মানবিক সংকট

ছবি: সংগৃহীত
প্রেমের টানে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আটক ৮৬ বছরের নারী

প্রেমের টানে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে শেষ পর্যন্ত অভিবাসন জটিলতায় আটক হয়েছেন ৮৬ বছর বয়সী এক নারী। বর্তমানে তিনি দেশটির লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে রয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।   ফ্রান্সের নান্তেস শহরের বাসিন্দা মারি-তেরেসের প্রেমের শুরু ষাটের দশকে। সে সময় ন্যাটোর একটি ঘাঁটিতে কর্মরত মার্কিন সেনা বিলির সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৬৬ সালে বিলি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলে তাঁদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে দুজনেই নিজ নিজ জীবনে সংসার শুরু করেন।   দীর্ঘ বিরতির পর ২০১০ সালে আবার তাঁদের যোগাযোগ হয়। ২০২২ সালে উভয়ের জীবনসঙ্গীর মৃত্যু হলে পুরোনো সম্পর্ক নতুন করে জেগে ওঠে। পরে তাঁরা বিয়ে করে একসঙ্গে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। গত বছর মারি-তেরেস যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যে গিয়ে স্বামীর সঙ্গে বসবাস শুরু করেন এবং স্থায়ী বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন।   তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিলির আকস্মিক মৃত্যু মারি-তেরেসের জীবনে নতুন সংকট তৈরি করে। গ্রিন কার্ড পাওয়ার আগেই স্বামীর মৃত্যু হওয়ায় তাঁর আইনি অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে স্বামীর পরিবারের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের অভিযোগও ওঠে।   গত এপ্রিলের শুরুতে আলাবামার অ্যানিস্টন এলাকা থেকে অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাঁকে লুইজিয়ানার একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা না করেই তাঁকে আটক করা হয়েছে।   মারি-তেরেসের ছেলে জানিয়েছেন, তাঁর মায়ের পিঠ ও হৃদরোগজনিত সমস্যা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। এদিকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেছে এবং কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কঠোর প্রয়োগের ফলে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই পারিবারিক বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে আবেদনকারীরা জটিলতায় পড়ছেন।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘এ যুদ্ধ আমরা চাইনি, অথচ আমাদেরই সব হারাতে হচ্ছে’

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইরান-এর রাজধানী তেহরান এখন ভয়, অনিশ্চয়তা ও ধ্বংসস্তূপের এক বাস্তবতার মুখোমুখি। সামরিক সাফল্যের দাবির বিপরীতে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বিমান হামলায় বেসামরিক এলাকাগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যদিও হামলাকারী পক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।   তেহরানের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আহমদ রেজা জানান, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা তার চশমার দোকান এক হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তার ভাষায়, “বছরের পর বছর ধরে যা গড়ে তুলেছিলাম, সবকিছু এক মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে।” তিনি বলেন, দোকানে থাকা আমদানিকৃত পণ্য সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং এখন তিনি দেনার চাপে দিশেহারা। তার দাবি, দোকানের আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না, তবুও কেন এটি লক্ষ্যবস্তু হলো—সে প্রশ্নের উত্তর তার কাছে নেই।   অন্যদিকে, তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে একটি বিউটি পারলারে কর্মরত মিনা জানান, বিমান হামলার আগের রাত থেকেই আতঙ্কে কাটিয়েছেন তারা। পরদিন কর্মস্থলে গিয়ে দেখেন পুরো ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। “সব আয়না ভেঙে গেছে, যন্ত্রপাতি ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন আমরা কেউই কাজ করার মতো অবস্থায় নেই,” বলেন তিনি।   যুদ্ধের কারণে শুধু ব্যবসা নয়, ভেঙে পড়ছে তরুণ উদ্যোক্তাদের স্বপ্নও। ২৯ বছর বয়সী নাগমেহ ও তার সহকর্মীরা মিলে একটি পোশাকের ব্র্যান্ড শুরু করেছিলেন। কিন্তু একটি বিস্ফোরণের আগুনে তাদের স্টুডিও ও পণ্য সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। নাগমেহ বলেন, “আমরা নিজেদের জন্য নতুন কিছু গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন সবকিছুই শেষ।”   একইভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন উত্তর তেহরানের এক রেস্তোরাঁ মালিকও। তার পারিবারিক ব্যবসা, যা কয়েক দশক ধরে চালু ছিল, এক হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয়দের মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বেসামরিক এলাকায় হামলার মাত্রা বাড়ছে। এতে মানুষের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ।   অনেকেই বলছেন, এই সংঘাত এখন আর কৌশল বা রাজনীতির বিষয় নয়; বরং এটি তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। তেহরানের বাসিন্দাদের কণ্ঠে এখন একটাই আকুতি—এই যুদ্ধের দ্রুত অবসান। তাদের ভাষায়, “আমরা এই যুদ্ধ চাইনি, কিন্তু তবুও আমাদের এর মধ্যেই বেঁচে থাকতে হচ্ছে।”

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন পোপ চতুর্দশ লিও। অ্যাঞ্জেলাস প্রার্থনার সময় ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স চত্বরের দিকে মুখ করে অ্যাপোস্টলিক প্রাসাদের জানালা থেকে, ২২ মার্চ ২০২৬। ছবি: এএফপি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ‘মানবতার কলঙ্ক’: অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান পোপ লিও’র

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে ‘সমগ্র মানব পরিবারের জন্য কলঙ্ক’ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন পোপ চতুর্দশ লিও। রোববার ভ্যাটিকান সিটি-র সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে সাপ্তাহিক অ্যাঞ্জেলাস প্রার্থনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।   পোপ বলেন, চলমান যুদ্ধে নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু ও দুর্ভোগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। “এত মানুষের কষ্ট এবং এই সংঘাতের শিকার নিরপরাধদের দুর্দশার মুখে আমরা নীরব থাকতে পারি না। তাদের যন্ত্রণা পুরো মানবজাতিরই যন্ত্রণা,”—যোগ করেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই ধর্মীয় নেতা জানান, মধ্যপ্রাচ্যসহ সহিংসতায় বিপর্যস্ত অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতি তিনি গভীর হতাশার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি আরও বলেন, আমি আবারও জোর দিয়ে আহ্বান জানাচ্ছি—আমরা যেন প্রার্থনায় অবিচল থাকি, যাতে শত্রুতা বন্ধ হয় এবং শান্তির পথ উন্মুক্ত হয়।   পোপ লিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সংঘাত নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান, যাতে দ্রুত সহিংসতা বন্ধ হয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0