সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

কোটা আন্দোলন থেকে স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতন: ইতিহাস বদলে দেওয়া জুলাইয়ের সূচনার দিন আজ

Unknown প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৫:৩০
সরকার পতনের পর ছাত্র-জনতার উল্লাস । ছবি: সংগৃহীত
সরকার পতনের পর ছাত্র-জনতার উল্লাস । ছবি: সংগৃহীত

আজ ১ জুলাই- বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনার দিন। ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের এই দিনে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নতুন গতি পায়। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে শুরু হওয়া সেই কর্মসূচি ধীরে ধীরে দেশব্যাপী বিস্তৃত হয়ে পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলন ‘জুলাই বিপ্লব’ নামে পরিচিতি পায়।

 

২০২৪ সালের ১ জুলাই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে নতুন প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ওই ব্যানারেই গণপদযাত্রা, সড়ক অবরোধ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশ, বিক্ষোভ এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

 

কোটা আন্দোলনের লাভ-ক্ষতি

 

যেভাবে শুরু জুলাই আন্দোলন

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই জুলাই আন্দোলনের সূচনা। ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট ২০১৮ সালে জারি করা কোটা বাতিলের সরকারি পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করলে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ মোট ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল হয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা নতুন করে আন্দোলনে নামেন এবং কোটা বাতিলের নির্বাহী আদেশ জারির দাবি জানান।

 

আন্দোলনের শুরুটা ছিল শান্তিপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কর্মসূচি বিস্তৃত হতে থাকে। ১ জুলাই থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান, মিছিল এবং রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ২ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচিও ঘোষণা করেন আন্দোলনের সমন্বয়করা।

 

একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতীকীভাবে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানান।

 

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল আরও আগে। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেয়। তবে ২০২৪ সালের হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে সেই কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

 

৯ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। ওই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে ১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে দেশব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়।

 

সমাবেশে আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা দেন, ৪ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের আবাসনসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।

 

এদিকে আন্দোলন ক্রমেই বিস্তৃত হতে থাকে। এর মধ্যে আপিল বিভাগের শুনানিতে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে। পরে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর নিয়মিত আপিল করার পরামর্শ দেয় আপিল বিভাগ। ৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে আনুষ্ঠানিক নৈতিক সমর্থন জানায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। ৭ জুলাই ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই দিন অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণাও দেন আন্দোলনকারীরা।

 

৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৬৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনকারীরা সরকারি চাকরির সব গ্রেডে ন্যূনতম কোটা রেখে তাদের ভাষায় ‘অযৌক্তিক’ কোটা বাতিলের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। সেদিন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বল এখন সরকারের কোর্টে। এখন আর আদালত দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। সরকারই ঠিক করতে পারে, এই আন্দোলনের গতিপথ কী হবে।’

 

৯ জুলাই আবারও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সময়ে হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনে পক্ষভুক্ত হতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আবেদন করেন।

 

১০ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের ওপর চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা জারি করেন এবং ৭ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে ওই দিনই আন্দোলনকারীরা সড়ক-মহাসড়কের পাশাপাশি রেলপথও অবরোধ করেন। এতে ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

 

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক নুসরাতকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ | The Business  Standard

 

১১ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই: সংঘর্ষ, প্রাণহানি ও আন্দোলনের মোড় ঘোরার দিনগুলো

১১ জুলাই রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ব্যারিকেড ভেঙে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। একই দিনে কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বহু শিক্ষার্থী আহত হন। এদিন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান মন্তব্য করেন, শিক্ষার্থীরা ‘লিমিট ক্রস করে যাচ্ছে’।

 

একই সময়ে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আদালতের রায় রাস্তায় আন্দোলন করে পরিবর্তন করা যায় না। তিনি বলেন, জনগণের চলাচল ও কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব এবং পরিস্থিতি হুমকির মুখে পড়লে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

 

১২ জুলাই পুলিশি হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে ১১ জুলাই শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করে পুলিশ। ১৩ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা চলছে। একই দিন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, কোটা-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান আদালতের মাধ্যমেই হতে হবে।

 

১৪ জুলাই কোটা বহালের পক্ষে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ওই দিন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, "মুক্তিযোদ্ধার সন্তান-নাতি-পুতিরা কেউ মেধাবী না, যত রাজাকারের বাচ্চারা-নাতি-পুতি হলো মেধাবী, তাই না?... মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরাও সরকারি চাকরি পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে?"

