সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার অনীহায় পিছিয়ে বাংলাদেশি প্রার্থীরা: ‘আমার একটি ভোটে কী আসে-যায়’ মানসিকতাই বড় বাধা

Unknown প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ২২:৫৭
২ জুন, ২০২৬ তারিখে সাউথ ডাকোটা প্রাইমারি নির্বাচনের সময় সু ফলস-এর একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা তাঁদের ব্যালট পূরণ করছেন । ছবি: ম্যাকেঞ্জি হুবার
২ জুন, ২০২৬ তারিখে সাউথ ডাকোটা প্রাইমারি নির্বাচনের সময় সু ফলস-এর একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা তাঁদের ব্যালট পূরণ করছেন । ছবি: ম্যাকেঞ্জি হুবার

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না ভোটারদের অংশগ্রহণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটের দিন বাংলাদেশি ভোটারদের একটি বড় অংশ কেন্দ্রে না যাওয়ায় বিভিন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশি প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ আসনে পিছিয়ে পড়ছেন। ফলে সম্প্রদায়টির রাজনৈতিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সেই শক্তি বাস্তবে রূপ পাচ্ছে না।

 

গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যেখানে অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল। একই সঙ্গে শহরজুড়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক প্রাইমারি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র প্রায় ১৭ শতাংশ, যা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বিগ্ন করেছে।

 

নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর দ্রুত বিস্তার ঘটেছে। বাংলা ভাষায় ব্যালট, ভোটার গাইড এবং নির্বাচনী সহায়তা চালু হওয়াও এই সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক গুরুত্বের স্বীকৃতি। তবুও নির্বাচনের দিন বহু নিবন্ধিত ভোটার কেন্দ্রে যান না। কমিউনিটির রাজনৈতিক কর্মীরা বলছেন, অনেকেই মনে করেন, ‘আমার একটি ভোটে কিছু আসে-যায় না।’ আবার অনেকে নির্বাচনের তারিখ, আগাম ভোট বা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সম্পর্কেও অবগত নন। ফলে নিবন্ধিত ভোটারদের বড় একটি অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন না।

 

গত কয়েক বছরে নিউইয়র্কে সিটি কাউন্সিল, ডিস্ট্রিক্ট লিডার, জুডিশিয়াল ডেলিগেট, পার্টি কমিটি এবং বিভিন্ন পদে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে তাদের অনেকেই জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও পরাজিত হয়েছেন। সর্বশেষ ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩০ আসনের প্রার্থী শামসুল হক মাত্র ১১ ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন। অথচ তার ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের বাংলাদেশি ভোটাররা কেন্দ্রে গেলে তিনি দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতে পারতেন।

 

শামসুল হক বলেন, “অনেকের সঙ্গে দেখা হলে তারা ফলাফল শুনে আফসোস করছেন। তারা বলছেন, এত কম ব্যবধান জানলে অবশ্যই ভোট দিতে যেতাম। এই ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার অনীহাই বাংলাদেশি প্রার্থীদের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি জানান, নির্বাচনের আগে তিন দফায় ১০ হাজার বাড়ির দরজায় প্রায় ৩০ হাজার বার কড়া নাড়া হয়েছে। সবাই ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের দিন উপস্থিতি ছিল মাত্র ৩৯ শতাংশ।

 

তার ভাষায়, “জ্যাকসন হাইটসের সিংহ মার্কাসহ ৮ থেকে ১০টি ভবনে শত শত বাংলাদেশি বসবাস করেন। প্রতিদিন তারা সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যান। অথচ ভোটের দিন তাদের বড় একটি অংশ ঘর থেকে বের হননি।” তিনি মনে করেন, ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার এই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তবে এটি কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সমষ্টিগত উদ্যোগ।

 

কমিউনিটির ভূমিকা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন শামসুল হক। তিনি বলেন, “বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অনেক নেতা আছেন। তারা মাঠে নামলে ফল ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু অনেককেই নির্বাচনী প্রচারে পাশে পাইনি। অনেকেই মূলধারার রাজনীতির দাবি করলেও বাস্তবে তাদের অংশগ্রহণ দেখা যায়নি।” তিনি জানান, ফলাফল যাই হোক, তিনি থেমে থাকবেন না। ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন এবং ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করবেন।

 

