- প্রচ্ছদ
- Topic
ম্যানহাটন
নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে বাড়ির দাম বেশি হওয়ায় বিকল্প আবাসনের খোঁজ করছেন অনেক ক্রেতা। তাঁদের পছন্দের তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে কুইন্স। তুলনামূলক কম দামে বড় বাসা পাওয়ার পাশাপাশি শহুরে জীবনযাপনের সুবিধা ধরে রাখতে পারায় ম্যানহাটন থেকে কুইন্সের দিকে আগ্রহ বাড়ছে বাড়ির ক্রেতাদের। Realtor.com-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন চিত্র। নিউ ইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো, ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে বাড়ির বিজ্ঞাপনে অনলাইন অনুসন্ধানের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বরোগুলোর মধ্যে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় বাড়ি খোঁজার ক্ষেত্রে কুইন্স পেয়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ অনলাইন অনুসন্ধান। কুইন্সের বাড়ির বিজ্ঞাপনে বাইরের বরো থেকে আসা আগ্রহের মধ্যে ম্যানহাটনের বাসিন্দাদের অংশই ৪৫ শতাংশের বেশি। বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, ম্যানহাটনে বাড়ি খোঁজার ক্ষেত্রে নিজ বরোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ অনুসন্ধানকারী। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ অনুসন্ধান অন্য বরোগুলোর বাড়ির বিজ্ঞাপনের দিকে যাচ্ছে। তবে এই পরিসংখ্যান অনলাইন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তৈরি। এর অর্থ এই নয় যে ম্যানহাটনের ৮০ শতাংশ বাসিন্দা ইতোমধ্যে অন্য এলাকায় চলে গেছেন বা বাড়ি কিনেছেন। নিজ নিজ বরোর বাড়ির বিজ্ঞাপনে আগ্রহ ধরে রাখার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড। সেখানে প্রায় ৮৭ শতাংশ অনলাইন অনুসন্ধান নিজ বরোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কুইন্সে এ হার ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ, ব্রঙ্কসে ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ব্রুকলিনে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে ম্যানহাটনের কম অনুসন্ধান ধরে রাখতে পারার পেছনে বাড়ির উচ্চমূল্যকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা। বাড়ির দামের ব্যবধানেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। Realtor.com-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে ম্যানহাটনে বাড়ির বিজ্ঞাপনে মধ্যম চাওয়া দাম ছিল ১৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার। একই সময়ে কুইন্সে এই দাম ছিল ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা ম্যানহাটনের অর্ধেকেরও কম। ব্রুকলিনে মধ্যম চাওয়া দাম ছিল ৭ লাখ ৯৫ হাজার ডলার, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ ডলার এবং ব্রঙ্কসে ৩ লাখ ২৯ হাজার ডলার। কুইন্সের আবাসন বাজারে আগ্রহ বাড়ার আরেকটি কারণ সেখানে বাড়ির তুলনামূলক বেশি সরবরাহ। ২০২৬ সালের আগস্টে বরোটিতে বিক্রির জন্য সক্রিয় বাড়ির সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৩৪০টি। বিপরীতে ব্রঙ্কসে ছিল মাত্র ১ হাজার ৪২টি। Realtor.com-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জিয়াই জুয়ের মতে, ব্রঙ্কসে দাম তুলনামূলক কম হলেও কুইন্সে বাড়ির বিকল্প বেশি থাকায় ক্রেতারা নিজেদের বাজেট ও পছন্দ অনুযায়ী বাসা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ম্যানহাটন থেকে কুইন্সে আসা ক্রেতাদের বড় অংশই তুলনামূলক বড় জায়গা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা চান। কুইন্স হোম টিমের আবাসন প্রতিনিধি জেরালডিনে গিরালদো Realtor.com-কে জানান, তাঁর অভিজ্ঞতায় তরুণ দম্পতি এবং দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াবাসায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কুইন্সে বাড়ি কেনার আগ্রহ বেশি। তাঁদের অনেকেই অন্তত ৮৫০ বর্গফুটের বাসা খুঁজছেন। বিশেষ করে দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট তাঁদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। কুইন্সের লং আইল্যান্ড সিটি, অ্যাস্টোরিয়া ও বেসাইড ম্যানহাটন থেকে আসা ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয়। এসব এলাকায় গণপরিবহনের যোগাযোগ, খাবারের বৈচিত্র্য এবং শহুরে পরিবেশের কারণে আগ্রহ বাড়ছে। এ ছাড়া সানিসাইড ও উডসাইড এলাকাতেও বাড়ির সরবরাহ বাড়ায় ক্রেতাদের নজর পড়ছে। আবাসন প্রতিনিধি আন্দ্রেস পুলি মনে করেন, এসব এলাকায় ম্যানহাটনের মতো নাগরিক সুবিধা পাওয়া যায়, আবার তুলনামূলক বেশি ব্যক্তিগত পরিসরও মেলে। কুইন্সে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে নতুন নির্মিত কনডোমিনিয়াম বা ব্যক্তিমালিকানাধীন অ্যাপার্টমেন্ট। তবে কেউ কেউ বড় পরিবারের জন্য একক বাড়ি কিনছেন। আবার কয়েকটি পরিবারের একসঙ্গে বসবাস কিংবা বাড়ির একটি অংশ ভাড়া দিয়ে ঋণের খরচ সামলানোর উদ্দেশ্যে বহুতল আবাসনও কিনছেন অনেকে। তরুণ ও প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের মধ্যে তুলনামূলক কম দামের কো-অপারেটিভ অ্যাপার্টমেন্টের প্রতিও আগ্রহ রয়েছে। এদিকে কুইন্সের সানিসাইড এলাকায় আবাসন উন্নয়নের একটি বড় পরিকল্পনাও রয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনায় উঠে এসেছে সানিসাইড ইয়ার্ডের ওপর অবকাঠামো নির্মাণ করে সেখানে প্রায় ১২ হাজার সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন তৈরির প্রস্তাব। প্রকল্পটির জন্য ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি কেন্দ্রীয় তহবিল চেয়েছে নিউ ইয়র্ক সিটি প্রশাসন। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নতুন আবাসনের পাশাপাশি প্রায় ৩০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মেয়র কার্যালয় জানিয়েছে। তবে অর্থায়ন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সব মিলিয়ে বাড়ির উচ্চমূল্য, তুলনামূলক বেশি আবাসন সরবরাহ এবং ম্যানহাটনের সঙ্গে ভালো যোগাযোগের কারণে কুইন্স নিউ ইয়র্ক সিটির বাড়ির ক্রেতাদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। Realtor.com-এর বিশ্লেষণ বলছে, শহরের ভেতরেই তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন খুঁজছেন এমন ক্রেতাদের কাছে আপাতত সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য কুইন্স। সূত্র: Realtor.com, নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে তুলনামূলক কম দামে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আপার ম্যানহাটনের ইনউড এলাকায় অবস্থিত ইনউড গার্ডেন্স আবাসন প্রকল্পে এক থেকে তিন শয়নকক্ষের সমবায় অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য আবেদন নেওয়া হচ্ছে। যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য ফ্ল্যাটের প্রাথমিক ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮২০ ডলার থেকে। তবে এটি মাসিক ভাড়া নয়, অ্যাপার্টমেন্ট কেনার প্রাথমিক মূল্য। এর পাশাপাশি ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য খরচের জন্য প্রতি মাসে আলাদা অর্থ দিতে হবে। নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্যাচের ১৩ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইনউড গার্ডেন্স একটি ২৩ তলাবিশিষ্ট আবাসন প্রকল্প। এটি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচি মিচেল-লামার আওতাভুক্ত একটি সমবায় আবাসন। প্রকল্পটি ম্যানহাটনের ৪৫ ফেয়ারভিউ অ্যাভিনিউতে অবস্থিত। আবেদনকারীদের আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং প্রয়োজনীয় শয়নকক্ষের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবেদন গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট স্বল্পমেয়াদি সময়সীমার পরিবর্তে ধারাবাহিকভাবে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। অ্যাপার্টমেন্টের আকার অনুযায়ী ক্রয়মূল্য ও মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচে পার্থক্য রয়েছে। এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের দাম ১ হাজার ৮২০ থেকে ২ হাজার ৪৬০ ডলার এবং মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৭১৭.১৫ থেকে ৯৩৯.৭১ ডলার। দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের দাম ২ হাজার ৩৮০ থেকে ২ হাজার ৯১০ ডলার, যার মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৯২২.০৪ থেকে ১ হাজার ১২৪.৫২ ডলার। তিন শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের দাম ৩ হাজার ৩৮০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ ডলার এবং মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ১ হাজার ১৯২.৫৭ থেকে ১ হাজার ৪৩৫.২৩ ডলার। আবেদনের ক্ষেত্রে পরিবারের বার্ষিক আয় ও সদস্যসংখ্যার নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের জন্য এক থেকে দুই সদস্যের পরিবারের আয় হতে হবে ২৮ হাজার ৬৮৬ থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ ডলারের মধ্যে। দুই শয়নকক্ষের জন্য দুই থেকে চার সদস্যের পরিবারের বার্ষিক আয় ৩৬ হাজার ৮৮১.