স্বপ্নের বাড়ি

ম্যাডি ওলসন ও তাঁর স্বামী I ছবি: সংগৃহীত
ওয়াশিংটনে নিজের হাতে স্বপ্নের বাড়ি গড়লেন দম্পতি, মাসিক মর্টগেজ ৯০০ ডলারেরও কম

বাড়ি তৈরির বিশাল নির্মাণ ব্যয় বাঁচাতে এক অভিনব ও সাহসী উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক দম্পতি। কোনো ধরনের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিজেদের স্বপ্নের বাড়ি নিজেদের হাতেই গড়ে তুলে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ম্যাডি ওলসন ও তাঁর স্বামী। মূলত নির্মাণ খরচ কমিয়ে বাড়ির মাসিক মর্টগেজ বা ঋণের কিস্তি সাধ্যের মধ্যে রাখতেই তাঁরা এই চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে মাত্র নয় মাসের মধ্যেই তাঁরা নিজেদের এই নতুন বাড়ির নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।   বাড়ি তৈরির এই দীর্ঘ যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। বাড়ির দুটি বাথরুমের মেঝে ও দেয়ালে টাইলস বসানোর মতো অত্যন্ত দক্ষ কাজের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতাই ছিল না ম্যাডি ওলসনের। কিন্তু এই অনভিজ্ঞতা তাঁদের দমিয়ে রাখতে পারেনি। কাজে বারবার ভুল হওয়া এবং সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে তাঁরা হার না মেনে একটু একটু করে এগিয়ে গেছেন। নিজেদের এই 'ডু ইট ইওরসেলফ' (DIY) বা স্বাবলম্বী উদ্যোগের ফলে তাঁরা পেশাদার মিস্ত্রি ও ঠিকাদারদের পেছনে ব্যয় হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন।   নিজেদের এই প্রথম বাড়িটি তৈরি করার পুরোটা সময় জুড়ে ওলসন দম্পতি অত্যন্ত কঠোরভাবে তাঁদের নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে থাকার চেষ্টা করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁরা সফলও হয়েছেন। বর্তমানে তাঁদের এই পরিশ্রমের ফসল বাড়িটির জন্য মাসিক মর্টগেজ বা কিস্তি বাবদ ৯০০ ডলারেরও কম অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। নিজেদের একাগ্রতা আর শ্রমে গড়া এই বাড়িটি এখন শুধু তাঁদের কাছে একটি নিরাপদ আশ্রয়ই নয়, বরং সাশ্রয়ী উপায়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে চাওয়া অসংখ্য মানুষের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
৩০ হাজার ডলারে গড়লেন স্বপ্নের বাড়ি, শহুরে জীবন ছেড়ে জঙ্গলে সুখ খুঁজে পেলেন দম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ঘন জঙ্গলের মধ্যে একটি গম্বুজাকৃতির বাড়িতে বসবাস করেন শন ও জেসিকা হিউজ দম্পতি। নিকটতম মুদি দোকানে যেতে তাদের পাঁচ ঘণ্টারও বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়। মাসে দুইবার দীর্ঘ এই যাত্রা করতে হলেও তারা মনে করেন, এটাই তাদের কাঙ্ক্ষিত জীবন।   আজ থেকে কয়েক বছর আগে তাদের জীবন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বড় স্বপ্ন নিয়ে পশ্চিম পেনসিলভানিয়া থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু উচ্চ আয় থাকা সত্ত্বেও জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। একপর্যায়ে সবকিছু হারিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় এক বছরের বেশি সময় গৃহহীন অবস্থায় কাটাতে হয় তাদের।   দম্পতির ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তাদের জীবনের অধিকাংশ সময় কেটে যেত কাজের পেছনে। বছরে এক লাখ ডলারের বেশি আয় করলেও সেই অর্থে স্বস্তির জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বরং প্রতিদিনের ব্যয় মেটাতেই সংগ্রাম করতে হচ্ছিল।   পরিস্থিতি কিছুটা বদলায় যখন তারা একটি আরভি বা ভ্রাম্যমাণ বাসগাড়ি কিনতে সক্ষম হন। পরে মরুভূমি এলাকায় বসবাসের সময় ইউটিউবে অফ-গ্রিড জীবনধারা নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হন। তখনই তারা সিদ্ধান্ত নেন, প্রচলিত জীবন থেকে সরে এসে স্বনির্ভর জীবন গড়ে তুলবেন।   ২০২১ সালের এপ্রিলে একটি মালিকানাভিত্তিক জমি বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা প্রায় এক হাজার ডলারে ২০ একর জমি কেনেন। জমিটি ছিল টেনেসির একটি প্রত্যন্ত বনাঞ্চলে। বর্তমানে ওই জমির জন্য প্রতি মাসে তাদের প্রায় ৫৬০ ডলার পরিশোধ করতে হয়।   শুরুতে তারা স্থায়ী বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করেননি। আরভিতেই থাকার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বাসগাড়িটিতে পানি ঢুকে ছত্রাক ছড়িয়ে পড়ায় সেটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে তারা একটি ছোট টুলশেডে আশ্রয় নেন। সেই সংকট থেকেই দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে নির্মাণযোগ্য বাড়ির খোঁজ শুরু হয়। পরে তারা জিওডেসিক ডোম বা গম্বুজাকৃতির বাড়ির ধারণা পান। কাঠামোটি ঝড়-বৃষ্টি মোকাবিলায় তুলনামূলক শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি নির্মাণ খরচও কম ছিল।   