং অন্যান্য ইউক্রেনীয় খেলোয়াড়রা নিয়েছেন, সে বিষয়েও তিনি কথা বলেন। তিনি একে তার "সচেতন পছন্দ" হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইউক্রেনে আগ্রাসন বন্ধ না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত স্বাভাবিক আচরণ করা সম্ভব নয়। যদিও টেনিস বিশ্বে এই নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে, তবে কস্ত্যুক তার অবস্থানে অনড়। বর্তমানে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১৬ নম্বরের আশেপাশে থাকা এই তরুণী এখন তার ক্যারিয়ার সেরা ফর্মে আছেন। ক্লে-কোর্ট মৌসুমে ভালো ফলাফল করতে পারলে প্রথমবারের মতো শীর্ষ ১০-এ জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে। টেনিস বিশ্লেষকদের মতে, কস্ত্যুক যদি তার বর্তমান মানসিক দৃঢ়তা ধরে রাখতে পারেন, তবে আসন্ন ফ্রেঞ্চ ওপেনে তিনি বড় কোনো চমক দেখাতে পারেন। দেশের সংকটময় মুহূর্তে একজন ক্রীড়াবিদ কীভাবে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠতে পারেন, মার্তা কস্ত্যুক আজ তার জীবন্ত উদাহরণ। সূত্র: সিএনএন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।