সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

তারেক

তারেক মোদি দীনেশ ত্রিবেদী
তারেক-মোদির বৈঠক হবে ‘১২০ শতাংশ নিশ্চিত’, বললেন দীনেশ ত্রিবেদী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এ বিষয়ে নিজেকে ‘১২০ শতাংশ নিশ্চিত’ বললেও তিনি জানিয়েছেন, সফরের মাস বা তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।   বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।   ত্রিবেদী জানান, সফরটি নিয়ে দুই দেশের মানুষের আগ্রহ রয়েছে। তবে তাড়াহুড়োর চেয়ে যথাযথ প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। দুই সরকারপ্রধানের আলোচনার আগে কর্মকর্তাদের পর্যায়ে প্রস্তুতি এবং বৈঠকের পর বাস্তবায়নযোগ্য ফল থাকার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।   বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে স্বীকার করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তবে তাঁর আশা, শীর্ষ পর্যায়ে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ পাওয়া যাবে। সম্ভাব্য আলোচনায় পানি ও বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে বলেও জানান তিনি। এগুলোকে অবশ্য চূড়ান্ত আলোচ্যসূচি হিসেবে ঘোষণা করেননি।   দুই দেশের সম্পর্ককে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত করে ত্রিবেদী বলেন, ভালো শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনই মানুষের চাওয়া। এসব স্বার্থকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও ভারতের কাজ করা প্রয়োজন।বাণিজ্য, খেলাধুলা, সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও সংগীতে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বাড়লে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।   এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, নভেম্বরে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আয়োজন ঘিরে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য মোদির আমন্ত্রণ রয়েছে। তবে নভেম্বরের সম্ভাবনার কথা সংবাদমাধ্যমে এলেও বুধবার ত্রিবেদী স্পষ্ট করেছেন, কোনো মাস বা তারিখ নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নভেম্বরকে সফরের চূড়ান্ত সময় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে এর আগেও আশাবাদ জানিয়েছিলেন ত্রিবেদী। গত ১৮ আগস্ট ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে তাঁকে যথাযথ সম্মানজনক অভ্যর্থনা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মোদি।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
বিএনপির নেতা কর্মী
তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ, নিউইয়র্কে প্রবাসী বিএনপির ব্যতিক্রমী স্বাগত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আনন্দ ও স্বাগত মিছিল করেছেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল থেকে ম্যানহাটনে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বিপরীতে তারা জড়ো হন। ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার হাতে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা।   নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং কানাডা থেকে আসা বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া, বোস্টন, ওয়াশিংটন ডিসি, নিউজার্সি, শিকাগো, কানেকটিকাট, পেনসিলভানিয়া ও জর্জিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীরা এতে যোগ দেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচির সমন্বয় করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্য এবং নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজার নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী মিছিলে অংশ নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সেলিম রেজা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেওয়ায় তারা গর্বিত ও আনন্দিত। অন্যদিকে ফ্লোরিডা বিএনপির সভাপতি ইমরানুল হক চাকলাদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলুও কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন। তিনি তারেক রহমানের জাতিসংঘে বক্তব্যকে বিএনপির রাজনৈতিক ও পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার নিজস্ব মতামত হিসেবে উদ্ধৃত হয়েছে।   এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে পৌঁছালে বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরাও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল ও সমাবেশ করেন। বিমানবন্দর এবং হোটেলের কাছেও স্বাগত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।   ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেন তারেক রহমান। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ। প্রায় ২১ মিনিটের বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।   প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিএনপির এই কর্মসূচি মূলত প্রবাসী নেতাকর্মীদের স্বাগত ও আনন্দ প্রকাশের আয়োজন হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে পৌঁছানোর সময়ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্বাগত কর্মসূচির খবর প্রকাশিত হয়।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলায় ভাষণ দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এটিই তাঁর প্রথম ভাষণ। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে, যা বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৩টা। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে এ সময়সূচি জানিয়েছেন।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুও স্থান পাবে। বিশেষভাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে।    রোহিঙ্গা সংকটও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়ার কথা। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। জাতিসংঘের মঞ্চে এই সংকটের ব্যাপকতা এবং বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরার পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।    এর পাশাপাশি যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, আধুনিক প্রযুক্তিতে ন্যায়সংগত প্রবেশাধিকার এবং বর্তমান বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার মতো বিষয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।    জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশ এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে জলবায়ু ইস্যুকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সাধারণ পরিষদে ভাষণের আগে আজ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে সেখানে।   একই দিনে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি নিয়ে বাংলাদেশ আয়োজিত একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তারেক রহমানের। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়েন এবং নিউইয়র্কে পৌঁছে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর সফরসঙ্গীদের মধ্যে সরকারের একাধিক মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন।    সরকারের পক্ষ থেকে এবারের অংশগ্রহণকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। কারণ, সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণ। তাঁর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশের মানুষের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা তুলে ধরবেন।   নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষ করে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। 

