অক্সফোর্ড ইউনিয়নের অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের ‘মিডল ফিঙ্গার’ দেখালেন হাসনাত
যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইউনিয়নে একটি আলোচনা সভা শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর মধ্যমা প্রদর্শনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটিতে ‘ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থান এবং বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে অংশ নেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
অনুষ্ঠান শেষে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বাইরে বের হওয়ার সময় আওয়ামী লীগ সমর্থক পরিচয়ে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তির বিক্ষোভ ও স্লোগানের মুখে পড়েন হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় গাড়িতে থাকা অবস্থায় তার মধ্যমা প্রদর্শনের একটি ছবি ধারণ করা হয় বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
ছবিটি প্রকাশের পরপরই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে থাকে। অনেক ব্যবহারকারী এটিকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে অনেকে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনীতিকের কাছ থেকে এমন অঙ্গভঙ্গি প্রত্যাশিত কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত দেখা গেছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও কূটনৈতিক আচরণের প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা করেছেন।
তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভাইরাল হওয়া ছবিটি সম্পর্কে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
স্বাস্থ্য
View moreটেক্সাসে নির্মাণ ও ছাদ তৈরির মতো প্রচণ্ড গরমে করা কাজে যুক্ত তরুণ শ্রমিকদের মধ্যে অজানা কারণে কিডনি বিকলের কিছু ঘটনা চিকিৎসকদের নজরে এসেছে। হিউস্টনের কয়েকটি হাসপাতালে ২০ ও ৩০-এর কোঠার এমন কিছু পুরুষের চিকিৎসা হয়েছে, যাদের কিডনি বিকলের প্রচলিত ঝুঁকি—যেমন ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ—ছিল না। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই রোগকে বলা হয় ক্রনিক কিডনি ডিজিজ অব আননোন ইটিওলজি (CKDu)—অর্থাৎ যে কিডনি রোগের নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিশ্রমিকদের মধ্যে কয়েক দশক ধরে এ ধরনের কিডনি রোগের ঘটনা দেখা গেছে। তবে টেক্সাসের বর্তমান ঘটনাগুলো একই রোগের অংশ কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। হিউস্টনের চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিক, যারা নির্মাণ, ছাদ নির্মাণসহ বাইরে প্রচণ্ড গরমে কাজ করেন। এসব কাজে দীর্ঘ সময় শারীরিক পরিশ্রম, অতিরিক্ত গরম এবং পর্যাপ্ত পানি বা বিশ্রামের অভাব কিডনির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। হারিস কাউন্টির হাসপাতালের তথ্য নিয়ে করা একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিমাবিহীন বা অনিবন্ধিত রোগীদের জরুরি ডায়ালাইসিসের প্রায় ছয়টির মধ্যে একটি ক্ষেত্রে কিডনি বিকলের নির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করা যায়নি। চিকিৎসক গোকুল পাইদি এটিকে CKDu-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এই তথ্য একা টেক্সাসে CKDu-এর উপস্থিতি বা বিস্তারের প্রমাণ নয়। রোগটির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, শুরুতে অনেকেরই তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। পরে ক্লান্তি, দুর্বলতা, বমিভাব, ঘুমের সমস্যা বা রক্তস্বল্পতার কারণে শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তখন অনেক রোগীর কিডনি ইতোমধ্যে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। CKDu-এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে বারবার অতিরিক্ত গরমে কাজ করা ও পানিশূন্যতা অন্যতম প্রধান সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি রাসায়নিকের সংস্পর্শ, দূষিত পানি এবং ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহারসহ বিভিন্ন পরিবেশগত ও কর্মক্ষেত্রের কারণ নিয়েও গবেষণা চলছে। টেক্সাসে কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরমের কারণে কিডনি ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে আগেও গবেষণা হয়েছে। ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে তাপের মধ্যে কাজ করা টেক্সাসের শ্রমিকদের মধ্যে কিডনি ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। গবেষকদের মতে, ছায়া, পর্যাপ্ত পানি এবং নিয়মিত বিশ্রামের সুযোগ ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। CKDu শনাক্ত করার জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষা নেই। চিকিৎসকরা সাধারণত কিডনি রোগের অন্যান্য কারণ বাদ দেওয়ার পাশাপাশি রোগীর কাজের ধরন ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনা করেন। বিশেষজ্ঞরা ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমিকদের নিয়মিত রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে কিডনির ক্ষতি গুরুতর হওয়ার আগেই শনাক্ত করা যায়। সোর্স- ফক্স নিউজ
