সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

লস অ্যাঞ্জেলেস

হাওয়াই থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট তীব্র বায়ুমণ্ডলীয় ঝাঁকুনির কবলে পড়ে। ছবি: সংগৃহীত
হাওয়াই থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী ইউনাইটেড ফ্লাইটে মাঝ আকাশে তীব্র ঝাঁকুনি, আহত চার

হাওয়াই থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট তীব্র টারবুলেন্স বা বায়ুপ্রবাহজনিত ঝাঁকুনির কবলে পড়ায় চারজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট আহত হয়েছেন। বুধবার, ২১ অক্টোবর রাতে অবতরণের প্রস্তুতির সময় ঘটনাটি ঘটে। তবে বিমানটি লস অ্যাঞ্জেলেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে নিরাপদে অবতরণ করেছে। নিউইয়র্ক পোস্ট ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৭ এ তথ্য জানিয়েছে।    ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের বিবৃতির বরাতে এবিসি৭ জানায়, আহত চারজনকে চিকিৎসাকর্মীরা পরীক্ষা করেছেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে আরও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কোনো যাত্রী আহত হননি বলে এয়ারলাইনস জানিয়েছে। ফ্লাইটটিতে প্রায় ২০০ যাত্রী ও ১০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন।    ঘটনাটি ঘটে ইউনাইটেডের ১১৫৭ নম্বর ফ্লাইটে। যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ বিমানটি নিচে নেমে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয় এবং তীব্রভাবে কেঁপে ওঠে। এতে কেবিনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে পাইলট জানান, ঝাঁকুনি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল, এরপর বিমান স্বাভাবিকভাবে চলছিল।    টারবুলেন্সের সময় আঘাতের ঝুঁকি কমাতে আসনে বসে থাকলে সব সময় সিটবেল্ট বেঁধে রাখার পরামর্শ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএ। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, ফ্লাইট চলাকালে সিটবেল্টের সংকেত জ্বলে উঠলে যাত্রীদের আসনে বসে বেল্ট বাঁধা বাধ্যতামূলক। পাইলট ও কেবিন ক্রুদের নির্দেশনাও মেনে চলতে হবে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প-পুতিন আলোচনার পর রাশিয়ার কারাগার থেকে ৪ বছর পর মুক্তি পেলেন মার্কিন শিক্ষক
ট্রাম্প-পুতিন আলোচনার পর রাশিয়ার কারাগার থেকে ৪ বছর পর মুক্তি পেলেন মার্কিন শিক্ষক

হাওয়াই থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট তীব্র টারবুলেন্স বা বায়ুপ্রবাহজনিত ঝাঁকুনির কবলে পড়ায় চারজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট আহত হয়েছেন। বুধবার, ২১ অক্টোবর রাতে অবতরণের প্রস্তুতির সময় ঘটনাটি ঘটে।   তবে বিমানটি লস অ্যাঞ্জেলেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে নিরাপদে অবতরণ করেছে। নিউইয়র্ক পোস্ট ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৭ এ তথ্য জানিয়েছে।    ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের বিবৃতির বরাতে এবিসি৭ জানায়, আহত চারজনকে চিকিৎসাকর্মীরা পরীক্ষা করেছেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে আরও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কোনো যাত্রী আহত হননি বলে এয়ারলাইনস জানিয়েছে। ফ্লাইটটিতে প্রায় ২০০ যাত্রী ও ১০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন।    ঘটনাটি ঘটে ইউনাইটেডের ১১৫৭ নম্বর ফ্লাইটে। যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ বিমানটি নিচে নেমে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয় এবং তীব্রভাবে কেঁপে ওঠে। এতে কেবিনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে পাইলট জানান, ঝাঁকুনি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল, এরপর বিমান স্বাভাবিকভাবে চলছিল।    টারবুলেন্সের সময় আঘাতের ঝুঁকি কমাতে আসনে বসে থাকলে সব সময় সিটবেল্ট বেঁধে রাখার পরামর্শ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএ। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, ফ্লাইট চলাকালে সিটবেল্টের সংকেত জ্বলে উঠলে যাত্রীদের আসনে বসে বেল্ট বাঁধা বাধ্যতামূলক। পাইলট ও কেবিন ক্রুদের নির্দেশনাও মেনে চলতে হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
৫০ মিলিয়ন ডলারের হীরাখচিত ব্রা পরে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট শো মাতালেন কাইলি জেনার
৫০ মিলিয়ন ডলারের হীরাখচিত ব্রা পরে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট শো মাতালেন কাইলি জেনার

দীর্ঘ ১৯ বছর পর লস অ্যাঞ্জেলেসে ফের অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বখ্যাত 'ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট ফ্যাশন শো'। আদ্রিয়ানা লিমা ও আলেসান্দ্রা আমব্রোসিওর মতো প্রবীণ মডেলদের পাশাপাশি কাইলি জেনার ও নাতালিয়া ব্রায়ান্টের মতো নতুন মুখের উপস্থিতিতে এবারের আসরটি ছিল তারকায় ভরপুর।   রোববার রাতের এই জমকালো আয়োজনে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছেন কাইলি জেনার। রানওয়েতে নিজের অভিষেকে তিনি পরেছিলেন বিখ্যাত 'ফ্যান্টাসি ব্রা', যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার। জ্যাকব অ্যান্ড কোং-এর নকশা করা এই ব্রা-টিতে ৪ হাজার ৪১০টি প্রাকৃতিক হীরার পাশাপাশি কেন্দ্রে রয়েছে একটি ৭৫ ক্যারেটের হলুদ হীরা। এটি এই শোয়ের ইতিহাসে পরিধান করা সবচেয়ে দামি ফ্যান্টাসি ব্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   ফ্যাশন শো-তে কাইলির চমকের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু মুহূর্ত নজর কেড়েছে দর্শকদের। মা হওয়ার মাত্র ছয় সপ্তাহ পরই রানওয়েতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছেন মডেল বারবারা প্যালভিন; দর্শকসারিতে বসে স্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন স্বামী ডিলান স্প্রাউস।   অন্যদিকে, পায়ের চোটে ক্রাচে ভর করা সুপারমডেল জিজেলে বুন্ডশেন শো শুরুর আগে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সারপ্রাইজ ক্যামিও দেন এবং ভবিষ্যতে ব্র্যান্ডটির সাথে আরও কাজ করার ইঙ্গিত দেন। এছাড়া, প্রয়াত বাস্কেটবল কিংবদন্তি কোবি ব্রায়ান্টের মেয়ে নাতালিয়া ব্রায়ান্টেরও এদিন ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের রানওয়েতে জমকালো অভিষেক ঘটে।   রানওয়ের বাইরে দর্শকসারিতেও ছিল তারকাদের ছড়াছড়ি। মেগান থি স্ট্যালিয়ন, টেট ম্যাক্রে এবং কাটসেইয়ের মতো শিল্পীদের পারফরম্যান্সের তালে মেতে উঠেছিলেন সামনের সারিতে বসা তারকারা। বিশেষ করে হলিউড অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান দর্শকসারিতে সবার নজর কাড়েন। মেগান থি স্ট্যালিয়নের গানে তাঁর নাচ এবং 'নিকোল কিডম্যান' শিরোনামের একটি গান বাজার সময় তাঁর লাজুক হাসির মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আইলি ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে সহকর্মীর চায়ে রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগ উঠেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সহকর্মীর চায়ে বিষ মিশিয়ে চীনে পালানোর সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার গবেষক

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠীর চায়ে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগে চীনা বংশোদ্ভূত এক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইলি ওয়াং নামের ৩২ বছর বয়সী ওই গবেষককে গত ৬ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সহকর্মীর গবেষণা ও পেটেন্ট নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। পরে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পর চীনে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বরাতে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ওয়াইয়োমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের লারামি ক্যাম্পাসে অণুজীববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর গবেষণা করছিলেন ওয়াং ও তাঁর সহপাঠী। আদালতের নথিতে ওই সহপাঠীকে ‘কে.টি.’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর গবেষণার সঙ্গে রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং পেটেন্টের বিষয় যুক্ত ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওয়াংয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো ছিল না। দুজনের গবেষণার ক্ষেত্র আলাদা হলেও একই কার্যালয় ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতেন তাঁরা।   ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন কে.টি. অস্বাভাবিক শারীরিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্ক গোমেলস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর থেকেই ওই শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়। নিজের ডেস্কে থাকা ছোট কফি মেশিনে চা তৈরি করে পান করার সময় তিনি অস্বাভাবিক স্বাদও অনুভব করতেন। মেশিনটি পরিষ্কার করলে সেই স্বাদ চলে যেত, যা নিয়ে তাঁর সন্দেহ তৈরি হয়।   পরে কে.টি.-এর স্ত্রী ও অন্যরা কফি মেশিনের পানিতে রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি পরীক্ষা করেন। তাঁদের সংগ্রহ করা নমুনায় অ্যাক্রিলামাইড নামের একটি রাসায়নিক শনাক্ত হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। অ্যাক্রিলামাইড বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহৃত হলেও নির্দিষ্ট মাত্রায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওয়াং অনলাইন বিপণনমাধ্যম ইবে থেকে এই রাসায়নিক দুবার কিনেছিলেন। তবে রাসায়নিকটি কেনা এবং সেটি সহকর্মীর চায়ে মেশানোর অভিযোগের মধ্যে যোগসূত্র আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি।   তদন্তের অংশ হিসেবে কে.