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
তারেক রহমানসহ নেতারা
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আজ জাতিসংঘে বড় বৈঠকে তারেক রহমানসহ বিশ্ব নেতারা

দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় আনতে আজ বুধবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এই আয়োজন করছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এতে সহ-পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের অংশ হিসেবে আয়োজিত বৈঠকটি নিউইয়র্ক সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম ১১-তে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।    অনুষ্ঠানের শিরোনাম ‘The Rohingya Crisis: A Renewed Call for a Durable Solution from Protracted Displacement, with Justice and Accountability’। এতে সদস্যরাষ্ট্র, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংগঠন, মানবিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে।   বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উচ্চপর্যায়ের আয়োজনে অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এর আগে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের ব্যাপকতা, এর ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ এবং সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো আবারও বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থাপন করবে।   উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে শুধু প্রত্যাবাসন নয়, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রকাশিত কনসেপ্ট নোট অনুযায়ী, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির পর সংকটটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল মানবিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।   জাতিসংঘ সফরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহর সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছেন, সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই। বৈঠকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে।    জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গেও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দীর্ঘদিনের এই সংকটের সমাধান এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফেরানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   এদিকে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা—ওআইসিও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকটের একটি সমন্বিত ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মন্ত্রী পর্যায়ের কনট্যাক্ট গ্রুপ রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে।   আজকের উচ্চপর্যায়ের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও বিশ্বনেতাদের আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে চাইছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সহায়তা, আন্তর্জাতিক জবাবদিহি, রাখাইনে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং সংকটের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত ভূমিকা জোরদার করাই আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে তারেক রহমান–এরদোয়ান
নিউইয়র্কে তারেক রহমান–এরদোয়ান বৈঠক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আলোচনা

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।   স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কাছে ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই নেতা বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী এবং বহুমাত্রিক করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন।    আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ। দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে যেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে, সেগুলো আরও সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান ও এরদোয়ান।   বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে আসে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন দুই নেতা।   তুরস্কের পক্ষের বিবরণ উদ্ধৃত করে আজকের পত্রিকা জানিয়েছে, এরদোয়ান ঢাকা–আঙ্কারা সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।    রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনায় আসে বলে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে এরদোয়ান আশ্রয়, শিক্ষা ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তুরস্কের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানান।   বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান উপস্থিত ছিলেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বরাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে।    দুই নেতা বৈঠক শেষে বাংলাদেশ–তুরস্কের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। 

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন
প্রশাসনের একাংশ তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে: নয়ন

