সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

শিক্ষাসফর

শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সিডনিতে সাবেক শিক্ষিকা ডিয়ান্দ্রা কনটু গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত
রাত্রিকালীন শিক্ষাসফরে ১৬ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষিকা গ্রেপ্তার

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে রাত্রিযাপনসহ শিক্ষাসফরে ১৬ বছরের কম বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক এক শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ডিয়ান্দ্রা কনটু সিডনির পরিচিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিউইংটন কলেজে ভূগোল পড়াতেন। ৩২ বছর বয়সী এই নারীর বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন নির্যাতন, অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন স্পর্শ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে অনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করাসহ মোট নয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিউইংটন কলেজে শিক্ষকতা করার সময় ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণ শুরু করেছিলেন বলে কনটুর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাগুলো প্রায় ছয় মাস ধরে ঘটেছিল। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি রাত্রিযাপনসহ একটি শিক্ষাসফরেও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।   অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষিকা প্রথমে ওই শিক্ষার্থীকে অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু দেখান। পরে ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের সময় এবং ক্যাম্পাসের আশপাশেও একাধিকবার অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।   বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এলাকার ফিটজরয় দ্বীপে আয়োজিত একটি শিক্ষাসফরের ঘটনা মামলায় গুরুত্ব পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে দিনের বেলায় শিক্ষার্থীকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করা হয়। পরে রাতে গুরুতর যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।   পুলিশের তদন্তের পর সিডনির দক্ষিণাঞ্চলের সাদারল্যান্ড এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে কনটুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনা নয়টি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে গুরুতর যৌন নির্যাতন, চারটি যৌন নিপীড়ন, তিনটি গুরুতর যৌন স্পর্শ এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে প্রলুব্ধ করার অভিযোগ।   অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতরটি হলো নিজের কর্তৃত্বাধীন অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর গুরুতর যৌন নির্যাতন। নিউ সাউথ ওয়েলসের আইনে এই অপরাধের শাস্তির বিধান ধর্ষণের অপরাধের সমতুল্য। তবে অভিযোগ গঠন করা এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।   গ্রেপ্তারের পর কনটুকে সাদারল্যান্ড স্থানীয় আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁকে শর্তসাপেক্ষে বন্ডে মুক্তি দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁকে পাসপোর্ট জমা দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদিন সাদারল্যান্ড পুলিশ স্টেশনে হাজিরা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়েছে।   বন্ডের শর্ত অনুযায়ী, কনটু শিশুদের পড়াতে পারবেন না। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী কিংবা মামলার সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে এসব শর্ত মেনে চলতে হবে তাঁকে।   নিউইংটন কলেজে কর্মরত থাকার সময় কনটু তাঁর আগের পারিবারিক নাম হারালাম্বিদিস ব্যবহার করতেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় দুই বছর ভূগোল পড়িয়েছেন। পাশাপাশি সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত একটি পরামর্শ ও দিকনির্দেশনামূলক কর্মসূচির নেতৃত্বেও ছিলেন।   ২০১৯ সালের নভেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। এরপর তিনি নিউইংটন কলেজ ছেড়ে দেন। তবে অভিযোগের সময়কার বিস্তারিত পরিস্থিতি কিংবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।   নিউইংটন কলেজের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি এমন কোনো শিক্ষকের আচরণ সমর্থন করে না, যা পেশাগত মানদণ্ড কিংবা প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে। তবে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এই পর্যায়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।   নিউইংটন কলেজ ছাড়ার পর কনটু অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষকতা করেন। গ্রেপ্তারের আগে তিনি সিডনির দক্ষিণাঞ্চলের ওটলিতে অবস্থিত জর্জেস রিভার কলেজের সিনিয়র ক্যাম্পাসে কর্মরত ছিলেন। এটি একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন।   ২০২৪ সাল থেকে নিউ সাউথ ওয়েলস শিক্ষা বিভাগের অধীনে স্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন কনটু। সেখানে সমাজ ও সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ভূগোল বিষয় পড়াতেন। তবে বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো নিউইংটন কলেজে কর্মরত থাকার সময়কার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।   গ্রেপ্তারের প্রস্তুতির সময় পুলিশ কনটুকে শিক্ষার্থীদের পাঠদান থেকে সরিয়ে দেয়। নিউ সাউথ ওয়েলস এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি তাঁর শিক্ষকতার স্বীকৃতিও বাতিল করেছে। অঙ্গরাজ্যটির শিক্ষকদের পেশাগত স্বীকৃতি ও মানদণ্ড তদারকির দায়িত্ব পালন করে এই স্বাধীন সংস্থা।   তবে শিক্ষকতার স্বীকৃতি বাতিল হলেও কনটু এখনো নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের কর্মী হিসেবে রয়েছেন। বর্তমানে তাঁকে বিকল্প দায়িত্বে রাখা হয়েছে। আদালতের বন্ডের শর্ত অনুযায়ী, শিশুদের পড়ানোর অনুমতি নেই তাঁর।   এদিকে চলতি বছর নিউইংটন কলেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধেও যৌন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। খণ্ডকালীন সংগীত শিক্ষক বেঞ্জামিন ডেভিড কলিঞ্জের বিরুদ্ধে অনলাইনে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করার অভিযোগ ওঠে।   তবে ওই ঘটনার সময় নিউইংটন কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, অভিযোগটির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী জড়িত ছিল না। দুটি মামলা পৃথক এবং একটি ঘটনার সঙ্গে অন্যটির কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।   ডিয়ান্দ্রা কনটুর মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৬ নভেম্বর বারউড স্থানীয় আদালতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।   তবে কনটুর বিরুদ্ধে নয়টি অভিযোগ আনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ায় সহপাঠীদের সঙ্গে শিক্ষা সফরে গিয়ে আর ফিরলেন না তরুণী শিক্ষক ও ১০ বছরের আহমেদ
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ায় সহপাঠীদের সঙ্গে শিক্ষা সফরে গিয়ে আর ফিরলেন না তরুণী শিক্ষক ও ১০ বছরের আহমেদ