৬০ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার ডলারের মধ্যে হতে হবে। আর তিন শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের জন্য চার থেকে ছয় সদস্যের পরিবারের আয় হতে হবে ৪৭ হাজার ৭০২.৮০ থেকে ১ লাখ ৮৮ হাজার ডলারের মধ্যে। আবেদন করার আগে পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যা সংশ্লিষ্ট শর্তের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। ইনউড গার্ডেন্সে বাসিন্দাদের জন্য ব্যক্তিগত খোলা বারান্দা, গাড়ি রাখার জায়গা, কমিউনিটি কক্ষ, কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা এবং ভবন পরিচালনার জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনা রয়েছে। মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচের মধ্যে গরমের ব্যবস্থা, গরম পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে প্যাচ জানিয়েছে। ভবনটি থেকে হাডসন ও হারলেম নদীর দৃশ্য দেখা যায়। আশপাশে স্কুল এবং গণপরিবহনের সুবিধাও রয়েছে, যা কর্মজীবী পরিবারগুলোর যাতায়াতে সহায়ক হতে পারে। আগ্রহীরা নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়াল বিভাগের সরকারি আবাসন অনুসন্ধান ওয়েবসাইটে গিয়ে ইনউড গার্ডেন্স বা তালিকা নম্বর HCR000211 খুঁজে আবেদন করতে পারবেন। কাগজে আবেদনপত্র পেতে প্রকল্পটির ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ে (২১২) ৯৪২-৫২৪০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। একই পরিবারের পক্ষ থেকে অনলাইনে ও কাগজে দুবার আবেদন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কারণ একাধিক আবেদন জমা দিলে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আবেদনকারীদের আয়, পরিবারের আকার এবং অন্যান্য শর্তের সর্বশেষ তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটে যাচাই করে নেওয়া উচিত। মিচেল-লামা কর্মসূচি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে মধ্যম ও নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে চালু করা হয়। এ ধরনের সমবায় আবাসনে আবেদন করলেই অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া নিশ্চিত হয় না। লটারির মাধ্যমে অপেক্ষমাণ তালিকায় স্থান নির্ধারণ করা হয় এবং উপযুক্ত অ্যাপার্টমেন্ট খালি হলে তালিকার ক্রম ও যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সূত্র: প্যাচ, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়াল বিভাগ। সরকারি আবেদন ওয়েবসাইট: https://housingsearch.hcr.ny.gov/housing/s/waitlist/a0Ycs00001nyK10EAE/hcr000211
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ভূগর্ভস্থ নর্দমায় রহস্যজনকভাবে প্রবেশের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দুজন নর্দমার ভেতরে গয়না খুঁজতে নেমেছিলেন বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। অন্য একজন তাঁদের গাড়িতে করে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পৃথক দুটি ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ম্যানহোল দিয়ে ভূগর্ভস্থ স্থানে প্রবেশের ঘটনা নিয়ে পুলিশের তদন্তের মধ্যেই নতুন গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল। প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ম্যানহাটনের আপার ম্যানহাটন এলাকায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ১১টা ১৫ মিনিটে ন্যাগল অ্যাভিনিউ ও ডাইকমান স্ট্রিটের কাছের একটি ম্যানহোলে দুজনকে প্রবেশ করতে দেখেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছানো পুলিশ সদস্যরা কাছাকাছি একটি গাড়িতে বসে থাকা এক ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে আশপাশের এলাকা তল্লাশি করে ভেজা অবস্থায় আরও দুজনকে দেখতে পান তাঁরা। তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ২৩ বছর বয়সী উইলফ্রেডো তেরান ব্রিসেনো, ৩৩ বছর বয়সী গুয়েনিস মার্তিনেস এবং ২৪ বছর বয়সী জাভিয়ের গুয়েভারা লিসকানো। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্তিনেস ও ব্রিসেনো জিজ্ঞাসাবাদে নর্দমার ভেতরে ‘গয়না খুঁজতে’ যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, লিসকানো তাঁদের সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য ২০০ ডলার পেয়েছিলেন। তবে নর্দমার ভেতরে কী ধরনের গয়না খোঁজা হচ্ছিল বা সেখানে আগে থেকে কোনো মূল্যবান বস্তু থাকার তথ্য ছিল কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে। ম্যানহাটনের ওয়েস্ট ২১৮তম স্ট্রিট ও ইন্ডিয়ান রোডের সংযোগস্থলের কাছে আরও দুজনকে ম্যানহোলে প্রবেশ করতে দেখেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৩১ বছর বয়সী জ্যাঁ রোসা ও ২৮ বছর বয়সী লুইস চাপারোকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের বিরুদ্ধেও অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুটি ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনকেই নিজেদের মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো জামিনযোগ্য না হওয়ায় তাঁদের মুক্তির জন্য জামিনের অর্থ জমা দিতে হয়নি। নিউইয়র্কে ভূগর্ভস্থ নর্দমা ও ম্যানহোল ব্যবহার করে লোকজনের প্রবেশের ঘটনা এ বছর একাধিকবার সামনে এসেছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুইন্সের মিডল ভিলেজ, ব্রুকলিনের উইলিয়ামসবার্গ ও গ্রেভসেন্ড, ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইড এবং পেন স্টেশন ও ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের কাছেও এমন ব্যক্তিদের দেখা গেছে। কোথাও একাধিক ব্যক্তিকে ম্যানহোল থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। এসব ঘটনার সবগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট ও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সাবওয়ে ট্রেনে গাঁজা সেবন নিয়ে বিরোধের জেরে ২৬ বছর বয়সী এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত যুবকের নাম ড্যারেল রদ্রিগেজ। গত ১৭ অক্টোবর ম্যানহাটনের মিডটাউনের একটি সাবওয়ে স্টেশনে তাঁকে গুলি করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, ট্রেনে গাঁজা সেবনের প্রতিবাদ করায় দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নেয়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ এনওয়াইপিডির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু আগে ম্যানহাটনের সেভেনথ অ্যাভিনিউ ও ওয়েস্ট ৫৩তম স্ট্রিটের কাছে অবস্থিত সাবওয়ে স্টেশনে। ওই সময় উত্তরমুখী ই ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে দুই ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। পরে বাগ্বিতণ্ডা ট্রেনের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়ে এবং আবার প্ল্যাটফর্মে গড়ায়। একপর্যায়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রদ্রিগেজকে উদ্ধার করে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত কিশোর ট্রেনে গাঁজা সেবন করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় রদ্রিগেজ তাঁর আচরণের প্রতিবাদ করেন। বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। তদন্তকারীদের মতে, সেই বিরোধ থেকেই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে গাঁজা সেবন নিয়ে বিরোধই হত্যাকাণ্ডের একমাত্র কারণ ছিল কি না, তা এখনো তদন্তাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি ও অভিযুক্ত কিশোরের মধ্যে আগে থেকে কোনো পরিচয় ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এবিসি৭ নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে অভিযুক্ত কিশোরের নাম জেভিয়ান কলিন্স বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তদন্তের অংশ হিসেবে সাবওয়ে স্টেশন ও ট্রেনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ফুটেজে লাল রঙের পোশাক ও কালো ভেস্ট পরা এক ব্যক্তিকে অস্ত্র হাতে দেখা যায়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির একটি খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালান তদন্তকারীরা। ঘটনার পাঁচ দিন পর বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত কিশোর তাঁর আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে ম্যানহাটনের মিডটাউন নর্থ পুলিশ স্টেশনে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা এবং অস্ত্রসংক্রান্ত দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে অভিযুক্ত কিশোরের গ্রেপ্তারের কোনো রেকর্ড ছিল না। আদালতে হাজির করার পর তাঁকে জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। ঘটনার সময় সাবওয়ে স্টেশনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানিয়েছেন, হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে যাত্রীরা মেঝেতে শুয়ে পড়েন। অনেকে দ্রুত ট্রেন ও প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এক যাত্রী জানান, প্রথমে একটি গুলির শব্দ শোনার পর আরও কয়েকটি শব্দ শুনতে পান তিনি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। নিরাপত্তার কারণে কিছু সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেশনে ট্রেন চলাচলেও পরিবর্তন আনা হয়। নিহত ড্যারেল রদ্রিগেজ নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানো লিবার জানিয়েছেন, ঘটনার সময় রদ্রিগেজ কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করায় তিনি এনওয়াইপিডির তদন্তকারীদের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই দেবে। এই হত্যাকাণ্ডের পর নিউইয়র্কের সাবওয়ে ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এনওয়াইপিডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সাবওয়ে ব্যবস্থায় সাতটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল চারটি। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় এ ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। তবে নিউইয়র্ক শহরের সামগ্রিক হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা একই সময়ে কমেছে বলে পুলিশের পরিসংখ্যানে দেখা যায়। ফলে সাবওয়ের অপরাধ পরিস্থিতি এবং শহরের সামগ্রিক অপরাধের প্রবণতা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, শহরের প্রতিটি বাসিন্দার ট্রেন ও সাবওয়ে প্ল্যাটফর্মে নিরাপদে চলাচলের অধিকার রয়েছে। সাবওয়ের নিরাপত্তায় অগ্রগতি হলেও এ ধরনের ঘটনা বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধে আরও কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো সাবওয়েতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং অস্ত্র বহন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। নিউইয়র্কের সাবওয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষও এই পরিবহনব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেন। ব্যস্ত সময়ে একটি বিরোধ থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়াও চলবে।
নিউইয়র্কে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে নিয়োগদাতাদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দিতে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত হবে ‘জবস এনওয়াইসি ম্যানহাটন হায়ারিং হল’। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মেলাটি চলবে ২ লাফায়েট স্ট্রিটে। তবে প্রবেশের দরজা বন্ধ হবে দুপুর দেড়টায়। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি কর্মসূচি জবস এনওয়াইসির ঘোষণা অনুযায়ী, মেলায় বেসরকারি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলা, সিটির চাকরির সুযোগ এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকবে। চাকরি খোঁজার পাশাপাশি ক্যারিয়ার সহায়তা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিরাও অংশ নিতে পারবেন। অংশগ্রহণকারীদের নির্ধারিত চারটি সময়ের স্লটের মধ্যে একটি বেছে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে। জবস এনওয়াইসির সরকারি ইভেন্ট পাতায় দেওয়া ইভেন্টব্রাইট নিবন্ধনব্যবস্থা ব্যবহার করে স্লট নির্বাচন করা যাবে। মেলায় সময় বাঁচাতে আগেই ওয়ার্কফোর্স ওয়ান ক্যারিয়ার সেন্টার সিস্টেমে ক্লায়েন্ট হিসেবে নিবন্ধনের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র এবং রেজুমের কয়েকটি কপি সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। কিছু নিয়োগদাতা ঘটনাস্থলেই ইন্টারভিউ নিতে পারেন বলে পেশাদার বা অফিস উপযোগী পোশাকে উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আয়োজকেরা। তবে মেলায় অংশ নিলেই ইন্টারভিউ নিশ্চিত নয়। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি সম্ভাব্য নিয়োগদাতা ও ক্যারিয়ার সেবাদাতাদের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়া এবং পরবর্তী সুযোগ তৈরির আয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মিডটাউন ম্যানহাটনের একটি পাতালরেল স্টেশনে গুলির ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর সন্দেহভাজনকে খুঁজছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। শনিবার, ১৭ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২টা ২১ মিনিটে সপ্তম অ্যাভিনিউ ও পশ্চিম ৫৩তম স্ট্রিটের পাতালরেল স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলটি ব্রডওয়ের কয়েকটি থিয়েটার ও কার্নেগি হলের কাছাকাছি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুই ব্যক্তির মধ্যে বিরোধের একপর্যায়ে গুলি চালানো হয়। সিবিএস নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধটি স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে একটি ট্রেনে গড়ায় এবং পরে আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে। তবে গুলিগুলো ঠিক ট্রেনের ভেতরে নাকি প্ল্যাটফর্মে ছোড়া হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রাথমিক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। গুলিতে আহত ব্যক্তির বুকে আঘাত লাগে। জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশের আগে তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানানোর কথা জানিয়েছিল পুলিশ। প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তাঁর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে তাঁকে লাল রঙের ট্র্যাকস্যুট, কালো ভেস্ট ও কালো মুখোশ পরা অবস্থায় দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ঘটনাস্থল থেকে পায়ে হেঁটে পালিয়ে যান এবং সপ্তম অ্যাভিনিউ ধরে উত্তর দিকে এগিয়ে যান। ঘটনার পরপরই কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্তের কারণে নিউইয়র্কের গণপরিবহনেও বিঘ্ন ঘটে। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি জানিয়েছিল, পুলিশি তদন্ত চলাকালে সি, ডি ও ই লাইনের ট্রেনগুলো সপ্তম অ্যাভিনিউ স্টেশন এড়িয়ে চলছিল। ই লাইনের কিছু ট্রেনকে বিকল্প পথে পরিচালনা করা হয় এবং এ, সি, ডি, ই ও এফ লাইনে বিলম্ব দেখা দেয়। পুলিশ ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে। কারও কাছে এ ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য থাকলে এনওয়াইপিডি ক্রাইম স্টপার্সের নম্বর ১-৮০০-৫৭৭-টিপস (৮৪৭৭)-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্প্যানিশ ভাষায় তথ্য দেওয়ার জন্যও আলাদা নম্বর রয়েছে।
শিল্পী জেফ্রি রিড সম্প্রতি ম্যানহাটনের টম্পকিন্স স্কয়ার পার্কের কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হিলারি ক্লিনটনের বিশালাকার দুটি প্রতিকৃতি স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু এরপর যা ঘটল, তা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। একটি সাদাকালো কুকুর ট্রাম্পের বিশাল প্রতিকৃতির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ থেমে যায় এবং পা তুলে সরাসরি মার্কিন এই রাজনীতিকের মুখের ওপর প্রস্রাব করতে শুরু করে। ঠিক সেই মুহূর্তেই কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা ফটোগ্রাফার জন ইজ এই হাস্যকর দৃশ্যটি নিখুঁতভাবে ক্যামেরাবন্দী করেন। ছবিটি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই চারদিকে গুঞ্জন ওঠে যে, এটি হয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো রাজনৈতিক স্টান্ট বা পূর্বনির্ধারিত ঘটনা। তবে ফটোগ্রাফার জন ইজ নিশ্চিত করেছেন যে, পুরো ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত। সে সময় কুকুরের মালিক নিজের ফোনে ব্যস্ত ছিলেন এবং তার পোষা প্রাণীটি ঠিক কী করছে সে সম্পর্কে শুরুতে তার কোনো ধারণাই ছিল না। যখন তিনি বিষয়টি খেয়াল করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই কুকুরের গলার চেইন ধরে টান দিয়ে নিজের পথে হাঁটা চালিয়ে যান। এই ঘটনার পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পিত আয়োজন, প্রশিক্ষিত প্রাণী বা রাজনৈতিক কোনো বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না। এটি ছিল কেবলই একটি কুকুর, একটি স্ট্রিট আর্ট এবং একেবারে সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে থাকা একজন ফটোগ্রাফারের দারুণ এক কাকতালীয় সমন্বয়ের ফল।
