সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

লস অ্যাঞ্জেলেস

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোট জালিয়াতির অভিযোগ, গৃহহীনদের টাকা দিয়ে ভুয়া স্বাক্ষর করানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোট জালিয়াতির অভিযোগ, গৃহহীনদের টাকা দিয়ে ভুয়া স্বাক্ষর করানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাউনটাউনে স্কিড রো এলাকার গৃহহীনদের অর্থ দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী ব্যালট পিটিশনে ভুয়া স্বাক্ষর করানোর অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে ৪৭ বছর বয়সী জেমস ব্রাসকে (যিনি ‘লর্ড’ নামেও পরিচিত) বৃহস্পতিবার সকালে ভিক্টরভিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই।   ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার বিকেলেই রিভারসাইডের যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাকে প্রথমবারের মতো হাজির করা হবে। চুরি করা ভোটার পরিচয় ব্যবহার করে এই সুপরিকল্পিত জালিয়াতির ঘটনাটি মার্কিন প্রশাসনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।   জেমস ব্রাসের পাশাপাশি এই অভিযোগনামায় তার হয়ে পিটিশন প্রচারের কাজ করা আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের ৪৯ বছর বয়সী কোর্টনি প্রাইস এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বোরন শহরের ৩৩ বছর বয়সী জাটেইশা হেরন।   এই তিনজনের সবার বিরুদ্ধেই পরিচয় জালিয়াতির ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া ব্রাস ও প্রাইসের বিরুদ্ধে পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অতিরিক্ত আরও একটি গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ।   এই ঘটনার বিষয়ে এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস ফিল্ড অফিসের সহকারী পরিচালক প্যাট্রিক গ্র্যান্ডি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের ভোট ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী অবকাঠামোর ওপর আমেরিকানদের পূর্ণ আস্থা থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। অভিযুক্তদের এই জালিয়াতি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের একটি অপরিহার্য স্তম্ভকে দুর্বল করার অপচেষ্টা।   নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপকারী এবং ভোটার জালিয়াতির মতো যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে এফবিআই সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযোগের আগ্রাসী তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলেও দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শহরে তুলনামূলক কম খরচে বসবাসের সুযোগ রয়েছে
২০২৬ সালে আমেরিকার সবচেয়ে সস্তা আবাসন কোনটি! জেনে নিন, তালিকায় আরো ১০ শহর

নিউইয়র্ক বা লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো বড় শহরে বাড়ি কেনা বা রেন্ট নেওয়ার খরচ যেখানে অনেক বেশি, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শহরে তুলনামূলক কম খরচে বসবাসের সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত AmeriSave-এর তথ্যের ভিত্তিতে নিউইয়র্ক পোস্টের করা তালিকায় সবচেয়ে সাশ্রয়ী বড় আবাসন বাজার হিসেবে উঠে এসেছে পেনসিলভেনিয়ার পিটসবার্গ। তালিকার ১০ শহরের মধ্যে নয়টিই রিপাবলিকান-সমর্থিত বা ‘রেড স্টেট’-এ অবস্থিত।   পিটসবার্গে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা জাতীয় মাঝারি দামের প্রায় ৪ লাখ ২৬ হাজার ডলারের তুলনায় ১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বেশি কম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় মার্কেটগুলোর মধ্যে পিটসবার্গই একমাত্র শহর যেখানে বাড়ি কেনার খরচ রেন্ট নেওয়ার চেয়ে কম হতে পারে। শহরটির জীবনযাত্রার খরচও জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম।    একসময় ইস্পাতশিল্পের জন্য পরিচিত পিটসবার্গ এখন প্রযুক্তি, হেলথ কেয়ার ও উচ্চশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। গুগল, ইউপিএমসি এবং কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির মতো বড় প্রতিষ্ঠান সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। পিটসবার্গ মেট্রো এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ।    তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইলিনয়ের ডেকাটুর। শহরটিতে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ৮৯ হাজার ৮৫৫ ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কম। তালিকায় এটিই একমাত্র ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত ‘ব্লু স্টেট’-এর শহর। কৃষি, উৎপাদন ও পরিবহন খাত ডেকাটুরের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।    তৃতীয় স্থানে ওকলাহোমার এনিড। সেখানে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে ১১ শতাংশ কম। কৃষি, জ্বালানি ও এয়ারোস্পেস খাত শহরটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।    চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইন্ডিয়ানার ফোর্ট ওয়েন। বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯৩ ডলার হলেও জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ৩৯ শতাংশ কম, যা তালিকায় সবচেয়ে বড় ব্যবধান। উৎপাদন ও হেলথ কেয়ার খাত এখানে বড় কর্মসংস্থানের উৎস।    পঞ্চম স্থানে আইওয়ার ডেস ময়েন। শহরটির বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে ২৩ শতাংশ কম। ফাইন্যান্স, ইন্স্যুরেন্স ও ডেটা সার্ভিসেস খাতের জন্য শহরটি পরিচিত।    ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ওকলাহোমা সিটি। এখানে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ১৬৭ ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ২১ শতাংশ কম। এয়ারোস্পেস, হেলথ কেয়ার ও প্রযুক্তি খাত শহরটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   সপ্তম স্থানে কানসাসের উইচিটা। ‘এয়ার ক্যাপিটাল অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামে পরিচিত এই শহরে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে ১১ শতাংশ কম। এয়ারোস্পেস ও উৎপাদন শিল্প এখানে বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র।    অষ্টম স্থানে উইসকনসিনের গ্রিন বে। বাড়ির দাম প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৯৫ ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কাগজশিল্প ও হেলথ কেয়ার শহরটির প্রধান শিল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে।    নবম স্থানে নেব্রাস্কার ওমাহা। সেখানে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কম। ওয়ারেন বাফেটের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে, ইউনিয়ন প্যাসিফিকসহ বড় প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতির কারণে শহরটি ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।    দশম স্থানে রয়েছে আইওয়ার সিডার র‌্যাপিডস। বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম। এয়ারোস্পেস ও খাদ্যশিল্প শহরটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।    এই তালিকা থেকে দেখা যায়, কম খরচের আবাসন বাজার মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট ও দক্ষিণাঞ্চলে কেন্দ্রীভূত। তবে শুধু বাড়ির দাম দেখেই কোনো শহরকে বসবাসের জন্য সেরা বলা যায় না। চাকরির সুযোগ, আয়, কর, হেলথ কেয়ার, যাতায়াত ও পরিবারের প্রয়োজনও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। AmeriSave-এর ২০২৬ সালের বিশ্লেষণেও কম খরচের পাশাপাশি স্থানীয় চাকরির বাজার ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
পাশে ফোবানার নতুন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এম. রহমান জহির, ডান পাশে নতুন নির্বাহী সচিব ড. প্রিয়লাল কর্মকার। ছবি: সংগৃহীত
ফোবানার ২০২৬–২৭ মেয়াদের নতুন চেয়ারম্যান জহির, নির্বাহী সচিব প্রিয়লাল

উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর ফেডারেশন ফোবানার ২০২৬–২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হয়েছে। এতে মোহাম্মদ এম. রহমান জহির চেয়ারম্যান এবং ড. প্রিয়লাল কর্মকার নির্বাহী সচিব নির্বাচিত হয়েছেন।   রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন হোটেলে ফোবানার বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে নতুন কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফোবানার ৪০তম সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এক বছরের জন্য ২০২৬–২৭ মেয়াদের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়।   প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব রেজা রহিমের তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফোবানার নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করেন অ্যাটর্নি মোহাম্মদ আলমগীর ও ডিউক খান।   নির্বাচনে মোহাম্মদ এম. রহমান জহির চেয়ারম্যান, আবীর আলমগীর ভাইস চেয়ারম্যান, ড. প্রিয়লাল কর্মকার নির্বাহী সচিব, অ্যান্থনি পিয়ুস গোমেজ জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি এবং নাহিদা নাসের ইয়াসমিন ট্রেজারার নির্বাচিত হয়েছেন।   ফোবানার নতুন নির্বাহী কমিটিতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্বও রয়েছে। চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এম. রহমান জহির ফ্লোরিডার, ভাইস চেয়ারম্যান আবীর আলমগীর নিউইয়র্কের, নির্বাহী সচিব ড. প্রিয়লাল কর্মকার ও জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি অ্যান্থনি পিয়ুস গোমেজ ভার্জিনিয়ার এবং ট্রেজারার নাহিদা নাসের ইয়াসমিন হিউস্টন, টেক্সাসের প্রতিনিধিত্ব করছেন।   নতুন কমিটির পাশাপাশি নয়জনকে আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তারা হলেন রবিউল করিম বেলাল, ড. জয়নুল আবেদীন, মো. ইকবাল, শামসুদ্দোহা সাগর, মুহাম্মদ আলী মানিক, মাহবুবুর ভূঁইয়া, মকবুল এম. আলী, বাবুল হাই এবং ড. আব্দুস সাত্তার। তারা পেনসেলভেনিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, জর্জিয়া, ইলিনয়, ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন।   এ ছাড়া ফোবানার সদস্য সংগঠনগুলোর মধ্য থেকে ১৭ জনকে এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের ইমতিয়াজ আহমেদ পাভেল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের জাবেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার কানসাস সিটির রেহান রেজা এবং ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির আবু রুমি রয়েছেন।   এ তালিকায় আরও রয়েছেন ভার্জিনিয়ার বিএআইটিপিওর শামসুদ্দিন মাহমুদ, ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি ডিএমভির আক্তার হোসাইন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডার শফিকুল ইসলাম জুয়েল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাসের হাশমত মবিন, লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশ মেলা ইনকের তৌফিক সুলেমান খান তুহিন এবং গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের নুরুল আমিন।   এ ছাড়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের দিলশাদ চৌধুরী, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন হিউস্টনের আজমল খান, ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি হিউস্টনের নাদিম ভূঁইয়া, ভার্জিনিয়ার সুন্দরবনের করিম সালাউদ্দিন, বাংলাদেশি আমেরিকান সোসাইটির সায়েদুল হক এবং জর্জিয়ার বেঙ্গলি বয়েজ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের রাসেল ভূঁইয়াও এক্সিকিউটিভ মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন।   ফোবানার অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ মেয়াদে রবিউল করিম বেলাল চেয়ারম্যান এবং এম. রহমান জহির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে জহির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসছেন এবং সংগঠনটির নেতৃত্বে নতুন এক বছরের মেয়াদ শুরু হচ্ছে।    লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনটি ফোবানার ৪০তম কনভেনশন গত ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন হোটেলে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।    নতুন নির্বাহী কমিটি আগামী এক বছর ফোবানার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সংগঠনটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটির মাধ্যমে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার প্রত্যাশা রয়েছে

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে বেপরোয়া স্ট্রিট রেসিংয়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, জব্দ শতাধিক গাড়ি
লস অ্যাঞ্জেলেসে বেপরোয়া স্ট্রিট রেসিংয়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, জব্দ শতাধিক গাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ লস অ্যাঞ্জেলেসে অবৈধ স্ট্রিট রেসিং এবং বেপরোয়া গাড়ি মহড়ার বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে পরিচালিত এই বড় ধরনের অভিযানে শতাধিক গাড়ি জব্দ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আটক করা হয়েছে শত শত বেপরোয়া চালক ও দর্শককে।   স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ২১ মিনিটে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এলএপিডি) একটি ট্যাকটিক্যাল অ্যালার্ট জারি করে এবং সকাল ৯টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে তাদের সাঁড়াশি তৎপরতা অব্যাহত থাকে।   সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সাউথ ফিগেরোয়া স্ট্রিট ও ওয়েস্ট অলোনড্রা বুলেভার্ডের মোড়ে রাস্তা আটকে থাকা বিপুল সংখ্যক গাড়ি ও মানুষকে ঘিরে রেখেছেন কয়েক ডজন পুলিশ কর্মকর্তা। অবৈধ এই আসরটি ভেঙে দিতে তৈরি রাখা হয় বেশ কয়েকটি টো-ট্রাক।   সংবাদ সংস্থা আরএমজি নিউজের বরাতে জানা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফ ডিপার্টমেন্ট এবং এলএপিডি যৌথভাবে এই অভিযানটি পরিচালনা করে। ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৩০০ চালক ও দর্শককে আটক করা হয় এবং প্রায় ১০০টি গাড়ি জব্দ করে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়। অবৈধ সমাবেশে অংশ নেওয়ার কারণে অনেককে জরিমানার নোটিশও দেওয়া হয়েছে।   অভিযুক্তদের হেফাজতে নিতে ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক প্রিজন ভ্যান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে মোট গ্রেপ্তার বা জরিমানার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি।   এলএপিডির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত সবার বিস্তারিত তথ্য ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে ব্যস্ততম সড়ক ও মোড় দখল করে গাড়ির বেপরোয়া কসরত সাধারণ মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন কঠোর ও বিশাল অভিযানকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে টেসলার ভ য়াবহ ধাক্কায় নিহত ১, আহত ৪; চালকের দাবি, ব্রেক কাজ করেনি
লস অ্যাঞ্জেলেসে টেসলার ভ য়াবহ ধাক্কায় নিহত ১, আহত ৪; চালকের দাবি, ব্রেক কাজ করেনি

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি ব্যস্ত সুপারমার্কেটের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারানো টেসলা গাড়ির ধাক্কায় একজন নিহত এবং অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ২১ মিনিটে দ্য গ্রোভের বিপরীতে থার্ড স্ট্রিটের ৭৯০০ ব্লকে অবস্থিত ট্রেডার জো’স স্টোরের পার্কিং লটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।   পুলিশ জানায়, ৯১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা তার সাদা রঙের টেসলা গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি পার্ক করা গাড়ি ও কয়েকজন পথচারীকে ধাক্কা দেন এবং পরে পার্কিং লটের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আছড়ে পড়েন।   দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, গাড়িটির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে গেছে এবং উদ্ধারকর্মীরা নিহতের মরদেহ একটি সাদা শামিয়ানার নিচে ঢেকে রেখেছেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই ৩০ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়। আহত অন্যদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া ৩০ ও ৫৭ বছর বয়সী আরও দুই নারী সামান্য আঘাত পেয়েছেন।   গাড়িচালক ওই বৃদ্ধাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে তার আঘাত গুরুতর নয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।   দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ড্রেক পিসিওন জানান, গাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ওই বৃদ্ধা চালক রীতিমতো হতবাক ছিলেন এবং তিনি বুঝতে পারছিলেন না ঠিক কী ঘটেছে। চালক দাবি করেন, তিনি গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করছিলেন এবং তার পা ব্রেকের ওপরই ছিল, কিন্তু গাড়িটি নিজে থেকেই গতি বাড়িয়ে ছুটতে থাকে।   তিনি যে একজনকে চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছেন, তা তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস গভীর শোক প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
ফুটপাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাবার, পাশেই জমে আছে নোংরা পানি। ছবি: সংগৃহীত
ইঁদুর, প্রস্রাব ও কুকুরের মুখ দেওয়া মাংস: লস অ্যাঞ্জেলেসের স্ট্রিট ফুড ঘিরে ১০ হাজার অভিযোগের তথ্য প্রকাশ্যে

