যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে আবারও হামলার বড় চেষ্টা ব্যর্থ, অস্ত্রসহ চালক গ্রেফতার
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোর একটি বিশিষ্ট মসজিদে ভয়াবহ এক গণগুলিবর্ষণের ঘটনার ঠিক এক মাস পূর্তির দিনে আবারও হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে সেখানে নিয়োজিত একজন অত্যন্ত সতর্ক নিরাপত্তা প্রহরীর বুদ্ধিমত্তা এবং দূরদর্শিতার কারণে এবার এক বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। গত মে মাসে কেইনি ক্লার্ক এবং ক্যালেব ভাজকুয়েজ নামের দুই কিশোর উগ্রবাদীর ভয়াবহ বন্দুক হামলায় ওই উপাসনালয়ে তিনজন মুসল্লি নিহত হয়েছিলেন। সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে মসজিদটিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রাখা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) মার্কিন গণমাধ্যমের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো নামের ওই মসজিদে গত বৃহস্পতিবার এই উদ্বেগজনক ঘটনাটি ঘটে। মসজিদের ইমাম তাহা হাসান জানান, তাদের একজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রহরী লক্ষ্য করেন যে একটি সন্দেহভাজন গাড়ি মসজিদের চারপাশ দিয়ে বারবার চক্কর দিচ্ছে। বিষয়টি দেখে তার মনে সন্দেহ জাগলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেন। ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে তথ্যটি দেওয়ার সাথে সাথেই মসজিদের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অ্যাকশনে যান এবং আশেপাশের অন্যান্য পুলিশ ইউনিটকে ওই নির্দিষ্ট গাড়ির বিবরণ ও নম্বর জানিয়ে দেন।
সান ডিয়েগো পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, মসজিদ থেকে কিছুটা দূরেই পুলিশ কর্মকর্তারা সন্দেহভাজন ওই গাড়িটিকে আটক করতে সক্ষম হন এবং গাড়ির চালককে তাৎক্ষণিকভাবে হেফাজতে নেন। আটককৃত চালকের গাড়িটির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ সদস্যরা একটি নাৎসি উগ্রবাদী আদর্শের পতাকা এবং অত্যন্ত রহস্যময় একটি ক্যানিস্টার বা সিলিন্ডার পাত্র উদ্ধার করেন। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের বিশেষ বোমা ও অগ্নিসংযোগ বিষয়ক তদন্তকারী দল ‘মেট্রো আর্সন স্ট্রাইক টিম’-কে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। ক্যানিস্টারটি পরীক্ষার সময় নিরাপত্তার খাতিরে আশেপাশের সমস্ত বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে খালি করে দেওয়া হয়েছিল।
মসজিদের ইমাম তাহা হাসান এই ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "ঠিক এক মাস আগের হামলার বার্ষিকীর দিনে এই ঘটনাটি ঘটায় আমাদের পুরো মুসলিম কমিউনিটি এবং আশেপাশের সব মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তবে আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ যে সেই সময় পুলিশ কর্মকর্তারা মসজিদের ভেতরেই উপস্থিত ছিলেন এবং তারা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সাড়া দিয়েছেন।" গত মে মাসের ১৮ তারিখে ঘটে যাওয়া ওই প্রথম হামলায় মসজিদের বীর নিরাপত্তা প্রহরী এবং আট সন্তানের জনক আমিন আবদুল্লাহ নিজের জীবন দিয়ে অনেক মুসল্লির প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। ওই হামলায় নাদের আওয়াদ এবং মনসুর কাজিহা নামের আরও দুই মুসল্লি নিহত হন।
পূর্বের ওই হামলায় দুই বন্দুকধারী কিশোর নিজেরা একটি উগ্রবাদী ইশতেহার লিখেছিল এবং হামলার ঘটনাটি অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভস্ট্রিম করেছিল। সেই লাইভ ভিডিওতে হামলাকারী ক্লার্কের গায়ে নাৎসি প্রতীক দেখা গিয়েছিল এবং শেষ মুহূর্তে সে তার সহযোগী ভাজকুয়েজকে গুলি করার পর নিজে আত্মহত্যা করে। পুলিশ পরবর্তীতে তাদের গাড়ি থেকে ইসলামভীতি বা মুসলিম বিদ্বেষী বিভিন্ন ধরণের লেখা উদ্ধার করেছিল। পূর্বের সেই ভয়াবহ স্মৃতি কাটিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার এই মুসলিম সমাজ যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই এই নাৎসি পতাকাসহ নতুন করে গাড়ি আটকের ঘটনাটি পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সান ডিয়েগো পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে বর্তমানে ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোর ওপর আর কোনো সরাসরি বা সক্রিয় হুমকি নেই এবং পুরো ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। এদিকে মসজিদের পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, তারা বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিরাপত্তার স্বার্থে একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার সাথে কাজ শুরু করেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এই মসজিদে আসা সমস্ত দর্শনার্থীদের জন্য এখন থেকে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে শরীর তল্লাশি করা এবং মসজিদে প্রবেশের পূর্বে সমস্ত ব্যাগ বা বড় ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখার মতো কঠোর নিয়মাবলী