নিউইয়র্ক শহরের কোলাহলের মাঝে গ্রামীণ জীবনের স্বাদ পেতে চাইলে আর দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ম্যানহাটনের ওয়েস্ট ভিলেজে একটি ভবনের ছয়তলার ছাদে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন এক খামারবাড়ি। সবুজে ঘেরা বারান্দা, সামনে বাগান এবং শহরের আকাশচুম্বী ভবনের দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ থাকা এই পেন্টহাউসটি ১০.৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। গ্রিনউইচ স্ট্রিটে অবস্থিত ছাদের ওপরের স্বপ্নের এই বাড়িটি শহরের বুকে যেন এক টুকরো আস্ত গ্রাম। ৭১৯ গ্রিনউইচ স্ট্রিটের এই শীর্ষ তলার অ্যাপার্টমেন্টটির মালিক ৮৭ বছর বয়সী ডেভেলপার ডেভিড পুচকফ এবং তার স্ত্রী ও লেখিকা আইলিন স্টুকেন। তারা কয়েক দশক ধরে এখানে বসবাস করছেন এবং ১৯৮৮ সালে এই বাড়ির বসার ঘরেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ডেভিড পুচকফ ১৯৭৪ সালে মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার ডলারে ছয়তলা ইটের ভবনটি কিনেছিলেন, যা একসময় ঝুড়ির গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরে তিনি এটিকে কো-অপারেটিভ বা যৌথ মালিকানাধীন ভবনে রূপান্তর করেন এবং নিজের জন্য সবচেয়ে ওপরের তলাটি রেখে দেন। গ্রামীণ পেনসিলভেনিয়ায় এক বন্ধুর লেকহাউস পরিদর্শনের পর স্থপতি বন্ধু লরেন্স টোবের সহায়তায় তিনি ছাদের ওপর এই কেবিন ও বাগানটি নির্মাণ করেন। পেন্টহাউসটিতে রয়েছে প্রায় ৩,০৬০ বর্গফুটের বিশাল লফ্ট স্পেস, যেখানে চারটি বেডরুম ও দুটি বাথরুম রয়েছে। পুরোনো দিনের ইটের গাঁথুনি, কাঠের বিম, ওক কাঠের মেঝে এবং বড় বড় জানালা বাড়িটিকে এক অনন্য রূপ দিয়েছে। লিফট থেকে সরাসরি অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করা যায়। বসার ঘর থেকে একটি স্টিলের সিঁড়ি উঠে গেছে ছাদের কেবিন ও ছোট রান্নাঘরে। দরজা খুললেই কাঠের তৈরি বারান্দা, বসার দোলনা ও পরিবারের জন্য ডাইনিং টেবিল চোখে পড়ে। আইলিন স্টুকেন নিজেই এই বাগানের দেখাশোনা করেন, যেখানে তিনি বেগুন, ধুন্দুল, লেটুস, টমেটো এবং তুলসীর মতো শাকসবজি ও ভেষজ চাষ করেন। কম্পাস ব্রোকারেজ ফার্মের জিম সেন্ট আন্দ্রে বাড়িটির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। বর্তমানে বাড়িটির জন্য প্রতি বর্গফুটে প্রায় ৩,৪৩১ ডলার চাওয়া হচ্ছে, যা এলাকার অন্যান্য চার-বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের (যার গড় মূল্য ২১.৭৫ মিলিয়ন ডলার) তুলনায় ক্রেতাদের জন্য বেশ আকর্ষণীয়। তবে এই ছাদের বাগান নিয়ে ২০১৮ সালে কিছু আইনি জটিলতাও তৈরি হয়েছিল। এক অজ্ঞাত প্রতিবেশীর অভিযোগের ভিত্তিতে শহরের নিয়ন্ত্রক সংস্থা পুচকফকে ১,২০০ ডলার জরিমানা করেছিল এবং দাবি করেছিল যে এটি নির্মাণে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে পুচকফ পাল্টা মামলাও করেছিলেন। রাস্তা থেকে এই খামারবাড়িটি দেখা না গেলেও এটি মোটেও গোপন কোনো বিষয় নয়। বিভিন্ন স্বনামধন্য পত্রিকা ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে এটি ফিচার হয়েছে এবং ২০১৫ সালে হেলিকপ্টার থেকে তোলা একটি ছবির কারণে এটি ভাইরালও হয়েছিল। তিন কন্যাসন্তানের জনক এই দম্পতি এখন মনে করছেন, জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার সময় এসেছে। বয়স বাড়ার কারণে তারা এখন সন্তান ও নাতি-নাতনিদের বেশি সময় দিতে চান, তাই দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত অনন্য এই ছাদের খামারবাড়িটি নতুন মালিকের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি চাকরি খুঁজতে আগ্রহীদের জন্য ম্যানহাটনে ‘জবস এনওয়াইসি সেন্টার’ চালু করেছে সিটি প্রশাসন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মেয়র জোহরান মামদানি ২ লাফায়েত স্ট্রিটে সেন্টারটির উদ্বোধন করেন। নিয়মিত ওয়াক-ইন সেবা শুরু হবে ৫ অক্টোবর। সিটি মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, চাকরিপ্রার্থীরা সেখানে খালি পদ খুঁজতে, আবেদনপত্র প্রস্তুত করতে এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রক্রিয়া বুঝতে সহায়তা পাবেন। নিয়োগ দিচ্ছে এমন সিটি এজেন্সির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগও থাকবে। সেন্টারটিতে চাকরিমেলা, এজেন্সিগুলোর নিয়োগ কার্যক্রম, ক্যারিয়ারবিষয়ক ওয়ার্কশপ ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। সরকারি চাকরির সুযোগ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নেটওয়ার্কিং ইভেন্টও হবে। নিউইয়র্ক সিটির স্মল বিজনেস সার্ভিসেস এবং ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস যৌথভাবে সেন্টারটি তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা সিটির একটি জায়গাকে চাকরিপ্রার্থীদের সেবায় ব্যবহার করা হচ্ছে। সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ‘জবস এনওয়াইসি’ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা বিভাগ, এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালস এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কসহ ৪৭টি সিটি এজেন্সি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগে সহায়তা পেয়েছে। নতুন সেন্টারটি সেই উদ্যোগের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে কাজ করবে। সেন্টার উদ্বোধনের সময় মেয়র মামদানি বলেন, সরকারি চাকরিতে যাওয়ার পথ বুঝতে মানুষের অসুবিধা হওয়া উচিত নয়। নতুন সেন্টার চাকরিপ্রার্থীদের উপযুক্ত সুযোগ খুঁজতে এবং নিয়োগের শর্ত বুঝতে সহায়তা করবে।
নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে ম্যানহোলের ঢাকনা সরিয়ে সুয়ারেজ লাইনে নেমে সোনা ও মূল্যবান ধাতু খোঁজার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অদ্ভুত এই কাণ্ডের দায়ে গত বৃহস্পতিবার কেভিন রদ্রিগেজ (২৬) এবং স্যামুয়েল রেভেরন (২৫) নামের ওই দুই ভেনেজুয়েলান নাগরিককে কুইন্স এলাকায় তাদের বাড়ির কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডের লোউস রিজেন্সি নিউইয়র্ক হোটেলের ঠিক পাশেই বুধবার ভোরে তারা এই ভূগর্ভস্থ অভিযানে নেমেছিলেন। শহরের ভূগর্ভস্থ সুয়ারেজ ব্যবস্থা থেকে আচমকা মানুষের বেরিয়ে আসার এই ঘটনাগুলো নিউইয়র্কে ‘মোল পিপল’ রহস্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে স্যামুয়েল রেভেরন স্বীকার করেছেন যে, ড্রেনে ভেসে যাওয়া মূল্যবান ধাতু এবং সোনা খুঁজতেই তারা ম্যানহোলে প্রবেশ করেছিলেন। শুক্রবার ম্যানহাটন আদালতে এই দুই যুবকের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়, যদিও পরে তারা আইনি নজরদারির শর্তে মুক্তি পান। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ বিশ্বের শীর্ষ নেতারা সেসময় ওই এলাকার হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না বা তারা কোনো ভিআইপি অতিথির জন্য হুমকিও ছিলেন না। নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ঝড়-বৃষ্টির পর সুয়ারেজ থেকে স্ক্র্যাপ মেটাল বা মূল্যবান জিনিস খোঁজার প্রবণতা বেড়েছে। তবে জাতিসংঘের অধিবেশন এবং জায়গাটির স্পর্শকাতরতার কথা বিবেচনা করে ফেডারেল অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে ইস্ট ৬১ স্ট্রিট সংলগ্ন পার্ক অ্যাভিনিউয়ের একটি ম্যানহোল থেকে ওই দুজনসহ মোট তিনজনকে উঠে আসতে দেখা যায়। এরপর তারা দুটি গাড়িতে করে দ্রুত পালিয়ে যান। স্যামুয়েল রেভেরনকে যখন আটক করা হয়, তখন তিনি লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও কুইন্সে একটি অপরাধের রেকর্ড রয়েছে, তবে রদ্রিগেজের এটিই প্রথম গ্রেপ্তার। আগামী ২৫ নভেম্বর তাদের পুনরায় আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি বছরে কুইন্স, ব্রুকলিন এবং ম্যানহাটনের পেন স্টেশন ও ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের মতো ব্যস্ত এলাকাগুলোতেও একাধিকবার এসব রহস্যময় ‘মোল পিপল’দের সুয়ারেজ থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের হেলস কিচেন এলাকায় তুলনামূলক কম ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ‘দ্য লিরিও’ নামে নতুন নির্মিত নয়তলা ভবনে ৪৪টি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন লটারির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে দুই বেডরুমের কিছু অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া শুরু হচ্ছে মাত্র ৮৬৩ ডলার থেকে। ৩৬৪ ওয়েস্ট ৫৪তম স্ট্রিটে অবস্থিত ভবনটিতে একাধিক ধরনের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির আবাসন লটারি ব্যবস্থার আওতায় নির্দিষ্ট আয়সীমা ও পারিবারিক আকারের শর্ত পূরণকারী নিউইয়র্কবাসীরা এসব বাসস্থানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত ৪৪টি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৮৬৩ থেকে ৩ হাজার ৬৫০ ডলারের মধ্যে। ভাড়া কত হবে, তা নির্ভর করবে অ্যাপার্টমেন্টের ধরন এবং আবেদনকারী পরিবারের নির্ধারিত বার্ষিক আয়ের সীমার ওপর। সবচেয়ে কম ভাড়ার পাঁচটি দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৮৬৩ ডলার। এসব অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন করতে পারবে বছরে ৩৫ হাজার ৩১৫ থেকে ৫৪ হাজার ৯৬০ ডলার আয় করা পরিবার। এ ছাড়া ২৫টি দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ২ হাজার ৭৭২ ডলার। এগুলোর জন্য নির্ধারিত বার্ষিক পারিবারিক আয় ১ লাখ ৭৬৬ থেকে ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪ ডলারের মধ্যে। তিন বেডরুমের দুটি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ১৮৬ ডলার। এসব বাসস্থানের জন্য পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ থেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। আরও আটটি দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ২৬৮ ডলার। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত বার্ষিক আয় ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৭২ থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ ডলার। সবচেয়ে বেশি ভাড়ার চারটি দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৬৫০ ডলার। এগুলোর জন্য আবেদনকারী পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৬৯ থেকে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৪০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। দ্য লিরিও ভবনটি দুটি নিউইয়র্ক সিটি সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। ভবনটির ৬০ শতাংশ ইউনিট নিম্ন আয়ের পরিবার, আগে গৃহহীন ছিলেন এমন নিউইয়র্কবাসী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরিবারগুলোর জন্য সংরক্ষিত। বাকি ৪০ শতাংশ ইউনিট সাধারণ জনগণের জন্য আবাসন লটারির মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। ভবনটিতে বাসিন্দাদের জন্য বেশ কিছু সুবিধাও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৪ ঘণ্টা কর্মী থাকা প্রবেশ লবি, ভবন ব্যবস্থাপকের কার্যালয়, সূর্যস্নানের খোলা জায়গা, শরীরচর্চা কেন্দ্র, পাঠাগার, অনুষ্ঠান আয়োজনের কক্ষ এবং লিফট। হেলস কিচেন ম্যানহাটনের একটি ব্যস্ত আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা। ভবনটির অবস্থান সেন্ট্রাল পার্ক এবং নিউইয়র্কের বিভিন্ন থিয়েটার এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় আবাসনটির অবস্থানও আকর্ষণীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের প্রথমে নিজেদের পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং মোট বার্ষিক আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। এরপর নিউইয়র্ক সিটির অফিসিয়াল হাউজিং কানেক্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। ডাকযোগেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে একটি পরিবারকে মাত্র একটি আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন ও ডাকযোগে আবেদন করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আবেদনের শেষ সময় ৫ অক্টোবর ২০২৬। নিউইয়র্ক সিটির সাশ্রয়ী আবাসন লটারিতে আবেদন করলেই অ্যাপার্টমেন্ট নিশ্চিত হয় না। যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে পরবর্তী ধাপের জন্য বাছাই করা হয় এবং এরপর আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হয়। তাই আবেদনকারীদের সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দ্য লিরিওর এই লটারির তথ্য নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং কানেক্টের তালিকার ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সরকারি পোর্টালটি সরাসরি যাচাই করার সময় প্রযুক্তিগত কারণে পেজটি খোলা যায়নি, তাই আবেদন করার আগে আবেদনকারীদের অফিসিয়াল হাউজিং কানেক্ট পোর্টালে বর্তমান ভাড়া, আয়সীমা, সময়সীমা ও যোগ্যতার শর্ত পুনরায় যাচাই করা উচিত। সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্ট, Secret NYC, অ্যাসোসিয়েটেড তথ্য
নিউইয়র্ক সিটিতে গত তিন মাসে তিনজন ইয়েলো ক্যাবচালককে নিজ নিজ ট্যাক্সির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের ওয়েস্ট ভিলেজে ৫৩ বছর বয়সী ক্যাবচালক জগজিৎ সিংয়ের মৃত্যুর পর চালকদের স্বাস্থ্য, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জগজিৎ সিং প্রায় ২০ বছর ধরে নিউইয়র্কে ক্যাব চালাতেন। ১১ সেপ্টেম্বর যাত্রী নামিয়ে ওয়েস্ট ভিলেজের সেভেনথ অ্যাভিনিউ সাউথ ও চার্লস স্ট্রিটের কাছে তার ট্যাক্সি থামানোর পর দীর্ঘ সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পরে বন্ধুরা গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে ট্যাক্সির ভেতরে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান এবং ৯১১-এ ফোন করেন। জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে অপরাধমূলক হামলা হিসেবে চিহ্নিত করার কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণের বিষয়টি অফিস অব চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের তদন্তের আওতায় ছিল। সহকর্মীদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হৃদ্যন্ত্রজনিত সমস্যার কথা বলা হলেও সেটিকে এখনো সরকারি চূড়ান্ত কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। সিং স্ত্রী ও ১০ বছর বয়সী যমজ সন্তান রেখে গেছেন। এর কয়েক সপ্তাহ আগে ৫৩ বছর বয়সী খলিফা এইচ. সিওয়াকে ম্যানহাটনের হেনরি হাডসন পার্কওয়ের কাছে তার ট্যাক্সির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি তানজানিয়ার নাগরিক ছিলেন। পরিচিতজনদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনাতেও মেডিকেল এক্সামিনারের তদন্ত হয়েছিল, তবে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তার মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না। এই ধারাবাহিকতার প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২ জুলাই। ৭৩ বছর বয়সী রিচার্ড কুলিবালিকে হারলেমের ফ্রেডেরিক ডগলাস বুলেভার্ডে পার্ক করা তার ট্যাক্সির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি আইভরি কোস্টের অভিবাসী ছিলেন এবং দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে ক্যাব চালিয়েছেন। তার মৃত্যুর সময় শহরে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছিল। তবে গরমের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে এমন দাবি নিশ্চিত করার মতো তথ্য নেই। পরবর্তী তথ্য অনুযায়ী, মেডিকেল এক্সামিনার তার মৃত্যুকে ন্যাচারাল কজ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। পরপর তিনজন ক্যাবচালকের মৃত্যুতে নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স চালকদের কর্মপরিবেশ ও স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য, নিউইয়র্কের অনেক ক্যাবচালক দীর্ঘ সময় কাজ করেন এবং আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম কিংবা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। সংগঠনটি চালকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তা বাড়ানোর দাবি তুলেছে। তবে তিনটি মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে এমন প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি। তিনজনের মৃত্যুর পরিস্থিতিও এক নয় এবং তাদের জাতীয় পরিচয়ও ভিন্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বাংলাদেশি বলা হলেও প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনজনের কেউই বাংলাদেশি ছিলেন না। একজন ছিলেন আইভরি কোস্টের, একজন তানজানিয়ার এবং জগজিৎ সিং ছিলেন ভারত থেকে আসা একজন অভিবাসী। নিউইয়র্কে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী চালক ট্যাক্সি ও পরিবহন খাতে কাজ করেন। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো চালকদের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর ঝুঁকি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পাওয়ার বিষয়গুলোকে নতুন করে সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রতিটি মৃত্যুর কারণ আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আপাতত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এসব ঘটনাকে একই কারণের মৃত্যু বা কোনো অপরাধমূলক ঘটনার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনে সাবওয়ে ট্র্যাকে বসে থাকা ২৪ বছর বয়সী এক তরুণ ও এক তরুণী ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে স্প্রিং স্ট্রিট স্টেশনের কাছে দক্ষিণমুখী ৪ নম্বর ট্রেন তাদের আঘাত করে। ঘটনাটির আগে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দুজনকে রেললাইনের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, কেন তারা ট্র্যাকে ছিলেন তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে রোববার ভোর ৩টা ১৫ মিনিটের কিছু আগে। নিহত তরুণের বাড়ি নিউ জার্সির সেরভিলে এবং তরুণীর বাড়ি নিউইয়র্কের ডেটনে বলে জানা গেছে। তবে পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। ট্রেনটি তাদের আঘাত করার পর দুজনকেই ঘটনাস্থলে মৃত ঘোষণা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুজনকে সাবওয়ে ট্র্যাকের ওপর পাশাপাশি বসে থাকতে দেখা যায়। সামনে দিয়ে ট্রেন এগিয়ে আসার সময়ও তারা রেললাইনের ওপর অবস্থান করছিলেন বলে ভিডিওতে দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যে তাদের কেউ ধাক্কা দিয়ে ট্র্যাকে ফেলে দিয়েছিল বা তারা দুর্ঘটনাবশত সেখানে পড়ে গিয়েছিলেন। তবে ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্তকারীরা দুজনের ট্র্যাকে যাওয়ার পেছনে কী কারণ ছিল, সেটি খতিয়ে