- প্রচ্ছদ
- Topic
সিডনি
সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে সন্দেহভাজন গ্যাং হামলায় নিহত ৪০ বছর বয়সী জোশুয়া ম্যাকডোনাল্ডকে পরিবারের পক্ষ থেকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে, যিনি গুলির মুখে নিজের জীবনের কথা না ভেবে বন্ধুর দুই শিশুকন্যাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ বলছে, ম্যাকডোনাল্ডের সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র ছিল না এবং ঘটনাটি ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে। বুধবার বিকেলে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলের মেরিল্যান্ডস ওয়েস্টের ব্রুস স্ট্রিটের একটি বাড়ির সামনে গুলিতে নিহত হন ম্যাকডোনাল্ড। তিনি পেশায় বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, একটি চুরি যাওয়া ধূসর অডি গাড়িতে থাকা বন্দুকধারীরা ওই বাড়ির সামনে এসে গুলি চালায়। ম্যাকডোনাল্ড মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ম্যাকডোনাল্ড তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নিক ব্রাউন এবং ব্রাউনের দুই ছোট মেয়ের সঙ্গে বাড়িটির সামনে ছিলেন। গুলি শুরু হলে তিনি শিশুদের সামনে নিজেকে আড়াল হিসেবে দাঁড় করান। পরিবারের সদস্য ডার্লিন নর্টন জানিয়েছেন, তাঁর ভাগনে এমনই ছিলেন। বিপদে কাউকে দেখলে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে সামনে দাঁড়াতেন তিনি। ব্রাউন নর্টন পরিবারকে পাঠানো এক বার্তায় ম্যাকডোনাল্ডকে তাঁর নিজের ও সন্তানদের ‘অভিভাবক দেবদূত’ হিসেবে স্মরণ করেছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনেরা বলেন, তাঁর শেষ কাজটিও ছিল অন্যদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা। ঘটনার তদন্তে পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেছে। এতে একটি ধূসর অডি গাড়িকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখা গেছে। পুলিশের ধারণা, হামলাকারীরা যে ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেছিল, ম্যাকডোনাল্ড সম্ভবত সেই ব্যক্তি ছিলেন না। যে বাড়িতে তিনি গিয়েছিলেন, সেটির সঙ্গে অপরাধজগতের সংশ্লিষ্টতার তথ্য থাকলেও পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ম্যাকডোনাল্ড নিজে সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ম্যাকডোনাল্ড হত্যার মাত্র এক দিন আগে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্লেন অ্যালপাইনে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে। ৩১ আগস্ট ভোরে মুখোশধারী কয়েকজন একটি বাড়িতে ঢুকে ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মার্কো তাপিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। তাপিয়াও অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সেই ঘটনাও ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই ঘটনার মধ্যে মাত্র প্রায় ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধান থাকায় সিডনিতে সংগঠিত অপরাধীদের সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পুলিশের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এসব হামলার পেছনে একই অপরাধী চক্র বা বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা। ম্যাকডোনাল্ডের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁর খালা ডার্লিন নর্টন অভিযোগ করেন, হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি দীর্ঘ সময় ওই এলাকায় অবস্থান করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে আগে থেকে পুলিশি টহল বাড়ানো হলে হয়তো ঘটনাটি ঠেকানো সম্ভব হতো বলে তাঁর ধারণা। তবে নিউ সাউথ ওয়েলসের সরকার ও পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা কাজ করছে। পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন জানিয়েছেন, সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আদালতের মুখোমুখি করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীদের নির্দেশে স্থানীয় তরুণদের ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে কি না। এদিকে ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনেরা তাঁকে পরিশ্রমী, সদয় ও পরিবারপ্রিয় মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। তাঁর খালা জানিয়েছেন, মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। জবাবে ম্যাকডোনাল্ড লিখেছিলেন, দেখা হওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি। সেই সাক্ষাৎ আর হয়নি। পুলিশ এখনো দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তদন্তকারীরা হামলাকারীদের শনাক্ত করতে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। সূত্র: ডেইলি মেইল, এবিসি নিউজ ও ৭নিউজ।