রাস্তার ধারের একটি খাবারের দোকান থেকে ক্রেতাদের পরিবেশন করার আগে সেই মাংস খাচ্ছে একটি কুকুর। আরেকটি ফুড ট্রাক থেকে বেরিয়ে আসছে তেলাপোকা। খোলা সস বা চাটনির পাশ দিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে ইঁদুর। তীব্র গরমে রেফ্রিজারেটরের বাইরে রাখা আছে কাঁচা মাংস। এমনকি রান্নার সরঞ্জামের আশপাশেই লোকজন প্রস্রাব করছে। এগুলো কোনো কাল্পনিক হরর সিনেমার দৃশ্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির রাস্তার ধারের খাবার বা স্ট্রিট ফুডের বাস্তব চিত্র।   ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত ৯ হাজার ৭৪৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ৬৬২ পৃষ্ঠার এক বিশাল নথিতে এই চাঞ্চল্যকর ও গা শিউরে ওঠা তথ্যগুলো উঠে এসেছে।   লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস চলতি সপ্তাহে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে নিয়ম ভঙ্গকারী স্ট্রিট ভেন্ডর বা রাস্তার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঠিক এমন একটি সময়ে এই ভয়াবহ অভিযোগের তালিকা জনসমক্ষে এল। সমালোচকরা মনে করছেন, মেয়রের এই পদক্ষেপের ফলে অনুমতিবিহীন খাবারের গাড়িগুলো শহরজুড়ে অবাধে ব্যবসা করার সুযোগ পাবে এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগে জমা পড়া এই অভিযোগগুলোর বিপরীতে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার কোনো সুস্পষ্ট ধারণা নথিতে পাওয়া যায়নি। উদাহরণস্বরূপ, হাথর্ন বুলেভার্ডের কাছের একটি টাকো স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে কর্মীদের হাত ধোয়ার কোনো জায়গা ছিল না এবং তারা গ্লাভস পরিবর্তন করছিলেন না। অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি কুকুর থলে থেকে মাংস খাচ্ছিল এবং বিক্রেতা সেই থলে থেকেই ক্রেতাদের মাংস পরিবেশন করছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অভিযোগের ফাইলটি কেবল বন্ধ বা ক্লোজড হিসেবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা এলএএক্স এর কাছাকাছি এলাকার আরেকটি অভিযোগে বলা হয়, ময়লার ডাস্টবিনের পাশে খোলা অবস্থায় সালসা ও অন্যান্য মশলা রাখা ছিল এবং সেখানে ইঁদুর দৌড়াচ্ছিল। সেই অভিযোগটি বাতিল বা ক্যানসেলড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ভেনিস সৈকত এলাকার একটি অভিযোগে বলা হয়, হট ডগ, বন রুটি এবং অন্যান্য খাবার সারাদিন রোদে ফেলে রাখা হয়েছিল। এই অভিযোগটিকে যৌক্তিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানানো হয়নি।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগ এই সিদ্ধান্তগুলোর অর্থ বা এর ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এখন রাস্তার ধারের ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের বদলে বড় সংগঠনগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে, যারা মূলত এই ফুটপাতের ব্যবসাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।   লস অ্যাঞ্জেলেস বিজনেস ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী স্টুয়ার্ট ওয়াল্ডম্যান স্ট্রিট ভেন্ডরদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের তালিকাকে ধারণার চেয়েও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, একটি স্থায়ী রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে যদি তার কর্মীরা হাত না ধোয়, মাখন বাইরে ফেলে রাখে বা তাদের ফ্রিজ নির্ধারিত তাপমাত্রার চেয়ে সামান্য গরম থাকে। অথচ রাস্তার ধারের খাবার বিক্রেতাদের কোনো শৌচাগার নেই, কর্মীরা হাত ধুচ্ছেন না এবং তাদের কোনো রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থাও নেই।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি বিজনেস ফেডারেশনের দায়িত্বশীল প্রশাসন কমিটির কো চেয়ারম্যান জর্জ ফ্রান্সিসকো জানান, এই অভিযোগগুলো তার কাছে মোটেও বিস্ময়কর নয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এর চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি দেখেছেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে ফুটপাতে ব্যবসা করার জন্য বিক্রেতাদের সিটি ভেন্ডিং পারমিট বা অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হয়। যারা খাবার বিক্রি করেন, তাদের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিষয়ক পারমিটও নিতে হয়। কাউন্টি মূলত খাদ্যের নিরাপত্তা তদারকি করে, আর শহর কর্তৃপক্ষ বিক্রেতারা কোথায় এবং কীভাবে কাজ করবেন, তা নির্ধারণ করে।   হিসাব অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার বিক্রেতা ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনা করেন। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৬৮৭টি সক্রিয় ভেন্ডিং পারমিটের রেকর্ড পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মাত্র ৫৩টি পারমিট ছিল খাবার বিক্রেতাদের জন্য।   মেয়র কারেন বাস জানিয়েছেন, তার প্রশাসন স্ট্রিট ভেন্ডরদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, লাইসেন্স না থাকলেও বা স্থায়ী দোকানের সামনে বসে ব্যবসা করলেও বিক্রেতাদের যেন অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করা না হয়। তবে তার এই অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন মেয়র পদের প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলওম্যান নিথিয়া রমন। তিনি মনে করেন, শহর কর্তৃপক্ষের উচিত বিক্রেতাদের পারমিট পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং একইসাথে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা।   পিকো ইউনিয়ন এলাকার এল সালভাদর করিডোরে গিয়ে দেখা যায়, অনেক বিক্রেতা নিষিদ্ধ এলাকায় দোকান বসিয়েছেন। রাস্তায় তেল ও নোংরা পানি গড়িয়ে পড়ছে। এল সালভাদর করিডোর অ্যাসোসিয়েশনের সহ প্রতিষ্ঠাতা রাউল ক্লারোস জানান, এই এলাকায় এখন ১২০ জনেরও বেশি স্ট্রিট ভেন্ডর ভিড় জমিয়েছেন। তিনি বিক্রেতাদের উচ্ছেদ না করে তাদের পারমিট দেওয়া এবং নির্দিষ্ট একটি বাজারে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন, যেখানে রেফ্রিজারেশন, পরিচ্ছন্নতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা থাকবে।   ফুটপাতে এই অবৈধ ব্যবসার কারণে স্থায়ী রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এল কোরেডর রেস্তোরাঁর মালিক মিগুয়েল কারানজা এবং তার স্ত্রী ইরমা দিয়াজ জানান, তারা একসময় ফুটপাতেই ব্যবসা করতেন। এরপর তারা ফুড ট্রাক এবং ২০১০ সালে স্থায়ী রেস্তোরাঁ চালু করেন। কিন্তু এখন ফুটপাতের বিক্রেতাদের সাথে তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। কারণ, ফুটপাতের বিক্রেতাদের রেস্তোরাঁর মতো ভাড়া বা অন্যান্য খরচ বহন করতে হয় না। একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী ব্রেন্ডা মনটোয়া জানান, করোনা মহামারির আগে এই এলাকার অর্থনীতি অনেক ভালো ছিল, কিন্তু ফুটপাতে বিক্রেতাদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এখন তাদের বিক্রি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।   সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ফোবানা আয়োজকেরা। ছবি: সংগৃহীত
ফোবানা কনভেনশনে যোগ দিতে লস অ্যাঞ্জেলেসে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছেছেন ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ এর প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।   শনিবার দুপুরে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ফোবানা হোস্ট কমিটির কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন, টাইটেল স্পন্সর মুনিরুল ইসলাম, চিফ প্যাট্রন শিপার চৌধুরীসহ হোস্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ।   এ সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল, ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, সাধারণ সম্পাদক এম. ওয়াহিদ রহমান, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মুনিম, সাধারণ সম্পাদক লায়েক আহমেদ, বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস অ্যাঞ্জেলেস (বাফলা)-এর সাধারণ সম্পাদক নাসির সৈয়দ জেবুলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মন্ত্রীর নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।   তিন দিনব্যাপী ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটিতে অবস্থিত ইউনিভার্সল হিলটন এ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। ভেন্যুটির ঠিকানা ৫৫৫ Universal Hollywood Drive, Universal City, California কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।   উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে পরিচিত ফোবানা কনভেনশন। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও প্রদেশ থেকে বাংলাদেশি-আমেরিকান ও বাংলাদেশি-কানাডিয়ানরা এ আয়োজনে অংশ নেন। এবারের ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া। লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড সংলগ্ন ইউনিভার্সাল সিটিতে আয়োজন হওয়ায় এবারের কনভেনশনকে ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   আয়োজকদেরা জানান, তিন দিনের এই কনভেনশনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, বিভিন্ন প্রতিভা প্রদর্শন, যুব কার্যক্রম, সম্মাননা ও কমিউনিটি গ্যাদারিংয়ের পাশাপাশি খাবার, পরিবারকেন্দ্রিক আয়োজন ও বিভিন্ন কর্মশালার ব্যবস্থা থাকবে।   ফোবানা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন ও প্রবাসীদের একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে আসছে। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার করাও এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।   ৪০তম ফোবানা কনভেনশনে বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রীর প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণকে তাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   লস অ্যাঞ্জেলেসে মন্ত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ফোবানা হোস্ট কমিটি ও স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। কনভেনশনকে সফল করতে আয়োজকরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে অ্যাপার্টমেন্টের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে নারীর আত্মহ ত্যা, থামাতে পারেনি উদ্ধারকর্মীরা
লস অ্যাঞ্জেলেসে অ্যাপার্টমেন্টের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে নারীর আত্মহ ত্যা, থামাতে পারেনি উদ্ধারকর্মীরা

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাউনটাউনে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার সকালে ঘটা এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে ১২০০ সাউথ গ্র্যান্ড অ্যাভিনিউ এলাকায় ভবন থেকে এক ব্যক্তির লাফ দেওয়ার প্রস্তুতির খবর পান তারা।   খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এলএপিডি) সঙ্গে যৌথভাবে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।   উদ্ধারকর্মীরা ভবনের ছাদে গিয়ে ওই নারীকে লাফ দেওয়া থেকে বিরত করার জন্য বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাদের সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ওই নারী ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন।   দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই নারী সম্ভবত ভবনের সপ্তম তলা থেকে লাফ দিয়েছিলেন, তবে এই তথ্যের আনুষ্ঠানিক সত্যতা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়নি।   আত্মহত্যা সংক্রান্ত বিভাগের নিজস্ব নীতিমালার কারণে পুলিশ এই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী 'অসাম কফি' নামের একটি ক্যাফের এক কর্মী সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি এক নারীকে ওই ভবন থেকে লাফ দিতে দেখেছেন।   ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সেসময় ওই এলাকার রাস্তাঘাট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নিহত নারীর পরিচয় এখনো জানা যায়নি, তবে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনার কার্যালয় থেকে ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মর্মান্তিক এই আত্মহত্যার ঘটনাটি লস অ্যাঞ্জেলেস কনভেনশন সেন্টারের ঠিক কয়েক ব্লক পূর্ব দিকে ঘটেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
পা দেখানো শুরু করতেই আকাশচুম্বী টিপ, উবার ইটস ড্রাইভারের দাবি তরুণীর
ডেলিভারির ছবিতে পা দেখাতেই আকাশচুম্বী টিপ পাচ্ছেন, দাবি তরুণী উবার ইটস ড্রাইভারের