দেখছেন। তারা ঘটনার আগে দুজন অ্যালকোহল পান করেছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক কারণ ঘোষণা করা হয়নি। ফলে তাদের উদ্দেশ্য বা মানসিক অবস্থা নিয়ে কোনো অনুমান করা হচ্ছে না। ঘটনার পর স্প্রিং স্ট্রিট স্টেশন এলাকায় পুলিশ ও তদন্তকারীরা কাজ করেন। দুর্ঘটনার কারণে ওই এলাকায় সাবওয়ে চলাচলেও প্রভাব পড়ে। নিউইয়র্কের সাবওয়ে ব্যবস্থায় ট্র্যাক এলাকায় প্রবেশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সামান্য সময়ের মধ্যেই চলন্ত ট্রেনের সামনে থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ নাও থাকতে পারে। চলতি মাসের শুরুতেও ১৬১ স্ট্রিট-ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম স্টেশনের কাছে কাজ করার সময় এমটিএর এক কর্মী ডি ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হন। ম্যানহাটনে সাবওয়ে ট্র্যাকে মানুষের পড়ে যাওয়া বা ঠেলে ফেলার ঘটনাও অতীতে গুরুতর পরিণতি ডেকে এনেছে। জুলাইয়ে ওয়েস্ট ফোর্থ স্ট্রিট-ওয়াশিংটন স্কয়ার স্টেশনে এক যাত্রীকে ট্র্যাকে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি পরে কারাদণ্ড পান। এসব ঘটনা সাবওয়ে ব্যবস্থায় ট্র্যাক এলাকার ঝুঁকি এবং নিরাপত্তার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। তবে বর্তমান ঘটনায় কোনো অপরাধের অভিযোগ বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতার তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। দুই তরুণ-তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তাদের ট্র্যাকে যাওয়ার কারণ, ঘটনার আগে কী ঘটেছিল এবং ভিডিওতে ধারণ করা পরিস্থিতির সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনার সম্পর্ক কী, সেসব বিষয় তদন্ত শেষে আরও পরিষ্কার হতে পারে। পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার পর নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে আড়াই লাখ ডলার মূল্যের একটি বিলাসবহুল মার্সিডিজ গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এক হোমলেস নারী। ওয়েস্ট ৪৫ স্ট্রিটের 'বেন্টলি মিকার লাইটিং অ্যান্ড স্টেজিং' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সামনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানের মালিক বেন্টলি মিকার জানান, গত বৃহস্পতিবার এক নারী তার আড়াই লাখ ডলারের মার্সিডিজ-বেঞ্জ জি৬৩ গাড়ির আয়নায় একটি টি-শার্ট পেঁচিয়ে লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা দ্রুত বিষয়টি টের পেয়ে তা প্রতিহত করতে সক্ষম হন, যার ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে। ম্যানহাটনের ওয়েস্ট সাইডে হোমলেসদের অবৈধ ক্যাম্প বা তাঁবু বসানোর প্রবণতা পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বেন্টলি মিকার জানান, গত জুলাই থেকে তাদের অফিসের বাইরে হোমলেসদের আনাগোনা শুরু হলেও চলতি মাসে পরিস্থিতি বেশ ভয়ংকর ও আগ্রাসী রূপ নিয়েছে। গাড়ি পোড়ানোর চেষ্টার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীকে লোহার রড নিয়ে ধাওয়া করার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া, কোম্পানির একটি ট্রাকের নিচে আরেক হোমলেস ত্রিপল টাঙিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন; চালক গাড়ি ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে তা টের পাওয়ায় অল্পের জন্য ওই ব্যক্তি চাকায় পিষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পান। গাড়ি পোড়ানোর ঘটনার পরপরই নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) এবং স্যানিটেশন বিভাগ দ্রুত ওই এলাকার অবৈধ ক্যাম্পগুলো উচ্ছেদ করে। তবে শুক্রবারই সেখান থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে আবারও নতুন করে তাঁবু খাটাতে দেখা যায় তাদের। নিউইয়র্ক সিটি হলের নিয়ম অনুযায়ী, উচ্ছেদের আগে হোমলেসদের টানা সাত দিন আশ্রয় ও অন্যান্য সেবার প্রস্তাব দিতে হয়, যা প্রশাসন ও স্থানীয়দের জন্য এক অন্তহীন ইঁদুর-বিড়াল খেলায় পরিণত হয়েছে। বেন্টলি মিকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে শতাধিক কর্মী কাজ করেন। কর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব হলেও, শহরের রাস্তাগুলোকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। হোমলেস সমস্যার এমন আগ্রাসী রূপে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন।
নিউইয়র্ক শহরে একটি মানানসই অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে পাওয়া এখন রীতিমতো যুদ্ধের সমতুল্য। এমনিতেই আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়, তার ওপর হু হু করে বাড়ছে বাড়িভাড়া। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র ম্যানহাটনে একটি সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ৫ হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। একইসঙ্গে বাজারে ভাড়ার জন্য খালি বাড়ির সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। আবাসন বিষয়ক সংবাদমাধ্যম 'দ্য রিয়েল ডিল' এবং মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান 'স্যামুয়েল মিলার'-এর গত ১৩ আগস্ট প্রকাশিত এক যৌথ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে ম্যানহাটনে অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ছিল ৫ হাজার ডলার, যা জুনের তুলনায় ৩ শতাংশ এবং গত বছরের (২০২৫) জুলাইয়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। ভাড়ার এই রেকর্ড ঊর্ধ্বমুখিতার পাশাপাশি ভাড়ার জন্য উন্মুক্ত অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যাও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। গত এক বছরে এই এলাকায় প্রায় ৪ হাজার বা ৩৯ শতাংশ অ্যাপার্টমেন্ট বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। আগে যেখানে একটি বাড়ি ভাড়া হতে গড়ে ৪৮ দিন সময় লাগত, এই গ্রীষ্মে তা মাত্র ৩৬ দিনেই ভাড়া হয়ে যাচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি বাড়ি দ্রুত ভাড়া হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ চরমভাবে অপ্রতুল। ফলে ভাড়াটেরা এখন দরকষাকষির বা ছাড় পাওয়ার তেমন কোনো সুযোগই পাচ্ছেন না। নিউইয়র্কে বাসস্থানের এই সংকট অবশ্য দীর্ঘদিনের। খরচ বাঁচাতে অনেক একাকী মা (সিঙ্গেল মাদার) একসঙ্গে বাসা ভাড়া করে থাকছেন। অনেকেই মূল পেশার পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ করেও মাসের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমনকি শহরের প্রবীণ নাগরিকরাও অবসর জীবনে টিকে থাকার খরচ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি বাড়িভাড়ায় ব্যয় হলে তা মানুষের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করে। অথচ নিউইয়র্কের সিংহভাগ বাসিন্দা বাড়িভাড়ার পেছনে আয়ের বিশাল একটি অংশ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি কেবল নিউইয়র্কেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা গোটা যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতেরই একটি প্রতিচ্ছবি। হার্ভার্ড জয়েন্ট সেন্টার অন হাউজিং স্টাডিজ-এর ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ির তীব্র সংকট রয়েছে এবং সর্বত্রই ভাড়া বাড়ছে। অনেকেই খরচ সামলাতে না পেরে বাসা বদলানোর চিন্তাও বাদ দিয়েছেন। নিউইয়র্কের বাজারেও এর প্রভাব স্পষ্ট, কারণ নতুন চুক্তির হার এক ধাক্কায় ১৯ শতাংশ কমে গেছে। ম্যানহাটনে বিশেষ করে দুই বা ততোধিক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে। বিলাসবহুল বা শীর্ষ ১০ শতাংশ অ্যাপার্টমেন্টগুলোর গড় ভাড়া গত বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেড়ে মাসে ১৩ হাজার ৭৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এলাকার ভিত্তিতে ডাউনটাউনে বাড়িভাড়া সবচেয়ে বেশি, এরপর রয়েছে ওয়েস্ট সাইড, ইস্ট সাইড এবং নর্দার্ন ম্যানহাটন। তবে সব এলাকাতেই গত এক বছরে ভাড়ার জন্য উপলব্ধ বাড়ির সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। সাধারণ মানুষের এই নাভিশ্বাস অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে উদ্যোগী হয়েছেন বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি 'ব্লক বাই ব্লক' নামে একটি মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, যার আওতায় তাঁর মেয়াদে ২ লাখ সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক হোটেল, পুরোনো লাইব্রেরি, অব্যবহৃত অফিস ভবন এবং শহরের নিজস্ব সম্পত্তিগুলোকে আবাসনে রূপান্তরের কাজ চলছে। আবাসন সরবরাহ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া কমে আসবে বলে আশা করছে নগর প্রশাসন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে শহর ও রাজ্য সরকার কোটি কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি অলাভজনক সংস্থা, আবাসন নির্মাতা ও বড় ব্যাংকগুলোর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তবে 'দ্য রিয়েল ডিল'-এর এই প্রতিবেদনটি মূলত সাধারণ বাজারদরের বাড়ির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ম্যানহাটনের মোট আবাসনের ৪৪ শতাংশই হলো 'রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড' বা ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট। মেয়র মামদানির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, চলতি শরতেই এসব নিয়ন্ত্রিত বাড়ির ভাড়ার ওপর 'রেন্ট ফ্রিজ' বা ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিতের নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। এটি এক ও দুই বছরের চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সাময়িকভাবে এটি বাসিন্দাদের স্বস্তি দিলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এর ফলে সাধারণ বাজারদরের অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। উল্লেখ্য, সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর আমলেও বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার কারণে এই 'রেন্ট ফ্রিজ' নীতিটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয়েছিল।