- প্রচ্ছদ
- Topic
ট্যাক্সি
ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যবসা পরিচালনার উচ্চ খরচ, ট্যাক্স ও নিয়ন্ত্রক জটিলতা নিয়ে হতাশ হয়ে নিজের কোম্পানির সদর দপ্তর টেক্সাসে সরিয়ে নিয়েছেন ডিজিটাল ব্র্যান্ডস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী হিল ডেভিস। ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘদিন ব্যবসা চালানোর পর তার ভাষ্য, সেখানে কোম্পানি পরিচালনা করা ক্রমেই ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে উঠছিল। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোশাক ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড পরিচালনাকারী ডিজিটাল ব্র্যান্ডস গ্রুপের সদর দপ্তর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসের রাউন্ড রকে স্থানান্তর করা হয়েছে। অস্টিনের কাছের এই শহরে কোম্পানিটি প্রায় ৭০ হাজার বর্গফুটের একটি ওয়্যারহাউস ও অফিস স্পেস লিজ নিয়েছে। ডেভিসের দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার ভার্ননে কোম্পানিটি যে খরচে আগের জায়গাটি ব্যবহার করছিল, প্রায় একই খরচে টেক্সাসে অনেক বড় ও সুবিধাজনক জায়গা পাওয়া গেছে। নতুন স্থাপনায় অফিসের পাশাপাশি কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউশন কার্যক্রমও পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। শুধু জায়গার খরচ নয়, ব্যবসা পরিচালনার সামগ্রিক পরিবেশও সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানান ডেভিস। তার অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্যাক্স, বিভিন্ন রেগুলেশন, আইনি জটিলতা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া ব্যবসার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। কর্মীদের দীর্ঘ সময় কমিউট করাও কোম্পানির জন্য আরেকটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে ডিজিটাল ব্র্যান্ডস গ্রুপ পুরোপুরি ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে যাচ্ছে না। লস অ্যাঞ্জেলেসে কোম্পানিটির কিছু কার্যক্রম থাকবে। একই সঙ্গে কর্মীদের মধ্যে যারা টেক্সাসে যেতে চান, তাদের স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ডেভিসের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে বিভিন্ন কোম্পানির সদর দপ্তর স্থানান্তর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনা চলছে। গত কয়েক বছরে টেসলা, ওরাকল ও শেভরনের মতো বড় কোম্পানিও তাদের সদর দপ্তর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে সরিয়েছে। ২০২৬ সালের ফরচুন ৫০০ তালিকাতেও করপোরেট সদর দপ্তরের সংখ্যায় ক্যালিফোর্নিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে টেক্সাস। তালিকা অনুযায়ী, টেক্সাসে ফরচুন ৫০০ কোম্পানির সদর দপ্তর রয়েছে ৫৭টি, ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৬টি। কয়েক বছর আগেও এই হিসাবে এগিয়ে ছিল ক্যালিফোর্নিয়া। টেক্সাসে ব্যক্তিগত স্টেট ইনকাম ট্যাক্স না থাকা এবং তুলনামূলক কম অপারেটিং খরচ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন কোম্পানিকে আকৃষ্ট করছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, বিনোদন ও উদ্ভাবন খাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সিলিকন ভ্যালি ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো অঞ্চল বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে রয়ে গেছে। ডেভিসও মনে করেন না যে হঠাৎ করেই সব কোম্পানি ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে চলে যাবে। তার মতে, পরিবর্তনটি বরং ধীরে ধীরে ঘটছে। কিন্তু ব্যবসার খরচ ও পরিচালন পরিবেশে বড় পার্থক্য থাকলে আরও প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে বিকল্প রাজ্যের দিকে যেতে পারে।
