সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সুদের হার

যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে মর্টগেজ রেট। ছবি: সংগৃহীত
মর্টগেজ রেট এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা আরও ব্যয়বহুল হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ বা গৃহঋণের সুদের হার এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মদদপুষ্ট মর্টগেজ প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। মূলত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মূল্যস্ফীতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   ফ্রেডি ম্যাকের প্রাইমারি মর্টগেজ মার্কেট সার্ভের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজের গড় হার বেড়ে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ২০২৫ সালের ৩১ জুলাইয়ের পর এটিই সর্বোচ্চ গড় হার। ওই সময় ৩০ বছর মেয়াদি মর্টগেজের হার ছিল ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। এক বছর আগে এই গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।   অন্যদিকে, ১৫ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজের গড় হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত সপ্তাহের ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ থেকে বেড়ে এই হার ৬ দশমিক ০৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সুদের হার বাড়লেও আবাসন বাজারের ক্রেতাদের আগ্রহে খুব একটা ভাটা পড়েনি। ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটের বলেন, বাড়ি কেনার চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এটি পরিবর্তনশীল বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া ক্রেতাদের অব্যাহত আগ্রহের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।   মর্টগেজ রেট মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক নানা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যদিও মর্টগেজ রেট সরাসরি ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত নয়, তবে এটি সাধারণত ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি ইয়েল্ড বা সরকারি বন্ডের আয়ের ওপর নির্ভর করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ট্রেজারি ইয়েল্ডের হার ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ।   চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে এই সুদের হার ক্রমশ বাড়ছে। রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জিয়াই শু বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তেলের দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং তা ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা থেকে আরও দূরে সরে যাচ্ছে।   তিনি আরও জানান, যখন মনে হচ্ছিল সংঘাতের সমাধান হতে চলেছে, তখন বন্ড ইয়েল্ড কমেছিল এবং মর্টগেজ রেটও নিম্নমুখী হয়েছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার কারণে তেলের দাম আবার বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির শঙ্কাকে উসকে দিয়েছে এবং ইয়েল্ড ও মর্টগেজ রেট আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে।   সূত্র: ফক্স বিজনেস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
দেশটির জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, বাড়তে পারে বাড়ি-গাড়ি ও ক্রেডিট কার্ডের সুদ

যুক্তরাষ্ট্রের মোট জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ঋণের এই নতুন মাইলফলক দেশটির অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণ দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সরকারি সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বাড়ছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বাড়ি, গাড়ি ও ক্রেডিট কার্ডের মতো ব্যক্তিগত ঋণের সুদের ওপর পড়তে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের দৈনিক হিসাব অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির মোট সরকারি ঋণ ছিল প্রায় ৪০.০৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাজারে থাকা সরকারি ঋণ প্রায় ৩২.২৭ ট্রিলিয়ন ডলার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজেদের মধ্যে থাকা ঋণ প্রায় ৭.৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার।   মাত্র এক দশকের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় দেশটির মোট ঋণ ছিল ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে। এরপর ট্রাম্প ও জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় ঋণ দ্রুত বেড়েছে। এর বড় একটি অংশ এসেছে কোভিড-১৯ মহামারির সময়কার সরকারি ব্যয় থেকে। তবে মহামারি শেষ হওয়ার পরও রাজস্ব ও ব্যয়ের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ব্যবধান ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে রয়েছে।   