রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আজ জাতিসংঘে বড় বৈঠকে তারেক রহমানসহ বিশ্ব নেতারা
দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় আনতে আজ বুধবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এই আয়োজন করছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এতে সহ-পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের অংশ হিসেবে আয়োজিত বৈঠকটি নিউইয়র্ক সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম ১১-তে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
অনুষ্ঠানের শিরোনাম ‘The Rohingya Crisis: A Renewed Call for a Durable Solution from Protracted Displacement, with Justice and Accountability’। এতে সদস্যরাষ্ট্র, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংগঠন, মানবিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উচ্চপর্যায়ের আয়োজনে অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এর আগে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের ব্যাপকতা, এর ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ এবং সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো আবারও বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থাপন করবে।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে শুধু প্রত্যাবাসন নয়, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রকাশিত কনসেপ্ট নোট অনুযায়ী, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির পর সংকটটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল মানবিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
জাতিসংঘ সফরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহর সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছেন, সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই। বৈঠকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গেও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দীর্ঘদিনের এই সংকটের সমাধান এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফেরানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা—ওআইসিও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকটের একটি সমন্বিত ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মন্ত্রী পর্যায়ের কনট্যাক্ট গ্রুপ রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে।
আজকের উচ্চপর্যায়ের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও বিশ্বনেতাদের আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে চাইছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সহায়তা, আন্তর্জাতিক জবাবদিহি, রাখাইনে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং সংকটের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত ভূমিকা জোরদার করাই আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreনিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বিতর্ক চলাকালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’কে স্মার্টফোনে ইনস্টাগ্রাম রিলস স্ক্রল করতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান যখন বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন ধারণ করা একটি ভিডিওতে আল-শারা’কে ফোনের স্ক্রিনে মনোযোগ দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে আল-শারা’কে মাথা নিচু করে ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। স্ক্রিনে ইনস্টাগ্রামের স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও বা রিলসের মতো কনটেন্ট স্ক্রল করার দৃশ্যও দেখা গেছে। তবে ভিডিও দেখে তিনি ঠিক কী দেখছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন বা সত্যিই রিলস শেয়ার করছিলেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে রিলস শেয়ারের কথা বলা হলেও, ভিডিওটি নিজে থেকে সেই তথ্য নিশ্চিত করে না। ঘটনাটি ঘটে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বিতর্কের প্রথম দিকের অধিবেশনে। নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। এরদোয়ানের বক্তব্যে গাজা, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের মতো বিষয় উঠে আসে। সেই সময় আল-শারা’র ফোন ব্যবহারের দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আল-শারা’র জন্য এবারের জাতিসংঘ সফরও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে তিনি প্রথমবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন। এর আগে প্রায় ছয় দশক পর কোনো সিরীয় নেতা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের সামনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এবার তার অংশগ্রহণ সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আহমেদ আল-শারা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী বাহিনীর অভিযানে দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। দেশটির নতুন নেতৃত্ব এরপর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন আরও একটি কারণে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অধিবেশনের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য হলো আস্থা পুনর্গঠন এবং পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এমন একটি জাতিসংঘ গড়ে তোলা, যা সবার জন্য কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। আল-শারা’র ফোন ব্যবহারের কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্য এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ ঘটনাটিকে সাধারণ ফোন ব্যবহারের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিশ্বনেতাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য চলাকালে তার এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে ভিডিওতে দেখা দৃশ্যের বাইরে তার উদ্দেশ্য বা মনোযোগের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবার, আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশিরাও!
গর্ভবতী অবস্থায় আ টক, ইসরায়েলি কারাগারেই কন্যাসন্তানের জন্ম ফিলিস্তিনি নারীর
বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায় ভারত: রণধীর জয়সওয়াল
দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় আনতে আজ বুধবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এই আয়োজন করছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এতে সহ-পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের অংশ হিসেবে আয়োজিত বৈঠকটি নিউইয়র্ক সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম ১১-তে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অনুষ্ঠানের শিরোনাম ‘The Rohingya Crisis: A Renewed Call for a Durable Solution from Protracted Displacement, with Justice and Accountability’। এতে সদস্যরাষ্ট্র, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংগঠন, মানবিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উচ্চপর্যায়ের আয়োজনে অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এর আগে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের ব্যাপকতা, এর ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ এবং সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো আবারও বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থাপন করবে। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে শুধু প্রত্যাবাসন নয়, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রকাশিত কনসেপ্ট নোট অনুযায়ী, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির পর সংকটটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল মানবিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। জাতিসংঘ সফরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহর সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছেন, সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই। বৈঠকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে। জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গেও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দীর্ঘদিনের এই সংকটের সমাধান এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফেরানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এদিকে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা—ওআইসিও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকটের একটি সমন্বিত ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মন্ত্রী পর্যায়ের কনট্যাক্ট গ্রুপ রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে। আজকের উচ্চপর্যায়ের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও বিশ্বনেতাদের আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে চাইছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সহায়তা, আন্তর্জাতিক জবাবদিহি, রাখাইনে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং সংকটের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত ভূমিকা জোরদার করাই আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য।
নিউইয়র্কে তারেক রহমান–এরদোয়ান বৈঠক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আলোচনা
ভারতের পর পাকিস্তান—দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশেই একই অ্যান্টি-ড্রোন চুক্তি ট্রাম্প কোম্পানির
হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদির প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাজ্যের ভয়েজার বিমান মোতায়েন
বিশ্বের অন্যান্য দেশের নিপীড়িত মানুষের জন্য শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি কার্যত কঠোর ও সীমিত রাখলেও দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ছাড় দিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটির ১৭ হাজার ৫০০ শ্বেতাঙ্গ ‘আফ্রিকানার’কে আগামী এক বছরে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। কংগ্রেসের কাছে পাঠানো মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক নোটিশের বরাতে সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৭ অর্থবছরে নির্ধারিত এই বিশেষ শরণার্থী কোটার সিংহভাগই দেওয়া হবে ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে, যাদের ওপর বর্ণবাদী কারণে নির্যাতন চলছে বলে দাবি করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্ণবাদ-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাচ ও ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এই আফ্রিকানাররা তীব্র বৈষম্য ও দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণ ছাড়াই কৃষি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, শিক্ষা ও চাকরিতে সমান সুযোগ বিনষ্টকারী সরকারি নীতি এবং জাতিগত বিদ্বেষমূলক সহিংসতার মুখে পড়ছে এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। এমনকি আফ্রিকানারদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে পরিচালিত হতে যাওয়া এই পুনর্বাসন কর্মসূচি প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা, এই আফ্রিকানাররা মার্কিন সমাজের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেবে এবং মার্কিন করদাতাদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বোঝা হবে না। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ আফ্রিকায় আফ্রিকানারদের ওপর 'গণহত্যা' চলছে বলে দাবি করে আসছেন, তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার শুরু থেকেই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে। অতীতে ওভাল অফিসে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সামনে ট্রাম্প দেশটির খামারগুলোতে কৃষক হত্যার ভিডিও দেখিয়ে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তবে স্বাধীন বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকার খামারগুলোতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো দেশটির সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও অপরাধ প্রবণতারই একটি অংশ, যা সব বর্ণের নাগরিককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে; একে শুধু শ্বেতাঙ্গদের ওপর নির্দিষ্ট 'গণহত্যা' হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার মার্কিন দাবিকে চরম বিতর্কিত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভারতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় এক ভারতীয় প্রবাসীর ৯ টুকরো লা শ উদ্ধার