টি. ও বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ তাঁদের যৌথ কার্যালয়ে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করেন। পুলিশি হলফনামা অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বরের ভিডিওতে ওয়াংকে সহকর্মীর ডেস্ক ঘাঁটতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ১ অক্টোবরের আরেকটি ভিডিওতে তাঁকে ডেস্কের নোটবুক নিয়ে নাড়াচাড়া করতে, সেগুলোর ছবি তুলতে এবং নিজের কাপ থেকে তরল নিয়ে সহকর্মীর মগ ধুতে দেখা গেছে বলে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন। এসব দৃশ্য ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত এগিয়ে নেয়।   তদন্তকারীদের ধারণা, সহকর্মীর গবেষণার নথি নিয়ে ওয়াংয়ের আগ্রহের বিষয়টিও ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। আদালতের নথি অনুযায়ী, কে.টি.-এর গবেষণায় ক্যানসার, স্নায়বিক রোগ ও জিনগত রোগের চিকিৎসায় নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সম্ভাবনা ছিল এবং সেই গবেষণার কয়েকটি পেটেন্টের আবেদন প্রক্রিয়াধীন ছিল। ওয়াং চীনে থাকাকালে একই ধরনের গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে গবেষণার তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ এবং রাসায়নিক প্রয়োগের অভিযোগের মধ্যে সম্পর্ক কী, তা বিচারপ্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হবে।   ওয়াশিংটন ও অন্যান্য মার্কিন সরকারি মহল বহু বছর ধরে চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগ তুলে আসছে। তবে ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে চলমান মামলাটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত ঘটনার অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। এ ঘটনায় চীন সরকারের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। তাই একজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে কোনো দেশের সামগ্রিক আচরণের প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।   ওয়াংকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর সঙ্গে একাধিক ল্যাপটপ, বহনযোগ্য ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ যন্ত্র এবং বিভিন্ন নথিপত্র ছিল বলে প্রসিকিউটরদের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সামগ্রী তদন্তকারীদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, অ্যাক্রিলামাইড কেনার পর ওয়াং ইবেকে তাঁর অ্যাকাউন্ট মুছে দেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছিলেন। আদালতের নথিতে তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবীর নাম উল্লেখ ছিল না। এপি ইমেইল ও লিংকডইনের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পায়নি।   মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ওয়াং লস অ্যাঞ্জেলেসে জামিন ছাড়াই আটক ছিলেন। ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক হামলা ও আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। ওয়াইয়োমিংয়ের অ্যালবানি কাউন্টির সার্কিট কোর্টের বিচারক রবার্ট স্যানফোর্ড প্রসিকিউটরদের আবেদনের পর তাঁর জামিনের অঙ্ক বাড়িয়ে ১৫ লাখ ডলার নগদ নির্ধারণ করেছেন। তাঁকে কবে ওয়াইয়োমিংয়ে নেওয়া হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোমেলস্কি এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে দুই শিক্ষার্থীই গবেষণা করতেন। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এবং অন্য শিক্ষার্থী এ ঘটনার জন্য দায়ী হয়ে থাকতে পারেন, এমন পরিস্থিতি তাঁর পেশাগত জীবনের অন্যতম বড় ধাক্কা। কে.টি. পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন কি না, সে বিষয়েও তিনি অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিক্ষার্থী ক্লান্তি, মনোযোগের সমস্যা এবং বাঁ হাতে অনুভূতি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গে ভুগছিলেন বলে অধ্যাপক জানিয়েছেন।   ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার ও যৌথ কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, গবেষণার গোপনীয়তা এবং সহকর্মীদের মধ্যে বিরোধ সামলানোর বিষয়গুলো সামনে এনেছে। তবে মামলার অভিযোগ ও তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়া জরুরি। ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয় এবং তাঁর পক্ষের বক্তব্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), দ্য গার্ডিয়ান।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসের সরকারি স্কুলগুলোতে এক শিক্ষাবর্ষেই ছয় হাজারের বেশি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুলে ৬ হাজারের বেশি মারামারি, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় অভিভাবকেরা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের সরকারি স্কুলগুলোতে এক শিক্ষাবর্ষেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছয় হাজারের বেশি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মোট ৬ হাজার ১৩১টি মারামারির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা চার বছর আগের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে শিক্ষার্থীদের হুমকির ঘটনা বেড়েছে সাড়ে ১১ শতাংশ। সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর স্কুলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞরা।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত শিক্ষাবর্ষে লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের হুমকির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে ৪ হাজার ১৫টি। যদিও আগের শিক্ষাবর্ষের তুলনায় মারামারি ও হুমকির ঘটনা কমেছে, চার বছর আগের তুলনায় পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। স্কুল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কার্যক্রমে কিছু উন্নতি হলেও আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   সম্প্রতি ফ্রাঙ্কলিন হাই স্কুলের ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জেভিয়ার নুনগারে-মার্টিনেজের মৃত্যুর পর অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে। বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন একদল অভিভাবক। তাঁরা স্কুলগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর দাবি জানান। গত পাঁচ বছর ধরে লস অ্যাঞ্জেলেসের সরকারি স্কুলগুলোতে পুলিশের নিয়মিত সক্রিয় উপস্থিতি নেই।   শিক্ষার্থীদের হয়রানি প্রতিরোধে কাজ করা সংগঠন স্পিক আউট অ্যাগেইনস্ট বুলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক মনিকা হারমন মনে করেন, স্কুলগুলোতে আরও কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করা প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হয়রানিবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি শেষে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী অন্যায় আচরণের অভিযোগ করলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।   হারমনের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরও অনেক ক্ষেত্রে পরদিনই তাঁরা আবার স্কুলে ফিরে আসেন। পর্যাপ্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না থাকায় একই ধরনের আচরণ বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে তাঁর ধারণা। তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান।   ন্যাশনাল স্কুল সেফটি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক এবং পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রোনাল্ড স্টিফেনস স্কুল ডিস্ট্রিক্টের তথ্য পর্যালোচনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, মারামারি, হুমকি ও অবৈধ পদার্থসংক্রান্ত ঘটনার তথ্য কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। এসব তথ্য পাওয়ার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে গুরুতর কোনো ঘটনা ঘটলে সেই প্রশ্নও সামনে আসতে পারে।   স্টিফেনস বলেন, লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিরাপত্তা পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, শিক্ষার্থীদের তদারকি, প্রশিক্ষণ ও সহায়তার ক্ষেত্রে আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, স্কুল নিরাপদ রাখতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতামত নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নির্ধারণ করা জরুরি।   বিশেষজ্ঞ এই অধ্যাপক আরও বলেন, স্কুলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সব সময় জটিল প্রযুক্তির প্রয়োজন হয় না। শিক্ষার্থীদের পাশে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উপস্থিতি, নিয়মিত তদারকি এবং তাঁদের সমস্যার প্রতি গুরুত্ব দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।   এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের ক্যাপ্টেন এরিক এপোলিটো জানিয়েছেন, চলতি বছর স্কুলগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। শিক্ষার্থীদের ছোটখাটো বিরোধ যেন বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ না নেয়, সে জন্য আগেভাগে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তির দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   এরিক এপোলিটোর মতে, শিক্ষার্থীদের হয়রানি অনেক সময় সাধারণ বিরোধ থেকে গুরুতর সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলা এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর পদ্ধতি শেখানো জরুরি।   মনিকা হারমনও শিক্ষার্থীদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর সংগঠনের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের হয়রানির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করানো হয়। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হলে অন্যদের শুধু দাঁড়িয়ে দেখা বা ভিডিও ধারণ না করে প্রতিবাদ করা এবং সাহায্য চাওয়া উচিত।   ফ্রাঙ্কলিন হাই স্কুলের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে হারমন বলেন, আশপাশে থাকা শিক্ষার্থীরা সময়মতো এগিয়ে এলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, স্কুলগুলোতে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাবে না।   