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে উবার ইটসের এক নারী ডেলিভারি ড্রাইভারের অভিনব এক কৌশল সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জেড ফিনিক্স নামের ওই তরুণী খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর গ্রাহকের কাছে যে কনফার্মেশন ছবি পাঠাতে হয়, সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের স্যান্ডেল পরা পা ও নতুন করা পেডিকিউর প্রদর্শন করেন।   আর এই অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী কৌশলের কারণেই নাকি গ্রাহকদের কাছ থেকে তিনি আকাশচুম্বী টিপ বা বকশিশ পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।   ফিনিক্স জানান, অ্যাপে ডেলিভারি সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণস্বরূপ যখন ছবি আপলোড করতে হয়, তখন তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে ফ্রেমে নিজের পা দৃশ্যমান রাখেন। পেডিকিউর করা সুন্দর পা ছবিতে দেখার পরই অনেক গ্রাহক তাদের টিপের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে তিনি লক্ষ্য করেন।   নিজের এই অভাবনীয় সাফল্যের কথা অনলাইনে শেয়ার করার পরপরই তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অন্যান্য অনেক ডেলিভারি ড্রাইভারও কৌতূহলবশত একই কৌশল অবলম্বন করার কথা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যেও কেউ কেউ ছবিতে নিজেদের পা রাখার পর আয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসার দাবি করেছেন।   তবে এই কৌশলটি যে সব সময় জাদুর মতো কাজ করে, এমনটাও নয়। ফিনিক্স নিজেই স্বীকার করেছেন, অনেক ক্ষেত্রে এমন ছবি দেওয়ার পরও তিনি কোনো বাড়তি টিপ পাননি।   তবুও একটি সাধারণ ডেলিভারি কনফার্মেশন ছবিকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা গিগ ইকোনমিতে ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং এবং টিপ সংস্কৃতির অনিশ্চয়তা নিয়ে অনলাইনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।   নেটিজেনদের একাংশ এটিকে গ্রাহকের মনোযোগ আকর্ষণের একটি বুদ্ধিদীপ্ত ও মজার কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকেই বিষয়টিকে টিপিং সংস্কৃতির এক অপ্রত্যাশিত দিক বলে মনে করছেন।   সামগ্রিকভাবে, তীব্র প্রতিযোগিতামূলক ডেলিভারি দুনিয়ায় আয়ের পরিমাণ বাড়াতে এমন ছোট ও ব্যতিক্রমী কৌশলও যে কত বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে, ফিনিক্সের এই অভিজ্ঞতাই তার প্রমাণ।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসের ইস্ট হলিউড এলাকায় বসবাস করছেন টিম রোলার। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিষ্ঠিত ৪ সন্তান থাকা সত্ত্বেও ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় বসবাস, গুগল ম্যাপে উঠে এল গণিত শিক্ষক বাবার জীবন

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রায় দুই দশক ধরে একই জায়গায় বসবাস করছেন সাবেক গণিত শিক্ষক টিম রোলার। প্রচলিত অর্থে কোনো বাড়ি না থাকলেও বছরের পর বছর একই জায়গায় থাকার কারণে গুগল স্ট্রিট ভিউয়ের ক্যামেরায় বারবার ধরা পড়েছে তার জীবনের বিভিন্ন সময়ের ছবি।   ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোলার প্রায় ১৯ বছর ধরে হলিউড ফ্রিওয়ের কাছে ইস্ট হলিউডের একটি সড়কের শেষ প্রান্তের এলাকায় অবস্থান করছেন। কয়েক বছর পরপর গুগলের স্ট্রিট ভিউ গাড়ি ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় তার অস্থায়ী আশ্রয়স্থল ও সেখানে থাকা অবস্থার ছবি ধারণ করেছে। ২০০৯, ২০১১, ২০১৫ এবং ২০২৫ সালের স্ট্রিট ভিউ ছবিতেও তাকে একই এলাকার আশপাশে দেখা যায়।   রোলারের ভাষ্য, রাস্তায় বসবাসের অভিজ্ঞতা অনেকটা ‘রোলার-কোস্টার’ যাত্রার মতো। দীর্ঘ সময়ে ওই এলাকায় মাদকাসক্তি, সহিংসতা এবং নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা তিনি দেখেছেন। একসময় তার আশপাশে বড় একটি গৃহহীন মানুষের অস্থায়ী বসতি গড়ে উঠেছিল। সেখানে রাতের বেলায় কিছু মানুষ মাটিতে গর্ত করত। বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত হয়ে রোলার তাদের রাতে গর্ত না করার নিয়ম করেছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই গর্তগুলোতে মাদক লুকিয়ে রাখা হতো বলে মানুষজন সেগুলো খুঁড়ত।   রোলার জানান, তিনি নিজে মাদক বা অ্যালকোহল ব্যবহার করেন না। তবে তার নিজের জীবনেও এমন কিছু অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা তাকে রাস্তায় এসে থাকতে বাধ্য করেছে। একসময় তিনি গণিত পড়াতেন এবং তার চারজন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান রয়েছে। তার দাবি, সন্তানরা সবাই কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত এবং নিয়মিত তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। রোলারের মতে, তার জীবনে জুয়ার প্রতি আসক্তিও বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, উত্তেজনা ও নতুন অভিজ্ঞতার প্রতি তার প্রবল আকর্ষণ ছিল। সহজেই একঘেয়ে হয়ে পড়তেন এবং জুয়া তাকে সেই উত্তেজনা দিত।   এখন তার কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং দৈনন্দিন জীবন টিকিয়ে রাখার অন্যতম হাতিয়ার। প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি অনলাইনে দাবা খেলছিলেন। মজা করে জানান, প্রতিবেদক আসার ঠিক আগেই তিনি একটি খেলায় হেরে গেছেন। সস্তায় খাবার কেনা কিংবা বিভিন্ন ধরনের ছাড় খুঁজে বের করতেও ফোনের বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করেন রোলার। তিনি জানান, ইউসিএলএর কাছ থেকে নিয়মিত প্রশ্নপত্রের উত্তর দেওয়ার বিনিময়ে উপহার কার্ডও পান।   তবে প্রায় ২০ বছর ধরে রাস্তায় থাকার পরও গৃহহীন মানুষদের জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন—এ প্রশ্নে রোলারের ভাবনা প্রচলিত আশ্রয়কেন্দ্রের ধারণার চেয়ে কিছুটা আলাদা। তার মতে, গৃহহীন মানুষদের জন্য আলাদা বড় ঘর, ব্যক্তিগত রান্নাঘর কিংবা ব্যক্তিগত গোসলখানা থাকা জরুরি নয়। বরং একটি ভবনের মধ্যে ছোট ছোট ব্যক্তিগত কক্ষ তৈরি করে সেখানে প্রত্যেকের জন্য একটি দরজা ও একটি বিছানা থাকলেই অনেক মানুষ রাস্তায় না থেকে ঘরের ভেতর থাকতে পারবেন।   রোলারের ভাষায়, প্রত্যেকের নিজের একটি ছোট কক্ষ থাকলেই যথেষ্ট। সেখানে আলাদা রান্নাঘর, টেলিভিশন কিংবা গোসলখানা না থাকলেও চলবে। তার কাছে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস হলো একটি বিছানা। তার অভিজ্ঞতায়, রাস্তায় থাকার সবচেয়ে কঠিন দিকগুলোর একটি হলো আবহাওয়া। বিশেষ করে মাঝে মাঝে বৃষ্টি ও ঠান্ডা তার জন্য বড় সমস্যা তৈরি করে। তবে অন্যান্য পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব বলেই মনে করেন তিনি।   রাস্তায় দীর্ঘদিন থাকার অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রোলার বলেন, গৃহহীন জীবন তার কাছে অনেকটা প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো। এ ক্ষেত্রে কাঠবিড়ালি, র‍্যাকুন ও স্কাঙ্কের মতো প্রাণীদের কাছ থেকেও তিনি শেখার কথা বলেন। দীর্ঘ সময়ে গৃহহীনদের জন্য স্থানীয় নিয়মকানুনেও পরিবর্তন দেখেছেন রোলার। তার দাবি, রাস্তায় থাকার শুরুর দিকে তাদের ভোরের আগেই উঠে পড়তে হতো এবং রাত ৯টার পর ঘুমাতে যেতে হতো। বছরের পর বছর তিনি এসব নিয়ম মেনে চলেছেন।   তবে কোভিড-১৯ মহামারির সময় পরিস্থিতি বদলে যায়। রোলারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় গৃহহীনদের জন্য অনেক বিধিনিষেধ শিথিল হয়ে যায় এবং বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী বসতি বড় হতে থাকে। পরে কিছু নিয়ম আবার কার্যকর করার চেষ্টা হলেও আগের মতো পরিস্থিতি আর ফিরে আসেনি বলে তিনি মনে করেন।   ইস্ট হলিউডের ওই এলাকাটিও গত প্রায় দুই দশকে অনেক বদলে গেছে। রোলার যেখানে থাকেন, তার ওপরে এখন একটি বড় বেড়া রয়েছে। তার দাবি, আগে সেখানে বড় একটি গৃহহীন মানুষের অস্থায়ী বসতি ছিল। বেড়া দেওয়ার পর পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত হয়েছে এবং এখন সেখানে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু মানুষ থাকেন।   এলাকাটিতে এ সময়ে নতুন নতুন ভবন তৈরি হয়েছে, অস্থায়ী বসতি গড়ে উঠেছে এবং আবার সেগুলো সরেও গেছে। পুলিশকে লোকজনকে ধাওয়া করতে দেখেছেন রোলার; কখনো কখনো ওপর দিয়ে হেলিকপ্টারও উড়তে দেখেছেন। কিন্তু এসব পরিবর্তনের মধ্যেও তিনি একই এলাকায় থেকে গেছেন। প্রায় ১৯ বছর ধরে রাস্তায় থাকার পরও নিজের জীবন সম্পর্কে রোলারের দৃষ্টিভঙ্গি প্রচলিত ধারণার চেয়ে ভিন্ন। তিনি মনে করেন, এ জীবন তার পছন্দের একটি জীবনধারা হয়ে উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটিতে তিন দিনব্যাপী ফোবানার ৪০তম সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে ফোবানার ৪০তম সম্মেলন, আর মাত্র ১৯ দিন পর শুরু

