অক্টোবর পর্যন্ত ওবামা জাদুঘরের সব টিকিট শেষ, তবে বাকি ক্যাম্পাস দেখা যাবে ফ্রিতে
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে বহুল প্রতীক্ষিত 'ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের' জাদুঘরটি শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। তবে উদ্বোধনের আগেই আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই জাদুঘরে প্রবেশের সব টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। টিকিট শেষ হয়ে গেলেও ৮৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল ক্যাম্পাসের অন্যান্য অংশগুলো সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্মুক্ত থাকবে।
গত বৃহস্পতিবার জমকালো এক আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর থেকেই শিকাগোর বহু পরিবার সশরীরে এই ক্যাম্পাসটি ঘুরে দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। ১৯ একর জায়গার ওপর নির্মিত এই প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী সপ্তাহান্ত উপলক্ষে থাকছে নানা আয়োজন। দর্শনার্থীরা বিনামূল্যে এখানকার দৃষ্টিনন্দন বাগান এবং বিভিন্ন শিল্পকর্ম (আর্ট ইনস্টলেশন) ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন। এছাড়া মূল প্লাজায় থাকবে গান ও নাচের বিশেষ পরিবেশনা। ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা শিকাগো পাবলিক লাইব্রেরির একটি শাখাও এই উদ্বোধনী সপ্তাহে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
ওবামা ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তারা আশা করছে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ দর্শনার্থী এই ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারে আসবেন। যেহেতু আগামী শরৎকাল (ফল) পর্যন্ত সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে, তাই যারা আগে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি, তাদের জাদুঘরের ভেতরে ঢুকতে অন্তত আগামী অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে যারা এই সেন্টারে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের গণপরিবহন (সিটিএ বা মেত্রা) ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ। মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কারণে কিছু রাস্তায় যান চলাচল ও ফুটপাতে বিধিনিষেধ থাকায় ওই এলাকায় প্রচণ্ড যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় অবস্থিত স্টুয়ার্ট ডিটেনশন সেন্টারে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হেফাজতে থাকা অবস্থায় প্রিসিলিয়ানো ট্রেজো নামের ২৯ বছর বয়সী এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, হেফাজতে থাকাকালীন তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী আটকে রাখার প্রথা বাতিলের দাবিতে সোচ্চার সংগঠন 'ডিটেনশন ওয়াচ নেটওয়ার্ক' জানিয়েছে, লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ট্রেজো গত ২৪ জুলাই একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরিবারের পক্ষ থেকে খোলা একটি 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) পেজ থেকে জানা যায়, মাত্র ৩ বছর বয়স থেকে ট্রেজো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জর্জিয়ার স্টুয়ার্ট কাউন্টির ওই বন্দিশিবিরে পাঠানো হয়। ট্রেজোর চাচাতো বোন জোয়ানি সান্তিয়াগো-হার্নান্দেজ জানান, আইসিই হেফাজতে কাটানো তিন সপ্তাহে তিনি ক্রমশ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রতিদিন পরিবারকে ভিডিও কল করে তিনি তার শারীরিক যন্ত্রণা, রক্তবমি, শরীরের না-শুকানো ক্ষত এবং চরম মানসিক হতাশার কথা জানাতেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, বারবার চিকিৎসা চাওয়ার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর গত ১৩ জুলাই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মাত্র দুই দিন পর ১৫ জুলাই ট্রেজো কোমায় চলে গেলে আইসিই কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে তার হেফাজতের আইনি দায়িত্ব পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে প্রকাশিত সিবিএস নিউজের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ফেডারেল কর্মকর্তারা বেসরকারিভাবে পরিচালিত স্টুয়ার্ট ডিটেনশন সেন্টারটি সর্বশেষ পরিদর্শন করেছিলেন। কেন্দ্রটিকে সে সময় 'গ্রহণযোগ্য' বলা হলেও পরিদর্শকরা সেখানে আত্মহত্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ঘাটতিসহ একাধিক গুরুতর ত্রুটি খুঁজে পান। স্থানীয় কাউন্টি করোনার জানিয়েছেন, ওই পরিদর্শনের পর চলতি বছরের এপ্রিলে একজনসহ মোট দুজন বন্দি সেখানে আত্মহত্যা করেছেন। আইনপ্রণেতা এবং মানবাধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই এই বন্দিশিবিরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং চিকিৎসায় চরম অবহেলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। ট্রেজোর মৃত্যুর বিষয়ে আইসিই কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের আইস বন্দিশিবিরের খাবার পানিতে কিলবিল করছে পোকা, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে নিজ বাসা থেকে বাবা ও দুই মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার, শোকাহত কমিউনিটি
ইরানকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ করেই ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র: মার্কো রুবিও