তবে লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুলগুলোর সব নিরাপত্তাসংক্রান্ত সূচক খারাপ হয়নি। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে স্কুল বোর্ডের বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্রসংক্রান্ত ঘটনা চার বছর আগের তুলনায় ৩৮ শতাংশ কমেছে। গত শিক্ষাবর্ষে এ ধরনের ৯২৩টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।   একই সময়ে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঝুঁকিসংক্রান্ত ঘটনার সংখ্যাও ১৪ শতাংশ কমেছে। গত শিক্ষাবর্ষে এ ধরনের ১০ হাজার ৫৫টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে গত পাঁচ বছর ধরে এই ঝুঁকিসংক্রান্ত প্রতিবেদনই স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় রয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকারের বিষয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগের শিক্ষাবর্ষের তুলনায় মারামারি, শারীরিক আগ্রাসন, হুমকি, অস্ত্রসংক্রান্ত ঘটনা এবং আত্মহত্যার ঝুঁকিসংক্রান্ত প্রতিবেদন কমেছে। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ এখনো উদ্বেগের বিষয় বলে স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।   স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক আচরণ উৎসাহিত করা, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত করা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালু রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং নিরাপদ স্কুল পরিবেশ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।   সহিংসতা প্রতিরোধে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গেও কাজ করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসে তদারকি বাড়ানো এবং যেসব স্থানে অতিরিক্ত নজরদারি প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে চার বছর আগের তুলনায় মারামারি ও হুমকির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞরা।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলেকে অনুসরণের অভিযোগে এফবিআইয়ের হাতে চীনা নারী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলেকে অনুসরণের অভিযোগে এফবিআইয়ের হাতে চীনা নারী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এলএএক্স) থেকে এক সন্দেহভাজন চীনা গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই। ওয়ানিং "হেদার" ঝাং নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ছেলের ওপর নজরদারি চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।   গত রোববার চীনের সাংহাইগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আরভিনে রিয়েল এস্টেট এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন ৩৪ বছর বয়সী এই নারী।   এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেসের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স স্কোয়াডের এক সদস্যের দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, ঝাং এবং তার এক সহযোগী গত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটনের সিয়াটলে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা তাইওয়ানের এক শীর্ষ কর্মকর্তার পরিবারের শহরতলির বাড়ির ছবি তোলেন ও ভিডিও করেন।   মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রমতে, নজরদারির মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলে টিং-ইউ লাই। তিরিশোর্ধ্ব এই প্রকৌশলী যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে বহুজাতিক ডাচ ইলেকট্রনিকস কোম্পানি ফিলিপসে কর্মরত।   ৩ অক্টোবর দায়ের করা অভিযোগে এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট কেভিন হোল্ট উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে কোনো সম্ভাব্য সংঘাতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীন এই ধরনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নিকটাত্মীয়দের অবস্থান, বাড়ি এবং গাড়ির ছবিগুলো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।   অভিযোগপত্রে এই গুপ্তচরবৃত্তির রোমাঞ্চকর কিছু তথ্যও উঠে এসেছে। জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঝাং লাস ভেগাস থেকে সিয়াটলে যান এবং একটি কালো রঙের গাড়ি ভাড়া করে লক্ষ্যবস্তুর বাড়ির দিকে রওনা দেন। প্রতিবেশীর সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ওই দিন সন্ধ্যায় টিং-ইউ, তার স্ত্রী এবং তাদের সন্তান বাড়িতে পৌঁছালে ঝাং ও তার সহযোগী তাদের ভিডিও ধারণ করছিলেন।   ঝাংয়ের আইক্লাউড অ্যাকাউন্ট তল্লাশি করে চীনা মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটের কিছু বার্তাও উদ্ধার করেছে এফবিআই। সেখানে দেখা যায়, ঝাং চীনা সরকারের এক কর্মকর্তাকে টেক্সট করে লিখছেন, "তাকে দেখেছি। অল্পবয়সী ছেলে। এটাই সেই তরুণ।" এরপর তিনি গাড়ির দুটি লাইসেন্স প্লেটের নম্বর পাঠিয়ে নিশ্চিত করেন যে তিনি ভিডিও রেকর্ড করছেন।   এফবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে পড়ার সময় এক সহপাঠীর মাধ্যমে চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঝাংয়ের পরিচয় হয়। পরে ২০২৫ সালের জুনে চীনের চাংশায় এক গোপন বৈঠকে তিনি নজরদারির এই মিশন গ্রহণ করেন।   এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত চীনা ভিন্নমতাবলম্বী এবং গণতন্ত্রপন্থীদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি ও হয়রানি করার দায়ে বেশ কয়েকজন চীনা এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন প্রশাসন। তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসা বেইজিংয়ের এমন নজরদারির ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
শিশু লুনার মৃত্যুর পর তদন্ত শুরু করে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিনে মিলল ৪ মাস বয়সী শিশুর মরদেহ, হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিন থেকে চার মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার ১৯ বছর বয়সী মায়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। তাকিয়াহ রোশেল বাবার্সের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং শিশুর মৃত্যুর কারণ হওয়া নির্যাতনের একটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০ লাখ ডলার জামিনে আটক রয়েছেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের (এলএপিডি) তথ্য অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের আলবা স্ট্রিটের ৫২০০ ব্লকে একটি শিশুকে ডাস্টবিনের ভেতর পাওয়া যাওয়ার খবর পেয়ে নিউটন ডিভিশনের কর্মকর্তারা সেখানে যান। ঘটনাস্থলে তারা শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে লস অ্যাঞ্জেলেসের দমকল বিভাগের কর্মীরা তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে উদ্ধারের সময় তার মরদেহ একটি আবর্জনার পাত্রের ভেতরে ছিল এবং ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারের আগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে সেখানে রাখা হয়েছিল। ঘটনাটি প্রথমে মৃত্যুর তদন্ত হিসেবে নেওয়া হলেও পরে পুলিশ এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে শিশুটির মা তাকিয়াহ বাবার্সকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয় এবং ২৯ সেপ্টেম্বর তাকে কোনো ধরনের ঘটনার সৃষ্টি ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়।   পরিবারের সদস্যরা শিশুটির নাম লুনা বাবার্স বলে জানিয়েছেন। তার দেখাশোনা করতেন লরা লেসি ও হারম্যান জনসন, যারা বাবার্সের পালক অভিভাবক। ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তারা শিশুটিকে তার মায়ের কাছে রেখে যান। পরে শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে তারা এলাকায় ফিরে আসেন এবং জানতে পারেন, কাছাকাছি একটি ডাস্টবিন থেকে একটি শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটিকে যেখানে পাওয়া যায় সেটি পুয়েব্লো দেল রিও আবাসিক এলাকার কাছাকাছি। স্থানীয় এক বাসিন্দা রাতে ডাস্টবিনে আবর্জনা ফেলতে গিয়ে ভেতরে একটি কালো কাপড়ের ব্যাগ দেখতে পান। প্রথমে তিনি সেটিকে পুতুল মনে করেছিলেন। পরে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে তিনি আরেক প্রতিবেশীর সঙ্গে জরুরি সেবায় ফোন করেন।   শিশুটির পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। লরা লেসি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, লুনা তার কাছে ছিল এবং ঘটনার আগে তিনি শিশুটিকে বাবার্সের কাছে রেখে গিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বাবার্সের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুটির মৃত্যুর অভিযোগ তোলা হলেও, এসব বক্তব্য এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তকারীরাও শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বা ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য প্রকাশ করেননি।   ঘটনার পর দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের ওই এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটির স্মরণে মোমবাতি, ফুল ও বেলুন দিয়ে একটি অস্থায়ী স্মৃতিচিহ্ন তৈরি করেন। ৩০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনেরা লুনার স্মরণে একটি মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরিবারের সদস্যরা সেখানে শিশুটির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তাদের শিশু নির্যাতন তদন্তকারী ইউনিট ঘটনাটির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। শিশুটির মৃত্যুর কারণ নির্ধারণসহ ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ বলেছে, এ বিষয়ে তথ্য থাকা ব্যক্তিদের তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।   ১ অক্টোবর আদালতে বাবার্সের প্রাথমিক শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি কোনো আবেদন বা জবানবন্দি দেননি। তার পরবর্তী আদালত-শুনানি ৩০ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। হত্যাসহ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন, তাই আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, এবিসি৭

