- প্রচ্ছদ
- Topic
ম্যানহাটন
নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনে সাবওয়ে ট্র্যাকে বসে থাকা ২৪ বছর বয়সী এক তরুণ ও এক তরুণী ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে স্প্রিং স্ট্রিট স্টেশনের কাছে দক্ষিণমুখী ৪ নম্বর ট্রেন তাদের আঘাত করে। ঘটনাটির আগে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দুজনকে রেললাইনের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, কেন তারা ট্র্যাকে ছিলেন তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে রোববার ভোর ৩টা ১৫ মিনিটের কিছু আগে। নিহত তরুণের বাড়ি নিউ জার্সির সেরভিলে এবং তরুণীর বাড়ি নিউইয়র্কের ডেটনে বলে জানা গেছে। তবে পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। ট্রেনটি তাদের আঘাত করার পর দুজনকেই ঘটনাস্থলে মৃত ঘোষণা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুজনকে সাবওয়ে ট্র্যাকের ওপর পাশাপাশি বসে থাকতে দেখা যায়। সামনে দিয়ে ট্রেন এগিয়ে আসার সময়ও তারা রেললাইনের ওপর অবস্থান করছিলেন বলে ভিডিওতে দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যে তাদের কেউ ধাক্কা দিয়ে ট্র্যাকে ফেলে দিয়েছিল বা তারা দুর্ঘটনাবশত সেখানে পড়ে গিয়েছিলেন। তবে ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্তকারীরা দুজনের ট্র্যাকে যাওয়ার পেছনে কী কারণ ছিল, সেটি খতিয়ে দেখছেন। তারা ঘটনার আগে দুজন অ্যালকোহল পান করেছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক কারণ ঘোষণা করা হয়নি। ফলে তাদের উদ্দেশ্য বা মানসিক অবস্থা নিয়ে কোনো অনুমান করা হচ্ছে না। ঘটনার পর স্প্রিং স্ট্রিট স্টেশন এলাকায় পুলিশ ও তদন্তকারীরা কাজ করেন। দুর্ঘটনার কারণে ওই এলাকায় সাবওয়ে চলাচলেও প্রভাব পড়ে। নিউইয়র্কের সাবওয়ে ব্যবস্থায় ট্র্যাক এলাকায় প্রবেশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সামান্য সময়ের মধ্যেই চলন্ত ট্রেনের সামনে থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ নাও থাকতে পারে। চলতি মাসের শুরুতেও ১৬১ স্ট্রিট-ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম স্টেশনের কাছে কাজ করার সময় এমটিএর এক কর্মী ডি ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হন। ম্যানহাটনে সাবওয়ে ট্র্যাকে মানুষের পড়ে যাওয়া বা ঠেলে ফেলার ঘটনাও অতীতে গুরুতর পরিণতি ডেকে এনেছে। জুলাইয়ে ওয়েস্ট ফোর্থ স্ট্রিট-ওয়াশিংটন স্কয়ার স্টেশনে এক যাত্রীকে ট্র্যাকে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি পরে কারাদণ্ড পান। এসব ঘটনা সাবওয়ে ব্যবস্থায় ট্র্যাক এলাকার ঝুঁকি এবং নিরাপত্তার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। তবে বর্তমান ঘটনায় কোনো অপরাধের অভিযোগ বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতার তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। দুই তরুণ-তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তাদের ট্র্যাকে যাওয়ার কারণ, ঘটনার আগে কী ঘটেছিল এবং ভিডিওতে ধারণ করা পরিস্থিতির সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনার সম্পর্ক কী, সেসব বিষয় তদন্ত শেষে আরও পরিষ্কার হতে পারে। পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার পর নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে আড়াই লাখ ডলার মূল্যের একটি বিলাসবহুল মার্সিডিজ গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এক হোমলেস নারী। ওয়েস্ট ৪৫ স্ট্রিটের 'বেন্টলি মিকার লাইটিং অ্যান্ড স্টেজিং' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সামনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানের মালিক বেন্টলি মিকার জানান, গত বৃহস্পতিবার এক নারী তার আড়াই লাখ ডলারের মার্সিডিজ-বেঞ্জ জি৬৩ গাড়ির আয়নায় একটি টি-শার্ট পেঁচিয়ে লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা দ্রুত বিষয়টি টের পেয়ে তা প্রতিহত করতে সক্ষম হন, যার ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে। ম্যানহাটনের ওয়েস্ট সাইডে হোমলেসদের অবৈধ ক্যাম্প বা তাঁবু বসানোর প্রবণতা পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বেন্টলি মিকার জানান, গত জুলাই থেকে তাদের অফিসের বাইরে হোমলেসদের আনাগোনা শুরু হলেও চলতি মাসে পরিস্থিতি বেশ ভয়ংকর ও আগ্রাসী রূপ নিয়েছে। গাড়ি পোড়ানোর চেষ্টার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীকে লোহার রড নিয়ে ধাওয়া করার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া, কোম্পানির একটি ট্রাকের নিচে আরেক হোমলেস ত্রিপল টাঙিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন; চালক গাড়ি ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে তা টের পাওয়ায় অল্পের জন্য ওই ব্যক্তি চাকায় পিষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পান। গাড়ি পোড়ানোর ঘটনার পরপরই নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) এবং স্যানিটেশন বিভাগ দ্রুত ওই এলাকার অবৈধ ক্যাম্পগুলো উচ্ছেদ করে। তবে শুক্রবারই সেখান থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে আবারও নতুন করে তাঁবু খাটাতে দেখা যায় তাদের। নিউইয়র্ক সিটি হলের নিয়ম অনুযায়ী, উচ্ছেদের আগে হোমলেসদের টানা সাত দিন আশ্রয় ও অন্যান্য সেবার প্রস্তাব দিতে হয়, যা প্রশাসন ও স্থানীয়দের জন্য এক অন্তহীন ইঁদুর-বিড়াল খেলায় পরিণত হয়েছে। বেন্টলি মিকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে শতাধিক কর্মী কাজ করেন। কর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব হলেও, শহরের রাস্তাগুলোকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। হোমলেস সমস্যার এমন আগ্রাসী রূপে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন।
নিউইয়র্ক শহরে একটি মানানসই অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে পাওয়া এখন রীতিমতো যুদ্ধের সমতুল্য। এমনিতেই আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়, তার ওপর হু হু করে বাড়ছে বাড়িভাড়া। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র ম্যানহাটনে একটি সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ৫ হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। একইসঙ্গে বাজারে ভাড়ার জন্য খালি বাড়ির সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। আবাসন বিষয়ক সংবাদমাধ্যম 'দ্য রিয়েল ডিল' এবং মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান 'স্যামুয়েল মিলার'-এর গত ১৩ আগস্ট প্রকাশিত এক যৌথ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে ম্যানহাটনে অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ছিল ৫ হাজার ডলার, যা জুনের তুলনায় ৩ শতাংশ এবং গত বছরের (২০২৫) জুলাইয়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। ভাড়ার এই রেকর্ড ঊর্ধ্বমুখিতার পাশাপাশি ভাড়ার জন্য উন্মুক্ত অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যাও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। গত এক বছরে এই এলাকায় প্রায় ৪ হাজার বা ৩৯ শতাংশ অ্যাপার্টমেন্ট বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। আগে যেখানে একটি বাড়ি ভাড়া হতে গড়ে ৪৮ দিন সময় লাগত, এই গ্রীষ্মে তা মাত্র ৩৬ দিনেই ভাড়া হয়ে যাচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি বাড়ি দ্রুত ভাড়া হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ চরমভাবে অপ্রতুল। ফলে ভাড়াটেরা এখন দরকষাকষির বা ছাড় পাওয়ার তেমন কোনো সুযোগই পাচ্ছেন না। নিউইয়র্কে বাসস্থানের এই সংকট অবশ্য দীর্ঘদিনের। খরচ বাঁচাতে অনেক একাকী মা (সিঙ্গেল মাদার) একসঙ্গে বাসা ভাড়া করে থাকছেন। অনেকেই মূল পেশার পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ করেও মাসের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমনকি শহরের প্রবীণ নাগরিকরাও অবসর জীবনে টিকে থাকার খরচ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি বাড়িভাড়ায় ব্যয় হলে তা মানুষের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করে। অথচ নিউইয়র্কের সিংহভাগ বাসিন্দা বাড়িভাড়ার পেছনে আয়ের বিশাল একটি অংশ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি কেবল নিউইয়র্কেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা গোটা যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতেরই একটি প্রতিচ্ছবি। হার্ভার্ড জয়েন্ট সেন্টার অন হাউজিং স্টাডিজ-এর ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ির তীব্র সংকট রয়েছে এবং সর্বত্রই ভাড়া বাড়ছে। অনেকেই খরচ সামলাতে না পেরে বাসা বদলানোর চিন্তাও বাদ দিয়েছেন। নিউইয়র্কের বাজারেও এর প্রভাব স্পষ্ট, কারণ নতুন চুক্তির হার এক ধাক্কায় ১৯ শতাংশ কমে গেছে। ম্যানহাটনে বিশেষ করে দুই বা ততোধিক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে। বিলাসবহুল বা শীর্ষ ১০ শতাংশ অ্যাপার্টমেন্টগুলোর গড় ভাড়া গত বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেড়ে মাসে ১৩ হাজার ৭৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এলাকার ভিত্তিতে ডাউনটাউনে বাড়িভাড়া সবচেয়ে বেশি, এরপর রয়েছে ওয়েস্ট সাইড, ইস্ট সাইড এবং নর্দার্ন ম্যানহাটন। তবে সব এলাকাতেই গত এক বছরে ভাড়ার জন্য উপলব্ধ বাড়ির সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। সাধারণ মানুষের এই নাভিশ্বাস অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে উদ্যোগী হয়েছেন বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি 'ব্লক বাই ব্লক' নামে একটি মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, যার আওতায় তাঁর মেয়াদে ২ লাখ সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক হোটেল, পুরোনো লাইব্রেরি, অব্যবহৃত অফিস ভবন এবং শহরের নিজস্ব সম্পত্তিগুলোকে আবাসনে রূপান্তরের কাজ চলছে। আবাসন সরবরাহ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া কমে আসবে বলে আশা করছে নগর প্রশাসন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে শহর ও রাজ্য সরকার কোটি কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি অলাভজনক সংস্থা, আবাসন নির্মাতা ও বড় ব্যাংকগুলোর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তবে 'দ্য রিয়েল ডিল'-এর এই প্রতিবেদনটি মূলত সাধারণ বাজারদরের বাড়ির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ম্যানহাটনের মোট আবাসনের ৪৪ শতাংশই হলো 'রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড' বা ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট। মেয়র মামদানির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, চলতি শরতেই এসব নিয়ন্ত্রিত বাড়ির ভাড়ার ওপর 'রেন্ট ফ্রিজ' বা ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিতের নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। এটি এক ও দুই বছরের চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সাময়িকভাবে এটি বাসিন্দাদের স্বস্তি দিলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এর ফলে সাধারণ বাজারদরের অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। উল্লেখ্য, সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর আমলেও বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার কারণে এই 'রেন্ট ফ্রিজ' নীতিটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয়েছিল।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নতুন রেকর্ড গড়েছে। জুলাইয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৫৫ ডলারে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মিডিয়ান রেন্টও বেড়ে ৫ হাজার ২৯৫ ডলারে পৌঁছেছে। বুধবার প্রকাশিত রিয়েল এস্টেট মার্কেটের নতুন তথ্যের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ম্যানহাটনে প্রায় সব ধরনের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াই বেড়েছে। বিশেষ করে দুই ও তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে বছরওয়ারি বৃদ্ধির হার দুই অঙ্কে পৌঁছেছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, ম্যানহাটনে একটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া এখন ৪ হাজার ৮৮ ডলার। এক বেডরুমের গড় ভাড়া ৫ হাজার ৪৮৬ ডলার, দুই বেডরুমের ৮ হাজার ৫৪ ডলার এবং তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ১২ হাজার ২২৮ ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় স্টুডিওর ভাড়া ৮ শতাংশ এবং এক বেডরুমের ভাড়া ৭ শতাংশ বেড়েছে। দুই বেডরুমের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ১৩ শতাংশ এবং তিন বেডরুমে ১২ শতাংশ। স্টুডিও, এক বেডরুম ও দুই বেডরুমের গড় ভাড়াও সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে গড় ভাড়ার পাশাপাশি মিডিয়ান রেন্টের হিসাবটি ম্যানহাটনের সাধারণ ভাড়াটিয়াদের জন্য বাজারের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। জুলাইয়ে মিডিয়ান রেন্ট ছিল ৫ হাজার ২৯৫ ডলার, যা গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত ভাড়ার অর্ধেক এর চেয়ে বেশি এবং অর্ধেক কম। ম্যানহাটনের ভাড়া বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় চাপগুলোর একটি আবাসনের সীমিত সরবরাহ। নিউইয়র্ক সিটিতে ভ্যাকেন্সি রেট মাত্র ১ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ১৯৬৮ সালের পর সর্বনিম্ন। সাধারণভাবে ৫ শতাংশের নিচে ভ্যাকেন্সি রেটকে বাড়িওয়ালাদের অনুকূলে থাকা বাজার হিসেবে দেখা হয়। একদিকে ভাড়া দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে নিউইয়র্কে হাজার হাজার রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্ট খালি পড়ে থাকার তথ্যও সামনে এসেছে। বাড়িওয়ালাদের দেওয়া স্টেট রেজিস্ট্রেশন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরজুড়ে প্রায় ৫৭ হাজার রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ইউনিট খালি ছিল। এটি নিয়ন্ত্রিত ভাড়ার মোট অ্যাপার্টমেন্টের প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। কেন এত ইউনিট খালি রয়েছে, তা নিয়ে বাড়িওয়ালা ও টেন্যান্ট অ্যাডভোকেটদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কিছু বাড়িওয়ালা নিয়ন্ত্রিত ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট বাজারে না ছেড়ে খালি রাখছেন। অন্যদিকে বাড়িওয়ালাদের দাবি, ২০১৯ সালের রেন্ট আইন সংস্কারের পর পুরোনো অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করে নির্ধারিত ভাড়ায় আবার বাজারে দেওয়া অনেক ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে লাভজনক নয়। এদিকে মেয়র জোহরান মামদানির রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া স্থগিত রাখার পরিকল্পনা ঘিরেও রিয়েল এস্টেট খাতে বিতর্ক চলছে। রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের আশঙ্কা, রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ইউনিটের ভাড়া স্থির থাকলে বাড়িওয়ালাদের বাড়তি পরিচালন ব্যয়ের চাপ মার্কেট রেট অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াটিয়াদের ওপর পড়তে পারে। তবে এই বক্তব্য মূলত রিয়েল এস্টেট শিল্পসংশ্লিষ্টদের মূল্যায়ন। ভাড়া স্থগিত রাখার নীতিই ম্যানহাটনের বর্তমান রেকর্ড ভাড়ার কারণ, এমন সরাসরি প্রমাণ প্রকাশিত তথ্য থেকে পাওয়া যায় না। আবাসনের ঘাটতি, কম ভ্যাকেন্সি রেট, উচ্চ মর্টগেজ রেট এবং দীর্ঘদিন ধরে নতুন আবাসনের চাহিদার তুলনায় সীমিত সরবরাহসহ একাধিক বিষয় নিউইয়র্কের রেন্টাল মার্কেটে চাপ তৈরি করছে। নিউইয়র্ক পোস্টকে দ্য করকোরান গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার গ্যারি ম্যালিন বলেন, শহর ও স্টেটের সাম্প্রতিক কয়েকটি হাউজিং নীতি রেন্টাল হাউজিংয়ের সরবরাহ সীমিত করেছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, সরবরাহ কমে যাওয়ার বিপরীতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। মামদানি প্রশাসনের পিয়েদ-আ-তের কর পরিকল্পনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও রিয়েল এস্টেট খাতে আলোচনা চলছে। শহরে মূল বাসস্থানের বাইরে দ্বিতীয় বা অতিরিক্ত বাড়ির মালিকদের ওপর বাড়তি কর আরোপের এই উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত কর এড়াতে কিছু সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়ার দিকে ঝুঁকলে উচ্চমূল্যের রেন্টাল মার্কেটে চাহিদা আরও বাড়তে পারে। উচ্চ মর্টগেজ রেটও পরিস্থিতিকে জটিল করছে। যারা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বাড়ি বা কনডো কিনতেন, তাদের একটি অংশ উচ্চ ঋণ ব্যয়ের কারণে কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়ে রেন্টাল মার্কেটেই থেকে যাচ্ছেন। এতে সীমিত সংখ্যক অ্যাপার্টমেন্টের জন্য প্রতিযোগিতা আরও বাড়ছে। সব মিলিয়ে ম্যানহাটনে বাসা ভাড়া নেওয়া এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ব্যয়বহুল। গড় মাসিক ভাড়া ৬ হাজার ৬৫৫ ডলার এবং মিডিয়ান রেন্ট ৫ হাজার ২৯৫ ডলারে পৌঁছানো নিউইয়র্কের আবাসন সংকটের চাপ আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ডোমিনিকান ডে প্যারেডে চরম বিশৃঙ্খলা ও হামলার ঘটনার পর মাঝপথেই অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। রবিবার আয়োজিত এই আনন্দমিছিলে হঠাৎ করেই ভিড় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ মারাত্মকভাবে জখম হলে কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে প্যারেডটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখ্য, ৪২ বছর ধরে আয়োজিত এই জমকালো উৎসবে এবারও প্রায় ৫ লাখ দর্শক এবং ১১৩টি বিভিন্ন সংগঠনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সিক্সথ অ্যাভিনিউ ধরে সেন্ট্রাল পার্কের প্রবেশদ্বার ওয়েস্ট ৫৯ নম্বর সড়ক পর্যন্ত এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা চলার কথা ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রমতে, র্যাপারদের বহনকারী কয়েকটি ফ্লোট বা সুসজ্জিত যান যখন এগিয়ে আসছিল, তখন দর্শনার্থীরা হঠাৎ করে অতি-উৎসাহী ও উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠে। ৪৬ নম্বর সড়কের কাছে অনেকেই ব্যারিকেড টপকে মূল রাস্তায় ঢুকে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে (এনওয়াইপিডি) রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। পুলিশ যখন ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছিল, তখন বিকেল পৌনে চারটার দিকে ৪৫ নম্বর সড়কের কাছে এক বিবাদের জেরে ওই ১৯ বছর বয়সী তরুণ ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের মুখ ও হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করে। আহত বৃদ্ধকে স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর পুলিশ বাধ্য হয়ে সিক্সথ অ্যাভিনিউ থেকে প্যারেডটিকে ৫২ নম্বর সড়কের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে নিউইয়র্ক পুলিশের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তারা প্যারেডটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে প্রশাসনের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে হতাশ হয়েছেন উৎসবে আসা অনেক সাধারণ দর্শনার্থী। ছোটবেলা থেকে প্রতি বছর এই প্যারেডে অংশ নেওয়া ১৭ বছর বয়সী সিনথিয়া লোপেজ নামের এক কিশোরী আক্ষেপ করে বলেন, তারা সবাই মিলে কেবল আনন্দ করছিলেন এবং সেখানে তারা কোনো ধরনের মারামারির ঘটনা দেখেননি। হঠাৎ করেই কেন এমন আনন্দঘন একটি আয়োজন মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হলো, তা তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।
রোববার ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কের ডমিনিকান ডে প্যারেডে মেয়র জোহরান মামদানি এবং ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান আদ্রিয়ানো এসপাইলটের মধ্যকার শীতল রাজনৈতিক সম্পর্ক যেন আরও একবার প্রকাশ্যে এসেছে। উৎসবমুখর এই আয়োজনে উভয়েই অংশগ্রহণ করলেও, পুরো সময়জুড়ে একে অপরের থেকে বেশ দূরত্ব বজায় রেখে চলেন এই দুই শীর্ষ নেতা। এমনকি প্যারেডের নিরাপত্তা নিয়ে গত শুক্রবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও মুখ খুলতে অস্বীকৃতি জানান মেয়র মামদানি। ম্যানহাটনে প্যারেড চলাকালীন নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রশ্নের জবাবে মামদানি এড়িয়ে গিয়ে কেবল বলেন, "আমরা সবাই এখন প্যারেড নিয়েই মনোযোগ দিচ্ছি।" রোববারের এই উৎসবে মঞ্চে এসপাইলটকে দেখেছেন কি না—এমন নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবেও মেয়র বেশ কৌশলী উত্তর দেন। তিনি বলেন, "মঞ্চে এবং এখানে উপস্থিত সবাইকে দেখতে পাওয়াটা সত্যিই খুব আনন্দের।" অন্যদিকে, প্যারেডে মেয়রের সাথে পুনরায় দেখা হওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে কংগ্রেসম্যান এসপাইলট কোনো মন্তব্য না করে কেবল মাথা নেড়ে নিজের বিরক্তি প্রকাশ করেন। প্যারেড চলাকালে এসপাইলটকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের সাথে বেশ হাস্যোজ্জ্বল ও অন্তরঙ্গ অবস্থায় হাঁটতে দেখা যায়। অন্যদিকে, মেয়র মামদানি তার নিজস্ব কর্মী ও অনুসারীদের নিয়ে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে প্যারেডে অংশ নেন। মূলত, নিউইয়র্ক-১৩ (NY-13) আসনের প্রাইমারি নির্বাচনে এসপাইলটের বিরুদ্ধে কট্টর বামপন্থী প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ারকে মেয়র মামদানি