যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে সারাজীবনের সঞ্চয়ে গড়া স্বপ্নের বাড়ি, এক মাস পরই ভাঙার নোটিশ পেলেন দম্পতি
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সরকারি অধিগ্রহণের কবলে পড়ে নিজেদের স্বপ্নের বাড়ি হারাতে বসেছেন বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। এর মধ্যে রয়েছেন মার্ক ও জোন হেনডেল দম্পতি, যারা সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে কেপ কড এলাকায় নিজেদের অবসরের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করেছিলেন।
কিন্তু স্বপ্নের সেই বাড়িতে ওঠার মাত্র এক মাসের মাথায় সরকারি এক নোটিশে তাদের জানানো হয়, নতুন সাগামোর ব্রিজ নির্মাণের জন্য তাদের নবনির্মিত বাড়িটি ভেঙে ফেলা হবে। ‘এমিনেন্ট ডোমেইন’ বা জনস্বার্থে ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিগ্রহণ আইনের আওতায় ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যা হেনডেল দম্পতির মতো আরও অনেক পরিবারকে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
২০২৩ সালের শেষের দিকে এই দম্পতি জমি কিনে বাড়ি নির্মাণের চুক্তি করেছিলেন এবং দূর থেকে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তারা নতুন বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর জীবন যখন গুছিয়ে আসতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই রাজ্য সরকারের ওই চিঠি তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে।
জানা যায়, কেপ কডের সাথে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম সাগামোর ও বর্ন নামের প্রায় ৯০ বছরের পুরোনো দুটি জরাজীর্ণ সেতুর বদলে নতুন সেতু নির্মাণের জন্যই এই অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। বছরে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ ট্রিপ বহনকারী এই সেতুগুলোর ওপর স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক থেকে শুরু করে জরুরি পরিষেবা ও হারিকেন থেকে বাঁচতে আশ্রয়প্রার্থীরা ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
তাই রাজ্য পরিবহন দপ্তরের মতে, অর্থনৈতিক ও বাস্তবিক কারণে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। প্রকল্পের জন্য মোট ১৩টি বাড়ি ও তিনটি বাণিজ্যিক স্থাপনা অধিগ্রহণ করা হচ্ছে, যার মধ্যে অন্তত ১১টির মালিকানা ইতিমধ্যেই রাজ্যের হাতে চলে গেছে।
আইন অনুযায়ী অধিগ্রহণের শিকার সম্পত্তির মালিকদের ন্যায্য বাজারমূল্য ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হলেও, বর্তমান তীব্র আবাসন সংকটের যুগে এই ক্ষতিপূরণ মোটেও যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ম্যাসাচুসেটস একটি 'কুইক টেক' অঙ্গরাজ্য হওয়ায় সরকার চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের আগেই সম্পত্তির আইনি দখল নিতে পারে, যার ফলে ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়াই করতে গিয়ে মালিকরা এক ধরনের ঝুলন্ত অবস্থায় পড়েন।
এছাড়া কেপ কড এলাকার বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী নতুন নির্মিত বাড়ির ব্যাপক সংকট রয়েছে এবং দামও আকাশছোঁয়া। মার্ক হেনডেলের মতে, সরকার যদি ক্ষতিপূরণ হিসেবে বড় কোনো বাড়িও দেয়, তারপরও বাড়তি সম্পত্তি কর ও অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণ খরচের বোঝা তাদেরই টানতে হবে, যা তাদের অবসর জীবনের জন্য বড় একটি ধাক্কা। ফলে শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে সারাজীবনের জমানো অর্থে গড়া স্বপ্নের বাড়ি হারানোর এই অপরিসীম মানসিক ও বাস্তবিক ক্ষতি কোনোভাবেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা থেকে সম্মিলিতভাবে ১৩ লাখ ডলারের বেশি আত্মসাতের অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে বিচার বিভাগ। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ঘোষিত এই মামলাগুলোর কয়েকটিতে মৃত স্বজনের নামে আসতে থাকা অর্থ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তদের একজন শিকাগোর এক নারী, যিনি মায়ের মরদেহ ফ্রিজারে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় আগে সাজা পেয়েছিলেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচার বিভাগের ন্যাশনাল ফ্রড এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের এক মাসের অভিযানের পর এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাগুলো পৃথক মামলা; ১৭ জন একসঙ্গে একটি প্রতারণা চক্রে কাজ করেছেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। শিকাগোর ইভা ব্র্যাচারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মায়ের মৃত্যুর পরও তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে সোশ্যাল সিকিউরিটির প্রায় ২১ হাজার ৪০২ ডলার নিয়েছেন। বিচার বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি মায়ের নামে আসা খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি স্ন্যাপের সুবিধাও ব্যবহার করেছেন। নতুন এসব আর্থিক অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মায়ের মৃত্যুর তথ্য গোপন এবং জাল পরিচয়পত্র রাখার পৃথক ঘটনায় ব্র্যাচারকে ২০২৩ সালে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে আরও সাজা পেতে হতে পারে। বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা নির্ধারিত প্রাপকদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতেই তাঁরা প্রতারণার অভিযোগগুলো তদন্ত করছেন। নতুন মামলাগুলোতে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তদের দোষী বলা যাবে না।
এইচ-১বি ভিসায় ক্যারিয়ার গড়েও পরিবার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা!
বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড় দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে পা চা রের মামলায় হোটেল মালিককে ১৬৪ মিলিয়ন ডলার দিতে নির্দেশ
ক্যালিফোর্নিয়ার সেরিটোস শহরে নিজের বাড়ির আঙিনায় দেশীয় নানা ফলের গাছ লাগিয়ে যেন এক টুকরো বাংলাদেশ গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশি প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান। আম, জাম, কাঁঠাল, জামরুল, পেয়ারা, কলা, লেবু, কমলা ও আখসহ বাংলাদেশের পরিচিত নানা ফলের গাছে ভরে উঠেছে তাঁর বাড়ির আঙিনা। প্রবাসের জীবনে এই বাগানই হয়ে উঠেছে তাঁর শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার অন্যতম মাধ্যম। বরিশালে জন্ম নেওয়া জলিল খান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। কর্মজীবনে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রান্সপোর্টেশন ডিপার্টমেন্টে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সেরিটোস শহরে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় কাটালেও বাংলাদেশের মাটি, প্রকৃতি, দেশীয় ফল ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর ভালোবাসা কমেনি। সেই টান থেকেই নিজের বাড়ির আঙিনায় একে একে লাগাতে শুরু করেন দেশের পরিচিত ফলের গাছ। সময়ের সঙ্গে সেই শখের বাগান এখন পরিণত হয়েছে বড় পরিসরের একটি দেশীয় ফলের বাগানে। এই বাগানে শুধু আম, জাম বা কাঁঠালই নয়, রয়েছে জামরুল, পেয়ারা, কলা, লেবু, কমলা ও আখসহ নানা ধরনের ফল। পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বাগানের উৎপাদিত ফল স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের মধ্যেও বিলিয়ে দেন জলিল খান। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার আবহাওয়া দেশীয় কিছু ফল চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় বাগানে ভালো ফলনও পাচ্ছেন তিনি। জলিল খানের দাবি, চলতি বছর তাঁর একটি জামগাছ থেকেই প্রায় ৪০ মণ জাম পাওয়া গেছে। এত বিপুল পরিমাণ জামের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন জায়গা থেকে বাংলাদেশিরা তাঁর বাগানে আসতে শুরু করেন। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকেও বাংলাদেশিরা জলিল খানের বাড়িতে এসে বাগানের জাম সংগ্রহ করেছেন। ফলে তাঁর বাড়ির এই ফলের বাগান এখন শুধু পরিবারের শখের বিষয় নয়, স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছেও এটি হয়ে উঠেছে পরিচিত একটি জায়গা। দেশের প্রতি ভালোবাসার আরেকটি নিদর্শন রয়েছে তাঁর বাড়ির নামেও। জলিল খান নিজের বাড়ির নাম দিয়েছেন ‘নাচ মহল’। সন্তানদেরও বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত করে বড় করছেন তিনি। প্রবাসে জন্ম ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন তিনি। জলিল খানের কাছে এই বাগান শুধু ফল চাষের জায়গা নয়। এটি তাঁর শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার একটি মাধ্যম। হাজার মাইল দূরে থেকেও বাংলাদেশের পরিচিত ফল, গাছপালা ও সংস্কৃতিকে নিজের জীবনের অংশ করে রেখেছেন তিনি। ভবিষ্যতে বাগানে আরও দেশীয় ফলের গাছ লাগানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে জলিল খানের। প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিও তাঁর আহ্বান, সুযোগ ও জায়গা থাকলে বাড়ির আঙিনায় ফলের গাছ লাগানো। তাঁর বিশ্বাস, সবুজের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করার পাশাপাশি এভাবেই নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের শিকড়ের গল্পও পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
রিপাবলিকানরা জিতলে ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন বার্তা