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে শিক্ষার্থীর চারতলা থেকে পড়ে  মৃত্যু
লস অ্যাঞ্জেলেসে শিক্ষার্থীর চারতলা থেকে পড়ে মৃত্যুর পর বুলিংয়ের অভিযোগ এনেছে পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি স্কুল ভবনের চারতলা থেকে পড়ে ১৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে ছেলেটি বুলিংয়ের শিকার হচ্ছিল। তবে বুলিংয়ের অভিযোগ ও ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক তদন্তে এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।   নিহত শিক্ষার্থীর নাম জেভিয়ার আমায়া। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে হাইল্যান্ড পার্ক এলাকার বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন হাই স্কুলে ঘটনাটি ঘটে। চারতলা থেকে পড়ে যাওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়; সেখানেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার পর প্রায় তিন ঘণ্টা স্কুলে চলাচল সীমিত রাখা হয়েছিল।   জেভিয়ারের সঙ্গে একই ক্লাসে থাকা এক শিক্ষার্থী এবিসি৭-কে বলেছেন, পড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে আরেক শিক্ষার্থী তাঁকে কয়েকবার আঘাত করেছিল। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য রয়েছে। ভিডিওতে দেখা ঘটনাগুলোর পূর্ণ পরিস্থিতি এবং জেভিয়ারের পড়ে যাওয়ার কারণ তদন্ত করছে পুলিশ।   পরিবারের সদস্যরা জেভিয়ারের সঙ্গে মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে কেমন আচরণ করা হয়েছিল, তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তাঁরা বলেছেন, জেভিয়ার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছিলেন। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত জোর করে তাঁকে ফেলে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ হয়নি।    বৃহস্পতিবার স্কুলে ক্লাস শুরু হলেও প্রবেশপথে জেভিয়ারের স্মরণে ফুল ও মোমবাতি রাখা হয়। সন্ধ্যায় আয়োজিত স্মরণসভায় শত শত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য শোক সামলাতে সহায়তা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসের বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন হাইস্কুলে চারতলা ভবন থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে স্কুলের চারতলা থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন হাইস্কুলে চারতলা ভবন থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাইল্যান্ড পার্ক এলাকায় অবস্থিত স্কুলটিতে এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই পুরো স্কুল ক্যাম্পাস অবরুদ্ধ (লকডাউন) করে দেওয়া হয় এবং পুলিশ এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে ওপর থেকে এক ছাত্রের পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কিশোরকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এলএপিডি) সংবাদমাধ্যম ‘পিপল’-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এবিসি৭-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীটি যেখানে পড়েছিল সেখানে একটি শামিয়ানা টাঙিয়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সবুজ সংকেত পাওয়ার আগে প্রায় তিন ঘণ্টা ক্যাম্পাস পুরোপুরি লকডাউন ছিল।   নিহত শিক্ষার্থীর নাম, বয়স বা ঠিক কীভাবে সে নিচে পড়ে গেল—এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। এলএপিডি জানিয়েছে, ঘটনাটিকে আপাতত ‘মৃত্যুর ঘটনা’ হিসেবে রেকর্ড করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে ফক্স ১১ লস অ্যাঞ্জেলেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, অন্য এক ছাত্রের সঙ্গে হাতাহাতির পরই ওই কিশোর ওপর থেকে পড়ে যায়। ফক্স ১১-এর হাতে আসা একটি ভিডিওতেও দেখা গেছে, দুই ছাত্রের মধ্যে মারামারি হচ্ছে এবং এক পর্যায়ে একজনকে করিডর দিয়ে তাড়া করা হলে সে রেলিং টপকে নিচে পড়ে যায়। যদিও এনবিসি৪-এর খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো অপরাধের প্রমাণ পায়নি।   নিহত ওই কিশোর ক্লাসের সবচেয়ে শান্ত স্বভাবের ছিল এবং খুব একটা কথা বলত না বলে জানিয়েছে তার এক সহপাঠী। চোখের সামনে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু দেখে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বুধবার বিকেলে স্কুলগেটের বাইরে নিহত শিক্ষার্থীর স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর একটি জায়গা তৈরি করা হয়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে স্কুলটিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য সেখানে শোক কাউন্সেলরদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও স্কুল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট যৌথভাবে এই ঘটনার নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে ২১তম জন্মদিনে পার্টির বদলে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়লেন তরুণী
লস অ্যাঞ্জেলেসে ২১তম জন্মদিনে পার্টির বদলে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়লেন তরুণী

২১ বছর বয়সে পদার্পণ উপলক্ষে বিলাসবহুল পার্টি বা লাস ভেগাসে ভ্রমণের বদলে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক উদ্যোগ নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন মিরিয়াম হারেগোট। নিজের বিশেষ দিনটিকে আরও অর্থবহ করে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রাণকেন্দ্রে গৃহহীনদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার ও চালু করেছেন এই তরুণী।   মানবিক এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে মিরিয়াম বলেন, "মানুষকে মানবিকতার ছোঁয়া দিতে পেরে দারুণ লাগছে, কারণ বর্তমান বিশ্বে এর বড্ড অভাব। আপনি নিজে সমাজে যে পরিবর্তন দেখতে চান, সেই পরিবর্তনের সূচনা আপনার নিজেকে দিয়েই করা উচিত।"   এই আশ্রয়কেন্দ্র চালুর পরপরই মিরিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন 'দ্য প্যাক প্রজেক্ট' (P.A.C.K. - People Advocating Community Kinship) নামের একটি সংগঠন। সাউথ সেন্ট্রাল লস অ্যাঞ্জেলেসের একদল তরুণ, উদ্যোক্তা এবং সৃজনশীল ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি মূলত গৃহহীন ও সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের খাদ্য, বাসস্থান এবং শিক্ষার ব্যবস্থা করতে কাজ করে যাচ্ছে।   তাদের এই প্রজেক্টের আওতায় 'ফিড দ্য হোমিস' (Feed The Homies) নামের একটি মাসিক উদ্যোগের মাধ্যমে স্কিড রো এলাকায় এ পর্যন্ত হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে গরম খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। সমাজ পরিবর্তনের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পদবি, বড় তহবিল বা অনুমোদনের অপেক্ষা না করে মিরিয়াম যেভাবে নিজেই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিনে মিলল ৬ মাসের শিশুকন্যার ম রদেহ, সন্দেহে আটক নারী
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিনে মিলল ৬ মাসের শিশুকন্যার ম রদেহ, সন্দেহে আটক নারী

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার হওয়া এক শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে শহরের সেন্ট্রাল আলামেডা এলাকার একটি ডাস্টবিনের ভেতর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে মঙ্গলবার সকালে এক তরুণীকে আটক করেছে পুলিশ।   পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইস্ট ৫২ নম্বর স্ট্রিটের ১৮০০ ব্লকে, হোমস অ্যাভিনিউ এলিমেন্টারি স্কুলের সামনের একটি ডাস্টবিনে ৪ থেকে ৬ মাস বয়সী ওই শিশুটিকে পাওয়া যায়। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এলএপিডি) জুভেনাইল ডিভিশনের লেফটেন্যান্ট ডেভ হসকিন্স জানান, এক ব্যক্তি সেখানে ময়লা ফেলতে গিয়ে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পান এবং জরুরি সেবা ৯১১-এ কল করেন।   প্রত্যক্ষদর্শী ওই ব্যক্তি শুরুতে শিশুটিকে একটি পুতুল ভেবেছিলেন। শিশুটির পরনে শর্টস ও হাতে গ্লাভস ছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   মঙ্গলবার সকালে এক নারীকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। তবে তিনি শিশুটির মা কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। এদিকে, হারমান জনসন ও লরা লেসি নামের এক দম্পতি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, আটক হওয়া নারী তাদের পালিত কন্যা এবং মৃত শিশুটি তারই সন্তান।   নখ দিয়ে যাতে আঁচড় কাটতে না পারে, সেজন্য শিশুটির হাতে গ্লাভস পরানো ছিল বলে জানান তারা। জনসন জানান, তার পালিত কন্যার আচরণ বেশ কিছুদিন ধরেই অস্বাভাবিক ছিল এবং মঙ্গলবার সকালে সে একেকবার একেক রকম কথা বলছিল। শিশুটিকে সামলাতে না পারায়, মাত্র দুই সপ্তাহ বয়স থেকেই জনসন ও লরা নিজেরাই শিশুটির দেখাশোনা করছিলেন।   পালিত কন্যার এমন নিষ্ঠুর আচরণে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন লরা লেসি। তিনি বলেন, “তার প্রতি আমার কোনো ভালোবাসা নেই, কারণ ওই নিষ্পাপ শিশুটির প্রতি তার কোনো মমতা ছিল না।” তবে ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “কেন তুমি এমন করলে? আমি তো তোমার সন্তানের দেখাশোনা করছিলাম, আমিই তো তার দাদি ছিলাম।”   