কার্যকর করার বিষয়ে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে কাজের নতুন শর্ত পূরণ করতে না পারলে প্রায় সোয়া লাখ মানুষের খাদ্য সহায়তা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একজন কর্মকর্তার দেওয়া হিসাবের ভিত্তিতে কিরো ৭ জানিয়েছে, প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার বাসিন্দা এ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। অঙ্গরাজ্যের বাজেট নথিতেও কাজের শর্তের আওতা বৃদ্ধি ও ছাড়ের সুযোগ কমে যাওয়ায় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষের খাদ্য সহায়তা হারানোর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। পরিবর্তনগুলো এসেছে ২০২৫ সালে পাস হওয়া কেন্দ্রীয় আইন এইচআর ১ থেকে। ওয়াশিংটনে স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা ‘বেসিক ফুড’ নামে পরিচালিত হয়। নতুন নিয়মে কাজ করতে সক্ষম ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী আরও বেশি মানুষ কাজের শর্তের আওতায় পড়ছেন। আগে এই বিশেষ শর্তের ঊর্ধ্ব বয়সসীমা ছিল ৫৪ বছর। গৃহহীন ব্যক্তি, সাবেক সেনাসদস্য এবং ফস্টার কেয়ার থেকে বেরিয়ে আসা কিছু তরুণের জন্য আগে যে ছাড় ছিল, সেটিও বাদ দেওয়া হয়েছে। যাঁদের ক্ষেত্রে শর্ত প্রযোজ্য, তাঁদের সাধারণত মাসে ৮০ ঘণ্টা কাজ, অনুমোদিত প্রশিক্ষণ বা অন্য নির্ধারিত কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়। শর্ত পূরণ না করলে ৩৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ তিন মাস খাদ্য সহায়তা পাওয়ার সীমা কার্যকর হতে পারে। তবে গর্ভবতী ব্যক্তি, কাজ করতে অক্ষম ব্যক্তি এবং পরিবারের ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য খাদ্য সহায়তা গ্রহণকারীসহ নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ ছাড় পেতে পারেন। ওয়াশিংটনের সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জানিয়েছে, সুবিধাভোগীর পরবর্তী যোগ্যতা যাচাইয়ের সময় তিনি ছাড়ের আওতায় পড়েন কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজন হলে কাজের শর্ত লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হবে। এই যাচাইয়ের আগেই শুধু নতুন কাজের শর্তের কারণে কারও বেসিক ফুড বন্ধ হবে না। পরিবারের একজন অযোগ্য বিবেচিত হলেও অন্য সদস্যদের সহায়তা চালু থাকতে পারে। অভিবাসীদের ক্ষেত্রে খাদ্য সহায়তা ও স্বাস্থ্যবিমার নিয়ম আলাদাভাবে বদলেছে। অঙ্গরাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ হাজার শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি ও অন্য অভিবাসী আগেই কেন্দ্রীয় স্ন্যাপ থেকে অঙ্গরাজ্যের অর্থায়নে পরিচালিত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে স্থানান্তরিত হয়েছেন। সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ বলছে, এ পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের নতুন করে আবেদন করতে হয়নি। তবে অঙ্গরাজ্যের খাদ্য সহায়তায় স্থানান্তর হওয়া মানেই সরকারি স্বাস্থ্যবিমাও বহাল থাকবে, এমন নয়। ১ অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট অভিবাসন মর্যাদার প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ওয়াশিংটনের মেডিকেইড কর্মসূচি ‘অ্যাপল হেলথ’-এর যোগ্যতা সীমিত হয়েছে। অঙ্গরাজ্য সরকারের সর্বশেষ হিসাবে, এতে প্রায় ১১ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যবিমা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। তবে আদালতের একটি আদেশে সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম পাওয়া ৮০০ জনের বেশি বাসিন্দার অ্যাপল হেলথ কভারেজ আপাতত সুরক্ষিত রয়েছে। স্বাস্থ্যবিমার সব পরিবর্তন একসঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না। কিং কাউন্টির সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট প্রাপ্তবয়স্ক অ্যাপল হেলথ সুবিধাভোগীর জন্য কাজের শর্ত ও ছয় মাস অন্তর যোগ্যতা যাচাই শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি। অনেক চিকিৎসাসেবায় সর্বোচ্চ ৩৫ ডলার পর্যন্ত কো-পে চালুর নির্ধারিত তারিখ ২০২৮ সালের ৮ অক্টোবর। কিরো ৭-এর প্রতিবেদনে কো-পের সময় নিয়ে দেওয়া তথ্য কাউন্টির সরকারি সময়সূচির সঙ্গে মেলে না। যাঁরা খাদ্য সহায়তা পান, তাঁদের সময়মতো যোগ্যতা যাচাই সম্পন্ন করতে এবং নিজের তথ্য হালনাগাদ রাখতে বলেছে সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। বেসিক ফুডের নিয়ম জানতে ৮৭৭-৫০১-২২৩৩ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। কিং কাউন্টিতে স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত সহায়তার নম্বর ৮০০-৭৫৬-৫৪৩৭।
২৮ নতুন মুখ, ১৫০ অতিথি, সাউথ ক্যারোলিনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বর্ণিল মিলনমেলা
মেরিল্যান্ডে নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দিলান, সন্ধান চায় পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভুয়া পরিচয়ে ১২ হাজার ডলারের রোলেক্স কিনতে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্টে ধরা নারী
