- প্রচ্ছদ
- Topic
ঢাকা
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, চিকিৎসক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবীদের এক অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্যে আগামী ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’। রাজধানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, শিল্পোদ্যোক্তা ও পেশাজীবীরা অংশ নেবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিনের উদ্যোগে এবং অর্থকণ্ঠ, এনআরবি ওয়ার্ল্ড ও গ্লোবাল এনআরবি চেম্বারের সহযোগিতায় এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মেধা, অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সক্ষমতাকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। একই সঙ্গে দেশ ও প্রবাসের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, প্রযুক্তি, গবেষণা ও পেশাগত সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করা। প্রথম দিন: গ্লোবাল হেলথ সামিট ২০২৬: সম্মেলনের প্রথম দিন, ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘গ্লোবাল হেলথ সামিট ২০২৬’। স্বাস্থ্যসেবা খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে এ আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসাবিজ্ঞানী, গবেষক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারীরা অংশ নেবেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনা পর্বে আধুনিক চিকিৎসাপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবায় উদ্ভাবন, চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চিকিৎসক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। দ্বিতীয় দিন: প্রবাসী বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব: সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন, ২৯ ডিসেম্বর প্রবাসী বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রযুক্তি, পেশাগত দক্ষতা বিনিময় এবং বৈশ্বিক অংশীদারত্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একাধিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। আলোচনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে প্রবাসী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণ, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করা এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রবাসী উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে প্রবাসে অর্জিত অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কীভাবে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ থাকবে। বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিতে ‘এনআরবি অ্যাওয়ার্ড’: আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘এনআরবি অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি, সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বীকৃতি ও সম্মাননা জানানোর উদ্দেশ্যে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে। আয়োজকদের মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাফল্য ও অবদানকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা, উদ্যোক্তা কার্যক্রম, গবেষণা ও নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করাও এ সম্মাননার অন্যতম উদ্দেশ্য। দেশ ও প্রবাসের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সেতুবন্ধ: আয়োজকরা জানিয়েছেন, এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট কেবল একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন নয়; বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ ও সহযোগিতার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ। বিশেষ করে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাত সম্পর্কে অবহিত করা, বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবসায়িক ও পেশাগত নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার বিষয়টি সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি ও গবেষণা খাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে তাঁদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরার প্রত্যাশা: সম্মেলনে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা। তাঁদের প্রত্যাশা, দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক আয়োজন বাংলাদেশের সঙ্গে প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক উদ্যোগ, পেশাগত সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের অর্জন, অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনাকে একত্রিত করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়নে কাজে লাগানোর নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, ‘এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’ দেশ ও প্রবাসের বাংলাদেশিদের মধ্যে যোগাযোগ, সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান আরও দৃশ্যমান করে তুলবে।
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের দাবি সমর্থন করা একটি বড় রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেলের নিজেরই ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন। তবে অভিযুক্ত নেতার নাম প্রকাশ করেননি তিনি। তাঁর অভিযোগের পক্ষে কোনো দলিল বা মালিকানাসংক্রান্ত তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিরপুর-১০ এলাকায় মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে যান ডিএনসিসি প্রশাসক। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল এবং এ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের অবস্থান সম্পর্কে কথা বলেন তিনি। শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন দাবি করেন, দেশের সাধারণ মানুষ কেউই অটোরিকশা চলাচলের পক্ষে আন্দোলন করবেন না। অথচ একটি বড় রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেল প্রকাশ্যে অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিষয়টিকে তিনি হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন। ডিএনসিসি প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে খোঁজখবর নিয়ে তাঁরা জানতে পেরেছেন, অটোরিকশা চলাচলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ওই রাজনৈতিক নেতার নিজেরই ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে। তবে কীভাবে এই তথ্য পাওয়া গেছে, অটোরিকশাগুলো সরাসরি ওই নেতার নামে নিবন্ধিত কি না কিংবা সেগুলোর মালিকানা সম্পর্কে কোনো যাচাইযোগ্য তথ্য রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। ফলে প্রশাসকের বক্তব্যে উত্থাপিত ৭০০ অটোরিকশার মালিকানার অভিযোগটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের বক্তব্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অটোরিকশা চলাচলের পাশাপাশি রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিষয়েও কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনো অবৈধ দখল বরদাশত করা হবে না। তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, দোকানের সামনে কিংবা ফুটপাতে যাতে কেউ অবৈধভাবে বসতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মিল্টন জানান, দখলমুক্ত করা ফুটপাতগুলো আরও ব্যবহারোপযোগী করে তুলতে সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের কাজ চলছে। যেসব এলাকার ফুটপাত ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে, সেগুলো মেরামত করে পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে। ডিএনসিসি প্রশাসকের দাবি, বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। নগরবাসী চান না, এমন কোনো সিদ্ধান্ত সিটি করপোরেশন নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় ফুটপাতের হকারদের নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতার অভিযোগও তোলেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তাঁর দাবি, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ফুটপাতের হকারদের ডেকে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক পরামর্শ দিচ্ছে। তবে এ অভিযোগের ক্ষেত্রেও তিনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম কিংবা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। ডিএনসিসি প্রশাসক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনস্বার্থের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করা হলে নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল ও ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে ডিএনসিসি প্রশাসকের এই বক্তব্য সামনে এলো। তবে অটোরিকশা চলাচলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক নেতার ৭০০টি অটোরিকশা থাকার যে অভিযোগ তিনি তুলেছেন, সেটির সত্যতা নির্ধারণে মালিকানার নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন। সূত্র: ইত্তেফাক
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় ৯ কেজি ৩৪০ গ্রাম। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। রোববার (৪ অক্টোবর) বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে ওই দুই কর্মীকে হেফাজতে নেওয়া হয়। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিলেন। দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-০৫৮২ ফ্লাইটটি বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকায় যেখানে অবস্থান করছিল, সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুই বিমানকর্মীর পরিহিত জুতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণের বারগুলো পাওয়া যায়। অধিদপ্তরের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি বারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা স্বর্ণের ওজন প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনেও একই পরিমাণ স্বর্ণ এবং প্রায় ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা আনুমানিক বাজারমূল্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, এই চোরাচালানের সঙ্গে আর কারা জড়িত, স্বর্ণ কোথা থেকে এসেছে এবং কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানে হেফাজতে নেওয়া দুই কর্মীর নাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। সূত্র: যমুনা টেলিভিশন
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন কূটনীতিক ত্রিশিতা মওলা বর্তমানে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন নয়াদিল্লি সফরে থাকায় সাময়িকভাবে দূতাবাসের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। ২ অক্টোবর প্রকাশিত ডেইলি সানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ত্রিশিতা মওলা ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কূটনীতিক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলো। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে ১ অক্টোবর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসাইনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া পাঁচ লাখ ডেঙ্গু এনএস১ দ্রুত শনাক্তকরণ পরীক্ষার কিট হস্তান্তর করেন ত্রিশিতা। মার্কিন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত স্ট্রাইডস কর্মসূচির আওতায় এসব কিট দেওয়া হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে কিটগুলো সরবরাহ করার কথা রয়েছে। কিট হস্তান্তরের পর ত্রিশিতার নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদল কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ডেঙ্গু ওয়ার্ড এবং রোগ নির্ণয় ল্যাবরেটরিও পরিদর্শন করে। সেখানে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের কার্যক্রম সম্পর্কে তারা অবগত হন। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ত্রিশিতা মওলার নেতৃত্বে মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে বিশেষায়িত পুলিশিং, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর মার্কিন প্রতিনিধিদল ডিএমপির সোয়াট, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট এবং কে-৯ ইউনিট পরিদর্শন করে। এসব ইউনিটের কার্যক্রম, সক্ষমতা ও ব্যবহৃত প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিচিতি অনুযায়ী, ত্রিশিতা মওলা ২০০৮ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এর আগে বাংলাদেশে কনস্যুলার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কর্মজীবনে সুইজারল্যান্ড, উত্তর মেসিডোনিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও মন্টেনেগ্রোতেও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় মার্কিন দূতাবাসের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন ত্রিশিতা। দীর্ঘ কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে বিভিন্ন দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা ত্রিশিতা কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্নার্ড কলেজ থেকে অর্থনীতি ও গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর মার্কিন পররাষ্ট্রসেবায় যোগ দিয়ে বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রমে প্রতিনিধিত্ব করছেন ত্রিশিতা মওলা। তার এই দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন মার্কিন কূটনীতিকের জন্য কূটনৈতিক ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে সামনে এসেছে।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীভোগান্তির প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ফেসবুক লাইভে তুলে ধরে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন দন্ত চিকিৎসক ও ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা ডা. ওরাকাতুল জান্নাত। ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে ট্রলি ও লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, যাত্রীদের দীর্ঘ সারি এবং পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভিডিওটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং শুক্রবার পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ওমরাহ শেষে দেশে ফেরার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ডা. ওরাকাতুল জান্নাত। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁদের বহনকারী বিমানটি সকাল ৯টা বাজার প্রায় পাঁচ মিনিট আগে ঢাকায় অবতরণ করে। এরপর ট্রলি সংগ্রহের জন্য তাঁকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। ট্রলি পাওয়ার পরও লাগেজের জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লাগেজ হাতে পান তাঁরা। লাইভে ডা. ওরাকাতুল জান্নাত বিমানবন্দরের ব্যাগেজ ক্লেইম এলাকায় দীর্ঘ সারির চিত্রও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, কোথাও কোথাও সারি ৫০০ মিটার থেকে এক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ ছিল। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার মধ্যে বয়স্ক মানুষ, শিশু ও অন্যান্য যাত্রীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ওমরাহ শেষে ফেরার কারণে জমজমের পানি নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এই চিকিৎসক। তাঁর অভিযোগ, যাত্রীরা জমজমের পানি না পাওয়ার পর সেটি কখন আসবে বা কেন আসেনি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাননি। একই সময়ের বিমানবন্দর পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত অন্যান্য প্রতিবেদনেও জমজমের পানি ও লাগেজ সরবরাহ নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। বিমানবন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডা. ওরাকাতুল জান্নাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তাঁর বক্তব্যে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে তাঁর বক্তব্যগুলো তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করাই সাংবাদিকতার দিক থেকে যথাযথ। তাঁর ভিডিওটি আলোচনায় আসার সময়ই শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা নিয়ে আরও নানা ঘটনা সংবাদে আসে। লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার একটি পৃথক ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ফলে একই সময়ে বিমানবন্দরের সেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ডা. ওরাকাতুল জান্নাতের ঘটনাটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে এ কারণে যে, তিনি কোনো দূরবর্তী ঘটনা নিয়ে মন্তব্য না করে নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ক্যামেরায় ধারণ করে তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। একজন যাত্রী হিসেবে তিনি যে সমস্যাগুলো দেখেছেন, সেগুলো অন্য যাত্রীদের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও কতটা মিলে যায়, তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে আলোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সময়ে নাগরিকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা দ্রুত বৃহত্তর আলোচনায় পরিণত হতে পারে। ডা. ওরাকাতুল জান্নাতের লাইভও তার একটি উদাহরণ। তবে কোনো অভিযোগ বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও যাচাই করা তথ্য সামনে আনা জরুরি। তাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাটি শুধু ক্ষোভ প্রকাশে সীমাবদ্ধ না থেকে যাত্রীসেবার বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। শাহজালাল বিমানবন্দরের ওই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ডা. ওরাকাতুল জান্নাত যে ব্যাপক মানুষের নজরে এসেছেন, তা এখন স্পষ্ট। তাঁর ভিডিও নতুন করে সামনে এনেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক প্রশ্ন—দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একজন যাত্রী যেন নিরাপদ, স্বচ্ছন্দ ও সম্মানজনক সেবা পান, সেটি নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।
ঢাকার জলাবদ্ধতা কমাতে খালগুলো পুনরুদ্ধার, দখলমুক্ত ও সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, চলতি শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই মান্ডা, জিরানী, শ্যামপুর ও কালুনগর খালের সংস্কারকাজ দৃশ্যমান পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। রোববার বিকেলে রাজধানীর নন্দীপাড়া এলাকার জিরানী খাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। চারটি খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও পরিবেশ উন্নয়নের চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে সেখানে যান প্রতিমন্ত্রী। সরকারি তথ্যেও জিরানী খালসহ ঢাকার খালগুলো পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। পরিদর্শন শেষে মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি ঢাকা গড়ে তোলা, যেখানে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ থাকবে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা কমবে। খাল পরিষ্কারের পাশাপাশি খালের পাড় সংরক্ষণ, গাছ লাগানো এবং মানুষের হাঁটার জন্য জায়গা তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, শুধু রাজধানীর খাল নয়, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর পানিপ্রবাহ ও নৌ চলাচলও স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নদী ও খালে বর্জ্য ফেলা বন্ধের পাশাপাশি পয়োবর্জ্য শোধনের ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। চার খালের চলমান কাজের অগ্রগতি বর্তমানে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। শুষ্ক মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে কাজের গতি বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খালের ভেতর ও দুই পাড়ে অবৈধ দখল চিহ্নিত করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে সরকারি জায়গা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ঢাকার খালগুলোর দুই পাড়ে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মোট ৫৫টি খাল নিয়ে এমন উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নগর পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রেও নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন মীর শাহে আলম। এসব কাজ শুধু সরকারের পক্ষে সম্পন্ন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। পরিদর্শনের সময় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানের দিকে অগ্রগতি হচ্ছে বলে দাবি করেন এবং এ বিষয়ে সরকারকে আরও সময় দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারের যেখানে ব্যর্থতা রয়েছে, সেসব বিষয়ে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন মীর শাহে আলম। বিরোধী দলের আন্দোলন নিয়ে তিনি সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রক্ষণাবেক্ষণকর্মী হিসেবে একজন কার্পেন্টার নিয়োগের খবর জানিয়েছে কালবেলা। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পদটিতে মাসিক বেতন ৬১ হাজার টাকা। অনলাইনে আবেদনের শেষ দিন ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। পদটির জন্য এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবনের কাঠামো, সাজসজ্জার অংশ ও স্থাপনার সরঞ্জাম মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে অন্তত তিন বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রার্থীর বাংলা বলা, পড়া ও লেখায় ভালো দক্ষতা এবং ইংরেজি বলা, পড়া ও লেখায় সীমিত দক্ষতা থাকতে হবে বলে কালবেলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মস্থল ঢাকা; কাজটি পূর্ণকালীন। আগ্রহীদের মার্কিন দূতাবাসের চাকরির পাতার মাধ্যমে আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে দূতাবাসের মূল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সরাসরি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে পদটি চালু আছে কি না, বেতন ও যোগ্যতার শর্ত এবং শেষ সময় দূতাবাসের নিয়োগ পাতায় মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