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত তরুণ মার্কো তাপিয়া একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী ও স্থানীয় চার্চের যুবনেতা ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাটিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবে তদন্ত করছে। তবে তিনি ভুল পরিচয়ের কারণে হামলার শিকার হয়েছিলেন কি না, সেটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ। মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ভোর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্লেন অ্যালপাইনের মাউন্ট সুগারলোফ ড্রাইভের একটি বাড়িতে তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি ঢুকে পড়ে। বাড়িটিতে তখন মার্কো, তার মা-বাবা ও বোন ছিলেন। হামলাকারীরা গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে জরুরি পরিষেবার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ভেতরে গুলিবিদ্ধ এক তরুণকে দেখতে পান। তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ প্রথম দিকে তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি এবং জানিয়েছিল, নিহতের বয়স ২০-এর কোঠায়। পরে সংবাদমাধ্যমগুলো তার পরিচয় মার্কো তাপিয়া হিসেবে প্রকাশ করে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কো তখন নিজের ঘরে বিছানায় ছিলেন। হামলাকারীরা তাকে গুলি করে ঘাড় ও হাতে আঘাত করে। ঘটনাটি এমন একটি বাড়িতে ঘটেছে, যেখানে পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। মার্কোর পরিবার সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি কোনো অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পুলিশের কাছে তার পরিচিতি ছিল একটি ছোটখাটো ট্রাফিক অপরাধের কারণে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অপরাধের রেকর্ড থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষাজীবনেও মার্কোর সামনে ছিল উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। তিনি ২০২৪ সালে মেডিকেল ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আরেকটি স্নাতক কোর্স শুরু করেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিকেন্দ্রিক অস্ত্রোপচার প্রযুক্তি নিয়ে একটি ইন্টার্নশিপেও যুক্ত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন মার্কো। প্রকৌশল বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। স্থানীয় হিলসং চার্চেও যুবনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। হিলসং চার্চের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দলও সম্প্রতি একটি পুরস্কার পেয়েছিল। গুরুতর পেশির ক্ষতির চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য একটি বিশেষ কাঠামো তৈরির প্রকল্পে কাজ করেছিলেন মার্কো ও তার দল। প্রায় এক মাস আগে ওই প্রকল্পের সাফল্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার পর মার্কোকে ভুল ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হত্যার শিকার করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার কিছুক্ষণ পর সিডনির ‘কোকোনাট কার্টেল’ নামে পরিচিত একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে এমন একটি বার্তা প্রকাশ করা হয়, যাতে ভুল ব্যক্তি ও ভুল বাড়িতে হামলার ইঙ্গিত ছিল। তবে ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, পুলিশ এখনো নিশ্চিত করেনি। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট গ্রেচিন অ্যাটকিনস জানিয়েছেন, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে সব সম্ভাবনাই বিবেচনা করা হচ্ছে। পুলিশ এখনো ঘটনাটিকে একটি লক্ষ্যভিত্তিক হামলা হিসেবে দেখছে। সিডনিতে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতকে ঘিরে একাধিক গুলির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ‘কোকোনাট কার্টেল’ এবং আলামেডিন অপরাধী নেটওয়ার্কের মধ্যে সংঘাতের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার এবিসি জানিয়েছে, দুই পক্ষের সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক গুলির ঘটনা ও সহিংসতার তদন্ত করছে পুলিশ। মার্কোর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই সংঘাতের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ। পুলিশ অবশ্য এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠীকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করেনি এবং কাউকে গ্রেপ্তারের কথাও জানায়নি। ঘটনার পর মাউন্ট সুগারলোফ ড্রাইভের ওই বাড়িটিকে অপরাধস্থল হিসেবে ঘিরে রাখা হয়। স্টেট ক্রাইম কমান্ডের হত্যাকাণ্ড তদন্তকারী দল স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে মিলে আলামত সংগ্রহ করছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছে। ঘটনার সময় ওই এলাকায় থাকা কোনো ব্যক্তি সন্দেহজনক গাড়ি, মানুষ বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড দেখে থাকলে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, তথ্য থাকলে ক্রাইম স্টপার্সে ১৮০০ ৩৩৩ ০০০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। দেওয়া তথ্য গোপন রাখা হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেশীদের কাছে ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, কারণ গ্লেন অ্যালপাইনের ওই আবাসিক এলাকা সাধারণত শান্ত বলেই পরিচিত। ডেইলি মেইলের সঙ্গে কথা বলা এক প্রতিবেশী জানান, কাছাকাছি বাড়িতে গুলির ঘটনা ঘটলেও তারা কোনো শব্দ শুনতে পাননি এবং পরে খবর দেখে ঘটনাটি নিজেদের রাস্তায় ঘটেছে বলে জানতে পারেন। একই সময়ে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত ঘিরে পুলিশের নজরদারি বাড়ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক গুলির ঘটনা এবং লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব সংঘাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। তবে মার্কো তাপিয়ার হত্যাকাণ্ডে তার নিজের কোনো অপরাধী সংশ্লিষ্টতা ছিল, এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্ত এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে। নিহত তরুণের পরিচয়, হামলার উদ্দেশ্য এবং হামলাকারীদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তথ্য চাওয়া হয়েছে। সূত্র: নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ, অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এবিসি), ডেইলি মেইল
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ‘স্কোয়াটার্স রাইটস’ বা অ্যাডভার্স পজেশন আইনের সুযোগ নিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি বাড়ির মালিকানা পাওয়ার ঘটনায় ৭৮ বছর বয়সী মার্গারেট কোলকুহুনকে দুই বছর চার মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার ছেলে অ্যান্ড্রু কোলকুহুনকে ১৮ মাসের কমিউনিটি কারেকশন অর্ডার দেওয়া হয়েছে। তবে মার্গারেটের স্বামী ও সিডনির সাবেক আইনজীবী পিটার কোলকুহুন অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে আলোচিত এ মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সিডনির গ্লেব এলাকার ৬১ বয়েস স্ট্রিটের একটি বাড়ি। আদালতের নথি ও অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্পত্তিটির মালিক ছিলেন আনসিস নিল্যান্ডস। ১৯৯৫ সালে তার মৃত্যুর পর সম্পত্তিটির উত্তরাধিকার নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। নিউ সাউথ ওয়েলসে অ্যাডভার্স পজেশনের মাধ্যমে কোনো সম্পত্তির মালিকানা দাবি করতে সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে মালিকের অনুমতি ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন ও একচ্ছত্র দখলের প্রমাণ দিতে হয়। এ ব্যবস্থাই সাধারণভাবে ‘স্কোয়াটার্স রাইটস’ নামে পরিচিত। মার্গারেট ও অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা সম্পত্তিটির দখল নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমন তথ্য দিয়েছিলেন, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিল ছিল না। বিশেষ করে তারা দাবি করেছিলেন, ২০০০ সালের নভেম্বরের দিকে বাড়িটির প্রকৃত দখল নিয়েছিলেন। এই সময়সীমা তাদের অ্যাডভার্স পজেশন দাবির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটি তখন পুরোপুরি পরিত্যক্ত ছিল না। বিচারক অ্যালিস্টার অ্যাবাডি মামলার তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে মার্গারেট ও অ্যান্ড্রুকে প্রতারণার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। মার্গারেট ২০০৪ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বাড়িটি ভাড়া দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার রেন্ট আদায় করেছিলেন বলেও আদালতে উঠে আসে। পরবর্তীতে সম্পত্তিটির মালিকানা তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ২০২২ সালে গ্লেবের বাড়িটি প্রায় ৩.