ঋণ বাড়ার সঙ্গে সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি হলো সুদ পরিশোধের ব্যয়। পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে জাতীয় ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটি বলছে, সুদের ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকা সরকারি বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।   এখানেই সাধারণ আমেরিকানদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সরকার যখন ঋণ নেওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের বেশি সুদ দিতে বাধ্য হয়, তখন সরকারি বন্ডের সুদের হার বা ফলন বাড়তে পারে। আর যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদের হার দেশটির অন্যান্য ঋণের সুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।   অর্থাৎ, সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের ঋণ নেওয়ার খরচেও পড়তে পারে। বাড়ি কেনার জন্য গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ কিংবা ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার দীর্ঘমেয়াদে চাপের মুখে পড়তে পারে। পিটারসন ফাউন্ডেশনও বলছে, জাতীয় ঋণ বাড়ার ফলে সুদের হারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে এবং এতে পরিবারের জীবনযাত্রার খরচ বাড়তে পারে।   এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের বাজারে চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রকে ঋণ দেওয়ার বিনিময়ে বেশি মুনাফা দাবি করছেন। এর ফলে ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বেড়েছে এবং পুরোনো ঋণ পুনঃঅর্থায়ন ও নতুন ঘাটতি মেটাতে সরকারের খরচও বাড়ছে।   জাতীয় ঋণের পুরো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার অবশ্য সরাসরি বাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে পাওনা নয়। এর একটি বড় অংশ সরকারের বিভিন্ন তহবিল ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হিসাব করা হয়। ট্রেজারি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৩২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ জনসাধারণের হাতে থাকা সরকারি সিকিউরিটিজের মাধ্যমে রয়েছে। বাকি প্রায় ৭.৮ ট্রিলিয়ন ডলার সরকারের অভ্যন্তরীণ হিসাবের ঋণ।   ঋণের দ্রুত বৃদ্ধির পেছনে শুধু একটি প্রেসিডেন্ট বা একটি রাজনৈতিক দলের নীতিকে দায়ী করা কঠিন। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় প্রশাসনের সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বেড়েছে। মহামারি মোকাবিলা, করনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং অন্যান্য সরকারি কর্মসূচির ব্যয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রাজস্বের ঘাটতি যুক্ত হয়েছে।   রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কোভিড-১৯-সংক্রান্ত ঋণ বাদ দিয়েও অনুমোদিত নতুন ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। বাইডেনের সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে দুই প্রশাসনের সময়কার ঋণ বৃদ্ধির তুলনা করার ক্ষেত্রে মহামারি এবং বিভিন্ন সময়ের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।   বর্তমান প্রশাসন ঋণের চাপ সামাল দিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও বলেছেন, অর্থনীতিকে আরও দ্রুত বাড়িয়ে ঋণের বোঝা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে বাজেট বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে সরকারি ব্যয় ও রাজস্বের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে ব্যয় কমানো, কর থেকে আয় বাড়ানো অথবা দুটির সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে।   এদিকে ঋণের বাজারে চাপ কমাতে ট্রেজারি বিভাগ ঋণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনছে। দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সরবরাহ ও বাজারের চাপ সামলাতে সরকার বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯ আগস্ট ট্রেজারি ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের ফলন ১৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর পুনঃক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।   পরদিন বেসেন্ট জানান, প্রয়োজনে এই পুনঃক্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে। তবে বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বাজারে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু জাতীয় ঋণের মূল কারণগুলো সমাধান করে না।   জাতীয় ঋণ নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি দিক হলো, সরকারকে যদি বাজেটের ক্রমবর্ধমান অংশ শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় করতে হয়, তাহলে শিক্ষা, অবকাঠামো, গবেষণা কিংবা অন্যান্য সরকারি কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয়ের সুযোগ কমে যেতে পারে। পিটারসন ফাউন্ডেশন বলছে, ঋণের সুদ ব্যয় বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিনিয়োগ ও সামাজিক কর্মসূচির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।   