এদিকে ১১ ভোটে পিছিয়ে থাকলেও এখনও জয়ের বিষয়ে আশাবাদী শামসুল হক। তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে ৬ হাজার ২০৩টি ব্যালট পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার আবেদন করা হয়েছে। এতে আমার ভোট বাড়তেও পারে, কমতেও পারে।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশি ভোটারদের উপস্থিতি আরও বেশি হলে অনেক নির্বাচনের ফল ভিন্ন হতে পারত। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবধান ছিল কয়েকশ ভোটেরও কম, অথচ সংশ্লিষ্ট এলাকায় হাজার হাজার বাংলাদেশি ভোটার নিবন্ধিত রয়েছেন।

 

কমিউনিটির প্রবীণ নেতাদের মতে, বাংলাদেশিরা নির্বাচন এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালান, কিন্তু ভোটারদের ঘরে ঘরে পৌঁছে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি এখনও শক্তিশালী হয়নি। অন্যদিকে ইহুদি, চীনা, ভারতীয়, কোরিয়ান ও লাতিনো সম্প্রদায় বছরের পর বছর ধরে ভোটার নিবন্ধন, আগাম ভোট এবং নির্বাচনের দিন ভোটার পরিবহনের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের প্রভাবও অনেক বেশি।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ আগের তুলনায় বাড়লেও সেই আগ্রহ এখনও ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত পুরোপুরি পৌঁছায়নি। সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতা বাড়লেও বাস্তবে ভোটদানের হার আশানুরূপ নয়। সাম্প্রতিক নিউইয়র্কের বিভিন্ন নির্বাচনে স্বল্প ভোটার উপস্থিতির মধ্যেই অনেক প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সুসংগঠিত ভোটার উপস্থিতিই অনেক সময় নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে দেয়।

 

কমিউনিটির নেতাদের মতে, এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের সময়। তাদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে সারা বছরব্যাপী ভোটার নিবন্ধন কর্মসূচি পরিচালনা, নতুন নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনে সহায়তা, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরা, তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো এবং নির্বাচনের দিন স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে ভোটার পরিবহনের ব্যবস্থা করা।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী। ব্যবসা, চিকিৎসা, প্রকৌশল, শিক্ষা ও গণমাধ্যমসহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন। এখন সেই সামাজিক শক্তিকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ভোটাধিকার প্রয়োগ।

 

কমিউনিটির প্রবীণদের ভাষায়, “প্রার্থী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভোট দিতে যাওয়া।” কারণ একটি নির্বাচনে কয়েকটি ভোটই একজন বাংলাদেশি প্রার্থীর জয় কিংবা পরাজয় নির্ধারণ করতে পারে। আর সেই বাস্তবতাই আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে ভোটকেন্দ্রে তাদের উপস্থিতির ওপর।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মাটির নিচে বা মাটিতে আংশিকভাবে আবৃত বাড়ির সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নকশা
যুক্তরাষ্ট্রে মাটির নিচে বসবাস শুরু হতে পারে, তবে যেসব সমস্যা চিহ্নিত হলো গবেষণায়