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে স্কুলের শিক্ষা সফর চলাকালে একটি জলাধার থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক ও তাঁর এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ম্যাকব্রাইড নেচার রিক্রিয়েশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন কোরালভিলের বোরলগ এলিমেন্টারি স্কুলের শিক্ষক হান্না জর্গেনসেন, বয়স ২৪ বছর, এবং শিক্ষার্থী আহমেদ ওসমান, বয়স ১০ বছর। তাঁদের মৃত্যুর পরিস্থিতি তদন্ত করছে জনসন কাউন্টি শেরিফের দপ্তর।    শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে কোরালভিল জলাধারের পানি ছাড়ার স্থানের কাছে দুজন পানিতে থাকার খবর পায় কর্তৃপক্ষ। ওই দিনই হান্নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহমেদের মরদেহ পাওয়া যায় পরদিন। তাঁরা কীভাবে পানিতে পড়েছিলেন, তা কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করেনি।    আইওয়া সিটি কমিউনিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, বোরলগ এলিমেন্টারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘স্কুল অব দ্য ওয়াইল্ড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেখানে গিয়েছিল। ঘটনার পর স্কুলের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সহায়তায় কাউন্সেলর রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আইওয়ার গভর্নর কিম রেনল্ডসও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় শিক্ষাসফরে মসজিদ পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের জোর করে হিজাব পরানোর অভিযোগ
ক্যালিফোর্নিয়ায় শিক্ষাসফরে মসজিদ পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের জোর করে হিজাব পরানোর অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি স্থানীয় মসজিদে শিক্ষাসফরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক ইসলামিক পোশাক পরানো এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার অভিযোগে পালো আল্টো ইউনিফাইড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও স্কুলটির প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৭ আগস্ট ইহুদি, হিন্দু এবং জোরোয়াস্ট্রিয়ান ধর্মাবলম্বী অভিভাবকদের একটি দল যৌথভাবে এই আইনি পদক্ষেপ নেয়।   মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পালো আল্টো হাইস্কুলের 'সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে' কারিকুলামের অংশ হিসেবে গত বছর মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে একটি মসজিদে এই সফরের ব্যবস্থা করা হয়।   সেখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীদের হিজাব পরতে উৎসাহিত করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নেওয়ার জন্য পবিত্র কুরআন উপহার দেওয়া হয়। এছাড়া, সেখানে জোহরের নামাজ পর্যবেক্ষণ এবং ইসলাম ধর্ম কীভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রচার করে, সে বিষয়েও শিক্ষা দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   অভিভাবকদের দাবি, অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া ধর্মনিরপেক্ষ পাবলিক স্কুলে এভাবে নির্দিষ্ট একটি ধর্মকে প্রচার করা মার্কিন সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।   মামলার আইনজীবী ডেভিড রোজেনবার্গ-ওহল জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ পরোক্ষভাবে শিক্ষার্থীদের বোঝাচ্ছে যে প্রগতিশীলতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য ইসলামই উপযুক্ত ধর্ম, যা কোনোভাবেই একটি পাবলিক স্কুলের কাজ হতে পারে না।   অন্যদিকে, মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন এই মামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, সাধারণ ধর্মীয় অনুশীলনের সঙ্গে পরিচিত হওয়াকে জবরদস্তি বা হুমকিস্বরূপ হিসেবে দেখলে তা মূলত সমাজে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতিকেই আরও উসকে দেবে।   স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস জানিয়েছেন, তারা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছেন, তবে চলমান আইনি বিষয় নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।   তবে অনেক শিক্ষার্থীই স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। স্কুল পত্রিকার সম্পাদক জুনি থার্স্টন জোরপূর্বক হিজাব পরানো এবং ইসলামিক আদর্শে দীক্ষিত করার অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে অতিরঞ্জিত বলে আখ্যা দিয়েছেন।   যদিও ওই সফরে আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিলের বিতর্কিত নেত্রী জাহরা বিল্লুর উপস্থিতি নিয়ে তিনিও আপত্তি জানিয়েছেন।   এদিকে, ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন (ফায়ার) জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের যদি কোনো ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করা হয়ে থাকে, তবে তা সরাসরি মার্কিন সংবিধানের ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট বা প্রথম সংশোধনীর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, জাপানি বিজ্ঞানীদের ওষুধে আবার গজাবে দাঁত

দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, জাপানি বিজ্ঞানীদের ওষুধে আবার গজাবে দাঁত

অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০