তবে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ মানেই যে সাধারণ আমেরিকানদের তাৎক্ষণিকভাবে সমপরিমাণ ব্যক্তিগত ঋণ নিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। একজন মানুষের ওপর গড়ে প্রায় কত ঋণ পড়ে, এমন হিসাব মূলত জাতীয় ঋণকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে তৈরি করা একটি পরিসংখ্যান। এটি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ব্যাংক ঋণ বা সরকারের কাছে তাঁর সরাসরি পাওনা বোঝায় না।   তবু এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব বাস্তব। সরকারি ঋণ যত বাড়বে এবং সেই ঋণের জন্য সুদ যত বেশি দিতে হবে, তত বেশি অর্থ বাজেটের অন্য খাত থেকে সরিয়ে দিতে হতে পারে। একই সঙ্গে বন্ডের সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে পরিবারের নতুন ঋণ নেওয়া আরও ব্যয়বহুল হতে পারে।   এই কারণেই ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলককে শুধু একটি বড় সংখ্যা হিসেবে দেখছেন না অর্থনীতিবিদ ও বাজেট বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের কাছে এটি যুক্তরাষ্ট্রের আয় ও ব্যয়ের দীর্ঘদিনের ভারসাম্যহীনতার একটি বড় সতর্কসংকেত। সামনে কংগ্রেস ও প্রশাসন কীভাবে ব্যয়, কর এবং ঋণ ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই ঋণের চাপ শেষ পর্যন্ত কতটা বাড়বে এবং তার প্রভাব সাধারণ আমেরিকান পরিবারের ওপর কতটা পড়বে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ ঋণের সুদের হার নিয়ে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের চিত্র। ছবি: সংগৃহীত
মর্টগেজে বছরে গড়ে ৩,৩০০ ডলার বেশি দিচ্ছেন লাখো মার্কিন বাড়ির মালিক

যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বাড়ির মালিক তাদের মর্টগেজ ঋণের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অর্থ পরিশোধ করছেন। ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক ওয়েবসাইট ব্যাংকরেটের এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে একজন ঋণগ্রহীতা বছরে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করছেন। দীর্ঘমেয়াদে ৩০ বছরের একটি মর্টগেজ ঋণে এই অতিরিক্ত ব্যয় গড়ে ৭৮ হাজার ১৮৬ ডলারে পৌঁছাতে পারে।   নিউজউইকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে নেওয়া ৩২ লাখ মর্টগেজ ঋণের তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যাংকরেট এ ফলাফল প্রকাশ করেছে। গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৮৭ শতাংশ বাড়ি ক্রেতা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী বাজারে উপলব্ধ সর্বনিম্ন সুদের হার পাননি। কারণ, অধিকাংশ ঋণগ্রহীতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব তুলনা না করেই একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ গ্রহণ করেন। অন্যদিকে ঋণদাতারাও সাধারণত গ্রাহককে আরও ভালো বিকল্পের কথা জানান না।   গবেষণা অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর থেকে নেওয়া সব মর্টগেজ ঋণ মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণগ্রহীতারা বছরে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করছেন। ব্যাংকরেট এই অতিরিক্ত ব্যয়কে "গোপন বাড়ির মালিকানা কর" হিসেবে উল্লেখ করেছে।   ব্যাংকরেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও গবেষণার প্রধান লেখক ম্যাট ফেলোস বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তবে শুধু বাজার পরিস্থিতিই নয়, ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়াও অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্যার জন্য দায়ী। তার ভাষায়, প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার বাজারে রয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ ঋণগ্রহীতা সেই সুযোগ সম্পর্কে জানতেই পারেন না।   তিনি বলেন, ঋণদাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হলে একজন গ্রাহক গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৭৯ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারেন। এই অর্থ অনেক পরিবারের জন্য বাড়ি কেনার সক্ষমতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের হার অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন। পেনসিলভানিয়ায় প্রায় ৯০ দশমিক ২ শতাংশ ঋণগ্রহীতা বছরে গড়ে ৩ হাজার ডলার বেশি দিচ্ছেন। ওরেগনে এই হার ৯০ দশমিক ১ শতাংশ, যেখানে অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৪ হাজার ডলার। অন্যদিকে আইওয়া, কলোরাডো, অ্যারিজোনা ও সাউথ ডাকোটায় তুলনামূলকভাবে কম মানুষ অতিরিক্ত অর্থ দিচ্ছেন।   তবে ঋণের মোট অঙ্কের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদি অতিরিক্ত ব্যয়ের হার সবচেয়ে বেশি নিউ হ্যাম্পশায়ার, ইলিনয়, নিউ জার্সি ও ফ্লোরিডায়। ব্যাংকরেটের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের অনেক শহরে ঋণগ্রহীতারা তাদের প্রকৃত যোগ্যতার তুলনায় বেশি সুদের হারে ঋণ নিচ্ছেন। এর পেছনে স্থানীয় বাজারে সীমিত প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন ঋণদাতার প্রস্তাব তুলনা না করার প্রবণতা বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো সম্ভব। মর্টগেজ গ্রহণের আগে একাধিক ব্যাংক বা ঋণদাতার কাছ থেকে প্রস্তাব সংগ্রহ করে সুদের হার, ফি এবং অন্যান্য শর্ত তুলনা করা উচিত। একাধিক প্রস্তাব থাকলে গ্রাহক নিজের পছন্দের ঋণদাতার সঙ্গে আরও কম সুদের হার নিয়ে আলোচনার সুযোগও পান।   