মাগুরার প্রশাসনের একটি অংশ বিএনপির নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ছাত্রলীগ ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। তাঁর দাবি, প্রশাসনের এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন। নহাটা রানী পতিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বাচ্চু।    রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, মাগুরার প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি দেখতে পাচ্ছেন, বিএনপির নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ছাত্রলীগ এবং জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, মাগুরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদককে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের কাজ থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে।    নয়ন আরও অভিযোগ করেন, মহম্মদপুর উপজেলায় সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে ৯২ জনের মধ্যে ২৫ জন ছাত্রলীগের কর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির নেতারা সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। তবে এসব নিয়োগ ও অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তা উল্লেখ করা হয়নি।    প্রশাসনের উদ্দেশে নয়ন বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রশাসনের একটি অংশ গোপনে বিএনপির আবেগের জায়গা তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা বিএনপি ও তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে চান, তাদের মাগুরা ও মাগুরা-২ আসনের মাটিতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আবারও আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।    কর্মীসভায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়েও বক্তব্য দেন যুবদলের এই নেতা। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কয়েক মাস পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে তাকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নয়ন বলেন, নির্বাচনের আগেও তিনি জনগণের সঙ্গে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।    কর্মীসভায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আজম সাবু, সাবেক সদস্যসচিব মো. আক্তারুজ্জামান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী হিরো ও মোস্তাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
অর্থনৈতিক সংকটে তুরস্কের দ্বারস্থ পাকিস্তান I ছবি: সংগৃহীত
অর্থনৈতিক সংকটে তুরস্কের দ্বারস্থ পাকিস্তান, মেগা বিনিয়োগ চাইলেন শাহবাজ শরিফ

তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি বিনিয়োগ টানতে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এরই ধারাবাহিকতায় তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোকে নিজেদের জ্বালানি, খনিজ, অবকাঠামো, সামুদ্রিক, টেলিযোগাযোগ এবং কৃষি খাতে বিশাল বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের আমন্ত্রণে ইস্তাম্বুল সফরে গিয়ে শনিবার তিনি এই আহ্বান জানান। এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   ইস্তাম্বুলে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তুরস্কের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে চ্যালিক হোল্ডিংয়ের চেয়ারম্যান আহমেদ চ্যালিক, আলবায়রাক গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আলবায়রাক এবং ইউনিয়ন অব চেম্বার্স অ্যান্ড কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অব তুর্কিয়ের (টিওবিবি) প্রেসিডেন্ট রিফাত হিসারসিক্লিওগ্লু উপস্থিত ছিলেন।   চ্যালিক হোল্ডিংয়ের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি পাকিস্তানের জ্বালানি, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বেসরকারীকরণ খাতের বিশাল সম্ভাবনা তুলে ধরেন। অন্যদিকে, আলবায়রাক গ্রুপকে পাকিস্তানের সামুদ্রিক অবকাঠামো, বন্দরের আধুনিকায়ন এবং লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী।   ডিজিটাল ও প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে শাহবাজ শরিফ তুর্কসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলি তাহা কোচের সঙ্গেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি আঞ্চলিক ডিজিটাল সংযোগ শক্তিশালী করা, নিরাপদ আন্তঃসীমান্ত ডেটা প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর একীকরণে একটি ‘পাকিস্তান-তুরস্ক ডিজিটাল করিডোর’ প্রতিষ্ঠার সরকারি পরিকল্পনার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।   পাশাপাশি তিনি তুর্কসেলকে পাকিস্তানে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম তৈরিতে অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। জবাবে তুর্কসেলের সিইও পাকিস্তানের ডিজিটাল রূপান্তরের এজেন্ডার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং উদীয়মান এই প্রযুক্তি খাতে একযোগে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।   এই সরকারি সফরে শাহবাজ শরিফ একটি বিজনেস কনফারেন্সেও ভাষণ দেবেন, যেখানে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, জ্বালানি এবং আইটি খাতের বিনিয়োগ সম্ভাবনাগুলো জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বিদ্যমান। মিশর, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ‘আর-৪’ কূটনৈতিক ফ্রেমওয়ার্কেরও সক্রিয় সদস্য এই দুই মিত্র দেশ।   বর্তমানে গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানসহ জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। যার অংশ হিসেবে পাকিস্তান তুরস্কের কাছ থেকে চারটি আধুনিক করভেট যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ করছে, যার দুটি তুর্কি সহায়তায় করাচি শিপইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে। এছাড়া আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তিসহ এভিওনিক্স ও নজরদারি ব্যবস্থার যৌথ উন্নয়নেও দেশ দুটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০