উড়ন্ত ট্যাক্সি আর স্বপ্ন নয়, জোবির সঙ্গে যৌথ কোম্পানি গড়ল টয়োটা
যুক্তরাষ্ট্রের বৈদ্যুতিক উড়ন্ত ট্যাক্সি নির্মাতা জোবি এভিয়েশন এবং জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা মোটর করপোরেশন উড়ন্ত ট্যাক্সির বাণিজ্যিক উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে নতুন একটি যৌথ কোম্পানি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। ‘জোবি টয়োটা অ্যারো ম্যানুফ্যাকচারিং প্রিপারেশন কোম্পানি (জেটিএএমপিসি)’ নামে এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে উভয় প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতের আকাশপথের গণপরিবহন বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়।
৩০ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজ এবং জাপানের টয়োটা সিটি থেকে যৌথভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন কোম্পানির প্রধান কার্যালয় হবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। এতে টয়োটার মালিকানা থাকবে ৫১ শতাংশ এবং জোবি এভিয়েশনের মালিকানা থাকবে ৪৯ শতাংশ।
দুই প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য অনুযায়ী, যৌথ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হবে জোবির এস৪ (S4) মডেলের বৈদ্যুতিক উল্লম্বভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম (ইভিটিওএল) উড়োজাহাজের বাণিজ্যিক উৎপাদনের ভিত্তি তৈরি করা। একই সঙ্গে উৎপাদনের গুণগত মান, দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার ওপর জোর দেওয়া হবে।
চুক্তির আওতায় জোবি তাদের এস৪ উড়োজাহাজ উৎপাদনের একচেটিয়া অধিকার যৌথ কোম্পানিকে দিয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় মেধাস্বত্বও (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) রয়্যালটি ছাড়াই ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে উড়োজাহাজের সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে এবং সম্ভাব্য বাণিজ্যিক চাহিদা পূরণে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
জোবি এভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোবেন বেভার্ট বলেন, প্রায় এক দশক ধরে টয়োটা তাদের উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়ে আসছে। নতুন এই উদ্যোগ দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আকাশপথে দৈনন্দিন যাতায়াতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
টয়োটা মোটর করপোরেশনের চেয়ারম্যান আকিও তোয়োদা বলেন, সবার জন্য সহজলভ্য যাতায়াত নিশ্চিত করাই টয়োটার দীর্ঘদিনের দর্শন। সেই ভাবনারই স্বাভাবিক সম্প্রসারণ হচ্ছে আকাশপথের চলাচল, যা ভবিষ্যতে মানুষের জীবন ও সমাজে নতুন মূল্য যোগ করতে পারে।
জোবি এভিয়েশন বর্তমানে এমন বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সি তৈরি করছে, যা হেলিকপ্টারের মতো উল্লম্বভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে, তবে তুলনামূলকভাবে কম শব্দ এবং শূন্য নির্গমনে স্বল্প দূরত্বে যাত্রী পরিবহনের জন্য নকশা করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ ধরনের উড়ন্ত ট্যাক্সির বাণিজ্যিক অনুমোদন ও বাজারজাতকরণের প্রতিযোগিতায় রয়েছে।
টয়োটা এর আগেও জোবি এভিয়েশনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে এবং উৎপাদন প্রযুক্তি উন্নয়নে সহযোগিতা করেছে। নতুন যৌথ কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে সেই অংশীদারিত্ব আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সম্পন্ন হলে আগামী কয়েক বছরে বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সি নগর পরিবহনের একটি বাস্তব বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লটে চারটি বাড়িতে গুলিবর্ষণের সময় নিজের বিছানায় ঘুমন্ত চার বছরের শিশু কেলেব ফ্ল্যাক্স নিহত হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় ৩টার ওই ঘটনায় আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক আহত হন। তদন্তে চার কিশোর ও একজন প্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তারের কথা ১ অক্টোবর জানিয়েছে শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্র্যাসি প্যাচ লেনের ঘটনাস্থলে পৌঁছে অফিসাররা একাধিক বাড়িতে গুলির চিহ্ন এবং দুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পান। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় চার ঘণ্টা পর কেলেবকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত অপর ব্যক্তির আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালতের নথি ও পুলিশের বক্তব্যের ভিত্তিতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউবিটিভি জানিয়েছে, দুটি চুরি করা গাড়ি হেডলাইট বন্ধ করে ওই এলাকায় আসে। এরপর সাতজন সশস্ত্র সন্দেহভাজন গাড়ি থেকে নেমে এক মিনিটেরও কম সময়ে অন্তত ৮৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। চারটি বসতবাড়ির পাশাপাশি পার্ক করে রাখা তিনটি গাড়িও গুলিবর্ষণের শিকার হয়। ২ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, হামলায় জড়িত সাতজনই কিশোর বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগের দিনের একটি গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা। তবে ঘটনার উদ্দেশ্য ও প্রত্যেকের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার চার কিশোরের মধ্যে দুজনের বয়স ১৬ এবং দুজনের ১৭ বছর। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানুষ থাকা বাড়িতে গুলি ছোড়া এবং অপরাধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তি ২২ বছরের টেরেন্স জ্যাকসন। তাঁর বিরুদ্ধে ঘটনার পর অভিযুক্তকে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে। আদালতের নথির ভিত্তিতে ডব্লিউবিটিভি জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত একটি চুরি করা গাড়ি সরিয়ে বিক্রি করতে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশ প্রধান এস্টেলা ডি. প্যাটারসন বলেছেন, কেলেবের নিজের বিছানায় নিরাপদ থাকার কথা ছিল। ঘটনায় দায়ী সবাইকে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। পুলিশের হিসাবে, গুলিবিদ্ধ দুজন ছাড়াও হামলার সময় বাড়িগুলোতে আরও নয়জন প্রাপ্তবয়স্ক ও পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল। তারা আহত হয়নি। তদন্তে সহায়তার জন্য প্রত্যক্ষদর্শী ও তথ্য জানা ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
বস্টনগামী বিমান ছয় আরোহীসহ নিখোঁজ, সমুদ্রে কোস্ট গার্ডের তল্লাশি
নিউইয়র্কে এমটিএর বাস অপারেটর পদে আবেদন চলছে, জেনে নিন আবেদনের যোগ্যতা
কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনার মধ্যেই নার্সকে ডিপোর্ট করল আইসিই
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের গাড়ি দিয়ে বাড়তি আয়ের একটি বিকল্প অ্যামাজন ফ্লেক্স। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে অধিকাংশ ড্রাইভার ঘণ্টায় ১৮ থেকে ২৫ ডলার আয় করেন। তবে এলাকা, ডেলিভারিতে লাগা সময় ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর প্রকৃত আয় নির্ভর করে। উবার ছেড়ে প্যাকেজ ডেলিভারি করলেই আয় দ্বিগুণ হবে, এমন নিশ্চয়তা এই তথ্য দেয় না। অ্যামাজন ফ্লেক্সে ড্রাইভাররা স্বাধীন কন্ট্রাক্টর হিসেবে নিজের গাড়িতে প্যাকেজ পৌঁছে দেন। অ্যাপে নির্দিষ্ট সময়ের কাজ বেছে নিতে হয়, যাকে বলা হয় ডেলিভারি ব্লক। অ্যামাজনের সাধারণ প্যাকেজ ডেলিভারির ব্লক সাধারণত তিন থেকে ছয় ঘণ্টার। ব্লক গ্রহণের আগেই নির্ধারিত পারিশ্রমিক জানা যায়। এই ব্যবস্থায় সুবিধা হলো, ড্রাইভার নিজের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে উপলব্ধ কাজ বেছে নিতে পারেন। অ্যামাজনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ব্লকের সময়, প্যাকেজের সংখ্যা, গন্তব্য এবং ট্রাফিকসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় ডেলিভারি রুট তৈরি করা হয়। তবে নিজের সুবিধামতো সময় বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সেই সময়ে কাজ পাওয়া নির্ভর করে অ্যাপে ব্লকের প্রাপ্যতার ওপর। ঘণ্টাপ্রতি পারিশ্রমিক আর খরচ বাদে হাতে থাকা অর্থ এক নয়। প্যাকেজ ডেলিভারির আয় হিসাব করতে গ্যাস, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, ইন্স্যুরেন্স এবং প্রযোজ্য অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নিতে হবে। প্যাকেজ সংগ্রহের জায়গায় যাওয়া, ডেলিভারি শেষ করা এবং ফেরার মোট সময়ও হিসাবের অংশ। একই পারিশ্রমিকের ব্লকে দূরত্ব ও সময় বেশি লাগলে কার্যকর আয় কমে যেতে পারে। উবারের সঙ্গে তুলনার ক্ষেত্রেও একই হিসাব ব্যবহার করা জরুরি। একটির খরচ বাদ দেওয়ার আগের আয় এবং অন্যটির খরচ বাদে হাতে থাকা অর্থ তুলনা করলে লাভের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় না। জাতীয় পর্যায়ের গড় আয় দিয়েও নিউইয়র্কের কোনো নির্দিষ্ট ড্রাইভারের আয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। গিগ কাজের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিডওয়াইজের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের প্রকাশ্য সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রধান রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোতে ঘণ্টাপ্রতি আয় মোটামুটি স্থির ছিল। কোনো কোনো প্ল্যাটফর্মে সামান্য বৃদ্ধি হলেও অন্যগুলোতে কিছুটা কমেছে। ফলে শুধু কাজের ধরন বদলালেই বড় অঙ্কের আয় বাড়বে, এমন সিদ্ধান্তের ভিত্তি নেই। নিউইয়র্কের ড্রাইভারদের জন্য ইন্স্যুরেন্সের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যামাজনের নির্দেশনা অনুযায়ী, অন্য রাজ্যে সক্রিয় ডেলিভারি ব্লকের সময় কোম্পানির দেওয়া যে কমার্শিয়াল অটো ইন্স্যুরেন্স প্রযোজ্য, তা নিউইয়র্কে প্রযোজ্য নয়। সেখানে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কভারেজ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স লাগতে পারে। কাজ শুরুর আগে নিজের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে কভারেজ যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে অ্যামাজন। আবেদনের জন্য বয়স অন্তত ২১ বছর, বৈধ যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাইভার লাইসেন্স, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, উপযুক্ত গাড়ি, প্রয়োজনীয় অটো ইন্স্যুরেন্স এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হয়। সাধারণ প্যাকেজ ডেলিভারির জন্য চার দরজার মাঝারি আকারের সেডান বা বড় গাড়ি প্রয়োজন। আবেদনকারীকে ব্যাকগ্রাউন্ড চেকও পাস করতে হয়। অ্যামাজন ফ্লেক্স অ্যাপের মাধ্যমে নিজের এলাকায় সুযোগ আছে কি না দেখা যায়। নতুন ড্রাইভার নেওয়া বন্ধ থাকলে আগ্রহীদের অপেক্ষার তালিকায় থাকতে হতে পারে। তাই যোগ্যতা পূরণ করলেই সঙ্গে সঙ্গে কাজ পাওয়া নিশ্চিত নয়। নিজের গাড়ি দিয়ে আয় করতে চাওয়া ব্যক্তিদের জন্য প্যাকেজ ডেলিভারি একটি বিবেচনাযোগ্য বিকল্প। তবে উবার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকটি ব্লকের মোট পারিশ্রমিক, যাতায়াতের সময়, মাইলেজ ও খরচ মিলিয়ে হিসাব করলেই বোঝা যাবে, নিজের এলাকায় কোন কাজটি বেশি লাভজনক।
টেনেসিতে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণায় বাংলাদেশি আবু সালেহ গ্রেফতার
গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী আনতে করতে হবে ৪বছর অপেক্ষা, জেনে নিন বুলেটিন
প্রায় ১৩ হাজার সং ক্র মণের পর লেটুসের উৎস নিয়ে নতুন তথ্য, মেক্সিকোর খামারে শনাক্ত পর জী বি