 

এই বক্তব্যের পরই কোটা সংস্কার আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামেন। "তুমি কে, আমি কে? রাজাকার, রাজাকার", "কে বলেছে, কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার" এবং "চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার" স্লোগানে ক্যাম্পাসগুলো মুখর হয়ে ওঠে।

 

একই দিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, কোটা আন্দোলনকে সরকারবিরোধী রূপ দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বিএনপি। ১৫ জুলাই আন্দোলন আরও সংঘাতপূর্ণ রূপ নেয়। সকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, "রাজাকার স্লোগানের জবাব দেওয়ার জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট।"

 

এরপর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা রাজাকার স্লোগান দিচ্ছেন, তাদের শেষ দেখিয়ে ছাড়া হবে। ওই দিন দুপুরে বহিরাগতদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশের সহযোগিতায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নির্বিচারে মারধর চালান। এতে ছাত্রীসহ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

 

একই দিন বিকেলে কার্জন হল এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা যায়। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা মাজহারুল কবির শয়ন বলেন, "ছাত্রলীগ চাইলে ওদের ফুঁ দিলে পাঁচ মিনিট টিকবে না। পাঁচটা মিনিট দাঁড়াতে পারবে না।"

 

হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দিনভর সংঘর্ষে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি, আহতদের মধ্যে দুই শতাধিকই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী।

 

রাতে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন দাবি করেন, তাদের শতাধিক নেতাকর্মীও আহত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে শিক্ষকসহ এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হন। ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে ১৬ জুলাই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

 

একই দিন হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল দায়ের করে। অন্যদিকে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকে। ১৬ জুলাই আন্দোলনের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে রংপুরে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ আন্দোলনের সময় বুক পেতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। পরে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। একই দিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে সংঘর্ষে আবু সাঈদসহ মোট ছয়জন নিহত হন।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুরসহ ছয় জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়। সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং এইচএসসি পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি আবাসিক হলের নিয়ন্ত্রণ নেন আন্দোলনকারীরা। বিভিন্ন হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল থেকে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেত্রীকে বের করে দেন বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা। এদিন নিহতদের স্মরণে ১৭ জুলাই সারা দেশে গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

 

কোটা আন্দোলনের রোডম্যাপ জানালেন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম

 

১৭ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট: রক্তঝরা আন্দোলন, দমন-পীড়ন এবং সরকারের পতন

১৭ জুলাই আন্দোলন নতুন মোড় নেয়। আন্দোলনের চাপের মধ্যে সরকার রাজনৈতিক দমন-পীড়ন আরও জোরদার করে। এদিন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, তারা এই আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন, তবে আন্দোলনের প্রতি নৈতিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

 

এদিকে আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করলেও প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। নিহতদের স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কফিন মিছিল পণ্ড করে দেয় পুলিশ। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে আরও কয়েকজন আহত হন।

 

পুলিশি হামলার প্রতিবাদে পরদিন 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষণে তিনি বলেন, "আপনজন হারানোর বেদনা যে কত কষ্টের, তা আমার থেকে আর কেউ বেশি জানে না।" তিনি ১৬ জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের ঘোষণা দেন এবং উচ্চ আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

 

তবে একই দিন রাতেই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টোলপ্লাজায় আগুন দেওয়া হয়। ঢাকাসহ অর্ধশতাধিক জেলায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় বহু মানুষ হতাহত হন। উত্তরায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে পানি বিতরণের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। তার শেষ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

একই দিন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবন, সেতু ভবন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় হেলিকপ্টার থেকে গুলি, কাঁদানে গ্যাস এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের অভিযোগ ওঠে।

 

পরিস্থিতি সামাল দিতে আওয়ামী লীগ সরকার কোটা সংস্কারের মাধ্যমে ২০ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব দেয় এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানায়। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে রাত থেকেই সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে দেশের সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর কোটা আন্দোলন ঘিরে কারফিউ জারি, সেনাবাহিনী মোতায়েন, ইন্টারনেট বন্ধসহ একের পর এক পদক্ষেপ নেয় সরকার। কিন্তু এসব উদ্যোগেও আন্দোলন দমিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি

 

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দমন-পীড়নের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে থাকে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। সরকারবিরোধী কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে।

 

টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন।

 

মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যে পালাতে হয় শেখ হাসিনাকে, নিতে পারেননি বাড়তি কাপড় ও  নিত্যব্যবহারের জিনিস

 

এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে এই গণঅভ্যুত্থান 'জুলাই বিপ্লব' নামে পরিচিতি লাভ করে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করে।

dhakapost

 

প্রতি বছরের ১ জুলাই সেই আন্দোলনের সূচনার দিন হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। আজ সেই ইতিহাস বদলে দেওয়া জুলাই বিপ্লবের সূচনার দিন।
 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি টাকারও বেশি বিল তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট ব্যবহারে, নারীর নামে ৫০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল!