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নতুন রেকর্ড গড়েছে। জুলাইয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৫৫ ডলারে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মিডিয়ান রেন্টও বেড়ে ৫ হাজার ২৯৫ ডলারে পৌঁছেছে। বুধবার প্রকাশিত রিয়েল এস্টেট মার্কেটের নতুন তথ্যের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ম্যানহাটনে প্রায় সব ধরনের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াই বেড়েছে। বিশেষ করে দুই ও তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে বছরওয়ারি বৃদ্ধির হার দুই অঙ্কে পৌঁছেছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, ম্যানহাটনে একটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া এখন ৪ হাজার ৮৮ ডলার। এক বেডরুমের গড় ভাড়া ৫ হাজার ৪৮৬ ডলার, দুই বেডরুমের ৮ হাজার ৫৪ ডলার এবং তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ১২ হাজার ২২৮ ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় স্টুডিওর ভাড়া ৮ শতাংশ এবং এক বেডরুমের ভাড়া ৭ শতাংশ বেড়েছে। দুই বেডরুমের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ১৩ শতাংশ এবং তিন বেডরুমে ১২ শতাংশ। স্টুডিও, এক বেডরুম ও দুই বেডরুমের গড় ভাড়াও সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে গড় ভাড়ার পাশাপাশি মিডিয়ান রেন্টের হিসাবটি ম্যানহাটনের সাধারণ ভাড়াটিয়াদের জন্য বাজারের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। জুলাইয়ে মিডিয়ান রেন্ট ছিল ৫ হাজার ২৯৫ ডলার, যা গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত ভাড়ার অর্ধেক এর চেয়ে বেশি এবং অর্ধেক কম। ম্যানহাটনের ভাড়া বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় চাপগুলোর একটি আবাসনের সীমিত সরবরাহ। নিউইয়র্ক সিটিতে ভ্যাকেন্সি রেট মাত্র ১ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ১৯৬৮ সালের পর সর্বনিম্ন। সাধারণভাবে ৫ শতাংশের নিচে ভ্যাকেন্সি রেটকে বাড়িওয়ালাদের অনুকূলে থাকা বাজার হিসেবে দেখা হয়। একদিকে ভাড়া দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে নিউইয়র্কে হাজার হাজার রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্ট খালি পড়ে থাকার তথ্যও সামনে এসেছে। বাড়িওয়ালাদের দেওয়া স্টেট রেজিস্ট্রেশন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরজুড়ে প্রায় ৫৭ হাজার রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ইউনিট খালি ছিল। এটি নিয়ন্ত্রিত ভাড়ার মোট অ্যাপার্টমেন্টের প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। কেন এত ইউনিট খালি রয়েছে, তা নিয়ে বাড়িওয়ালা ও টেন্যান্ট অ্যাডভোকেটদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কিছু বাড়িওয়ালা নিয়ন্ত্রিত ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট বাজারে না ছেড়ে খালি রাখছেন। অন্যদিকে বাড়িওয়ালাদের দাবি, ২০১৯ সালের রেন্ট আইন সংস্কারের পর পুরোনো অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করে নির্ধারিত ভাড়ায় আবার বাজারে দেওয়া অনেক ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে লাভজনক নয়। এদিকে মেয়র জোহরান মামদানির রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া স্থগিত রাখার পরিকল্পনা ঘিরেও রিয়েল এস্টেট খাতে বিতর্ক চলছে। রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের আশঙ্কা, রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ইউনিটের ভাড়া স্থির থাকলে বাড়িওয়ালাদের বাড়তি পরিচালন ব্যয়ের চাপ মার্কেট রেট অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াটিয়াদের ওপর পড়তে পারে। তবে এই বক্তব্য মূলত রিয়েল এস্টেট শিল্পসংশ্লিষ্টদের মূল্যায়ন। ভাড়া স্থগিত রাখার নীতিই ম্যানহাটনের বর্তমান রেকর্ড ভাড়ার কারণ, এমন সরাসরি প্রমাণ প্রকাশিত তথ্য থেকে পাওয়া যায় না। আবাসনের ঘাটতি, কম ভ্যাকেন্সি রেট, উচ্চ মর্টগেজ রেট এবং দীর্ঘদিন ধরে নতুন আবাসনের চাহিদার তুলনায় সীমিত সরবরাহসহ একাধিক বিষয় নিউইয়র্কের রেন্টাল মার্কেটে চাপ তৈরি করছে। নিউইয়র্ক পোস্টকে দ্য করকোরান গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার গ্যারি ম্যালিন বলেন, শহর ও স্টেটের সাম্প্রতিক কয়েকটি হাউজিং নীতি রেন্টাল হাউজিংয়ের সরবরাহ সীমিত করেছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, সরবরাহ কমে যাওয়ার বিপরীতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। মামদানি প্রশাসনের পিয়েদ-আ-তের কর পরিকল্পনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও রিয়েল এস্টেট খাতে আলোচনা চলছে। শহরে মূল বাসস্থানের বাইরে দ্বিতীয় বা অতিরিক্ত বাড়ির মালিকদের ওপর বাড়তি কর আরোপের এই উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত কর এড়াতে কিছু সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়ার দিকে ঝুঁকলে উচ্চমূল্যের রেন্টাল মার্কেটে চাহিদা আরও বাড়তে পারে। উচ্চ মর্টগেজ রেটও পরিস্থিতিকে জটিল করছে। যারা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বাড়ি বা কনডো কিনতেন, তাদের একটি অংশ উচ্চ ঋণ ব্যয়ের কারণে কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়ে রেন্টাল মার্কেটেই থেকে যাচ্ছেন। এতে সীমিত সংখ্যক অ্যাপার্টমেন্টের জন্য প্রতিযোগিতা আরও বাড়ছে। সব মিলিয়ে ম্যানহাটনে বাসা ভাড়া নেওয়া এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ব্যয়বহুল। গড় মাসিক ভাড়া ৬ হাজার ৬৫৫ ডলার এবং মিডিয়ান রেন্ট ৫ হাজার ২৯৫ ডলারে পৌঁছানো নিউইয়র্কের আবাসন সংকটের চাপ আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ডোমিনিকান ডে প্যারেডে চরম বিশৃঙ্খলা ও হামলার ঘটনার পর মাঝপথেই অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। রবিবার আয়োজিত এই আনন্দমিছিলে হঠাৎ করেই ভিড় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ মারাত্মকভাবে জখম হলে কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে প্যারেডটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখ্য, ৪২ বছর ধরে আয়োজিত এই জমকালো উৎসবে এবারও প্রায় ৫ লাখ দর্শক এবং ১১৩টি বিভিন্ন সংগঠনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সিক্সথ অ্যাভিনিউ ধরে সেন্ট্রাল পার্কের প্রবেশদ্বার ওয়েস্ট ৫৯ নম্বর সড়ক পর্যন্ত এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা চলার কথা ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রমতে, র্যাপারদের বহনকারী কয়েকটি ফ্লোট বা সুসজ্জিত যান যখন এগিয়ে আসছিল, তখন দর্শনার্থীরা হঠাৎ করে অতি-উৎসাহী ও উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠে। ৪৬ নম্বর সড়কের কাছে অনেকেই ব্যারিকেড টপকে মূল রাস্তায় ঢুকে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে (এনওয়াইপিডি) রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। পুলিশ যখন ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছিল, তখন বিকেল পৌনে চারটার দিকে ৪৫ নম্বর সড়কের কাছে এক বিবাদের জেরে ওই ১৯ বছর বয়সী তরুণ ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের মুখ ও হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করে। আহত বৃদ্ধকে স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর পুলিশ বাধ্য হয়ে সিক্সথ অ্যাভিনিউ থেকে প্যারেডটিকে ৫২ নম্বর সড়কের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে নিউইয়র্ক পুলিশের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তারা প্যারেডটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে প্রশাসনের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে হতাশ হয়েছেন উৎসবে আসা অনেক সাধারণ দর্শনার্থী। ছোটবেলা থেকে প্রতি বছর এই প্যারেডে অংশ নেওয়া ১৭ বছর বয়সী সিনথিয়া লোপেজ নামের এক কিশোরী আক্ষেপ করে বলেন, তারা সবাই মিলে কেবল আনন্দ করছিলেন এবং সেখানে তারা কোনো ধরনের মারামারির ঘটনা দেখেননি। হঠাৎ করেই কেন এমন আনন্দঘন একটি আয়োজন মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হলো, তা তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।