তদন্তে সহায়তা করার জন্য ওই দম্পতি পরে পুলিশ স্টেশন এবং মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয়ে যান। আটককৃত নারীর পরিচয় বা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিথিয়া রামনকে ঘিরে ‘গোপন এজেন্ডা’র অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের আসন্ন মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ)-এর বিতর্কিত নীতিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে কি না, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো জবাব দেননি বর্তমান প্রার্থী নিথিয়া রামন। আর তাঁর এই নীরবতার সুযোগেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ প্রোটেকটিভ লিগ (এলএপিপিএল)। ৮ হাজার ৭০০ জন পুলিশ কর্মকর্তার প্রতিনিধিত্বকারী এই ইউনিয়নের মুখপাত্র টম সাগাউ অভিযোগ করেছেন, নিথিয়া ও তাঁর উগ্র সমর্থকরা মূলত "ভেড়ার ছদ্মবেশে নেকড়ে"।   সাগাউয়ের মতে, তারা অত্যন্ত সুকৌশলে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছে। ডিএসএ-এর সাথে মিলে শহর পরিচালনার গোপন বোঝাপড়া থাকার কারণেই তারা নিথিয়াকে সমর্থন দিয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ ইউনিয়ন।   সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-এর পক্ষ থেকে নিথিয়া রামনের প্রচার শিবিরের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, তিনি ডিএসএ-এলএ-এর ১৬টি নীতি প্রস্তাবের সাথে একমত কি না। এসব নীতির মধ্যে পুলিশের বাজেট কমানো, কারাগার বন্ধ করা এবং মাদক ব্যবহারকে অপরাধের আওতামুক্ত করার মতো বিতর্কিত বিষয় রয়েছে।   আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে বর্তমান মেয়র কারেন ব্যাসের বিপক্ষে তিনি লড়ছেন, অথচ নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও রামনের প্রচার শিবির এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ডিএসএ-এর অন্যান্য নীতিগুলোর মধ্যে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ডাকে সশস্ত্র পুলিশের বদলে নিরস্ত্র কর্মী পাঠানো, ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাসন বাজেয়াপ্ত করা, সর্বজনীন বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং খালি পড়ে থাকা বাড়ির মালিকদের ওপর কর আরোপ করার মতো প্রস্তাবও রয়েছে। এছাড়া তারা স্থানীয় নির্বাচনে অনাগরিকদের ভোটাধিকার দেওয়ারও পক্ষে।   নিথিয়া রামনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ডিএসএ-এর সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২০ সালে প্রথমবার সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হওয়ার সময় সংস্থাটি তাঁকে সমর্থন দিয়েছিল এবং ২০২৬ সালের মেয়র নির্বাচনেও তারা তাঁর পাশে রয়েছে। যদিও মে মাসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে 'পুলিশের বাজেট কমানো'র আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নিথিয়া।   কিন্তু সম্প্রতি তিনি এলএপিডি-এর সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধমূলক হুমকি দমনের একটি গোয়েন্দা কর্মসূচিতে ১ লাখ ডলারের অর্থায়নের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। অবশ্য পুলিশের উত্তেজনা প্রশমন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের জন্য ৩ লাখ ২০ হাজার ডলারের একটি তহবিলের পক্ষেও ভোট দিয়েছেন তিনি। তবে স্কুল ও ডে-কেয়ার সেন্টারের ৫০০ ফুটের মধ্যে গৃহহীনদের তাঁবু খাটানো নিষিদ্ধ করার আইনের বিরোধিতা করায় তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।   এদিকে পুলিশ ইউনিয়নের আয়োজিত বেশ কয়েকটি ফোকাস গ্রুপে ডিএসএ-এর নীতিগুলো সম্পর্কে জানার পর সাধারণ ভোটাররা চরম আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে 'ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাসন বাজেয়াপ্ত' করার প্রস্তাবটি মানুষকে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করেছে।   সিটি কাউন্সিলের সদস্য ট্রেসি পার্ক ও স্থানীয় নেতা নিকো রুডারম্যান সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের নীতি বাস্তবায়িত হলে শহরটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। অতীতে এ ধরনের নীতি প্রয়োগের ফলে শহরের ওয়েস্টসাইড এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। পুলিশ ইউনিয়ন আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ডিএসএ-এর এসব নীতিকে প্রচারণার মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।   ইতোমধ্যেই তারা সাত পৃষ্ঠার একটি ভোটার নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে এবং সাধারণ মানুষের উদ্বেগ তুলে ধরতে নতুন ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রচারের পরিকল্পনা করছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস দুর্ঘটনা কভার করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার, সাংবাদিকসহ নি হত ৫
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস দুর্ঘটনা কভার করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার, সাংবাদিকসহ নি হত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি যাত্রীবাহী বাসে এসইউভি (SUV) গাড়ির ধাক্কা এবং এর জেরে এনবিসি (NBC) নিউজের একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ঘটা এই জোড়া দুর্ঘটনার মূল অভিযুক্ত ৩৬ বছর বয়সী নারী চালক বেইলি লিন রিওসকে বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি হত্যা, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের দুটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।   সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি হাড়হিম করা ভিডিওতে দুর্ঘটনার ঠিক কয়েক সেকেন্ড পরের দৃশ্য উঠে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বাসের সাথে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর ঘোরের মধ্যে থাকা অভিযুক্ত চালক বেইলি রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়ির ভেতরে বসে আছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা তার অবস্থা জানতে চাইলে তাকে হতভম্ব ও স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নাথান হকম্যান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ওই নারী মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তল্লাশি চালিয়ে তার গাড়ি থেকেও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। তার বেপরোয়া এসইউভি গাড়ির ধাক্কায় বাসের দুই যাত্রী নিহত হন।   তবে এই ট্র্যাজেডি এখানেই থেমে থাকেনি। বাস দুর্ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে একটি চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়, যার জেরে এনবিসি নিউজের একটি সংবাদবাহী হেলিকপ্টার মর্মান্তিকভাবে বিধ্বস্ত হয়। এই দ্বিতীয় দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারের পাইলট, একজন সাংবাদিক এবং নিচে থাকা এক পথচারী প্রাণ হারান। একটি বেপরোয়া ড্রাইভিং কীভাবে এতগুলো প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের, স্বপ্নের পেশাতেই শেষ যাত্রা
লস অ্যাঞ্জেলেসে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের, স্বপ্নের পেশাতেই শেষ যাত্রা

লস অ্যাঞ্জেলেসে এক ভয়াবহ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেস (NBCLA)-এর সংবাদ প্রতিবেদক এলিয়ানা মোরেনো। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর এক আবেগঘন বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের নীরবতা ভেঙেছে তার শোকাহত পরিবার। এলিয়ানার ভাই জোহান মোরেনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া ওই বিবৃতিটি শেয়ার করেছেন।   বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাত্র ১১ বছর বয়স থেকেই এলিয়ানা একজন সংবাদ প্রতিবেদক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। নিজের কঠোর পরিশ্রম ও সাহসিকতার মাধ্যমে তিনি সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন। পরিবার আরও জানায়, এলিয়ানা ছোটবেলা থেকে যে কাজের প্রতি তীব্র আবেগ লালন করতেন, সেই প্রিয় কাজটি করতে করতেই তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন—এই ভেবে তারা কিছুটা হলেও সান্ত্বনা খুঁজছেন।   গত মঙ্গলবার লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রো বাসের সাথে একটি এসইউভি (SUV)-এর ভয়াবহ সংঘর্ষের খবর আকাশ থেকে সংগ্রহ করতে গিয়ে এলিয়ানা মোরেনো এবং পাইলট জর্জ মার্সিনিউকে বহনকারী এনবিসি-র একটি হেলিকপ্টার হঠাৎ ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় এলিয়ানা ও জর্জ ছাড়াও নিচে থাকা এডি গুতেরেজ মেজিয়া নামের এক পথচারী প্রাণ হারান।   এলিয়ানার পরিবার তাদের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে যে, তারা তাকে নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত এবং তাকে নিজেদের পরিবারের সদস্য হিসেবে পেয়ে তারা ধন্য। ৩৮ বছর বয়সী এই সাংবাদিক তার পেছনে রেখে গেছেন পাঁচ ভাইবোন, বাগদত্ত, সৎ সন্তান এবং পোষা কুকুর।   এর আগে এক শোকবার্তায় এলিয়ানার ভাই জোহান লিখেছিলেন, "শান্তিতে ঘুমাও বোন, আমি তোমাকে অনন্তকাল ভালোবাসব। আমাদের পরিবার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ দিন পার করছে।" পাশাপাশি জোহান সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, তাদের পরিবারের নামে কেউ যদি অনলাইনে অর্থ সংগ্রহ করে, তবে তা যেন কেউ বিশ্বাস না করেন, কারণ তারা কোনো আর্থিক সহায়তা নিচ্ছেন না।   প্রায় এক বছর আগে রবার্ট ব্যারিয়েন্টোসের সাথে এলিয়ানার বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। এই দক্ষ 'এরিয়াল রিপোর্টার' বা আকাশ থেকে সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিক ২০১০ সাল থেকে এনবিসি-র নিউজ চপার-এ কাজ করছিলেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের ওপর থেকে পুলিশি ধাওয়া, দাবানল বা বড় দুর্ঘটনার সরাসরি খবর দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে তিনি "এলি ইন দ্য হেলি" নামে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।   ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) বর্তমানে এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। নিজের স্বপ্নের পেশায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় এলিয়ানার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার সহকর্মী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় বাস দু র্ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত
