বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

ছবি: সংগৃহীত
৪৬ দিনের সন্তান কোলে হাজতখানায় যুব মহিলা লীগ নেত্রী; আদালত প্রাঙ্গণে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য!

রাজধানীর তেজগাঁও থানায় বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় ১ মাস ১৬ দিন বয়সী কন্যাসন্তানসহ কারাগারে পাঠানো হয়েছে যুব মহিলা লীগের নেত্রী শিল্পী বেগমকে (৩৭)। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে কোলের শিশুকে দুধ পান করানোর সময় পুলিশ তাঁকে হাজতখানায় নিতে চাইলে এক আবেগঘন ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।   আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মানবিক দিক বিবেচনা করে জামিনের জোর আবেদন জানালেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি। শিল্পী বেগমের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী জানান, সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া এই শিশুর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন এবং কারাগারে মা ও শিশুর নিরাপত্তা ও মানবাধিকার চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে আইনজীবীরা গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।   মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে শিল্পী বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, তিনি ওই আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলে পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়। রাজনীতির মারপ্যাঁচে নিষ্পাপ শিশুর এই কারাবাস নিয়ে আদালত পাড়ায় চলছে নানা আলোচনা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলার চেষ্টা পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম শুক্রবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের চেষ্টা উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এটি জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত।'   এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম জানান, আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকার জন্য মামলা দায়েরের অপচেষ্টা হয়েছে। তবে আদালত ওই মামলা গ্রহণ করেনি।   তিনি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের চেষ্টা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়; বরং এটি জুলাই বিপ্লবের চেতনা, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং সেই সংগ্রামের তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত আক্রমণ।   নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেশের তরুণ প্রজন্মের সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক। এই আন্দোলনের নেতৃত্বদাতা ছাত্রদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা চেষ্টা প্রমাণ করে যে, ৫ আগস্টের পরাজিত শক্তি এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।   তিনি সতর্ক করে বলেন, মামলা বা ভয়ভীতি দিয়ে এ নেতৃত্বকে দমন করা সম্ভব নয়। অতীতে এ ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে। নাহিদ ইসলাম সরকার ও সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান, এই ধরনের অপচেষ্টা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং পরাজিত অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত মেডিকেল বোর্ডের । ছবি- সংগৃহীত
এভারকেয়ার হাসপাতালে মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার শুরু

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে। বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   এর আগে সকালে মির্জা আব্বাসের সিটিস্ক্যান করা হলে রিপোর্টে শারীরিক অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করা যায়। এর প্রেক্ষিতে দ্রুত একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড বসে প্রখ্যাত নিউরো বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকেও ইতোমধ্যে অস্ত্রোপচারের সম্মতি নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার ও অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকরা এই মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন।   এদিকে, জুম্মার নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তাকে শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত অবহিত করেন। বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা আব্বাসের দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।   উল্লেখ্য, গত বুধবার ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে দ্রুত বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন নাহিদ ইসলাম
গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অপচেষ্টাকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে নাহিদ ইসলাম