ঢাকার বনশ্রী এলাকার গৃহিণী জোসনা বেগম লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে বিদেশে চিকিৎসার কথা ভাবছিলেন। ভারতে লিভার ট্রান্সপ্লান্টে প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচের কথা জানতে পেরে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয় পরিবারকে। পরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে তাঁর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট হয়। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর হওয়া ওই অস্ত্রোপচারে জোসনার জন্য নিজের লিভারের একাংশ দান করেন তাঁর ছেলে মো. সাজ্জাদ। তিনি এই হাসপাতালে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম পুনরায় শুরুর পর প্রথম রোগী। জোসনার অস্ত্রোপচারের পর গত এক বছরে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মোট ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশে নিয়মিতভাবে এই জটিল চিকিৎসা চালু করার লক্ষ্যেই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে আরও চারজন রোগীকে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিএমইউর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রতি মাসে গড়ে দুটি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করার সক্ষমতা তৈরি করা হবে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোসনার লিভারের সমস্যা ধরা পড়ে ২০২২ সালে। এরপর তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা লিভার ট্রান্সপ্লান্টের পরামর্শ দেন। পরিবার তখন ভারতের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেখানে অস্ত্রোপচারের সম্ভাব্য খরচ প্রায় ৫০ লাখ টাকা হতে পারে বলে জানানো হয়। ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা ব্যয়ের মধ্যে এত বড় অর্থের ব্যবস্থা করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। পরে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকের পরামর্শে জোসনার পরিবার বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে যায়। সেখানে প্রায় তিন ধাপে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও মূল্যায়ন শেষে তাঁর ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত হয়। অস্ত্রোপচারের পর জোসনা প্রায় এক মাস হাসপাতালে ছিলেন। তাঁর ছেলে সাজ্জাদ ছিলেন প্রায় ১৫ দিন। পরে দুজনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। জোসনা বর্তমানে নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন এবং চিকিৎসকদের ফলোআপে রয়েছেন। জোসনার ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দের আওতায় লিভার ট্রান্সপ্লান্টটি বিনামূল্যে করা হয়। তবে পরীক্ষা, ওষুধ ও পরবর্তী চিকিৎসা মিলিয়ে পরিবারের প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করাতে যাতায়াত, থাকা ও চিকিৎসাসহ মোট ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে প্রায় ১ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমানে সরকারি সহায়তায় বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অর্থের বিনিময়ে এই সেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য খরচ ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা হতে পারে বলে বিএমইউ জানিয়েছে। বিএমইউর ছয়টি ট্রান্সপ্লান্টে ১৯টি বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি দল কাজ করেছে। হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়াটিক অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস এবং তাঁর সহকর্মী অধ্যাপক মহসেন চৌধুরী ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ভারতের হায়দরাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি হাসপাতালের একটি চিকিৎসক দলও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। বাংলাদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। দেশের প্রথম লিভার ট্রান্সপ্লান্ট হয় ২০১০ সালের জুনে বারডেম জেনারেল হাসপাতালে। এরপর আরও কয়েকটি অস্ত্রোপচার হলেও নিয়মিতভাবে এই সেবা চালু রাখা সম্ভব হয়নি। বিএমইউ প্রথম লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করে ২০১৯ সালে এবং পরবর্তী আরেকটি ট্রান্সপ্লান্ট হয় ২০২৩ সালে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ও নিয়মিত সেবা হিসেবে কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। বিএমইউর হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহিনুল আলম জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের লিভার রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর লিভারজনিত রোগে প্রায় ২২ হাজার থেকে ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে তিনি জানান, যাদের বড় একটি অংশ সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় এক হাজার রোগীর লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে বিএমইউই দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে এই কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। জোসনার জন্য এই চিকিৎসার অর্থ শুধু বিদেশে যাওয়ার বড় খরচ থেকে বেঁচে যাওয়া নয়, দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগও। অস্ত্রোপচারের পর নিজের স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন জানিয়ে তিনি চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁর ছেলে সাজ্জাদও বলেছেন, দেশেই জটিল চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হলে রোগীদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রয়োজন কমবে। বিএমইউর ধারাবাহিক ছয়টি সফল ট্রান্সপ্লান্ট এখন সেই সক্ষমতাকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবায় রূপ দেওয়ার নতুন উদ্যোগের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: ডেইলি স্টার
ঢাকার দূষিত বুড়িগঙ্গা নদীর কালচে পানিতেও এখনও টিকে আছে আনুমানিক ২০টি গাঙ্গেয় নদীর ডলফিন। প্রাণ বাঁচাতে বিপন্ন এই জলজ প্রাণীগুলো তাদের আচরণ, চলাচল ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল আজিজের নেতৃত্বে সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত ১২ মাসের গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বুড়িগঙ্গায় ডলফিনের উপস্থিতির ঘনত্ব গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৫ সালের গবেষণায় বুড়িগঙ্গায় ডলফিনের এনকাউন্টার রেট ছিল প্রতি কিলোমিটারে ০ দশমিক ৪৮টি। নতুন গবেষণায় এই হার নেমে এসেছে ০ দশমিক ১৮-তে। পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ডলফিনের সামাজিক আচরণেও পরিবর্তন দেখা গেছে। আগে বুড়িগঙ্গায় এরা প্রধানত একাকী চলাচল করত। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা যায়, পর্যবেক্ষণ করা ডলফিনের বড় অংশ এখন দলবদ্ধভাবে চলাচল করছে। প্রতিকূল পরিবেশে দলবদ্ধ চলাচল তাদের টিকে থাকার একটি কৌশল হয়ে উঠতে পারে বলে গবেষকদের পর্যবেক্ষণ। খাদ্যাভ্যাসেও এসেছে পরিবর্তন। বুড়িগঙ্গায় স্থানীয় মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ডলফিন এখন সাকার ফিশ বা সাকারমাউথ ক্যাটফিশ শিকার করছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এই মাছ দূষিত ও কম অক্সিজেনযুক্ত পানিতেও টিকে থাকতে পারে। শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। নদীর পানির প্রবাহ কমে গেলে এবং দূষিত বর্জ্যের ঘনত্ব বাড়লে ডলফিনগুলো বুড়িগঙ্গা থেকে ধলেশ্বরী নদীর দিকে সরে যায় বলে গবেষণায় পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিকূল পরিবেশ এড়িয়ে তারা নিজেদের চলাচলের পথও পরিবর্তন করছে। ডলফিনের জন্য আরেকটি বড় সমস্যা শব্দদূষণ। গাঙ্গেয় নদীর ডলফিন প্রায় দৃষ্টিহীন হওয়ায় শিকার শনাক্ত ও ধরার ক্ষেত্রে ইকোলোকেশন বা শব্দের প্রতিধ্বনির ওপর নির্ভর করে। বুড়িগঙ্গায় বিপুলসংখ্যক ভারী নৌযানের চলাচল থেকে তৈরি শব্দ এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গার পানিদূষণের মাত্রা নিয়েও আগের বিভিন্ন গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা অনেক এলাকায় জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় কম। ফলে দূষণ, কমে যাওয়া দেশীয় মাছ, পানির মানের অবনতি এবং নৌযানের শব্দ একসঙ্গে ডলফিনের আবাসস্থলকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে বুড়িগঙ্গার ডলফিনের সংখ্যা শুধু একটি প্রাণী প্রজাতির অস্তিত্বের প্রশ্ন নয়, নদীর সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের অবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ সূচক। মাত্র ২০টির মতো ডলফিনের টিকে থাকা দেখাচ্ছে, ঢাকার এই ঐতিহ্যবাহী নদীতে জলজ প্রাণীদের জন্য পরিবেশ কতটা কঠিন হয়ে উঠেছে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার রেখে যাওয়া বলে পরিচিত কয়েকটি হাতে লেখা নোট সামনে এসেছে। এসব লেখায় সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিশ্বাসভঙ্গ, ভালোবাসা এবং আত্মসম্মান নিয়ে তার ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা উঠে এসেছে। মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেছেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। সোমবার আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাটি তদন্ত করতে ফরেনসিক দলও ঘটনাস্থলে কাজ করেছে। মরিয়মের রেখে যাওয়া বলে পরিচিত নোটগুলোর কয়েকটি জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল প্যাডে লেখা। কোথাও কালো কালি, কোথাও লাল কালিতে লেখা এসব পাতায় তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভের কথা উঠে এসেছে। একটি লেখায় মরিয়ম লিখেছেন, তিনি গভীর বিশ্বাস নিয়ে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। কিন্তু শেষ দিকে এসে তাঁর মনে হয়েছে, যাকে তিনি নিজের পাশে ভেবেছিলেন, তিনিই যেন বিপরীত অবস্থানে ছিলেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’ অন্য একটি লেখায় নিজের অবস্থান ও সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরেছেন মরিয়ম। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের কারণ... ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়... ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’ আরেকটি পাতায় সম্পর্ককে একটি খেলায় পরিণত করার অনুভূতির কথা লিখেছেন তিনি। সেখানে রয়েছে, ‘সে বলেছিল আজ থেকে আমরা বন্ধু চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক গুটি।’ আরেকটি লেখায় বিশ্বাস করার কারণে প্রতারিত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে মরিয়ম লিখেছেন, তিনি বিশ্বাস করেছিলেন বলেই তাঁকে ঠকানো সম্ভব হয়েছে। একই লেখায় নিজের কষ্টের মধ্যেও হাসিমুখে থাকার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। লাল কালিতে লেখা আরেকটি সংক্ষিপ্ত বার্তায় আত্মসম্মানের বিষয়টিও উঠে এসেছে। সেখানে মরিয়ম লিখেছেন, মায়ার কারণে তিনি বারবার নত হয়েছেন, তবে নিজেকে অন্যের ধারণার মতো ‘সস্তা’ মনে করেন না। এ ছাড়া ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখ লেখা একটি পাতায় ঘুমানোর আগে পড়ার জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় আমলের তালিকাও পাওয়া গেছে। সেখানে কালেমা, দরুদ শরিফ, ঘুমের দোয়া, আয়াতুল কুরসী, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম, আস্তাগফিরুল্লাহসহ বিভিন্ন আমলের কথা লেখা ছিল। মরিয়মের মৃত্যু নিয়ে করা মামলায় তাঁর বাবা বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, জুন মাসে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয় এবং এরপর তিনি ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন। মামলায় মরিয়মকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। মরিয়মের মৃত্যুর আগে জুলাইয়ে গাজী নজরুল ও মরিয়মকে ঘিরে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই সময় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরে গাজী নজরুল নিজেই ওই তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে বলে প্রথম আলো জানিয়েছে। মরিয়মের হাতে লেখা নোটগুলোর বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি ও উপলব্ধির প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নোটগুলো সত্যিই তাঁর লেখা কি না এবং সেগুলোর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট কী ছিল, তা ফরেনসিক ও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তাই এসব লেখায় থাকা অভিযোগ বা বক্তব্যকে তদন্তের ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার তদন্ত এখন চলমান। আদালতের আদেশ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সূত্র: প্রথম আলো, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), জাগো নিউজ
ঢাকার সাভারের রাজফুলবাড়িয়ার রাজাঘাট গ্রামের সন্তান হাফেজ মাওলানা মুফতি কারী রায়হান মাহমুদ আজহারী পবিত্র কোরআনের ১০ ধরনের কেরাতে সনদ অর্জন করেছেন। সম্প্রতি মিশরে তিনি এই সনদ অর্জন করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় একাধিক সাফল্য এবং আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে কোরআন, ক্বিরাত ও ইসলামী শিক্ষায় নিজের অবস্থান তৈরি করছেন তিনি। রায়হান মাহমুদের পিতা হাজী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধার পরিচয় দেওয়া রায়হান সাভারের বড় মাদ্রাসায় পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। এরপর ঢাকার বিভিন্ন ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ পরিচালিত মাদ্রাসাতুল মাদীনা এবং মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন তিনি। পরে কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া রাবিউল উলুম থেকে মুফতি কোর্স সম্পন্ন করেন। এসব শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন ধাপে তিনি ‘মুমতাজ’ ফল অর্জন করেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ক্বিরাত শিক্ষায় আরও এগিয়ে যেতে লালবাগের মা’হাদুল ক্বিরাত থেকে উচ্চতর তাজবিদ ও ক্বিরাতের শিক্ষা নেন রায়হান। উচ্চশিক্ষার জন্য পরে মিশরে পাড়ি জমান তিনি। কায়রোর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষা ও ভাষাবিজ্ঞানে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির তানতা শাখায় ‘উলুমুল কোরআন ও ক্বিরাত’ বিভাগে পড়াশোনা করছেন। আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতাতেও রায়হান মাহমুদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে। মিশরের ধর্ম মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৫৫টি দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন। এছাড়া ‘ওফাউল আজয়াল’ ও ‘সুফারাউল হিদায়া’ আয়োজিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনের কৃতিত্বও রয়েছে তার। কোরআনের তিলাওয়াত, তাজবিদ ও ক্বিরাতে দক্ষতার পাশাপাশি রায়হান আরবি ও বাংলা ভাষায় পারদর্শী এবং ফিকহ বিষয়ে শিক্ষাগ্রহণ করেছেন। ২০২৬ সালে তারাবির নামাজ পড়ানোর জন্য তিনি জাপান সফর করেন। একই বছর লন্ডনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্যও তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সাভারের একটি মাদ্রাসা থেকে হিফজ সম্পন্ন করে মিশরের আল আজহারে উচ্চশিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনের এই ধারাবাহিকতা রায়হান মাহমুদের শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। তার এই অর্জনে শিক্ষক, পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আনন্দিত। কোরআন, ক্বিরাত ও ইসলামী শিক্ষায় ভবিষ্যতে তিনি আরও উচ্চতর পর্যায়ে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে অটোরিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেন (৫৮) পিটুনিতে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে মো. আরিফও গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলতাফ হোসেন এসবির মালিবাগ জোনে কর্মরত ছিলেন। তিনি পরিবার নিয়ে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলমের বরাতে জানা গেছে, রাতে বাসায় ফেরার পথে আলতাফ হোসেন কয়েকজন যুবককে এক বৃদ্ধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালককে মারধর করতে দেখেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা তাঁকেও মারধর করে। পরে আলতাফ নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে সেখান থেকে সরে গিয়ে তাঁর কারখানায় ঢুকে পড়েন। এরপর হামলাকারীরা আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই কারখানায় হামলা চালায়। তারা কারখানার মেশিনপত্র ও বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর ছেলে আরিফ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার কারণ ও হামলায় জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: চ্যানেল ২৪
ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে আয়োজিত বর্ণিল শোভাযাত্রায় বিশেষ নজর কেড়েছে পর্দাঘেরা ‘মহিলা রিকশা’। দেখতে অনেকটা পুরোনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সেই বাহনের মতো এই রিকশার পাশাপাশি শোভাযাত্রায় উঠে এসেছে স্টিমার, ঘোড়ার গাড়ি ও পালকির মতো হারিয়ে যেতে বসা নানা যাতায়াতের মাধ্যম। ‘ঢাকা দিবস ২০২৬, হৃদয়ে ঢাকা’ ও ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে শুক্রবার ২৮ আগস্ট বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এ শোভাযাত্রা বের করা হয়। লক্ষ্মীবাজার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শোভাযাত্রাটি নগর ভবনে গিয়ে শেষ হয়। এতে হাজারো মানুষ অংশ নেন। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। এ সময় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। শোভাযাত্রায় ট্রাকে করে তুলে ধরা হয় ঢাকার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিভিন্ন স্থাপনার প্রতিকৃতি। এর মধ্যে ছিল আহসান মঞ্জিল, ঢাকেশ্বরী মন্দির, তারা মসজিদ, আর্মেনিয়ান গির্জা, জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও লালবাগ কেল্লা। বড় ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, লালকুঠি, বৌদ্ধ মন্দির ও ঐতিহ্যবাহী ঢাকা গেটের চিত্রও। শুধু স্থাপনা নয়, ঢাকার পত্তন ও বিকাশের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদেরও প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীদের কেউ রানী ভিক্টোরিয়া, কেউ নবাব খাজা আহসানউল্লাহ, লীলা নাগ, নিকোলাস পোগোজ, জিন্নাবাই ও পরিবিবির আদলে সেজে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পুরান ঢাকার খাবারের ঐতিহ্যও ছিল আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ। বাকরখানি, নান্না বিরিয়ানি ও বিউটি লাচ্ছির প্রতিকৃতি তুলে ধরা হয় শোভাযাত্রায়। পাশাপাশি স্টিমার, ঘোড়ার গাড়ি, পালকি ও পর্দাঘেরা ‘মহিলা রিকশা’ যেন পুরোনো ঢাকার হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে ২৮ আগস্ট লক্ষ্মীবাজার থেকে নগর ভবন পর্যন্ত ঘোড়ার গাড়ি, রিকশা, ভিনটেজ গাড়ি ও পালকিসহ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। পথের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নগরবাসী ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এসব প্রতীকী উপস্থাপনা উপভোগ করেন। পুরো আয়োজনেই পুরোনো ঢাকার জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বর্তমান নগরজীবনের সঙ্গে মিলিয়ে ধরার চেষ্টা ছিল। ৪১৬ বছরের ঢাকা দিবসের এই আয়োজন তাই শুধু শহরের বয়স উদ্যাপনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পুরোনো ঢাকার হারিয়ে যেতে বসা বাহন, স্থাপনা, খাবার ও সাংস্কৃতিক স্মৃতিগুলোও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরেছে এই বর্ণিল শোভাযাত্রা। সূত্র: কালবেলা
ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করতে পারলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই এই রুটে ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ২৩ আগস্ট সচিবালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, নিউইয়র্কের পাশাপাশি সিডনিতেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ সংকট। বহরে পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ না থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে বিদ্যমান ফ্লাইটের ফ্রিকোয়েন্সিও বাড়ানো যাচ্ছে না। এই সংকট কাটাতে পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সই করে আগামী বছর থেকে নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে দরপত্র প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় পাঁচটি গন্তব্যে বর্তমানে প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান। পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ পাওয়া গেলে এসব রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা দ্বিগুণ বা তিন গুণ করার সুযোগ রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় ২০৩১ সাল থেকে উড়োজাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। তার আগ পর্যন্ত যাত্রীসেবা সচল রাখা এবং নতুন রুটে ফ্লাইট বাড়াতে লিজে উড়োজাহাজ আনার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নিয়েও নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটির সফট ওপেনিং করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। এর আগে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজ ও চুক্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী হয়রানি কমাতেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তার ভাষ্য, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমান ও বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে উড়োজাহাজ পর্যন্ত সব জায়গায় পরিচ্ছন্ন ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। ঈশ্বরদী বিমানবন্দর নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজন বিবেচনায় বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণ করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বর্তমানে বিমানবন্দরটি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালু হলে সেখানে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থাতেও বিমানবন্দরটি ভূমিকা রাখতে পারবে বলে জানান তিনি। নিউইয়র্কের সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবশ্য আইকাও অডিটের ফলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও কারিগরি মানের গ্রেড অর্জন করা গেলে আগামী জানুয়ারি থেকে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি যোগাযোগ চালুর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী।
মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করেও আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার পথে বড় সাফল্য অর্জন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা অ্যাট ওমাহাতে ইতিহাস বিষয়ে ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করে বিশ্বের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পেয়েছেন মারুফ। নিজের একাডেমিক আগ্রহ, গবেষণার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা অ্যাট ওমাহাকে বেছে নেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মারুফের এই অর্জন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য। কারণ প্রচলিত ধারণার বিপরীতে মানবিক বিষয়ে পড়াশোনা করেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিস্তর সুযোগ রয়েছে। স্নাতক পর্যায়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে পড়াশোনার পর আরও বিস্তৃত পরিসরে ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করার লক্ষ্য থেকেই মাস্টার্সে বিষয়টি বেছে নিয়েছেন মারুফ। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে ভবিষ্যতে গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞানচর্চায় অবদান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। মারুফের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শুধু ভালো ফলাফল যথেষ্ট নয়। নিজের একাডেমিক আগ্রহ স্পষ্ট করা, গবেষণার সক্ষমতা তৈরি করা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা এবং শক্তিশালী আবেদনপত্র প্রস্তুত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পাওয়ার পর নিজের লক্ষ্য অনুযায়ী একটি বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা চাইলে সঠিক প্রস্তুতি, গবেষণামুখী মানসিকতা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পারেন। মারুফ হাসানের সাফল্য তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিভ কোহলার তিন দিনের সরকারি সফরে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকায় আসছেন। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ জোরদারের বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সফরে অ্যাডমিরাল কোহলার একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে। অ্যাডমিরাল স্টিভ কোহলার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডার। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই নৌবহর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ কার্যক্রম পরিচালনা করে। তিনি ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে এ দায়িত্ব পালন করছেন। মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, এই সফরের লক্ষ্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও পেশাগত সামরিক শিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা।
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে অনিরাপদ ও অপরাধপ্রবণ শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। আন্তর্জাতিক তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম নামবিও প্রকাশিত ২০২৬ সালের মধ্যবর্ষের ক্রাইম ইনডেক্সে ঢাকার অপরাধ সূচক ৬২.২ এবং নিরাপত্তা সূচক ৩৭.৮। এ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান সবচেয়ে নিচে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধের দিক থেকে বৈশ্বিক তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৫৯তম। অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে অপরাধপ্রবণ বড় শহরগুলোর শীর্ষ ১৫ শতাংশের মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী। নামবিওর তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার বিচারে পাকিস্তান, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকটি বড় শহরের তুলনায়ও পিছিয়ে রয়েছে ঢাকা। শহরটিতে অপরাধ নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগ, রাতে একা চলাচলের নিরাপত্তা এবং ছিনতাই, চুরি ও সহিংস অপরাধের আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি বলে জরিপে উঠে এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, নামবিওর ক্রাইম ইনডেক্স কোনো সরকারি অপরাধ পরিসংখ্যান নয়। এটি বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বাসিন্দাদের স্বেচ্ছায় দেওয়া মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়। ফলে এই সূচক জনমতের প্রতিফলন হলেও, এটি কোনো দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক অপরাধের হিসাবকে প্রতিস্থাপন করে না। তবুও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি শহরের নিরাপত্তা সম্পর্কে ধারণা তৈরিতে নামবিওর এই সূচক ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। বিনিয়োগ, পর্যটন এবং বিদেশি নাগরিকদের বসবাসের পরিবেশ মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও অনেকেই এ ধরনের সূচককে প্রাথমিক তথ্যসূত্র হিসেবে বিবেচনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ চার্টার ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে ওমনি এয়ার ইন্টারন্যাশনালের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে ফিরে আসা এসব বাংলাদেশি বিভিন্ন সময়ে উন্নত কর্মসংস্থানের আশায় বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন। পরবর্তীতে তারা দুবাই, কাতার, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল ও পেরুসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও বৈধ অভিবাসন-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে পারেননি। পরে মার্কিন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক প্রত্যেক প্রত্যাবর্তনকারীকে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়। পাশাপাশি তাদের জন্য খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়। ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর দুপুর দেড়টার দিকে তারা বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশি নাগরিকদেরও পর্যায়ক্রমে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বরাবরই সতর্ক করে আসছেন, বিদেশে কর্মসংস্থান বা স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের অভিবাসন আইন ও বৈধ ভিসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় গ্রেপ্তার, আটক এবং শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