লস অ্যাঞ্জেলেসে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় বাস দু র্ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি মেট্রো বাসে বেপরোয়া গতির গাড়ির ধাক্কা এবং পরবর্তীতে সংবাদ সংগ্রহে আসা একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় মোট পাঁচজনের প্রাণহানির পর মূল অভিযুক্ত বেইলি লিন রিওস (৩৬) এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকায় গত বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে নিজের শুনানিতে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি। গত মঙ্গলবার রিওস তার এসইউভি (SUV) গাড়ি নিয়ে উচ্চ গতিতে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি মেট্রো বাসে ধাক্কা দেন। সংঘর্ষ এতই ভয়াবহ ছিল যে, গাড়িটি বাসের ভেতরে ঢুকে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বাসের দুই যাত্রী নিহত হন। এই ঘটনায় রিওসসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন।   জোড়া খুনের সন্দেহে রিওসের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তার জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ লাখ ৩০ হাজার ডলারে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তিনি ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে এবং সম্ভবত মদ্যপ অবস্থায় (DUI) বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন।   মর্মান্তিক এই বাস দুর্ঘটনায় নিহত দুই যাত্রী হলেন ৩১ বছর বয়সী গেজ ওয়েইডা এবং ৪৬ বছর বয়সী ড্যানিয়েল কাস্টিলো। চার সন্তানের জনক কাস্টিলোর শেষকৃত্যের খরচ মেটাতে তার পরিবার 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) প্ল্যাটফর্মে একটি তহবিল গঠন করেছে, যা ইতোমধ্যে ৩০ হাজার ডলার লক্ষ্যের বিপরীতে প্রায় ২০ হাজার ডলার সংগ্রহ করেছে।   শোকাহত পরিবার তাকে স্মরণ করে জানিয়েছে, তিনি তাদের জীবনে ভালোবাসা ও আনন্দ বয়ে এনেছিলেন। অন্যদিকে, নিহত ওয়েইডাকেও তার পরিবার একজন 'দয়ালু এবং নিঃস্বার্থ সন্তান' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।   এদিকে বাস দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি বরণ করে নেয় এনবিসি (NBC) নেটওয়ার্কের একটি হেলিকপ্টার। আকাশ থেকে ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হওয়া এই হেলিকপ্টারটিতে থাকা সাংবাদিক এলিয়ানা মোরেনো, পাইলট জর্জ মার্সিনিউ এবং নিচে থাকা পথচারী এডি গুতেরেজ মেজিয়া নিহত হন।   জানা গেছে, সাংবাদিক মোরেনোর এক বছরেরও কম সময় আগে বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। অন্যদিকে, পাইলট মার্সিনিউয়ের কয়েক দশকের দীর্ঘ উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা ছিল এবং তারা দুজন একসঙ্গে শত শত ঘণ্টা ফ্লাইটে কাজ করেছেন।   হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনায় ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) নিবিড়ভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এনটিএসবি-র প্রধান তদন্তকারী ফ্যাবিয়ান সালাজার জানিয়েছেন, সম্প্রচারকারী হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা লাইভ ভিডিওটি তাদের কাছে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।   ভিডিওটির শেষ মুহূর্তে সতর্কতামূলক অ্যালার্মের শব্দ শোনা গেছে এবং হেলিকপ্টারটিকে দ্রুত নিচে নেমে আসতে দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভিডিওটির সাউন্ড স্পেকট্রাম বিশ্লেষণ করে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারী দল। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তদন্তের একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহত্তম মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে বাড়ি কেনার দিক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস সবচেয়ে কম সাশ্রয়ী এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য এখন সবচেয়ে কঠিন লস অ্যাঞ্জেলেস, নতুন রিপোর্টে গ্রেড 'এফ'

লস অ্যাঞ্জেলেস যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহত্তম মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে বাড়ি কেনার দিক থেকে সবচেয়ে কম সাশ্রয়ী এলাকা হিসেবে উঠে এসেছে। রিয়েলটর ডটকমের নতুন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় একটি সাধারণ বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য প্রায় ১১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, যেখানে মধ্যম পরিবারের বার্ষিক আয় ৯১ হাজার ৩৮০ ডলার। আয় ও বাড়ির দামের এই ব্যবধানের কারণে অঞ্চলটির আবাসন বাজারে ক্রেতাদের জন্য বড় চাপ তৈরি হয়েছে।   ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রিয়েলটর ডটকমের ‘মেট্রো আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতা ও বাড়ি নির্মাণ মূল্যায়ন’ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহত্তম মেট্রোকে বাড়ির সাশ্রয়যোগ্যতা এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে লস অ্যাঞ্জেলেস-লং বিচ মেট্রো সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে। অঞ্চলটির মোট স্কোর ১০০-এর মধ্যে ১২, যার মধ্যে সাশ্রয়যোগ্যতার স্কোর মাত্র ০.৯ এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের স্কোর ২৩.১।   প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, ১০ শতাংশ প্রাথমিক জমা এবং ৩০ বছরের ৬.৫ শতাংশ নির্দিষ্ট সুদের গৃহঋণ ধরে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি সাধারণ বাড়ির মাসিক গৃহঋণের কিস্তি দিতে মধ্যম আয়ের একজন ক্রেতাকে তার আয়ের প্রায় ৮৪.৪ শতাংশ ব্যয় করতে হবে। সাধারণভাবে আবাসন ব্যয়ের ক্ষেত্রে আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে গৃহঋণের কিস্তি রাখাকে সাশ্রয়যোগ্যতার একটি প্রচলিত সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   রিয়েলটর ডটকমের হিসাব বলছে, মাসিক গৃহঋণের কিস্তিকে ওই ৩০ শতাংশ সীমার মধ্যে আনতে একজন ক্রেতার প্রায় ৬৮ শতাংশ প্রাথমিক জমা প্রয়োজন হবে। ১১ লাখ ২৯ হাজার ৪১৫ ডলারের বাড়ির ক্ষেত্রে এই প্রাথমিক জমার পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ ৬৮ হাজার ডলার। অর্থাৎ মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য বাড়ি কেনার পথে শুধু গৃহঋণের সুদ নয়, প্রাথমিক জমাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।   আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতার পাশাপাশি নতুন বাড়ি নির্মাণের ঘাটতিও লস অ্যাঞ্জেলেসের অবস্থানকে প্রভাবিত করেছে। মেট্রো এলাকায় জনসংখ্যার তুলনায় নতুন বাড়ির নির্মাণ অনুমোদন দেওয়ার হার জাতীয় গড়ের অর্ধেকেরও কম। রিয়েলটর ডটকমের হিসাবে লস অ্যাঞ্জেলেসের জনসংখ্যার তুলনায় নতুন বাড়ি নির্মাণের অনুমোদনের অনুপাত ০.৪৭। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ বাড়ির দাম এবং সীমিত নতুন সরবরাহ একসঙ্গে ক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস একমাত্র বড় মেট্রো নয় যেখানে আবাসন ব্যয় নিয়ে বড় চাপ রয়েছে। প্রতিবেদনে ১৩টি মেট্রোপলিটন এলাকা এফ গ্রেড পেয়েছে। তালিকায় লস অ্যাঞ্জেলেসের পর রয়েছে প্রভিডেন্স, নিউইয়র্ক, হনোলুলু, বোস্টন, অক্সনার্ড-থাউজ্যান্ড ওকস-ভেনচুরা, সান ফ্রান্সিসকো, ওরচেস্টার, সান ডিয়েগো, স্টকটন, সান হোসে, মিয়ামি এবং রিভারসাইড।   প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশ করা হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে নতুন বাড়ির সরবরাহের ঘাটতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিয়েলটর ডটকম বলছে, দেশজুড়ে ৪০ লাখের বেশি বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। এই সরবরাহ সংকট নতুন পরিবার গঠন, বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ গড়ার পথে বাধা তৈরি করছে।   রিয়েলটর ডটকমের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল হেল বলেন, দীর্ঘমেয়াদে আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতা বাড়াতে হলে বাড়ি নির্মাণও বাড়াতে হবে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যেসব মেট্রোতে বর্তমান আয়ের সঙ্গে বাড়ির দাম তুলনামূলকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং একই সঙ্গে পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে, সেসব এলাকায় ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভিন্ন।   অন্যদিকে ডেস ময়নেস, আইওয়া এই প্রতিবেদনে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। সেখানে মধ্যম বাড়ির দাম প্রায় ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৯০৩ ডলার এবং মধ্যম পরিবারের আয়ের তুলনায় মাসিক গৃহঋণের কিস্তির চাপ প্রায় ২৭.৫ শতাংশ। র‍্যালে, নর্থ ক্যারোলাইনাও নতুন বাড়ি নির্মাণের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে শীর্ষ অবস্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেসের এই অবস্থান মূলত রিয়েলটর ডটকমের ২০২৬ সালের নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির ফল, যেখানে আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ আবাসন সরবরাহকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই এটি শুধু বাড়ির দাম কত, সেই হিসাব নয়; স্থানীয় মানুষের আয় অনুযায়ী সেই বাড়ি কেনার সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদার তুলনায় কতটা নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে, দুটিই এতে বিবেচনা করা হয়েছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ায় কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অভিযান। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীনদের সহায়তার কোটি কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীন মানুষের আবাসন ও সহায়তার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনায় চতুর্থ এক ব্যক্তি অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে দোষ স্বীকার করতে সম্মত হয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় কোটি কোটি ডলারের সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত খরচ, ব্যবসা ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।   ১৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন বিচার বিভাগের ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি কার্যালয় জানায়, গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ অর্থের অপব্যবহার ও দুর্নীতি তদন্তে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযানের অংশ হিসেবে এসব মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ‘হোম অ্যাট লাস্ট’ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ইয়ং, ‘দ্য বিগ ব্লু আমব্রেলা’র প্রধান নির্বাহী ডনিয়ে মিচেল এবং ‘স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপস’-এর কর্মী লাকিয়া ম্যালোন। চতুর্থ ব্যক্তি আলেকজান্ডার সুফার ‘অ্যাবানড্যান্ট ব্লেসিংস’ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন।   মাইকেল ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গৃহহীনদের আবাসন ও সেবা দেওয়ার জন্য বরাদ্দ ৭৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ তিনি ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও বিলিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। পরে সেই অর্থের একটি অংশ বাণিজ্যিক সম্পত্তি, বিলাসবহুল ভ্রমণ, পুরোনো গাড়ি সংস্কার এবং একটি রেস্তোরাঁ ও নাইটক্লাব নির্মাণে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ।   কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়ং কাল্পনিক বা ভুয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের কোম্পানি হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া দরপত্র, জাল স্বাক্ষর ও মিথ্যা চালান ব্যবহার করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী, কার্যকর কার্যালয় বা স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল না। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।   অভিযোগের একটি অংশে বলা হয়েছে, ইয়ং ইনগেলউডে ‘সিক্স সেভেন ফাইভ লাউঞ্জ’ নামে একটি বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ ও নাইটক্লাব চালু করতে সরকারি অর্থের ১০ লাখ ডলারের বেশি ব্যবহার করেন। ওই ব্যবসার মদের লাইসেন্স, স্থপতি, নির্মাণকাজ এবং অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার খরচেও করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ওই অর্থ দিয়ে গৃহহীনদের আবাসনের সঙ্গে সম্পর্কহীন বাণিজ্যিক সম্পত্তিও কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটির কাছ থেকে পাওয়া অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, হোম অ্যাট লাস্টকে দেওয়া চুক্তিগুলো ২০২৬ সালের জুনে বাতিল করে লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটি। সংস্থাটি জানিয়েছে, অনিয়মের শক্ত প্রমাণ পাওয়া এবং চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থতার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   দ্বিতীয় মামলায় ডনিয়ে মিচেলের বিরুদ্ধে ১২ লাখ ডলারের বেশি অনুদান প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মিচেল ‘দ্য বিগ ব্লু আমব্রেলা’র প্রধান নির্বাহী ও নির্বাহী পরিচালক। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির অর্থায়নে পরিচালিত একটি সংস্থার কাছে নিজের প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও গৃহহীনদের আবাসন দেওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে ওই অর্থ পান।   অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ পাওয়ার পর মিচেল প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন ও ব্যয়ের তথ্যেও অসত্য তথ্য দেন। সরকারি অনুদানের অর্থের একটি অংশ নিজের জামিনের খরচ, ক্রেডিট কার্ডের দেনা, পরিবারের সদস্যদের কাছে অর্থ পাঠানো, বাসাভাড়া এবং ভিডিও গেম কেনার মতো ব্যক্তিগত খরচে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার ডলার দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থা মিচেলের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে।   মিচেলের বিরুদ্ধে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২ লাখ ডলারের বেশি অনুদান প্রতারণার অভিযোগে তারের মাধ্যমে প্রতারণার মামলা করা হয়েছে। তিনি ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রেপ্তার হননি এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাকে পলাতক হিসেবে বিবেচনা করছে।   তৃতীয় ঘটনায় স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপসের কর্মী লাকিয়া ম্যালোনের বিরুদ্ধে ২১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি আলেকজান্ডার সুফারের কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বেশি ঘুষ ও অবৈধ অর্থ নিয়েছেন। বিনিময়ে তিনি গৃহহীনদের আবাসন কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লোক পাঠাতেন। এসব ব্যক্তির মধ্যে এমন কথিত ‘ভুয়া অংশগ্রহণকারী’ও ছিল, যারা বাস্তবে সংশ্লিষ্ট আবাসনকেন্দ্রে থাকতেন না।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, এসব কাল্পনিক অংশগ্রহণকারীর জন্য ভুয়া স্বাগতপত্র, উপস্থিতির তালিকা এবং যোগ্যতার নথি তৈরি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে সুফারের প্রতিষ্ঠান স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপসের কাছ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ম্যালোনকে এসব কথিত সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল বলে প্রসিকিউটরদের দাবি।   এই মামলার সঙ্গে যুক্ত চতুর্থ ব্যক্তি আলেকজান্ডার সুফার তারের মাধ্যমে প্রতারণা ও অর্থপাচারের একটি করে অভিযোগে দোষ স্বীকার করতে সম্মত হয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি স্বীকার করেছেন যে গৃহহীনদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার তিনি পেয়েছিলেন। এর অন্তত ২০ লাখ ডলার ব্যক্তিগত সুবিধা ও গৃহহীনদের আবাসনের সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যবসায় ব্যবহারের কথাও তিনি স্বীকার করেছেন।   সুফার অবৈধভাবে পাওয়া অর্থ সরকারের কাছে ফেরত দিতে সম্মত হয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার দোষ স্বীকারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।   মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এসব মামলার তদন্তে এফবিআই, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ বা আইআরএসের অপরাধ তদন্ত শাখা এবং আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় কাজ করছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা আরও চলবে।   মার্কিন আবাসন ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী স্কট টার্নার বলেছেন, গৃহহীনদের সহায়তার জন্য দেওয়া সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রথম সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি বিল এসাইলিও বলেছেন, এসব ঘটনায় সরকারি অর্থের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এসেছে।   তবে মামলাগুলোর সব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতেও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্র ও ফৌজদারি অভিযোগ কেবল প্রসিকিউশনের অভিযোগ তুলে ধরে। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত সবাই আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।   সূত্র: মার্কিন বিচার বিভাগ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
৪৬ বছর বয়সী মাইকেল ইয়াং এবং ৪৮ বছর বয়সী লাকিয়া ম্যালোন
গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ ১২ মিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার ২

লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীনদের সহায়তায় বরাদ্দ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনায় আরও একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তবে তিনি এখনো পলাতক। তিনজনের বিরুদ্ধে মোট প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলার সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।   গ্রেপ্তার দুজন হলেন ৪৬ বছর বয়সী মাইকেল ইয়াং, ক্যালভার সিটির অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হোম অ্যাট লাস্টের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন, এবং ৪৮ বছর বয়সী লাকিয়া ম্যালোন, স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপসের একজন কর্মী। ফেডারেল অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়াংয়ের বিরুদ্ধে ৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।   অভিযোগে বলা হয়েছে, ইয়াং বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও বিক্রেতার মাধ্যমে গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। ওই অর্থের একটি অংশ দিয়ে তিনি ইনগেলউডে সিক্স সেভেন ফাইভ লাউঞ্জ নামে একটি রেস্তোরাঁ ও নাইটক্লাব চালু এবং পরিচালনা করেন বলে প্রসিকিউটরদের অভিযোগ। এছাড়া বিলাসবহুল ভ্রমণ, পুরোনো গাড়ি সংস্কার এবং গৃহহীনদের আবাসনের সঙ্গে সম্পর্কহীন বাণিজ্যিক সম্পত্তিতেও অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে।   অন্যদিকে, ম্যালোনের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বেশি ঘুষ ও অবৈধ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, তিনি গৃহহীনদের আবাসন কর্মসূচিতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে লোক অন্তর্ভুক্ত করার বিনিময়ে এসব অর্থ নেন। এর মধ্যে এমন কিছু কথিত “ঘোস্ট পার্টিসিপ্যান্ট” ছিল, যারা প্রকৃতপক্ষে ওই আবাসন কেন্দ্রে বসবাসই করতেন না।   এই মামলায় ডোনে মিচেল, ৫৫ বছর বয়সী এবং দ্য বিগ ব্লু আমব্রেলার সিইও ও নির্বাহী পরিচালক, তৃতীয় অভিযুক্ত। ফেডারেল অভিযোগ অনুযায়ী, তার প্রতিষ্ঠানকে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান দেওয়া হয়। পরে ওই অর্থের কিছু অংশ নিজের বেতন বাড়ানো, ক্রেডিট কার্ডের দেনা, পরিবারের সদস্যদের অর্থ দেওয়া, ভাড়া, জামিনের খরচ এবং প্লেস্টেশন কেনার মতো ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। মিচেলকে বর্তমানে পলাতক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় তদন্ত করছে এফবিআই, আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন এবং হাড-ওআইজি। আলাদা আরেকটি মামলায় আলেকজান্ডার সুফার নামের এক ব্যক্তি গৃহহীনদের সহায়তার অর্থ থেকে অন্তত ২ মিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে ওয়্যার ফ্রড ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দোষ স্বীকারে সম্মত হয়েছেন।   সোর্স: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে ১ বিলিয়ন ডলারের গৃহহীন তহবিল কেলেঙ্কারি, কংগ্রেসের তোপের মুখে মেয়র