হাডসন টানেলের ট্রেন সংযোগ প্রকল্পে খননযন্ত্র চালু, যুক্ত হবে নিউ জার্সি ও নিউইয়র্ক
নিউইয়র্কের সাবওয়েতে ব্যাগ আটকে ট্রেনের সঙ্গে টেনে নেওয়ায় ১ যাত্রীর মৃ ত্যু
নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রথমবার গাড়ি চালাতে নামলে শুধু রাস্তা চিনলেই হয় না। কোথায় কত গতিতে চলবেন, কোন সাইনে পার্কিং নিষিদ্ধ, টোল কীভাবে দিতে হবে - এসব না জানলে জরিমানা ও বাড়তি খরচ হতে পারে। নতুন ড্রাইভারদের জন্য সাতটি বিষয় বিশেষভাবে জরুরি। প্রথমত, স্পিড লিমিটের সাইন দেখুন। নিউ ইয়র্ক সিটিতে সাইনে ভিন্ন কিছু লেখা না থাকলে সাধারণ স্পিড লিমিট ঘণ্টায় ২৫ মাইল। তবে কিছু এলাকায় এবং স্কুলের কাছে সীমা কম। সব স্কুল জোনের সীমা ১৫ মাইল নয়, তাই নির্দিষ্ট রাস্তার সাইন অনুসরণ করুন। স্কুল জোনের স্পিড ক্যামেরায় নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১০ মাইলের বেশি গতিতে গাড়ি ধরা পড়লে ৫০ ডলারের টিকিট আসতে পারে। ক্যামেরার টিকিটে ড্রাইভার লাইসেন্সে পয়েন্ট যোগ হয় না। দ্বিতীয়ত, পার্কিং সাইন ভালো করে পড়ুন। ‘নো স্ট্যান্ডিং’, ‘নো পার্কিং’ এবং রাস্তা পরিষ্কারের জন্য ‘অল্টারনেট সাইড পার্কিং’ এক নিয়ম নয়। সাইনে লেখা দিন ও সময় দেখে গাড়ি রাখুন। ফায়ার হাইড্র্যান্টের ১৫ ফুটের মধ্যে পার্কিংও নিষিদ্ধ। পার্কিং জরিমানার অঙ্ক নিয়ম ও জায়গাভেদে বদলায়; কোনো নিয়মভঙ্গের জন্য একটিই নির্দিষ্ট জরিমানা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তৃতীয়ত, উবার বা লিফট চালানোর পরিকল্পনা থাকলে আগে লাইসেন্সের শর্ত বুঝুন। ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর সাধারণ ড্রাইভার লাইসেন্স দিয়ে নিউইয়র্ক সিটিতে যাত্রী পরিবহন শুরু করা যায় না। এর জন্য ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমুজিন কমিশনের, সংক্ষেপে টিএলসির, ড্রাইভার লাইসেন্স প্রয়োজন। গাড়ি ও যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাইড দেওয়া হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও টিএলসির নিয়ম প্রযোজ্য। চতুর্থত, গাড়ির ইন্স্যুরেন্স চালু আছে কি না নিশ্চিত করুন। নিউ ইয়র্কে গাড়ির জন্য নির্ধারিত লায়াবিলিটি ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক। প্রিমিয়াম ড্রাইভার ও গাড়িভেদে অনেক বদলায়, তাই নতুন ড্রাইভারের মাসিক খরচ নির্দিষ্ট অঙ্কে বলা যায় না। পলিসি নেওয়ার আগে কয়েকটি কোম্পানির কভারেজ ও কোট তুলনা করুন; মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়ন করুন। পঞ্চমত, টোলের হিসাব রাখুন। ভেরাজানো-ন্যারোজ ব্রিজ ও কুইন্স-মিডটাউন টানেলের মতো পথে টোল লাগে। নিউইয়র্কের ই-জিপাস অ্যাকাউন্টে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ‘টোলস বাই মেইল’-এর চেয়ে কম রেট পাওয়া যায়। তবে ই-জিপাস ট্যাগ সব পদ্ধতিতে বিনা খরচে পাওয়া যায় না; অ্যাকাউন্ট খোলার সময় প্রযোজ্য শর্ত ও ব্যালেন্স দেখে নিন। ষষ্ঠত, আবহাওয়া অনুযায়ী গাড়ি চালান। নিউইয়র্ক স্টেটের ডিএমভির নিয়ম অনুযায়ী বৃষ্টি, তুষার বা কুয়াশার কারণে উইন্ডশিল্ড ওয়াইপার ব্যবহার করতে হলে হেডলাইটও জ্বালাতে হবে। ভেজা বা বরফঢাকা রাস্তায় গতি কমিয়ে সামনে পর্যাপ্ত দূরত্ব রাখুন। সপ্তমত, টিকিট পেলে তার তারিখ দেখুন। পার্কিং বা ক্যামেরার টিকিট পরিশোধ করতে পারেন, কিংবা ভুল মনে হলে শুনানির আবেদন করতে পারেন। নিউ ইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্স জানিয়েছে, টিকিট ইস্যুর ৩০ দিনের মধ্যে শুনানির আবেদন করলে বিলম্বজনিত জরিমানা এড়ানো যায়। টিকিট ফেলে রাখলে বাড়তি জরিমানা যোগ হতে পারে।
কানাডার ম দ, দুগ্ধপণ্য ও মোটরসাইকেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষে ধাজ্ঞা
অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র