ঢাকার ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী আড়াই মাস পর নিজের সাত মাসের শিশুসন্তানকে ফিরে পেয়েছে। ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের উদ্যোগ এবং চকবাজার থানার পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে লিগ্যাল এইডের বিচারক অন্তর্বর্তী আদেশে শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন। আদালত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কিশোরীটির দাবি, ১২ বছর বয়সে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর শাকিল ওরফে শাকিব মিয়া নামে এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরবর্তীতে তাদের একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তবে সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর স্বামী ও শাশুড়ি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং শিশুটিকে নিজেদের কাছে রেখে দেন। একই সঙ্গে শিশুর অভিভাবকত্ব নিয়ে আদালতে মামলাও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্তানকে ফিরে পেতে গত ১ জুলাই কিশোরীটি ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আবেদন করেন। অভিযোগের পর উভয় পক্ষকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হননি। এরপর লিগ্যাল এইডের নির্দেশে চকবাজার থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে বিচারক শিশুটিকে মায়ের কাছে রাখার নির্দেশ দেন এবং মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলার শুনানিতে কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, তার মেয়ে স্কুলে পড়াশোনা করছিল এবং তাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আরও দাবি করেন, কিশোরীকে শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বাংলাদেশে ১৮ বছরের নিচে নারীর বিয়ে আইনত নিষিদ্ধ। শিশু বিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী এমন বিয়ে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একই সঙ্গে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে অভিভাবকত্ব ও হেফাজত-সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশু বিবাহ, অপ্রাপ্তবয়স্ক মায়ের নিরাপত্তা এবং সন্তানের হেফাজত নিয়ে বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ঢাকা থেকে চেন্নাইগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দীর্ঘ বিলম্ব ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকার অভিযোগে যাত্রীদের দুর্ভোগের খবর পাওয়া গেছে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা পর ফ্লাইট ছাড়ার পাশাপাশি পুরো যাত্রাপথে কেবিনে পর্যাপ্ত ঠান্ডা বাতাস না থাকায় যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। জানা গেছে, ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস২০৫ রোববার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ফ্লাইটটি বিলম্বিত হতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে এটি চেন্নাই পৌঁছায়। ফ্লাইটের যাত্রীদের অভিযোগ, বিলম্বের কারণ হিসেবে শুরুতে প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা জানানো হলেও পরে কারিগরি ত্রুটি এবং জ্বালানিসংক্রান্ত সমস্যার কথা বলা হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ফ্লাইটের এক যাত্রী সামিয়া শতাব্দী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে যাত্রীদের বিমানে ওঠানো হয়। কিন্তু উড্ডয়নের আগ পর্যন্ত কেবিনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু ছিল না। এমনকি পুরো যাত্রাপথেও এসি কার্যকরভাবে চালু হয়নি, ফলে গরমে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্লাইটের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চেন্নাই যাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুও ছিলেন, যারা এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করেন। কেবিন ক্রুরা বারবার এসি চালু হবে বলে আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। সামিয়ার দাবি, পরে ক্রু সদস্যরা জানান যে উড্ডয়নের আগেই এসির সমস্যার বিষয়টি জানা ছিল এবং যাত্রীদের বিমানে রেখেই তা ঠিক করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সমস্যা পুরোপুরি সমাধান না করেই ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। পরিকল্পনা ছিল, চেন্নাই থেকে ফিরে এসে ত্রুটি মেরামত করা হবে। তবে এ বিষয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র মো. কামরুল ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, বিভিন্ন কারণে ফ্লাইটটি বিলম্বে ছেড়েছে। তবে বিমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল ছিল না; এটি আংশিকভাবে সচল ছিল, যদিও শতভাগ সক্ষমতায় কাজ করছিল না। অন্যদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ জানান, ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে যে বিমানের দুটি এয়ার কন্ডিশনিং প্যাকের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিকল ছিল, অন্যটি সচল ছিল। সংশ্লিষ্ট কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী এই অবস্থায় ফ্লাইট পরিচালনা করা অনুমোদিত থাকলেও এতে যাত্রীরা যে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে এয়ারলাইনসকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য ভ্রমণ করা যাত্রীদের দুর্ভোগ প্রশ্ন তুলেছে ফ্লাইট পরিচালনার মান ও যাত্রীসেবার বিষয়ে। বিমান চলাচলে নিরাপত্তার পাশাপাশি যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকা, ৮ জুলাই: বিশ্বের বিভিন্ন শহরের জীবনযাত্রার মান নিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬’-এ আবারও বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম, অর্থাৎ বিশ্বের তৃতীয় কম বাসযোগ্য শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে রাজধানী। গত ৭ জুলাই প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকার চেয়ে নিচে অবস্থান করছে শুধু লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। তালিকার সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে দামেস্ক। প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্বের বিভিন্ন শহরকে পাঁচটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেছে ইআইইউ। এগুলো হলো—স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো। এসব সূচকের অধীনে ৩০টিরও বেশি বিষয় বিশ্লেষণ করে প্রতিটি শহরের বাসযোগ্যতার স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে। ইআইইউর মূল্যায়নে ঢাকার নিম্ন অবস্থানের পেছনে দুর্বল অবকাঠামো, দীর্ঘস্থায়ী যানজট, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং নগর ব্যবস্থাপনার নানা চ্যালেঞ্জকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবার ওপর বাড়তি চাপও রাজধানীর জীবনযাত্রার মানকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের করাচির অবস্থান ১৭০তম, যা ঢাকার এক ধাপ ওপরে। অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা এবং তৃতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স আন্তর্জাতিকভাবে নগর জীবনের মান মূল্যায়নের অন্যতম গ্রহণযোগ্য সূচক হিসেবে পরিচিত। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের সরকার বিদেশে কর্মী নিয়োগ, ঝুঁকি মূল্যায়ন, নগর পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ বিশ্লেষণে এই সূচকের তথ্য ব্যবহার করে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাসযোগ্যতা সূচকে ঢাকার অবস্থানের উন্নতি সম্ভব হতে পারে। যদিও জনমনে এ সূচকটি প্রায়ই ‘বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকা’ হিসেবে পরিচিত, ইআইইউর এই মূল্যায়ন মূলত বিভিন্ন শহরের তুলনামূলক বাসযোগ্যতার মান নির্ধারণ করে। অর্থাৎ এটি কোনো শহরকে সম্পূর্ণভাবে বসবাসের অযোগ্য ঘোষণা করে না; বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে জীবনযাত্রার সামগ্রিক পরিবেশের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।