মর্টগেজ খাতের গবেষক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ আলেক্সেই আলেকসান্দ্রভ বলেন, অনেকেই মনে করেন সব ঋণদাতা একই সুদের হার দেন। বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন। সুদের হারে মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ পার্থক্যও দীর্ঘমেয়াদে হাজার হাজার ডলার সাশ্রয় করতে পারে।   এদিকে ফ্রেডি ম্যাকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদের মর্টগেজের গড় হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশে। এটি জুলাই ২০২৫ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়।   এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকরেট দুটি নীতিগত পরিবর্তনেরও প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, প্রতিটি মর্টগেজ প্রস্তাবের সঙ্গে একই ধরনের যোগ্যতা সম্পন্ন গ্রাহকদের জন্য প্রচলিত মানদণ্ডের সুদের হার উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। পাশাপাশি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বহু ঋণদাতা প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী সনদ ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। ব্যাংকরেটের দাবি, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে নতুন কোনো সরকারি কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
উচ্চ সুদের ধাক্কায় কমছে নতুন Airbnb ব্যবসা
উচ্চ সুদের ধাক্কায় কমছে নতুন Airbnb ব্যবসা, বাড়ছে পুরোনোদের দাপট

যুক্তরাষ্ট্রে ৬ শতাংশের বেশি মর্টগেজ সুদের হার নতুন স্বল্পমেয়াদি ভাড়া (শর্ট-টার্ম রেন্টাল) খাতে বিনিয়োগকে উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করে দিয়েছে। ফলে নতুন এয়ারবিএনবি হোস্টের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আগে থেকেই ব্যবসায় থাকা হোস্টরা তুলনামূলক কম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। এতে ২০২৬ সালে তাদের বুকিং বা দখল হার (অকুপেন্সি) স্থিতিশীল থাকছে এবং ভাড়ার মূল্য নির্ধারণেও তারা আগের চেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।   রিয়েল এস্টেট খাতের বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ সুদের কারণে নতুন সম্পত্তি কিনে স্বল্পমেয়াদি ভাড়া ব্যবসায় প্রবেশের ব্যয় বেড়ে গেছে। এতে অনেক সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী পরিকল্পনা স্থগিত বা বাতিল করেছেন। অন্যদিকে, যেসব মালিক আগের কম সুদের সময়ে মর্টগেজ নিয়েছিলেন, তাদের মাসিক ঋণ পরিশোধের চাপ তুলনামূলক কম থাকায় ব্যবসায়িক ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সরবরাহের গতি কমে যাওয়ায় বাজারে বিদ্যমান এয়ারবিএনবি হোস্টদের জন্য প্রতিযোগিতা হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে অনেক এলাকায় বুকিং হার স্থিতিশীল রয়েছে এবং চাহিদা অনুযায়ী ভাড়ার দাম নির্ধারণে তারা আগের তুলনায় বেশি সক্ষম হচ্ছেন।   তবে বাজার পরিস্থিতি অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে। পর্যটকের চাহিদা, স্থানীয় অর্থনীতি, শহরভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার নিয়ন্ত্রণনীতি এবং মৌসুমি ভ্রমণের প্রবণতার ওপরও ব্যবসার সাফল্য নির্ভর করে। তাই উচ্চ সুদের কারণে নতুন বিনিয়োগ কমলেও সব বাজারে একই ধরনের প্রভাব পড়ছে না বলে বিশ্লেষকদের মত।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
যুদ্ধবিরতির অগ্রগতিতে যুক্তরাষ্ট্রে কমলো মর্টগেজ সুদের হার

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মার্কিন আর্থিক বাজারে। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ঋণ বা মর্টগেজের সুদের হার এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।   সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বছরের ফিক্সড-রেট মর্টগেজের গড় সুদের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশে। আগের সপ্তাহে এ হার ছিল ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। আবাসন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাক জানিয়েছে, এক বছর আগে একই সময়ে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ।   একই সঙ্গে ১৫ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় সুদের হারও কিছুটা কমে ৫ দশমিক ৮১ শতাংশে নেমে এসেছে। আগের সপ্তাহে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ।   অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা কমার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য কাঠামোগত চুক্তির অগ্রগতি বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বন্ড মার্কেটে, যা মর্টগেজ সুদের হার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটার বলেন, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে ভোক্তাদের ব্যয় স্থিতিশীল রয়েছে। পাশাপাশি খুচরা বিক্রয় ও বাড়ি কেনার আগ্রহেও কিছুটা উন্নতি দেখা যাচ্ছে। এসব কারণে আবাসন বাজারে ধীরে ধীরে চাহিদা বাড়ছে।   