দ্রুত নগরায়ণ, আবাসন সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতের বাড়িঘর কেমন হবে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন স্থপতি ও প্রকৌশলীরা। এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে মাটির নিচে বা মাটিকে বাড়ির কাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহার করে বসবাসের ধারণা। চরম আবহাওয়ার প্রভাব কমানো এবং জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের বাড়ির সম্ভাবনা থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সঙ্গে রয়েছে বেশ কিছু বড় প্রকৌশলগত, আর্থিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ।   মাটির নিচে বাড়ির ধারণা নতুন নয়   মাটিকে ব্যবহার করে ঘরকে প্রাকৃতিকভাবে উষ্ণ বা ঠান্ডা রাখার পদ্ধতি আধুনিক স্থাপত্যের অনেক আগের। আইসল্যান্ডে শত শত বছর ধরে মাটি ও ঘাস দিয়ে ঘরের দেয়াল ও ছাদ আচ্ছাদিত করে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও বাতাস থেকে সুরক্ষা নেওয়া হয়েছে।   আধুনিক স্থাপত্যে সেই ধারণাকেই উন্নত জলরোধী ব্যবস্থা, প্রকৌশল ও নকশার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। উত্তর চীনে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড হাউস অব দ্য ফিউচার’ নামে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পে মাটির নিচে ভল্ট আকৃতির কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার স্কটসডেলেও মাটির নিচে নামানো উঠানকে ঘিরে বাড়ির নকশা দেখা গেছে।   মেক্সিকোর স্থপতি হাভিয়ের সেনোসিয়াইনের ‘কাসা অর্গানিকা’ও এ ধরনের নকশার উদাহরণ। বাড়িটির ওপর ঘাস ও মাটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা শীতকালে তাপ ধরে রাখতে এবং গ্রীষ্মে ঘর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে।   কোবার পেডিতে বাস্তব উদাহরণ   অস্ট্রেলিয়ার খনিশহর কোবার পেডি ভূগর্ভস্থ বসবাসের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণগুলোর একটি। সেখানে আনুমানিক অর্ধেক মানুষ মাটির নিচের বাড়িতে বসবাস করেন।   ভূগর্ভস্থ এসব ঘরে সারা বছর প্রায় ২৩ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় থাকে। এর কারণ, মাটির কয়েক ফুট নিচের তাপমাত্রা বাইরের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল।   স্থপতি এরলা দোগ ইনজালদোত্তিরের মতে, সঠিক জায়গায় মাটিকে বাড়ির কাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহার করলে তাপমাত্রার ওঠানামা কমানো, গরম ও ঠান্ডা করার প্রয়োজনীয়তা কমানো এবং কিছু চরম আবহাওয়া থেকে বাড়িকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।   দাবানল ও অতিরিক্ত গরমে সুবিধা   জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপ, দাবানল ও প্রবল বাতাসের ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মাটির নিচে বা আংশিকভাবে মাটিতে আবৃত বাড়ি কিছু এলাকায় বাড়তি সুরক্ষা দিতে পারে।   জলবায়ু-সহনশীল আবাসন নিয়ে কাজ করা দ্য পাওলেলে হালে অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ডেভিড গিলিল্যান্ড বলেন, উপযুক্ত ভৌগোলিক এলাকায় মাটিকে বাড়ির বাইরের আবরণ হিসেবে ব্যবহার করলে তাপমাত্রার বড় ওঠানামা কমানো এবং গরম ও ঠান্ডা করার চাহিদা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বাতাস, দাবানল ও কিছু চরম আবহাওয়ার প্রভাব থেকেও সুরক্ষা মিলতে পারে।   ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি গবেষণাতেও নগর ভূগর্ভস্থ স্থানকে জলবায়ু পরিবর্তন ও সম্পদের ঘাটতির মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্ভাবনাময় সম্পদ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   পানি থেকে আলো পর্যন্ত বড় প্রকৌশল চ্যালেঞ্জ   তবে মাটির নিচে বাড়ি নির্মাণ যতটা আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে, বাস্তবে তা ততটা সহজ নয়। পানি ঢোকা ঠেকানো, নিষ্কাশন ব্যবস্থা, মাটির চাপ, রেডন গ্যাস, বায়ু চলাচল, প্রাকৃতিক আলো, জরুরি সময়ে বের হওয়ার পথ এবং দীর্ঘমেয়াদি জলরোধী ব্যবস্থা—সবকিছুর পরিকল্পনা শুরু থেকেই করতে হয়।   