প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার পর থেকেই এই দুই নেতার মধ্যে তিক্ত সম্পর্কের সূত্রপাত হয়। উল্লেখ্য, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনী এলাকার মধ্যে হার্লেম, ওয়াশিংটন হাইটস এবং ব্রঙ্কসের বেশ কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে একটি সম্ভাব্য ‘আফটার-আওয়ার্স ক্লাব’ বা ইভেন্ট স্পেসে গোলাগুলির ঘটনায় এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পেন স্টেশনের কাছে ২৪৭ ওয়েস্ট ৩০ নম্বর স্ট্রিটের একটি বহুতল ভবনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী ওই যুবকের পেট ও হাতে গুলি লেগেছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থাতেই তিনি কোনোক্রমে ভবনের বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং রাস্তায় থাকা পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাহায্য চান। তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি চিকিৎসা সেবা (ইএমএস) কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানে তার অস্ত্রোপচার চলছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ঘটনার তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা ওই ভবনের দোতলা থেকে বন্দুকের একটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছেন। পুলিশের এক সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থলটি সম্ভবত কোনো ‘আফটার-আওয়ার্স ক্লাব’ বা গোপন ইভেন্ট স্পেস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আইকনিক এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে সেভেন্থ ও এইটথ অ্যাভিনিউয়ের মাঝামাঝি অবস্থিত ওই ভবনের সামনের ফুটপাতে ঘটনার পর রক্তের ছোপ ছোপ দাগ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে ঠিক কী কারণে এই গোলাগুলি এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটন করতে পুলিশের জোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে, যেখানে একটি অ্যাপার্টমেন্টের গড় দাম ১০ লাখ ডলারেরও বেশি, সেখানে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার ডলারে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ মিলছে। তবে এই কম দামের পেছনে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও সীমাবদ্ধতা। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারে থাকা সবচেয়ে কম দামের অ্যাপার্টমেন্টগুলোর মধ্যে একটি ইস্ট হারলেমে অবস্থিত ৩৬৪ বর্গফুটের স্টুডিও ইউনিট, যার মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। একইভাবে হারলেমে ২৫০ বর্গফুটের আরেকটি স্টুডিওর দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ডলার। এছাড়া নোম্যাড এলাকায় ২৫৪ বর্গফুটের একটি ছোট স্টুডিও বিক্রি হচ্ছে ৩ লাখ ২০ হাজার ডলারে। তবে কম দামের এই অ্যাপার্টমেন্টগুলোর বেশিরভাগই এইচডিএফসি কো-অপের আওতাভুক্ত। অর্থাৎ, এগুলো কিনতে হলে নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকতে হবে, অ্যাপার্টমেন্টটিকে নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে বিক্রির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলতে হবে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিউইয়র্কে আবাসন সাশ্রয়ী রাখা। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এত ছোট জায়গায় আরামদায়কভাবে বসবাস করতে হলে বহুমুখী আসবাব, দেয়ালে লাগানো স্টোরেজ, আয়নার ব্যবহার এবং পরিকল্পিত ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ওপর গুরুত্ব দিতে হয়। এতে সীমিত জায়গাকেও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ম্যানহাটনের মতো ব্যয়বহুল এলাকায় তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ থাকলেও, আয়ের সীমা, বসবাসের বাধ্যবাধকতা এবং কো-অপের নিয়ম সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে এক সহকর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ম্যানহাটনের প্রভাবশালী আইন প্রতিষ্ঠান ওয়াচটেল, লিপটন, রোজেন অ্যান্ড ক্যাটজ-এর অংশীদার ন্যাথানিয়েল ডি. কালারটনকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৫ বছর বয়সী কালারটন ওই প্রতিষ্ঠানের একজন অংশীদার। ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কালারটন চলতি সপ্তাহে আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান গিবসন ডান-এ যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর সেই পরিকল্পনা স্থগিত হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওতে কালারটনকে তার ২৯ বছর বয়সী সহকর্মী কেলসি বোরেনজওয়াইগের সঙ্গে সেন্ট্রাল পার্কের একটি বেঞ্চে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি টিকটকে প্রকাশের পর কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় ৪০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। ভিডিও ধারণকারী টিকটক নির্মাতা তাদের উদ্দেশে বলেন, "একটি ব্যক্তিগত জায়গায় যান, এখানে শিশুরা রয়েছে।" এ সময় দুই আইনজীবী ক্যামেরা দেখতে পেয়ে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। ভিডিওতে দেখা যায়, কালারটন ক্যামেরাধারীকে সরে যেতে বলার চেষ্টা করেন, আর বোরেনজওয়াইগ শান্তভাবে তাকে মোবাইল ফোন নামিয়ে রাখতে অনুরোধ করেন। তবে বোরেনজওয়াইগের বিরুদ্ধেও কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা তিনি তদন্তের আওতায় আছেন কি না এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। মঙ্গলবার পর্যন্ত দুজনেরই প্রোফাইল সংশ্লিষ্ট আইন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে সক্রিয় ছিল। চলতি বছর ওপেনএআই ও এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের পক্ষে ইলন মাস্কের করা বহুল আলোচিত মামলায় কাজ করা আইনি দলের সদস্য ছিলেন কালারটন ও বোরেনজওয়াইগ। ফলে ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি আইন অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কালারটন ২০১৬ সাল থেকে আরেকটি বড় আইন প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ময়রা পেনজার সঙ্গে বিবাহিত। অন্যদিকে, একটি সূত্রের বরাত দিয়ে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোরেনজওয়াইগ সম্প্রতি একজন সহকর্মী আইনজীবীর সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টেনেছেন। এদিকে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ওয়াচটেল, লিপটন, রোজেন অ্যান্ড ক্যাটজ, গিবসন ডান এবং ন্যাথানিয়েল কালারটনের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলমান থাকায় আইন প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করেনি।
ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাসিমুখে হাজির নিকোলাস মাদুরো, বিচারকের সামনে নিজেকে নির্দোষ দাবি; বিচারপ্রক্রিয়া ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির হওয়ার সময় ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে হাসিমুখে ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। আদালতকক্ষে প্রবেশের সময় তিনি নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ছিলেন এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে শুভেচ্ছাও জানান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আদালতে আনার আগে মাদুরোকে নিউইয়র্কের একটি আটককেন্দ্র থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে নেওয়া হয়। আদালতে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন, “আমি এখনো আমার দেশের প্রেসিডেন্ট” ও “আমি একজন যুদ্ধবন্দি বলে মনে করি।” আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ও আদালতের নথির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরো আদালতে নিজেকে নির্দোষ (Not Guilty) দাবি করেন। বিচারক মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন এবং তাকে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। গণমাধ্যমের বর্ণনা অনুযায়ী, আদালতকক্ষে প্রবেশের সময় মাদুরো শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন এবং বিচারকের প্রশ্নের জবাব দেন। আদালতের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সংবাদকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। দ্য গার্ডিয়ান আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের জরুরি বৈঠক ডাকা হয় এবং লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের কয়েকটি দেশ ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। অন্য দিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, মাদক-সন্ত্রাসবাদ এবং অস্ত্র-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তিনি ও তার আইনজীবীরা এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের একটি ফেডারেল সরকারি ভবনের সামনে আগুন জ্বালানো একটি ডিভাইস ব্যবহারের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ টাস্কফোর্স। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে লোয়ার ম্যানহাটনের ২৬ ফেডারেল প্লাজার সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই ব্যক্তি ভবনের বাইরে একটি আগুন সৃষ্টিকারী ডিভাইস ব্যবহার করেন। একই সময় তিনি আতশবাজি জ্বালান এবং হাতে থাকা এয়ারসফট রাইফেল দেখিয়ে আশপাশের মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ফেডারেল পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলেই আটক করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব নেয় এফবিআইয়ের নিউইয়র্ক জয়েন্ট টেররিজম টাস্কফোর্স। এফবিআই জানিয়েছে, ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাস-সম্পর্কিত ঘটনা হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ওই ব্যক্তির সঙ্গে একটি কার্ট ছিল। এতে আরও আতশবাজি, দুটি লম্বা অস্ত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী পাওয়া গেছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য বা কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সময় একজন ব্যক্তি সামান্য আহত হন এবং তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ভবন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ২৬ ফেডারেল প্লাজা নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, যেখানে বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ঘটনার পর ভবনের আশপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের পশ্চিম পাশে প্রায় ১২ ব্লকজুড়ে গড়ে ওঠা গৃহহীন মানুষের অস্থায়ী শিবির নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, কর্মজীবী ও পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। ইন্ট্রেপিড মিউজিয়াম, জাভিটস সেন্টার ও হাডসন ইয়ার্ডসের কাছাকাছি ব্যস্ত এলাকায় সারি সারি তাঁবু, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও আবর্জনা পড়ে থাকায় মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিবিরটি ১১তম অ্যাভিনিউ ধরে ৩৪তম স্ট্রিট থেকে ৪৬তম স্ট্রিট পর্যন্ত বিস্তৃত। ফুটপাতের বড় অংশ তাঁবু ও মালামালে দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। কয়েকজন বাসিন্দা ও পর্যটক জানিয়েছেন, এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি চলাচলে অসুবিধা তৈরি করছে এবং নিউইয়র্কের পর্যটন ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক গ্রহণ, যৌনকর্ম এবং সন্দেহজনক মালামাল থাকার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি শিবিরের একাংশে সড়কের বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে গিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের একজন মুখপাত্র ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, শিবিরটি সরিয়ে দেওয়ার অনুমতি এখনো পুলিশকে দেওয়া হয়নি। তবে অনুমতি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। মেয়র মামদানির প্রশাসনের নতুন নীতিতে গৃহহীনদের শিবির সরানোর দায়িত্ব পুলিশের পরিবর্তে শহরের ডিপার্টমেন্ট অব হোমলেস সার্ভিসেসকে দেওয়া হয়েছে। কোনো শিবির সরানোর নোটিশ দেওয়ার পর সাত দিন ধরে প্রতিদিন সেখানে থাকা মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সমাজসেবা কর্মীরা। এ সময় তাঁদের আশ্রয়কেন্দ্র, চিকিৎসা ও স্থায়ী আবাসন সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। সপ্তম দিনের পর শিবির সরিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে। মেয়র মামদানি বলেছেন, তাঁর প্রশাসনের লক্ষ্য শুধু গৃহহীন মানুষদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে দেওয়া নয়। তাঁদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া এবং স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করাই মূল উদ্দেশ্য। পশ্চিম পাশের ওই শিবিরের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পরে শিবিরটি সরিয়ে দেওয়া হবে জানালেও নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি। শহরের সমাজসেবা কর্মীরা ইতিমধ্যে ওই এলাকায় গিয়ে আবর্জনা পরিষ্কার এবং গৃহহীন মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনেক তাঁবু ও ব্যক্তিগত মালামাল তখনো সেখানে রয়ে গেছে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার পরিস্থিতি নিয়ে মেয়র প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা মানুষদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্বকাপ ফাইনালসহ বড় আয়োজনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতির সময় শিবিরটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এলাকাটির কাছেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র ও অনুষ্ঠানস্থল থাকায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের অনেকে।