আর মাত্র ১৯ দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটিতে শুরু হচ্ছে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ফোবানার ৪০তম সম্মেলন। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলে।   লেবার ডে উইকেন্ড এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের সম্মেলন ঘিরে ইতোমধ্যে আয়োজকদের প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি, কমিউনিটি নেতা, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।   এবারের সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ফোবানা হোস্ট কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মন্ত্রী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।   এর আগে গত ২০ মে ঢাকায় মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে লস অ্যাঞ্জেলেস ফোবানা হোস্ট কমিটির প্রতিনিধিদল আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানায়। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে মন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্মতি দেন বলে সে সময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।   ফোবানার ৪০তম সম্মেলনকে সামনে রেখে গত ২৮ মার্চ লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবালসহ ফোবানা ও হোস্ট কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   এবারের সম্মেলনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, স্বাস্থ্যসেবা, নারী উদ্যোক্তা কর্মশালা, বইমেলা, কাব্যজলসা, সাহিত্য ও কবিতা আসর, যুব ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশবিষয়ক আলোচনা, ট্যালেন্ট ও ফ্যাশন শো এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ফোবানা স্কলারশিপসহ নানা আয়োজন থাকছে।   দেশ ও উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে তিন দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও এবারের সম্মেলনের বড় আকর্ষণ হিসেবে থাকছে। এর আগে আয়োজকদের পক্ষ থেকে পরীমনি, লুইপা, ঋতুপর্ণা, মিলা, সাগর বাউল, নকীব খান, রবি চৌধুরী, রোমেল খান, মুজা ও আলিফসহ বেশ কয়েকজন শিল্পীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে আরও শিল্পীর নাম যুক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।   সম্মেলনের আয়োজন করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া। হোস্ট কমিটির কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন, মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল।   ফোবানা নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রাবিউল করিম বেলাল এবং এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফও সম্মেলনের সার্বিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চার দশকের মাইলফলককে সামনে রেখে এবারের সম্মেলনকে বিশেষভাবে সাজানো হচ্ছে।   সম্মেলনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা। অতিথি ব্যবস্থাপনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রচার ও প্রকাশনা, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং বিভিন্ন কর্মসূচির সমন্বয় নিয়ে কাজ চলছে।   আয়োজকদের প্রত্যাশা, ৪০তম ফোবানা সম্মেলন উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাংলাদেশিদের একত্রিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংযোগ আরও শক্তিশালী করবে।   ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটিতে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে সামান্য কথাকাটাকাটির জেরে দম্পতি ও কুকুরকে গাড়িচাপা দেওয়ার চেষ্টা
লস অ্যাঞ্জেলেসে সামান্য কথাকাটাকাটির জেরে দম্পতি ও কুকুরকে গাড়িচাপা দেওয়ার চেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে সামান্য ভুল-বোঝাবুঝির জেরে এক দম্পতি এবং তাদের পোষা কুকুরকে সরাসরি গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ভয়ংকর এক চেষ্টা চালিয়েছে এক ক্ষুব্ধ চালক। গত বুধবার সন্ধ্যায় মিড-উইলশায়ার এলাকার হ্যারল্ড এ. হেনরি পার্কের বাইরের এই লোমহর্ষক ঘটনাটি পাশ দিয়ে যাওয়া একটি উবারের ড্যাশক্যামে ধরা পড়ে।   ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি কমলা রঙের গাড়ি পার্কের ভেতরে ঢুকে ক্ষিপ্রগতিতে ওই দম্পতিকে ধাওয়া করছে। ভুক্তভোগী নারী সেলিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি ঘাসের ওপর দিয়ে যত দূর সম্ভব পেছনের দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং ফিরে তাকিয়ে দেখেন গাড়িটি ঠিক তাদের পেছনেই ধেয়ে আসছে।   ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল একটি স্টপ সাইনের সামনে। রাস্তা পার হওয়ার সুবিধার জন্য ওই দম্পতি চালককে আগে চলে যাওয়ার ইশারা করেছিলেন। সেলিন জানান, তারা ফোনে কথা বলায় কিছুটা অমনোযোগী ছিলেন এবং ভেবেছিলেন চালক হয়তো তার পথেই চলে যাবেন।   কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে চালক চিৎকার করে বলে ওঠেন, "কী, তোমরা কি ইংরেজি বলতে পারো না?" এরপরই চালক তার গাড়িটি সরাসরি তাদের দিকে ঘুরিয়ে দেন। ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, স্টপ সাইন থেকে গাড়িটি হঠাৎ বাঁক নিয়ে ঘাসের ওপর দিয়ে দম্পতির দিকে তেড়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পার্কের ফুটপাত পেরিয়ে দ্রুতবেগে পালিয়ে যায়।   ভুক্তভোগী পুরুষ লোগান জানান, গাড়িটি যখন তাদের দিকে ধেয়ে আসছিল, তখন তিনি তাদের পোষা কুকুর অলিভকে কোনোমতে টেনে সরিয়ে নেন এবং একেবারে অল্পের জন্য তারা প্রাণে রক্ষা পান। তিনি বলেন, "পুরো ঘটনাটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটলেও, এটি আমাদের জীবনের অন্যতম ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতা।" পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই ক্ষুব্ধ চালক তাদের উদ্দেশ করে ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলে, "এখন নিশ্চয়ই ভয়ে কাঁপছ, তাই না?" পার্কে উপস্থিত অন্যান্য দর্শনার্থীরাও এই ভয়াবহ দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন।   সেকোইয়া হাগি নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি ওই দম্পতিকে পার্কের দিকে প্রাণভয়ে ছুটতে দেখেন এবং গাড়িটিকে পাগলের মতো ধেয়ে এসে পরক্ষণেই পালিয়ে যেতে দেখেন। এই ঘটনায় লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগে (এলএপিডি) অভিযোগ দায়ের করেছে আতঙ্কিত ওই দম্পতি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত তদন্তের কোনো আপডেট জানানো হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
অধ্যাপক মরিয়ম তহমাসেবি I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এক মায়ের অতীত কর্মকাণ্ডের জেরে চার মাস ধরে বন্দী গ্রিন কার্ডধারী অধ্যাপক পরিবার