আমেরিকায় আয়কর বিবরণী জমা দিলেই সরকারকে বাড়তি টাকা দিতে হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেকের বেতন থেকে সারা বছর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আয়কর কেটে রাখা হয়। আবার সন্তান, স্বল্প ও মাঝারি আয় কিংবা উচ্চশিক্ষার খরচের কারণে অনেকে বিশেষ করছাড়ের যোগ্য হন। এসব ক্ষেত্রে বছর শেষে আয়কর হিসাব করার পর শত শত কিংবা হাজার হাজার ডলার ফেরত পাওয়া সম্ভব। তবে সবার ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, আয়কর ফেরত পাওয়া কোনো সরকারি উপহার বা অতিরিক্ত ভাতা নয়। একজন করদাতার কাছ থেকে সারা বছর যে পরিমাণ আয়কর কেটে রাখা হয়েছে, চূড়ান্ত হিসাবে তার প্রকৃত করের পরিমাণ এর চেয়ে কম হলে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। এর সঙ্গে ফেরতযোগ্য করছাড় যুক্ত হলে ফেরতের অঙ্ক আরও বাড়তে পারে। সন্তান রয়েছে এমন পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার একটি হলো শিশু করছাড়। ২০২৫ করবর্ষে যোগ্য প্রতিটি সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত শিশু করছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাধারণভাবে করবর্ষের শেষে সন্তানের বয়স ১৭ বছরের নিচে থাকতে হয়। পাশাপাশি সন্তানকে নির্ভরশীল সদস্য হিসেবে দেখানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরসহ অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। এই শিশু করছাড়ের একটি অংশ ফেরতযোগ্য হতে পারে। অর্থাৎ কারও প্রদেয় আয়কর কমে শূন্য হয়ে যাওয়ার পরও তিনি যোগ্য হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ফেরত পেতে পারেন। তবে পরিবারের আয়, কর জমার ধরন এবং সন্তানের যোগ্যতার ওপর প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করে। কম ও মাঝারি আয়ের কর্মজীবী মানুষের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো অর্জিত আয় করছাড়। এটি ফেরতযোগ্য করছাড়। ফলে যোগ্য ব্যক্তির প্রদেয় কর শূন্য হলেও করছাড়ের একটি অংশ অর্থ হিসেবে ফেরত পাওয়া সম্ভব। সন্তান রয়েছে এমন অনেক নিম্ন ও মাঝারি আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে এই সুবিধা কয়েক হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। পড়াশোনার খরচের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট করসুবিধা রয়েছে। যোগ্য কলেজ বা উচ্চশিক্ষার ব্যয়ের জন্য একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত বিশেষ শিক্ষা করছাড়ের সুযোগ পেতে পারেন। এর একটি অংশ ফেরতযোগ্যও হতে পারে। তবে শুধু পড়াশোনার জন্য টাকা খরচ করলেই এই সুবিধা পাওয়া যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীর অবস্থান, যোগ্য শিক্ষা ব্যয় এবং পরিবারের আয়ের সীমাসহ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। কাজের জন্য গাড়ি ব্যবহার করলেও কিছু ক্ষেত্রে বৈধভাবে ব্যবসায়িক খরচ দেখানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এই সুবিধা সব চাকরিজীবীর জন্য নয়। যারা নিজের ব্যবসা করেন বা স্বাধীনভাবে কাজ করে আয় করেন, তারা ব্যবসার কাজে গাড়ি ব্যবহারের যোগ্য অংশ নির্দিষ্ট নিয়মে খরচ হিসেবে দেখাতে পারেন। ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি ব্যবহার কিংবা বাসা থেকে নিয়মিত কর্মস্থলে যাতায়াতের খরচ সাধারণভাবে ব্যবসায়িক খরচ হিসেবে দেখানো যায় না। এ ধরনের সুবিধা দাবি করতে হলে ব্যবসার কাজে কত মাইল গাড়ি চালানো হয়েছে, তার সঠিক হিসাব ও প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বাসার একটি অংশ অফিস হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন। যারা নিজের ব্যবসা বা স্বাধীন পেশার কাজ করেন এবং বাসার একটি নির্দিষ্ট জায়গা নিয়মিত ও শুধু ব্যবসার কাজে ব্যবহার করেন, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে গৃহ কার্যালয় বাবদ করছাড়ের সুযোগ পেতে পারেন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের সাধারণ বেতনভুক্ত কর্মী শুধু বাসা থেকে কাজ করছেন বলে কেন্দ্রীয় আয়কর বিবরণীতে গৃহ কার্যালয়ের খরচ দেখাতে পারেন না। ফলে কোন খরচ বৈধভাবে বাদ দেওয়া যাবে, সেটি নিজের কর্মসংস্থানের ধরন অনুযায়ী যাচাই করা জরুরি। বেতনভুক্ত চাকরির পাশাপাশি স্বাধীন কাজ, গাড়িতে যাত্রী পরিবহন, খাবার সরবরাহ, অনলাইনে কাজ কিংবা ছোট ব্যবসা থেকে আয় করা ব্যক্তিদের আয়কর হিসাব আরও জটিল হতে পারে। কারণ স্বাধীন কাজের আয় থেকে সাধারণ চাকরির বেতনের মতো সবসময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর কেটে রাখা হয় না। স্বাধীনভাবে কাজ করা ব্যক্তিদের কেন্দ্রীয় আয়করের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ও চিকিৎসা কর্মসূচির জন্য স্বনিয়োজিত করও দিতে হতে পারে। স্বনিয়োজিত কাজ থেকে নিট আয় ৪০০ ডলার বা তার বেশি হলে সাধারণভাবে এই কর প্রযোজ্য হতে পারে। অনেকের আরেকটি ভুল ধারণা হলো নগদ অর্থে আয় করলে সেটি আয়কর বিবরণীতে দেখাতে হয় না। বাস্তবে করযোগ্য আয় নগদে পাওয়া হলেও সাধারণভাবে তা দেখাতে হয়। কোনো কাজের জন্য আলাদা আয়সংক্রান্ত কাগজ পাওয়া যায়নি বলেই সেই আয় করমুক্ত হয়ে যায় না। একই কারণে বৈধ খরচ দেখানোর পাশাপাশি সব করযোগ্য আয় সঠিকভাবে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়িক খরচের রসিদ, গাড়ি চালানোর হিসাব, শিক্ষা ব্যয়ের কাগজপত্র, সন্তান দেখাশোনার খরচ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করলে আয়কর জমা দেওয়ার সময় ভুলের ঝুঁকি কমে। যারা আগের বছরগুলোতে আয়কর বিবরণী জমা দেননি, তাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারও নামে আগের কোনো বছরের অর্থ ফেরত পাওনা থাকলেও অনির্দিষ্টকাল সেই অর্থ দাবি করার সুযোগ থাকে না। সাধারণভাবে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পুরোনো আয়কর বিবরণী জমা দিয়ে ফেরত দাবি করতে হয়। সময়সীমা পেরিয়ে গেলে প্রাপ্য অর্থ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তাই “আমেরিকায় আয়কর জমা দিলেই টাকা কেটে নেয়” যেমন ভুল ধারণা, তেমনি “আয়কর জমা দিলেই হাজার হাজার ডলার ফেরত পাওয়া যায়” কথাটিও সবার ক্ষেত্রে সত্য নয়। কেউ বড় অঙ্কের অর্থ ফেরত পেতে পারেন, আবার কাউকে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হতে পারে। কত টাকা ফেরত পাওয়া যাবে বা দিতে হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির মোট আয়, সারা বছর কেটে রাখা কর, বিবাহ ও পারিবারিক অবস্থা, সন্তান, যোগ্য করছাড়, ব্যবসায়িক আয় এবং বৈধ খরচের ওপর। বিশেষ করে চাকরির পাশাপাশি স্বাধীন কাজ বা ব্যবসা থেকে আয় থাকলে একজন অনুমোদিত হিসাবরক্ষক বা যোগ্য আয়কর বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। কোনো করছাড় পাওয়ার যোগ্যতা না থাকলে শুধু বেশি অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় সেটি দাবি করা উচিত নয়। আমেরিকায় আয়কর ব্যবস্থাকে ভয় পাওয়ার পরিবর্তে নিজের বৈধ সুযোগগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে আয়কর বিবরণী জমা দিলে একদিকে যেমন করসংক্রান্ত আইন মেনে চলা যায়, অন্যদিকে নিজের প্রাপ্য করছাড় ও অতিরিক্ত পরিশোধ করা অর্থও ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে। এই প্রতিবেদন সাধারণ তথ্য ও সচেতনতার জন্য। এটি ব্যক্তিগত আয়কর, আর্থিক বা আইনি পরামর্শ নয়। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যোগ্য আয়কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নিউইয়র্কে নিজের বাড়িতে বসবাসকারী অনেক বাড়ির মালিক প্রতি বছর স্কুল প্রপার্টি ট্যাক্সে শত শত ডলার সাশ্রয়ের সুযোগ পেতে পারেন। নিউইয়র্ক স্টেটের স্টার কর্মসূচির আওতায় যোগ্য বাড়ির মালিকদের এই সুবিধা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালে কর্মসূচিটির কিছু নিয়ম আরও সহজ করা হয়েছে, বিশেষ করে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, যারা সম্প্রতি বাড়ি কিনেছেন অথবা নিজের বাড়ির জন্য আগে কখনো স্টার সুবিধা নেননি, তারা যোগ্য হলে নিবন্ধন করতে পারেন। স্টার কী? স্টার-এর পূর্ণ অর্থ School Tax Relief Program। সহজ ভাষায়, নিউইয়র্কে নিজের মূল বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত বাড়ির যোগ্য মালিকদের স্কুল প্রপার্টি ট্যাক্সের বোঝা কমাতে রাজ্য সরকারের দেওয়া একটি আর্থিক সুবিধা এটি। স্টার পুরো প্রপার্টি ট্যাক্স মওকুফ করে না। যোগ্য ব্যক্তিদের স্কুল ট্যাক্সের একটি অংশের বিপরীতে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়। নতুন আবেদনকারীরা সাধারণত স্টার ক্রেডিট পান, যা চেক অথবা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা হতে পারে। পুরোনো কিছু বাড়ির মালিক স্টার ছাড়ের মাধ্যমে সরাসরি ট্যাক্স বিলে সুবিধা পান। কারা পাবেন? সাধারণ স্টার ক্রেডিটের জন্য বাড়িটি আবেদনকারীর মালিকানাধীন এবং তার মূল বাসস্থান হতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সম্মিলিত আয়ের সর্বোচ্চ সীমা ৫ লাখ ডলার। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য বাড়ির মালিকদের জন্য রয়েছে বর্ধিত স্টার সুবিধা। ২০২৬-২৭ স্কুল বছরের জন্য এ সুবিধার আয়সীমা ১ লাখ ১০ হাজার ৭৫০ ডলার। ২০২৬ সাল থেকে বয়সের নিয়মও কিছুটা সহজ হয়েছে। একাধিক ব্যক্তির মালিকানাধীন বাড়িতে অন্তত একজন মালিক ওই বাড়িতে বসবাস করলে এবং সংশ্লিষ্ট বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৬৫ বছর বয়সে পৌঁছালে বয়সের শর্ত পূরণ হতে পারে। তবে আয়সহ অন্য সব যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে। কত টাকা সাশ্রয় হতে পারে? স্টার সুবিধার পরিমাণ সবার জন্য এক নয়। বাড়ি কোন এলাকা ও স্কুল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত এবং প্রপার্টির ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর অর্থের পরিমাণ নির্ভর করে। নিউইয়র্ক সিটিতে ২০২৬-২৭ সালের জন্য নির্দিষ্ট শ্রেণির বাড়িতে সাধারণ স্টার ছাড়ে সর্বোচ্চ ২৬৯ ডলার এবং বর্ধিত স্টার ছাড়ে সর্বোচ্চ ৬৫৯ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। তবে স্টার ক্রেডিটের প্রকৃত অঙ্ক আলাদা হতে পারে। আবেদন করবেন যেভাবে: নতুন বাড়ির মালিক অথবা যারা আগে কখনো স্টার সুবিধা নেননি, তারা নিউইয়র্ক স্টেট ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টের অনলাইন সেবার মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারেন। সেখানে বাড়ির মালিকদের জন্য নির্ধারিত পোর্টালে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যায়। একবার সফলভাবে নিবন্ধনের পর যোগ্যতা বজায় থাকলে সাধারণত প্রতি বছর নতুন করে আবেদন করতে হয় না। স্টার ক্রেডিট পাওয়া ব্যক্তিরা চাইলে অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে নেওয়ার ব্যবস্থাও করতে পারেন। যারা ইতোমধ্যে স্টার পাচ্ছেন, তারা ট্যাক্স বিল অথবা রাজ্য সরকারের বাড়ির মালিকদের অনলাইন পোর্টালে গিয়ে নিজেদের সুবিধার অবস্থা যাচাই করতে পারেন। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি বাড়ির মালিকদের মধ্যে যারা এখনো স্টার সুবিধার জন্য নিবন্ধন করেননি, তাদের নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন বাড়ির মালিক এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা বছরে কয়েকশ ডলার ট্যাক্স সাশ্রয়ের সুযোগ করে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বৈদ্যুতিক উড়ন্ত ট্যাক্সি নির্মাতা জোবি এভিয়েশন এবং জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা মোটর করপোরেশন উড়ন্ত ট্যাক্সির বাণিজ্যিক উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে নতুন একটি যৌথ কোম্পানি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। ‘জোবি টয়োটা অ্যারো ম্যানুফ্যাকচারিং প্রিপারেশন কোম্পানি (জেটিএএমপিসি)’ নামে এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে উভয় প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতের আকাশপথের গণপরিবহন বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়। ৩০ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজ এবং জাপানের টয়োটা সিটি থেকে যৌথভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন কোম্পানির প্রধান কার্যালয় হবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। এতে টয়োটার মালিকানা থাকবে ৫১ শতাংশ এবং জোবি এভিয়েশনের মালিকানা থাকবে ৪৯ শতাংশ। দুই প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য অনুযায়ী, যৌথ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হবে জোবির এস৪ (S4) মডেলের বৈদ্যুতিক উল্লম্বভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম (ইভিটিওএল) উড়োজাহাজের বাণিজ্যিক উৎপাদনের ভিত্তি তৈরি করা। একই সঙ্গে উৎপাদনের গুণগত মান, দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার ওপর জোর দেওয়া হবে। চুক্তির আওতায় জোবি তাদের এস৪ উড়োজাহাজ উৎপাদনের একচেটিয়া অধিকার যৌথ কোম্পানিকে দিয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় মেধাস্বত্বও (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) রয়্যালটি ছাড়াই ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে উড়োজাহাজের সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে এবং সম্ভাব্য বাণিজ্যিক চাহিদা পূরণে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি। জোবি এভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোবেন বেভার্ট বলেন, প্রায় এক দশক ধরে টয়োটা তাদের উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়ে আসছে। নতুন এই উদ্যোগ দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আকাশপথে দৈনন্দিন যাতায়াতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। টয়োটা মোটর করপোরেশনের চেয়ারম্যান আকিও তোয়োদা বলেন, সবার জন্য সহজলভ্য যাতায়াত নিশ্চিত করাই টয়োটার দীর্ঘদিনের দর্শন। সেই ভাবনারই স্বাভাবিক সম্প্রসারণ হচ্ছে আকাশপথের চলাচল, যা ভবিষ্যতে মানুষের জীবন ও সমাজে নতুন মূল্য যোগ করতে পারে। জোবি এভিয়েশন বর্তমানে এমন বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সি তৈরি করছে, যা হেলিকপ্টারের মতো উল্লম্বভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে, তবে তুলনামূলকভাবে কম শব্দ এবং শূন্য নির্গমনে স্বল্প দূরত্বে যাত্রী পরিবহনের জন্য নকশা করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ ধরনের উড়ন্ত ট্যাক্সির বাণিজ্যিক অনুমোদন ও বাজারজাতকরণের প্রতিযোগিতায় রয়েছে। টয়োটা এর আগেও জোবি এভিয়েশনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে এবং উৎপাদন প্রযুক্তি উন্নয়নে সহযোগিতা করেছে। নতুন যৌথ কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে সেই অংশীদারিত্ব আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সম্পন্ন হলে আগামী কয়েক বছরে বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সি নগর পরিবহনের একটি বাস্তব বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।