৬৭ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারে বিক্রি করা হয়। সাজা ঘোষণার সময় বিচারক মার্গারেট ও তার ছেলের আচরণের সমালোচনা করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে তাদের কর্মকাণ্ডে প্রতারণামূলক আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মার্গারেট ২০২৭ সালের অক্টোবরে প্যারোলের জন্য যোগ্য হবেন। অ্যান্ড্রুকে কারাগারে না পাঠিয়ে ১৮ মাসের কমিউনিটি কারেকশন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে তার পারিবারিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নয় সন্তানের প্রধান দেখাশোনাকারী। অন্যদিকে পিটার কোলকুহুনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের অভিযোগ ছিল, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। তবে আদালত সেই অভিযোগ প্রয়োজনীয় মানদণ্ডে প্রমাণিত হয়নি বলে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেননি। মামলাটি অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে কারণ অ্যাডভার্স পজেশনের মাধ্যমে সম্পত্তি দাবি করার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগে ফৌজদারি বিচারের এমন নজির অত্যন্ত বিরল। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটিকে দেশটিতে এ ধরনের প্রথম সফল ফৌজদারি মামলার নজির হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই রায় একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য সামনে এনেছে। অ্যাডভার্স পজেশন নিজে অবৈধভাবে সম্পত্তি দখলের সমার্থক নয়। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে এর মাধ্যমে মালিকানা দাবি করা সম্ভব। কিন্তু সেই দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য দখলের সময়কাল বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা উপস্থাপন করলে তা ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দাদার ৫৬ লাখ ডলারের সম্পত্তি থেকে প্রায় ১০ লাখ ডলার দাবি করেছিলেন ২৭ বছর বয়সী টিয়ানা বার্লো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিউ সাউথ ওয়েলস সুপ্রিম কোর্ট তাকে মাত্র ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ে বিচারক এলিজাবেথ পেডেন মন্তব্য করেন, টিয়ানার দাবিতে ‘অযৌক্তিক অধিকারবোধ’ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রকাশিত আদালতের নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, টিয়ানার দাদা টেরেন্স বার্লো ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান। এরপর তিনি পারিবারিক সম্পত্তিতে অতিরিক্ত অংশ পাওয়ার দাবিতে মামলা করেন। তার দাবি ছিল, দাদা তার কাছে কেবল দাদা ছিলেন না, বরং বাবার মতো দায়িত্ব পালন করেছেন। সে কারণেই দাদার সম্পত্তি থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ পাওয়ার অধিকার তার রয়েছে। মামলায় টিয়ানা আদালতের কাছে দুই কক্ষের একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলার, নতুন গাড়ি কেনার জন্য ৫৫ হাজার ৫০০ ডলার, আগের গাড়ির ঋণ পরিশোধে ১১ হাজার ১২৭ ডলার, ভবিষ্যতে আইভিএফ চিকিৎসার সম্ভাব্য খরচ হিসেবে ১০ হাজার ডলার এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয়ের জন্য আরও ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার চেয়েছিলেন। টেরেন্স বার্লোর মোট সম্পত্তির মূল্য ছিল প্রায় ৫৬ লাখ ডলার। এর মধ্যে সিডনির বুরানিয়ারে অবস্থিত সমুদ্রতীরবর্তী পারিবারিক বাড়িটির মূল্য ছিল প্রায় ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এছাড়া শোল বে এলাকায় একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রের বাড়ির মূল্য ছিল প্রায় ৯ লাখ ডলার। আদালতে টিয়ানা দাবি করেন, সম্পত্তির পরিমাণ এত বেশি যে