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শহর হিসেবে নিউইয়র্ক সিটিতে গত ১ অক্টোবর থেকে সাবস্ক্রিপশন বাতিলের নতুন নিয়ম 'ক্লিক-টু-ক্যানসেল' কার্যকর হয়েছে। এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো, কোনো সেবায় যুক্ত হওয়া যতটা সহজ, তা বাতিল করার প্রক্রিয়াটিও ঠিক ততটাই সহজ করা। এখন থেকে অনলাইনে সাইন-আপ বা যুক্ত হওয়ার সুবিধা থাকলে, সেই সেবা বাতিলের জন্যও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবশ্যিকভাবে অনলাইনে সরাসরি ক্যানসেল বাটন বা উপায় রাখতে হবে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান সাবস্ক্রিপশন বাতিলের সময় গ্রাহককে সশরীরে উপস্থিত হতে বা ফোনকলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে বাধ্য করতে পারবে না। জিম, স্ট্রিমিং সার্ভিস কিংবা ফ্রি ট্রায়াল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নযোগ্য যেকোনো মেম্বারশিপের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব কনজ্যুমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রটেকশন (DCWP) জানিয়েছে, নিয়ম অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য অন্তত ৫২৫ ডলার জরিমানার মুখে পড়তে হবে। গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য চ্যাটবটের লুপে ফেলে রাখার বদলে সরাসরি কর্মীদের মাধ্যমে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এই প্ল্যাটফর্মে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই উদ্যোগের ফলে নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের বছরে ২ কোটি ১৫ লাখ থেকে ১৬ কোটি ২৫ লাখ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। পাশাপাশি, সাবস্ক্রিপশন বাতিলের জটিলতায় গ্রাহকদের যে হয়রানি হতো, তাতে বছরে অন্তত ৬ লাখ ঘণ্টা সময় বেঁচে যাবে। এর আগে ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) জাতীয় পর্যায়ে এমন একটি নিয়ম চালুর উদ্যোগ নিলেও একটি আপিল আদালতের রায়ে তা আটকে যায়। এর ফলে নিজস্ব উদ্যোগে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন সাধারণ মানুষের জন্য এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করল।
যুক্তরাষ্ট্রে ২ কোটির বেশি প্রবীণকে এককালীন ৯০ ডলার দিচ্ছেন ট্রাম্প, মেডিকেয়ারের প্রিমিয়াম কমাতে উদ্যোগ
টেনেসিতে দুই ডোজ ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতায় কারাপ্রধানের পদত্যাগ
যুক্তরাষ্ট্রে অসুস্থতার মাঝেও থামেনি ভালোবাসা, হাসপাতালের বেডেই বিয়ে ৭৯ বছরের যুগলের
আগামী ৩ নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে ডেমোক্র্যাটিক দল। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা কলেজের প্রকাশিত এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, টেক্সাস ও আলাস্কার মতো ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা ৫০ শতাংশ বা তার বেশি সমর্থন পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে এই ফলাফল সিনেটের বর্তমান ৫৩-৪৭ ব্যবধানের রিপাবলিকান আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। নতুন জরিপের তথ্যানুযায়ী, টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটিক দলের জেমস টালারিকো ৫১ শতাংশ সমর্থন পেয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে (৪৫%) ৬ পয়েন্টের ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন। অন্যদিকে, আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেল্টোলা ৫০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের (৪৩%) চেয়ে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। এছাড়া, ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনেট দৌড়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শ্যারড ব্রাউন (৪৯%) রিপাবলিকান প্রার্থী জন হাস্টেডকে (৪৬%) সামান্য ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন। অন্যদিকে, আইওয়াতে রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসন ৪৮-৪৭ ব্যবধানে জশ টার্কের চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছেন এবং কানসাসে ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম হ্যামিল্টনের সঙ্গে রিপাবলিকান রজার মার্শালের ৪৫-৪৫ পয়েন্টে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা টিকিয়ে রাখতে সিনেট লিডারশিপ ফান্ড নর্থ ক্যারোলিনার বদলে কানসাসের মতো রাজ্যে তাদের বিপুল অর্থায়ন স্থানান্তর করেছে। এই ৫টি আসনের সবগুলোতেই যদি ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে পারে, তবে আগামী দিনে তারা সিনেটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে আটলান্টা গণহ ত্যার ১২০ বছর, গুজবের ভ য়াবহতা থেকে শিক্ষা নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা
যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া দুই ভাই, আজ নিজ শহরের হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের প্রধান