লস অ্যাঞ্জেলেস পিয়ার্স কলেজের মনোবিজ্ঞান ও পরিসংখ্যানের অধ্যাপক মরিয়ম তহমাসেবির স্বাভাবিক জীবন গত ৯ এপ্রিলের পর থেকে হঠাৎ করেই এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বৈধ গ্রিন কার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁর স্বামী, সন্তানসহ পুরো পরিবারকে আটক করেছে। সেদিন কলেজে ক্লাস নেওয়ার সময় মরিয়ম জানতে পারেন যে তাঁর স্বামী ছেলেকে স্কুল থেকে আনেননি এবং ফোনও ধরছেন না। সম্ভাব্য কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তিনি পুলিশে খবর দেন। কিন্তু তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি যে তাঁর স্বামীকে আইসিই আটক করতে পারে।   মরিয়মের স্বামী ইসা হাশেমিও একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক, যিনি 'দ্য শিকাগো স্কুল'-এর বিজনেস সাইকোলজি বিভাগে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের মেন্টর হিসেবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই আটকের কারণ ইসার নিজের কোনো অপরাধ নয়। ১৯৭৯ সালে ইরানে জিম্মিকারীদের একজন অনুবাদক হিসেবে কাজ করেছিলেন ইসার মা—এমনকি তখন ইসার জন্মও হয়নি! মার্কিন প্রশাসন এখন জন্মের আগের সেই ঘটনার জেরে এই নিরপরাধ অধ্যাপককে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   বর্তমানে মরিয়ম এবং তাঁর ছোট ছেলে ১২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে টেক্সাসের ডিলি ইমিগ্রেশন প্রসেসিং সেন্টারে মানবেতর বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে তাঁর স্বামী ইসাকে রাখা হয়েছে পিয়ার্সলের সাউথ টেক্সাস ডিটেনশন সেন্টারে। গত চার মাসের এই অমানবিক বন্দীদশা তাঁদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। প্রতি দুই সপ্তাহে মাত্র ১০ মিনিটের জন্য তাঁদের একে অপরের সাথে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়, সেটিও আবার কড়া পাহারার মধ্যে। মরিয়ম আক্ষেপ করে বলেন, একটি সম্পূর্ণ আইন মান্যকারী অধ্যাপক পরিবারের সাথে যদি এমন অবিচার হতে পারে, তবে তা যেকোনো কারও সাথেই হতে পারে। সন্তানের জন্য একটি স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে তিনি বিশ্বের সব বিবেকবান মানুষের কাছে এই দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটাতে সাহায্য চেয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে স্কুলের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক
লস অ্যাঞ্জেলেসে স্কুলের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক, ক্যাম্পাস লকডাউন

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই এক হাইস্কুল শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক পাওয়ার পর তাকে আটক করেছে স্কুল পুলিশ। বুধবার সকালে সাউথ লস অ্যাঞ্জেলেসের সান্টি হাইস্কুলে এ ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তার জন্য কিছু সময় পুরো স্কুল লকডাউন রাখা হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্লাস আবার শুরু হয়।   লস অ্যাঞ্জেলেস স্কুল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি ঝামেলার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিকভাবে তল্লাশি চালায়। সেই তল্লাশির সময় এক শিক্ষার্থীর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়।   এরপর ওই শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নেয় স্কুল পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও বিষয়টি জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর বয়স ও পরিচয় প্রকাশ করেনি।   ঘটনাটি ঘটে লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই। ফলে ক্যাম্পাসে বন্দুক পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্কুলের ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।   পুলিশ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে সান্টি হাইস্কুল কিছু সময় লকডাউনে রাখা হয়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে লকডাউন তুলে নেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্লাসে ফিরে যায়।   ঘটনায় কাউকে গুলি করা হয়েছে বা কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দুকটি কী অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং সেটি আগে কোনোভাবে ফায়ার হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।   স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে বিপজ্জনক কোনো বস্তু নিয়ে আসা নিষিদ্ধ। এমনকি দেখতে অস্ত্রের মতো বা বিপজ্জনক বস্তু বলে মনে হতে পারে এমন জিনিসও স্কুলে না আনতে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস স্কুল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। অভিভাবকদেরও সন্তানদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং বিপজ্জনক কার্যকলাপ এড়িয়ে চলার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলার আহ্বান জানানো হয়েছে।   স্কুলের প্রথম দিনেই এমন ঘটনা ঘটায় ক্যাম্পাস নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুলে আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্কুলে অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।   সান্টি হাইস্কুলে পাওয়া বন্দুকটি কোথা থেকে এসেছে, শিক্ষার্থী কেন সেটি স্কুলে এনেছিল এবং তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে অবৈধ রাস্তা দখলকে ঘিরে আগুন, ভাঙচুর ও লুটপাট; ক্ষতি ৫০ হাজার ডলারের মালামাল
লস অ্যাঞ্জেলেসে অবৈধ রাস্তা দখলকে ঘিরে আগুন, ভাঙচুর ও লুটপাট; ক্ষতি ৫০ হাজার ডলারের মালামাল

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে শনিবার ভোরে দুটি পৃথক ‘স্ট্রিট টেকওভার’ বা বেআইনিভাবে রাস্তা দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা, অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শহরের ইস্ট লস অ্যাঞ্জেলেস এবং গ্রামার্সি পার্ক এলাকায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই ধ্বংসাত্মক দৃশ্যপট তৈরি হয়। জনসাধারণের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ এবং পুলিশ প্রশাসনের শত চেষ্টা ও বিপুল অর্থ ব্যয় সত্ত্বেও এ ধরনের বেপরোয়া কার্যকলাপ থামানো সম্ভব হচ্ছে না।   শহরের দক্ষিণাংশে একটি স্ট্রিট টেকওভারের পর রাস্তায় থাকা একটি গাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভোর ৪টা ৫২ মিনিটের দিকে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং বিশাল ওই আগুন নিভিয়ে ফেলেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এলএপিডি) একজন মুখপাত্র জানান, এর কিছুক্ষণ আগেই আতশবাজি ফোটানো বিশাল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে পুলিশের উপস্থিতি এবং রাস্তায় গাড়ির টায়ারের অসংখ্য দাগ (স্কিড মার্ক) দেখা যায়। তবে গাড়িতে কীভাবে আগুন লেগেছে বা এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   অন্যদিকে, রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে ইস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসের ১১৩১ সাউথ আটলান্টিক বুলেভার্ডে অবস্থিত একটি ‘অটোজোন’ স্টোরে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রিট টেকওভারে অংশ নেওয়া দর্শনার্থীরাই স্টোরের সামনের কাঁচের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। খবর পেয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস শেরিফ ডিপার্টমেন্টের (এলএএসডি) কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।   ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, স্টোরের মেঝেতে গাড়ির ব্যাটারি, ওয়াইপার ফ্লুইড এবং নানা ধরনের যন্ত্রাংশ এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। এমনকি সেখানে একটি মডেলো বিয়ারের ক্যানও পড়ে থাকতে দেখা যায়।   ঘটনাস্থলে থাকা এক ভিডিও স্ট্রিঙ্গারের তথ্যমতে, লুটপাটকারীরা ওই স্টোর থেকে অন্তত ৫০ হাজার ডলার মূল্যের মালামাল এবং তিনটি ক্যাশ রেজিস্টার চুরি করে পালিয়েছে। স্টোরের পাশের একটি গলি দিয়ে কিছু মালামাল নিয়ে লুকিয়ে পালানোর সময় স্থানীয় কয়েকজনকে প্রায় ধরেই ফেলেছিল পুলিশ। রাস্তার ওপর অসংখ্য গাড়ির টায়ারের দাগ পড়ে থাকা ওই অটোজোন স্টোরটি আপাতত বন্ধ রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনাতেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে ১৭৩৬ ফ্যামিলি ক্রাইসিস সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ক্যারল অ্যাডেলকফ (মাঝে) দুই বছরে ১৬ লাখ ডলারের বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীনদের জন্য কাজ করা প্রতিষ্ঠানের প্রধান পেলেন ২ বছরে ১৬ লাখ ডলার

লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীন ও পারিবারিক সহিংসতার শিকার মানুষের জন্য কাজ করা একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রধান দুই বছরে ১৬ লাখ ডলারের বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছেন। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ক্যারল অ্যাডেলকফ মোট ৯ লাখ ৭ হাজার ৯২৩ ডলার এবং ২০২৪ সালে আরও ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৮১ ডলার পেয়েছেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   ক্যারল অ্যাডেলকফ লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক ১৭৩৬ ফ্যামিলি ক্রাইসিস সেন্টারের প্রধান নির্বাহী। প্রতিষ্ঠানটি পারিবারিক সহিংসতার আশ্রয়কেন্দ্র, সংকটকালীন হটলাইন এবং গৃহহীন মানুষের জন্য বিভিন্ন সেবা পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির লস অ্যাঞ্জেলেস ও অরেঞ্জ কাউন্টিতে ১৬টি স্থাপনা রয়েছে এবং প্রায় ১৭০ জন কর্মী কাজ করেন।   অ্যাডেলকফের পারিশ্রমিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মূলত দুই বছরে পাওয়া বিপুল অর্থ এবং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অব্যবহৃত ছুটির অর্থ পরিশোধের কারণে। অ্যাডেলকফ জানিয়েছেন, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে পাওয়া অর্থের বড় একটি অংশ ছিল চার দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় জমে থাকা ছুটির অর্থ। তার মূল বেতন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় ৪ লাখ ৫ হাজার ডলার ছিল বলে তিনি জানান।   প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী বলেছেন, অ্যাডেলকফের অবসর নেওয়ার আগে জমে থাকা ছুটির দায় কমাতে পরিচালনা পর্ষদ আইনজীবী ও আর্থিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করেছে। অ্যাডেলকফের জন্য আগে বছরে আট সপ্তাহ পর্যন্ত ছুটি জমা রাখার সুযোগ ছিল। ২০১২ সালে তা কমিয়ে চার সপ্তাহ করা হলেও তার ছুটি জমার ক্ষেত্রে কোনো সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।   ১৭৩৬ ফ্যামিলি ক্রাইসিস সেন্টারের বার্ষিক আয় প্রায় দেড় কোটি ডলার। এর বেশিরভাগই সরকারি অর্থ থেকে আসে। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ করসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, মোট আয়ের ৯৪ শতাংশ এসেছে করদাতাদের অর্থ থেকে। ২০২১ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি লস অ্যাঞ্জেলেস গৃহহীন সেবা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অন্তত আড়াই কোটি ডলার অনুদান পেয়েছে।   অ্যাডেলকফ অন্তত ১১ বছর ধরে হাওয়াইয়ে তার প্রধান বাসস্থান রেখেও দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী জানিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার পরও পরিচালনা পর্ষদ তাকে প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্বে থাকার অনুরোধ করেছিল। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে বলেও তিনি জানান।   তবে একই অঞ্চলের আরও বড় কয়েকটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের তুলনায় অ্যাডেলকফের সাম্প্রতিক পারিশ্রমিক অনেক বেশি। প্রায় ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার বার্ষিক আয়ের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ২০২৪ সালে প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার ডলার পেয়েছেন। আর প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার বার্ষিক আয় করা আরেকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ২০২৩ সালে প্রায় ৩ লাখ ৭৯ হাজার ডলার আয় করেছেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির পারিবারিক সহিংসতা ও গৃহহীনদের সেবা দেওয়া ১৬টি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের পারিশ্রমিক তুলনা করে দেখা গেছে, তাদের বার্ষিক পারিশ্রমিকের মধ্যমা ছিল প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অলাভজনক খাতের বিশেষজ্ঞরা অ্যাডেলকফের এত বড় ছুটির অর্থ পাওয়ার বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলে বর্ণনা করেছেন।   ক্যালিফোর্নিয়ায় অব্যবহৃত ছুটির সময়কে কর্মীর পাওনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে কর্মীরা কতটা ছুটি জমাতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করতে পারে প্রতিষ্ঠান। অ্যাডেলকফ জানিয়েছেন, তার আর কোনো জমে থাকা ছুটির অর্থ পাওনা নেই এবং বর্তমানে তার পারিশ্রমিক আগের মূল বেতনের কাছাকাছি পর্যায়ে ফিরে এসেছে।   অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের পারিশ্রমিক যুক্তিসংগত হওয়া ফেডারেল নিয়মের আওতায় পড়ে। একইভাবে ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদকে প্রধান নির্বাহীর পারিশ্রমিক ন্যায্য ও যুক্তিসংগত কি না, তা নিশ্চিত করতে হয়। ১৭৩৬ ফ্যামিলি ক্রাইসিস সেন্টার জানিয়েছে, অ্যাডেলকফের বেতন নির্ধারণের সময় তাদের পরিচালনা পর্ষদ একই ধরনের প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিক পর্যালোচনা করে।   অ্যাডেলকফ ১৯৮৪ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২ লাখ ডলারের বার্ষিক বাজেটের একটি অলাভজনক সংস্থা থেকে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে আশ্রয়কেন্দ্র, হটলাইন ও অন্যান্য সেবা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দাদের জন্য সুখবর, গাড়ি ব্যবহার না করলেই মিলবে ৬০০ ডলার পুরস্কার
লস অ্যাঞ্জেলেসবাসীর জন্য সুখবর, ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহারেই মিলবে ৬০০ ডলার পুরস্কার

লস অ্যাঞ্জেলেসের চালকদের জন্য দারুণ এক খবর! নিজেদের অন্তত একটি গাড়ি বাড়িতে পার্ক করে রাখলেই নগদ অর্থ দিচ্ছে শহরের কর্তৃপক্ষ। লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রো (এলএ মেট্রো) সম্প্রতি তাদের ‘ওয়ান কার চ্যালেঞ্জ’ নামক একটি পাইলট প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ধাপ চালু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য পরিবারগুলোকে ৬০০ ডলার পর্যন্ত প্রদান করা হবে, যদি তারা পাঁচ সপ্তাহের জন্য তাদের একটি গাড়ি ব্যবহার না করার শর্তে রাজি হয়। এর বদলে তাদের যাতায়াতের জন্য গণপরিবহন, সাইকেল, হাঁটা বা কারপুলিংয়ের মতো বিকল্প মাধ্যমগুলো বেছে নিতে হবে।   ২০২৩ সালে সান্তা মনিকায় প্রায় ৩০০টি পরিবারের অংশগ্রহণে এই উদ্যোগটি পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছিল। সেই সাফল্যের পর এবার পুরো লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে এর পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। এবারের কর্মসূচিতে প্রায় ২,০০০ পরিবারকে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো যেসব পরিবারে কেবল একটি গাড়ি রয়েছে, তারাও এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের আশা, এই আর্থিক প্রণোদনা বাসিন্দাদের গাড়ি চালানোর প্রবণতা কমাবে এবং যানজট কমানো, কার্বন নির্গমন হ্রাস ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতিতে এ ধরনের কর্মসূচি কতটা কার্যকর হতে পারে, তা নির্ধারণে সাহায্য করবে।   এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে হলে অংশগ্রহণকারীর বয়স অন্তত ২১ বছর হতে হবে এবং তাদের একটি গাড়ি পাঁচ সপ্তাহ পার্ক করে রাখতে হবে। তাদের যাতায়াতের অভ্যাসগুলো ‘গোকারমা’ (GoCarma) নামের একটি স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নজরদারি করা হবে, যা ট্রিপ এবং গাড়ির মাইলেজ ট্র্যাক করবে। সফলভাবে চ্যালেঞ্জটি শেষ করতে পারলে পরিবারগুলো ৬০০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারবে। সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব গভর্নমেন্টস থেকে প্রাপ্ত ২০ লাখ ডলারের অনুদানের সাহায্যে এই কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম ধাপের ফলাফল বেশ আশাব্যঞ্জক ছিল এবং সেসময় মানুষের হাঁটা, সাইকেল চালানো ও গণপরিবহন ব্যবহারের হার ১৬.১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।   কর্মকর্তারা বলছেন, এই বড় পরিসরের গবেষণার মাধ্যমে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিককে সামনে রেখে ভবিষ্যৎ ট্রাফিক নীতি প্রণয়ন করা সহজ হবে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনলাইনে অনেকেই নগদ অর্থ পাওয়ার সুযোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও, সমালোচকদের দাবি—লস অ্যাঞ্জেলেসের গণপরিবহন ব্যবস্থা এখনো এতটা ব্যবহারোপযোগী নয়। একজন মন্তব্যকারী আক্ষেপ করে বলেন, গাড়িতে যে পথ যেতে ১৫ মিনিট লাগে, বাসে সেখানে ৪৫ মিনিট সময় নষ্ট হয়; তাই কোনো অর্থের বিনিময়েই তিনি এই সুবিধা ছাড়বেন না। অন্যদিকে, অনেকেই আবার মেট্রো কর্তৃপক্ষের এই অভিনব উদ্যোগের প্রশংসাও করেছেন।   আগ্রহী বাসিন্দারা লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রোর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন। এই চ্যালেঞ্জ থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো ক্যালিফোর্নিয়ার দীর্ঘমেয়াদি যানজট নিরসন এবং বায়ুদূষণ কমানোর নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে বেসবল ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালানো ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে ব্যাট হাতে হামলার অভিযোগ, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের অ্যাডামস-নরম্যান্ডি এলাকায় বেসবল ব্যাট দিয়ে পথচারী ও যানবাহনে হামলার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে নগর পুলিশের সদস্যরা। পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় জরুরি নম্বরে একাধিক ফোনকল আসে। অভিযোগে বলা হয়, এক ব্যক্তি বেসবল ব্যাট হাতে পথচারীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং চলাচলকারী ও দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি গাড়িতে আঘাত করছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ওই ব্যক্তিকে ব্যাট হাতে দেখতে পায়। পুলিশের দাবি, তাকে বারবার অস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। বরং ব্যাট হাতে পুলিশ সদস্যদের দিকে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রাণঘাতী গুলি ছোড়া হয়। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্তকারীরা আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্যও পর্যালোচনা করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, কতজন সদস্য গুলি চালিয়েছেন এবং প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করা আদৌ প্রয়োজন ছিল কি না, তা নিয়ে স্বাধীন তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
হলিউডের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ
হলিউডের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স থেকে তিন ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটার পর পুরো এলাকায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।   লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) জানিয়েছে, ওই এলাকার কারও খোঁজখবর নেওয়ার জন্য (ওয়েলফেয়ার চেক) পুলিশের একটি দল রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাহুয়েঙ্গা বুলেভার্ডের কাছে উইলকক্স অ্যাভিনিউয়ের ওই অ্যাপার্টমেন্টে যায়। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করার পরই তারা তিনজনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।   ঘটনাস্থল থেকে তিন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের মৃতদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ এখন পর্যন্ত নিহতদের বয়স বা পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।   একসাথে তিনজনের এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকাটিতে শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তার পেছনের পরিস্থিতি উদ্ঘাটন করতে রাতভর ঘটনাস্থলে অবস্থান করে নিবিড় তদন্ত চালিয়েছেন গোয়েন্দারা।   ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং বিস্তারিত তদন্ত শেষ হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসনবিরোধী অভিযান ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় চলমান মামলার এক আসামির কারাদণ্ড। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে পুলিশ ও তাদের গাড়িতে জ্বলন্ত বস্তুনিক্ষেপ, আইস-বিরোধী বিক্ষোভকারীকে ৩ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর অভিযানের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত সহিংস বিক্ষোভে পুলিশের ওপর আগুন জ্বালানো বস্তু ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে তিন বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৪১৫ ডলার ক্ষতিপূরণ পরিশোধেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ৪২ বছর বয়সী ইসমাইল ভেগা। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টলেক এলাকার বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ৮ জুন ডাউনটাউন লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের সময় তিনি অন্যদের সঙ্গে মহাসড়কের ওপরের সেতুতে অবস্থান করেন। সে সময় ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের (সিএইচপি) সদস্যরা নিচে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা আগুন জ্বালানো কার্ডবোর্ড, শুকনো গাছপালা ও অন্যান্য জ্বলন্ত বস্তু নিচে থাকা পুলিশ সদস্যদের দিকে নিক্ষেপ করেন।   আদালতে দাখিল করা স্বীকারোক্তিতে ভেগা বলেন, তিনি জানতেন যে সেতুর নিচে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছিলেন এবং আগুন জ্বালানো বস্তু নিক্ষেপ করলে তাদের মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবুও তিনি অন্যদের সঙ্গে আগুন লাগানো বস্তু প্রস্তুত করতে সহায়তা করেন এবং একটি জ্বলন্ত কার্ডবোর্ড সিএইচপির একটি গাড়ির দিকে ছুড়ে মারেন, যা গাড়িটির ওপর গিয়ে পড়ে।   তদন্তে আরও উঠে আসে, বিক্ষোভ চলাকালে ভেগা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে একাধিক পাথরও নিক্ষেপ করেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের কাজ ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই তিনি এসব কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।   মামলার নথিতে প্রসিকিউটররা বলেন, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত সহিংস এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের জীবনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছিল। প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের এক সার্জেন্ট আদালতে লিখিত বিবৃতিতে জানান, ওই দিনের ঘটনা তার কর্মজীবনের অন্যতম সহিংস অভিজ্ঞতা ছিল এবং এর মানসিক প্রভাব তার পরিবারেও পড়েছে।   এই মামলায় ভেগা পঞ্চম ব্যক্তি, যিনি সাজা পেলেন। একই ঘটনায় অভিযুক্ত ইয়াচুয়া মাউরিসিও ফ্লোরেসের সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ আগস্ট। অন্যদিকে প্রধান আসামি অ্যাডাম চার্লস পালের্মোর সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা ১৪ ডিসেম্বর। তার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।   মামলাটি তদন্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। তদন্তে সহযোগিতা করেছে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল এবং লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্রিতে উঠল ১০৩ বছরের পুরোনো বিরল মাটির বাড়ি
লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্রিতে উঠল ১০৩ বছরের পুরোনো বিরল মাটির বাড়ি

লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্রমাগত সম্প্রসারিত শহুরে কাঠামোর মাঝে খুব কম ভবনই পুরোনো দিনের সত্যিকারের স্মৃতি বহন করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ২৪১৪ ফোর্থ অ্যাভিনিউয়ের ‘অ্যালিস লিঞ্চ হাউস’। ১৯২২ সালে কবি অ্যালিস লিঞ্চের জন্য ওয়েস্ট অ্যাডামস টেরেসের ঐতিহাসিক ও অভিজাত এলাকায় নির্মিত এই সাধারণ অথচ আকর্ষণীয় বাড়িটি লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘অ্যাডোবি’ বা রৌদ্রে শুকানো কাদামাটির ইট দিয়ে তৈরি সত্যিকারের স্থাপত্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত। ১৯২০-এর দশকে স্প্যানিশ কলোনিয়াল রিভাইভাল ধাঁচের কাঠ-কাঠামোর ওপর পলেস্তারা করা সাধারণ বাড়িগুলোর চেয়ে এটি সম্পূর্ণ আলাদা, কারণ এটি আক্ষরিক অর্থেই কাদামাটির ব্লক স্তরে স্তরে সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছিল।   বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলে এমন আসল ‘অ্যাডোবি’ পদ্ধতির মাত্র ৪০টির মতো বাড়ি অবশিষ্ট রয়েছে, যা আজও ক্যালিফোর্নিয়ার অতীতের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন বাজারের মানদণ্ডে বেশ আকর্ষণীয় দামেই, অর্থাৎ ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ ডলারে বাড়িটি বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হয়েছে। স্থপতি হেনরি হারউড হিউইট এবং অ্যাডোবি বিশেষজ্ঞ জন বায়ার্সের যৌথ নকশায় মেক্সিকান কারিগরদের প্রাচীন ও দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় এটি নির্মিত হয়েছিল। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় এই স্থাপত্যশৈলীকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য পরিচিত বায়ার্স নিজেই ইটের ব্লক ও টাইলসসহ বাড়িটির বেশিরভাগ নির্মাণসামগ্রী সরাসরি নির্মাণস্থলে হাতে তৈরি করেছিলেন।   বায়ার্সের সেই পরিশ্রমের ফসল এই দ্বিতল বাড়িটির আয়তন প্রায় ২,৫০০ বর্গফুট, যা একটি কেন্দ্রীয় উঠোনকে ঘিরে ইংরেজি 'ইউ' (U) আকৃতিতে তৈরি করা হয়েছে। কাদামাটির পুরু দেয়াল, আসল কাঠের কড়িকাঠ, খিলানযুক্ত কাঁচের দরজা এবং ইটের তৈরি বিশাল অগ্নিকুণ্ড বাড়িটির অন্দরমহলকে দিয়েছে এক অনন্য সাবেকি রূপ। চারটি বেডরুম ও তিনটি বাথরুমের এই বাড়িটিতে আধুনিকতার ছোঁয়াও দেওয়া হয়েছে খুব সতর্কতার সঙ্গে। কংক্রিটের সিঙ্ক ও আধুনিক রান্নাঘরের ক্যাবিনেটগুলো এর ঐতিহাসিক গুরুত্বকে ম্লান না করে বরং আরও ফুটিয়ে তুলেছে। বাইরের কাদামাটির দেয়ালঘেরা উঠোনটি আজও এই শহরের বুকে এক বিরল নির্জনতার অনুভূতি দেয়।   স্প্যানিশ ও মেক্সিকান শাসনামলে লস অ্যাঞ্জেলেসে শত শত এমন মাটির বাড়ি থাকলেও ভূমিকম্প, অবহেলা এবং নতুন নির্মাণের আগ্রাসনে তার বেশিরভাগই চিরতরে হারিয়ে গেছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এসে এই রৌদ্রে শুকানো মাটির নির্মাণপদ্ধতি সাধারণ চর্চার বদলে এক রোমান্টিক শখে পরিণত হয়। ১৯৯৬ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসের ৬২১ নম্বর ‘ঐতিহাসিক-সাংস্কৃতিক স্মৃতিস্তম্ভ’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া অ্যালিস লিঞ্চ হাউসটি সেই পুনর্জাগরণ পর্বের টিকে থাকা অন্যতম অক্ষত একটি নিদর্শন। এটি কেবল সময়ের ফ্রেমে বন্দি কোনো জাদুকরী প্রদর্শনীর বস্তু নয়, বরং এটি এমন একটি বাসযোগ্য বাড়ি, যার কাদামাটির পুরু দেয়াল আজও সকালের শীতল বাতাস ও বিকালের উষ্ণতাকে পরম যত্নে ধরে রাখে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০