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল তৈরি হয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের এই বিলের ভুল স্বীকার করেছে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিল সংশোধন করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।   বিলটি মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে ইস্যু করা হয়। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। বিলে ৮ আগস্ট মিটারের রিডিং ১৬০ এবং ৮ সেপ্টেম্বর ৩৯৫ দেখানো হয়েছে। সে হিসাবে এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গ্রামের কাগজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিলটিতে শুধু ডিমান্ড চার্জের ঘরেই ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা দেখানো হয়। এর সঙ্গে ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জ যোগ হয়ে মোট অঙ্ক দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি টাকার বেশি। প্রতিবেদনটিতে ২৩৫ ইউনিটের সংশোধিত বিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, মিটার পরিবর্তনের পর সিল নম্বরের অঙ্ক ভুল করে ডিমান্ড চার্জের ঘরে বসায় অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছে। ভুলের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলামও ঘটনাটিকে তথ্য লেখার ভুল বলে জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ বিল সংশোধনের আশ্বাস দিলেও সংশোধিত বিল গ্রাহকের হাতে পৌঁছেছে কি না, তা জানা যায়নি।   সূত্র: ফেইস দ্যা পিপল

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ৯:২০
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাস, ১০ উড়োজাহাজে আকাশপথে বড় বিস্তারের পথে বাংলাদেশ

রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন জটিলতা

রূপপুরের জ্বালানি আনতে গিয়ে পাকিস্তানের আকাশসীমায় বাধাপ্রাপ্ত রুশ বিমান

আব্বাস প্রামানিক—বয়সের ভারেও চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন বলে পরিবারের দাবি

বয়স ১২৩, তবু চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন নাটোরের আব্বাস

বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি, বন্ধ করা হলো দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস
বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি, বন্ধ করা হলো দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই বিক্রিকে কেন্দ্র করে ঢাকার বাংলাবাজারে প্রকাশনা সংস্থা দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বিক্রয়কেন্দ্রে তালা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। বিক্রয়কেন্দ্রের দুই কর্মীকে কিছু সময় আটকে রাখার অভিযোগও উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।   প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দুই যুবক বিক্রয়কেন্দ্রে এসে বইটি কিনতে চান। কর্মীরা বই বের করে দিলে ওই যুবকেরা সেটি বিক্রির বিষয়ে আপত্তি জানান এবং বইটি নিষিদ্ধ বলে দাবি করেন। পরে আরও কয়েকজনকে জড়ো করে বিক্রয়কেন্দ্রের শাটার নামিয়ে তালা দেওয়া হয়।   বিক্রয়কেন্দ্রের কর্মী আমিনুল ইসলাম ও হুমায়ূন কবীরকে আটকে রাখার অভিযোগ সম্পর্কে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের থানায় নেওয়া হয়নি। ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি বলেও জানান তিনি।   ইউপিএল এক বিবৃতিতে বলেছে, বইটি নিষিদ্ধ করার কোনো সরকারি বা আদালতের পদক্ষেপের কথা তাদের জানা নেই। এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।   অন্যদিকে ওসি মতিউর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের পর বইটি আর ছাপানো হয়নি এবং সেটি আর বিক্রি না করার শর্তে দুই কর্মীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বই বিক্রি বন্ধের এই শর্তের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে প্রতিবেদনে পুলিশের কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।   সূত্র: প্রথম আলো  

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২:২১
রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও পাবে ফ্যামিলি কার্ড! চার বছরের মধ্যে সবার কাছেই পৌঁছাবে

রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও পাবে ফ্যামিলি কার্ড! চার বছরের মধ্যে সবার কাছেই পৌঁছাবে: প্রতিমন্ত্রী

সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব কালবেলা সম্পাদক সন্তোষ শর্মার

সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব কালবেলা সম্পাদক সন্তোষ শর্মার

অনিক তার মেয়ে

খুঁটিতে বাঁধা বাবাকে চা-রুটি খাওয়ানো তুবার পাশে প্রশাসন, পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও

হ্যাকএমআইটি ২০২৬-এ অংশ নেওয়া দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও তাঁদের প্রকল্পের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
এমআইটির হ্যাকাথনে স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জ জিতলেন দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) আয়োজিত হ্যাকএমআইটি ২০২৬ হ্যাকাথনের স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জে সাফল্য পেয়েছেন ট্রুম্যান স্টেট ইউনিভার্সিটির দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম ও মো. তানভীর ইবনে আলম। তাঁদের তৈরি মহাকাশ নিরাপত্তাবিষয়ক প্রকল্প ‘স্কুটারিস’ স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জের পুরস্কারজয়ী প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।   হ্যাকএমআইটির প্রকাশ্য প্রকল্প গ্যালারি অনুযায়ী, এবারের আয়োজনে ৩০১টি প্রকল্প জমা পড়ে এবং ৯১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৮৩ জন হ্যাকার এতে অংশ নেন। স্পেসএক্সএআইয়ের ‘মেক ইট লেজেন্ডারি’ চ্যালেঞ্জে ৫০টি প্রকল্প অংশ নেয়। প্রকাশ্য বিজয়ী তালিকায় ‘স্কুটারিস’-এর নামও রয়েছে।   আশরাফুল ও তানভীরের প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ ও মহাকাশের আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রিসের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঝুঁকি শনাক্ত করা। প্রকল্পটির মাধ্যমে মহাকাশে সক্রিয় স্যাটেলাইট পরিচালনাকারীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি বুঝতে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।   আশরাফুল ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী, ‘স্কুটারিস’ একটি এআইচালিত কক্ষপথ নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম। এতে সেলেসট্র্যাক থেকে সংগৃহীত ৯ হাজারের বেশি বাস্তব কক্ষপথের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যবহারকারী সাধারণ ভাষায় কোনো প্রশ্ন করলে ইলাস্টিকসার্চ সেই তথ্যভান্ডার থেকে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির তথ্য খুঁজে বের করে। এরপর এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে ঝুঁকিটি কয়েকটি ধাপে বিশ্লেষণ করা হয় এবং সম্ভাব্য করণীয় তুলে ধরা হয়।   প্রকল্পটিতে তথ্যকে শুধু লিখিত আকারে উপস্থাপন না করে দৃশ্যমান করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ত্রিমাত্রিক পৃথিবীর মডেলে বিভিন্ন স্যাটেলাইটের অবস্থান, তাদের কক্ষপথ, সম্ভাব্য সংঘর্ষের দূরত্ব এবং ঝুঁকির মাত্রা দেখানো যায়। ফলে মহাকাশের জটিল কক্ষপথ-সংক্রান্ত তথ্য তুলনামূলক সহজভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়।   তানভীর ইবনে আলম জানান, হ্যাকএমআইটির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ও তথ্য ব্যবহার করে প্রকল্প তৈরি করতে হয়। পরে বিচারকেরা প্রকল্পের সরাসরি প্রদর্শন বা ডেমো মূল্যায়ন করেন। তাঁদের দল স্পেসএক্সএআইয়ের চ্যালেঞ্জটি বেছে নেয় এবং বাস্তব মহাকাশ-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে একটি কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরির দিকে মনোযোগ দেয়।   হ্যাকএমআইটির এবারের আয়োজনে স্পেসএক্সএআই ছাড়াও ওপেনএআই, মেটা, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, গুগলসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের চ্যালেঞ্জ ছিল। আয়োজকদের প্রকাশ্য পরিসংখ্যানে দেখা যায়, স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়া প্রকল্পের সংখ্যা ছিল ৫০।   আশরাফুল ইসলাম ট্রুম্যান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স ও ডেটা সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তাঁর নিজস্ব পোর্টফোলিওতে তাঁকে এআই গবেষক ও সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। সেখানে কম খরচের মাইক্রোস্কোপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণ নিয়ে তাঁর গবেষণার তথ্যও রয়েছে।   অন্যদিকে তানভীর ইবনে আলম ডেটা সায়েন্স ও জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নাসার কেপলার ও টিইএসএস মিশন থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে গ্রহণকারী যুগল নক্ষত্র বা ইক্লিপসিং বাইনারি স্টার নিয়ে গবেষণা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি দুজনই বিভিন্ন গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রকল্পে সক্রিয়।   আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই সাফল্যকে নিজেদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন দুই শিক্ষার্থী। আশরাফুল বলেন, বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে স্বীকৃতি পাওয়া তাঁদের জন্য আনন্দের। বাস্তব মহাকাশের তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসঙ্গে ব্যবহার করে স্যাটেলাইট সংঘর্ষের ঝুঁকি শনাক্ত ও বিশ্লেষণের একটি ব্যবহারিক উদাহরণ দেখানোই ছিল তাঁদের প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।   হ্যাকএমআইটির প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, ‘স্কুটারিস’ পুরস্কারজয়ী প্রকল্পগুলোর তালিকায় রয়েছে। তবে প্রকাশ্য পরিসংখ্যান পাতায় প্রকল্পটির নির্দিষ্ট পুরস্কারের ধরন বা পুরস্কারের বিস্তারিত তথ্য আলাদাভাবে দেখা যাচ্ছে না।   সূত্র: প্রথম আলো, হ্যাকএমআইটি ২০২৬-এর প্রকাশ্য প্রকল্প গ্যালারি

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৮:৫৬
বোরকা ও মাস্ক পরে উত্তরখান ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। ছবি: সংগৃহীত

বোরকা পরে ভূমি অফিসে ঢাকার ডিসি ফরিদা, চাইলেন সেবা

অনলাইন লেনদেন ও বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতীকী।

অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা

শাশুড়ির সামনের চড় মারায় বাবাকে হত্যা

শাশুড়ির সামনের চড় মারায় বাবাকে হত্যা, দুই দিন পর ছেলের আত্মসমর্পণ

0 Comments