আটলান্টিক সিটি হাই স্কুলে
চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে মেধা তালিকায় চার বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থী
নিউজার্সির আটলান্টিক সিটিতে অবস্থিত আটলান্টিক সিটি হাই স্কুলের ২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের ব্যাচে চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় স্থান অর্জন করে কমিউনিটির জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।
মঙ্গলবার ঐতিহাসিক জিম হুইলান বোর্ডওয়াকে আয়োজিত গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে মিলনায়তন মুখর হয়ে ওঠে। চার বছরের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের পর শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটে ওঠে সাফল্যের আনন্দ।
অনুষ্ঠানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করা হলে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।
স্কুলের মেধা তালিকায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরফিন আশিয়া দ্বিতীয়, সুমাইয়া তাসসুম চতুর্থ, সেন চৌধুরী সপ্তম এবং রাহাত রহমান নবম স্থান অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে। পরে শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রাসহ নির্ধারিত আসনে বসেন এবং পর্যায়ক্রমে মঞ্চে উঠে ডিপ্লোমার প্রতীকী কপি গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আটলান্টিক সিটি হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল ড. কনস্ট্যান্ট। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র, স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট ড. স্মল, স্কুল বোর্ডের সদস্যবৃন্দ এবং সিটি কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা।
শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে শুধু অভিভাবকরাই নয়, পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকরা বলেন, বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থীদের এই অর্জন প্রমাণ করে যে অধ্যবসায়, পরিশ্রম এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
কমিউনিটির নেতারা মনে করেন, এই কৃতিত্ব শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর নয়, বরং পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের গর্ব। তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে তারা উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত জীবনে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) চালকদের জন্য নির্ধারিত ২০০ ডলারের বার্ষিক রেজিস্ট্রেশন ফি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি এক ইভি চালক তার গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নবায়নের সময় এই অতিরিক্ত ফি লক্ষ্য করে রেডিট (Reddit)-এ একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, টেক্সাসের এই নিয়মের সমস্যা কোথায় এবং অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও এই ফি এর চেয়ে কম কি না। তার এই সাধারণ একটি প্রশ্ন বৈদ্যুতিক গাড়ির যুগে রাস্তাঘাটের উন্নয়নের জন্য তহবিল কীভাবে সংগ্রহ করা উচিত এবং এই নীতি কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে একটি বৃহত্তর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই ফি মূলত জ্বালানি করের বিকল্প হিসেবে আরোপ করা হয়েছে, কারণ ইভি চালকরা গ্যাস স্টেশন থেকে জ্বালানি কেনেন না, ফলে তারা সরকারকে কোনো জ্বালানি করও দেন না। তবে অনেক চালকের দাবি, গ্যাসচালিত গাড়ির মালিকরা জ্বালানি কর হিসেবে যে অর্থ প্রদান করেন, এই ২০০ ডলার তার চেয়েও অনেক বেশি। রেডিটে এক ব্যবহারকারী হিসাব কষে দেখান, ২০০ ডলার ফি মানে হলো ১,০০০ গ্যালন গ্যাসের ওপর হারানো করের সমান, যা সপ্তাহে প্রায় ৫৭৫ মাইল গাড়ি চালানোর সমতুল্য। ফলে যারা গড়ে অনেক কম দূরত্বে গাড়ি চালান, তাদের জন্য বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ এই ফি একটি বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এক মন্তব্যকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এর মানে হলো সাধারণ ইঞ্জিনচালিত গাড়ির চেয়ে ইভি চালকদের শক্তির জন্য বেশি কর দিতে হচ্ছে। এই বিতর্ক কেবল একটি ফি-এর ফরমে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের প্রকৃত খরচের ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলছে। যারা গাড়ি কম চালান, তাদের জন্য এই ফ্ল্যাট ফি গ্যাসচালিত গাড়ির করের চেয়েও বেশি ব্যয়বহুল। যদিও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ সাশ্রয় হয়, তবুও এমন শাস্তিমূলক বা বিভ্রান্তিকর ফি নতুন ক্রেতাদের বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে। গাড়ি কেনার আগে চালকদের এই ফি বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই নির্দিষ্ট ফি-এর পরিবর্তে চালকদের অতিক্রান্ত দূরত্ব (মাইলেজ) বা গাড়ির ওজনের ওপর ভিত্তি করে নতুন ব্যবস্থা চালু হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ায় রাস্তা সংস্কারে আবর্জনা সংগ্রহের বিলে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাড়তি ফি
বিনামূল্যেই প্রাক্তন স্ত্রী জেনিফার লোপেজকে দিলেন ৬০ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে দক্ষিণ এশিয়ার মিলনমেলা, উদযাপিত হলো ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড’