নিউইয়র্ক সিটির ব্যয়বহুল আবাসন বাজারে স্বল্প ভাড়ায় ম্যানহাটনে বসবাসের সুযোগ খুবই বিরল। তবে এবার হেলস কিচেন এলাকায় নির্মিত নতুন আবাসিক ভবন ‘রিয়াল্টো ওয়েস্ট’ এর হাউজিং লটারির মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য সেই সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে। মাসিক ভাড়া শুরু হচ্ছে মাত্র ১,০৩১ ডলার থেকে, আর আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ আগামী ২০ জুলাই ২০২৬। ম্যানহাটনের ৫০৯ ওয়েস্ট ৪৮তম স্ট্রিটে অবস্থিত নতুন এই আবাসিক ভবনে বিভিন্ন আয়ের মানুষের জন্য একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং কানেক্ট কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এই লটারিতে নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে শুরু করে বার্ষিক সর্বোচ্চ ২ লাখ ৯৪ হাজার ৫৬০ ডলার আয়কারী পরিবারও নির্ধারিত যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করতে পারবেন। হাউজিং লটারিতে স্টুডিও, এক শয়নকক্ষ, দুই শয়নকক্ষ ও তিন শয়নকক্ষের বিভিন্ন ইউনিট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের ভাড়া আবেদনকারীর আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং নির্ধারিত ‘এরিয়া মিডিয়ান ইনকাম’ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। ফলে একই ভবনে বিভিন্ন আয়ের মানুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভাড়ার ইউনিট বরাদ্দ রয়েছে। হেলস কিচেন ম্যানহাটনের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন আবাসিক এলাকা। টাইমস স্কয়ার, ব্রডওয়ে থিয়েটার জেলা, হাডসন রিভার পার্ক এবং অসংখ্য কর্মস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় এ এলাকায় সাধারণ বাজারদরে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। তাই বাজারমূল্যের চেয়ে কম ভাড়ায় নতুন ভবনে বসবাসের সুযোগ অনেক আবেদনকারীর কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটি সরকার দীর্ঘদিন ধরে সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট মোকাবিলায় হাউজিং লটারির মাধ্যমে নতুন আবাসিক ভবনের একটি অংশ স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য সংরক্ষিত রাখছে। এসব ইউনিটে আবেদনকারীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয় এবং নির্বাচিতদের আয়, পরিবারের আকার ও অন্যান্য নথি যাচাই শেষে চূড়ান্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই লটারিতে অংশ নিতে আগ্রহীদের ২০ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য সময়মতো আবেদন করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
নিউইয়র্কের হাডসন ইয়ার্ডসের কাছাকাছি এলাকায় সাশ্রয়ী ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্টের জন্য নতুন করে হাউজিং লটারি চালু হয়েছে। ম্যানহাটনের ৫০০ ওয়েস্ট ৩০তম স্ট্রিটে অবস্থিত অ্যাবিংটন হাউস ভবনের স্টুডিও ও এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের অপেক্ষমাণ তালিকার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে আবেদনকারীরা মাসে ১ হাজার ৩৮ ডলার থেকে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়ার সুযোগ পাবেন। নিউইয়র্ক স্টেট হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়ালের তালিকা অনুযায়ী, এই লটারিতে মোট ২৬টি স্টুডিও এবং ৩৩টি এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। ভবনটিতে বাসিন্দাদের জন্য ফিটনেস সেন্টার, বাস্কেটবল কোর্ট, ছাদে লাউঞ্জ, ইন ইউনিট লন্ড্রি এবং অন্যান্য আধুনিক সুবিধা থাকবে। ভাড়ার মধ্যে গ্যাস, গরম পানি ও হিটিংয়ের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আবেদন বা ব্রোকার ফি দিতে হবে না। স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৮ ডলার। একক আবেদনকারীর বার্ষিক আয় ৩৮ হাজার ৮৮০ থেকে ৪৫ হাজার ৩৬০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয়ের সীমা ৩৬ হাজার ৭৭৮ থেকে ৫২ হাজার ৮৪০ ডলার। এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ১০৬ ডলার। পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী আয়ের যোগ্যতার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একক আবেদনকারীর বার্ষিক আয় ৩৯ হাজার ৪০৫ থেকে ৪৫ হাজার ৩৬০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আয় ৫১ হাজার ৮৪০ ডলার এবং তিন সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫৮ হাজার ৩২০ ডলার পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ২ ফেব্রুয়ারি। আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া ইমেইল বা ফোনের মাধ্যমে আবেদনপত্র সংগ্রহের সুযোগও রাখা হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে তুলনামূলক কম দামে নিজের অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ এনে দিয়েছে নতুন একটি হাউজিং লটারি। আপার ম্যানহাটনের ইনউড গার্ডেনস (Inwood Gardens) নামে ২৩ তলা মিচেল-লামা (Mitchell-Lama) সমবায় আবাসন প্রকল্পে নির্দিষ্ট আয়ের যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য লটারির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম PIX11 জানিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় এক, দুই ও তিন শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ থাকছে। এক শয়নকক্ষের ইউনিটের ক্রয়মূল্য শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৮২০ ডলার থেকে। তবে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার পাশাপাশি প্রতি মাসে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেন্যান্স) খরচও পরিশোধ করতে হবে। প্রকল্পটির অনেক অ্যাপার্টমেন্টে বড় ব্যক্তিগত টেরেস রয়েছে। এছাড়া ভবনে ইনডোর ও আউটডোর পার্কিং, স্থায়ী ব্যবস্থাপনা অফিস, কমিউনিটি রুম এবং লন্ড্রি সুবিধাও রয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ১ হাজার ৮২০ থেকে ২ হাজার ৪৬০ ডলার। মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৭১৭ দশমিক ১৫ থেকে ৯৩৯ দশমিক ৭১ ডলার। এই ইউনিটের জন্য পরিবারের সদস্যসংখ্যা হতে হবে ১ থেকে ২ জন এবং বার্ষিক পারিবারিক আয় হতে হবে ২৮ হাজার ৬৮৬ থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ ডলারের মধ্যে। দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ২ হাজার ৩৮০ থেকে ২ হাজার ৯১০ ডলার। মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৯২২ দশমিক ০৪ থেকে ১ হাজার ১২৪ দশমিক ৫২ ডলার। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যসংখ্যা ২ থেকে ৪ জন এবং বার্ষিক আয় ৩৬ হাজার ৮৮১ দশমিক ৬০ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার ডলার হতে হবে। তিন শয়নকক্ষের ইউনিটের মূল্য ৩ হাজার ৩৮০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ ডলার। মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ১ হাজার ১৯২ দশমিক ৫৭ থেকে ১ হাজার ৪৩৫ দশমিক ২৩ ডলার। এসব ইউনিটের জন্য পরিবারের সদস্যসংখ্যা ৪ থেকে ৬ জন এবং বার্ষিক আয় ৪৭ হাজার ৭০২ দশমিক ৮০ থেকে ১ লাখ ৮৮ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। যারা কাগজের আবেদনপত্র চান, তারা নির্ধারিত ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্ক সিটির মতো উচ্চমূল্যের আবাসন বাজারে Mitchell-Lama কর্মসূচি মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসনের সুযোগ তৈরি করে আসছে। তবে আবেদনকারীদের নির্ধারিত আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার পরও চূড়ান্ত যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে আবেদন অনুমোদন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে একটি ৩৭ তলা বাণিজ্যিক ভবন আবাসিক ভবনে রূপান্তরের কাজ চলার