ঢাকা: জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মামলার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই ঘটনাকে ‘উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়’ হিসেবে অভিহিত করেন। নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এই ধরনের তৎপরতা জুলাই বিপ্লবের চেতনা এবং তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।   নাহিদ ইসলাম তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকার জন্য যে মামলাটি দায়ের করার চেষ্টা হয়েছিল, আদালত তা গ্রহণ করেনি। তিনি মনে করেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ফ্যাসিবাদের পরাজিত শক্তির একটি গভীর চক্রান্ত। তাঁর মতে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আজ দেশের তরুণ প্রজন্মের ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের লড়াইয়ের প্রতীক, আর সেই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধাদের আইনিভাবে হয়রানি করার মাধ্যমে ৫ আগস্টের পরাজিত শক্তি এখনো মাঠে সক্রিয় থাকার প্রমাণ দিচ্ছে।   বিগত দিনের সংগ্রামের উদাহরণ টেনে নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতীতেও মামলা বা ভয়ভীতি দেখিয়ে ছাত্র নেতৃত্বকে দমন করা সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের অপশক্তি সফল হবে না। এই অপচেষ্টা রুখতে তিনি সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পরাজিত শক্তির যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।   পোস্টের শেষে তিনি জুলাই বিপ্লবের মূল স্পৃহা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে বর্তমান প্রজন্ম এবং আন্দোলনকারীরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই ধরনের হয়রানিমূলক মামলার অপচেষ্টা বন্ধ না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
মাহদী হাসান (ডানে) এবং তার আত্মীয় বলে পরিচয় দেওয়া নারী, দিল্লির মেট্রো রেলে
দিল্লিতে মাহদী হাসানের সঙ্গে কী ঘটেছিল, জানা গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার অন্যতম সমন্বয়ক মাহদী হাসানকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে আলোচনার ঝড়। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তার অবস্থান এবং পরবর্তীতে আকস্মিক দেশে ফেরা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা রহস্য। বিশ্বস্ত সূত্র এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে এই ঘটনার একটি স্বচ্ছ চিত্র পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার সকালে দিল্লির কনট প্লেসে একটি বেসরকারি ভিসা সেন্টারে পর্তুগালের ভিসার আবেদন করতে যান মাহদী হাসান। সেখানে তার সাথে এক নারী আত্মীয়ও ছিলেন। লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার সময় কেউ একজন তাকে চিনে ফেলেন এবং তার একটি ভিডিও রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। মুহূর্তেই বিষয়টি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরে আসে। উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির সামনে দাঁড়িয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে পুড়িয়ে মারার দাম্ভিক স্বীকারোক্তি সংবলিত মাহদী হাসানের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, যা নিয়ে ভারতেও ব্যাপক সমালোচনা হয়। সূত্র জানায়, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মাহদী হাসান অজ্ঞাত নম্বর থেকে একের পর এক ফোন পেতে শুরু করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকার হোটেল ছেড়ে বিমানবন্দরের কাছের একটি হোটেলে আশ্রয় নেন। এদিকে, ভারত-বিরোধী বক্তব্য এবং একজন হিন্দু পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার প্রকাশ্য দাবির প্রেক্ষিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত তার ভিসা বাতিল করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। একটি সূত্র দাবি করেছে, মাহদী হাসানের কাছে প্রায় ৪০ লক্ষাধিক টাকার সমপরিমাণ ক্রিপ্টো-কারেন্সি ছিল। তবে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং মাহদী হাসান নিজে একে 'গুজব' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বুধবার সকালে ইন্ডিগোর ফ্লাইটে ঢাকা ফেরার জন্য দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান মাহদী। নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়ার সময় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা তাকে আলাদা করে নিয়ে যান। প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলা এই জিজ্ঞাসাবাদে তার ভারত-বিদ্বেষী মন্তব্য এবং বাংলাদেশে সহিংসতায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, কোনো শারীরিক নিগ্রহ ছাড়াই তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, ভারত-বিরোধী মনোভাব পোষণকারী কাউকে সেখানে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। বুধবার বিকেলে ঢাকা ফেরার পর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মাহদী হাসান। তিনি অভিযোগ করেন, দিল্লিতে তাকে প্রচণ্ড হয়রানির শিকার হতে হয়েছে এবং তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন। তবে বিস্তারিত তথ্য পরে জানাবেন বলে তিনি দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। বাংলাদেশে নামার পরও তাকে আইনশৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে মাহদী হাসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দিল্লিতে তার এই সফর এবং পরবর্তী নাটকীয়তা ছাত্র আন্দোলনের অভ্যন্তরে ও জনমনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

১৭ কোটি টাকার বৃত্তি নিয়ে হার্ভার্ডে অনন্যা, মিশিগানে বাঙালি কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১১, ২০২৬ 0