পরিবারের সবাইকে দেওয়ার পরও তার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকবে। শুনানিতে উঠে আসে, টিয়ানার মা ১৭ বছর বয়সে তাকে জন্ম দেন। জীবনের প্রথম কয়েক বছর তিনি দাদা-দাদির সঙ্গে একই বাড়িতে ছিলেন। পরে মায়ের সঙ্গে থাকলেও ১৫ বছর বয়সে আবার দাদার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং এরপর থেকেই সেখানে ভাড়ামুক্তভাবে বসবাস করছিলেন। এই সময়ে টিয়ানা একাধিক হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার করান। আদালতে জানানো হয়, তার চিকিৎসার বিভিন্ন খরচ বহন করেছিলেন দাদা টেরেন্স এবং দাদি ফে মেরি বার্লো। স্কুলের ফি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়েও তারা সহায়তা করেছিলেন। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা টিয়ানার বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি, টেরেন্স একজন স্নেহশীল দাদার দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু কখনোই অভিভাবকের ভূমিকা নেননি। বিচারক এলিজাবেথ পেডেন রায়ে বলেন, টিয়ানা দীর্ঘদিন দাদা-দাদির কাছ থেকে থাকার জায়গা, খাবার, পোশাক ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। তবে এসব ছিল একজন দাদার স্বাভাবিক উদারতা। এতে বাবা-মেয়ের মতো সম্পর্কের প্রমাণ মেলে না। রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, টিয়ানা দাদার বাড়িতে দীর্ঘদিন ভাড়ামুক্ত থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন। এই সময়ে তার অর্থ সঞ্চয়ের সুযোগ ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় খরচের পরিবর্তে তিনি আয়ের বড় অংশ ব্যক্তিগত ও বিলাসী ব্যয়ে ব্যয় করেছেন। মামলার সময় টিয়ানা একটি প্রতিষ্ঠানে স্টোর ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি পান। আদালতে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, তার মাসিক আয় ছিল ৪ হাজার ৩৪২ ডলার। তবে তিনি দাবি করেন, মাসিক ব্যয় আয়ের চেয়ে প্রায় ৫৬৭ ডলার বেশি। তার ব্যয়ের তালিকায় প্রতি মাসে খাবার ও পানীয়ের জন্য ১ হাজার ডলার, কেনাকাটা ও ব্যক্তিগত ব্যয়ে ১ হাজার ৫০০ ডলার, চিকিৎসা ও পরিচর্যায় ৫৩০ ডলার এবং বিনোদনে ৩০০ ডলার দেখানো হয়েছিল। বিচারক এসব হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে টিয়ানার ব্যয়ের হিসাব বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। যেমন শুরুতে তিনি গণপরিবহনে সপ্তাহে ১০০ ডলার ব্যয়ের কথা বললেও পরে সেটি ব্যাখ্যা ছাড়াই মাসে ৯০০ ডলারে উন্নীত করেন। একইভাবে চিকিৎসা ব্যয়ের দাবিও আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রমাণে সমর্থিত হয়নি। ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার জন্য আইভিএফ চিকিৎসার সম্ভাব্য ব্যয় হিসেবে ১০ হাজার ডলার চাওয়ার দাবিও আদালত খারিজ করে দেন। বিচারকের মতে, ভবিষ্যতে এমন চিকিৎসার প্রয়োজন হবে, তা প্রমাণ করার মতো কোনো তথ্য টিয়ানা উপস্থাপন করতে পারেননি। রায়ে বিচারক আরও বলেন, শুনানির শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিয়ানা অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে গেছেন। পরে এসে তিনি নিজেই তার দাবির পরিমাণ কমিয়ে আনেন। এতে বোঝা যায়, মামলার শুরুতে করা দাবিগুলো বাস্তবসম্মত ছিল না। সব দিক বিবেচনা করে আদালত টিয়ানাকে সম্পত্তি থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিচারক মন্তব্য করেন, টিয়ানা আর্থিকভাবে অসহায় নন। তার স্থায়ী চাকরি রয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনে কোনো বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার প্রমাণও আদালতে পাওয়া যায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে স্কুলের ছুটিতে সন্তানদের আনন্দ দিতে বারবিকিউ করতে গিয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এক মা। মার্শম্যালো ভাজার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হঠাৎ তার শরীরে আগুন ধরে যায়। ১১ বছরের ছেলে এবং ৭ বছরের মেয়ের চোখের সামনেই ঘটে এই ভয়াবহ ঘটনা, যা শেষ পর্যন্ত ওই নারীর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। শার্লট রোজ-অ্যান হিল নামের ওই নারী তার বাড়ির উঠানে সন্তানদের জন্য এই বিশেষ আয়োজন করছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তার ছেলে ও মেয়ে কাছেই