সময় এর ২১ তলায় হঠাৎ লোহার বিম বা খুঁটিগুলো বেঁকে যেতে শুরু করে। এতে ভবনটির ২১ থেকে ২৬ তলা পর্যন্ত অংশ ধসে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে মঙ্গলবার সকালে ম্যানহাটনের মিডটাউনের বেশ কয়েকটি রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং আশেপাশের ৪টি ব্লকের সমস্ত ভবন ও ৪শ শিক্ষার্থীর একটি স্কুল তড়িঘড়ি করে খালি করার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। নিউ ইয়র্ক সিটির ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও ভবন নির্মাণ বিভাগ (ডিওবি) জানিয়েছে, জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে মাত্র এক ব্লক দূরে অবস্থিত ‘২৩৫ ইস্ট ৪২ নম্বর স্ট্রিট’-এর এই বহুতল ভবনটিতে সকাল ৮টার দিকে কর্মরত শ্রমিকেরা হঠাৎ দেয়াল ফেটে যাওয়া এবং ভেতরের প্রধান সাপোর্ট বিমগুলো বেঁকে যেতে দেখেন। তীব্র চাপের কারণে ভবনটির বেশ কয়েকটি তলা দেবে যেতে শুরু করলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ৩৭ তলার এই বিশাল বাণিজ্যিক ভবনটিকে ভেঙে ফ্ল্যাট বা আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে রূপান্তর করা হচ্ছিল। নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় ‘অফিস-টু-অ্যাপার্টমেন্ট’ রূপান্তর প্রকল্প। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং ভবনে থাকা সমস্ত নির্মাণ শ্রমিককে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনের পাশাপাশি আশেপাশের অন্যান্য ভবন, যার মধ্যে একটি নামী হোটেল (হ্যাম্পটন ইন) এবং একটি স্কুলও রয়েছে, সেখান থেকে সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, "আমাদের এই মুহূর্তের প্রধান অগ্রাধিকার হলো এই এলাকায় বসবাসকারী ও কর্মরত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ভবন নির্মাণ বিভাগের পরিদর্শক এবং প্রকৌশলীরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পুরো এলাকাটি সুরক্ষিত করার কাজ করছেন।" অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশ ওই এলাকার বেশ কয়েকটি প্রধান সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও বিশেষজ্ঞরা পুরো ভবনটির স্থায়িত্ব পরীক্ষা করে দেখছেন।
নিউ ইয়র্ক সিটির একটি ঐতিহাসিক বহুতল ভবনের ছাদ, যা দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল, অবশেষে তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আর সবচেয়ে বড় খবর হলো, এই ছাদ থেকে পুরো নিউ ইয়র্ক শহরের চোখজুড়ানো ‘৩৬০ ডিগ্রি’ দৃশ্য দেখার জন্য দর্শকদের কোনো টাকা বা ফি দিতে হবে না। চলতি সপ্তাহের ১১ই জুন (বৃহস্পতিবার) থেকে লোয়ার ম্যানহাটনে অবস্থিত বিখ্যাত ‘ডেভিড এন ডিনকিন্স ম্যানহাটন মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং’-এর চূড়া বা ছাদটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। ‘সেন্টার ৩৬০’ (Centre 360) নামের এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা প্রায় ৫৮০ ফুট উঁচুতে উঠে পুরো শহরের চমৎকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। এতদিন পর্যন্ত এই ছাদে যাওয়ার অনুমতি ছিল কেবল শহরের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের। নিউ ইয়র্ক সিটির অন্যান্য আধুনিক ওয়াচ টাওয়ার বা ভিউয়িং ডেকে ঢোকার জন্য যেখানে ৪০ ডলারেরও বেশি খরচ করতে হয়, সেখানে এই ঐতিহাসিক স্থানটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। প্রায় ৬ মিলিয়ন (৬০ লাখ) ডলার ব্যয়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই ছাদটি সংস্কার করার পর এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। ১৯১৪ সালে নির্মিত এই রাজকীয় ভবনের ৩৬তম তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং ব্রুকলিন ব্রিজের মতো বিখ্যাত ১০টি দর্শনীয় স্থান দেখতে পাবেন। এছাড়াও দর্শকদের জন্য একটি ডিজিটাল গেমের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা ছাদ থেকে এই দর্শনীয় স্থানগুলো খুঁজে বের করার প্রতিযোগিতা করতে পারবেন। ঐতিহাসিক এই ভবনটি নিউ ইয়র্কের অন্যতম বড় সরকারি কার্যালয় এবং এটিই শহরের প্রথম ভবন যার নিচে সাবওয়ে স্টেশন যুক্ত করা হয়েছিল। ভবনটির একদম চূড়ায় রয়েছে ২৫ ফুটের একটি বিখ্যাত সোনালী মূর্তি, যার ঠিক নিচেই এই উন্মুক্ত বারান্দাটি অবস্থিত। ২০১৫ সালে নিউ ইয়র্কের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র ডেভিড এন ডিনকিন্সের সম্মানে ভবনটির নামকরণ করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এই ফ্রি ট্যুরটি অত্যন্ত সীমিত পরিসরে পরিচালনা করা হবে। প্রতিবারে সর্বোচ্চ ৫ জনের একটি ছোট দলকে গাইডসহ উপরে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রতিদিন এমন ৮টি সেশন অনুষ্ঠিত হবে এবং পুরো ট্যুরটি সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় ১ ঘণ্টা। তবে এই সুযোগ পেতে হলে দর্শকদের আগে থেকেই অনলাইনের মাধ্যমে বুকিং বা রিজার্ভেশন করতে হবে এবং সাথে একটি বৈধ পরিচয়পত্র (আইডি) থাকতে হবে। প্রতি মাসের প্রথম দিন এই ফ্রি ট্যুরের বুকিং পোর্টাল খুলে দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে ১০ লাখের বেশি একক ডোজের প্রাণঘাতী ডেট রেপ ড্রাগ বা নিষিদ্ধ মাদক আমদানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ম্যানহাটনের দুই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মার্কিন প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ওই দুই ব্যক্তি প্রায় সাত টন ওজনের অত্যন্ত বিপজ্জনক নিষিদ্ধ কেমিক্যাল গামা-বিউটিরোল্যাক্টোন বা জিবিএল নিউইয়র্কের পাঁচটি বড় বড় প্রশাসনিক অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি সুপরিকল্পিত গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। মার্কিন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই ভয়ংকর তরল মাদককে মানবদেহের জন্য সরাসরি একটি মারাত্মক এবং অত্যন্ত কার্যকর 'তরল বিষ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার দায়ের করা আনুষ্ঠানিক নথি অনুযায়ী অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির নাম মার্ক ডিগডন এবং রদ্রিগো কাস্ত্রো। এদের মধ্যে মার্ক ডিগডনের বর্তমান বয়স ৪৮ বছর এবং তার সহযোগী রদ্রিগো কাস্ত্রোর বয়স ৩৪ বছর বলে মার্কিন আদালতের নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যানহাটনের ইউএস অ্যাটর্নি অফিস গত ১৭ জুন আদালতে তাদের বিরুদ্ধে একটি নিয়ন্ত্রিত নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য বা নিষিদ্ধ কেমিক্যাল বিতরণের অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জশিট গঠন করেছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, এই মাদক পাচারের গুরুতর অপরাধে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের উভয়েরই সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত মেয়াদে কারাদণ্ড হতে পারে। আদালতের তথ্য বিবরণী থেকে জানা যায় যে, অভিযুক্ত এই দুই ব্যক্তি ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে শুরু করে চলতি ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত অত্যন্ত সুকৌশলে এই বিশাল পরিমাণ মাদক যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে নিয়ে আসেন। কালোবাজারে এই নিষিদ্ধ মাদকটি মূলত বিভিন্ন ধরনের ছদ্মনামে বিক্রি করা হতো যার মধ্যে অন্যতম হলো ব্লু নাইট্রো এবং রিভাইভারেন্ট। এই মাদকটি সেবনের পর মানুষের শরীরে তীব্র এবং কৃত্রিম এক ধরনের উত্তেজনা বা বিশেষ অনুভূতির সৃষ্টি হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে সেবনকারী সম্পূর্ণ অচেতন বা অবশ হয়ে পড়েন। মাদকটির এই বিশেষ অবশ করার ক্ষমতার কারণেই অপরাধীরা এটিকে ডেট রেপ ড্রাগ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। ম্যানহাটনের প্রধান মার্কিন অ্যাটর্নি জয় ক্লেটন এই ভয়ংকর মাদকের মারাত্মক ক্ষতিকর দিকগুলো উল্লেখ করে গণমাধ্যমকে জানান, এই তরল কেমিক্যালের মাত্র একটি একক ডোজের ব্যবহারও যেকোনো সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত তরল সামগ্রী যেন কোনোভাবেই শহরের সাধারণ নাগরিকদের নাগালের মধ্যে পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য মার্কিন গোয়েন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে এদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিলেন। অবশেষে এই দুই মাদক কারবারিকে বিপুল পরিমাণ মালামালসহ হাতেনাতে ধরে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। এদিকে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত রদ্রিগো কাস্ত্রোর প্রধান আইনজীবী ড্যানিয়েল ম্যাকগুইনেস দ্য নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন যে, তার মক্কেল আদালতে প্রথম শুনানিতে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং অপরাধের সাথে কোনোভাবেই জড়িত নন বলে দাবি করেছেন। আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন যে, পুরো আইনি প্রক্রিয়াটি এখন অত্যন্ত প্রাথমিক এবং শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। কাস্ত্রো আদালতের প্রকাশ্য শুনানির মাধ্যমে নিজের নাম এই কলঙ্কজনক ঘটনা থেকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করতে এবং নিজের সত্যতা ও নিরপরাধ ভাবমূর্তি প্রমাণ করতে মানসিকভাবে অত্যন্ত আগ্রহী ও সচেতন রয়েছেন। তবে মার্কিন প্রসিকিউশন বা সরকারের বিশেষ তদন্তকারী দল আদালতের সামনে স্পষ্টভাবে দাবি করেছে যে, তাদের কাছে রদ্রিগো কাস্ত্রোর এই অপরাধের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকার বিষয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যবসায়িক নথি, লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড এবং নির্ভরযোগ্য গোপন সূত্রের সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। কাস্ত্রোর আইনজীবী অবশ্য জানিয়েছেন যে, সরকারের সেই নথিপত্র এবং তথ্যগুলো তারা নিজেরা খতিয়ে দেখতে চান যে ঠিক কোথায় ভুল বোঝাবুঝি বা গড়মিল হয়েছে, যার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার মক্কেলকে এই ভয়ংকর আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের সাথে জড়িত বলে মনে করছে।
নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ২৪ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত (রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড) অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের জন্য ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত বা ‘রেন্ট ফ্রিজ’ করার দাবিতে মঙ্গলবার ম্যানহাটনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট টেন্যান্ট ব্লক, CAAAV এবং ম্যানহাটনের বিভিন্ন ভাড়াটিয়া সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন। সমাবেশের আগে জোয়ান অব আর্ক পার্কে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ড্রামলাইন ও নৃত্যের আয়োজন করা হয়। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা সিম্ফনি স্পেসে পৌঁছে সমাবেশ করেন। বক্তারা বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ভাড়া না বাড়ানোই সবচেয়ে যৌক্তিক পদক্ষেপ। আয়োজকদের দাবি, গত মাসে নিউইয়র্ক সিটির রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের প্রাথমিক ভোটে এক ও দুই বছরের নবায়নযোগ্য লিজের ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির বিকল্প বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সংগঠনগুলোর মতে, দুই বছরের লিজেও প্রথমবারের মতো ভাড়া না বাড়ানোর প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে। নিউইয়র্ক স্টেট টেন্যান্ট ব্লকের নির্বাহী পরিচালক সুমাথি কুমার বলেন, ভাড়াটিয়ারা বর্তমানে মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল সামাজিক সুবিধা কমে যাওয়া এবং অভিবাসন অভিযানের মতো নানা চাপে রয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক বাড়িওয়ালার পরিচালন মুনাফা বেড়েছে। এ কারণে এক ও দুই বছরের লিজে ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আয়োজক সংগঠনগুলোর ভাষ্য, ম্যানহাটনের মতো ব্যয়বহুল এলাকায় ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত বাসস্থান নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য উচ্ছেদ এবং অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভাড়া স্থগিত রাখলে অধিকাংশ বাড়িওয়ালার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। পাশাপাশি ভবন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাড়িওয়ালাদের সহায়তায় বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিও বিদ্যমান রয়েছে। সমাবেশে বক্তব্য দেন চায়নাটাউনের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা এবং CAAAV-এর ভাড়াটিয়া নেতা শুঝেন লিউ। তিনি বলেন, গত ৩১ বছরে তাঁর ভবনের মালিক একাধিকবার পরিবর্তিত হলেও ভবনের রক্ষণাবেক্ষণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। তাঁর অভিযোগ, ভাড়া বৃদ্ধি বাড়িওয়ালাদের জবাবদিহিতা বাড়ানোর পরিবর্তে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে উৎসাহিত করে। তাই তিনি সব ধরনের লিজে ‘রেন্ট ফ্রিজ’ কার্যকর করার আহ্বান জানান। সংগঠনগুলোর দাবি, নিউইয়র্কে ভাড়াটিয়ারা শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ। তাদের মতে, গত কয়েক বছরে ভাড়া বাড়লেও অনেক ভবনে বসবাসের পরিবেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং গরম পানি ও তাপ সরবরাহের মতো মৌলিক সেবা নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে। তারা আরও অভিযোগ করে, কিছু বাড়িওয়ালা ভবন সংস্কারের পরিবর্তে ভাড়ার অর্থ ঋণ পরিশোধ বা নতুন সম্পত্তি কেনার কাজে ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে, বাড়িওয়ালাদের বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। তাদের দাবি, ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, সম্পত্তি কর, বীমা এবং অন্যান্য পরিচালন খরচ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ফলে ভাড়া সমন্বয় ছাড়া ভবন পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং অর্থনৈতিক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে থাকে। এখন বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নিউইয়র্কের লাখো ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।