গিলিল্যান্ডের মতে, এসব সুবিধা বাস্তব হলেও প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জও যথেষ্ট। সঠিকভাবে তৈরি হলে ভূগর্ভস্থ বাড়ি কার্যকর ও টেকসই হতে পারে। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণ ভবিষ্যতে বড় আর্থিক সমস্যায় ফেলতে পারে।   ইনজালদোত্তিরও সতর্ক করে বলেছেন, জলরোধী ব্যবস্থা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে ভুল করার সুযোগ নেই। প্রাকৃতিক আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করতেও দক্ষ নকশা প্রয়োজন। পাশাপাশি মাটির চাপ সামলানোর কারণে কাঠামোগত ব্যয় সাধারণ কাঠ বা স্টিলের বাড়ির তুলনায় বেশি হতে পারে।   মাটির নিচে আসলে কী আছে?   ভূগর্ভস্থ মানচিত্র তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান এক্সোডিগোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেরেমি সুয়ার্ডের মতে, ভূগর্ভে নির্মাণের সবচেয়ে কঠিন বিষয় শুধু প্রকৌশল নয়—বরং মাটির নিচে আগে থেকেই কী রয়েছে, সেই অনিশ্চয়তা।   বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির লাইনের পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত মাটি, পাথর ও ভূগর্ভস্থ পানিও নির্মাণকাজে সমস্যা তৈরি করতে পারে। কমন গ্রাউন্ড অ্যালায়েন্সের এক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে সুয়ার্ড জানান, ভূগর্ভস্থ পরিষেবা লাইনের ক্ষতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এক বছরে ৮৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয় এবং প্রায় ৬ লাখ ৬৯ হাজার ঘটনা ঘটে।   সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে মানুষের পছন্দ   প্রকৌশলগত সমস্যার পাশাপাশি মানুষের মানসিক পছন্দও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে। অধিকাংশ মানুষ ঘরে প্রাকৃতিক আলো, বাইরের দৃশ্য, খোলা বাতাস এবং প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগ চান।   ইনজালদোত্তিরের মতে, এটাই হয়তো মাটির নিচের বাড়িকে মূলধারায় নিয়ে আসার সবচেয়ে বড় বাধা। উঠান, আলো ঢোকার ব্যবস্থা ও বড় জানালার মাধ্যমে কিছু সমস্যা কমানো গেলেও অনেক মানুষ পুরোপুরি ভূগর্ভস্থ বাড়িতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নাও করতে পারেন।   পুরোপুরি ভূগর্ভস্থ নয় বরং আংশিক মাটিসুরক্ষিত বাড়ি   বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে মানুষের বসবাসের জন্য পুরোপুরি জানালাবিহীন ভূগর্ভস্থ বাড়ির চেয়ে আংশিকভাবে মাটিতে আবৃত বাড়িই বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে। পাহাড়ের ঢালে বাড়ি তৈরি করে কয়েকটি দিক মাটি দিয়ে সুরক্ষিত করা এর একটি উদাহরণ।   ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টেফান শ্যাভেজ-নর্গার্ডের মতে, অনেক এলাকার বর্তমান জোনিং, নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা ভূগর্ভস্থ বাড়িকে মাথায় রেখে তৈরি হয়নি। ফলে এ ধরনের নতুন আবাসন অনুমোদন ও নির্মাণে সময় এবং বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   তাঁর মতে, গ্রামীণ বা অনিবন্ধিত কিছু এলাকায় তুলনামূলক নমনীয় নির্মাণবিধির কারণে এ ধরনের বাড়ি আগে দেখা যেতে পারে। তবে এর জনপ্রিয়তা নির্ভর করবে স্থানীয় আবহাওয়া, নির্মাণ ব্যয়, জ্বালানির দাম, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির ওপর।   বিশেষজ্ঞদের সামগ্রিক মূল্যায়ন হলো, মাটির নিচের বাড়ি হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারের মূলধারায় পরিণত হবে না। বরং দাবানল ও অতিরিক্ত গরমপ্রবণ এলাকায় মাটি, ঘাস ও সবুজ ছাদকে বাড়ির নকশায় কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে আংশিক মাটিসুরক্ষিত আবাসন ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ০:৩৯
H-1B ভিসার ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আইনি লড়াই চলছে। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের H-1B ভিসা ফি আবারও আটকে দিল আদালত

দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত জাস্টিন মেরি মে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে খাবার না দিয়ে দুই কন্যাশিশুকে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার মা

চাকরির প্রস্তাব ছাড়াই নির্দিষ্ট শর্তে EB-1A শ্রেণিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা যায়। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের EB-1A ভিসায় গ্রিন কার্ড, যে ৫ ক্ষেত্রে যোগ্যতা থাকলে আবেদন করা যায়

ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ায় কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নিভা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে তিন বছরের কম সময়ে পিএইচডি, বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নিভার সাফল্য

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া থেকে তিন বছরের কম সময়ে পিএইচডি সম্পন্ন করে একাডেমিক সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নিভা। ভিন্ন একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসে নতুন একটি গবেষণাক্ষেত্রে কাজ করে এই অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএএসএ অ্যাট ইউজিএ।   ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার তথ্য অনুযায়ী, নুসরাত ২০২৩ সালে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস বিভাগে পিএইচডি শুরু করেন। পরের বছর ২০২৪ সালে তিনি ক্রপ অ্যান্ড সয়েল সায়েন্সেস বিভাগে গবেষণার ক্ষেত্র পরিবর্তন করেন। তাঁর গবেষণার মূল আগ্রহ ছিল রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করার উপায় খুঁজে বের করা।   বাংলাদেশে নুসরাতের একাডেমিক ভিত্তিও কৃষিবিষয়ক। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তিতে স্নাতক এবং ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২২ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে এসে ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ায় পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত হন।   পিএইচডি গবেষণায় নুসরাত বাণিজ্যিক চিনাবাদাম ক্ষেতে উচ্চ রেজোলিউশনের হাইপারস্পেকট্রাল ও লাইডার ডেটা ব্যবহার করেছেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য ছিল চিনাবাদামে অ্যাফ্লাটক্সিন দূষণের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা। পাশাপাশি রিমোট সেন্সিং, আবহাওয়ার তথ্য ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে চিনাবাদামের বৃদ্ধি ও ফলন নির্ধারণের পদ্ধতিও নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।   ২০২৫ সালে নুসরাতের গবেষণার একটি অংশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক সম্মেলনেও উপস্থাপিত হয়। সেখানে তাঁর গবেষণায় ড্রোনের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে চিনাবাদামের ফলন আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নির্ধারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। গবেষণাটি কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে উৎপাদন পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনাও দেখায়।   নুসরাতের এই একাডেমিক যাত্রায় একটি প্রিয় উদ্ধৃতিও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে বিএএসএ অ্যাট ইউজিএ। হেনরি ডেভিড থোরোর সেই উদ্ধৃতির মূল বক্তব্য হলো, শুধু ব্যস্ত থাকাই যথেষ্ট নয়, মানুষ কী কাজে ব্যস্ত রয়েছে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। নুসরাতের গবেষণা ও একাডেমিক পথচলার সঙ্গে এই ভাবনাটিকেই যুক্ত করেছে সংগঠনটি।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএএসএ অ্যাট ইউজিএ নুসরাত জাহান নিভাকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও একাডেমিক নিষ্ঠার প্রশংসা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর এই পথচলা বিশেষভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ২১:৩০
ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক কর্মকর্তা জন হ্যারল্ড রজার্স। ছবি: সংগৃহীত

ডেটিং সাইটে চীনা গুপ্তচরের ফাঁদে মার্কিন ফেড কর্মকর্তা, গোপন তথ্য শেয়ারে ৩৮ মাসের জেল

ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমার নির্দিষ্ট গ্রাহকদের ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ছবি: সংগৃহীত

ওবামাকেয়ারের প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার ফেরত, কারা পাবেন এই টাকা?

উইসকনসিনের ইসলামিক সোসাইটি অব মিলওয়াকির সভাপতি সালাহ সারসুর। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলায় উইসকনসিনের মসজিদ নেতাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের রায়

সন্তানের ভবিষ্যৎ শিক্ষার খরচের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ৫২৯ প্ল্যানে সঞ্চয় করা যায়। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের কলেজের জন্য টাকা জমিয়ে ট্যাক্স সুবিধা, ৫২৯ প্ল্যান কীভাবে কাজে আসবে?