বিশ্লেষকদের ভাষ্য, মর্টগেজের সুদের হার সরাসরি ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী সুদের হারের সঙ্গে সম্পর্কিত না হলেও ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এর ওপর বড় প্রভাব ফেলে।   বর্তমানে ফেডারেল রিজার্ভ মূল্যস্ফীতি এখনো লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকায় সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে সুদের হার কমার সম্ভাবনার দিকেও নজর রাখছেন।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান ইস্যুকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে আর্থিক বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতির কারণে তা কিছুটা কমেছে। তবে বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ফেডের ভবিষ্যৎ নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে আগামী মাসগুলোতে মর্টগেজ হারের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।   তাদের মতে, সুদের হার কিছুটা কমলেও তা এখনো তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার খরচ অনেক সম্ভাব্য ক্রেতার জন্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

Unknown জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার ১ শতাংশে তুলল জাপান, ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় মুদ্রা ইয়েনের ধারাবাহিক পতন ঠেকাতে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদের হার বাড়িয়ে ১ শতাংশে উন্নীত করেছে। মঙ্গলবার ব্যাংক অব জাপান এই সিদ্ধান্ত নেয়, যা ১৯৯৫ সালের পর দেশটির সবচেয়ে উচ্চ সুদের হার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া আর্থিক নীতি স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হলো।   এর আগে গত ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়িয়ে ০.৭৫ শতাংশ করা হয়েছিল। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হয়, যা পরিচালনা পর্ষদের ৭–১ ভোটে অনুমোদিত হয়। একমাত্র ভিন্নমত দেন বোর্ড সদস্য তোইচিরো আসাদা, যিনি বর্তমান হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দেন।   সুদের হার বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং ইয়েনের দুর্বলতা উল্লেখ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জাপানের বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে দুর্বল ইয়েন আমদানিকৃত পণ্যের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।   সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ০.৪৬ শতাংশ বেড়ে যায়। পাশাপাশি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েন সামান্য শক্তিশালী হয়ে ১৬০.২২ পর্যায়ে পৌঁছায়। দেশটির ১০ বছরের সরকারি বন্ডের ইল্ডও ৩ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ২.৬১৫ শতাংশে দাঁড়ায়।   ব্যাংক অব জাপান জানিয়েছে, তারা প্রতি প্রান্তিকে ২০০ বিলিয়ন ইয়েন করে সরকারি বন্ড কেনা কমাবে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে ২ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বন্ড কেনা বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সরকার ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে ভোক্তা মুদ্রাস্ফীতি এখনো ২ শতাংশের নিচে রয়েছে। তবে অপরিশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব দ্রুতই উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে পণ্য ও সেবার দামে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।   মে মাসে জাপানের উৎপাদক মূল্য সূচক ৬.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও স্পষ্ট হয়েছে। জেপি মরগান অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রধান বাজার কৌশলবিদ তাই হুই বলেন, সুদের হার বৃদ্ধি বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও নীতি প্রণয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।   অন্যদিকে ইয়েনের ধারাবাহিক দুর্বলতা নিয়ন্ত্রণে বারবার বাজারে হস্তক্ষেপ করেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি বলে মনে করছেন টোকিওভিত্তিক বিশ্লেষকরা। মনেক্স গ্রুপের বিশেষজ্ঞ জেসপার কোল বলেন, নীতিগত পরিবর্তন ছাড়া কেবল বাজারে হস্তক্ষেপ কার্যকর নয়।   মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামাল দিতে জাপান সরকার ইতোমধ্যে ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েনের সম্পূরক বাজেট অনুমোদন করেছে। যদিও কর সংস্কার ও শিক্ষা খাতে ব্যয়ের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা কমে ১.৪ শতাংশে নেমেছে, তা মূলত সাময়িক প্রভাব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।   বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার বৃদ্ধি জাপানের অর্থনীতিতে মূল্য স্থিতিশীলতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও ইয়েনের দুর্বলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

Unknown জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০