বাড়িটির মূল কাঠামো, পরিবহন ব্যয় এবং অতিরিক্ত ডেক নির্মাণে প্রায় ১০ হাজার ডলার খরচ হয়। পরে পানির সংযোগ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, কাঠের চুলাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো স্থাপনে আরও প্রায় ২০ হাজার ডলার ব্যয় করেন তারা। সব মিলিয়ে বাড়িটি নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রে একটি সাধারণ বাড়ির গড় মূল্যের তুলনায় অনেক কম।   তবে এই জীবন একেবারেই চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। গ্রীষ্মকালে গম্বুজাকৃতির বাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আবার শীতকালে তা নেমে আসে ২০ ডিগ্রিতে। ফলে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ তাদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া বন্যপ্রাণী ও পোকামাকড়ের সঙ্গে সহাবস্থান করাও সহজ ছিল না। জেসিকা জানান, প্রথম দিকে সাপ, টিকটিকি, মৌমাছি ও বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপস্থিতি তাকে ভীষণ অস্বস্তিতে ফেলেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখেছেন।   পানির ব্যবস্থাও তাদের নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলতে হয়েছে। জমির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝরনার পানি এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে ব্যবহার করেন তারা। কাপড় ধোয়ার মতো সাধারণ কাজের জন্যও অনেক সময় ঝরনার কাছে যেতে হয়। তবু শন মনে করেন, এই জীবন তাদের স্বাধীনতা দিয়েছে। তার ভাষায়, শহুরে জীবনে অর্থ দিয়ে যে সুবিধা কিনতে হয়, অফ-গ্রিড জীবনে সেগুলোর জন্য শ্রম দিতে হয়। কিন্তু সেই শ্রমের বিনিময়ে তারা নিজের জীবনকে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন।   দম্পতি নিজেদের খাদ্যের একটি বড় অংশ উৎপাদন করেন। বিভিন্ন ফল ও সবজি চাষ করেন, খাবার সংরক্ষণের কৌশল শিখছেন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে পণ্য বিনিময়ও করেন। তাদের লক্ষ্য যতটা সম্ভব স্বনির্ভর হওয়া।   অন্যদিকে, এই জীবনধারাকে কেন্দ্র করে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। টিকটক ও ইউটিউবে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তারা। বিশেষ করে অফ-গ্রিড জীবনের বাস্তবতা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং প্রতিদিনের সংগ্রামের কথা খোলামেলাভাবে বলার কারণে তাদের অনুসারী সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।   বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আয়, করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতা এবং ভিডিও নির্মাণের কাজ থেকেও উপার্জন করছেন তারা। এর ফলে জমি ছেড়ে বাইরে নিয়মিত চাকরি করতে হয় না। ভবিষ্যতে তারা আরও বড় বা বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। বরং ছোট ও সহজ জীবনধারা বজায় রেখে প্রায় এক হাজার বর্গফুটের একটি কেবিন নির্মাণ করতে চান। পাশাপাশি একটি গ্রিনহাউস এবং উন্নত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।   গৃহহীন জীবন থেকে শুরু করে স্বনির্ভর অফ-গ্রিড জীবনে পৌঁছানোর এই যাত্রা অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে। তবে শন ও জেসিকা মনে করেন, এটি কোনো রূপকথা নয়। বরং স্বাধীনতা, শ্রম, ত্যাগ এবং বাস্তবতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি ভিন্নধর্মী জীবনযাপন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
৩০ হাজার ডলারে গড়লেন স্বপ্নের বাড়ি, শহুরে জীবন ছেড়ে জঙ্গলে সুখ খুঁজে পেলেন দম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ঘন জঙ্গলের মধ্যে একটি গম্বুজাকৃতির বাড়িতে বসবাস করেন শন ও জেসিকা হিউজ দম্পতি। নিকটতম মুদি দোকানে যেতে তাদের পাঁচ ঘণ্টারও বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়। মাসে দুইবার দীর্ঘ এই যাত্রা করতে হলেও তারা মনে করেন, এটাই তাদের কাঙ্ক্ষিত জীবন।   আজ থেকে কয়েক বছর আগে তাদের জীবন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বড় স্বপ্ন নিয়ে পশ্চিম পেনসিলভানিয়া থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু উচ্চ আয় থাকা সত্ত্বেও জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। একপর্যায়ে সবকিছু হারিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় এক বছরের বেশি সময় গৃহহীন অবস্থায় কাটাতে হয় তাদের।   দম্পতির ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তাদের জীবনের অধিকাংশ সময় কেটে যেত কাজের পেছনে। বছরে এক লাখ ডলারের বেশি আয় করলেও সেই অর্থে স্বস্তির জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বরং প্রতিদিনের ব্যয় মেটাতেই সংগ্রাম করতে হচ্ছিল।   