সাধারণ পেট ফাঁপা ভেবে এড়িয়ে গিয়েছিলেন, সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ল স্টেজ ৪ ক্যানসার
ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি আমেরিকানদের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে! গবেষণায় নতুন তথ্য
নখের ক্ষুদ্র সংক্রমণ দেখে নবজাতকের মস্তিষ্কে ক্যানসার শনাক্ত, বাঁচাতে তিনবার অস্ত্রোপচার
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে জিনগতভাবে পরিবর্তিত (জিন-এডিটেড) শূকরের কিডনি নিয়ে রেকর্ড ২৭১ দিন বেঁচে থাকার নতুন ইতিহাস গড়েছেন টিম অ্যান্ড্রুজ (৬৬) নামের এক ব্যক্তি। চিকিৎসা বিজ্ঞানে অন্য প্রাণীর অঙ্গ মানবদেহে প্রতিস্থাপনের এই প্রক্রিয়াটি ‘জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন’ (Xenotransplantation) নামে পরিচিত। নতুন এক গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অ্যান্ড্রুজের শরীরে এই কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘ প্রায় নয় মাস তাকে কোনো ডায়ালাইসিস নিতে হয়নি। পরবর্তীতে কিডনিটির কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলে গত ২৩ অক্টোবর সেটি অপসারণ করে তাকে পুনরায় ডায়ালাইসিসে নেওয়া হয়। অবশেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি সফলভাবে একজন মানব দাতার কিডনি গ্রহণ করেন। ম্যাস জেনারেল ব্রিগহ্যামের ট্রান্সপ্লান্টেশন সায়েন্সেস সেন্টারের প্রধান ও গবেষণাপত্রের মূল লেখক ড. লিওনার্দো রিয়েলা জানান, টিম অ্যান্ড্রুজের এই ঘটনা কিডনি বিকল হওয়া রোগীদের জন্য একটি অভাবনীয় মাইলফলক। বর্তমানে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ১ লাখেরও বেশি মানুষ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগেরই কিডনি প্রয়োজন। পর্যাপ্ত মানব অঙ্গের অভাবে প্রতি বছর অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। গবেষকদের মতে, মানব কিডনি পাওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ডায়ালাইসিসের কষ্ট থেকে রোগীদের সাময়িকভাবে মুক্তি দিতে জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন একটি যুগান্তকারী সমাধান হতে পারে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করা গেলে এটি হয়তো স্থায়ী চিকিৎসায়ও পরিণত হতে পারে। এর আগে অন্য প্রাণীর অঙ্গ মানবদেহে প্রতিস্থাপনের প্রচেষ্টাগুলো খুব বেশি দিন সফল হয়নি। ২০২৪ সালে ম্যাস জেনারেল হাসপাতালেই শূকরের কিডনি গ্রহণকারী প্রথম রোগী ৫২ দিন বেঁচে থাকার পর মারা যান, তবে তার মৃত্যুর কারণ ট্রান্সপ্লান্ট-সংক্রান্ত ছিল না। এরপর গত বছর আলাবামার এক নারীর শরীরে শূকরের কিডনি ১৩০ দিন টিকে থাকার রেকর্ড গড়েছিল। অ্যান্ড্রুজ এবার সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। চিকিৎসকরা এই অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য অ্যান্ড্রুজসহ গবেষণায় অংশ নেওয়া সাহসী রোগীদের 'প্রকৃত অগ্রদূত' হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
হাঁটবে কিনা ছিল অনিশ্চিত, বিরল রোগের সঙ্গে লড়াই করে পায়ে দাঁড়াল শিশু
গোপন অঙ্গ বড় করার ইনজেকশনে মৃত্যু, বিলাসী ইনফ্লুয়েন্সারের করুণ পরিণতি
১ লাখ ৭১ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ, অটিজম নিয়ে নারীদের ক্ষেত্রে মিলল চমকে দেওয়া তথ্য
দশকের পর দশক ধরে পেটের আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণকেই দায়ী করা হতো। চিকিৎসকদের ধারণা ছিল, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার এবং পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিডের কারণেই আলসার হয়। রোগীদের মূলত অ্যাসিড কমানোর ওষুধ দেওয়া হতো এবং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হতো। কিন্তু এরপরও অনেক রোগীর আলসারের যন্ত্রণাদায়ক উপসর্গগুলো বারবার ফিরে আসত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই প্রতিষ্ঠিত ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার দুজন চিকিৎসক। তাদের যুগান্তকারী এক আবিষ্কার পাল্টে দিয়েছিল পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা। ১৯৭৯ সালের কথা। ডা. রবিন ওয়ারেন নামের এক চিকিৎসক পাকস্থলীতে প্রদাহ হওয়া রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করছিলেন। তখন তিনি একধরনের অদ্ভুত সর্পিলাকার ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। ওই সময়ে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, পাকস্থলীর চরম অ্যাসিডিক পরিবেশে কোনো ব্যাকটেরিয়াই টিকে থাকতে পারে না। কিন্তু ডা. ব্যারি মার্শাল নামের আরেক চিকিৎসক ডা. ওয়ারেনের এই পর্যবেক্ষণের মাঝে বিশেষ কিছু খুঁজে পান। তারা দুজন মিলে প্রশ্ন তোলেন, আলসারের পেছনে আসলেই এই ব্যাকটেরিয়া দায়ী কি না। তবে তাদের এই তত্ত্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রবল সন্দেহের মুখে পড়ে। কেউই মানতে রাজি ছিলেন না যে আলসারের কারণ একটি ব্যাকটেরিয়া। এই পরিস্থিতি ডা. মার্শালকে এমন একটি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে, যা আজকের দিনের মানদণ্ডে নৈতিকভাবে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। তিনি নিজেই সেই ব্যাকটেরিয়া মেশানো একটি তরল পান করে বসেন। পরবর্তীতে এই ব্যাকটেরিয়ার নামকরণ করা হয় হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি। মূলত প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করতে তিনি নিজেকেই একটি পরীক্ষাগারে পরিণত করেছিলেন। ব্যাকটেরিয়া মিশ্রিত তরল পানের কয়েকদিনের মধ্যেই ডা. মার্শাল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার বমি বমি ভাব, বমি হওয়া এবং মুখে দুর্গন্ধের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, তার পাকস্থলীতে মারাত্মক প্রদাহ সৃষ্টি হয়েছে এবং সেখানে ওই ব্যাকটেরিয়ার ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। এরপর তিনি অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেন এবং পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন। যদিও তার এই আত্মঘাতী পরীক্ষাটি একাই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি, তবে এটি এমন একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছিল যা পরবর্তী গবেষণায় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এই যুগান্তকারী আবিষ্কার আলসারের চিকিৎসায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। শুধু পাকস্থলীর অ্যাসিড কমানো এবং উপসর্গ ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকার বদলে চিকিৎসকরা এখন অ্যাসিড কমানোর ওষুধের পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সরাসরি ব্যাকটেরিয়ার চিকিৎসা করতে পারেন। একসময় যে রোগটিকে দীর্ঘস্থায়ী এবং বারবার ফিরে আসা একটি যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা হিসেবে দেখা হতো, তা এখন পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য হয়ে উঠেছে। এই আবিষ্কারের গুরুত্ব কেবল আলসারের চিকিৎসাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পরবর্তী গবেষণায় দেখা গেছে, এই ব্যাকটেরিয়ার দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণ পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। তবে আক্রান্ত অনেক মানুষের শরীরে কখনোই আলসার বা ক্যান্সার দেখা দেয় না। গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি বেশ সাধারণ। একটি বড় পরিসরের পর্যালোচনায় অনুমান করা হয়েছে যে, ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এর উপস্থিতি ছিল ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ, যা ২০১১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে কমে ৪৩ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবুও বিশ্বের প্রতি ১০ জনের মধ্যে অন্তত চারজন এই ব্যাকটেরিয়া বহন করেন। এই যুগান্তকারী আবিষ্কার চিকিৎসা ব্যবসার একটি বড় বাণিজ্যিক গল্পকেও পাল্টে দিয়েছিল। একসময় আলসারের চিকিৎসায় অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণের ওষুধগুলোই ছিল প্রধান ভরসা। কিন্তু নতুন এই প্রমাণের ফলে চিকিৎসার মনোযোগ শুধু উপসর্গ ব্যবস্থাপনার বদলে মূল কারণটি নির্মূলের দিকে সরে যায়। এটি প্রমাণ করে যে, কীভাবে দীর্ঘদিনের বদ্ধমূল ধারণা রোগীদের চিকিৎসাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একইসঙ্গে সতর্ক পর্যবেক্ষণ, অধ্যবসায় এবং প্রমাণের ভিত্তিতে কীভাবে চিকিৎসকরা রোগীদের জন্য তাদের জ্ঞানকে নতুন করে লিখতে পারেন, এটি তার একটি বড় উদাহরণ। এই অসামান্য আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৫ সালে ডা. ব্যারি মার্শাল এবং ডা. রবিন ওয়ারেন চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। সূত্র: নোবেল পুরস্কার কর্তৃপক্ষ ও পিয়ার-রিভিউড চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা।
হেয়ার ক্লিপেই লুকিয়ে বড় বিপদ! দুর্ঘটনায় খুলিতে ঢুকে যেতে পারে ক্লিপের দাঁত, চিকিৎসকদের সতর্কতা
চুম্বনে এইচআইভি ছড়ায় না, প্রমাণ করতে সংবাদমাধ্যমের সামনে আক্রান্ত নারীকে চুমু দেন চিকিৎসক