রোববার ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কের ডমিনিকান ডে প্যারেডে মেয়র জোহরান মামদানি এবং ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান আদ্রিয়ানো এসপাইলটের মধ্যকার শীতল রাজনৈতিক সম্পর্ক যেন আরও একবার প্রকাশ্যে এসেছে। উৎসবমুখর এই আয়োজনে উভয়েই অংশগ্রহণ করলেও, পুরো সময়জুড়ে একে অপরের থেকে বেশ দূরত্ব বজায় রেখে চলেন এই দুই শীর্ষ নেতা। এমনকি প্যারেডের নিরাপত্তা নিয়ে গত শুক্রবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও মুখ খুলতে অস্বীকৃতি জানান মেয়র মামদানি। ম্যানহাটনে প্যারেড চলাকালীন নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রশ্নের জবাবে মামদানি এড়িয়ে গিয়ে কেবল বলেন, "আমরা সবাই এখন প্যারেড নিয়েই মনোযোগ দিচ্ছি।" রোববারের এই উৎসবে মঞ্চে এসপাইলটকে দেখেছেন কি না—এমন নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবেও মেয়র বেশ কৌশলী উত্তর দেন। তিনি বলেন, "মঞ্চে এবং এখানে উপস্থিত সবাইকে দেখতে পাওয়াটা সত্যিই খুব আনন্দের।" অন্যদিকে, প্যারেডে মেয়রের সাথে পুনরায় দেখা হওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে কংগ্রেসম্যান এসপাইলট কোনো মন্তব্য না করে কেবল মাথা নেড়ে নিজের বিরক্তি প্রকাশ করেন। প্যারেড চলাকালে এসপাইলটকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের সাথে বেশ হাস্যোজ্জ্বল ও অন্তরঙ্গ অবস্থায় হাঁটতে দেখা যায়। অন্যদিকে, মেয়র মামদানি তার নিজস্ব কর্মী ও অনুসারীদের নিয়ে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে প্যারেডে অংশ নেন। মূলত, নিউইয়র্ক-১৩ (NY-13) আসনের প্রাইমারি নির্বাচনে এসপাইলটের বিরুদ্ধে কট্টর বামপন্থী প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ারকে মেয়র মামদানি প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার পর থেকেই এই দুই নেতার মধ্যে তিক্ত সম্পর্কের সূত্রপাত হয়। উল্লেখ্য, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনী এলাকার মধ্যে হার্লেম, ওয়াশিংটন হাইটস এবং ব্রঙ্কসের বেশ কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিউজার্সিতে স্কুল বাসে ঘুমিয়ে পড়া শিশুকে ফেলে গেল চালক, উদ্ধার বাস ইয়ার্ডে
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটার ৭ হাজার মানুষের শহরে ৫ লাখ বাইকার, তাক লাগানো স্টারজিস র্যালি
কুমার বিশ্বজিতের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন পিটিশন অনুমোদন, হিল্লোলের পোস্ট ঘিরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা
নিউইয়র্ক সিটির অ্যাডামস প্রশাসন 'জবস এনওয়াইসি' হায়ারিং হলের পরবর্তী ধাপের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার কুইন্সে বরো-ভিত্তিক বড় পরিসরে একটি নিয়োগ মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কুইন্সের ১১০-৩১ মেরিক বুলেভার্ডে অবস্থিত দ্য গ্রেটার অ্যালেন এ.এম.ই. ক্যাথেড্রাল অফ নিউইয়র্কে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই মেলা চলবে। সিটির অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়ানোর চলমান কৌশলের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই ইভেন্টের মূল লক্ষ্য হলো সরাসরি এবং সামনাসামনি নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের প্রচলিত বাধাগুলো দূর করা। মেলায় অংশগ্রহণকারী চাকরিপ্রার্থীরা স্থানীয় নিয়োগকর্তা, বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং নিউইয়র্ক সিটির একাধিক মিউনিসিপ্যাল এজেন্সির সাথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন, যারা তাদের হাজার হাজার শূন্যপদ পূরণের জন্য সক্রিয়ভাবে কর্মী খুঁজছেন। কুইন্সের এই মূল নিয়োগ মেলায় প্রার্থীদের সর্বোচ্চ সাফল্য নিশ্চিত করতে সিটি কর্মকর্তারা বেশ কয়েকটি প্রস্তুতিমূলক ইভেন্টেরও রূপরেখা প্রকাশ করেছেন। এর অংশ হিসেবে ১৩ আগস্ট বিকেল আড়াইটা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১ সেন্টার স্ট্রিটের নর্থ মেজানিনে সশরীরে এবং ভার্চুয়ালি 'সিভিল সার্ভিস ১০১' সেশনের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মাইক্রোসফট টিমস-এর মাধ্যমে অনলাইনে একটি সান্ধ্যকালীন ভার্চুয়াল সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই সেশনগুলোতে প্রার্থীদের সিভিল সার্ভিস নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হবে। ২৫ আগস্ট কুইন্সে মূল মেলার ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ২৬ আগস্ট 'এইচআরএ বিজনেস লিংক কুইন্স ক্যারিয়ার ফেয়ার' অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অংশগ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট ইমেইল ঠিকানায় যোগাযোগের মাধ্যমে আগে থেকে বাধ্যতামূলক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে কর্মশক্তি উন্নয়ন কর্মকর্তারা মেলায় একটু আগেভাগে উপস্থিত হওয়ার এবং নিয়োগকারীদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সিটির নির্দেশিকা অনুযায়ী, মেলায় প্রবেশের জন্য যেকোনো একটি বৈধ সরকারি ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র (আইডি) প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। এর পাশাপাশি প্রার্থীদের হালনাগাদ করা জীবনবৃত্তান্ত বা রেজুমের একাধিক প্রিন্ট কপি সাথে করে আনতে হবে। ইভেন্টের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই সম্পূর্ণ পেশাদার বা বিজনেস পোশাক (ফর্মাল অ্যাটায়ার) পরিধান করার ওপর কঠোরভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। 'জবস এনওয়াইসি' হায়ারিং হলের এই মেলায় ইভেন্টব্রাইট (Eventbrite) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিবন্ধন করা যাবে এবং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
নর্থ ক্যারোলাইনায় রাস্তায় একা নারী পেলেই করতেন হামলা, অবশেষে ধরা পড়ল অভিযুক্ত
নিউইয়র্ক হারবারে নৌকা ডুবে প্রাণ গেল মা ও ৫ মাসের কন্যাশিশুর; গ্রেপ্তার চালক