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের ভবিষ্যৎ কলেজ ও শিক্ষার খরচের জন্য আগেভাগে টাকা জমাতে চান অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবার। তাদের জন্য ৫২৯ প্ল্যান হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ব্যবস্থা। এই প্ল্যানে নিয়মিত টাকা জমিয়ে তা বিনিয়োগ করা যায়। বিনিয়োগ থেকে অর্জিত অর্থ সাধারণত কর ছাড়ের সুবিধায় বাড়তে থাকে এবং লেখাপড়ার খরচ মেটাতে অর্থ তোলা হলে সেই আয়ের ওপর ফেডারেল আয়কর দিতে হয় না।   ৫২৯ প্ল্যান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত একটি শিক্ষাসঞ্চয় ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সন্তানের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষা বা অন্যান্য এলিজিবল উচ্চশিক্ষার খরচের জন্য অর্থ জমা রাখা যায়। বর্তমান নিয়মে নির্দিষ্ট কিছু কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার খরচ, নিবন্ধিত শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং নির্দিষ্ট শিক্ষাঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও ৫২৯-এর অর্থ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।   এই প্ল্যানের অন্যতম বড় সুবিধা হলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ। সন্তান ছোট থাকা অবস্থায় নিয়মিত অল্প অল্প করে টাকা জমালে বিনিয়োগের অর্থ সময়ের সঙ্গে বাড়ার সুযোগ পায়। বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয় আবার বিনিয়োগ হয়ে ভবিষ্যতে আরও আয় তৈরি করতে পারে। তবে ৫২৯ একটি বিনিয়োগভিত্তিক অ্যাকাউন্ট হওয়ায় বাজারের ওঠানামার কারণে এর মূল্য কমতেও পারে।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর অতিরিক্ত কর সুবিধা নির্ভর করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে জর্জিয়ায় পাথটু কলেজ ৫২৯ প্ল্যানে যোগ্যভাবে টাকা জমালে রাজ্যের আয়কর থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। জর্জিয়ার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সুবিধাভোগীর জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ডলার সিঙ্গেল কর জমা দেওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে এবং ৮ হাজার ডলার যৌথভাবে কর জমা দেওয়া দম্পতির ক্ষেত্রে রাজ্যের আয়কর ছাড়ের আওতায় আসতে পারে।   অর্থাৎ জর্জিয়ায় কোনো পরিবার সন্তানের ৫২৯ অ্যাকাউন্টে টাকা জমালে সেই টাকা ফেডারেল করযোগ্য আয় থেকে সরাসরি বাদ যাবে না। তবে সঠিক ভাবে জমা দেওয়া অর্থের ক্ষেত্রে জর্জিয়ার রাজ্য আয়করে ছাড় পাওয়া যেতে পারে। তাই ৫২৯ প্ল্যানকে সরাসরি ফেডারেল কর কমানোর ব্যবস্থা হিসেবে না দেখে সন্তানের শিক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় এবং কর সুবিধার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা বেশি সঠিক।   ৫২৯-এর অর্থ সাধারণত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন, প্রয়োজনীয় ফি, বই, শিক্ষা উপকরণ এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য শিক্ষাগত খরচে ব্যবহার করা যায়। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে শিক্ষার্থীর থাকা ও খাওয়ার খরচেও এই অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে একই শিক্ষাগত খরচের জন্য ৫২৯-এর কর সুবিধা এবং অন্য কোনো শিক্ষা-সংক্রান্ত কর সুবিধা একসঙ্গে নেওয়ার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষদের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।   সন্তান শেষ পর্যন্ত যে কলেজে পড়বে, সেটি নিজের রাজ্যেই হতে হবে এমন নয়। যোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫২৯-এর অর্থ ব্যবহার করা যায়। সন্তান কলেজে না গেলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পরিবারের অন্য সদস্যকে সুবিধাভোগী করা যায়। এছাড়া নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে ৫২৯ অ্যাকাউন্ট থেকে সুবিধাভোগীর রথ আইআরএ অ্যাকাউন্টে সীমিত পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরের সুযোগও রয়েছে।   জর্জিয়ার পাথটু কলেজ ৫২৯ প্ল্যানে মাত্র ২৫ ডলার দিয়েও অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। ফলে সন্তান ছোট থাকতেই অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করে নিয়মিতভাবে সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব। তবে ৫২৯ খোলার আগে পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি, বিনিয়োগের ঝুঁকি, অ্যাকাউন্টের খরচ এবং নিজের রাজ্যের করের নিয়ম ভালোভাবে বোঝা জরুরি।   সন্তানের শিক্ষার জন্য ৫২৯ প্ল্যান তাই শুধু টাকা জমিয়ে রাখার একটি অ্যাকাউন্ট নয়। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত সঞ্চয়, বিনিয়োগ থেকে অর্থ বৃদ্ধির সুযোগ এবং যোগ্য শিক্ষাগত খরচে কর সুবিধা, এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনা করেই এর মূল সুবিধা বোঝা যায়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সন্তানের কলেজের খরচের পরিকল্পনা করতে গিয়ে এই ধরনের শিক্ষাসঞ্চয় ব্যবস্থার নিয়ম ও সুবিধাগুলো আগে থেকে জানা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ২০:৩৬
ওয়াশিংটন ডিসিতে মশা ও টিক নিয়ন্ত্রণে নতুন কর্মসূচির নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

এবার মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ট্রাম্পের, দিলেন কড়া নির্দেশ

তরুণদের স্বপ্ন ও কমিউনিটির ঐক্যে আটলান্টায় ‘বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স’ এর যাত্রা শুরু

তরুণদের স্বপ্ন ও কমিউনিটির ঐক্যে আটলান্টায় ‘বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স’ এর যাত্রা শুরু

নভেম্বর ৩০ থেকেই ভিসার ফিতে বড় পরিবর্তন, দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ছে আবেদন খরচ

নভেম্বর ৩০ থেকেই ভিসার ফিতে বড় পরিবর্তন, দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ছে আবেদন খরচ

0 Comments