লস অ্যাঞ্জেলেসে ১ বিলিয়ন ডলারের গৃহহীন তহবিল কেলেঙ্কারি, কংগ্রেসের তোপের মুখে মেয়র

লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীনদের পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দকৃত ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের তহবিলে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের শুনানিতে অংশ না নেওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন শহরের মেয়র কারেন বাস। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ওই সাব-কমিটির শুনানিতে 'ব্যস্ততা'র কারণ দেখিয়ে উপস্থিত হননি তিনি।   এর বদলে প্যাসিফিক প্যালিসেডসে একটি কমিউনিটি প্রজেক্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটির (LAHSA) ভেতরে ‘অপচয়, জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার’ নিয়ে জবাবদিহি করার জন্যই তাকে ওয়াশিংটন ডিসিতে তলব করা হয়েছিল।   সাব-কমিটির দাবি, গৃহহীনদের এই সংস্থাটি সম্পর্কিত সব নথি মেয়র তাদের কাছে হস্তান্তর করেননি এবং শেষমেশ তাকে ছাড়াই মঙ্গলবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, গত বছর ভয়াবহ দাবানলের সময়ও মেয়রের ঘানায় কূটনৈতিক সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল, যার পুনরাবৃত্তি আবারও ঘটল।   শুনানিতে সাব-কমিটির চেয়ারম্যান ও টেনেসি থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান প্রতিনিধি টিম বারচেট জানান, লস অ্যাঞ্জেলেস বর্তমানে আমেরিকার গৃহহীন সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তিনি লাসা-এর (LAHSA) বিলাসবহুল দাপ্তরিক পরিবেশের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সংস্থাটির কার্যালয় এমন এক বহুতলে অবস্থিত যেখানে নিজস্ব হেলিপ্যাড ও মেব্যাচ (মার্সিডিজের বিলাসবহুল মডেল) গাড়ির সুবিধা রয়েছে।   ২০২৩ সালে গৃহহীন সংকটে রদবদল আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র বাস নিজেই এর পরিচালনা বোর্ডে যোগ দিয়েছিলেন, তবে তলব করার পর গত সপ্তাহেই তিনি সেখান থেকে পদত্যাগ করেন। মেয়রের অনুপস্থিতিকে কলোরাডোর প্রতিনিধি লরেন বোয়েবার্ট স্রেফ ‘অবমাননাকর’ এবং সাউথ ক্যারোলিনার প্রতিনিধি ন্যান্সি মেস ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।   শুনানিতে লস অ্যাঞ্জেলেসের রাস্তায় গৃহহীনদের করুণ অবস্থা তুলে ধরেন আইনপ্রণেতারা। সাংবাদিক জোনাথন চোর ধারণ করা লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কিড রো এলাকার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গৃহহীনদের মাঝে মাদক সেবনের বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। শুনানিতে বারচেট নিজে একটি ক্র্যাক পাইপ প্রদর্শন করেন।   সিসেরো ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো পল ওয়েবস্টার সাক্ষ্য দেন যে, ২০০৫ সাল থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস গৃহহীন তহবিল হিসেবে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার পেলেও ২০০৯ সালের পর থেকে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। তিনি বলেন, "আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি অর্থ ও সক্ষমতা থাকলেও, রাস্তায় অসুস্থ ও গৃহহীন মানুষের সংখ্যা এখন সবচেয়ে বেশি।"   অন্যদিকে, শুনানির সময়েই দেওয়া এক বিবৃতিতে মেয়র কারেন বাস এই ঘটনাকে শুধু তার ওপর নয়, বরং পুরো শহরের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন ও কংগ্রেসে তাদের মিত্রদের রাজনৈতিক আক্রমণ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, প্রশাসন এই তহবিলটি বাতিল করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু একজন ফেডারেল বিচারক তা আটকে দিয়েছেন; তাই আইনি লড়াইয়ে হেরে এখন তারা শুনানির নামে নাটক সাজাচ্ছে।   তিনি আরও দাবি করেন, তিনি একাই লাসা পরিচালনা করেন না, এটি একটি যৌথ সিটি-কাউন্টি এজেন্সি, এবং তিনি ইতিহাসের প্রথম মেয়র হিসেবে এর বোর্ডে বসেছিলেন। দুই ঘণ্টার শুনানি শেষে কমিটি মুলতবি করা হয় এবং সাক্ষীদের কাছে আরও প্রশ্ন জমা দেওয়ার জন্য আইনপ্রণেতাদের পাঁচ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: প্রথম আলো
৪০তম ফোবানায় প্রবাসীদের বিনিয়োগ ও সমস্যা সমাধানে সরকারের উদ্যোগ জানালেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ৪০তম ফোবানা সম্মেলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।   শুক্রবার সন্ধ্যায় লস অ্যাঞ্জেলেসের হিলটন ইউনিভার্সেল হোটেলে তিন দিনব্যাপী ফোবানা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনটি ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয়।   প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে চারজন সচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ সেল কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী। প্রবাসীরা তাদের অভিযোগ ইমেইলের মাধ্যমে পাঠালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।   দেশে বিনিয়োগের বিষয়ে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। বিনিয়োগের আগে তাদের প্রয়োজনীয় চেকলিস্ট দেওয়া হবে, যাতে প্রক্রিয়াটি সহজ হয় এবং অযথা সময় নষ্ট না হয়।   প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগের কথাও জানান মন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন।   বিদেশে নতুন শ্রমবাজার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনে প্রবাসীরা যাতে প্রয়োজনীয় সেবা পান, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।   অনুষ্ঠানে ফোবানার নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও জোরদারে সংগঠনটির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের কনসাল জেনারেল কাজী মোহাম্মদ জাবেদ ইকবাল বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।   ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের উদ্বোধনী আয়োজনে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।   তিন দিনের এই আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেশীয় খাবার, পোশাক ও বিভিন্ন পণ্যের স্টলসহ নানা কর্মসূচি রাখা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের হিলটন ইউনিভার্সেল হোটেলকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।   সূত্র: প্রথম আলো

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোট জালিয়াতির অভিযোগ, গৃহহীনদের টাকা দিয়ে ভুয়া স্বাক্ষর করানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোট জালিয়াতির অভিযোগ, গৃহহীনদের টাকা দিয়ে ভুয়া স্বাক্ষর করানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাউনটাউনে স্কিড রো এলাকার গৃহহীনদের অর্থ দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী ব্যালট পিটিশনে ভুয়া স্বাক্ষর করানোর অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে ৪৭ বছর বয়সী জেমস ব্রাসকে (যিনি ‘লর্ড’ নামেও পরিচিত) বৃহস্পতিবার সকালে ভিক্টরভিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই।   ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার বিকেলেই রিভারসাইডের যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাকে প্রথমবারের মতো হাজির করা হবে। চুরি করা ভোটার পরিচয় ব্যবহার করে এই সুপরিকল্পিত জালিয়াতির ঘটনাটি মার্কিন প্রশাসনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।   জেমস ব্রাসের পাশাপাশি এই অভিযোগনামায় তার হয়ে পিটিশন প্রচারের কাজ করা আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের ৪৯ বছর বয়সী কোর্টনি প্রাইস এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বোরন শহরের ৩৩ বছর বয়সী জাটেইশা হেরন।   এই তিনজনের সবার বিরুদ্ধেই পরিচয় জালিয়াতির ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া ব্রাস ও প্রাইসের বিরুদ্ধে পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অতিরিক্ত আরও একটি গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ।   এই ঘটনার বিষয়ে এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস ফিল্ড অফিসের সহকারী পরিচালক প্যাট্রিক গ্র্যান্ডি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের ভোট ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী অবকাঠামোর ওপর আমেরিকানদের পূর্ণ আস্থা থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। অভিযুক্তদের এই জালিয়াতি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের একটি অপরিহার্য স্তম্ভকে দুর্বল করার অপচেষ্টা।   নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপকারী এবং ভোটার জালিয়াতির মতো যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে এফবিআই সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযোগের আগ্রাসী তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলেও দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০