পরিস্থিতি কিছুটা বদলায় যখন তারা একটি আরভি বা ভ্রাম্যমাণ বাসগাড়ি কিনতে সক্ষম হন। পরে মরুভূমি এলাকায় বসবাসের সময় ইউটিউবে অফ-গ্রিড জীবনধারা নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হন। তখনই তারা সিদ্ধান্ত নেন, প্রচলিত জীবন থেকে সরে এসে স্বনির্ভর জীবন গড়ে তুলবেন।   ২০২১ সালের এপ্রিলে একটি মালিকানাভিত্তিক জমি বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা প্রায় এক হাজার ডলারে ২০ একর জমি কেনেন। জমিটি ছিল টেনেসির একটি প্রত্যন্ত বনাঞ্চলে। বর্তমানে ওই জমির জন্য প্রতি মাসে তাদের প্রায় ৫৬০ ডলার পরিশোধ করতে হয়।   শুরুতে তারা স্থায়ী বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করেননি। আরভিতেই থাকার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বাসগাড়িটিতে পানি ঢুকে ছত্রাক ছড়িয়ে পড়ায় সেটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে তারা একটি ছোট টুলশেডে আশ্রয় নেন। সেই সংকট থেকেই দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে নির্মাণযোগ্য বাড়ির খোঁজ শুরু হয়। পরে তারা জিওডেসিক ডোম বা গম্বুজাকৃতির বাড়ির ধারণা পান। কাঠামোটি ঝড়-বৃষ্টি মোকাবিলায় তুলনামূলক শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি নির্মাণ খরচও কম ছিল।   বাড়িটির মূল কাঠামো, পরিবহন ব্যয় এবং অতিরিক্ত ডেক নির্মাণে প্রায় ১০ হাজার ডলার খরচ হয়। পরে পানির সংযোগ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, কাঠের চুলাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো স্থাপনে আরও প্রায় ২০ হাজার ডলার ব্যয় করেন তারা। সব মিলিয়ে বাড়িটি নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রে একটি সাধারণ বাড়ির গড় মূল্যের তুলনায় অনেক কম।   তবে এই জীবন একেবারেই চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। গ্রীষ্মকালে গম্বুজাকৃতির বাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আবার শীতকালে তা নেমে আসে ২০ ডিগ্রিতে। ফলে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ তাদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া বন্যপ্রাণী ও পোকামাকড়ের সঙ্গে সহাবস্থান করাও সহজ ছিল না। জেসিকা জানান, প্রথম দিকে সাপ, টিকটিকি, মৌমাছি ও বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপস্থিতি তাকে ভীষণ অস্বস্তিতে ফেলেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখেছেন।   পানির ব্যবস্থাও তাদের নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলতে হয়েছে। জমির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝরনার পানি এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে ব্যবহার করেন তারা। কাপড় ধোয়ার মতো সাধারণ কাজের জন্যও অনেক সময় ঝরনার কাছে যেতে হয়। তবু শন মনে করেন, এই জীবন তাদের স্বাধীনতা দিয়েছে। তার ভাষায়, শহুরে জীবনে অর্থ দিয়ে যে সুবিধা কিনতে হয়, অফ-গ্রিড জীবনে সেগুলোর জন্য শ্রম দিতে হয়। কিন্তু সেই শ্রমের বিনিময়ে তারা নিজের জীবনকে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন।   দম্পতি নিজেদের খাদ্যের একটি বড় অংশ উৎপাদন করেন। বিভিন্ন ফল ও সবজি চাষ করেন, খাবার সংরক্ষণের কৌশল শিখছেন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে পণ্য বিনিময়ও করেন। তাদের লক্ষ্য যতটা সম্ভব স্বনির্ভর হওয়া।   অন্যদিকে, এই জীবনধারাকে কেন্দ্র করে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। টিকটক ও ইউটিউবে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তারা। বিশেষ করে অফ-গ্রিড জীবনের বাস্তবতা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং প্রতিদিনের সংগ্রামের কথা খোলামেলাভাবে বলার কারণে তাদের অনুসারী সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।   বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আয়, করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতা এবং ভিডিও নির্মাণের কাজ থেকেও উপার্জন করছেন তারা। এর ফলে জমি ছেড়ে বাইরে নিয়মিত চাকরি করতে হয় না। ভবিষ্যতে তারা আরও বড় বা বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। বরং ছোট ও সহজ জীবনধারা বজায় রেখে প্রায় এক হাজার বর্গফুটের একটি কেবিন নির্মাণ করতে চান। পাশাপাশি একটি গ্রিনহাউস এবং উন্নত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।   গৃহহীন জীবন থেকে শুরু করে স্বনির্ভর অফ-গ্রিড জীবনে পৌঁছানোর এই যাত্রা অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে। তবে শন ও জেসিকা মনে করেন, এটি কোনো রূপকথা নয়। বরং স্বাধীনতা, শ্রম, ত্যাগ এবং বাস্তবতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি ভিন্নধর্মী জীবনযাপন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০