ছিল এবং পুরো ঘটনাটি তারা অসহায়ভাবে প্রত্যক্ষ করে। শার্লটের কাজিন বিয়াঙ্কা হিল সংবাদমাধ্যমকে জানান, বাচ্চারা সে সময় অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। মায়ের গায়ে আগুন দেখে ছোট্ট মেয়েটি তার জীবনের সর্বোচ্চ শক্তিতে চিৎকার করে বাবাকে ডাকে, যিনি ওই সময় কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অন্যদিকে, মাত্র ১১ বছর বয়সী ছেলে নিজের জ্যাকেট দিয়ে মায়ের গায়ের আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে। শার্লটের স্বামী দ্রুত তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান। আগুনে শার্লটের মুখ ও হাত মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন তার অবস্থার হয়তো উন্নতি হচ্ছে। তিনি চিকিৎসায় সাড়াও দিচ্ছিলেন এবং হাসপাতাল থেকে ফোনে সন্তানদের সাথে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই শারীরিক নানা জটিলতা দেখা দেয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শার্লটের মৃত্যু তার পরিবারের জন্য আরও বেশি হৃদয়বিদারক, কারণ ছোটবেলায় তিনি নিজেও তার মায়ের মৃত্যু চোখের সামনে দেখেছিলেন। বিয়াঙ্কা জানান, শার্লট কখনোই চাননি তার সন্তানরা একই ধরনের মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাক। অত্যন্ত দয়ালু ও হাসিখুশি স্বভাবের শার্লট সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে যেকোনো কিছু করতে পারতেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি শিশুদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে চারপাশের মানুষের সহানুভূতি, ভালোবাসা ও একটি সুন্দর সমাজকাঠামোর প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির একটি জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতে সাঁতার কাটার সময় এক তরুণী হাঙ্গরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করতে সাহায্য করেছেন একজন স্থানীয় লাইফগার্ড। পলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত ওই তরুণীর বয়স পঁয়ত্রিশ বছর। গত শনিবার সকালে কুজি সৈকতে এই হাঙ্গরের আক্রমণের ঘটনা ঘটে। এতে তার হাত ও পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স কর্মকর্তা মাইকেল কর্লিস জানান, ওই তরুণী সমুদ্রের তীর থেকে প্রায় একশত ফুট দূরে তার দুই বন্ধুর সাথে সাঁতার কাটছিলেন। ঠিক তখনই হাঙ্গরটি আকস্মিকভাবে তার ওপর আক্রমণ করে বসে। লাইফগার্ড টনি ওয়ালার জানান, হাঙ্গরটি প্রায় এগারো ফুট লম্বা ছিল। প্রথম উদ্ধারকারী হিসেবে এগিয়ে যাওয়া লাইফগার্ড চার্লি ভার্কো জানান, তিনি নিজের প্যাডেলবোর্ডে থাকার সময় হাঙ্গরটিকে পানি থেকে ওপরে উঠতে দেখেন। হাঙ্গরটির বিশাল আকৃতি দেখে তিনি পুরোপুরি চমকে গিয়েছিলেন। চার্লি ভার্কো আরও জানান, তিনি তরুণীর দিকে প্যাডেলবোর্ড নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময়ই হাঙ্গরটি তাকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। এর কয়েক সেকেন্ড পরেই ওই তরুণী আবার পানির ওপরে ভেসে ওঠেন। সেই সময় সমুদ্রসৈকতে নিজের পরিবারের সাথে ছুটি কাটাচ্ছিলেন ইয়ান ফার্গুসন নামের একজন অফ-ডিউটি চিকিৎসক। তিনি জানান, আক্রমণের সাথে সাথেই সমুদ্রের পানির একটি বিশাল অংশ রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল। লাইফগার্ড চার্লি জানান, আহত তরুণী এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন যে নিজের শক্তিতে প্যাডেলবোর্ডে উঠতে পারছিলেন না। তখন চার্লি তার হাত ধরে টেনে সমুদ্রের তীরের দিকে নিয়ে আসতে শুরু করেন। পরবর্তীতে তীরে থাকা অন্যান্য সাধারণ মানুষ তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। সৈকতে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক ফার্গুসন এবং উপস্থিত অন্যান্যরা মিলে দ্রুত ওই তরুণীর ক্ষতস্থানে রক্তক্ষরণ বন্ধের ব্যবস্থা করেন। ফার্গুসন জানান, তরুণীর উরুতে প্রায় বারো ইঞ্চি চওড়া কামড়ের দাগ ছিল এবং ভেতরের হাড় দেখা যাচ্ছিল। তার হাতেও একই ধরনের ক্ষত তৈরি হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে হেলিকপ্টারে করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং ক্ষত সারাতে অনেকগুলো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে। এই ঘটনার পর ওই এলাকার সব সৈকত আগামী চব্বিশ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।