অবসরের পর সঞ্চয়ের অর্থ আরও দীর্ঘসময় ধরে রাখতে চান অনেকেই। এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম আবাসন খরচ, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় এবং করের সুবিধা রয়েছে—এমন অঙ্গরাজ্যে বসবাসের সিদ্ধান্ত আর্থিক চাপ কমাতে পারে। নতুন এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য বিশ্লেষণ করে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। অবসরজীবন নিয়ে গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রিটায়ারমেন্ট লিভিং তিনটি প্রধান বিষয়—আবাসন খরচ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং করের সুবিধা—বিবেচনায় নিয়ে এই র্যাংকিং তৈরি করেছে। অবসরপ্রাপ্তদের সঞ্চয় কোথায় তুলনামূলক বেশি কাজে লাগতে পারে, সেটিই ছিল এই বিশ্লেষণের মূল বিষয়। তালিকায় অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী অঙ্গরাজ্য হিসেবে শীর্ষে রয়েছে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। আগের বছরের তুলনায় এবার ১৭ ধাপ এগিয়ে প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে রাজ্যটি। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া আবাসন খরচ এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়—দুই ক্ষেত্রেই প্রথম হয়েছে। রিটায়ারমেন্ট লিভিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া গড়ে ৬৪৩ ডলার। পাশাপাশি একজনের মাসিক মুদিখানা খরচ প্রায় ২০৫ ডলার, যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম। সাশ্রয়ী রাজ্যের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিসিসিপি। টানা দ্বিতীয় বছর এই অবস্থান ধরে রেখেছে রাজ্যটি। ২০২৬ সালের মার্চে সেখানে বাড়ি বিক্রির মধ্যম মূল্য ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৩০ ডলার, যা দেশের মধ্যে তৃতীয় সর্বনিম্ন। সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের দিক থেকেও মিসিসিপি চতুর্থ সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আলাবামা। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে রাজ্যটি অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সাশ্রয়ী তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে। সাশ্রয়ী ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকায় আরও রয়েছে ওকলাহোমা, আরকানসাস, কেনটাকি, মিসৌরি, লুইজিয়ানা, ইন্ডিয়ানা এবং কানসাস। অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে কম খরচের রাজ্যে চলে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে আর্থিক পরিকল্পনাবিদ জোডি ডি’আগোস্তিনি বলেন, তিনি নিজেও এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে অবসরপ্রাপ্তদের আগ্রহ দেখতে পাচ্ছেন। নিউ জার্সির বাসিন্দা এই সার্টিফায়েড ফাইন্যান্সিয়াল প্ল্যানারের মতে, অবসরের পর অনেকেই নিউ জার্সির মতো রাজ্য থেকে তুলনামূলক করবান্ধব রাজ্যে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এতে অবসরকালীন আয় আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা এবং করের চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে সব রাজ্যে অবসরজীবনের খরচ একই নয়। র্যাংকিংয়ের একেবারে বিপরীত প্রান্তে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই ও ওয়াশিংটন। এই তিনটি অঙ্গরাজ্যকে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। সান দিয়েগোর রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ক্রিস্টিনা কুয়েসাদা জানান, সেখানে অবসরপ্রাপ্তরা নিজেদের অগ্রাধিকার অনুযায়ী আবাসন ও জীবনযাত্রার খরচ মূল্যায়ন করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ কেউ পুরোপুরি কম খরচের এলাকায় চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। আবার যারা নিজেদের বর্তমান এলাকায় থাকতে চান, তাদের মধ্যে অনেকে ছোট বাসায় চলে যাচ্ছেন, একই অঞ্চলের তুলনামূলক সাশ্রয়ী এলাকায় স্থানান্তরিত হচ্ছেন অথবা দীর্ঘদিনের বাড়ির মালিকানা থেকে পাওয়া সম্পদের মূল্য ব্যবহার করে খরচ সামলানোর চেষ্টা করছেন। গবেষণাটি দেখাচ্ছে, অবসর নেওয়ার আগে শুধু বাড়ির দাম বা ভাড়ার দিকে তাকালেই হবে না। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়, করব্যবস্থা এবং আবাসন খরচ—সবকিছু মিলিয়েই অবসরজীবনের সামগ্রিক আর্থিক চাপ নির্ধারিত হয়।
টেক্সাসে ট্রাম্পের ৪৬ বিলিয়ন ডলারের সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণে বিচারকের স্থগিতাদেশ
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চাকরির বাজারে ধীরগতি, প্রভাব পড়তে পারে সুদ ও খরচে