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে থাকা এক সালভাদোরীয় অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই জানিয়েছে, চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। মৃত ব্যক্তির নাম এডউইন লোপেজ-কর্নেজো। তার বয়স ৪১ বছর। তিনি নিউ জার্সির নিউয়ার্কে অবস্থিত ডেলানি হল ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে আটক ছিলেন। আইসিই জানিয়েছে, শনিবার তাকে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, লোপেজ-কর্নেজো যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় আটক ছিলেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, তার আগের বহিষ্কার আদেশ পুনর্বহালের ভিত্তিতে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। তবে লোপেজ-কর্নেজোর পরিবার তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। অভিবাসী অধিকারকর্মী একটি সংগঠনের প্রকাশ করা ভিডিওতে তার মা মারিয়া কর্নেজো জানান, তার ছেলে খিঁচুনি, ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধ গ্রহণ করতেন। মারিয়া কর্নেজো বলেন, মৃত্যুর আগে শুক্রবার তিনি ছেলের সঙ্গে শেষবার কথা বলেছিলেন। তখন তার ছেলে মুখের ডান পাশ ও ডান হাতে অসাড়তার কথা জানিয়েছিলেন। তার আরও কিছু পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল বলেও তিনি জানান। আইসিই এক বিবৃতিতে বলেছে, আটক অবস্থায় লোপেজ-কর্নেজো যথাযথ চিকিৎসা পেয়েছেন এবং তাকে চিকিৎসা পেশাজীবীরা পর্যবেক্ষণ করেছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের নিরাপদ, সুরক্ষিত ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঘটনার পর নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তির পরিবারের প্রাপ্য হলো ঘটনার বিষয়ে পূর্ণ তথ্য জানা। তার প্রশাসন কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করে মৃত্যুর বিষয়ে সব তথ্য সংগ্রহ করছে বলেও জানান তিনি। নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রব মেনেনডেজ জানিয়েছেন, লোপেজ-কর্নেজো ডেলানি হল কেন্দ্রে তার শারীরিক সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন এবং পরে সেখানে পড়ে যান। তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয় এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে তিনি জানান। আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, লোপেজ-কর্নেজো ২০০৬ সালে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন। পরে আদালতের আদেশে তাকে সালভাদরে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। লোপেজ-কর্নেজোর মৃত্যুর পর ডেলানি হল আটক কেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। নিউ জার্সির গভর্নর ও নিউয়ার্কের মেয়র রাস জে বারাকা কেন্দ্রটির কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ডেলানি হল কেন্দ্রে আটক হাইতির নাগরিক জিন উইলসন ব্রুটাসের মৃত্যু হয়েছিল। আইসিই তখন জানিয়েছিল, তিনি স্বাভাবিক কারণে মারা গেছেন। এবিসি নিউজের হিসাব অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে আইসিই হেফাজতে অন্তত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ১০ সমুদ্র শহর
নিউইয়র্কে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার এক নেতা
প্রতারকের ফাঁদে পড়ে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ডলার হারালেন মার্কিন নারী
নিউইয়র্ক শহরে ই-বাইকের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং পথচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। এ লক্ষ্যে প্রায় এক ডজন আইনগত উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে আগামী মাসে একটি তদারকি শুনানির আয়োজন এবং শহরে ই-বাইক ব্যবস্থাপনা, নজরদারি ও আইন প্রয়োগের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা করা হবে। সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, বর্তমানে ই-বাইক নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। তাই বিদ্যমান আইন কার্যকর করার পাশাপাশি জননিরাপত্তা বাড়াতে নতুন আইন প্রয়োজন কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হবে। এ বিষয়ে পথচারী, সাইকেল আরোহী, খাবার সরবরাহকর্মী, পরিবহন বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট সংগঠন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হবে। এ বছরের শুরু থেকেই ই-বাইক নিয়ন্ত্রণে একাধিক বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবে খাবার সরবরাহকারী তৃতীয় পক্ষের অ্যাপগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর শহর প্রশাসনের নজরদারি ও আইন প্রয়োগের সুযোগ আরও বাড়বে। আরেকটি প্রস্তাবে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের চালকদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ এবং শহরজুড়ে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের বাধ্যবাধকতা আরোপের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে দায়িত্বজ্ঞানহীন বা ঝুঁকিপূর্ণ চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন আইনপ্রণেতারা। সিটি কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা শন আব্রেউ বলেন, প্রত্যেক নিউইয়র্কবাসীর নিরাপদে রাস্তা পার হওয়ার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি চালকের নিরাপদ যান ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং খাবার সরবরাহকর্মীদেরও ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল না করেই জীবিকা নির্বাহের সুযোগ থাকা উচিত। তার মতে, নতুন আইনগত উদ্যোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত গতির জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা, অবৈধ দ্রুতগতির ই-বাইক সরিয়ে দেওয়া এবং বৈধ ই-বাইককে আরও নিরাপদ করা সম্ভব হবে। আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও কয়েকটি বিল উত্থাপন করা হবে। এসব প্রস্তাবে ধীরগতির ই-বাইকের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বীমা বাধ্যতামূলক করা এবং আইন প্রয়োগ আরও জোরদারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের নতুন ঠিকানা কোথায়? টপ ১০ রাজ্যের তালিকা
ডিপোর্টেশনের তথ্য গোপন, ২৪ জনের সঙ্গে নাগরিকত্ব হারাতে পারেন নিউ জার্সির এক ব্যক্তি