রোববার ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কের ডমিনিকান ডে প্যারেডে মেয়র জোহরান মামদানি এবং ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান আদ্রিয়ানো এসপাইলটের মধ্যকার শীতল রাজনৈতিক সম্পর্ক যেন আরও একবার প্রকাশ্যে এসেছে। উৎসবমুখর এই আয়োজনে উভয়েই অংশগ্রহণ করলেও, পুরো সময়জুড়ে একে অপরের থেকে বেশ দূরত্ব বজায় রেখে চলেন এই দুই শীর্ষ নেতা। এমনকি প্যারেডের নিরাপত্তা নিয়ে গত শুক্রবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও মুখ খুলতে অস্বীকৃতি জানান মেয়র মামদানি। ম্যানহাটনে প্যারেড চলাকালীন নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রশ্নের জবাবে মামদানি এড়িয়ে গিয়ে কেবল বলেন, "আমরা সবাই এখন প্যারেড নিয়েই মনোযোগ দিচ্ছি।" রোববারের এই উৎসবে মঞ্চে এসপাইলটকে দেখেছেন কি না—এমন নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবেও মেয়র বেশ কৌশলী উত্তর দেন। তিনি বলেন, "মঞ্চে এবং এখানে উপস্থিত সবাইকে দেখতে পাওয়াটা সত্যিই খুব আনন্দের।" অন্যদিকে, প্যারেডে মেয়রের সাথে পুনরায় দেখা হওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে কংগ্রেসম্যান এসপাইলট কোনো মন্তব্য না করে কেবল মাথা নেড়ে নিজের বিরক্তি প্রকাশ করেন। প্যারেড চলাকালে এসপাইলটকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের সাথে বেশ হাস্যোজ্জ্বল ও অন্তরঙ্গ অবস্থায় হাঁটতে দেখা যায়। অন্যদিকে, মেয়র মামদানি তার নিজস্ব কর্মী ও অনুসারীদের নিয়ে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে প্যারেডে অংশ নেন। মূলত, নিউইয়র্ক-১৩ (NY-13) আসনের প্রাইমারি নির্বাচনে এসপাইলটের বিরুদ্ধে কট্টর বামপন্থী প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ারকে মেয়র মামদানি প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার পর থেকেই এই দুই নেতার মধ্যে তিক্ত সম্পর্কের সূত্রপাত হয়। উল্লেখ্য, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনী এলাকার মধ্যে হার্লেম, ওয়াশিংটন হাইটস এবং ব্রঙ্কসের বেশ কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে একটি সম্ভাব্য ‘আফটার-আওয়ার্স ক্লাব’ বা ইভেন্ট স্পেসে গোলাগুলির ঘটনায় এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পেন স্টেশনের কাছে ২৪৭ ওয়েস্ট ৩০ নম্বর স্ট্রিটের একটি বহুতল ভবনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী ওই যুবকের পেট ও হাতে গুলি লেগেছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থাতেই তিনি কোনোক্রমে ভবনের বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং রাস্তায় থাকা পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাহায্য চান। তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি চিকিৎসা সেবা (ইএমএস) কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানে তার অস্ত্রোপচার চলছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ঘটনার তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা ওই ভবনের দোতলা থেকে বন্দুকের একটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছেন। পুলিশের এক সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থলটি সম্ভবত কোনো ‘আফটার-আওয়ার্স ক্লাব’ বা গোপন ইভেন্ট স্পেস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আইকনিক এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে সেভেন্থ ও এইটথ অ্যাভিনিউয়ের মাঝামাঝি অবস্থিত ওই ভবনের সামনের ফুটপাতে ঘটনার পর রক্তের ছোপ ছোপ দাগ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে ঠিক কী কারণে এই গোলাগুলি এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটন করতে পুলিশের জোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে, যেখানে একটি অ্যাপার্টমেন্টের গড় দাম ১০ লাখ ডলারেরও বেশি, সেখানে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার ডলারে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ মিলছে। তবে এই কম দামের পেছনে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও সীমাবদ্ধতা। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারে থাকা সবচেয়ে কম দামের অ্যাপার্টমেন্টগুলোর মধ্যে একটি ইস্ট হারলেমে অবস্থিত ৩৬৪ বর্গফুটের স্টুডিও ইউনিট, যার মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। একইভাবে হারলেমে ২৫০ বর্গফুটের আরেকটি স্টুডিওর দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ডলার। এছাড়া নোম্যাড এলাকায় ২৫৪ বর্গফুটের একটি ছোট স্টুডিও বিক্রি হচ্ছে ৩ লাখ ২০ হাজার ডলারে। তবে কম দামের এই অ্যাপার্টমেন্টগুলোর বেশিরভাগই এইচডিএফসি কো-অপের আওতাভুক্ত। অর্থাৎ, এগুলো কিনতে হলে নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকতে হবে, অ্যাপার্টমেন্টটিকে নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে বিক্রির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলতে হবে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিউইয়র্কে আবাসন সাশ্রয়ী রাখা। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এত ছোট জায়গায় আরামদায়কভাবে বসবাস করতে হলে বহুমুখী আসবাব, দেয়ালে লাগানো স্টোরেজ, আয়নার ব্যবহার এবং পরিকল্পিত ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ওপর গুরুত্ব দিতে হয়। এতে সীমিত জায়গাকেও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ম্যানহাটনের মতো ব্যয়বহুল এলাকায় তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ থাকলেও, আয়ের সীমা, বসবাসের বাধ্যবাধকতা এবং কো-অপের নিয়ম সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে এক সহকর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ম্যানহাটনের প্রভাবশালী আইন প্রতিষ্ঠান ওয়াচটেল, লিপটন, রোজেন অ্যান্ড ক্যাটজ-এর অংশীদার ন্যাথানিয়েল ডি. কালারটনকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৫ বছর বয়সী কালারটন ওই প্রতিষ্ঠানের একজন অংশীদার। ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কালারটন চলতি সপ্তাহে আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান গিবসন ডান-এ যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর সেই পরিকল্পনা স্থগিত হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওতে কালারটনকে তার ২৯ বছর বয়সী সহকর্মী কেলসি বোরেনজওয়াইগের সঙ্গে সেন্ট্রাল পার্কের একটি বেঞ্চে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি টিকটকে প্রকাশের পর কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় ৪০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। ভিডিও ধারণকারী টিকটক নির্মাতা তাদের উদ্দেশে বলেন, "একটি ব্যক্তিগত জায়গায় যান, এখানে শিশুরা রয়েছে।" এ সময় দুই আইনজীবী ক্যামেরা দেখতে পেয়ে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। ভিডিওতে দেখা যায়, কালারটন ক্যামেরাধারীকে সরে যেতে বলার চেষ্টা করেন, আর বোরেনজওয়াইগ শান্তভাবে তাকে মোবাইল ফোন নামিয়ে রাখতে অনুরোধ করেন। তবে বোরেনজওয়াইগের বিরুদ্ধেও কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা তিনি তদন্তের আওতায় আছেন কি না এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। মঙ্গলবার পর্যন্ত দুজনেরই প্রোফাইল সংশ্লিষ্ট আইন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে সক্রিয় ছিল। চলতি বছর ওপেনএআই ও এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের পক্ষে ইলন মাস্কের করা বহুল আলোচিত মামলায় কাজ করা আইনি দলের সদস্য ছিলেন কালারটন ও বোরেনজওয়াইগ। ফলে ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি আইন অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কালারটন ২০১৬ সাল থেকে আরেকটি বড় আইন প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ময়রা পেনজার সঙ্গে বিবাহিত। অন্যদিকে, একটি সূত্রের বরাত দিয়ে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোরেনজওয়াইগ সম্প্রতি একজন সহকর্মী আইনজীবীর সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টেনেছেন। এদিকে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ওয়াচটেল, লিপটন, রোজেন অ্যান্ড ক্যাটজ, গিবসন ডান এবং ন্যাথানিয়েল কালারটনের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলমান থাকায় আইন প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।